লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৫১
নুসাইবা আরা নুরি
মেহেরাজের কথায় শ্রেয়সী লজ্জায় পেয়ে যায়।লজ্জায় মেহেরাজের বুকে মুখ গুজে দেয়।বেশ কিছুক্ষন শ্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে রাখার পর মেহেরাজ শান্ত কন্ঠে বলে,
-এতো ঝুট-ঝামেলার পরেও আল্লাহ আমাদের এক করেছে।আল্লাহর কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ আমি।চলো দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে নতুন জীবনে পদার্পন করি।
মেহেরাজের নিজেকে কেমন পাগল পাগল লাগছে কন্ঠটাও কেমন নেশালো হয়ে উঠেছে শ্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে।তবে মেহেরাজ নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারে।শ্রেয়সীর সাথে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না।শ্রেয়সী নিজ থেকে যেদিন তার অধিকার আদায় এর সুজোগ দিবে মেহেরাজ সেদিন ই নিজের অধিকার বুজে নিবে।তাই সর্ব প্রথম নামাজ টা আদায় করে নিবে এখন।মেহেরাজের কথায় বেশ খুশি হয় শ্রেয়সী।মেহেরাজ শ্রেয়সী কে ছেড়ে দিয়ে ওয়াশরুমের দিকে যায়।
শ্রেয়সী ও পিছন পিছন যায়।দুজনে ওযু করে এসে জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পড়ে নামাজে।মেহেরাজের থেকে তিন আঙুল পিছিয়ে বসে শ্রেয়সী।তারপর দুজনে নামাজ পড়ে নেয়।নামাজ শেষ হলে মেহেরাজ শ্রেয়সীর হাত দুটো নিজের হাতের মাঝে নিয়ে মোনাজাত ধরে।নিজেদের ভবিষ্যৎ জিবনের সুখ-শান্তি আর একত্রে থাকার দোয়া করে মোনাজাত শেষ করে।
সব শেষ এ মেহেরাজ জায় নামাজে বসে শ্রেয়সীর কপালের মাঝে একটা চুমু দিয়ে বলে,
-আপ্নি আমার স্ত্রী।আর স্ত্রীর সাথে আপনি কথাটা ভালো শোনায় না মিসেস।তাই আজ থেকে কি আপনাকে তুমি করে বলতে পারি যদি আপনি অনুমতি দিতেন।
মেহেরাজের মিষ্টি আবদারের শ্রেয়সী বেশ লজ্জা পেয়ে যায়।মেহেরাজ ও হাসে শ্রেয়সীর লজ্জা মাখা মুখ দেখে।তারপর আবার বলে,
-কি হলো দিবেন আমার ব্যাক্তিগত হৃদয়হরনী।
শ্রেয়সী লজ্জা পায় আবারো।জানালার পর্দার ফাক দিয়ে এক মুঠো চাদের আলো এসে পড়েছে জায়নামাজের উপর।সএই আলো দুজনের মুখ স্পষ্ট দৃশ্যমান।পুর্নিমার চাঁদ উঠেছে আকাশে।মেহেরাজ মুগ্ধ হয়ে থাকে শ্রেয়সীর দিকে তাকিয়ে।মেহেরাজের মিষ্টি আবদারে শ্রেয়সী না বলতে পারে না।মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।মেহেরাজ টুপ করে আবারো চুমু খায় শ্রেয়সীর কপালে খুশি হয়ে।
জায়নামাজ উঠিয়ে বিছানায় এসে বসে শ্রেয়সী কে নিয়ে।বিছানায় বসার পর মেহেরাজ নতুন করে শ্রেয়সীর মাথার ঘোমটা তুলে তাকায় শ্রেয়সীর দিকে।সাথে সাথে বুকের বা পাশে মেহেরাজের চিন চিনে ব্যাথা করে উঠে।ইশ কি সুখ ময় যন্ত্রনা।মেহেরাজ পকেট থেকে একটা গোল্ডের বক্স বের করে।তারপর সেটা খুলে একটা স্বর্নের ব্রেজলেট বের করে শ্রেয়সীর বাম হাতে পরিয়ে দিয়ে বলে,
-এটা তোমার বাসর রাতের উপহার।আমার পক্ষ থেকে।আগলে রেখো সারাজীবন।
শ্রেয়সী তাকায় হাতের দিকে।তারা আর চাঁদ এর কয়েকটা ডিজাইন করা ঝুমকো আছে।চেন এর ব্রেজলেট বেশ দেখতে লাগছে।শ্রেয়সীর ভাবনার মাঝে মেহেরাজ পাশে রাখা মোবাইল এর বক্স টা শ্রেয়সীর সামনে এনে বলে,
-জানিনা আমার হৃদয়হরনীর পছন্দ হবে কিনা।আরো আগেই দিতে চেয়েছিলাম।পরে ভাবলাম উহু বাসর রাতেই দিবো।
মেহেরাজের কান্ডে বেশ লজ্জা লাগছে শ্রেয়সীর।তবে বেশ ভালো ও লাগছে।আগে শুনেছে বাসর রাতে স্ত্রীরা স্বামির থেকে উপহার পায়।আর আজ নিজে পেয়ে বেশ আনন্দিত।মেহেরাজ হাত বাড়িয়ে মোবাইল টা শ্রেয়সীর হাতে দিয়ে ঠোঁট টিপে হেসে বলল,
-তোমার জন্য আরো দুটো জিনিস আছে।বলোতো কি হতে পারে??
শ্রেয়সী মাথা উচু করে তাকায় মেহেরাজের দিকে তারপর শান্ত গলায় বলে,
-জানিনা??
-গেজ করো??
-উহু আপনি বলেন??
-বললে কি দিবা??
মেহেরাজের কথায় শ্রেয়সী লজ্জা পায় চোখ নামিয়ে নেয় মেহেরাজের বক্ষদেশ হতে।প্রতিটা কথার নেগেটিভ মানে এসে ধরা পড়ছে শ্রেয়সীর মনে।সাথে লজ্জাটাও বেড়ে দ্বিগুন হচ্ছে।মেহেরাজ শ্রেয়সীর লজ্জা পেতে দেখে উঠে যায় বিছানা থেকে শ্রেয়সী বুজে উঠার আগেই বিশাল এক অনেক রকমের চক্লেট ভর্তি বক্স এনে রাখে শ্রেয়সীর সামনে।রাতে খাবার কিনে আনার সময় এগুলো কিনে এনে ঘরে রেখে দিয়েছিলো মেহেরাজ।প্রায় ১০০ রকমের ভিন্ন ভিন্ন ফ্লেভারের চকলেট আছে এই বক্সে।শ্রেয়সী দেখে অবাকের চরম শিমায় পৌছে যায়।আপনা আপনি গাল হা হয়ে যায় ওর।শ্রেয়সী অবাক হয়ে বলে,
-এতো গুলো চকলেট কার জন্য??
-আমার হৃদয়হরনীর জন্য। সে ছাড়া তো আর কাওকে দেখতে পাচ্ছি না এখন।
মেহেরাজের কথায় শ্রেয়সী লজ্জা পায়।তারপর অবাক হয়ে বলে,
-তাই বলে এতোগুলো??
-তুমি চাইলে পুরো দোকান টাই এনে দিতে পারি।এটা তো সামান্য বউ।
শ্রেয়সী একটা চকলেট হাতে নেয়।মেহেরাজ সেটা নিয়ে শ্রেয়সীর গালে দেয় এক কামড় তারপর শ্রেয়সী যেখান থেকে খেয়েছে সেখান থেকে এক কামড় নিজেও নেও।শ্রেয়সী মেহেরাজের এমন কাজে হতভম্ব।সাথে লজ্জা পায়।আজ এই লোকটা বোধহয় তাকে লজ্জা দিতে দিতে মেরে ফেলবে।।শ্রেয়সী আর বসে থাকতে পারে না লজ্জায় আকৃষ্ট হয়ে।তাউ চকলেট বক্স টা নিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাড়ায়।তখনই মেহেরাজ ভ্রু কুচকে বলে উঠে,
-কোথাই যাচ্ছো??
মেহেরাজের কন্ঠে কেপে উঠে শ্রেয়সী কাপা কাপা লজ্জামিশ্রিত কন্ঠে বলে,
-এগুলো রেখে আসতে।
-ওহ।কিন্তু আর একটা জিনিস আছে দেখবে না??
মেহেরাজের কথায় শ্রেয়সী ঘুরে তাকায় মেহেরাজের দিকে। তারপর বলে,
– আবার কি??
শ্রেয়সী কথাটা বলতেই মেহেরাজ শ্রেয়সীর হাত টেনে বিছানায় বসিয়ে নেশালো কন্ঠে ফিশফিশিয়ে বলে,
-তুমি বোরিং হচ্ছো বউ??
-উহু না।
শ্রেয়সীর উত্তরে হাসে মেহেরাজ তারপর ঠোঁট কামড়ে মাতাল করা কন্ঠে বলে,
-তোমার একটা জিনিস বহুদিন ধরে আমার কাছে। যার শক্তিতেই আজ আমরা একসাথে।কারন সেই জিনিস টার কারনেই তোমার সাথে আমার প্রথম দেখা।
মেহেরাজের কথায় শ্রেয়সীর ভ্রু কুচকে যায়।কোন জিনিস বুজতে না পেরে শান্ত কন্ঠে বলে,
-কোন জিনিস??
-বলতে পারি তবে বিনিময়ে কি দিবে??
-কি দেওয়ার আছে??
-যেহেতু আমি এতোদিন তোমার জিনিস আগলে রাখলাম।তাহলে বিনিময়ে তুমি আমার জিনিস আগলে রাখবে।যদি রাখো তাহলে দেখাবো নয়তো না।
শ্রেয়সীর মনে কৌতুহল সৃষ্টি করে মেহেরাজ হাসে।শ্রেয়সী কৌতুহল নিয়ে বলে,
-আগে দেখান কি??
-উহু আগে কথা দিতে হবে বিনিময়ে আমার জিনিস ও তোমার কাছে রাখবে।
-হুম রাখবো এবার বলেন কি জিনিস??
শ্রেয়সীর কথায় ঠোঁট টিপে হাসে মেহেরাজ।পকেট থেকে মুঠো করে শ্রেয়সীর সেই হারিয়ে যাওয়া পায়েল টা বের করে আনে।তারপর শ্রেয়সীর চোখের দিকে তাকিয়ে শ্রেয়সীর দিকে এগিয়ে যায়।শ্রেয়সী একটা শুকনো ঢোক গিলে পিছতে যায় তবে পারেনা খাটের স্টানের সাথে পিঠ ঠেকে যায়।সাথে সাথে শ্রেয়সী চোখ বুজে নেয় ।মেহেরাজ শ্রেয়সী একদম কাছে এসে শ্রেয়সী হাতের মাঝে নুপুর টা দিয়ে কানের কাছে ফিশফিশ করে বলে,
-তোমার জিনিস এতোদিন আগলে রাখলাম হৃদয়হরনী।এবার আমার DNA নিয়ে আমার বাচ্চা গুলোকে আগলে রেখো নিজের কাছে।তোমার পায়েল টার শক্তিতে যেমন আমরা এক হয়েছি।তেমন আমার ফুল ফ্রেশ DNA এর শক্তিতে আমাদের একটা ফুটবল টিম তৈরি হবে।বউ।
মেহেরাজের কথায় কেপে উথে শ্রেয়সী সাথে লজ্জায় গুটিয়ে যায়।মেহেরাজ শ্রেয়সীর থেকে সরে এসে আগের যায়গায় বসে পড়ে।নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে নেশালো চোখে তাকিয়ে থাকে তার হৃদয়হরনীর পানে।বেশ কিছুক্ষন পর শ্রেয়সী পিটপিট করে চোখ মেলে হাতের দিকে তাকাতেই চমকে যায়।তার কলেজে হারিয়ে যাওয়া তার বাবার দেওয়া সেই নুপুর টা।সেদিনিই প্রথম বার মেহেরাজের সাথে তার দেখা হয়েছিলো।এমনকি সেদিন প্রথম দেখাতেই শ্রেয়সী মেহেরাজের প্রেমে পড়েছিলো।
তাহলে মেহেরাজ এতোদিন তার নুপুর টা নিজের কাছে রেখেছিলো।সেদিন দেই নি কেন।শ্রেয়সী লজ্জা ভুলে এক রাশ স্নিগ্ধ খুশির মিশ্রিত অনুভুতি নিয়ে অবাক হয়ে মেহেরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
-আপনি কোথায় পেলেন এটা??
-যেখানে সর্ব প্রথম আমার হৃদয়হরনী এটা হারিয়ে ফেলে আমার হৃদয়হরন করেছিলো।
মেহেরাজের নেশালো কন্ঠস্বরে কেপে উঠে শ্রেয়সী।তারপর অবাক হয়ে আবারো বলে,
-তাহলে দেন নি কেন এতোদিন??
-এতোদিন দিলে কি আর DNA দেওয়ার সেটিংস করার জন্য রাজি করাতে পারতাম আজ।
মেহেরাজের কথায় শ্রেয়সীর কান দিয়ে লজ্জায় ধোয়া উড়তে শুরু করলো।মনের মাঝে লজ্জার প্রজাপতি উড়তে শুরু করেছে ইতিমধ্যে।শ্রেয়সী লজ্জা রাঙা কন্ঠে মাথা নিচু করে মিনমিনিয়ে বলে,
-চুপ করুন অসভ্য লোক।
শ্রেয়সীর কথায় মেহেরাজ ঠোঁট কামড়ে হেসে।শ্রেয়সী কানের কাছে মুখ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ফিশফিশিয়ে ধীরে ধীরে বলে,
লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৫০
-আমি অসভ্য হলে সামলাতে পারবে তো আমাকে লিটল বার্ড।দেখিয়ে দেই কতটা অসভ্য হতে পারে এই মেহেরাজ তার হৃদয়হরনীর কাছে।
শ্রেয়সীর লজ্জায় শ্বাসরোধ হয়ে আসে।সাথে মেহেরাজের শীতল হুমকিতে অজানা এক ভয়ে কেপে উঠে শ্রেয়সীর নারীসত্বা।গলা শুকিয়ে আসে শ্রেয়সীর।ঘরের ফ্যানের বাতাস ও যেনো তার কাছে গরম লাগছে হুট করে।কান দিয়ে ধোয়া উঠতে থাকে লজ্জায়।
