Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৫৪

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৫৪

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৫৪
নুসাইবা আরা নুরি

সুর্য মাঝ আকাশে হেলে পড়েছে।নিজের সমস্ত তেজ ঢেলে দিচ্ছে ধরনীতে।চারিপাশ রোদ্র ঝলমলে চকচকে পরিবেশ।ঘড়ির কাটায় সময় বারোটা বেজে সাতাশ।।রান্না ঘরে বেশ ব্যাস্ত হাতে সবার জন্য দুপুরের রান্না করছে তোহা।মিলি এক পাশে বসে সালাদ কাটছে আপন গতিতে।শ্রেয়সী তখন ওষুধ খেয়ে আবারো ঘুমিয়ে পড়েছিলো।মেহেরাজ ও তাই শ্রেয়সীর পাশে বসে আছে।কেও আর ডেকে বিরক্ত করেনি মেহেরাজ কে।ইভান আর তুহিন এখোনো টিভি দেখছে মনযোগ দিয়ে।যেনো তাদের আজকের মুল কাজ ই হলো সারাদিন টিভি দেখা।

তোহা দক্ষ হাতে রান্না করছে।দুই পদের ভাজি শেষ করে মাংস চড়ালো চুলায়।গায়ের উড়নাটা বুক পেচিয়ে কোমরে গুজে রাখা পাক্কা রাধুনির মতো।এখানে আসার পর আর শাড়ি পরা হয়নি তোহার।শাড়ি কিনলেও পরতে ইচ্ছা হয়নি আর।মাংসে সব মশলা দিয়ে সাবধানতার সহিত কষানোর সময় হটাৎ তোহার কিছু একটা মনে পড়তেই মন খারাপ হয়ে যায়।বুকের বা পাশে কেমন চিনচিনে একটা মৃদু ব্যাথা করে ওঠে।সাথে বুক চিরে বেরিয়ে আসে এক চাপা দীর্ঘশ্বাস। প্রতিবার তোহা যখন প্রতি শুক্রবারে মাংস রান্না করতো খাদিজা খাতুনের থেকে অনুমতি নিয়ে। তখন সিয়াম আগে ভাগেই রান্না ঘরে এসে বসে থাকতো সেদিন।প্রতি শুক্রবার সিয়াম বাড়িতে থাকতো আর ওই দিন দুপুরের সব রান্না তোহা নিজে একা হাতে সাম্লাতো।সম্পুর্ন দায়িত্ব ছিলো তার হাতে।
তোহার মাংস কশানো শেষ এ কশা মাংস সর্ব প্রথম সিয়াম কে দেয়া লাগতো।সিয়াম গরম ভাতের সাথে কশা মাংস মাখিয়ে রান্না ঘরেই বসে খেতো।আর তার গালে তুলে খাইয়ে দিতো।কতোবার যে শাশুড়ীর মুখোমুখি হয়েছে। লজ্জায় মাথা নত হয়ে যেতো তখন ওর।তবে সিয়াম সেসবে পাত্তা দিতো না।সিয়ামের কাছে তোহার গুরুত্ব ছিলো সবার আগে।

তোহা যদি মুখ ফুটে কোনো আবদার করতো তবে তা ঘন্টা পার হওয়ার আগেই হাজির হয়ে যেতো তোহার সামনে।আজ হটাৎ সিয়ামের জন্য খারাপ লাগছে তোহার।লোকটাকে ভালোবাসবে না ভালোবাসবে না করতে করতে ব্যাপক ভাবে তার মায়ায় আটকে গেছে সে।তোহা তো মায়া করতে চায়নি।তাহলে এই মায়া কেন জন্মালো লোকটার প্রতি।কেনই বা খারাপ লাগে তার প্রতি।লোকটা পাপিষ্ঠ না হলে কি হতো না।কি এমন ক্ষতি হয়ে যেতো লোকটা ভালো হলে।
তোহার বুক চিরে আবারো একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।এখন সিয়াম এখানে থাকলে হয়তো পিছন থেকে তোহার কোমরের শাড়ির ফাক দিয়ে তার পেট জড়িয়ে ধরে গলায় মুখ গুজে কত আহ্লাদ দেখাতো।কত লজ্জায় না তোহা পেতো তখন।তারপর মাংস কশানো শেষ হলে তোহা প্লেটে ভাত বেড়ে দেওয়ার পর সিয়াম নিজ হাতে ওকে খাইয়ে দিতো।মানুষটাকে তোহা ঘৃনা করেও করতে পারে না ঠিকমতো।ঘৃনা করতে শুরু করলেই সিয়ামের করা কেয়ারিং গুলো মনে পড়ে।চোখের সামনে ভেসে উঠ্র স্নিগ্ধ হাসি খুশি ভরা মুখটা।

কোনো স্ত্রী কি পারে তার স্বামি কে ঘৃনা করতে।তোহার মনে প্রশ্ন জন্মালেও তার উত্তর মেলে না।হয়তো পারে।আবার হয়তো না।তবে তোহা তো পারছে না ভুলে যেতে।এক মুহুর্তে ঘৃনা করলে অন্য মুহুর্তে আবারো ভীষন খারাপ লাগা কাজ করছে মনের ভিতর।তোহার চোখের কোন বেয়ে বাধাহীন এক ফোটা উত্তপ্ত নোনাজল গড়িয়ে পড়ে।সাথে সাথে মিলি তোহার দিকে তাকিয়ে উৎকন্ঠিত হয়ে বলে,
-এই তোহা কি হয়েছে কাদছিস কেন??তোর চোখে পানি কেন??
মিলির কথায় তোহা ধ্যানে ফিরে আসে।মিলি সআলাদ কাটা শেষ করে কশা মাংস নিতে এসেছিলো ইভান আর তুহিনের জন্য
তোহাকে বলে রেখেছিলো তুহিন।তবে তোহার চোখে পানি দেখে চমকে যায় মিলি।হটাৎ কি হলো মেয়েটার।তোহা দ্রুত হাতের তালু দিয়ে চোখ মুছে নিয়ে মিলির দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,
-ধুর বোকা কাদছি না।মাংসের ঝাঝ দেখছিস না।অনেক্ষন তাকিয়ে আছি তাই এরকম চোখে পানি এসে গেছে হটাৎ।
-আমাকে বলদ পেয়েছিস তুই??
-তুই তো বলদ ই।
কথাটা বেশ রশিক ভাবে বলেই বেসিনে থাকা প্লেট গুলো ধুতে শুরু করে দেয় তোহা।মিলি ভ্রু কুচকে তাকিয়ে থাকে তোহার দিকে বেশ খানিক্ষন।বোজার চেষ্টা করে কি হয়েছে তোহার।তবে আর কিছু জিজ্ঞাসা করেনা।হয়তো এমন কিছু যা তোহা কাওকে বলতে চাই না।থাক না ওর কিছু ব্যাক্তিগত।মিলি এগিয়ে এসে তোহার পিছনে দাঁড়ায়।তারপর শান্তকন্ঠে বলে,

-এড়িয়ে যাওয়ার দরকার নেই।বলতে হবে না কান্নার উৎস কি।আমি জিজ্ঞাসাও করবো না।তবে কিছু জিনিস আছে যা চেপে রাখলে শুধু কষ্ট বাড়ে।মন চাইলে শেয়ার করিস আমার সাথে।
মিলির কথাগুলো মন দিয়ে শোনে তোহা।তারপর শান্ত কন্ঠে বলে,
-তোর কষ্ট হয়নি।এই দুটো বছর এমন একটা সত্য আমার থেকে লুকিয়ে রাখতে।আমি তো অন্য মেয়েদের মতো খারাপ ননদ হতাম না।আমি খুব যত্ন করেই আগলে রাখতাম তোদের।আর তুই এখন আমাকে বলছিস কথা চেপে রেখে কষ্ট যেনো না বাড়ায়।
তোহার কথায় মাথা নিচু হয়ে যায় মিলির।কিছু বলার নেই ওর আর।কাল রাতে তোহা সব শুনে ফেলেছিলো এমনকি তাদের দুজন এক সাথে হাতে নাতেও ধরেছিলো।তুহিন যদিও সব এড়িয়ে যেতে চাইলেও তোহা তা যেতে দেয়নি।সারারাত সব কথায় শুনেছে।মিলি ভেবেছিলো তোহা আর কথা বলবে না তার সাথে।তবে এমন কিছুই হয়নি।পরিবেশ পুরোপুরি ঠান্ডা।তবে এটা জানে যে মেহেরাজের সাথে কিছু নিয়ে কথা বলেছে বেশ খানিক্ষন।তবে দুজনের মুখের ভাবমূর্তি দেখে কিছুই বুজতে পারেনি মিলি কিংবা তুহিন।তাই আর এই নিয়ে ঘাটেও নি।
মিলিকে চুপ থাকতে আবারো কাজে হাত লাগায় তোহা।মনযোগ দিয়ে সব ধুতে শুরু করে।তোহাকে এতটা শান্ত দেখে মিলি গোপনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে সাভাবিক করে নিয়ে তারপর শান্ত কন্ঠে বলে,

-মাংস কশানো হয়ে গেলে বলিস। তুহিন তো বলেছিলো তখন।এখন আবার পাঠিয়েছে।শালা ইভাইন্না সোফায় স্থির হয়ে বসতে দিচ্ছে না আমারে।ওর নাকি পছন্দের তোর হাতে কশা মাংস।আগেরবার খেয়েছিলো।
মিলি শেষ কথাটা হাসি মিশ্রিত কন্ঠে বলে।তবে তা শুনে আবারো বুকের ভিতর কেপে উঠে তোহার।তবে কিছু বলে না।দুটো মানুষের পছন্দ একউ রকম হতেই পারে।এত ভাবার কি আছে।তোহা হাতের বাসন গুলো পরিষ্কার করে ধুয়ে।কিচেন রক এ সাজিয়ে রাখে।
তারপর উড়নায় হাত মুছে চুলার পাশ থেকে একটা ঢাকনি দিয়ে ঢেকে রাখা বাটি মিলির হাতে তুলে দেয়।মাংস কশানোর পরপরই তোহা তুলে রেখেছিলো ওদের জন্য।অতি সহজে কখোনো তোহা কারোর পছন্দ অপছন্দ আবদার ভুলে যায় না।

মিলি হাসি মুখে মাংসের বাটিটা নিয়ে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে চলে যায় ডাইনিং এ সোফায় বসা ইভান আর তুহিনের দিকে।মিলি যাওয়ার পর তোহা জোরে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে আবারো রান্নায় মনযোগ দেয়।মাংস টা হওয়ার মতো হয়ে এসেছে।হয়ে গেলেই ব্যাস আজকের মতো রান্নার চ্যাপটার ক্লোজ।
হটাৎ তোহার পাশে কিচেন সামসেট এ থাকা মোবাইলটাতে পর পর কয়েকটা নোটিফিকেশন আসায় ভাইব্রেট হয়ে কেপে উঠে।তোহা তাকায় ফোনের দিকে।ভাইব্রেশনের কারনে কেপে উঠেছে ফোনটা।
তোহা হাত বাড়িয়ে ফোনটা হাতে তুলে নেয়।তারপর স্ক্রীন চালু করতেই স্ক্রীনে ভেসে উঠে মেসেঞ্জারের কয়েকটা নোটিফিকেশন।তোহার ভ্রু কুচকে যায়।এই সময়ে ম্যাসেন্জারে আবার কে নক দিলো তাও আবার তার পারসোনাল ফেসবুক একাউন্টে।তোহা রান্না শেষ করে নেয় দ্রুত।তারপর সব গুছিয়ে মোবাইল নিয়ে ঘরে চলে যায়।
গরমে নাজেহাল অবস্থা তোহার।ফ্যান চালু করে দিয়ে বিছানায় আধসোয়া হয়ে বসে। তারপর মোবাইলের লক খুলে মেসেঞ্জারে প্রবেশ করে। চোখে পড়ে ম্যাসেজ রিকুয়েষ্ট অপশনে।কেও রিকুয়েষ্ট পাঠিয়েছে।তোহা প্রথমে ইগনোর করে বিষয়টা।তবে হটাৎ কিছু একটা ভেবে ম্যাসেজ রিকুয়েষ্ট অপশন চেক করে।অপরিচিত কেও ম্যাসেজ তো দিতে পারবে না তার আইডিতে তাহলে।ফ্রেন্ড ব্যাতীত সবার ম্যাসেজ অফ করা। তাহলে কেও কিভাবে ম্যাসেজ পাঠাতে পারে।
তোহার মনে কৌতুহল বাসা বাধে।ম্যাসেজ রিকুয়েষ্ট অপশনে ঢুকতেই চোখ বড় হয়ে যায় তোহার।সাতাশ মিনিট আগে ম্যাসেজ এসেছে ওই আইডি থেকে। আইডির প্রফাইলে একজন মাস্ক ম্যানের ছবি দেওয়া খঞ্জর হাতে।আইডির নাম ইংরেজি তে স্টাইলিশ করে লেখা”The Shadow’s Adviser”

আইডির এমন অদ্ভুত নাম দেখে তোহার ভ্রু কুচকে যায়।এমন নাম আজ প্রথম দেখছে তোহা।তার উপত তাকে আবার কে এডভাইস দেবে বলে নক করলো।আর করলোই বা কিভাবে।তোহার মনে কৌতুহলের পাহাড় জন্মে যায় নিমিশেই।তোহা মনের মাঝে জন্ম নেওয়া হাজারো অজানা প্রশ্নের উত্তর আইডি ম্যাসেজ রিকুয়েষ্ট এক্সেপ্ট করে আইডির প্রোফাইলে প্রবেশ করে।
নতুন আইডি আজকেই খোলা।মাত্র কয়েক ঘন্টা আগেই।আইডির কভার ফটো তে বড় বড় করে লেখা ” T S K ” তোহার হটাৎ সেদিন রাতের কথা মনে পড়ে যায়।সাথে সাথে মনে পড়ে অনুভব চ্যাটার্জীর কথা।আইডির ক্যাপশনে ছোট্ট করে লেখা,
-Welcome To The Shadow’s adviser World.

ক্যাপশন টা পড়ার পর তোহার আবারো সেদিন রাতের অনুভবের কথা মনে পড়ে।কতটা ভয়ানক একজন লোক।সে কি নক দিয়েছে তাকে।দিলেও তার সাথে তোহার কি কাজ।নিজের ভাবনায় নিজে চমকে উঠে তোহা।এক মুহুর্ত দেরি না করে আইডির ইনবক্স চেক করে।সাথে সাথে দেখতে পায় পর পর তিনটে ম্যাসেজ।তোহা অবাক হয়ে যায় ম্যাসেজ গুলো দেখে।বেশ বড় বড় ম্যাসেজ গুলো।তোহা আর কিছু না ভেবে পড়তে শুরু করে দেয়।প্রথমে লেখা,
-হ্যালো।সিনিয়র ইন্সপেক্টর তনুজা শেখ।কেমন আছেন আপনি??
তোহা নিজের নাম দেখে ভিষন অবাক হয়।এই নাম জানলো কি করে এই লোক।তার উপরে তার চাকরির কথা।আর সেদিন তো জানার কোনো উপাই ও ছিলো না তারা তো সিভিল ড্রেস এ ছিলো।তাহলে।তোহা মনে কৌতুহল নিয়ে পরের ম্যাসেজ টা পড়ে।সেখানে লেখা,

-আমাকে চিনতে পারছেন না মনে হয়।কৌতুহল ও হচ্ছে আপনার আমি কেন আপনার এতো সিকিউরিটিতে থাকা আইডিতে ম্যাসেজ দিলাম।সবই বলবো তার আগে চলুন পরিচয় টা দিয়ে নেয়।আম দ্য শ্যাডো কিং অনুভব চ্যাটার্জী।নিশ্চয় মনে আছে আমার কথা।থাকবেই বা না কেনো।থাকতেই হবে।আমি না থাকলে তো এতদিনে মাটির নিচে থাকতেন সবাই।আপনাদের লা*শ গুলো পোকায় খেতো।আচ্ছা আপনাদের মিশনের কি অবস্থা।আসল অপরাধীকে ধরতে পারলেন নাকি হাত পা গুটিয়ে এখোনো বসে আছেন ভীতুর মতো।যদিও এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ মিশন আপনাদের উপরে ছেড়ে দেওয়া মোটেই উচিত হয়নি উপর মহলের।আসল অপরাধী কে এখোনো অব্দি সেটাই খুজে পান নি অপরাধীদের শাস্তি দিবেন কি ভাবে।
লাস্টের কথাটা বেশ ঠাট্টা করেই লিখেছে অনুভব।তোহার বেশ রাগ হয় ম্যাসেজ টা পড়ে।তারা কি কম চেষ্টা করছে।আর এই লোক ই বা তাদের পিছনে কেন পড়েছে।তোহা নিজের ভাবনা দূরে সরিয়ে এবার শেষ ম্যাসেজে চোখ বোলায়।সেখানে লেখা,

-আমার কথায় মাইন্ড করবেন তো নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারবেন।আপনাদের চিন্তার কোনো কারন নেই।এই শহরের মানুষদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার।তবে যেহেতু আপ্নারা মাঠে নেমেছেন অপরাধী ধরতে।তাই ভাব্লাম সম্পুর্ন ক্রেডিট টাই আপনাদের দেই।মন চাইলে গ্রহন করতে পারেন আবার না চাইলে না।আমি সাহায্যর হাত বাড়ালাম।যদি আপনি গ্রহন করেন।তবে লাস্ট সেভেন ডেইস এর ভিতরে সকল অপরাধী নিজের পাপের সঠিক শাস্তি পেয়ে যাবে।আর তাদের নিয়ন্ত্রনে থাকা একশত বারো জনের মুক্তি মিলবে।যদি তাদের বাচাতে মন চায় তাহলে আমাকে ভয়েস দিবেন।”TSK i Need Help” দ্যাট সিক্রেট কোড অফ অনলি ইউ ইন্সপেক্টর তনুজা শেখ।আর যদি আগামী সাত ঘন্টার ভিতরে সাহায্য না চান।তাহলে অপরাধীরা তো আমার হাতে মরবেই তবে একশত বারো জন নারী আর শিশুর আর মুক্তি মিলবে না।

বেশ বড় সড় একটা ম্যাসেজ।সব যেনো তোহার মাথার উপর দিয়ে গেলো।কি থেকে কি হলো বুজতেই পারছে না।আচ্ছা লোকটা কি আসলেই তাদের সাহায্য করতে চাচ্ছে নাকি বিপদে ফেলতে চাচ্ছে।আর যদি বিপদে ফেলে তাহলে সেদিন বাচালো কেন।নাকি মন যেতার চেষ্টা করলো।এ কি আসলেই অনুভব চ্যাটার্জী।নাকি অন্য কেও তার নাম করে তাদের বিপদে ফেলতে চাচ্ছে।
তোহার মাথা কাজ করছে না।আসলেই কি একশ বারো জন নারী-শিশু আটকে আছে অপরাধীদের কাছে।যদি সত্যি হয় তাহলে তোহা কি করবে।কোথায় খুজবে।একজন পুলিশের কর্মকর্তা হয়ে এমন অচেনা একজন নিকৃষ্ট সিরিয়াল কিলারের থেকে সাহায্য নিবে।এটা কি ভালো দেখাবে।তোহা ভাবতে পারে না।বিছানা থেকে উঠে বাইরে চলে যায় সবাইকে বিষয় টা দেখাতে।হাতে মাত্র সাত ঘন্টা।এর ভিতরে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিতে হবে।

রোদ ঝলমলে খোলা বারান্দার দোলনায় মন খারাপ করে বসে আছে ইরু।চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে।কিছুই ভালো লাগছে না ওর।মনের মধ্যে কু ডাকছে খালি।সস্তি পাচ্ছে না কিছুতেই।মনের ভিতর অদ্ভুত এক অসস্তি হচ্ছে তার।সকাল থেকে শ্রেয়সীর জন্য মনটা ভীষণ খারাপ।শ্রেয়সীর সাথে কথা হয়নি আজ তিনদিন।মেয়েটার কোনো খোজ ও পাওয়া জাইনি।
কেমন আছে মেয়েটা।ঠিক আছে তো ও।শ্রেয়সীর জন্য মনটা কেমন যেনো করছে ইরুর।বার বার মনে কু ডাকছিলো।তাই একটু আগেই শ্রেয়সীর যাতে কোমো ক্ষতি না হয় আল্লাহর রহমতে যেখানেই থাকে ভালো থাকে তাই মানত করেছিলো তাই এখন ফাহিম দিয়ে মসজিদের দান বাক্সে দান করতে টাকা পাঠালো।যাতে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করে নেয়।

ইরুর মনে পড়ে একটা সময় ছিলো যখন শ্রেয়সী বাদে ইরুকে কেও বুজতো না।কত কথা কত হাসি কান্না শ্রেয়সীর সাথে তার স্মৃতিতে জড়িত ওর।মেয়েটার জন্যই আজ সে এখানে।ফাহিমের মতো বুজদার একজন মানুষ পেয়েছে।মাহির মতো একজন বড় বোনের মত ননদ পেয়েছে সব শেষ এ সাহিদা খাতুনের মতো একটা মা পেয়েছে।যার কাছে ইরু নিজের মনের সকল কথা খুলে বলতে পারে।যার কাছে ইরু মা মা গন্ধ পায়।
তবে এতো সুখের মাঝেও হাহাকার জমে আছে তার বক্ষপিঞ্জরে। বিয়ের পর তার ভাইকে খুজে দিবে তার কাছে এনে দিবে কথা দিয়েও ফাহিম আর খুজে দেইনি।এনে দেইনি তার কাছে তার ভাইকে।ওই বাড়িতে থাকাকালীন তাও চোখের দেখা দেখতো পেতো।তবে এখানে আসার পর আর তাও দেখতে পায়নি।কেমন আছে তার ভাই।ফাহিমকে জিজ্ঞাসা করলে বারবার প্রশ্ন এড়িয়ে যায়।ভাইয়ের কথা মনে হয় কান্নায় বুক ভেসে যায় ইরুর।
বুজতে পারে না কেন এড়িয়ে যায় ফাহিম।তার উপর শ্রেয়সী ও নিখোজ।সিয়াম ভাই উন্মাদের মতো তোহা ভাবি আর শ্রেয়সী কে খুজে চলেছে তবে কোনো হদিশ নেই।শ্রেয়সীর বাবা মৃত্যু সয্যায় খবর পেয়ে ফাহিম নিয়ে গেছিলো দেখাতে।শ্রেয়সী যদি যানে তার বাবার এই অবস্থা তখন ঠিক থাকতে পারবে তো মেয়েটা।শ্রেয়সীর মায়ের অবস্থাও বেশি ভালো না কেমন যেনো হয়ে গেছে।

পরিস্থিতি যেনো মুহুর্তেই সব বদলে গেছে।নিজের মতো দইক বেদিক ছুটে চলেছে নিজের মতো।এদিকে হয়তো মেহেরাজ ভাই ও খুজে চলেছে শ্রেয়সীদের।কি থেকে কি হয়ে গেলো।ইমা আপুকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিলো না পরে রোকেয়া বলল পালিয়ে বিয়ে করেছে।ওদের বাড়ির পাশের বাড়ির কাজের মেয়েটাও ইমা আপুর সাথে নিখোজ।শুনলো ইমা কে পালাতে সাহায্য করে নাকি রোকেয়ার ভয়ে গ্রামে চলে গেছে।তবে ইরুর এসব বিশ্বাস হয়না।একটা বার ভাইয়ের সাথে কথা বলার আশায় গিয়েছিলো ওই বাড়ি তবে তা আর কপালে জুটে নাই।রোকেয়া ফোন দেই নি।বলেছে নাম্বার নেই।খুজে নিতে।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৫৩

ইরু কোথায় খুজবে ঠিকানাও তো দেইনি।তবে আশ্চর্যের ব্যাপার এই প্রথম রোকেয়ার কথার কোনো প্রতিবাদ করেনি ফাহিম।যদিও কারন জিজ্ঞাসা করেছিলো ইরু তবে উত্তর পাইনি।বরাবরের মতো এড়িয়ে গেছে ফাহিম।
তবে ইরু হাল ছাড়েনি প্রত্যেক রাকাত নামাজে শ্রেয়সী আর তার ভাইয়ের জন্য মোনাজাতে কান্না করে।দুজন কে খুব দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে তার।তার জীবনের এক টুকরো ভালো থাকা মানুষ দুটো।কোথায় আছে তারা। যেখানেই থাক ভালো থাকুক সুস্থ থাকুক।আল্লাহর উপরে সম্পুর্ন ভরসা আছে তার।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৫৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here