Home লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ৪১

লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ৪১

লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ৪১
অহনা রহমান

“যে মেয়েকে নিয়ে রে ই পের ষড়যন্ত্র করেছিলাম সে আর কেউ নয়, আমাদের হিয়া। শুধুমাত্র এই রুহির কথা শুনে আমি অমন একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বিশ্বাস করো, আমি করতে চাইনি কিন্তু পরিস্থিতির চাপে পড়ে আমাকে করতে হয়েছে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সেদিন হিয়া বেঁচে যায়। ঠিক সময়ে তুমি’ই উপস্থিত হয়েছিলে সেদিন। আমাদের বিয়ের পর থেকে হিয়ার সাথে যত অঘটন ঘটেছে সব দায়ভার আমার আর রুহির।
এরপর তোমার আর হিয়ার বিয়ে হলো। হিংসায় জ্বলতে থাকলাম আমরা। তবে এর ভালো দিক হলো,
তোমাদের বিয়ের সাথে সাথে শুরু হলো আমার আর রুহির মধ্যে ঝামেলা। বলতে লজ্জা লাগছে, তবুও বলছি
__রুহি আর আমার মাঝের সম্পর্কটা শুধুই নাটক। আমাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর কোনো সম্পর্ক নেই৷ আমি কোনোদিন রুহিকে স্পর্শ করিনি৷ বলতে পারো স্পর্ষ করার জন্যই, দিনের পর দিন হিয়াকে ছোট করেছি৷ পুরুষের মন তো, নারী দেহের বড় লোভ! আমিও লোভ সামলাতে পারিনি।

তোমাদের বিয়ের পরে, হিয়ার সাথে তোমাকে সুখে থাকতে দেখলাম। দেখলাম, তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা একফোঁটা এক ফোঁটা কমতি নেই। অথচ আমার জীবনটা পুরো জাহান্নাম৷ সেই সময়ে আমি ভিষণ ঈর্ষান্বিত হতাম। সাথে রুহিও। এরই মাঝে রুহির সাথে নতুন নতুন ঝামেলা শুরু হয়। আমি বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। ভালো লাগতো না কিছুই। মনে হতো….মনে হতো নিজেকে শেষ করে দিই।
কিন্তু কয়েকদিন পর থেকে আমি উপলব্ধি করতে পারি, আমি ভুল করেছি। তোমাদের মতো একটা সংসার আমিও ডিজার্ভ করি। প্রতিশোধপরায়ন হয়ে আমি খাঁটি সোনা হারিয়েছি। এরপর আমি বাসায় আসা বন্ধ করে দিই। এমনও দিন গেছে আমি সারাদিন না খেয়ে-না নেয়ে নদীর পাড়ে বসে ভেবেছি। ভেবেছি আর ভেবেছি। কি হচ্ছে আমার সাথে! কয়েকদিন লেগে গেল আমার এই প্রশ্নের উত্তর পেতে৷ শেষে উত্তর পেলাম, তোমরা সুখে আছো এটা দেখেই আমার শান্তি। আমি নিজেকে পরিবর্তন করলে, আমিও এমন পেতে পারবো৷

তারপর তোমার সাথে সেদিন কথা হলো৷ আমার আরেকটা ভুল ধারণা সেদিন ভেঙে গেল। আমি ভাবতাম___মা তোমাকে বেশি ভালোবাসে৷ তুমি যেসব অর্জন করো তা শুধুমাত্র মায়ের জন্য। অথচ তোমার কথা শুনে, আমি বুঝতে পারলাম তুমি যা অর্জন করেছো তা একান্তই তোমার কষ্টের প্রতিফল। তুমি আসলেই এসব ডিজার্ভ করো। আমার এই অবস্থার জন্য নিতান্তই আমি দায়ী।
সেদিনের ভুল ভাঙার পরে আমি আরও সচেতন হয়ে যায়। এরমধ্যে রুহি আর আমার সাথে কথাবার্তা সম্পুর্ন বন্ধ হয়ে যায়। তবুও আমি রুহিকে বোঝানোর চেষ্টা করি৷ কিন্তু ও শুধরানোর মতো মানুষ নয়।
সকালে সিঁড়িতে রুহির আর হিয়ার পাশে আমিও দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমি স্পষ্ট দেখেছি, হিয়া যখন নিচে পা বাড়ালো রুহি ওকে ধাক্কা মারতে নেই। ও হাত বাড়ানোর সাথে সাথেই আমি হিয়াকে সরিয়ে নিই। যার দরুন রুহি পড়ে যায়। আর তারপর থেকে সবার জানা সবকিছু।”

রাজ ধপ করে বসে পড়লো মাটিতে। কয়েক জোড়া অবিশ্বাস্য চাহনি ওর উপর। রুহিও মাথা নিচু করে বসে আছে। রুহির বাবা সহ বাকি সবাই স্তব্ধ হয়ে গেছে। হিয়ার চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু ঝড়ছে। হেলেনাও কাঁদছেন। তার মেয়েটাকে নিয়ে এতো ষড়যন্ত্র! ওদিকে নাফির চোখমুখ রক্তিম হয়ে গেছে রাগে। ও শান্ত অথচ ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকালো রুহির দিকে। এরপর রাজের দিকে। নাফি একটা হিয়াকেও পর্যবেক্ষণ করে নিলো।
“বুঝলাম না তো, হিয়ার পিছনেই কেন লেগেছো তোমরা? নাকি রাজ, তুমি আমার মেয়েকে ফাঁসাতে চাইছ?”
রাজ নম্র স্বরে রুহির মাকে বলল,
“হিয়ার পেছনে লাগার কারণ আমি বলতে পারবো না। তবে এটা বলতে পারি, হিয়ার ক্ষতি করার পেছনে বড় কোন কারণ নেই। তখনও হিয়া নির্দোষ ছিলো।”
সাথে সাথে গর্জে উঠলো রুহি। সামনের ফাঁকা দাঁত নিয়ে খুব কসরত করে বলল,

“মিথ্যে কথা। হিয়ার পেছনে লাগার কারণ আছে। ও ছোটবেলা থেকেই আমার বাবার ভালোবাসায় ভাগ বসিয়েছে। যেটা আমার মোটেও ভালো লাগতো না। শুধু ও না। ছোট মা ও কম যায় না। আমার তো মনে হয় আমার বাবা আর ছোটমা এর সন্তান হিয়া। আর রাজের সাথে কি সম্পর্ক? রাজ হিয়ার প্রাক্তন ছিলো প্রাক্তন! ও একটা ন ষ্টা চরিত্রহীনা মেয়ে। যে কি-না ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে নিজের প্রাক্তনের ভাইকে বিয়ে করেছে৷ রাজ যা বলেছে সব সত্যি। ইশশ কেন যে সেদিন ও কলঙ্কিত হলো না! ইশশ কেন যে ও সকালে সিঁড়ি দিয়ে পড়লো না! আর হ্যাঁ আমি এসবে একটুও অনুতপ্ত নই। কেননা ওর মতো ন ষ্টা…..

রুহি কথা শেষ করার আগেই একটা শক্তপোক্ত হাত ওর গলা চেপে ধরলো। হঠাৎ এহেন কান্ডে হকচকালো সবাই। রুহির নিশ্বাস আঁটকে আসার উপক্রম। কিন্তু কেউই আটকালো না একবার। এমনকি রুহির বাবা মা ও নয়। তারা বিশ্বাস’ই করতে পারছেন না তাদের মেয়ে এরকম করেছে। এতো কিছু ছিলো গভীরে? এতদিন তারা বোকার স্বর্গে বাস করেছেন। বেশি ভেঙে পড়লেন রুহির বাবা। সেদিন ভেবেছিলেন তার মেয়ে ভুল করে কথাটা বলে ফেলেছে৷ অবশ্যই সে এই কাজে অনুতপ্ত। কিন্তু আজ? আজ পুনরায় রুহি ওই শব্দ গুলো মুখ দিয়ে উচ্চারণ করলো? রুহির বাবা উঠে দাঁড়ালেন। একপা একপা করে সদর দরজা দিয়ে বাড়ির বাইরে চলে গেলেন।
তাছাড়া এখনকার যুগে প্রেম-ভালোবাসা কোনো জটিল ব্যাপার না। হিয়ার প্রেম থাকতেই পারে। তিনি যতদুর জানেন হিয়া নয় নাফিই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলো। তারমানে নাফি সব জানতো? জেনে শুনেই বিয়ে করেছে। সব’ই তো ঠিক আছে৷ রুহি শেষে কিনা গর্ভবতী হিয়াকে সিঁড়ি থেকে ফেলে দিতে চেয়েছে? ছিঃ!
নাফি গর্জে উঠলো সেসময়। রুহিকে হুইলচেয়ার থেকে টেনে তুললো। একের পর এক চড় বসাতে লাগলো ওর গালে।

মেয়ের প্রতি অভিমান থাকলেও রুহির মা বসে থাকতে পারলেন না। দৌড়ে গিয়ে রুহিকে আগলে নিলেন। ওদিক থেকে নাসিমা ও এলেন নাফির কাছে। নাফিকে বললেন,
“বাবা, ও একটা মেয়ে। আমি তো তোকে নারীর গায়ে হাত তোলা শেখায়নি। তাহলে তোর আর ওদের মধ্যে পার্থক্য কি থাকলো?”
নাফি ভয়ানক রেগেছে। ওর রাগ সম্পর্কে কমবেশি সবার ধারণা ছিলো! নাসিমা কথা গুলো বললেন ঠান্ডা কন্ঠে। কিন্তু নাফি যেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো এসে। কাঁচের টি টেবিলটার উপরে স্বজোরে লাথি মেরে বলল,
“কখনো দেখেছো এরকম? কেন করছি জানো না? বুঝতে পারছো না? আমার হিয়াকে ও গালি দিয়েছে। আমার মা সমতুল্য শাশুড়ীকে ও ছোট করেছে! ওকে ছেড়ে দেবো? হ্যাঁ ছেড়ে দিতে বলছো? ও আমার সন্তানকে পর্যন্ত ছাড়েনি। আমি কিভাবে ছাড়বো ওকে?”

নাফি আবার তেড়ে গেল রুহির দিকে। তবে বাঁধা দিলেন নাসিমা। তিনি কান্না বিজরিত গলায় বললেন,
“দোহাই লাগে বাপ আমার। মেয়েটা অসুস্থ। মরে যাবে ও।”
নাফির রাগ কিছুতেই কমছে না। ও নাসিমাকে সরিয়ে দিলো নিজের কাছ থেকে। হাতের কাছে যা ছিলো সব ভেঙে ফেললো ও। একবার হিয়ার দিকে চোখ বুলিয়ে নিলো। হিয়া হেলেনার বুকের উপর কাঁদছে। নাফি আবার তেড়ে যেতে লাগলো রুহির দিকে৷ ঠিক তখনই, নাসিমা বললেন,
“ও তো পরের মেয়ে৷ ওকে শাসন পরে করবি। আগে আমাদের জা নো য়া রকে সামলা। ও কি ফিডার খায়? একজন বলল আর রেই প করতে চাইলো? ছিহঃ আমার লজ্জা লাগছে, ওর মতো একটা সন্তান আমি দশমাস আমার গর্ভে টেনেছি। সন্তান তো মানুষ করতে পারিনি শুধু শুধু পেটটাকেই পচিয়েছি।”

মায়ের কথা শুনে নাফি রাজের দিকে ঘুরলো। এগিয়ে গেল রাজের দিকে। এলোপাতাড়ি লাথি মারতে লাগলো রাজকে। রাজ যদিও এসবের জন্য প্রস্তুত ছিলো। রাজ একটা টু শব্দ ও করলো না। মুখ বুজে নাফির মার খেতে লাগলো। এটাই যে ওর শাস্তি! এটা ওর প্রাপ্য ছিলো। এটুকু মার না খেলে যে রাজ নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না। নাক ফেটে রক্ত ঝড়তে লাগলো ওর। যদিও নাফি সে-সব কিছুই দেখলো না। ওর মনে শুধু একটা কথাই ঘুরতে লাগলো, রাজ ওর হিয়াকে নিয়ে নোংরা ষড়যন্ত্র করেছে। নাফি রাজকে মারতে লাগলো আর আওরাতে থাকলো,
“তুই একটা ক্রিমিনাল! আমার হিয়াকে তুই কষ্ট দিতে চেয়েছিস?”
নাফির রাগ কিছুতেই কমছে না। আর না তো নাসিমার রাগ৷ তার সন্তান এমন করেছে? কিন্তু খানিকক্ষন পরে হিয়া মুখ তুলে তাকালো। রাজের অবস্থা দেখে ঘাবড়ে গেল ও। রাজ তখন মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে৷ নাফি তবুও ওকে মারতে উদ্ধত হলো। ঠিক সেসময় হিয়া সামনে এসে দাঁড়ালো নাফির। নাফির হাত ধরে কেঁদে কেঁদে বলল,
“মারবেন না আর৷ ও তো মরে যাবে। আর মারবেন না প্লিজ।”
নাফি কিছু বলার আগে নাসিমা শক্ত কন্ঠে বললেন,

“মরুক। অমন সন্তান আমার দরকার নেই। আজ থেকে জানবো আমার একটাই সন্তান। আমার ছোটো ছেলে মরে গেছে।”
“ও তো ভুল স্বীকার করেছে আম্মু। যে ভুল বুঝতে পারে তাকে ক্ষমা করা উচিত।”
নাফি চোয়াল শক্ত করে রাজের দিকে তাকিয়ে রইলো। হিয়া তখন নাফির মুখটা নিজের দিকে ঘুড়িয়ে নিলো। নাফির থেকে খাটো হওয়ায় তাকে একটু কষ্ট করে দুই-পা উঁচু করে একাজ করতে হলো। নাফি হিয়ার দিকে তাকালে, হিয়া বলল,
“ওকে ক্ষমা করে দিন। আজ ও না থাকলে তাহলে কি হতো ভাবতে পারছেন? হয়তো আমি বা আমাদের সন্তান কেউই বেঁচে থাকতাম না৷”

নাফি থেমে গেল হিয়ার মুখের দিকে চেয়ে। রাজকে আর আঘাত করলো না। তবে ওর রাগ পুরোপুরি কমেনি৷ ও আবার বজ্র দৃষ্টিতে তাকালো রুহির মায়ের দিকে। যে কি-না রুহিকে ধরে এখনো দাঁড়িয়ে আছেন। রুহির হাতে-পায়ে ব্যান্ডেজ ও দাঁড়াতে পারছে না। আর নাফির মারের কারণে আরও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে সে৷ কিন্তু মুখ ফুটে আর একটা কথাও বলার সাহস পেল না সে৷ নাফি ওদের দিকে তাকিয়ে নাসিমার উদ্দেশ্যে বলল,
“আমার চোখের সামনে থেকে সরতে বলো আম্মু। আর এক সেকেন্ড রুহি এখানে থাকলে, বেঁচে ফিরতে পারবে না।”
রুহির মা কাদতে কাঁদতে রুহিকে হুইলচেয়ারে বসালো ফের। এরপর হিয়া আর হেলেনার দিকে ফিরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। অতঃপর বেরিয়ে গেল দরজা দিয়ে।
নাফি তখনও ফুঁসছে রাগে। ওদের ড্রয়িংরুম আর সেই আগের মতো গোছানো নেই। তা একটা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। ভাগ্যিস বাড়ির মেহমান গুলো চলে গিয়েছিলো। নাহলে আজ যে কি হতো!

রাজ বিদেশ গেছে আজ তিনদিন হয়েছে। রুহি রয়েছে রুহির বাড়িতে।
সকাল তখন সাতটা। রুহি শুয়ে আছে নিজের বিছানায়। গত কয়েক রাত থেকে সে এভাবে শুয়েই আছে। না কেউ ওর সাথে কথা বলে আর না তো কেউ ওর কাছে যায়। শুধু রুহির মা এসে তিনবেলা খাবার দিয়ে যায় আর ঔষধপত্রটা দিয়ে যায়। রুহির দিন কাটছে এভাবেই৷ এভাবে একাকিনী থাকা যায়? একাকিত্ব কি ভয়ংকর! এই যে সারারাত ধরে তার চোখে ঘুম নেই। টানা চারটা রাত সে ঘুমায় না৷ নিজের শ্বাসের শব্দে’ই রাতে জেগে থাকে রুহি। সেটাই এখন ওর একমাত্র সঙ্গী। ওর চিৎকার শুধু ওর কানেই ফিরে আসে যেন দেয়ালগুলো বধির। বুকের মধ্যে মাঝেমধ্যে ব্যাথা অনুভব করে সে। কিসের ব্যাথা তা যানে না রুহি। মাঝেমাঝে চুপচাপ কাঁদে। কাঁদতে কাঁদতে হঠাৎ থেমে যায়। কারণ, কেউ শুনলে লজ্জা লাগবে তার। অথচ কেউ শোনেই না।
সারাক্ষণ মুখ বুজে থাকা যায়? অথচ রুহির কথা বলার কেউ নেই। তবে যেন সে একা নয়, সে বন্দি__নিজের ঘরেই, নিজের মাথার ভেতরেই। , রুহি নিজেও বাইরে যায় না। ওর ভয় হয়, মনেহয় বাইরেও কেউ নেই, শুধু আরেক একাকিত্ব দাঁড়িয়ে। শুধুই নীরাবতা আর নীরাবতা।

লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ৪০

রুহি ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠলো। পাশে থাকা হুইলচেয়ারে বসলো সে৷ এখন মুটামুটি মুখটা স্বাভাবিক হয়ছে। তবুও ফোলা ফোলা আছে! রুহি এই কয়দিন আয়না দেখেনি। আজ এই সাত সকালে রুহির আয়না দেখতে ইচ্ছে হলো। নিজেকে দেখতে খুব ইচ্ছে হলো তার। রুহি ধীরে ধীরে আয়নার সামনে গেল। চোখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরে কি যেন হলো তার৷ চোখমুখ পাল্টে গেল তখনই। কি হলো তার, ঘৃণা? লজ্জা? নাকি অনুশোচনা? না কোনোটাই না! রুহির রাগ হলো। ভীষণ রাগ। হিয়ার কাছে হেরে যাওয়ার ক্ষোভ হলো তার৷ রুহি নিজের গালে নিজেই দুইটা চড় মারলো! এসব একাকিত্ব এসব অবহেলা সব সহ্য করে নিতো সে। সব সব! যদি হিয়াকে একটু হারাতে পারতো। ওকে যদি নিঃস্ব করতে পারতো।

লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি শেষ পর্ব