লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৪
নুসাইবা আরা নুরি
-খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন।পুরো একটা জীবন কাটাতে হবে হবে এক সাথে বুজলেন মিসেস।
মেহেরাজের কথা শ্রেয়সীর কানে এলেও শ্রেয়সী কোনো প্রতিউত্তর করলো না।ঠোঁটে একরাশ মুগ্ধতা।মেহেরাজের পরনে সাদা পাজামা আর সিল্কের কাজ করা ধুসর রঙা পাঞ্জাবি।শ্রেয়সী নিজেই বলেছিলো মেহেরাজ কে পাঞ্জাবি পরতে এমনকি কালার টাও সে ডিসাইড করে দিয়েছে।
শ্রেয়সী মেহেরাজের পিঠে মাথা ঠেকিয়ে দেয়।লম্বা চুল গুলো স্কাপ এর ভিতরে বেনি করা।মেহেরাজ শ্রেয়সীর মাথার স্পর্শ পেয়ে কিছুটা কেপে উঠে।নিজের স্ত্রীর ছোয়া।শ্রেয়সী মন ভরে নাকে আসা চন্দনের ঘ্রান টা শুষে নেয়।বাইক চলতে চলতে হাইওয়ে পেরিয়ে একটা বাজারে ঢুকে পড়ে।বাজার টা বেশ জাক জমক।মেহেরাজ একটা ফুলের দোকানের সামনে দাঁড় করায় বাইক।তারপর হেলমেট খুলে মাথা ঝাকায় চুল গুলো নড়ে উঠে কপালে এসে পড়ে।শ্রেয়সী তা বাইকের লুকিং গ্লাসে মুগ্ধ নয়নে দেখতে থাকে।
মেহেরাজ দোকানদারকে উদ্দেশ্যে করে দুটো ফুলের বড় মালা গলায় দেওয়ার।আর এক গুচ্ছ সাদা গোলাপ।আর একটা বেলি ফুলের গাজরা অর্ডার দেয়।তা দেখে শ্রেয়সী কিছু বলতে যাবে তখন মেহেরাজ বলে উঠে,
-আপনার কি কোনো ফুল পছন্দ।থাকলে বলতে পারেন।
-উহু।
-থাকলে বলুন।
-উহু নেই।কিন্তু ফুলের মালা কি করবেন আপনি??
শ্রেয়সীর কথায় মেহেরাজ হাসে নিঃশব্দে তারপর বলে,
-আপাতত সারপ্রাইজ। তবে খুব শীঘ্রই দেখতে পাবেন।
-এখন বলেন??
-জ্বি না সারপ্রাইজ ইজ সারপ্রাইজ। সময় হলেই দেখতে পাবেন এখন বলুন ফুচকা খাবেন??
শ্রেয়সী কোনো উত্তর দেয় না।কি বলবে সে।মেয়েদের কে কি কেও জিজ্ঞাসা করে ফুচকা খাবে কিনা।মেয়েদের জন্মের পর থেকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে ফুচকার অবস্থান।শ্রেয়সী কে চুপ থাকতে দেখে মেহেরাজ ফুলের দোকান্দারকে মালা গুলো রেডি করতে বলে তাজা ফুল দিয়ে তারপর বাইক স্টার্ট দিয়ে এগিয়ে গিয়ে থামে রাস্তার পাশের একটা ফুচকার দোকানের সামনে।বাইক থেকে নেমে শ্রেয়সী কে নিয়ে ফুচকার দোকানে গিয়ে দুই প্লেট ফুচকা অর্ডার দিয়ে বেঞ্চে বসে পড়ে দুজনে।
হটাৎ ফাহিমকে সামনে দেখে চমকায় ইরু।তখন লোক্টা হটাৎ তাকে জড়িয়ে ধরলে আতংকে অনেক জোর জবরদস্তি করে তবে শেষ এ না ছাড়াতে পেরে গায়ের জোরে বুকে কামড়ে ধরে ছাড়া পায়।ফাহিম হকচকিয়ে যায়।তবে কিছু বলেনা।ইরুর শুক্নো মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে শুধু।
ইরু বেশ কিছুক্ষন চুপ থেকে শান্ত গলায় বলে,
-আপনি এখানে??
-কেন আমি আসতে পারিনা এখানে???
ইরু কথার প্রতিউত্তর করেনা।তার পিছনে কালো রঙের একটা গাড়ি এসে থেমেছে।গাড়িটা নতুন।আগে কখোনো মনে হয় ইরু দেখেনি।তবে ইরু পাত্তা দেই না সেসব এ।এতক্ষন কত কিছুই ভাবলো তবে ফাহিম কে সামনে দেখে সেসব ভুলে বলে,
-রাস্তা ছাড়ুন।আমি যাবো??
-কোথায় যাবে??
-কোচিং এ যাবো।আজ পরিক্ষা আছে।
কথাটা বলে ইরু পাশ কাটিয়ে যেতে যাবে তখন ফাহিম হাত বাড়িয়ে বাধা দেয়।ইরুর পা থেমে যায়।ইরু ফাহিমের দিকে তাকিয়ে এবার একটু রাগি ভাবেই বলে,
-এটা কোন ধরনের অসভ্যতামি।রাস্তা ছাড়ুন।একদিন না বলেছি আমি আপনার মুখটাও দেখতে চাই না আর।
ইরুর তেজ মিশ্রিত কথায় ফাহিম শুধু ধীর শব্দে হাসলো।ইরু যেনো খুব রাগ হলো ফাহিমের কান্ডে।ইরু ফাহিমের হাত ধরে সামনে থেকে সরিয়ে যাবে ঠিক তখনই ফাহিম বলল,
-সমস্যা কি তোমার??কি চাও তুমি??
-কি চাই বুজেন না।আওনার থেকে চাই আমি।আর আপনাকে চাই না আমার।
বলে এক পা বাড়াতেই ফাহিম নিজের অন্য হাত ইরু কোমরে চেপে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে ধরে হিশহিশিয়ে বলল,
-তবে তোকে আমার চাই।আমি তোকে চাই।আমার মুখ দেখতে চাস না তাইনা।এবার থেকে আমার মুখ দেখেই তোর সকালের ঘুম ভাঙবে সেই ব্যাবস্থা করছি। আর অসভ্যতামির কি দেখেছিস এবার দেখবি।
বলেই ইরুকে নিজের থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো।ইরু ভাব্লো হয়তো পিচ ঢালা রাস্তায় পড়ে এবার মাথাটা বোধহয় ফাটবে।তবে ইরুর ভাবনার আগেই ইরুকে কেও ধরে ফেললো।ভীত ইরু কিছু বুঝে উটগার আগেই একটা মেয়ে ইরুর মুখ চেপে ধরে আর অন্য একজন গাড়ির গেট খুলে দেয়।মেয়েটা ইরুকে নিয়ে গাড়িতে ঢুকে পড়ে।
ইরু ভয়ে ছটফট শুরু করে।ফাহিম গাড়ির পিছনে এসে বসার পর। মেয়েটা সামনে সিটে চলে যায় এবং অন্য জন্য ড্রাইভিং সিটে।ইরু ভয়ে জানালার কাচে বাড়ি দিতে যেতেই ফাহিম হটাৎ ইরুর মুখ চেপে ধরে নিজের মুখের সাথে লাগিয়ে নেয়।অন্য হাত দিয়ে ইরুর হাত জোড়া চেপে ধরে।এমন ঘটনায় ইরু নিজের ইজ্জত হারানোর ভয়ে কেদে ফেলে।
তা দেখে ফাহিম তাড়াতাড়ি ইরুকে ছেড়ে দিয়ে তুহিনকে গাড়ি স্টার্ট দিতে বলে।তুহিন গাড়ি স্টার্ট দিয়ে নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।।ইরু গুটিয়ে গেছে।তা দেখে ফাহিম হেসে বলে,
-দুটো রাত তোর দহনে ঘুমাতে পারি নি আমি।আমাকে দেখতে চাস না তুই তাই না।আমার সাথে ভালোবাসার নাটক করলি।তোকে এর শাস্তি পেতেই হবে।
ফাহিমের চোখ লাল ঠোঁটে হাসি।ইরু ভয়ে চুপসে গেছে।পিছনে এই অবস্থা দেখে সামনের সিটে তুহিনের পাশে বসা মিলি বলে,
-ভাই।আমরাও আছি এখানে।একটু শরম কর।আর মেয়েটা ভয় পাচ্ছে ভয় দেখাস না আর।
-তুই চুপ করে বস।
-আমি না থাকলে কাকে নিয়ে আসতিস এখন।
-তোহাকে!!
ইরু কিছু বুজতে পারেনা।তবে মনে মনে ভয়ে সিটে গেছে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।ফাহিম জোরে জোরে কয়েকবার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নিজেকে শান্ত করে ইরুকে এক টানে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়।এবার আর ইরু নড়ে না।ফাহিম শান্ত কন্ঠে বলে,
-যা হবে মাথা ঠান্ডা করে মেনে নিবা ইরাবতী। নয়তো আমার খারাপ রুপ তুমি দেখতে পাবে।যে ভাইকে বাচানোর জন্য তুমি আমার সাথে এমন নাটক করলে সেই ভাইকে কিন্তু বাচাতে পারবে না।
ইরু চমকে উঠে। সাথে সাথে বলে,
-মানে।আপনি জানলেন কিভাবে।
ইরুর কথায় মিলি হেসে বলে,
-বুজলে ইরু। তুমি আমার বন্ধুকে এখোনো চিনতে পারোনি সে তোমাকে কতটা ভালোবাসে।তূমি এমন কথা বলে চলে গেছো যে ওর মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।শুধু তুমি আর তুমি।শেষ পর্যন্ত আমরাই সব খুজে বের করেছি।সব পরে বলবো।এখন শান্ত হয়ে বসো।যা হতে যাচ্ছে তা তোমার ভালোর জন্যই।
ইরু মিলির কথা শুনে বুজতে পারলো মিলি ফাহিমের বন্ধু।তাহলে পাশের তুহিন নামের লোকটাও হয়তো তার বন্ধু।কিন্তু লোকটাকে ইরুর অনেক চেনা চেনা লাগছে কোথায় যেনো দেখেছে।তবে মনে করতে পারেনা।ফাহিম পকেট থেকে মোবাইল বের করে মেহেরাজকে কল দেয়।কয়েকবার রিং হওয়ার পর কল রিসিভ করতেই ফাহিম বলে,
-মিশন সাক্সেস ফুল।তোরা কোথায়??
ফাহিমের কথায় মেহেরাজ ছোট করে বলে,
-নিশাদ এর জন্য অপেক্ষা করছি।ও মাত্র এসে পৌচেছে চট্রগ্রাম।
-আচ্ছা।তাহলে আমরা বাড়িতে যাই।
-হুম যা আমরাও যাচ্ছি।
ফাহিম কল কেটে দেয়।ইরু মেহেরাজের কনন্ঠস্বর শুনতে পায়।তবে কি বলেছে বুজতে পারেনা।তবে মিলির কথায় এটুকু বুজেছে তার ভাই নিরাপদে আছে।এটাই সস্তি।ইরু আর কিছু বলে না।ভেজা চোখ জোড়া উড়নার কোনা দিয়ে মুছে চুপ বসে থাকে জানালার বাইরে তাকিয়ে।কোথায় যাচ্ছে কেনো যাচ্ছে যানেনা।আর যানতেও ইচ্ছা করছে না ইরুর আজকে আর।বড্ড ক্লান্ত লাগছে শরীর টা।রাত থেকে না খাওয়ার দরুন খিদের জন্য ক্লান্ত শরীর।হালকা মাথা এলিয়ে দেয় ফাহিমের ঘাড়ে নিজের অজান্তে তারপর তলিয়ে যায় ঘুমে।ফাহিম বুজতে পেরে ধীরে ইরুর থেকে সরে আসে তারপর ইরুর মাথা নিজের কোলে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।
কাল রাতেই হুট করে প্লানিং টা করেছে মেহেরাজ।যার জন্য আজ নিশাদ কে তার গ্রাম এর বাড়ি থেকে ছুটে আসতে হয়েছে।যেহেতু এই মাসে সবারই ছুটি আছে আর ফাহিমের অবস্থা থেকে ইরুকে কিডন্যাপ করার প্লানিং টা করেছিলো মেহেরাজ।তার আগে ইরুর ব্যাপারে সব কিছু শুনে অনেক খোজ খবর নিয়েছে ইরুর ভাইয়ের।পেয়েও গিয়েছে।
তবে ইরুকে আগে বিয়ে করা দরকার ফাহিমের।তাই এই দুর্দান্ত প্লানিং টা করেছে।ফাহিম খুশি হয়।যেখানে তার কাছে “শ্যাডো সেক্টর সেভেন” এর মতো এক বিশাল বন্ধুতের গ্যাং আছে সেখানে কোনো বন্ধুর কি মন খারাপ থাকবে বলে মনে হয়।ফাহিম ইরুর চুলের ভাজে হাত গলিয়ে দিয়ে আল্লাহর কাছে শুক্রিয়া আদায় করে।সাথে মনে মেহেরাজ কে অনেক ধন্যবাদ দেয়।সবাই হেল্প করলেও সব কিছুই এরেঞ্জ করেছে প্লানিং করে মেহেরাজ।তাই ধন্যবাদ টা তারই প্রাপ্য।
রাস্তার পাশের পচা খাল ধারে একজন মধ্যে বয়স্ক লোকের লা*শ পড়ে আছে।চোখ গুলো উপড়ে ফেলে হাতের সাথে সেলাই করে দেওয়া। আর জিভ এর মাঝ থেকে কেটে ফেলা।এমনকি লোক*টার মেন পয়েন্ট ও কেটে ফেলা হয়েছে।লাশ*টার উপর মাছি ভোঁ ভোঁ করছে।স্থানীয় পুলিশরা খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে হাজির।লাশ পর্যবেক্ষন করে সনাক্ত করে এলাকার ব্যবসায়ী রফিক সর্দার সবাই রফিক ভাই বলেই চিনে।বেশ ভালো মানুষ।তাহলে তার এমন শত্রু কিভাবে হয়।
লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৩৩
মানুষের মুখে মুখে লোকটার ভালো গুনের গুনগান।তাকে এমন নিকৃষ্ট ভাবে কে মারলো।একটু আগেই হটাৎ লা*শ টা সবার চোখে পড়লো।হুট করে কোথা থেকে এলো কেও জানেনা।কিছু মানুষের মনে আতংক সৃষ্টি হয়ে গেলো।সাথে সাথে খবর পৌছে গেলো আনাম মিয়ার কানে।
