শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ১৫
রুহানিয়া ইমরোজ
রাত পেরিয়ে ভোর হয়েছে। ঘড়ির কাঁটা তখন নয়টা ছুঁই ছুঁই। অস্বস্তিকর গরম অনুভব করায় ঘুম ভেঙে যায় শানের। আড় মোড়া ভেঙে চোখ মেলতেই প্রিমার নিটোল ফর্সা পা জোড়া নজরে আসে ।
সাথে সাথেই ভ্রু কুঁচকে যায় আরশিয়ানের। চোখ ফেরাতেই দেখে বালিশে হেলান দিয়ে বসে থাকা অবস্থায় ঘুমিয়ে গেছে প্রিমা। তার হাতের মুঠোয় আছে অর্ধভেজা জলপট্টি। ফ্লোরে রাখা পানি ভর্তি বালতিটাও নজর এড়ায়নি আরশিয়ানের।
সব ক্লু মিলিয়ে বুঝতে পারে তার জ্বর কমানোর জন্য রাত জেগে সেবা শুশ্রূষা করেছে প্রিমা। ব্যপারটা অতি সামান্য হলেও ভীষণ রকমের খুশি হয়ে যায় আরশিয়ান। তার রাগী বউটা এতকিছু করেছে ভেবেই ভালো লাগায় তৃপ্ত হয় হৃদয়।
মেজাজ ফুরফুরা হয়ে যায় আরশিয়ানের। অকারণে একটু খানি ছুঁয়ে দিতে মন চায় প্রিমাকে। মনোবাসনা দমাতে না পেরে হাত বাড়িয়ে প্রিমার পা জোড়া আলতো করে স্পর্শ করে।
গভীর ঘুমে তলিয়ে থাকা প্রিমা টের পায়নি সেটা। এতেই সাহস বেড়ে যায় আরশিয়ানের। ঝট করে উঠে বসে আলতো করে প্রিমার একটা পা টেনে নিজের উন্মুক্ত বুকের উপর রাখে।
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে পায়ের পাতা, আঙ্গুল সেই সাথে ভাসমান ভেইনস গুলো। ভীষণ নরম তুলতুলে। আরশিয়ান অবাধ্য হাতে ছুঁয়ে দেয় সবখানে। লোভ সামলাতে না পেরে ঝটপট দু’টো চুমু খায়।
বিপত্তি বাঁধে সেখানেই। আরশিয়ানের কান্ডে ঘুম ভেঙে যায় প্রিমার। সদ্য ঘুম ভাঙা মেয়েটা প্রশ্নাত্মক চোখে তাকায়। আরশিয়ান তার পা ছেড়ে দিয়ে ধীর কন্ঠে বলে,
–” আম্ সো স্যরি। ঘুম ভাঙাতে চাইনি আপনার। আমি একটু দেখছিলাম শুধু..
প্রিমা বুঝেও এড়িয়ে যায় সেটা। ক্লান্ত শরীরটা টেনে আরশিয়ানের মুখোমুখি বসে। ঘুম ঘুম কন্ঠে শুধায়,
–” এখন কেমন লাগছে আপনার?
প্রিমার ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়ায় অপরাধ বোধে ভুগছিল আরশিয়ান তবে তার সম্মোহনী কন্ঠ শুনে সেটা দূর হয়ে যায়। মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে থেকে বলে,
–” বড্ড তৃষ্ণা অনুভব করছি।…
কথাটা শুনে সরল প্রিমা এদিক-ওদিক চেয়ে পানির খোঁজ করতে লাগল। কিন্তু কোথাও তা না পেয়ে বলল,
–” এক্ষুনি পানির ব্যবস্থা করছি আমি…
বলেই বিছানা ছেড়ে নামতে নিলে তার হাত টেনে ধরে আরশিয়ান। এক ঝটকায় প্রিমাকে নিজের কোলে এনে ফেলে। পেছন থেকে বলিষ্ঠ বাহুর বন্ধনে ঝাপটে ধরে শীর্ণকায় মেয়েটাকে।
প্রিমা হকচকিয়ে যায়। আরশিয়ান তাকে সামলে ওঠার সুযোগ না দিয়ে বলে,
–” আপনার তৃষ্ণায় তৃষ্ণার্ত আমি। আই ওয়ান্ট ইয়্যু টু বি মাইন প্রেম..
আরশিয়ানের শক্তপোক্ত চাপে নাজেহাল অবস্থা হয় প্রিমার। শ্বাস আঁটকে আসে রীতিমতো। প্রিমা যন্ত্রণা মিশ্রিত স্বরে বলে,
–” ম্ মরে যাচ্ছি আমি..
আরশিয়ান সাথে সাথেই বাঁধন আলগা করে দেয়। প্রিমা হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। আরশিয়ানের বুকে হেলান দিয়ে শরীরের সমস্ত ভার ছেড়ে দেয়। আরশিয়ান চিন্তিত কন্ঠে শুধায়,
–” কী হয়েছে আপনার?
প্রিমা সাবলীল গলায় জবাব দেয়,
–” বড্ড শক্তি খাঁটিয়ে জড়িয়ে ধরেছিলেন আমায়।
আরশিয়ান ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলে,
–” এত নাজুক হলে চলবে?
প্রিমা না ভেবেই জবাব দেয়,
–” সামলে নেওয়ার জন্য আপনি আছেন তো।
কথাটা বলেই প্রিমা চুপসে যায়। আরশিয়ান বিস্মিত চোখে তাকায়। তার মস্তিষ্কে বাজতে থাকে কথাটা। তবে কী..প্রিমার বিশ্বাস অর্জন করতে শুরু করেছে সে? কিছুক্ষণ সময় কাটে নিশ্চুপতায়। খুশিতে আত্মহারা আরশিয়ান পাল্টা কোনোরূপ প্রশ্ন করে না। প্রিমার উন্মুক্ত কাঁধে মুখ গুঁজে লম্বা শ্বাস টানে। প্রিমা কাঁপা গলায় বলে,
–” ক্ কী করছেন ?
আরশিয়ান ঘোরের মাঝে উত্তর দেয়,
–” I’m just marking my territory.
প্রিমা শিউরে উঠে আরশিয়ানের উন্মাদনায়। নিজেও হারিয়ে যায় ঘোরের মাঝে। এমন সময় আচমকা ফোন বেজে উঠে। দু’জনেই ছিটকে যায় সাথে সাথেই। আরশিয়ান বিরক্ত সূচক শব্দ নির্গত করে আনমনে বলে,
–“সব-কয়টা আমার সুখের শত্রু। বংশের প্রদীপ জ্বালানোর আগে এদের জ্বালাপোড়া দূর করতে হবে।
প্রিমা দূরে সরে এসে কম্বল পেঁচিয়ে বসে। শরীরে যে শুধুমাত্র ক্রপ টপ ছিলো তাতো ভুলতেই বসেছিল আরশিয়ানের কর্ম কান্ডে। ওদিকে আরশিয়ান উঠে গিয়ে দ্রুত কল রিসিভ করে।
প্রথমে বিরক্ত হলেও ফোনের ওপাশ থেকে আসা বার্তা গুলো শুনে ভ্রু কুঁচকে আসে তার। কল রেখে প্রিমার কাছে এসে বলে,
–” গেইট ড্রেসড.. বেরোবো আমরা।
বড্ড তাড়াহুড়ায় ছিলো আরশিয়ান। প্রিমা কিঞ্চিৎ দ্বিধা নিয়ে বলে,
–” ক্ কী পরবো আমি?
আরশিয়ান ব্যস্ত কন্ঠে বলে,
–” ওয়াশরুমের সাথে সেই চেঞ্জিং রুম আছে। ওখানে সব পাবেন।
প্রিমা কথা না বাড়িয়ে এগিয়ে যায়। আরশিয়ান গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে নিজেও আরেকটা ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার নিয়ে একদম রেডি হয়ে বেরোয়।
ঘরে কদম রাখতেই আরেকদফা থমকে যায় বেচারা কেননা
মেরুন কালার ডীপ নেক গাউন পরেছে প্রিমা। রংটা চমৎকার মানিয়েছে তার বউকে। হুরপরীর মতো লাগছে। আরশিয়ান রীতিমতো ঠোঁট কামড়ে ধরে। প্রিমা পিছু ফিরে তাকে দেখে বলে,
–” আমরা কী সরাসরি অফিসে যাচ্ছি? না-কি কোন মিটিংয়ে? কোনো স্ক্রিপ্ট বা প্রেজেন্টেশন রেডি করতে হবে?
উত্তরে আরশিয়ানের বলতে মন চাইল,
–” একজন এমপি কে গৃহবন্দী করে রাখতে চাওয়ার অপরাধে আপনাকে ডজন খানেক সন্তানের আম্মা হওয়ার শাস্তি শোনানো হলো। আপনি এমুহূর্তে স্বামীর কাছে ধরা দিন..
সেসব আর বলা হয়ে উঠল না। এমনিতেই প্রিমাকে সহজ করতে গিয়ে কাজের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এর থেকে বেশি হেলাফেলা করলে সবকিছু বেরিয়ে যাবে হাত থেকে। এমনিতেই সময় কম কাজ বেশি..
আরশিয়ান গলা খাঁকারি দিয়ে জবাব দেয়,
–” আমরা একসাথে যাব না। আমি কাজের সূত্রে একটু বাহিরে যাব। আপনি যাবেন বাসায়৷ আর হ্যাঁ.. যাওয়ার আগে এসব পাল্টে ডাকাতের মতো ড্রেস ক্যারি করবেন। মেইক শিওর দ্যাট পরিচিত জনেরাও যেনো আপনাকে চিনতে না পারে।
কথাটুকু বলে আর দাঁড়াল না আরশিয়ান। চঞ্চল পায়ে বেরিয়ে পড়ল। আরেকটু থাকলেই নেক্সট মান্থে গুড নিউজ কনফার্ম হয়ে যেতো। ওটা এড়াতেই মূলত চলে আসা। ওদিকে প্রিমা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে।
অসভ্য মন্ত্রীর পাল্লায় পড়ে তার মতো সভ্য মেয়েকে না-কি ডাকাত সাজতে হবে এখন। একেই বলে কাপলের দোষ..
দুপুর একটা পঁয়ত্রিশ। কড়া রোদ চোখমুখে পড়ায় ঘুম আলগা হয়ে আসে তাজরিয়ানের। মাথা চেপে ধরে উঠে বসে বেচারা। অতিরিক্ত অ্যালকোহল এবং ড্রাগস নেওয়ার ফলে তীব্র মাথা ব্যথা এবং দুর্বলতা অনুভব হচ্ছে তার।
হুট করে লেবু পানির গ্লাস এগিয়ে দেয় কেউ। তাজরিয়ান তোয়াক্কা না করে ওটা নিয়ে এক ঢোকে সাবাড় করে দেয়। তার পরপরই লেবুর পানির ঝাঁঝাল স্বাদে গা ঝাঁকি দিয়ে ওঠে তাজরিয়ান। একটু নরমাল হতেই কেউ একজন শুধায়,
–” অনুদানের টাকা সরিয়েছিস কেনো?
তাজরিয়ান ঠিকঠাকমতো চোখ মেলে তাকায়। লাল টকটকে চোখদুটোর দৃষ্টি ঘোলাটে। তবুও আবছা চোখে ঠিকই দেখল আরশিয়ানকে। তার মস্তিষ্কে খেলে গেলো শয়তানি। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল বাঁকা হাসি। কৌতুকের স্বরে বলল,
–” এমপি মহোদয় আমার সম্মান চুরি করে নিলামে উঠিয়েছে তাই।
আরশিয়ান হতবাক হলো না। সে জানতো এমন কোনো উত্তরই দেবে তাজরিয়ান। তাই পুনরায় শুধাল,
–” কোথায় সরিয়েছিস ওসব?
তাজরিয়ান ভাবলেশহীন কন্ঠে জবাব দেয়,
–” যেথায় লুকালে তুমি খুঁজে পাবে না।
কথাটা সত্য। বিগত ষলো ঘন্টা যাবত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গুলো খুঁজে যাচ্ছে ইন্টেলিজেন্স টিম তবে কোনো তথ্য হাতে আসেনি। ওগুলোর একটাও যদি ফাঁস হয়ে যায় তবে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।
আরশিয়ান শান্তিপূর্ণ ভাবে বিষয়টা মিটমাট করতে চায় বিধায় ঠান্ডা গলায় বলে,
–” খোঁজ দেওয়ার বিনিময়ে কী চাই তোর?
তাজরিয়ান একরোখা গলায় জবাব দেয়,
–” তোমার পদত্যাগ..
আরশিয়ান চমকে উঠে। চিন্তিত চোখে তাকায় তাজরিয়ানের দিকে। তার এমপি হওয়ায় যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি খুশি ছিলো তার মুখে এই কথা হজম করতে কষ্ট হয় আরশিয়ানের। প্রশ্নাত্মক কন্ঠে বলে,
–” হুট করে এভাবে বেঁকে বসার কারণ?
তাজরিয়ান ভাবলেশহীন কন্ঠে জবাব দেয়,
–” যে এমপির কাছে সংসদের চেয়ে সংসারের দাম বেশি তাকে ক্ষমতায় রাখব কেনো? যে অধিবেশন এন্টেন্ড করর বদলে বউয়ের থেকে অধিকার আদায় করতে ব্যস্ত তার জন্য মন্ত্রী পদ ভ্যালিড নাহ্।
তাজরিয়ানের কথা ভুল নয় আবার সঠিকও নয়। আরশিয়ান তর্কে গেলো না। কথার মোড় পাল্টাতে বিরস মুখে বলল,
–” বিয়ে করেছি সপ্তাহখানেক হলো। হানিমুনের ট্রিপ স্পন্সর করার বদলে ভাই আমার মন্ত্রীত্ব নিয়ে টান দিচ্ছে। কপালের দোষ থাকলে যা হয় আরকি…
আরশিয়ানের কথা শুনে ত্যাড়া চোখে চাইল তাজরিয়ান। ভাইয়ের ট্রিকস ঠিকই বুঝেছে। তাই মুখ বাঁকিয়ে বলল,
–” শালিকা দিয়ে সাহায্য করলে বালির টিকিট কনফার্ম।
এপর্যায়ে নড়েচড়ে বসল আরশিয়ান। তাজরিয়ান পাগলা যে ক্ষেপেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে রাগের বশে যেনো মেহুর ক্ষতি না করে বসে তাই বলল,
–” ও বাচ্চা মানুষ। মাত্র উনিশ বছর বয়স ওর..
তাজরিয়ান তাকে থামিয়ে মাঝপথে বলে উঠে,
–” স্বামীর আদর আই মিন সংসার করার জন্য ইহা উপযুক্ত বয়স।
আরশিয়ান ভ্রু বাঁকিয়ে শুধাল,
–” কী বলতে চাইছিস তুই?
তাজরিয়ান তৎক্ষনাৎ সুর পাল্টে বলল,
–” এটাই যে, বউয়ের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে ভাইকে ভুলেছো। তাই তোমার ভাইও টাকার লোভে ডিল ভুলে গেছে।
আরশিয়ান হতাশ চোখে চেয়ে বলল,
–” আমি কখনোই কোনোকিছুর জন্য তোকে শাস্তি দিইনি তাজ কিন্তু..
তাজরিয়ান তার চোখে চোখ রেখে বলে,
–” এজন্যই বিষয়টা গায়ে লেগেছে। ভুল থাকা সত্ত্বেও শাস্তি পাইনি তাহলে নির্দোষ হওয়ার পরও কেনো ঝুঁকতে হলো আমায়? তাও আবার এক হাঁটুর বয়সী নাকউঁচু বাচ্চার কাছে।
আরশিয়ান বোঝানোর মতো করে বলল,
–” তোর দোষ ছিলো তাজ। মেহরিমা মেয়ে মানুষ। ভরা ক্যাম্পাসে ওকে..
তাজরিয়ান ফটাফট উত্তর দেয়,
–” আম অলসো অ্যান আলফা মেন। আমারও সম্মান আছে। তোমার শালিকা আমায় মাঝ রাস্তায় হাজার খানেক লোকের সামনে চড় মেরেছিল। সেটা নিয়ে তো কোনো মাতামাতি করতে দেখিনি তোমায়।
আরশিয়ান অসহায় বোধ করে এবার। এই প্রাণীকে কীভাবে বোঝাবে চুমু আর চড় দুটো আলাদা জিনিস। উপায়ন্তর না পেয়ে হাল ছেড়ে বলে,
–” ব্যাকআপ ডিল বল..
তাজরিয়ান কুটিল হাসে। প্ল্যান কাজ করেছে তার। এবার আর ত্যাড়ামি করতে যায় না কারণ এখন কথা প্যাঁচালে আরশিয়ান ও রেগে যাবে।
ওকে রাগানো মানে লস প্রজেক্ট। আরশিয়ানের কাছে তার হাজারখানেক সিক্রেট পড়ে আছে। তাই বেশি টানলো না বিষয়টা। সহজ গলায় বলল,
–” অনুদান ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ভবিষ্যতে করা বিরাট একটা পাপ ক্ষমা করবে তুমি।
আরশিয়ান চমকায় না তেমন। তাজরিয়ান প্রায়শই যা-তা ওয়াদা নেয়। দিনশেষে নিজেই ভুলে যায় সব কিছু। তাই ব্যস্ত কন্ঠে বলল,
–” ডিল ডান। তবে দেশে কিংবা আমার নাগিরিকদের কোনো ক্ষতি যেনো নাহয়।
তাজরিয়ান বাঁকা হেসে বলল,
–” হবে নাহ্..
আরশিয়ান ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে ক্লান্ত গলায় বলল,
–” কোথায় ওগুলো?
তাজরিয়ান খুব স্বাভাবিক গলায় বলল,
–” তোমার পার্সোনাল কারের কুশনের মধ্যে।
আরশিয়ান হতবাক হয়ে যায় তাজরিয়ানের কথায়। কী সাংঘাতিক ধূর্ত এই ছেলে। আরশিয়ান কখনো ধারণাই করতো না অতগুলো টাকা তার সাথে থাকতে পারে তাও এমন এক জায়গায়। যদি ওটা কারও চোখে ধরা পড়তো তবে ব্লেইম আসতো আরশিয়ানের উপর।
কথাগুলো ভাবতেই মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে আরশিয়ানের। হতবাক কন্ঠে বলে,
–” একটু এদিক-ওদিক হলেই সব শেষ হয়ে যেতে পারতো তাজ..
তাজরিয়ান ভাবলেশহীন গলায় বলল,
–” তুমি আমার সম্মানের প্যান্ট খুলে দিয়ে বসে আছো। তার বেলায়?
রাগে দুঃখে আরশিয়ান চুপ করে যায়৷ কিছুক্ষণ পর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
–” তোর একটা বিয়ে করনো দরকার..
কথাটা শেষ হওয়ার আগে তাজরিয়ান চোখমুখ কুঁচকে বলল,
–” আমি উদার মনের মানুষ। বিয়ে করলে চারটায় করব। তোমার মতো একটা নিয়ে দোর আঁটকে বসে থাকবো না।
আরশিয়ান বিষম খায়। নির্লজ্জ ছেলেপেলে নিয়ে আছে বড় বিপদে। মান সম্মান হারানোর ভয়ে টপিক বদলাতে আমতা আমতা করে বলল,
–” জলদিই বাসায় ফিরিস। আমি…
তাজরিয়ান ভাবলেশহীন গলায় বলে,
–” জলদি বাসায় ফিরে কী লাভ? আমার কী আর আঁচড় দেওয়ার মানুষ আছে? কী দিন এলো বলো। আঁচড়ের মায়ায় পড়ে ভালোবাসার ভাইকে ভুলে যাচ্ছে মানুষ।
কথাটা শুনে ঝটপট বুকের খোলা বাটনটা বন্ধ করে আরশিয়ান। কীভাবে যেনো প্রিমার নখের আঁচড় লেগেছে ওখানটাতে। জ্বলছিল বিধায় মেডিসিন দিয়ে খুলে রেখেছিল জায়গাটা। তাজরিয়ান এভাবে খোঁচা মেরে বসবে সেটা বুঝেনি। আরশিয়ান ত্যক্ত কন্ঠে বলে,
–” তোরা দু’টো আলাদা মানুষ। তোদের প্রায়োরিটি ও ডিফারেন্ট।
তাজরিয়ান তৎক্ষনাৎ জেদি বাচ্চার মতো করে বলল,
–” তাহলে আমার সময়ের ভাগ কেনো দিচ্ছো তাকে ?
আরশিয়ান বিরক্তিতে তেতে উঠে বলল,
–” তোকে চাচা ডাক শোনানোর জন্য।
বলেই আরশিয়ান একমুহূর্ত দাঁড়ায় না। বেরিয়ে পড়ে কাজের উদ্দেশ্যে। ওদিকে তাজরিয়ান দুঃখী গলায় বলে,
–” আশ্চর্য! আমার কী চাচা হওয়ার বয়স হয়েছে নাকি? নাহ্.. ওই অসামান্য ভদ্রমহিলার থেকে দূরে রাখতে হবে ভাইকে।
একথা শুনে চোখ কপালে উঠে তামজিদের। সে হতবাক কন্ঠে বলে,
–” কীসব বলছেন স্যার..
তাজরিয়ান বিরস মুখে বলে,
–” ওটা বাদ দাও। নেতা সাহেবের কাছে আমার কুকীর্তি ফাঁস হলো কীভাবে সেটা বলো আগে।
তামজিদ ফাঁকা ঢোক গিলে বলল,
–” এমন নিখুঁত শক্তপোক্ত কাজ আপনি ছাড়া আর কেউ করতে পারবে নাকি? যে কেউ বুঝে নিবে ওটা আপনার কাজ। ”
ধূর্ত তাজরিয়ান চোখ ছোটো ছোটো করে তাকিয়ে বলে,
–” তথ্য পাচারের কাজটা যে তোমার, সেটাও কিন্তু আমি বুঝে গেছি মজিদ।
ভয়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায় তামজিদের। মিছে হাসার নাটক করে বলে,
–” হে হে.. কী বলেন স্যার.. আর আমার নাম ম্ মজিদ নয়। ওটা তো..
তাজরিয়ান দাঁত কিড়মিড়য়ে বলল,
শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ১৪
–” জানি জানি..ওটা লালকালু উপন্যাসের এক চরিত্রহীন চরিত্রের নাম।
তামজিদ কাঁদো কাঁদো গলায় বলে,
–” লালকালু না স্যার.. লালসালু উপন্যাসের এক ভন্ড পীরের নাম ওটা।
তাজরিয়ান রেগেমেগে পিস্তল খুঁজতে নিলে তামজিদ ভোঁ দৌড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তাজরিয়ান চিল্লিয়ে বলে,
–” তুমি তো মিয়া ইন্টারন্যাশনাল ভন্ড।
