লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৮
লিজা মনি
আঁকা- বাঁকা রাস্তা, জঙ্গল পেরিয়ে গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের ‑Royce La Rose Noire Droptail গাড়িটি গিয়ে থামে দুই তলা বিশিষ্ট একটা বাড়ির সামনে। নিক গাড়ি থেকে নেমে রোদ চশমা খোলে ছুঁড়ে মারে গাড়ির ভেতরে। ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে আরিশ আর অধিরাজ। তিনজন’ই গাড়ি থেকে নেমে কোনো সতর্ক ছাড়ায় ভেতরে প্রবেশ করে। নিক পা দিয়ে দরজাটা খুলে সাথে সাথে আবার তালা লাগিয়ে দেয় ভেতর থেকে। ভেতরে একটা মহিলা তার দুই বাচ্চাকে খাবার খাওয়াচ্ছিলো। এমন সময় তিন জন পুরুষের আগমনে ভয়ে ছিটকে সরে যায়। নিজের দুই বাচ্চাকে বুকের সাথে চেপে ধরে আতঙ্কিত কন্ঠে বলে,
” ক.. কারা আপনারা? আ.. আমার বাড়িতে কি জন্য এসেছেন? অনুমতি ছাড়া ডুকেছেন কেনো?
নিক মাক্সের আড়ালে রহস্যময় হাসি দিয়ে ডিভানের উপর বসে পড়ে। পায়ের উপর পা তুলে হাতে থাকে রিভলভারটা আঙ্গুলে পেঁচাতে পেঁচাতে তীক্ষ্ণতা নিয়ে মহিলাটির দিকে তাকায়। আরিশ আর অধিরাজ সেইম ভাবে পাশের চেয়ারে বসে। নিকের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে মহিলাটা ভড়কে গিয়ে পুনরায় শুধায়,
” বলছেন না কেনো? কারা আপনারা?
– গ্যাংস্টার! বিশ্ব বিখ্যাত গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান।
মহিলাটা দুই পা পিছিয়ে যায়। আতঙ্কে পুরো শরীর থরথর করে কেঁপে উঠে। শরীর দিয়ে মনে হচ্ছে ঘাম ঝরতে থাকে। শুকনো ঢোক গিলে বাচ্চাদের নিজের সাথে শক্ত করে আরও চেপে ধরে। আচমকা হাতে একটা চাকু নিয়ে তাদের দিকে তাক করে বলে।,
” খবরদার আমার বাচ্চাদের কোনো ক্ষতি করলে আপনাদের প্রান নিয়ে নিব।
নিক ভ্রুঁ নাচিয়ে তাকায় মহিলাটির দিকে। এর পর হালকা শব্দ করে বাঁকা হেসে ডিভানের উপর দুই হাত দুই পাশে মেলে দেয়। চোখে গম্ভীরতা টেনে গলার খাদ নামিয়ে বলে,
” মনে করিয়ে দিলেন মিসেস আমি একজন শিশু পাচার কারী। পাচার করা আমার পেশা। বাচ্চাগুলো অনেক কিউট, একদম বাপের মত অবস্থা হলে কেমন হয়?
মহিলাটির হৃদয় আৎকে হঠে। চাকুটা তাক করে বলে,
” স্বামীর সাথে হওয়া বর্বরতা মেনে নিয়েছি। কিন্তু বাচ্চাদের দিকে হাত বাড়ালে একজন মাকে সামনে পাবেন।
নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
” মেনে নিয়েছেন মিসেস? প্রতিটা জায়গায় মামলা কে করেছে? আমার ইমেজ নষ্ট করার ফল তো দিতে হবে?
– আপনার কথা অমান্য করে সামান্য সংবাদ প্রচার করেছে বলে আপনারা তাকে নরপশুর মত মেরেছেন। আর বলছেন আমি স্ত্রী হয়ে চুপ থাকব? আপনারা শুধু আমার স্বামীকেই মারেন নি, আমার বাচ্চাগুলোকে এতিম করে দিয়েছেন। এতটা অন্যায় কি সে করে ফেলেছিলো যে তাকে জানে মেরে ফেলতে হয়েছে।
নিক এইবার বিরক্ত হয় প্রচুর। এই কারনেই সে মহিলা ঘটনায় আসতে চায় না। নিকের বিরক্ত দেখে আরিশ ইশারা দিয়ে চুপ থাকতে বলে। নিক উঠে দাঁড়ায় সটান ভাবে। আরিশ গম্ভীরতা টেনে বলে,
” আপনাকে ওয়ার্ন করে যাচ্ছি আইন নিয়ে ঘুরা ফেরা করবেন না। যদি পরের বার এমন কাহিনী দেখি তাহলে ঠিক সেই অবস্থা হবে যেটা আপনার হাজবেন্ডের হয়েছে। আর বাচ্চা দুটিকে নিশ্চয় হারাতে চান না? প্রমান নেই কোনো চাইলেও কিছু করতে পারবেন না। শুধু অভিযোগ করে ঘাম জড়ানোর মানে হয় না। আপনার জায়গায় কোনো পুরুষ হলে লাশ হয়ে সমুদ্রের মধ্যে ভেসে যেত। বাট মেয়ে বলে একটা চান্স দিলাম। নিজে বাঁচুন আর বাচ্চাগুলোকেও বাঁচিয়ে রাখুন। নাহলে….
আরিশ আর কিছু বলে না। বাঁকা হাসি দিয়ে সেও উঠে দাঁড়ায়। নিক অনেক আগেই বেরিয়ে গিয়ে গাড়ির মধ্যে বসে থাকে। এখানে থাকলে সে রাগ নিয়ন্ত্রন করতে পারবে না। এতটা ধৈর্যশীল সে নয়।
আফ্রিকার বিস্তৃত ও অনতিক্রম্য অরণ্যসমূহ বিশেষত কঙ্গো বেসিন মধ্য আফ্রিকার বর্ষাবন অঞ্চল এবং সাহেল উপকণ্ঠবর্তী বনভূমি। রাত্রি তখন আকাশের বুকে নিঃশব্দ অভিশাপের মতো বিছিয়ে গেছে। কোনো তারা নেই। নেই চাঁদের শীতল আলোকও। আছে কেবল আকাশজুড়ে ঘনীভূত এক ছায়াময় স্তব্ধতা যা নিচে জমে ওঠা পৃথিবীটাকে আর্থিক, মানসিক, এমনকি নৈতিক দিক থেকেও বিভ্রান্ত করে তোলে। সেই নিস্তব্ধতার দেহ ভেদ করে ধীরে ধীরে। অপ্রতিরোধ্যভাবে অগ্রসর হচ্ছে একটি কালো ধাতবদেহী গাড়ি যার ইঞ্জিনের গম্ভীর শব্দ অরণ্যের হৃদস্পন্দনের বিকৃতি। গাড়ির ভিতরে বসে থাকা তিনটি অস্তিত্ব, তিনটি আলাদা শ্বাস, তিনটি ভিন্ন মানসিক দৃঢ়তা। তবু এই মুহূর্তে তারা যেন এক অভিন্ন স্তব্ধতাকে ধারণ করে চলেছে। নিক পিছনের ডান পাশে বসে থাকা সেই মানুষটি যাকে সমাজ সংজ্ঞায়িত করে ভয় দিয়ে। কিন্তু যার চোখে কেবল নির্লিপ্ত হিসাববোধের গভীরতা।
তার ভাবনাগুলো মুখাবয়ব স্পর্শ করে না বরং ভেতরে এক ধরনের গা-চাপা অভ্যস্ততা বিরাজমান। যা অপরাধকে পেশা নয় নৈমিত্তিকতা করে তুলেছে।
তার বামপাশে বসা আছে অধিরাজ। চোখে রয়েছে ক্রমাগত সচেতনতার ছায়া চোখ জানালার বাইরের দিকে স্থির।কিন্তু মন যেন ভিতরের অজানা সুরে ক্রমাগত সুর মিলিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি পেশী যেন সমন্বয়হীন নিঃশ্বাসের অনুরণনে বিদ্ধ। অধিরাজ জানে, অরণ্যপথে কোনো স্থিরতা নেই। প্রতিটি বাঁকই হতে পারে অন্তিম দৃশ্যের প্রাকমঞ্চ।
রাস্তার পিচ গলে মিশে গেছে মৃত পাতার স্তরে। গাছেরা এত কাছে এসে দাঁড়িয়েছে যে তারা কোনো মানবিক কথোপকথনের জন্য নয় বরং নীরব বিচারসভা বসিয়ে রেখেছে। অরণ্যের বাতাস ভারী কণ্ঠে চেপে বসে থাকা ক্লান্ত বিষাদের মতো জমাট ও নিরুত্তর।অথচ বোঝা যায় স্পষ্ট।এই নীরবতা স্বাভাবিক নয়।এখানে কিছু আছে যা অতিপরিচিত হয়েও ঠিক চেনা যায় না।
হেডলাইটের কুয়াশাভরা আলো জঙ্গলের ভেতরে এক অস্থায়ী করিডোর নির্মাণ করে। কিন্তু আলো যত এগোয় ছায়া তত ঘনীভূত হয়ে পেছনে জমে ওঠে।
এই যাত্রা কাজের উদ্দেশ্যে শুরু হলেও পথে নেমে আসা নৈঃশব্দ্য। প্রকৃতির অতিচেনা অথচ শত্রুভাবাপন্ন দৃষ্টি এবং প্রত্যেক চরিত্রের অন্তর্মুখী সংশয়। নিকের গম্ভীরতা ছুটে যায় কিছুর শব্দে। চোখের চশমা খুলে সাথে সাথেই পিছন থেকে শুট করে দেয়। ঠিক তখন’ই শুনা যায় একটা বুক চিড়ে আসা চিৎকার। হুট করে বুলেট প্রুফ গাড়িটা থেমে যায়। আরিশ হাতের গানটাকে চেপে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে গাড়ি থেকে নেমে দাড়ায়। পিছন পিছন অধিরাজ ও আসে। গাড়ি থেকে নেমে নিক লুটিয়ে পড়া লোকটার দিকে রেগে এগিয়ে যায়। লোকটার পায়ে গুলি করা হয়েছে। রক্তে ছটফট করছে ব্যক্তিটা। নিক ব্যক্তিটার গলা চেপে ধরে হুংকার ছেড়ে উঠে,
” ডাফার! কে তুই? ফলো কেনো করছিলি?
ব্যক্তিটা নাক – মুখ কুচকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই দুর থেকে একটা বুলেট ব্যক্তিটার বক্ষ ভেদ করে যায়। একটা বুলেটে স্থায়ী হয় না। পর পর অনেকগুলো বুলেটের আঘাতে বুক ঝাঝরা হয়ে যায়। নিক চমকে উঠে হঠাৎ আক্রমনে। তার স্বীকার কে আড়াল থেকে কে আঘাত করলো? তার মানে মেইন কালপ্রিট এখানেই আছে? ব্যক্তিটার রক্তে ভেসে যায় মাটি। নিকের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। রি রি করে কাঁপতে থাকে শরীর। চোখ যায় লোকটার গলায় করা একটা ট্যাটুর দিকে। নিক হাতের মাধ্যমে শার্ট সরিয়ে ট্যাটুটাকে ভালোভাবে পরখ করে। আমেরিকান মাফিয়া বডিগার্ড সিলমোহর। আমেরিকান মাফিয়া মি. কায়াতের বডিগার্ড! নিক শ্বাস টানে বড় বড়। রাগে নিজের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে। মি. কায়াতের খোঁজে পাশে তাকাতেই হুট করে দু পা পিছিয়ে যায়। চোখ – মুখ চেপে ধরে নাক- মুখ কুচকে ফেলে। অধিরাজ চোখে হাত দিয়ে বলে,
” বস মেবি OC গ্যাস ছাড়া হয়েছে। চোখ – মুখ ঝলসে যাচ্ছে।
নিক চেহারা শক্ত করে গাড়ির কাছে চলে আসে। অতিরিক্ত রাগের তাপে গাড়ির উপর হাত দিয়ে ঘুষি মেরে চেঁচিয়ে উঠে,
” ফা**ক! ফা**ক! ফা**ক! দ্যাট সান অ্ভ আ পিগ র্যান অ্যাওয়ে! আহহহহহ।
আরিশ নিজের চুল টেনে বলে,
” মি. কায়াতের হঠাৎ আক্রমনের কারন? আগে তো এমন কোনোদিন ছিলো না।
অধিরাজ কাঁপা গলায় বলে,
” হয়ত এনির জন্য? পাগল হয়ে গিয়েছে। একের পর এক চাল চালছে। কুকুরের মত হয়ে আছে নিলাম কেন্দ্রের সেই আঠারো জন গ্যাংস্টার। বাট কায়াত পর পর শত্রুতামির জাল বিছিয়ে রাখছে।
নিকের চোখ- মুখ শক্ত হয়ে আসে। তাদের মুখ এখনও জ্বলছে। OC গ্যাস সম্পূর্ণরূপে পরিচিত Oleoresin Capsicum এক ধরনের প্রাকৃতিক রাসায়নিক যা মূলত মরিচের নির্যাস থেকে তৈরি করা হয়। এটি একটি অতি প্রভাবশালী চোখ ও শ্বাসতন্ত্রে জ্বালা সৃষ্টি করা রাসায়নিক অস্ত্র, যা সামরিক, পুলিশ এবং আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত হয় বিশেষ করে পেপার স্প্রে ও ক্রাউড কন্ট্রোল গ্রেনেড হিসেবে। আবার অনেক অনেক সময় নিরাপত্তা ভিত্তিক কাজে ও ব্যবহার করা হয়। তিন জন পুর্বের ন্যায় গাড়িতে গিয়ে বসে। আরিশ গম্ভীর আর রাগ নিয়ে বলে,
” মি. কায়াতকে আমি দেখে নিব তুই পাচারের কাজে ফোকাস দে নিক। সতেরোটা যুবতী মেয়ের প্রয়োজন আরও। খুব দ্রুত সংগ্রহ করতে হবে।
নিক কপাল ঘেষে বলে,
” আগামী বাহাত্তর ঘন্টার ভেতরে প্রাইভেট জেট রেডি রাখিস। এর মধ্যেই সতেরো জন যুবতী পাচার সেলে এসে যাবে।
নিক গাড়ি ঘুরিয়ে নিজের ব্লেক ভাইপার মেনশনের দিকে অগ্রসর হয়। আরিশ সোজা নিজের বাংলোতে চলে যায়। রুমে গিয়ে গায়ের কোর্টটাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বেকিয়ে রাখা ডার্ক চেয়ারে মধ্যে বসে পড়ে। ছন্নছাড়া অবস্থায় নিজের চুলগুলোকে এলোমেলো করে জোরে জোরে শ্বাস টানে। ওয়াইনের ছিপি খুলে এক নিশ্বাসে সবটা গিলে ফেলে। বুকে চিঁরে বেরিয়ে আসে আর্তনাদ,
” কেমন আছো তুমি এনি? ভুলে যাচ্ছি তোমাকে আমি। কিন্তু দেখো ভুলতে পারছি না। এইটা কি আমার দোষ নাকি তোমার? রক্ত নিয়ে উল্লাস করা আমার কাজ মেয়ে নিয়ে নয়। তার পরও আমার মনে মিশে গেলে। থমকে দিলে আমার নরপশু মনটাকে। কিন্তু যুদ্ধ করে থামিয়ে দিলাম সেই মনটা। ভালোবাসাকে উৎসর্গ করে দিলাম। তুমি তো আমার সম্পত্তি নও।
রাত্রি তার নিরাবেগ ছায়াচ্ছন্নতা বিস্তার করে যখন আকাশের ক্যানভাসে নক্ষত্রহীন এক অন্তহীনতা আঁকে তখন প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান যেন এক সম্মিলিত মৌনতায় শপথবদ্ধ হয়।
এই নিঃসীম নিঃশব্দতায় শব্দ এক নিষিদ্ধ বস্তু। যার অনুপস্থিতি আরও জোরালোভাবে শ্রুতিগ্রাহ্য হয়ে ওঠে। ঘড়ির কাঁটার শব্দ পর্যন্ত বাজছে পুরো রুম জুড়ে। রাতের অন্ধকারে রাত দুইটার কাছা- কাছি বদ্ধ কাউচ ঘেরা বেলকমনির মধ্যে এনি দাঁড়িয়ে আছে। তার দৃষ্টি এখনও ঝলমলে আকাশের দিকে নিবদ্ধ । নিজেকে অনেক বদ্ধ মনে হচ্ছে। এমনকি নিজের শ্বাসও মনে হয় যেন কারও অনুমতি না নিয়েই বেঁচে থাকার স্পর্ধা করছে। এই রাত্রির স্তব্ধতা কেবল শ্রবণেন্দ্রিয়কে নয় অনুভূতির পরত পরতকে আবিষ্ট করে তোলে। মুখোমুখি হতে।
আকাশের কালো চাদরে জড়িয়ে থাকা এই নিস্তব্ধ রাত্রি এনির জন্য যেন শেষ হচ্ছে না। সময়ের স্থবিরতা নয় বরং এক অনন্ত প্রত্যাশার আবরণ। এই বাড়িটা এক নরক কেন্দ্র মনে হয়। কালো রঙ্গে রাঙ্গানো প্রতিটা দেয়াল আর জিনিসপত্র। এখানে আত্মার গহনতম প্রশ্নগুলো আলো খোঁজে নিঃশব্দতায়। এই নিঃসঙ্গ নৈঃশব্দ্য একাধারে আশীর্বাদ ও অভিশাপ। এনির হাটু পর্যন্ত ঘন চুলগুলো বাতাসের সাথে নড়ে- চড়ে উঠছে। কাউচ দিয়ে থাকার কারনে কোনো বাতাস ও প্রবেশ করতে পারছে না। যাস্ট একটা জানালা খোলা সেখান থেকে মৃদু বাতাস ভেসে আসছে। এনির চোখের পানি টলমল করছে। চোখের নিচে কেমন শুকিয়ে আসছে। ঝলমলে আকাশটার দিকে তাকিয়ে এনি তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” তাঁরাগুলো তো আমার বন্ধু ছিলে। আমি অমবশ্যায় ঢেকে গিয়েছি অথচ দেখো তোমরা ঠিক ঝলঝল করছো।
এনি কথা শেষ করতে পারে না। এমন সময় আচমকা ঝড়ের গতিতে কেউ পিছন থেকে ঘাড় চেপে ধরে। হুট করে এমন হওয়াতে এনি মৃদু জোরে কান্না করে উঠে। নিজের হাত দিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই চুলে টান পড়ে। ঘাড়টা এমন ভাবে চেপে ধরেছে যেন ভেঙ্গে ফেলব। একটা হিংস্র হায়েনার থাবার থেকে কম নয়। এনি ছটফট করছে ঠিক তখন ওই পেশিবহুল একটা হাত তার চিবুক চেপে ধরে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
” কি আছে তর মধ্যে বল। সত্যি করে বল কি আছে? তর জন্য হাজার পুরুষ কেনো এত উন্মাদ হয়ে আছে? তারা কেনো তকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য কুকুরের মত লেলিয়ে আছে? আন্সার মি রাবিশ!
এনির পুরো মুখ লাল হয়ে গিয়েছে নিকের থাবায়। চিবুক এমনভাবে চেপে ধরেছে যে ওর চোখ উল্টে আসার উপক্রম। এনি হাঁপাচ্ছে, ছুটাছুটি করছে। নিকের চোখগুলো অসম্ভব লাল হয়ে আছে। এনির দিকে তাকিয়ে বড় বড় শ্বাস নেয়। এরপর এক প্রকার রাগ আর জেদ নিয়ে গাল ছেড়ে দেয়। এনি যেন প্রান ফিরে পায়। গালে হাত দিয়ে নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আপনার মত জানোয়ার যখন লেগে আছে তখন অন্যদের কে কি বলব? মেয়ে নিয়ে তামাসা করা আপনাদের পেশা নিক জেভরান। তারাও তামাসার জন্য’ই আমাকে খুঁজছে।
নিক এনির বাহু চেপে ধরে বলেন,
” ওদের কাছে গেলে খুব ভালো লাগত?
এনি তাচ্ছিল্ল্য হাসি দিয়ে বলে,
” আরে ওরা কিছু করার আগেই মরে যেতাম। কিন্তু আপনি তো মরার সুযোগ ও দিচ্ছেন না। তিলে তিলে মারছেন আমাকে দিনের পর দিন। ওরা যদি জানোয়ার হয় তাহলে আপনি সেটার তৈরি দাতা।
নিকের রাগান্বিত চোখ দুটি তরিৎ গতিতে এনির দিকে নিক্ষেপ করে। দাঁতে দাঁত পিষে এনির পুড়ে যাওয়া হাতটায় শক্ত করে চেপে ধরে। ব্যাথাতুর জায়গায় শক্ত স্পর্শ পেতেই এনির চোখ বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। মনে হচ্ছে এখন ওই জ্ঞান হারাবে সে। পুরো শরীর এক প্রকার ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে। নিক সেই পুড়া স্থানে ইচ্ছে করে আর ও জোরে চাপ দিয়ে নিজের সম্মুখে এনে বলে,
” চোখ নামিয়ে কথা বলবে আমার সাথে। প্রতিটা কথা সীমা রেখে বলবে। আমার সাথে কেউ গলা উঁচু করে কথা বলতে পারে না। লিমিট ক্রস করলে জাহান্নামের নমুনা দেখিয়ে আনব।
এনি চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে পানি পড়ছে,
” জাহান্নামের যাওয়ার ক্ষমতাটাই আপনার আছে। জান্নাতে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। আপনাদের মত জানোয়ার ধর্মহীনরা কোনোদিন জান্নাতের নাম শুনতে পারবেন না।
এনি ঘৃনার চোখে কান্না মিশ্রিত চোখে তাকিয়ে থাকে নিকের গম্ভীর, লাল হয়ে থাকা চোখের দিকে। সে এখন আর ভয় পায় না কাউকে। ভয় কিসের? যেখানে সম্মানের নিশ্চয়তা নেই, জীবনের নিশ্চয়তা নেই সেখানে আর ভয় কিসের?
— তদের মত শরীর দেখানো মেয়েদের দাম্ভীকতা সাজে না। শরীর দেখিয়ে পুরুষ সিডিউস করা তদের কাজ।
নিকের এমন কথায় এনির শরীর ঘৃনায় জ্বলে উঠে।
নিকের স্পর্শগুলো মনে হচ্ছে একটা পচনশশীল জিনিস । এনি নিজেকে ধমিয়ে রাখতে না পেরে পুনরায় নিকের গোপন জায়গায় আঘাত হানে,,
” আপনি কি জারজ ছিলেন? মায়ের পেট থেকে হওয়া একজন সন্তান কিভাবে একটা মেয়েকে নিয়ে এইসব বলতে পারে? বাবার আদর্শ পান নি? নাকি অবৈধ ছিলেন?
এনির কথাটা বলার সাথে চারদিকে নিস্তব্দতা। পুরো কামড়া থেকে বেলকনি সব জায়গায় পিন পিন নিরবতা। এনি চোখ তুলে তাকায় নিকের দিকে। নিকের চোখ নিচে তবে শরীর আগের তুলনায় শক্ত। এনি সরে আসতে চায় সামনে থেকে। ঠিক এমন সময় এক ভয়ংকর শব্দে চার- পাশ ঝংকার তুলে। এতটা উচ্চ আওয়াজ ছিলো যে এনি ভয়ে কান চেপে চিৎকার দিয়ে উঠে। তার সামনে থাকা বেলকনির অর্ধেক কাউচ ভেঙ্গে পুরো মেঝেতে ছড়িয়ে গিয়েছে। এনি নিকের দিকে তাকাতেই আৎকে উঠে। নিকের চোখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। ধূসর চোখ নয় যেন আগুনের লাভা। হাত থেকে অনবরত রক্ত ঝরছে। নিক ঘাড় ঘুরিয়ে এনির দিকে তাকায়। এনি ভয়ে দুই পা পিছিয়ে যায়। ঠিক তখন ওই মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা কাচ ভাঙ্গা তার পায়ের নিচে গেঁথে যায়। মাংস ভেদ করে কয়েকটা টুকরো ডুকতেই এনি ব্যাথায় দাঁড়িয়ে যায় সেখানেই। নিক ধীরে ধীরে এগিয়ে আসের কাচের উপর দিয়ে। তার পায়ে সুজ। এনির সম্মুখে এসে এক হিংস্র বাঘের মত গলা ধরে রেলিং এর সাথে চেপে ধরে। অতিরিক্ত রাগে কথা বলতে পারছে না। গলা কাঁপছে, নিজের সর্বশক্তি দিয়ে গর্জে উঠে,
” বান্দির বাচ্চা সাহস কিভাবে হলো তর এইসব বলার? বলেছিলাম না নিক জেভরান কারোর গর্ভ থেকে জন্ম নেয় নি। মায়ের কথা কেনো তুললি? এই বল! বল বলছি? কাউ ওয়েল ডু ইউ নো উ মি?দ্য হোল কান্ট্রি ফিয়ার্স মি,অ্যাণ্ড ইউয়ার শোইং মি অ্যাটিটিউড? শালী মা** ফা**ক!
এনির শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। দুই হাত দিয়ে পিছনে রেলিং শক্ত করে চেপে ধরে। কাঁশতে কাঁশতে প্রায় নেতিয়ে পড়ে । আচমকা হাটু দিয়ে নিকের মেইন পয়েন্টে সজোরে চাপ প্রয়োগ করে। রাগের মধ্যে নিজের শরীরে এমন আক্রমনে নিক হাত ছেড়ে দেয়। এনি গিয়ে ছিটকে পড়ে মেঝেতে। মেঝেতে পড়ে থাকা কাউচগুলো তার শরীরে গেঁথে যায়। নরম মাংশ ভেদ করে শরীর ফুঁটো করে ঢুকে পড়ে অসংখ্য কাউচের টুকরো। তবে ভাগ্য ভালো ছিলো এক পাশে পড়েছে । হাতে আর পিঠে যাস্ট দুই একটা ডুকেছে । এনি দাঁত চেপে সয়ে নেয়। ব্যাথায় চোখ- মুখ বন্ধ করে রাখে শক্তভাবে। নিজের উঠে বসার আগেই নিক আচমকা এনিকে কোলে তোলে নিয়ে ডিভানের উপর ছুড়ে ফেলে। ব্যাথাতুর শরীরে আরও ব্যাথা পেয়ে এনি এইবার শব্দ করেই কেঁদে উঠে। নিক নিজের শার্টের বোতাম একটা একটা করে খুলে এনির দিকে এগিয়ে আসতে দেখে। আচমকা এনির কলিজা শুকিয়ে আসে । এক শরীরের ব্যাথা নিয়ে নড়া- চড়া করতে পারছে না। আরেকদিকে নিকের এমন হিংস্র রুপ।
এনি বহু কষ্টে ডিভানে থেকে নেমে দৌঁড় দিয়ে রুমে দিকে যেতে চায়। কিন্তু তার আগেই নিক এনির কোমড় পেচিয়ে পুনরায় ডিভানের উপর ছুড়ে ফেলে দেয়। এরপর এক প্রকার ঝাঁপিয়ে পড়ে এনির গোঁলাপি ঠোঁট দুটির মধ্যে। ধূসর রাঙ্গা চোখে যেন আগুন ঝলছে। ঘাড়ে থাকা ড্রাগনের ট্যাটুগুলো কেমন দৃশ্যমান হয়ে আসছে। জিম করা বডিটা এনির উপর ছেড়ে দেয়। প্রথম চুমুতেই দাঁত বসিয়ে দেয় এনির ঠোঁটে। এনি নড়তে পারছে না, তার দুই হাত নিক শক্ত করে চেপে ধরে আছে। নিকের হিংস্র অত্যাচারে এনির জীবন বেরিয়ে আসার অবস্থা। নিক ঠোঁট ছেড়ে গলায় নেমে আসে। গলা থেকে ধীরে ধীরে নিমে নামতে থাকে। জামাতে হাত রাখতেই এনি মিনতি করে কেঁদে উঠে,
” এমন ক্ষতি আমার করবেন না আমার। একজন নিশ্বঃ হয়ে বাঁচতে পারব কিন্তু বিবাহহীন স্পর্শ নিয়ে বাঁচার ক্ষমতা আমার নেই। গলা টিপে মেরে ফেলুন তবুও কলঙ্কের ছাপ দিয়েন না। আজ যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে কসম কাটছি কাল আমার মৃত লাশ দেখতে পাবেন।
নিক ততক্ষনে এনির জামার এক অংশ ছিড়ে ফেলে। নিজের কাজে সে সে চিরায়ত ছিলো। হুট করে নিজের অবাধ্য স্পর্শ থামিয়ে দেয়। ভয়ানক হায়েনায় পরিনত হয়ে যাওয়া গ্যাংস্টার বস কিছুক্ষনের মধ্যে থেমে যায়। এনির জামার বেহাল অবস্থা। এনি ডুকরে কেঁদে উঠে। সম্রামহানী না হোক, স্পর্শ গভীর না হোক, স্পর্শ তো লেগেছে! কিভাবে বাঁচবে সে আর?
নিক এনির উন্মোক্ত কোমর পেচিয়ে নিজের সাথে চেপে ধরে। এত বড় শক্ত – পোক্ত শরীরের সাথে এনির নরম শরীরটা ধাক্কা লাগার সাথে সাথে চোখ- মুখ খিঁচে ফেলেছে। স্বর্ব শক্তি ক্ষয়ে আসে তার ভীতরের। রক্তে লাল হয়ে আছে তার শরীরের ভিবিন্ন অংশ। নিকের হাতের রক্তে ও সে মাখা- মাখি। নিকের গভীর নিশ্বাসের শব্দে এনি নিরব হয়ে যায়। শুধু এইটুকু বুঝেছে সে আর বেঁচে নেই। শুধু রুহটা বের হওয়া এখন ও বাকি। নিক কে এইভাবে তার সাথে ল্যাপ্টে থাকতে দেখে এনি ধাক্কা দিয়ে দুরে সরিয়ে দেয়। অর্ধ নগ্ন শরীরটাকে ঢাকার চেষ্টায় কেঁদে উঠে,
” আজ নিজেকে সত্যিকারের রক্ষিতা মনে হচ্ছে। হ্যা আমি একজন রক্ষিতা! গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের লালসার পাত্রী। কেনো স্পর্শ করলেন।? বাঁচতে দিলেন না আমায়।
এইসব কান্না আহাজারি কোনোদিন ও নিকের ভেতরে জাগাতে পারে নি। আজও সেইম, সেই নিষ্ঠুর মাফিয়া বসের চোখে রাগের ঝলকানি। কেনো থেমে গেলে সে? কেনো কিছু করতে পারলো না। আরেকটু হলেই তো সব হয়ে যেত। তাহলে কিভাবে থেমে গেলো সব কিছু? নিক এনির দিকে তাকায়। এনি ঠোঁট কামড়ে কান্না করছে। নীল চোখগুলোর দিকে তাকাতেই নিক চোখ সরিয়ে নেয়। এনির পুরো শরীরে ক্ষত। কাচের টুকরো গুলো এখনও ঝলঝল করছে। কিন্তু কি আসে যায় তার। যা ইচ্ছে গেঁথে থাকুক শরীরে। নিজের প্রতি নিজের রাগ হচ্ছে।
— বাঁচতে দিলেন না আমাকে নিক জেভরান। বলেছিলাম আমি যেদিন আপনি আমার শরীরে কামনার স্পর্শ করবেন সেদিন আমি নিজের মৃত্যুকে গ্রহন করে নিব।
এনির চোখ- মুখ শক্ত করে উঠে দাঁড়ায়। এরপর ধীরে পায়ে এগিয়ে যায় সেই কাচ ভাঙ্গা মেঝের দিকে। চুল এলোমেলো, ঠোঁট কেটে রক্ত বের হচ্ছে, গলায় কামড়ের দাগ অনেকগুলো। এত স্পর্শ নিয়ে কি এনির সরল মন বাঁচতে পারবে। রক্ষিতা তো তার মত মেয়েরা না। কারোর রক্ষিতা হওয়ার থেকে মরন কবুল। একটা ভাঙ্গা কাচ তুলে হাতের শিরার উপর রাখে। দাঁত চেপে কাঁচের টুকরোটা হাতে চাপ দিতেই গালে এক ভয়ানক থাপ্পর পড়ে। মুহূর্তেই এনির দুনিয়া ঘুরে আসে। স্তব্দ হয়ে ছিটকে পড়ে যেতে চায় কাঁচের টুকরো গুলোর উপর। তার আগেই একটা শক্ত হাত তার দেহ নিষ্ঠুরতার সাথে চেপে ধরে। নিক এনিকে ধরে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৭
” সবার বিরুদ্ধে গিয়ে টাকা দিয়ে কিনে এনেছি কি তর লাল রক্ত দেখার জন্য?
এনি আবছা আলোতে দেখছে গ্যাংস্টার বসের পাষন্ড মুখটা। এই যে এনির পুরো শরীরে ক্ষত তবুও কিভাবে চেপে ধরেছে দানবের মত। এনির ভেতরটা ব্যাথায় ফেটে যাচ্ছে অথচ চিৎকার দেওয়ার শক্তি নেই। শুধু দেখতে পাচ্ছে নিক কাউকে ফোন দিয়ে বলছে,
‘ এক ঘন্টার ভেতরে এখানে কাজি নিয়ে আয়। যদি এক মিনিট ও দেরী হয়েছে তাহলে জ্যাঁন্ত পুতে ফেলব।
