Home লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ৩৭

লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ৩৭

লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ৩৭
অহনা রহমান

হিয়ার অসুস্থতার কথা শুনে, হিয়ার পরিবারের সকলে এলো নাফিদের বাড়িতে। বিকেল নাগাদ বাড়িতে লোকসমাগম ভরে গেল। হেলেনাসহ ওই বাড়ির প্রতিটি সদস্য এলো নাফিদের বাড়িতে৷ এমনিতে নাফি ও হিয়া বিয়েটা হয়েছে একপ্রকার অপ্রত্যাশিতভাবে। আত্মীয় স্বজন তেমন কেউ জানতোও না বিয়ের কথা। এখন অবশ্য সকলে জেনেছে আস্তেধীরে। নাফি ও নাসিমা ভেবেছিলেন দুই-চারদিন পরে সকল আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে একটা রিসেশনের মতো করবে। কিন্তু তা আর হলো কই! দুপুরের দিকে হেলেনা জানতে পেরেছেন হিয়ার প্রেগন্যান্সির কথা৷ আর বিকেলের মধ্যেই পুরো ফ্যামিলির সকলে হাজির। এতে অবশ্য নাফি অথবা নাসিমা বেজার হয়নি। আর আপ্যায়নের ও কোনো কমতি রাখেননি কোনদিক থেকে। রুহি অথবা হিয়া দু’জনের বিয়ের পর তেমন কেউই আসেনি ওই বাড়ি থেকে। এই সুযোগে সকলে এলো সাথে সাথে অসুস্থ হিয়া টাও খুশি হলো। ব্যাস! আর কি চাই!

সব কিছুই ঠিক ছিলো। কিন্তু সমস্যা হলো, ওই বাড়ি থেকে এতো মানুষ এলো রুহি নিজের রুম থেকে বের হলো না৷ বা কেউ রুহির কথা জিজ্ঞেস করলো না একবারও। যদিও রুহির মা কয়েকবার উঁকি মেরেছিলেন মেয়ের ঘরের দিকে। কিন্তু রুহি সামনে আসেনি কারো। এতে খানিকটা অবাক হলেন নাসিমা। নাফিও বেশ বিচলিত হলো। সে আগে শুধু সন্দেহ করেছিলো, রাজ ও রুহির মাঝে ঝামেলা চলছে। কিন্তু এই ঘটনার পর নাফি একদম শিওর হলো যে রুহির মধ্যে কিছু তো ঘাবলা আছেই। যার কারণে তার ভাই ও ওর নিজের ফ্যামিলির মানুষই দূরে দূরে থাকছে।
ওদিকে হিয়া নিজের পরিবারের মানুষদের দেখে সে কি খুশি! বিশেষ করে তার মাকে দেখে হিয়া। ওরা যখন সদরদরজা দিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো, হিয়া খুশিতে আত্মহারা হয়ে চিৎকার করে উঠল। উপরতলা থেকে দৌড়ে আসতে নিলো সিঁড়ি দিয়ে। নাফি ও উপরে ছিলো তবে হিয়ার সাথে বেশ দুরত্বে ছিলো। হিয়া দৌড়াবে মাথায় আসতেই নাফি শক্ত হাতে পেছন থেকে হিয়ার হাত চেপে ধরলো। হঠাৎ এমন করাতে, তাল সামলাতে না পেরে হিয়া বারি খেলো নাফির সাথে। ও কিছু বুঝে ওঠার আগেই নাফি দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“হিয়া ডো’ন্ট ক্রস ইয়্যুর লিমিট’স! ভুলে যেও না তুমি কারো সন্তানের মা হচ্ছো।”
হিয়া অবাক হলো। কারো সন্তান মানে টা কি! যে আসছে সে কি হিয়ার কিছু না? হিয়া জেদ দেখিয়ে বলল,
“কারো সন্তান মানে কি? যে আসছে সে আমারও সন্তান।”
হিয়ার হাতটা তখনও নাফির হাতের মধ্যেই ছিলো। হিয়ার কথা শুনে নাফি একটু চাপ প্রয়োগ করলো। এতে হিয়া ব্যাথা অনুভব করলো হাতে৷ বাঁকানো ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেল। তা দেখে সাথে সাথেই নাফি হাতের বাঁধন ঢিলা করলো। চোয়াল শক্ত করে বলল,
“তোমার কিছু হলে, অবশ্যই আমাকে আগে জানাতে তোমার অসুস্থতার কথা। আমাকে যেহেতু জানাওনি, মনে হচ্ছে আমি তোমার কেউ না। আমি তোমার কেউ না হলে আমার সন্তান…!”

ততক্ষণে নিচে সকলে চলে এসেছে। নাফি হিয়াকে ছেড়ে দিলো। যাওয়ার আগে বলে গেল,
“যখন ওড়ার কথা বলেছি তখন নিজেকে গুটিয়ে রেখেছো। এখন একটু সাবধান থাকতে বলছি এখন উড়তে চাইছো। তোমাকে নিয়ে আমি কি করি বলোতো! সাবধানে নিচে নামবে বলে দিলাম!”
নাফি চলে যাওয়ার পর হিয়া কিছুক্ষণ তাজ্জব হয়ে তাকিয়েছিল নাফির দিকে। বাচ্চাদের মতো অভিমান দেখে হিয়ার খুব হাসি পেল। এতক্ষণে সে বুঝলো, নাফি কি নিয়ে রাগ করেছে। হিয়া ঠোঁট ভেঙিয়ে বিরবির করে বলে উঠলো,
“উলি আমাল কিউট বেবির বাবাটা লাগ কলেতে। কি চুন্দল লাগচে দেকতে!”
আশ্চর্যজনক ভাবে ঠিক তখনই নাফি তাকালো হিয়ার দিকে৷ তা দেখে হিয়া হেঁসে উঠলো স্ব শব্দে। নাফি বেশ কষ্টে হাসি চাপিয়ে রাখলো। এবং গোমড়া মুখে সিঁড়ি বেয়ে নিচে গেল। এরপর হিয়া ও আস্তেধীরে নিচে গেল। মা’কে দেখে তো প্রথমে সে’কি কান্না মেয়েটার। এভাবেই কাটলো সব।

রাতে খেয়েদেয়ে হেলেনারা বিদায় নিলেন সকলে। সবার পরামর্শে কথা হলো, আগামী মাসের দশ তারিখে হিয়া ও নাফির রিসেশন হবে। বিদায় বেলায়ও রুহি বের হলো না। হেলেনাসহ হিয়ার সকল চাচিরা গিয়েছিলো রুহির দরজায়৷ কিন্তু নিষ্ঠুরতার সাথে রুহি গো ধরে রইলো। এতো ডাকাডাকির পরও ও খুললো না দরজা৷ সবার দেখাদেখি রাজও বেশ কয়েকবার ডেকেছে। কিন্তু ফলাফল শুন্য। রুহি কারো কথাই শোনেনি৷
ওদিকে হেলেনা যাওয়ার আগে, মেয়ের কাছে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞেস করে নিলেন মেয়ে ভালো আছে কি-না। মায়ের প্রশ্নের জবাবে হিয়া প্রতিবার বলেছে, সে ভীষণ সুখে আছে। আজকালকার সময়ে এমন সুখে খুব কম মেয়েরাই থাকে। হেলেনা মনে শান্তি অনুভব করলেন। তার আর কোনো পিছুটান নেই৷ এইবার তিনি সংসারের মায়া ত্যাগ করবেন। যদি মানুষের বাসায়ও কাজ করতে হয় তাও করবেন কিন্তু ওই সংসারে আর না!

রাগ তখন অনেক। হিয়া নিজের রুমে বসে আছে গাল ফুলিয়ে। নাফি নেই রুমে। হিয়া খুব ভালোই বুঝতে পেরেছে, সকালের সেই বিষয় নিয়ে নাফি এখনোও রেগে। এখন অনেক রাত হলেও রুমে আসছে না৷ প্রথম প্রথম হিয়ার একটু অভিমান হলো, কেন নাফি রুমে আসছে না। কিন্তু ঘড়ির কাঁটায় রাত একটা বাজাতেই হিয়ার খারাপ লাগতে শুরু করে। টেনশন হয় মানুষটার জন্য। হিয়া সারা রুম জুড়ে পায়চারি করতে লাগলো।

“দেখ রাজ, আমি জানি তুই চিরকাল আমার সাথে অদৃশ্য একটা প্রতিযোগিতা করে এসেছিস। কিন্তু বিশ্বাস কর আমি কখনো এমন ভাবিনি। কেন জানিস? কেননা, তুই আমার ভাই৷ রক্তের ভাই। আব্বা মারা গেছে বহু আগে। মা বহুকষ্টে তোকে, আমাকে মানুষ করেছে। তোর থেকে বড় হওয়ায় আমি, প্রয়োজনে একটু বেশিই শাসন করেছি। কিন্তু এটাকে যদি তুই খারাপ ভাবে নিস, তাহলে সত্যিই আমার কিছু করার নেই৷”
রাজ অবাক হলো। কিংকর্তব্যবিমূঢ় বনে তাকিয়ে আছে নাফির দিকে। হেলেনাদের এগিয়ে দিতে গিয়েছিলো দুই’ভাই। বাড়ির মেইন গেট পর্যন্ত গেছিলো ওরা। সেখান থেকেই ফিরছিলো দুই’ভাই। তবে কারো মধ্যে কোনো কথা ছিলো না। যেন কোনো অদৃশ্য দেয়াল তাদের বেঁধে রেখেছে। অথচ ছোটবেলায় তাদের কত মধুর সৃতি রয়েছে। হঠাৎ নীরাবতা ভাঙে নাফির কন্ঠে।

নাফির কথা শুনে রাজ দাঁড়িয়ে যায়। বলার মতো ওর কিছুই নেই। ওদিকে রাজ হাঁটতে হাঁটতে বেশ খানিকটা দুরে গিয়ে দেখলো, রাজ আসেনি। ও পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে। এজন্য নাফি আবার গেল পেছনে, রাজের কাছে। বহুবছর পরে রাজের কাঁধে হাত রাখলো নাফি। একই স্বরে ফের বলল,
“জানি, তোর সময় এখন খারাপ যাচ্ছে। শোন, সময় সবসময় একই থাকে না। তোরও থাকবে না।” কিছুক্ষণ পর নাফি আবারও বলল,
“হিয়াকে নিয়ে আমি ভালো আছি রাজ। আজ বাদে কাল আমার সন্তান আসবে দুনিয়ায়। আমি চাই না, সে এসে তার বাবা ও চাচার মাঝে এমন বিরোধের দেয়াল দেখুক। আমি চাই তুইও সুখী থাক। এবং আমার সন্তান এসে যে একটা সুখী পরিবার পায়।”
রাজ একদৃষ্টিতে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে৷ নাফির বলা প্রতিটি কথা সত্য। নাফি কখনোই ওকে খারাপ চোখে দেখেনি। ও নিজেই মনগড়া কাহিনি বানিয়ে ভুল বুঝে গেছে। আজ যখন নাফি সবকিছু মেলে ধরছে ওর আর কি’বা বলার আছে!

“আমি জানি না, রুহির সাথে তোর কি হয়েছে আর জানতেও চাই না। শুধু বলবো সময় নে। দুজনেই সময় নে। শোন, যা হয়ে গেছে তা আর খণ্ডানো যাবে না। মেনে নিলেই বরং ভালো হবে৷ তোরা দু’জনেই মেনে নে। জীবন আমাদের একটা-ই, এই এক জীবনে এতো রেষারেষি, হিংসা করলে ভালো থাকা হবে না। এই জীবনে ভালো না থাকলে, মরার পরে কি হবে কেউ জানে না। তাহলে, জেনেশুনে হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে কেন অশান্তির অনলে পুড়তে হবে? আরে ভাই, আমি ভালো আছি তুইও ভালো থাক না। আজ আছি তো কাল থাকবো না___এতো অশান্তি করে লাভ আছে? কালকে তোর একাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে, রুহিকে নিয়ে একটু ঘুরে আয়। সময় কাটিয়ে আয়। দেখ সম্পর্ক টা বাঁচে কি-না!

এতো কথা বললাম কারণ ___ তুই আমার ভাই। রক্তের ভাই আমার। খুব আদরের ভাই। তুই যে অন্যায় করেছিস তাতে আমার ক্ষমা করা উচিত না। কিন্তু আমি তোর চোখে অনুশোচনা দেখেছি৷ আর এইজন্যই সুযোগ দিলাম। এখন তুই’ই ঠিক কর, তুই কি করবি। এসব নিত্যনতুন অশান্তি বেছে নিবি নাকি সুন্দর ভাবে বাঁচবি।”
নাফি একনাগাড়ে কথা গুলো বলে রাজের কাঁধ ছেড়ে দিলো। এবং নিজের মতো হাঁটতে লাগলো। পেছনে রাজ দাঁড়িয়ে পড়লো আবার। তিন সেকেন্ড__ তিন সেকেন্ড সময় নিয়ে কি যেন একটা ভাবলো ও। এরপর এক সেকেন্ড ও সময় অপচয় না করে নাফির পেছন থেকে বলে উঠলো,

“ভাই?”
বহুদিন পরে রাজের সম্মোধন শুনে নাফি দাঁড়িয়ে গেল। মনের মাঝে বয়ে গেল প্রশান্তি। মুচকি হাসলো নাফি। ততক্ষণে রাজ ওর সামনে চলে এসেছে। রাজ সামনে এলে নাফি একটু গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“হ্যাঁ কিছু বলবি?”
রাজ এক মুহূর্তও অপেক্ষা করে না। জড়িয়ে ধরলো নাফিকে। শক্ত পুরুষটি বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠলো।
“আমাকে ক্ষমা করে দাও ভাইয়া। আমি তোমাকে চিনতে পারিনি। আমাকে ক্ষমা করে দাও!”
নাফি একটু রসিকতা করে বলল,
“তাই? আজকে চিনলি আমাকে? তা কি চিনলি শুনি?”
“আমার ভাই—একজন যোগ্য সন্তান, দায়িত্ববান স্বামী, যত্নশীল বাবা এবং সত্যিকার অর্থেই একজন আদর্শ ভাই।”
নাফি হাসলো কেবল। অবশেষে বিরোধের খাতা বন্ধ হলো। তৎক্ষনাৎ মাথায় প্রশ্ন এলো, রুহি কি সবটা এতো সহজে মেনে নেবে? তবে এই সুন্দর মুহুর্তে নাফি ওই বিষয় নিয়ে অতটা মাথা ঘামালো না। রাজের পিঠটা চাপড়ে দিয়ে বলল,

“হয়েছে হয়েছে। আমি যত্নশীল বাবা হলে তোকে-ও কিন্তু সেরকম চাচা হতে হবে। এখন কিন্তু সবকিছুই পাল্টে গেছে রাজ। এই বিষয়টা মাথায় রাখিস।”
“মনে রাখবো ভাইয়া। আমি হিয়া….”
“উহুম! ভাবি হয়। এটা আগে প্রাকটিস কর তারপর আর সব। ছাড় দেখি, আমার বউটা ঘরে একা একা আছে।”
রাজের কথা শেষ হওয়ার আগেই নাফি বলে উঠলো কথাটা৷ এবং রাজকে নিজের থেকে সরিয়ে দিলো। এরপর ও ঢুকে গেল বাড়ির ভেতরে। রাজ নাফির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো একভাবে। রাজ খেয়াল করলো, বুকের ভেতরটা আজ ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। মনে হচ্ছে বড় একটা বোঝা নেমে গেল তার। আশেপাশে ভীষণ শান্তি শান্তি অনুভব হচ্ছে তার। ভীষণ শান্তি!

নাফি রুমে গিয়ে ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো। হিয়া পায়চারি করছিলো রুম জুড়ে। নাফিকে আসতে দেখে সে খুশি হলে মনে মনে। কিন্তু নাফির গোমড়া মুখ তার মোটেও ভালো লাগলো না। হিয়া শাড়ির আঁচলটা আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে গেল নাফির কাছে। হিয়াও ধপ করে বসলো নাফির পাশে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো, নাফি কিছু বলবে সেই আশায়৷ কিন্তু মুখপোড়া নাফি কিছুই বললো না হিয়ার সাথে। উল্টো ঘাড় ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো। হিয়া বেশ কয়েকবার গলা খাঁকারি দিলো যাতে নাফি তার দিকে তাকায় অন্তত। কিন্তু এবারেও পাষাণ নাফি তাকালো না হিয়ার দিকে। এজন্য হিয়া ভেংচি কেটে অন্যদিকে ফিরে তাকালো। নাফি যদি কথা না বলে সেও বলবে না কথা! তার অত ঠেকা পড়েনি। হাহ!
মনে মনে হাজার বার এসব ভেবেও অধৈর্য হয়ে হিয়া হাত রাখলো নাফির গালে। নাফির মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে শীতল কণ্ঠে বলে উঠলো,

“রেগে আছেন? রাগ করবেন না প্লিজ।”
“করবো রাগ! কি করবে তুমি?”
“আপনি রেগে থাকলে আমার খারাপ লাগে।”
“লাগুক। আমি কি করবো?”
হিয়া নাফির চোখে চোখ রেখে বলল,
“আমার খারাপ লাগলে আপনার কিছু হবে না?”
“না হবে না।”
হিয়া ঠোঁট উলটে বলল,
“এমন কেন করছেন হু? কি করেছি আমি?”
“কিছু করোনি তুমি। যাও শুয়ে পড়ো।”
“এই-বার কিন্তু আমি কাঁদবো।”
“কাঁদো! তাতে আমার কি?”

“শুনুন না, আমি ভেবেছিলাম শরীর দুর্বলের কারণে এমন মাথা ঘুরায়। ভেবেছিলাম, ঠিক হয়ে যাবে। তাছাড়া আপনি অফিসে অনেক কষ্ট করেন। আমি আবার এই সামান্য বিষয় নিয়ে টেনশনে রাখবো! এইজন্যই বলা হয়নি। তবে বমি হওয়ার পরে ভেবেছিলাম বলবো। কিন্তু তার আগেই তো……!”
“হয়েছে থাক! আমি কিছু শুনতে চেয়েছি? আমার অফিসের কাজের জন্য বলেনি! হাহা…! হিয়া তোমার খেয়াল রাখা আমার দায়িত্ব। আজ যদি সিঁড়ি দিয়ে পড়ে যেতে? যদি তোমার কিছু হয়ে যেত? যদি আমাদের বাচ্চাটার কিছু হতো?”
হিয়া নাফিকে ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। নাফির সামনে দাঁড়ালো গিয়ে। নাফির গলাটা নিজের দুহাতে পেঁচিয়ে নিয়ে বলল,
“এতো বকছেন কেন? বলেছি তো আর করবো না। এরপর থেকে, বাসায় একটা পাদ মারলেও আপনাকে জানাবো৷ ওকে?”

হিয়ার কথা শুনে নাফির ভীষণ হাসি পেল। তবে খুব চেষ্টা করে হাসি আটকালো সে। মুখটা গম্ভীর করে নিলো আবার। হিয়াকে ক্ষেপানোর জন্য বলে উঠলো,
“না! তুমি পাদ মারো যা করো আমাকে কেন বলতে হবে? আমি কে হই তোমার? আমি তো কিছুই না। যদি হতাম তাহলে সবটাই বলতে আমার সাথে।”
হিয়া নাফির পেছনের চুলগুলো টেনে ধরলো। এতে নাফির মুখটা একটু উঁচু হয়ে গেল। হিয়া খুব কাছ থেকে নাফিকে দেখতে থাকলো এইবার।
“দেখেছো সত্যি কথার ভাত নেই! আগে শুনতাম মহিলাদের চুলের মুঠি ধরা হয়। কি যুগ এলো রে বাবা, এখন দেখছি পুরুষেরও চুলের মুঠি ধরছে। আজকাল শহরের অলিতে গলিতে পুরুষ নির্যাতন হয়।”
হিয়া এবারে মেজাজের খেয় হারালো। এই লোকটা সবসময় বেশি কথা বলে। হিয়া নাফিকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই, নাফির অধরে অধর মেলালো। কাম ড়ে ধরলো নাফির নিচের ঠোঁট টা। বেশ কিছুক্ষন অত্যাচার চালালো নাফির উপর। একটা সময় নিজেই ছেড়ে দিলো নাফিকে।

“ভাগ্যিস পুরুষ নির্যাতনের মামলা নাই। নাহলে আমার বউটার যে কি হতো, কে জানে! একটা অবলা ছেলেকে পেয়ে সবটা লুট করে নিচ্ছে!”
হিয়া শাড়ির আঁচল দিয়ে নাফির ঠোঁটটা মুছে দিলো। সেখানটায় লাল হয়ে গেছে। তা দেখে হিয়া আবার মুচকি হাসলো। বলল,
“আমার সাথে লাগতে এলে এমনই হবে। আর এখন শুধু আমি একা নই হ্যাঁ? আমার সাথে আরেকজনও আছে?”
ততক্ষণে নাফির অভিমান গলে পানি হয়ে গেছে। নাফি হিয়ার নরম উদরে হাত রাখলো। আলতো করে কয়েকটা চুমু খেলো। এরপর উঠে দাঁড়ালো। হিয়াকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো নাফি। কেমন একটা কন্ঠে বলল,
“শাস্তি যদি এতো মিষ্টি হয় তাহলে আমি আপনার সাথে প্রতিদিন লাগতে চাই ময়না।”
হিয়া লাজুক হাসলো। নাফি আবারও বলল,
“তাছাড়া আমি কারো ঋন রাখি না। আমাকে কেউ কিছু দিলে আমি তার দ্বিগুণ ফেরত দিই। এখন বলো তুমি কি নিতে প্রস্তুত?” একটু থেমে ফের আওরালো,

লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ৩৬

“শরীর সইবে তো?”
হিয়া নাফির কথার ধরন শুনেই বুঝতে পারলো আসলে সে কি চায়। হিয়া মাথা নিচু করে লাজুক হেঁসে বলল,
“হুম, সইবে। তাছাড়া আমারও ভালো লাগে না মানুষকে ঋনি রাখতে।”
নাফি হেঁসে উঠলো স্ব শব্দে। লুফে নিলো হিয়ার দেওয়া সুযোগ। এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে, হিয়াকে ঘুরিয়ে শুইয়ে দিলো বিছানায়। আর নিজেও এক লাফে উঠে গেল বিছানায়।

লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ৩৮