শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৩
রুহানিয়া ইমরোজ
লাইফটা ভীষণ আনপ্রেডিক্টেবল। কখন কী হয় বলা কঠিন।যেটা ভাবা হয় সেটা কখনোই হয় না। এটার বেস্ট উদাহরণ মেহরিমা নিজেই। তার বলা কথায় চমকে উঠে উপস্থিত সবাই৷ তাজ নিজেও ভ্রু কুঁচকে তাকায়। প্রিমা হতভম্ব হয়ে বলে,
–” মেহু? কী বলছিস এসব?
মেহরিমা সাড়া দেয় না তার ডাকে ৷ নিথর ভঙ্গিতে বসে থেকে অবিচল কন্ঠে বলে,
–” আমি সাবালিকা এবং বিয়েটা আমার ইচ্ছেতেই হয়েছে। ছেড়ে দিন উনাকে…
ভীষণ পরিমিত শব্দচয়ন তবে উপস্থিত প্রত্যেকে হতভম্ব হয়ে যায়। প্রিমা তার ঝাঁকিয়ে বিস্মিত কন্ঠে বলে,
–” মাথা ঠিক আছে তোর? কী বলছিস এসব? ওই বেয়াদবটা ফোর্স করেছে তোকে? বল আমায়…
অপ্রকৃতস্থের মতো আচরণ করছে প্রিমা অথচ মেহুর কোনো হেলদোল নেই। সে নির্বিকার ৷ ওদিকে তাজ চোখমুখ কুঁচকে চেয়ে আছে সবার দিকে৷ একেই মাথায় বিষের মতো যন্ত্রণা হচ্ছে, দ্বিতীয় ঘুম পাচ্ছে, তৃতীয়ত এদের নাটক দেখতে হচ্ছে।
বিয়েই তো হয়েছে। এতে এত ন্যাকামির কী আছে? তার মতো শক্ত, সামর্থ্যবান, অর্থবিত্ত পুরুষলোক আর একটাও পাবে? এসবে বিশেষ ভাবাবেগ নেই তাজের। বিয়ে যেহেতু হয়ে গেছে সুতরাং ওই ছানার মিষ্টি তারই। আর রইল কথা আরশিয়ানের? একবার ইমোশন্যালি ব্ল্যাকমেইল করলে তার ভাই এমনিতেই আগের মতো হয়ে যাবে।
শুরুতে মেজাজ হারালেও সময়ের সাথে নিজেকে সামলে নেয় আরশিয়ান। মেহুকে ওমন থম মেরে বসে থাকতে দেখে ধীর পায়ে এগিয়ে আসে। কোনোরূপ ভনিতা না করে সরাসরি হাত রাখে মেহুর মাথায়। মেয়েটা চমকে উঠে চোখ তুলে তাকায়। আরশিয়ান নরম গলায় বলে,
–” তুমি কী ওকে ভয় পাচ্ছো বাচ্চা? বাধ্য হয়ে বলছো এসব? নিশ্চিন্তে জবাব দাও। কিচ্ছু হবে না তোমার। আমি আছি তো..
মেহরিমার ঠোঁট কাঁপে। প্রকাশ করতে না পারা যন্ত্রণা গুলো দলা পাকিয়ে যায় কিন্তু একটা শব্দও বেরোয় না। শানের চোখে ধরা পড়ে ঠিকই কিন্তু তার দরকার মৌখিক স্বীকারোক্তি। সবাইকে হতাশ করে দিয়ে মেহরিমা বলে,
–” আমি সজ্ঞানে এবং সুস্থ মস্তিষ্কে সত্য স্বীকারোক্তি দিয়েছি। কেউ আমাকে বাধ্য করেনি কিংবা ভয় দেখয়নি।
শেষোক্ত কথাটা শুনে সবার বুক চিরে বেরিয়ে আসে লম্বা দীর্ঘশ্বাস। অফিসারেরা দু’কদম পিছিয়ে যায়। তামজিদ হাঁপ ছেড়ে বাঁচে রীতিমতো। তাজরিয়ান বুকের উপর হাত ভাঁজ করে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়ায়।
প্রিমা কান্না ভুলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে চেয়ে রয় স্বীয় বোনের রক্তশূন্য ফ্যাকাসে মুখপানে। মেয়েটা মুখ নামিয়ে ফেলেছে। মাথার আলুথালু চুলগুলো আড়াল করে রেখেছে তার সুশ্রী চেহারা। প্রিমার বিশ্বাস হয় না.. এটা তার মেহু। তার বোন এমন নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষ করা তার বৈশিষ্ট্য নয়। তাহলে.. কী হলো আজ?
সবাই যখন নিজ ভাবনার জগতে ব্যস্ত তখন ভীড় ঠেলে এগিয়ে এলো আবির্ভাব। আরশিয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে ভীষণ নম্র কন্ঠে খানিকটা ইতস্তত করে বলে,
–” উনারা ভুল করে ফেলেছে স্যার। এখন মাথা গরম করে কী হবে বলুন? তার চেয়ে বরং মেনে নিন। চৌধুরী বাড়ির একটা রেপুটেশন আছে..
আরশিয়ান রক্তিম চোখে চায় একবার অতঃপর কারও তোয়াক্কা না করে প্রিমার হাত চেপে ধরে হনহনিয়ে বেরিয়ে যায় ওখান থেকে। তাজরিয়ান একবার চোখ উঁচিয়ে দেখে অতঃপর হামি তুলে অস্পষ্ট গলায় বলে,
–” গেট আপ বউ। ইয়্যোর শ্বশুরবাড়ি ইজ কলিং ইয়্যু…
অতঃপর সবাই রওনা দিল ঢাকার উদ্দেশ্যে। শান আর প্রিমা গেল এক গাড়িতে। তাজ আর মেহু গেল অন্যটায়। বিয়ে করে বেশ লাভবান হয়েছে তাজ। বউয়ের আদলে একটা বালিশ পেয়ে শ্রীমঙ্গল টু ঢাকা তার কোলে ঘুমিয়েই এসেছে।
সবে সূর্য ডুবেছে অন্তিমে। রক্তিম কমলাটে আভায় ছেয়ে আছে পুরো আকাশ। সেই অসীম সুন্দর দৃশ্যের পানে চেয়ে কারও স্মৃতিচারণে ব্যস্ত ইশতিরাজ। সেই চেনা পরিচিত মুখশ্রী, তার বাচ্চামি, আদুরে আহ্লাদ, অযাচিত বায়না আর পরিশেষে সেই রক্তে ভেজা চিরকুট…
চাইয়া দেইখো না। আমার নিষ্প্রাণ চেহারায় লেপ্টে থাকা অভিমান সইবার ক্ষমতা নাই তোমার। চোখের দিকে ভুইলাইও তাকাইবা না… অনিশ্চিত অপেক্ষায় নির্ঘুম রাইত কাটাইবার ব্যপারটা টের পাইলে কষ্ট হইবো তোমার। শুনো? এমনেই বহুত কষ্টে ঘুমাইছি আমি। মরণ যন্ত্রণা পোহাইতে আর পিছু ডাইকো না।
[ চমৎকার না নোটটা? গল্পে ব্যবহৃত হলেও এটার গল্পটা বাস্তবিক। কেউ একজন তার পাষাণ পুরুষের জন্য লিখেছিল।]
একেকটা লাইনের ছুরিকাঘাতে পুনরায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেল ইশতিরাজের হৃদয়। চোখ দুটো ভরে উঠল বেদনার অশ্রুতে। নিজের প্রতি বাড়ল অপরিসীম ঘৃণা। দীর্ঘশ্বাস ফেলে আনমনে আওড়াল,
–” একটা সুযোগ দিলে খুব বেশি ক্ষতি হতো গুল?
ফিরতি উত্তর এল না। ইশতিরাজ চোখ বুঁজে লম্বা শ্বাস টানল। বিষন্ন গলায় গাইতে শুরু করল,
–” গুমনামি ইচ্ছের মতো,
বাসালি ভালো না কত!
ভালোবাসা দিচ্ছে দোহাই,
আমাকে রোজ অবিরত।
গানের গলা চমৎকার ওর। ইচ্ছে ছিল বড় সিঙ্গার হওয়ার৷ সেই যাত্রাপথে হেঁটেছিল তবে সুনাম অর্জন করার আগেই শেষ হয়ে যায় সবকিছু। তছনছ হয়ে যায় তার গোটা জীবন৷ ইশতিরাজ ঘৃণা করতে শুরু করে নিজের প্যাশনকে।
অতীতে ডুবেছিল ইশতিরাজ। গাড়ির হর্নের শব্দে ধ্যান ফিরে তার। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকায় বাড়ির পার্কিং এরিয়ায় ঘটে চলা সম্পূর্ণ ঘটনা দেখে। সাথে সাথেই চোখ কপালে উঠল তার। আরশিয়ান ক্ষুব্ধ মেজাজে প্রিমার হাত ধরে সদর দরজার দিকে আসছে।
তাদের পেছনে লাল আনার্কলি পরিহিত মেহুকে কোলে তুলে শিষ বাজাতে বাজাতে এগিয়ে আসছে তাজরিয়ান। ঘটনা কী ঘটেছে বুঝতে একটু সময় লাগলো তার। বোঝা মাত্রই ” শিট্ ” বলে দৌড়ে নিচের দিকে নামতে লাগল।
চৌধুরী বাড়ির একমাত্র কর্ত্রী আফিয়া চৌধুরী। দুই ছেলে আর এক সাইকো নিয়ে তার সংসার। মহিলা সহজ সরল হলেও চমৎকার ব্যক্তিত্বের মানুষ। তবে তার অভিমান ভীষণ কঠিন। সহজে সবাইকে আপন করে নিলেও, আপনজনের গুরতর অন্যায় সহজে ক্ষমা করতে পারেন না।
সুবিশাল লিভিং রুমে বসে সন্ধ্যার নাস্তা করছিলেন। ওমন সময় দরজার চৌকাঠে এসে দাঁড়াল তার ছোট পুত্র আরশিয়ান ইসফার চৌধুরী। সর্বদা শান্ত থাকা ছেলেটা আজ ক্রোধে ফুঁসছে। সুশ্রী চোখমুখের দশা বেহাল। তার পাশে নতজানু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক মায়াবতী। মেয়েটাকে চিনেন তিনি৷ যতদূর জানেন তারই পুত্রবধূ এটা।
ঘটনা কী ঘটেছে জানা নেই তবে ছেলে বউ নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ভেবে আনন্দে ছেয়ে যায় তার মন। কিশোরীর ন্যায় খুশিতে বাকবাকুম হয়ে উঠে এসে জোর গলায় বলেন,
–” ওখানেই দাঁড়া আশু। নতুন বউ নিয়ে এসেছিস। মিষ্টিমুখ করে তবেই ভেতরে আসার অনুমতি পাবি…
বলেই হাঁক ছাড়লেন মেইডদের উদ্দেশ্যে। আরশিয়ান বাধ্য সন্তানের মতো দাঁড়িয়ে রইল। প্রিমাও বিস্মিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কী বলবে বুঝছে না। ওদিকে তাজও ততক্ষণে নিজের সম্পত্তি নিয়ে হাজির হয়েছে দোরগোড়ায়।
দরজার সামনে আসতেই ধপ করে নামিয়ে দেয় মেহরিমাকে। এরপর জোর করে তার হাত ধরে ফিসফিসিয়ে বলে,
–” আমার পরিবারের সামনে নাটক করতে হবে না৷ ওরা আপাদমস্তক চেনে আমায়। তুমি হাজার বলে কয়েও আমায় ফেরেশতা সাজাইতে পারবা না।
প্রত্যুত্তরে কিছু বলল না মেহরিমা। সটান হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। পা ভেঙে আসছে যদিও। ওমন একটা চালের বস্তাকে ছয় ঘন্টা কোলের উপর রাখা কী চাট্টিখানি কথা? এজন্যই তো গাড়ি থেকে নেমে তাকে কোলে তুলেছিল তাজরিয়ান। বিরক্তির স্বরে বলেছিল,
–” নিজেকে নায়িকা ভেবে আকাশে উইড়ো না। ঋণ শোধ করলাম। নাহলে তো পরজন্মে আমার নেকি ধইরা টান মারবা।
এই স্টেটমেন্টের বিপরীতে মেহরিমা তাচ্ছিল্য নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল,
–” পাপিষ্ঠ পুরুষের হিসেবের খাতায় নেকিও থাকে?
প্রশ্নটা শুনে তাজরিয়ান তাকিয়েছিল কয়েকপল। অতঃপর তাকে হাওয়াতে উঁচিয়ে আবার ক্যাচ ধরে বলেছিল,
–” তোমার মতো অসহনীয় রমনীকে বিয়ে করার দায়ে দু’চারটে পেতেও পারি। হু নৌজ?
উত্তর দিতে পারেনি মেহরিমা। লোকটার সাথে কথায় পারা যায় না। অতীতে ডুবে থাকা মেহুর হুঁশ ফিরে গম্ভীর পুরুষালি কন্ঠের তীক্ষ্ণ প্রশ্নে,
–” এই তুই ওর হাত ধরেছিস কেনো? দূরে সর…
প্রশ্নটা শুনে উপস্থিত সকলে সামনে তাকায়। মানুষটা আর কেউ নয় বরং ইশতিরাজই। আফিয়া চৌধুরী ব্যস্ত ছিলের পুত্রবধূর বরণের থালা সাজাতে। বড় ছেলের কথায় তিনিও ফিরে চাইলেন ওদের পানে। প্রশ্নাত্মক চোখে তাকাতেই তাজরিয়ান মাথা চুলকে উত্তর দিল,
–” ইয়ে মানে ওইটা আমার হালাল মুরগী। ধরলে, ছুঁইলে, পাপ নাই কারণ মালিকানা আমারই৷
কথাটা বলা শেষ হতেই ইশতিরাজ আর আরশিয়ান ধমকে ওঠে। প্রিমা দাঁতে দাঁত পিষে মেজাজ সামলায় মেহরিমা ঠাস করে পাড়া দেয় তার পায়ে। রাজ ওসব এর তোয়াক্কা না করে প্রশ্নাত্নক কন্ঠে বলে,
–” মানে?
দুনিয়ার সামনে বাঘ হইলেও আফিয়া চৌধুরীর কাছে ভিজে বেড়াল তাজরিয়ান। তাই একটু রয়েসয়ে ভদ্র ভাবে জবাব দিল,
–” গতকাল বিয়ে করেছি আমরা। ওই তুলার বস্তাটা আমার বউ। তুমি একা ফিল করো তাই একটা পুতুল এনে দিলাম।
এটা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না আফিয়া চৌধুরী। এমনকি ইশতিরাজ নিজেও হকচকিয়ে উঠে বলল,
–” কি?
তাজরিয়ান বুঝল না, কী সমস্যা এদের? তার বিয়ের কথা শুনেই আঁতকে উঠছে কেনো সবাই? এত এত কাহিনী ভাল্লাগলো না তার। চিড়চিড়ে মেজাজটা ফিরতে লাগলো।
আফিয়া চৌধুরী সব ফেলে চেয়ে রইলেন মেহরিমার অন্ধকারাচ্ছন্ন মুখটার দিকে। বুকের ভেতর বড়সড় একটা ঝড় বয়ে গেল। এই যেন ঠিক সেই পঁয়ত্রিশ বছর আগের দৃশ্যপট।
ঠিক এমন ভাবেই তাকে-ও আরিয়ান ইয়াসার চৌধুরী নামক পাপিষ্ঠ পুরুষের বউ সাজতে হয়েছিল। বাধ্য করা হয়েছিল তাকে বিয়ে করতে। বলা হয়েছিল, “কবুল না বললে রক্তারক্তি কান্ড ঘটিয়ে ফেলব। ”
হয়েছিল তাই। আফিয়া চৌধুরীকে দেখতে আসা পাত্র, ঘটক এমনকি ছেলের বাবাকে ডিরেক্ট শ্যুট করে মেরে ফেলেছিল লোকটা।
জোরপূর্বক বিয়ে অতঃপর জবরদস্তির সংসার। কত শত ওয়াদা দিয়েছিল লোকটা। কিন্তু সব কিছুই ছিল মিথ্যে মায়াজাল। অসম্ভব সুন্দর আর অতি ভয়ংকর লোকটা বহুগামী ছিল। নিত্য নতুন নারীর সুবাসিত দেহে মেতে থাকার নেশা ছিল তার৷
জানা মাত্রই এক নিমেষে শেষ হয়ে যায় সব। গ্রিক গডের মতো সুর্দর্শন পুরুষের সাথে কাটানো স্মৃতি গুলো কুৎসিত কদাকার বলে আখ্যা পায়।
আফিয়া চৌধুরী মুক্তি চেয়েছিলেন কিন্তু সে দিতে নারাজ ছিল। কারও কাছে হার না মানা লোকটা তার পায়ে পড়েও মাফ চেয়েছিল কিন্তু আফিয়া চৌধুরীর মন গলেনি। ভয়ংকর শর্ত দিয়ে শত শত মাইল দূরে সরিয়ে রেখেছেন তাকে।
তাজ আর মেহুর মাঝেও সেই একই বৈশিষ্ট্য খুঁজে পেলেন তিনি। কানে কানে কেউ বলল, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে। ব্যস…মুহূর্তের মধ্যে ঘেমে উঠলেন তিনি। থরথর করে কাঁপতে লাগলো শরীর৷ প্রেসার বাড়ল তরতরিয়ে। তৎক্ষনাৎ জ্ঞান হারালেন তিনি।
শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২২
তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল ইশতিরাজ। মা’কে ওভাবে পড়ে যেতে দেখে হাত বাড়িয়ে ধরে ফেলে সে। সাথে সাথে ছুটে আসে আরশিয়ান। প্রিমা, মেহু তাজও আসে। ইশতিরাজ তাকে সোফায় শুইয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনতে যায়।
আরশিয়ান সমানে ডাকতে থাকে আফিয়া চৌধুরীকে। প্রিমা আর মেহু মিলে তার পা ঘষতে থাকে। তাজরিয়ান একটা হাত ধরতে গেলে শান সরিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলে,
–” ডোন্ট টাচ্ মাই মম। বউ নিয়ে নিজের ঘরে যাও৷ আমরা কেউই তোমাদের চেহারা দেখতে ইচ্ছুক নই। প্লিজ লিভ আস…
