Home শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২১

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২১

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২১
রুহানিয়া ইমরোজ

মেহরিমা বিমূর্ত। মস্তিষ্ক কাজ করছে না তার। স্তব্ধ হয়ে বসে আছে বিছানার উপর। চোখদুটো পাথরের ন্যায় স্থির। তার হাবভাব ভালো লাগল না তাজের। এত বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে অথচ এই মেয়ে নির্জীব। কান্নাকাটির বালাই নেই। হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করলে তাও একবার ভেবে দেখতো তাজরিয়ান কিন্তু এই মেয়ে তো থমথমে মুখে বসে আছে।
বিরক্ত হয়ে মেহরিমার কোল থেকে উঠে বসল তাজ। ঘাড় ঘুরিয়ে একপলক দরজার দিকে চেয়ে বলল,

–” যে কোনো সময় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়বে ওরা..
মেহরিমা নিশ্চুপ হয়ে শুনল। উত্তর দিল না। তাজ ভ্রু কুঁচকে কিছু একটা ভেবে শয়তানি হাসি দিয়ে বলল,
–” ওরা কিন্তু ধার্মিক মানুষ। অবিবাহিত নারী পুরুষ কে এক কামরায় দেখে… ইয়্যু নো হোয়াট আই মিন৷
এপর্যায়ে চোখ তুলে তাকাল মেহরিমা। মেয়েটার অক্ষি কোটর জল শূন্য কিন্তু সেথায় বিরাজমান অদ্ভুত শূন্যতা। তাজরিয়ান ভীষণ ভাবে থমকাল তার রক্তাভ আঁখি জোড়া দেখে। পরপরই শুনতে পেল মেহরিমা বলা কথাগুলো ,

–” জাস্ট সাট আপ ইয়্যু বাস্টার্ড। কী ভেবেছিলেন? আপনি মাইন্ড গেইম খেলবেন আর আমি বুঝব না? বাইরে দাঁড়ানো লোকগুলো আপনারই। জাস্ট মজা নিতে এসব বলে ভয় দেখাচ্ছেন আমায়।
তাজরিয়ান কিংকর্তব্যবিমূঢ় বনে গেল। কয়েক মিনিট জাস্ট হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল মেহরিমার দিকে। তার বলা একটা কথাও ভুল নয়। তাজ শুধুই ওকে ভয় দেখাতে এত সব কাহিনী করেছে। চাইলে ভিন্ন ভাবেও নিতে পারত প্রতিশোধ তবে আরশিয়ান ওয়াদা নেওয়ায় সেই প্ল্যানও ভেস্তে যায়।
মেহরিমার অকুতোভয় ব্যপারটা ক্ষণে ক্ষণে ট্রিগার করছিল তাজরিয়ানকে। মেহুর দুঃসাহসী আচরণে তাজের মেইল ইগো হার্ট হয়েছে। মেয়েটাকে উচিত শিক্ষা দিতে না পারায় অশান্তি লাগছিল তার। তাইতো ইফতিকে হাত করে এতসব কাহিনী সাজাল কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেহরিমা সব ধরে ফেলল।
একের পর এক হার কোনোমতেই হজম করতে পারল না তাজরিয়ান। খট করে মেজাজ গরম হয়ে গেল তার। রক্তচক্ষু নিয়ে মেহরিমার পানে চেয়ে হিসহিসিয়ে বলল,

–” কী সমস্যা তোর? আমার ভালো মানুষি হজম হচ্ছে না বুঝি? মরতে চাস? ”
মেহরিমা সাইকোলজির স্টুডেন্ট। এসব খুব ভালো মতো বোঝে। বুঝেও যেন আজ অবুঝ। কোনোমতেই রাগ সামলাতে পারল না। চিল্লিয়ে বলল,
–” আমার সমস্যা আপনি। কেনো সামনে আসছেন বার বার? সব তো চুকেবুকে গেছে। তাহলে কী চান?
মেহরিমার চিৎকার শুনে আরও তাঁতিয়ে উঠল তাজ। চোখ বুঁজে অমানুষিক সত্তাটাকে দমানোর বৃথা চেষ্টা করল। তা আর হলো কই? ঝট করে উঠে দাঁড়িয়ে বেড সাইড টেবিলে লাত্থি মেরে গর্জে উঠে বলল,
— তোর চোখে ভয় দেখতে চাই আমি। আমার নামের আতঙ্কে শিউরে উঠতে দেখতে চাই তোকে। গর্জনের বদলে আর্তনাদ শুনতে চাই তোর৷
মেহরিমা খিঁচিয়ে চোখমুখ বন্ধ করে নেয়। পাগলা ষাঁড়ের ন্যায় খেপেছে তাজরিয়ান। ভয়ংকর দেখাচ্ছে তার অবয়ব। এ পর্যায়ে কিঞ্চিৎ চমকে উঠে মেহু।

তাজরিয়ানের ভয়ানক চিল্লাপাল্লায় থেমেছে দরজার ওপাশের কোলাহল। নিরব ঘরজুড়ে শুধু শোনা যাচ্ছে তাজরিয়ানের ভাঙচুরের শব্দ। মেহরিমা খুব ভালো মতো টের পায়, খেপলে কতটা পৈশাচিক হতে পারে তাজরিয়ান।
ঘরের জিনিস ভেঙেও রাগ মিটে না তাজের। ভেতরকার নরপশুটা ক্ষণে ক্ষণে বিপথগামী হতে চাচ্ছে। মস্তিষ্ক স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ভাইকে দেওয়া ওয়াদা। কয়েক সেকেন্ডের জন্য থামে তাজরিয়ান।
ঘাড় ঘুরিয়ে চায় বেডে বসে থাকা মেহরিমার পানে। সেদিকে তাকাতেই আবারও ধপ করে জ্বলে উঠে রাগটা৷ কী শান্ত দৃষ্টিতে চেয়ে আছে অথচ ওই চোখে সীমাহীন ভয় থাকার কথা ছিল।
জীবনে প্রথমবার আরশিয়ানকে টেক্কা দিয়ে জিতে গেল তাজরিয়ানের দানবীয় সত্তা। ওই চোখ জোড়ায় ভয় দেখতে চাওয়ার আশায় বিসর্জন দিল সবকিছু।মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলল তাজরিয়ান। ঝাড়া পায়ে হেঁটে এসে চেপে ধরল মেহরিমার গলা। তাকে হেডবোর্ডের সাথে সেঁধিয়ে ঝুঁকে এল মুখের উপর। হিংস্র কন্ঠে বলল,

–” যে চোখজোড়া আমার সামনে নত হয় না, যে চাহনিতে আমার জন্য ভয় থাকে না সেটা অক্ষত থাকা বেমানান।
বলিষ্ঠ হাতের চাপে দম আঁটকে আসছিল মেহুর৷ পর পরই তাজের বলা কথাগুলো শুনে ফিক করে হেসে ফেলে। মুখ খুলে শ্বাস টানার চেষ্টা করে অস্পষ্ট গলায় বলে,
–” অকেজো করে দিন ও দু’টো। এই ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারের দুনিয়ায় বিবেকবান পর্যবেক্ষক থাকা আসলেই বেমানান।
তাজরিয়ান ঠিক বুঝল কথাটার অর্থ। ইনডিরেক্টলি তাকে স্বৈরাচার বলতে চেয়েছে। এমন অবস্থাতেও মেহুর এই দুঃসাহস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলল তাজরিয়ানকে। সে আক্রোশ নিয়ে বলল,

–” আমি ক্ষমতাসীন স্বৈরাচার?
দম বন্ধ হয়ে আসছে মেহরিমার তবুও শ্বাস টেনে কোনো মতে বলল,
–” আলবাত তাই।
রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তাজরিয়ান বলে উঠল,
–” তাহলে তো নমুনা দেখাতেই হয়।
বলেই প্রকাণ্ড ধাক্কা দিয়ে তৎক্ষনাৎ সরে আসে তাজ৷ লম্বা কয়েকটা শ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করে। জেদ চড়ে গেছে মাথায়। পূরণ তো করতেই হবে। পকেট হাতড়ে ফোন বের করে বিড়বিড়িয়ে বলে,
–” ইয়্যু ডিজার্ভ হার্ড পানিশমেন্ট সুইটহার্ট..
ধাক্কাটা প্রচন্ড জোরে ছিল। হেডবোর্ড ফোমের হওয়ার পরও তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভব করল মেহরিমা। কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঝিম মেরে বসে রইল। খানিকক্ষণ পর তার ঘোর কাটল তাজের বলা কিছু কথায়। কাউকে ফোনে বলছে,

–” ইমিডিয়েটলি পুরো গ্রামবাসীকে হাজির কর। পাপী তাজ পূণ্যের কাজ করতে যাচ্ছে। মিনিমাম শ খানেক সাক্ষী থাকা লাগবে। এক্ষুনি নিয়ে আয়। সাথে ওই বরবাদীর গুরু কেও আনিস।
তামজিদ কে কল দিয়েছিল তাজরিয়ান। বেচারা হাত পা ছড়িয়ে বসেছিল রুমের বাহিরে। আচমকা কলে এসব উদ্ভট কথা শুনে বিস্মিত কন্ঠে বলে,
–” গ্রামবাসীর কেচ্ছা নাহয় বুঝলাম কিন্তু এই বরবাদীর গুরু আবার কোন মাতারি স্যার?
তাজরিয়ান দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
–” যেই পাজির কারণে গোটা পুরুষ জাতি বরবাদ হয়ে যাচ্ছে; সেই মাতারি।
বিষয়টা বুঝতে একটু সময় লাগলো তামজিদের৷ বোঝা মাত্রই চোখ কপালে উঠল তার। বিস্মিত হয়ে বলল,
–” কাজি ব্যাটার কী কাজ স্যার?
তাজরিয়ান বিরক্ত হয়ে জবাব দিল,

–” বরবাদীর খাতায় বড় বড় করে দ্যা গ্রেট গ্যাংস্টার তাজরিয়ান জাওয়াদ চৌধুরীর নাম লেখা৷
তামজিদ বুঝল, তার স্যার পাগল হয়ে গেছে। এই পাগলের কারিগরকে ইনফর্ম না করলে বড়সড় কেলেংকারী হয়ে যাবে। তামজিদ ফোন রাখতে যাবে তার আগ দিয়ে ওপর পাশ থেকে ভেসে আসে কড়া হুশিয়ারী,
–” ভুলেও যদি নেতা সাহেবের কানে গেছে খবরটা তাহলে আজীবনের জন্য তোমায় বয়রা বানিয়ে দিব আমি। আমি যা চাই তা তো হাসিল করবোই কিন্তু মাঝে থেকে ক্ষতিটা তোমার হয়ে যাবে। মার্ক মাই ওয়ার্ডস৷
তামজিদ অসহায় মুখে কল কাটলো। বাধ্য হয়ে সাথে থাকা গার্ডদের আদেশ পালন করতে বলল। ফোন রাখতে না রাখতেই ভেসে এল মেহরিমার ফ্যাসে ফ্যাসে স্বর,

–” কোনো মূল্যেই আপনাকে বিয়ে করব না আমি।
হোলস্টারে রাখা বন্দুক টা বের করে সামনে আগাতে আগাতে শুধাল তাজরিয়ান,
–” তাই নাকি?
মেহরিমা ফাঁকা ঢোক গিলে বলল,
–” জানের ভয় নাই আমার। সুতরাং..
তাজরিয়ান ঝংকার তুলে হেসে বলল,
–” জানের টুকরো বোনের জন্য ভালোবাসা তো আছে। তাইনা?
একমুহূর্তের জন্য থমকাতে বাধ্য হলো মেহরিমা। এমনিতে সে ভীষণ শক্তপোক্ত মানুষ তবে বোনদের বেলায় সেনসিটিভ। তাজরিয়ান ধরে ফেলেছে তার নার্ভ। এরপর কী হবে ভাবতেই বুকে কম্পন ধরে যাচ্ছে।
তাজরিয়ান সুক্ষ্ম চোখে পরখ করছিল মেহরিমাকে। যেই’না বোনদের কথা উঠল ওমনি মেয়েটার মুখশ্রীর ধরণ পাল্টে গেল। বিষয়টাতে ভীষণ মজা পেল তাজ। মেহরিমার কাছে এসে পিস্তলের নল ঠেকিয়ে মেহরিমার চিবুক উঁচু করে ধরে ফিসফিসিয়ে বলল,

–” বুক ধড়ফড়াচ্ছে? নাকি গলা শুকিয়েছে? আহ্ হা.. মুখের তো দেখি রঙ উড়ে গেছে। দৃষ্টিতে মলিন। চাহুনিতে কিঞ্চিৎ শঙ্কা। ভয় পাচ্ছ নাকি সোনা?
মেহরিমার ঠোঁট কাঁপল কিন্তু কথা বেরুলো না। দম আঁটকে আসতে লাগলো তার। চট করে সরে গেল বাঁ পাশে। তাজ কৌতুকের স্বরে বলল,
–” দৃষ্টি লুকাচ্ছ কেনো? আমি সাইকোলজি বুঝি না। ধরতে পারব না তোমার পরিকল্পনা। তাকাও দেখি। ভয় পাই একটু তোমার দুঃসাহস দেখে.
দুর্বলতা খুঁজে পেয়ে ইচ্ছেকৃত ভাবে মেহরিমাকে খোঁচাচ্ছে তাজরিয়ান। সবটা বুঝে ভেতরটা ভেঙে আসে মেহরিমার। তবে উপরে উপরে নিজেকে শক্ত প্রমাণ করতে চায়। ঝাঁজ নিয়ে বলে,
–” দেখুন, ভালো হচ্ছে না কিন্তু। সহিসালামত ভাবে যেতে দিন আমায়, নয়তো সমস্যা হয়ে যাবে।
তাজরিয়ান ধপ করে বসে পড়ল বিছানায়৷ দুই কনুই ঠেকিয়ে আধশোয়া হয়ে হাসিমুখে বলল,
–” আমি তোমাকে আঁটকে রাখিনি সোনা। ইয়্যু ক্যান গো হোয়্যার এভার ইয়্যু ওয়ান্ট বাটট…
বলেই ঠোঁট কামড়ে হাসে তাজরিয়ান। বড্ড মজা লাগছে তার। ভেতরটাতে শান্তি অনুভব হচ্ছে। মেহু কৌতূহলী কন্ঠে বলে,

–” বাটট.. কী?
তাজরিয়ান হামি তুলে বলে,
–” তোমার বোন ফারজানার চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যার খরচ কি-না চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রি বহন করছে।
কথাটা সরাসরি এসে হিট করলো মেহরিমাকে। তবে হার মানতে চাইল না সে। প্রত্যুত্তরে বলল,
–” অন্য উপায় খুঁজে নিব আমরা।
তাজরিয়ান বুঝল, ভাঙবে তবুও মচকাবে না এই মেয়ে। তাই বিশাল একটা টোপ দিল। হুট করে বলে বসল,
–” তোমার মেজ বোন ডিভোর্সি তকমা পাবে..
কথাটা শুনে ভ্রু কুঁচকে এল মেহরিমার। অবাক কন্ঠে শুধাল,
–” মানে? ”
তার মুখাবয়ব দেখে তাজরিয়ান বুঝল এই মেয়ে কিছু জানে না। তাই তাকে ইনশর্টে বলল,

–” মিস ফারজানার ট্রিটমেন্টের জন্য তোমার মেজ বোন প্রিমা আমার বড় ভাইকে বিয়ে করেছে। গিভ এন্ড টেক পলিসি আরকি।
মেহরিমা ধাক্কা খেল রীতিমতো। গোল গোল চোখে চেয়ে বলল,
–” অসম্ভব।
তাজরিয়ান তাচ্ছিল্য হেসে বলল,
–” ব্রেইন চালাও মেয়ে। আপন বলে অন্ধের মতো বিশ্বাস করো না। ঘন্টাখানেকর মাথায় অতগুলো টাকা কেমনে জোগাড় করল তোমার বোন? যে ফ্ল্যাটে থাকছো ওটার মান্থলি রেন্ট জানো? অফিস থেকে ওমন কোয়ার্টার দেওয়া হয় কখনো? তাও আবার সল্প বেতনভুক্ত কর্মচারীকে?
তাজরিয়ানের কথাগুলো সত্যি। পাই টু পাই হিসেব মিলিয়ে দেখল মেহরিমা। যত এগোচ্ছিল ততই যেনো মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছিল তার। বোনেরাকে ফাঁসাবে নাকি নিজেকে বাঁচাবে.. কিছুই বুঝতেছিল না ।
মেহরিমাকে হারাতে পেরে অপরিসীম শান্তি অনুভব করল তাজরিয়ান। তবে এই মেয়ের তেজ ভেঙে গুড়িয়ে তবেই দম নিবে সে। তার সাথে টেক্কা নেওয়া কত বড় অন্যায় সেটা হাড়ে হাড়ে বোঝাবে।
মেহরিমাকে ওমন নির্বিকার ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখে হামি তুলে তাজ বলল ,

–” বদনাম হতে চাও নাকি বরবাদ সেই সিধান্ত এখন তোমার।
মেহরিমা নিশ্চল গলায় শুধায়,
–” দুটোর মাঝে তফাত?
তাজরিয়ান পাশে থাকা ওড়ানাটা তুলে মেহুর মাথায় পেঁচিয়ে দিয়ে বাঁকা হেসে বলে,
–” আমার নামে দলিল হলে বদনাম রটে যাবে তোমার নামে। আমার না হলে বরবাদ হবে তুমি ; কারিগরের দায়িত্বে থাকব আমি।
মেহরিমা বরবাদ হলো না ঠিকই তবে বদনামির হাত থেকে রেহাই পেল না। আধ ঘন্টা পর রুমে উপস্থিত হলো সারা গ্রামবাসী। এক রুমে দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর উপস্থিতি দেখে নাক শিটকাল অনেকে৷ তারা বদ্ধ কামরায় কী করছিল প্রশ্ন করা হলে তাজ রুষ্ট গলায় উত্তর দেয়,

— ” ভবিষ্যত প্রজন্মকে দুনিয়াতে আনার প্ল্যান করছিলাম। কল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই বাস্তবতা মানে আপনারা এসে হাজির।
তাজরিয়ানের জবাবে ছিঃ ছিঃ সোরগোল পড়ে যায়। তামজিদ সামলায় পরিস্থিতিটা। সবার সামনে বিয়ের কথা তোলে। উপস্থিত সকলেই হৈহৈ করে সহমত জানায়। তাজরিয়ান ভাবলেশহীন ভাবে বসে পড়ে কাজির পাশে।
মেহরিমা ঠাঁই বসেছিল বিছানার মাঝখানটায়। যেনো এক অবিচল পুতুল। সত্যি সে পুতুলের মতো সৌন্দর্য বহন করে কিন্তু আদতে তো মানুষই। তার নড়নচড়ন বিহীন ভাবমূর্তি দেখে সবাই অবাক হয়। কত জনে কত কী বলে।
শুরু হয় লেখালেখি। কাজি সাহেব ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করেন,
–” কাবিন কত টাকা ধরব?
এতক্ষণ বিষয়টা মাথায় আসেনি তাজের। সাথে সেরকম ক্যাশ নেই। তবে শ্রীমঙ্গলে সুন্দরী বউয়ের সাথে অমঙ্গল করতে চাওয়ার শখটা অপূর্ণ রাখতে চায় না তাজ। তৎক্ষণাৎ পকেট হাতড়ায়।
পকেট চেক করতেই হাতের মুঠোয় আসে উনিশশো বিশ টাকা। দেরি না করে সেটাই কাজির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

–” আপাতত এটাই কাবিনের খরচা।
টাকার পরিণাম দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন কাজি সাহেব। এখনকার ব্যাটা ছাওয়েলদের ধৈর্য বলতে কিছু নেই। টাকার বিষয়টা নিয়ে আর কথা বাড়ালেন না। শুরু করলেন বিয়ে পড়ানোর কাজ৷
মেহরিমা প্রচুর সময় নিল কবুল বলতে। তাজরিয়ান নিজেও ধীরেসুস্থে কবুল বলল। এতক্ষণ মাথায় জেদ চেপে থাকলেও কবুল বলার মুহূর্তে অদ্ভুত অস্বস্তি হচ্ছিল তার। বার বার চোখ যাচ্ছিল মেহুর দিকে। কোনো ভাবেই শান্তি পাচ্ছিল না।
পরিশেষে সমাপ্ত হয় বিয়ে পড়ানো। এক পাপিষ্ঠ পুরুষের সাথে জুড়ে যায় পবিত্র সত্তার নাম। বিয়ে পড়ানো শেষ হলে ক্রমশ কমতে থাকে গ্রামবাসীর উপস্থিতি। ধীরেসুস্থে ঘর ফাঁকা হয়। ফলস্বরূপ ভীড় কমে আসে তবে এর মাঝে দেখা যায় এক ব্যর্থ পুরুষকে। যে কিনা স্বচক্ষে নিজের প্রিয়তমাকে অন্যের হতে দেখে।
ইফতিকে বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র ভয় দেখানো হবে মেহুকে। তাই তো রাজি হয়েছিল। এসবের চক্করে মেহুকে হারানোর ভয় সত্যি হয়ে যাবে সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি । তার ছলছল চোখ আর ছারখার হয়ে যাওয়া হৃদয় চিল্লিয়ে বলতে চায়,
–” এত ভালোবাসার পরও কীভাবে অন্যের হয়ে গেলি তুই?

ঘড়ির কাঁটা নয়টা ছুঁই ছুঁই। মাত্র ঘুম ছেড়ে উঠল প্রিমা। সেই যে দুপুরে ঘুমিয়েছে, আর উঠেনি। এই রাতের বেলায় ঘুম ভাঙল তার। অলস ভঙ্গিতে হামি তুলে ফোন হাতে নিতেই দেখল স্ক্রিনে ভেসে আছে একটা ছোট্ট মেসেজ,
–” বউ সাজবেন আমার জন্য?
মেসেজটা পড়ে শিউরে উঠলো সে। হুট করে বউ সাজার আবদার কেনো করল লোকটা? ইজ দেয়ার সামথিং? প্রিমা জানে না তবে মেসেজে দেওয়া তথ্য মোতাবেক আলমারি খুলতেই যাবতীয় এক্সেসরিজ পেয়ে যায়। এক মুহূর্ত নষ্ট না করে নিজেকে সাজাতে শুরু করে স্বামীর জন্য।
ডার্ক মেরুন কালার শাড়ি, ডায়মন্ডের হালকা গয়না, মুখে অল্প টাচ আপ, কপালে ছোট্ট একটা টিপ .. ব্যস প্রিমা রেডি। প্রায় ঘন্টা দুয়েক সময় পার হয় এসবে। প্রিমার সাজ কমপ্লিট হতেই তার ফোনে আরেকটা মেসেজ আসে। যাতে লেখা,

–” রিসোর্টের পেছনে আসুন..
প্রিমা কোনোকিছু না ভেবে দুরুদুরু বুকে এগিয়ে যায় রিসোর্টের পেছনের দিকে। তার জানামতে সেদিকে কিছু নেই। আছে কেবল একটা পরিত্যক্ত পুকুর। যার গভীরতা এবং প্রশস্ততা অনেক বেশি। প্রিমা সাঁতার জানে না বিধায় ওদিকে যায়নি।
নিজেকে সামলে অত্যন্ত সাবধানী পায়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায় প্রিমা। রিসোর্টের পেছনের বাগানে আসতেই চোখ ধাঁধিয়ে যায় তার। মনে হয়, এক টুকরো স্বর্গ দেখছে চোখের সামনে। হাঁটার গতি অটোমেটিক স্লো হয়ে যায়। বিস্মিত স্বরে বেরিয়ে আসে মা শা আল্লাহ।
পেছনের জায়গাটুকু জঙ্গলে ঘেরা। অথচ সম্পূর্ণ জায়গাটা লাইটিনিং করা হয়েছে। গাছে ঝুলছে ফেইরী লাইট এবং টুকিটাকি কাগজ ফুলের ডেকোরেশন। হাওয়ার তোড়ে উড়ছে সেসব৷
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো পুকুরের মাঝ বরাবর স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা মিনি ইয়ট। প্রিমা যখন বৈহ্যিক সৌন্দর্য অবলোকনে ব্যস্ত তখন কেউ একজন তার চোখের তৃষ্ণা মেটাচ্ছিল।
প্রিমা ভাবনার জগতে ডুবে যাবে তার পূর্বেই পাশ থেকে কেউ একজন গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,

–” ম্যাডাম? ক্যান আই হ্যাভ ইয়্যোর এটেনশন প্লিজ?
প্রিমা একটু চমকায়। পাশ ফিরতেই দেখে কন্ঠের মালিক আর কেউ নয় বরং আরশিয়ান। লোকটাকে দেখে একটু থমকায় প্রিমা। সাদা পাঞ্জাবি পাজামায় ভীষণ স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে। বহু কষ্টে চোখ ফিরিয়ে স্মিত হেসে সে-ও বলে উঠে,
–” ইয়েস স্যার।
আরশিয়ান চলতি পথে হাঁটতে হাঁটতে বলে,
–” আরও বিশেষ কিছু অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। যাওয়া যাক?
প্রিমা খুশি হয়ে বলে,
–” অবশ্যই..
আরশিয়ান মনে মনে হাসে তার প্রফুল্লতায়। মেয়েটা এখনো বাচ্চাই রয়ে গেছে। ইয়টের সাথে সিঁড়ি এটাচ করা হয়েছে বিধায় সেখানটায় যেতে ঝামেলা পোহাতে হলো না তাদের।
সরাসরি গেল সামনে ফাঁকা জায়গাটায়। ওখানে ছোট্ট একটা বেড পেতে রাখা হয়েছে। বেডটা সাদা চাদর এবং কম্ফোর্টারে আবৃত। বিছানার উপরের অংশটুকু সাজানো হয়েছে গোলাপের পাপড়ি দিয়ে। বাড়তি কোনো সাজ নেই।
ইয়টের চারপাশে উঁচু করে রেলিং দেওয়া। ওটা ধরে সামনের সারফেসে এসে দাঁড়াল প্রিমা। চোখ তুলে তাকাল আকাশপানে। অস্পষ্ট ভাবে চাঁদ দেখা যাচ্ছে। কী যে অসাধারণ দৃশ্য…

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকনে বিভোর প্রিমা আচমকা টের পায় তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে আরশিয়ান এবং তার উষ্ণ প্রশ্বাস ধাক্কা খাচ্ছে প্রিমার খোলা পিঠের ত্বকে। এমন অবস্থা দেখে বেচারির গলা শুকিয়ে যায়। তার ভয় বাড়িয়ে দিতে আরশিয়ার শক্ত হাতে প্রিমার কোমর জড়িয়ে ধরে।
বেচারি চমকায় কিঞ্চিৎ। লোকটা আজ একটু বেশি দুষ্টুমি করছে। আস্তে ধীরে কম্পনরত হাতটা আরশিয়ানের হাতের উপর রাখতেই তাকে আরেকটু জো খাটিয়ে চেপে ধরে আরশিয়ান। কানের কাছে মুখ নিয়ে ধীর কন্ঠে বলে,
–” আপনার সাজ সজ্জা বড্ড পীড়া দিচ্ছে আমায়। অবাধ্য মনটা চাচ্ছে সবকিছু তছনছ করে দিতে। একটুখানি কষ্ট দিলে রাগ করবেন আমার উপর?
প্রিমা লজ্জায় মিইয়ে যায় ওমন প্রস্তাবে। আরশিয়ান মিনিট খানেক সময় দেয় তাকে। এরপর মেরুন রাঙা ডিপ নেক ব্লাউজের ফিতাটা টান দিয়ে খুলে, মসৃণ পিঠে মুখ ডুবিয়ে অস্ফুটস্বরে বলে,
–” আজ আপনাকে চাই প্রেম..
লজ্জায় শিহরণে ঠকঠক করে কেঁপে উঠে প্রিমা। শিহরণে কেঁপে উঠে খামচে ধরে আরশিয়ানের হাত। কোনোমতে বলে,

–” আমি তো আপনারই..
আরশিয়ান মৃদু হাসে। কৌশলে শাড়ির আঁচলটা সরিয়ে ফেলে প্রিমাকে মুখোমুখি দাঁড় করায়। প্রিমা চোখ বুঁজে রয়। আরশিয়ান তার চিবুক স্পর্শ করে মুখটা উপরে তুলে। বন্ধ চোখের পাতায় ফুঁ দিয়ে বলে,
–” যতটুকু আমার তার সবটুকুতে দখলদারিত্ব চাই আজ..
প্রিমা মিনমিনিয়ে বলল,
–” অনুমতি দেওয়া হলো..
কথাটা বলার সাথে সাথে মৃদু শব্দ শোনা গেল। দু’টো আতশবাজি ফোটানো হয়েছে। সেই সাথে জ্বলে উঠেছে পুকুরে ভাসমান শ’খানেক পদ্ম লাইট।
প্রিমা অবাক চোখে তাকায় সেদিকে। বিস্মিত গলায় বলে,
–” এত সুন্দর কেনো এগুলো?
আরশিয়ান স্মিত হেসে তার উদর জড়িয়ে ধরে বলে,
–” দুনিয়া শ্রেষ্ঠতম সুন্দর মানুষের জন্য আয়োজিত বলে।
প্রিমা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। আরশিয়ান সেটারই সুযোগ নেয়। দখল করে ফেলে প্রিয় মানুষের অধর জোড়া। জন্মের তৃষ্ণা মিটিয়ে চুমু খায়। প্রিমা সরে আসতে নিলেও ছাড়ে না।
ভদ্র সভ্য আরশিয়ান নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে ভীষণ অবাধ্য হয়। প্রিমা তাকে থামিয়ে দিয়ে শুধায়,

–” এ্ খানে.. খোলা আকাশের নিচে এসব?
আরশিয়ান অধৈর্য গলায় জবাব দেয়,
–” সবকিছু ভুলে শুধু মুহূর্তটা অনুভব করুন৷
প্রিমা আর কিছু বলেনি। আরশিয়ানও শোনার মতো অবস্থায় ছিল না। সময়ের সাথে উন্মাদনায় ভেসে যায় দু’টো মানুষ। তবে যতটা সুখকর হওয়ার কথা ছিল তেমন কিছুই হয় না। একান্ত মুহূর্তে প্রিমা বাঁধা দিয়ে যন্ত্রণায় কাতর গলায় বলে,
–” প্ পেইন হচ্ছে ভীষণ।
আরশিয়ানের চাওয়া-পাওয়া তখন তুঙ্গে। তবুও সে থামে। বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে প্রিমার চোখের কার্ণিশ ঘেঁসে গড়িয়ে পড়া অশ্রুধারা মুছে দিয়ে কাতর গলায় বলে,
–” অসভ্য আদর দিয়ে অসহ্য ব্যথাটুকু ভুলিয়ে দিই প্রেম?
প্রিমা তখন বোঝার অবস্থায় নেই। অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে তার। সে দু’পাশে মাথা নাড়িয়ে খামচে ধরে আরশিয়ানের বাহুদ্বয়। ফুঁপিয়ে উঠে বলে,

–” ম্ রে যাচ্ছি আমি।
আরশিয়ান তৎক্ষনাৎ থামে। একটু সময় নিয়ে সরে আসে। প্রিমার অনাবৃত দেহখানা শুভ্র চদরে মুড়িয়ে কপালে ছোট্ট চুমি এঁকে দিয়ে বলে,
–” হুঁশশশশ্.. কিচ্ছু হবে না। আর কষ্ট দেব না তো। একটু পরেই ব্যথা কমে আসবে । জাস্ট রিল্যাক্স ওকে?
আরশিয়ানের কথা গুলিয়ে আসছে। নিজের উপর কন্ট্রোল নেই তার। বহু বছর পর প্রিয় মানুষটার সান্নিধ্যে আসার পরও অতৃপ্ততা হজম করার সাধ্যি ক’জন পুরুষের আছে?
মিনিট পাঁচেকের মাথায় প্রিমার আর্তনাদ কমে আসে। একটু স্টেবল হয় তার কন্ডিশন। আরশিয়ান তাকে ছেড়ে তৎক্ষনাৎ ঝাঁপ দেয় পুকুরে। ঝপাৎ করে শব্দ হয়। প্রিমা কেঁপে উঠে কিঞ্চিৎ। অবুঝ নয় সে। বুঝে সবটাই। তবুও কী থেকে কী হয়ে গেল কে জানে।
মনের কোণে তীব্র অপরাধবোধ জমলো। মস্তিষ্ক তিরস্কার করে বলল, ” স্বামীর প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে দিতে না পারলে কেমন স্ত্রী তুই? ”
মনে মনে নিজেকে ধিক্কার জানায় প্রিমা। শরীরের ব্যথা মনের তিরস্কার সব মিলিয়ে কান্না পেয়ে যায় তার। মোটামুটি আধা ঘন্টা পর ল্যাডার বেয়ে উপরে উঠে আরশিয়ান।
তার পরনে ছিল শুধুই ট্রাউজার। উপরে উঠে জাস্ট মাথাটা মোছা হয়েছে এমন সময় শরীরে উষ্ণ হাতের স্পর্শ পায় আরশিয়ান। পাশ ফিরে দেখে তার বউ পেঙ্গুইনের মতো দাঁড়িয়ে আছে। আরশিয়ান পলক ঝাপটে চিন্তিত গলায় বলে,

–” ব্যথা কমেনি? বেশি শরীর খারাপ লাগছে?
প্রিমা ছলছল চোখে চেয়ে দু’পাশে মাথা নাড়ায়। চট করে দু হাত বাড়িয়ে আরশিয়ানকে জড়িয়ে ধরে বলে,
–” অ আম সো স্যরি।
আরশিয়ান বুঝে তার কথার অর্থ তবে সেসব প্রসঙ্গে না গিয়ে সোজাসাপ্টা বলে,
–” দ্যাটস ওকে। ইউ ডিড আ গুড জব ওয়াইফি। এসব ভেবে মাথা নষ্ট করতে হবে না। হিউজ সময় আছে। সময়ের সাথে ইউজ টু হয়ে যাবেন। মন খারাপের কিছু নেই।
আরশিয়ান বোঝায় কিন্তু প্রিমার মন মানে না। তার এক্ষুনি চাই আরশিয়ানকে। তাই মিনমিনয়ে বলে,
–” কচু করেছি।
প্রিমার অবাধ্য হাত আর ফিসফিসানিতে ভ্রু কুঁচকে যায় আরশিয়ানের। কিছু একটা বুঝে বলে,

–” আপনার কম্ফোর্টনেসের সাথে আমি বিন্দুমাত্র আপোষ করতে রাজি নই। পাগলামি ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।
প্রিমা শোনে না তার কথা৷ কোনোদিক বিবেচনা না করে সোজা হামলা চালায় বেচারার রুক্ষ পুরুষালি ঠোঁটে।
আরশিয়ান চমকে উঠে। তৎক্ষনাৎ সরিয়ে না দিয়ে কিঞ্চিৎ সময় নিয়ে দূরে সরে এসে বলে,
–” জেদ করে না ওয়াইফি। এখন উপযুক্ত সময় নয়। একটু সুস্থ হোন আপনি। উই উইল ট্রায় এগেইন।
প্রিমা মানতে নারাজ। বহু কষ্টে দাঁড়িয়ে আছে সে অথচ এই লোক বুঝে না। আরশিয়ানের বাহু খামচে ধরে ছল ছল নয়নে তাকায় প্রিমা। আরশিয়ান ফাঁকা ঢোক গিলে বলে,

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২০

–” ভেবে চিন্তে কাছে আসুন প্রেম। খুব কষ্টে শান্ত হয়েছি আমি। একবার উত্তাল সমুদ্রে ডুব দিলে আর কোনো বাধা নিষেধ মানব না। সভ্যতার খেতাব হারিয়ে চূড়ান্ত অসভ্য হব। আপনাকে কাঁদিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলব। তখন ছটফটিয়ে লাভ হবে না। সবটুকু অত্যাচার সইতে হবে নিরবে।
প্রিমা সায় জানায়। আরশিয়ানের আর কী করার। পুনরায় ডুব দেয় প্রিয়তমার মাঝে। আরশিয়ান শক্ত সামর্থ্যবান পুরুষ। তাকে সামলানো চাট্টিখানি কথা না। প্রিমা হাজার চেষ্টা করেও কান্না আটকাতে ব্যর্থ হয়।
পুরোটা সময় আরশিয়ান ভীষণ হেল্পফুল ছিল৷ ক্ষেত্র বিশেষে রুডও হয়েছে।কখনো প্রিমার কান্নায় গলেছে কখনও আবার কাঁদিয়েছে। এভাবেই পূর্ণতা পেয়েছে তাদের কাছাকাছি আসার অধ্যায়।
এসবের ফাঁকে সময় কই পালিয়েছে তার হদিশ রাখেনি। সবে ঘুমিয়েছিল দু’জন। আচমকা বিকট শব্দে বেজে উঠে ইয়টের সাইরেন । তড়িৎ গতিতে উঠে বসে আরশিয়ান। পরিস্থিতি বুঝে বলে,
–” শিট্।

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২২