Home শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৪

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৪

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৪
রুহানিয়া ইমরোজ

খোলা ট্যারেসে দাঁড়িয়ে স্মোকিং করছে তাজরিয়ান। কপালে ভাঁজ ফেলে চেয়ে আছে শূন্যে। মনটা বড্ড অস্থির। আরশিয়ানের বলা ওই কথাগুলো হজমই হচ্ছে না তার৷
ওসব শুনে আর দাঁড়াতে পারেনি তাজ। মেহুকে টেনে নিজ ঘরে এসেছিল। ঘরে ঢুকেও কোনোমতে শান্ত হতে পারছিল না বিধায় মেহুকে ফেলে সিগারেটের প্যাকেট হাতে ট্যারেসে এসে দাঁড়িয়েছে। অনেক্ক্ষণ ধরে একটা কথাই ভাবছে তাজরিয়ান।

এত কিসের রাগ আরশিয়ানের? এত ক্ষোভের কারণ কী? অতীতে কত কথা অমান্য করেছে কই তখন তো কিছু বলেনি। তাহলে আজ এত কঠিন শাসনের মানে কী? তার বউয়ের বোনকে বিয়ে করেছে বলে এত সমস্যা? ভাইয়ের থেকে এখন বউ বড় হয়ে গেছে?
অযাচিত চিন্তার ফলে প্রচুর মেজাজ গরম হচ্ছে তার। মন চাচ্ছে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিতে। সেই চিরাচরিত ডেভিল রুপটা ফিরতে চাইছে নতুন করে।
ভাবনায় ব্যস্ত তাজরিয়ান টের পায় কেউ একজন এসে দাঁড়িয়েছে তার পাশে। প্রচন্ড বিতৃষ্ণা নিয়ে পাশে তাকাতেই দেখে বান্দা আর কেউ না বরং ইশতিরাজ। ভাইকে দেখে পিটপিটিয়ে চেয়ে রাগত স্বরে বলে,

–” পর মানুষদের দরকার নেই আমার। তাজরিয়ান একাই একশো।
ছোটো ভাইয়ের বাচ্চামিতে হেসে ফেলল ইশতিরাজ৷ কয়েক কদম এগিয়ে এসে তাজরিয়ানের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বলল,
–” বাট উই নিড ইয়্যু তাজ৷
তাজরিয়ান একটুও বিশ্বাস করলো না সেই কথা। মুখ ঘুরিয়ে আরেকটা টান দিল সিগারেটে। রাজ বুঝলো পাগলা হাতি ভালোই খেপেছে। তাই ওকে নরমাল করতে বলল,
–” দোষ করলে শাস্তি পেতে হয়। এটা চিরাচরিত নিয়ম। তোর অন্যায়টা কিন্তু ছোটোখাটো নয়। আর..
ইশতিরাজের কথার ফাঁকে তাজরিয়ান জেদি গলায় বলে উঠল,
–” আমি নির্দোষ ভাইয়া। শুরুটা মেহরিমা করেছিল।
ইশতিরাজ বুঝল এই ব্যাটা সোজা কথার মানুষ না৷ লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শান্ত গলায় বলল,
–” তুই সেখানেই শেষ করতে পারতি ব্যপারটা।
তাজরিয়ান অধৈর্য হয়ে জাবাব দিল,

–” মেয়েটা প্রতিনিয়ত আমাকে অপদস্ত করেছে। ওই প্রথমে চড় মেরেছে বিনিময়ে আমি চুমু খেয়েছি। ও বিনা দোষে মাফ চাইয়েছে, আমি ভুল করে সেটাকে সমান সমান করে দিয়েছি। এখানে আমার কী দোষ?
ইশতিরাজের মনে হলো সে পাগল হয়ে যাবে। এসব কেমন ধারার লজিক? নিজেকে শান্ত রেখে তাজের চোখে চোখ রেখে বোঝানোর স্বরে বলল,
–” নারী-রা কোমলপ্রাণ। ওদের সম্মানে আঘাত করা কোনো বীরত্বের কাজ নয়। তাছাড়াও অনুমতি ব্যতীত একজন নারী কে ছোঁয়ার কোনো অধিকার নেই তোর।
তাজরিয়ান ত্যাড়া গলায় বলে,
–” কেনো নেই?
ইশতিরাজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুধাল,
–” ওজু ছাড়া কুরআনে হাত রাখার বিধান আছে?
তাজরিয়ান কপাল কুঁচকে বলে,
–” না।
ইশতিরাজ বিগলিত হেসে জবাব দেয়,

–” একই ভাবে নিকাহ্ ছাড়া নারীকে স্পর্শ করারও বিধান নেই।
প্রত্যুত্তরে তাজরিয়ান চুপসে গেল। বলার মতো কিছু পেল না। ইশতিরাজ তার হাবভাব বুঝে বলা শুরু করল,
–” নারী এবং পুরুষ এক নয়। সমাজের..
তাজরিয়ান ঘোর বিরোধিতা করে বলল,
–” এক নয় কীভাবে? শরীরী অবকাঠামো ব্যতীত আর তো কোনো পার্থক্য দেখি না আমি।
ইশতিরাজ স্মিত হেসে বলল,
–” সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো অবস্থান। প্রত্যেকটা ধর্মে নারীদের সম্মানিত সত্তা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাদের সাথে নগন্য পুরুষদের তুলনা করাটা বেমানান।
তাজরিয়ান চোখমুখ কুঁচকে বলল,
–” তুমি কী বলতে চাচ্ছো? ওরা প্রিশিয়াস আর আমরা তাদের স্লেভ?
ইশতিরাজ দু’পাশে মাথা নাড়িয়ে বলল,

–” মোটেও না৷ তাদের অর্ধাঙ্গ আমরা। আমাদের অপমান করলে তারা নিজেরাই অসম্মানিত হবে৷
তাজরিয়ানের মাথা গুলিয়ে গেল। এই প্রসঙ্গে আর কথা বাড়াতে চাইল না। জেদ দেখিয়ে বলল,
–” টিট ফর ট্যাট প্রবাদে বিশ্বাসী আমি। ও আমার ক্ষতি করেছে বিধায় আমিও ওকে অক্ষত ছাড়িনি।
প্রচন্ড রমের প্রতিশোধস্পৃহ পার্সোনালিটি তাজের। এসব মানুষ সহজে নিজের ভুল মানতে চায় না৷ বাধ্য হয়ে ইশতিরাজ নিজেই থামাল টপিকটা। মেহরিমার প্রসঙ্গ ছেড়ে আরশিয়ানের বিষয়ে বলল,
–” আশু ভীষণ আঘাত পেয়েছে তোর কাজে। ওকে একটু সামলে উঠতে সময় দে। দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে..
তাজরিয়ান খেঁকিয়ে উঠে বলল,
–” পাপী হয়ে পুণ্যের কাজ করাটা অন্যায় হয়ে গেছে? নাকি এত ভদ্র সভ্য বউ পেয়েছি দেখে দুঃখের সাগরে ভাসছে তোমার ভাই?
ইশতিরাজ কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করল। নিজের জন্যই দুঃখ লাগছে তার। এ কোন পাগলা গারদে এসে পড়ল? ভাইকে চুপ করে যেতে দেখে তাজ খুঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল,

–” কী হলো? উত্তর দাও।
ইশতিরাজ পাল্টা প্রশ্ন করল,
–” আশু দুঃখের সাগরে ভাসবে কেনো?
তাজরিয়ান তড়িৎ গতিতে জবাব দিল,
–” কারণ তার বউ একটা আস্ত জল্লাদ।
ইশতিরাজ ফিক করে হেসে দিল। মানুষ ভাইকে নিয়েও এমন জেলাস হয়? তাজরিয়ান বিরক্তির চোখে চেয়ে থেকে অস্থির গলায় বলল,
–” যেভাবেই হোক সব এলোমেলো হয়ে গেছে ভাইয়া। এখন কীভাবে ঠিক করব সেসব ?
ইশতিরাজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
–” মেহরিমাকে একটা নরমাল লাইফ দে। দেখবি সবাই আস্তে-ধীরে কনভিন্স হয়ে যাচ্ছে।
তাজরিয়ান নাকমুখ কুঁচকে বলল,
–” অত আদিখ্যেতা দেখাতে পারব না। যে যেমন তার সাথে তেমন আমি।
ইশতিরাজ কাটকাট গলায় বলল,
–” সংসার মানে এডজাস্টমেন্ট। কখনও তোর ভুল থাকবে কখনো ওর। মানিয়ে গুছিয়ে চলতে না জানলে সংসার টিকবে না।
তাজরিয়ান হামি তুলে বলল,

–” করলাম না সংসার। সম্পর্কটার নাম সমঝোতা দিলে মন্দ হয় না। সাম্রাজ্য আমার.. আদেশ পালন করার দায়িত্ব তার। ব্যস..আর কী লাগে সুখী হতে?
ইশতিরাজ হতাশ চোখে চেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
–” জেদের বসে জীবনটা শেষ করে দিস না। মেয়েটা যথেষ্ট ভালো। একটাবার চেষ্টা করে দেখ..
তাজরিয়ান তাচ্ছিল্য হেসে বলল,
–” ভালো? তাও আবার নারী জাতি? চরম মিথ্যে ইহা! ওরা স্বার্থ বুঝে সততা দেখায়। বেটার সুযোগ পেলে আসল রঙ বেরিয়ে আসে৷
প্রত্যুত্তরে কিছু বলল না ইশতিরাজ।এমনিতেই গভীর ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে ছেলেটা। যুক্তির আদলে ক্ষত বিক্ষত করতে চাইল না আর। স্মিত হেসে বলল,
–” তোর মনোভাব পাল্টাতে হবে না। তবে ওকে জাজ করার বেলায় নিরপেক্ষ থাকিস। আমার বিশ্বাস তুই মেহরিমাকে নিয়ে সুখী হবি।
তাজরিয়ান তাচ্ছিল্য হেসে বলল,

–” বদ দোয়া দিচ্ছ?
ইশতিরাজ নির্বিকার গলায় বলল,
–” তাতে যদি ভালো থাকিস তবে তাই সই।
তাজরিয়ান প্রত্যুত্তর করল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল দুই ভাই। শীতের কনকনে হাওয়া অনুভব করতে লাগল নীরবে। প্রায় ঘন্টাখানেক পর তাজ বলল,
–” যদি ওই ছানার মিষ্টিকে একটু আধটু ভালো রাখার চেষ্টা করি তাহলে তোমারা আমাকে মাফ করবা?
ইশতিরাজের ভীষণ হাসি পেল তবে সেটা চাপিয়ে রেখে শান্ত গলায় বলল,
–” অবশ্যই।
তাজরিয়ান চট করে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কটমটিয়ে বলল,
–” ঠিকাছে। ডিল ডান।
বলেই হনহনিয়ে হেঁটে চলে যায় নিজের ঘরের দিকে। ইশতিরাজ শব্দ করে করে হেসে ফেলে। যাক আসল কাজটা অন্তত হয়েছে। তাজরিয়ান ব্যাটা অওকাদের ভেতর থাকবে এখন। মেহরিমাও একটু সময় পেয়ে যাবে নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করার।

ঘড়ির কাঁটায় যখন বারোটা চল্লিশ তখন ঘরে ঢোকে তাজ। আশপাশে নজর ঘুরিয়ে মেহরিমাকে না পেয়ে ভ্রু কুঁচকে আসে তার। বেলকনিতে গিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে সেটাও ফাঁকা। এবার তাজরিয়ান আশ্চর্য হয়ে আওড়ায়, “ গেল কই মেয়েটা? ” চিন্তিত হয়ে বাইরে বেরোবে ওমন সময় হুট করে ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দ হয়৷ শব্দ শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই বিস্মিত হয়ে যায় তাজরিয়ান।
ওই মিনি সাইজের মুরগীর ছানাকে তার ব্যাগি টি- শার্টে আর ট্রাউজারে দেখে চোখ কপালে উঠে তার।সবচেয়ে বেশি অবাক হয় গলায় ঝোলানো টাওয়েল দেখে। কী আশ্চর্য! আসতে না আসতেই সবকিছুর উপর দখলদারিত্ব শুরু করে দিয়েছে?
ভাবতে ভাবতেই কটমটিয়ে উঠে তাজরিয়ান। নিজের জিনিস শেয়ার করা একদমই পছন্দ নয় তার। ঝাড়া কদমে মেহরিমার কাছে এসে টাওয়েল ধরে টান দেয়। মেহরিমা আঁতকে উঠে বলে,

–” এ্যাঁই..কী করছেন?
তাজরিয়ান মেজাজী গলায় জবাব দেয়,
–” নিজের জিনিস ফেরত নিচ্ছি।
টাওয়েলটা নিজের দিকে টেনে মেহরিমা পাল্টা উত্তর দেয়,
–” আমি আপনার জিনিস কেড়ে নিইনি অসভ্য লোক। পরার মতো কিছু নেই বলে ধার নিয়েছি। কাল ফিরিয়ে… আআআআ
কথা শেষ হওয়ার আগে জোরালো টান মারে তাজ৷ টাওয়েল খুলে চলে আসে তার হাতে আর মেহরিমা এসে ধাক্কা খায় তার বুকে। ঘটনাক্রমে দুজনেই স্তব্ধ হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ড ওভাবে থেকে মেহরিমা ছিটকে সরে এসে দু-হাতে আড়াল করে নিজেকে।
তাজরিয়ান টাওয়েল হাতে চেয়ে রয় মেহরিমার পানে। ঘটনা বুঝতে সময় লাগেনি তার তবে অতিশয় নরম কিছুর স্পর্শে ব্ল্যাক আউট হয়ে গেছে মস্তিষ্ক। পরিস্থিতি তার অজানা নয় তবে কেনো যেন ভদ্র হতে পারল না তাজ। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,
–” মেয়েলি কাপড়চোপড় নেই এখানে। কাল সকালে পাওয়া যাবে ওসব। তবে সকাল অব্দিই কাপড় ধার দিতে নারাজ আমি। ফেরত দাও আমার জিনিস..
মেহরিমা চমকে উঠে বলল,

–” অসম্ভব..
তাজরিয়ান বেহায়া নজরে মেহরিমার আপাদমস্তক দেখে বলল,
–” সেটা আমার দেখার বিষয় নয়।
মেহরিমা লজ্জায় মাটির সাথে মিশে গিয়ে বলল,
–” কেনো এমন করছেন? এসব ফেরত দিলে কী পরব আমি?
তাজরিয়ান ফাঁকা ঢোক গিলে তার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলে,
–” সুঠাম দেহী জামাই থাকতে আলাদা পরিচ্ছদের কী দরকার?
মেহরিমা চোখ বড় বড় করে চায়। তাজরিয়ান এসে আঁটকে ফেলে তাকে দেয়ালের সাথে। নেশালো দৃষ্টি তে পরখ করে বলে,
–” ওই নরম স্পর্শটা চায় আমার। আরও কাছ থেকে, গভীর ভাবে, পুঙ্খানুপুঙ্খ রুপে।
ওমন নির্লজ্জ বায়না শুনে হতবুদ্ধি হয়ে যায় মেহু। লোকটার ইঙ্গিত বুঝতে অসুবিধে হয়নি তার তবে এটা অসম্ভব। তার ভাবনার মাঝেই একটা উষ্ণ হাত তার হাত স্পর্শ করে। মেহরিমা দু’হাতে নিজেকে আরেকটুখানি আড়াল করে নিয়ে ধীর কন্ঠে বলে,

–” অসুস্থ আমি।
কথাটার মানে বোঝেনি তাজ। ভেবেছে হয়তো মিছে অযুহাত দিচ্ছে মেয়েটা। তাই জোর খাটিয়ে হাত দু’টো সরাতে সরাতে মোহাবিষ্ট গলায় বলে,
–” নো মার্সি.. ( কোনো ছাড় নেই)

মেহরিমার দু’টো হাত এক সাথে হাতের মুঠোয় বন্দী করে নিয়ে দেওয়ালের সাথে আঁটকে ফেলে। অন্য হাতে তার গলা চেপে ধরে চুম্বনে লিপ্ত হয়। পুরুষালি স্পর্শ কতটা গভীর হতে পারে সেটা হাড়ে হাড়ে টেয় পায় মেহরিমা।
মিনিট কয়েক পরে আপনা-আপনি সরে আসে তাজ। মেহরিমার টিশার্ট ধরে টানাটানি শুরু করলে তার বাহুতে জোরে শোরে কামড় বসায় মেহরিমা। তাজরিয়ান আর্তনাদ করে ওঠে। মেহরিমার হাত ছেড়ে নিজের বাহু ধরে।
ছাড়া পেয়ে ধপ করে ফ্লোরে বসে মেহরিমা। দু’হাতে পেট চেপে ধরে চোখমুখ খিঁচিয়ে বলে,

–” আম অন মাই পিরিয়ড।
তাজরিয়ান তখন কিছু বোঝার মতো অবস্থায় নেই। রাগী দাউদাউ করে জ্বলছে মস্তিষ্ক। মাথায় ঘুরছে একটাই কথা, মেহরিমা ওকে রিজেক্ট করেছে। ওর অহমিকায় আঘাত হানলো বিষয়টা। ফোঁস ফোঁস করতে করতে বলল,
–” লাস্যময়ি রুপে আমার সামনে আসলে খুন করে ফেলব একদম।
বলেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায় তাজরিয়ান। শব্দ করে লাগিয়ে যায় দরজা৷ মেহরিমা কেঁপে উঠে সেই শব্দে। অন্যদিকে তীব্র ব্যথায় কঁকিয়ে উঠে। উপয়ান্তর না পেয়ে কুন্ডলী পাকিয়ে ফ্লোরেই শুয়ে পড়ে। শরীরের যন্ত্রণা আর মানসিক অবসাদের ফলে চোখের কার্ণিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে উষ্ণ পানি।

পরিস্থিতি মানুষকে বদলে দেয়। কথাটার সত্যতা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে প্রিমা। বাড়ির বউ তকমাটা পাওয়ার পর এক ঝটকায় পাল্টে গেছে সবকিছু।
সন্ধ্যায় আফিয়া চৌধুরী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর পুরো সময়টা তার কাছেই কাটাতে হয়েছে প্রিমাকে। বসে থাকতে থাকতে কবে ঘুমিয়েছে কে জানে? ঘুম থেকে উঠে দেখে আফিয়া চৌধুরী বালিশের সাথে হেলান দিয়ে বসে বসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
আকস্মিক পাওয়া মাতৃস্নেহটা হজম হয় না প্রিমার। চকিতে উঠে বসে সে। আফিয়া চৌধুরী ধীর গলায় বলেন,
–” ব্যস্ত হতে হবে না মা। মন চাইলে আরেকটু ঘুমাও। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিই..
প্রিমা আমতা আমতা করে বলে,
–” ক্লান্তি কেটে গেছে। ঘুম আসবে না আর..
আফিয়া চৌধুরী মিষ্টি হেসে বলেন,
–” বুঝলাম। খেয়েছ কিছু?
কথাটা শুনে পেট গুড়গুড় করে ওঠে প্রিমার। সেই দুপুরে জোর করে দু’টো সিদ্ধ ডিম খাইয়েছিল শান এরপর আর কিছু খাওয়া হয়নি। তাই সে মাথা নেড়ে বলল,

–” না।
আফিয়া চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
–” ভয় পেয়ো না মা। আমি আর যাই হই শাশুড়ি হিসেবে দজ্জাল হব না। তুমি সময় নিয়ে পরখ করে দেখতে পারো। তবে এখন তোমার উচিত উঠে একটু ফ্রেস হয়ে নিয়ে, খাওয়া দাওয়া করা।
প্রিমা অস্বস্তি নিয়ে বলল,
–” জ্বি কিন্তু কাপড়চোপড়…
বলেই থেমে গেল প্রিমা। প্রয়োজনীয় জিনিস চাইতে লজ্জা লাগছে তার। আফিয়া চৌধুরী হেসে বললেন,
–” এ বাসায় আমি ব্যতীত কোনো নারী নেই। তাই আজকের জন্য আমার শাড়িই তোমার সম্বল। তুমি কী পরবে সেটা?
উপয়ান্তর না পেয়ে রাজি হলো প্রিমা। আফিয়া চৌধুরী বেড থেকে নেমে নতুন শাড়ির কালেকশন থেকে যুতসই শাড়ি খুঁজতে লাগলেন। প্রিমা পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও তার দৃষ্টি এলোমেলো। ইতিউতি চেয়ে খুঁজছে কাউকে। আফিয়া চৌধুরী বোধহয় ধরতে পারলেন ব্যপারটা তাই প্রিমার উদ্দেশ্যে বললেন,
–” কাকে খুঁজছ মা?
প্রিমা মিনমিনে কন্ঠ বলল,
–” আমার বোন আর..
বাকিটা বলতে পারল না। আফিয়া চৌধুরী নিজেই বুঝে নিলেন। প্রিমাকে চিন্তামুক্ত করতে বলে উঠলেন,
–” তাজের ঘরে আছে তোমার বোন। চিন্তা করো না। কোনো সমস্যা হবে না ওর। এ সময়ে তোমার যাওয়াটা তাজরিয়ান পছন্দ করবে না। ওকে রাগিয়ে লাভ নেই। সকালে আমি কথা বলব তার সাথে।
প্রিমা চিন্তিত কন্ঠে বলল,

–” ওর যদি কিছু দরকার হয়..
আফিয়া চৌধুরী বুঝলেন প্রিমার চিন্তা তাই ধীর গলায় বললেন,
–” যাবতীয় জরুরি জিনিসপত্র ওদের ঘরের বাইরে রেখে আসা হয়েছে। দরকার পড়লে ওরাই নিয়ে নিবে।
প্রিমা হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। হালকা মিষ্টি কালারের সুতি শাড়ি বের করে প্রিমার হাতে দিয়ে আফিয়া চৌধুরী বললেন,
–” সবার উপরে আরও একটা মানুষ আছে। সম্ভব হলে ওর জন্য একটু চিন্তা কোরো। ছেলেটা আমার ভীষণ চাপা স্বভাবের। সহজে প্রকাশ করতে পারে না। যদি পারো তবে ওর চোখের শান্তি আর মনের সুখ হওয়ার চেষ্টা কোরো। আমি লিখিত দিতে পারি, ঠকবে না তুমি।
প্রিমা নিশ্চুপ ভঙ্গিতে শোনে সবটা। আফিয়া চৌধুরী পুনরায় বলেন,
–” তাজরিয়ান ওর কলিজা। তুমি যেমন তোমার বোনকে ভালোবাসো আশুও তাই। ছোট্ট থেকে নিজ হাতে বড় করেছে ওকে। তাই ওর দেওয়া আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে। যদি সম্ভব হয় তাহলে ওর দুঃখটাও বুঝে দেখার চেষ্টা কইরো। সেটা না পরলে অন্তত ওকে সামলে ওঠার সময়টুকু দিয়ো। তোমার বোনের সাথে অন্যায় হতে দিবে না আশু।
প্রিমা নিরবে শুনলো সবটা৷ নিরবে সায় জানিয়ে বলল,

–” আমি চেষ্টা করব৷
আফিয়া চৌধুরী তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
–” স্টাডি রুমে আছে আশু। তুমি ফ্রেশ হয়ে ওর জন্য খাবার নিয়ে যেও।
প্রিমা সম্মতি জানিয়ে ওয়াশরুমে ঢোকে৷ ঘন্টা খানেক পর বেরিয়ে এসে রান্নাঘরে ঢুকে। খুঁজে খুঁজে দুজনের জন্য খাবার নিয়ে ওভেনে গরম করতে দেয়।ওই ফাঁকে চুলটা একটু ঝেড়ে নিয়ে টাওয়েলটা হ্যাঙ্গারে রাখে। খাবার গরম হয়ে গেলে চটপট সার্ভ করে আফিয়া চৌধুরীর দেওয়া লোকেশনে যেতে থাকে৷

জানালার অভিমুখে দাঁড়িয়ে আনমনে হিসেব কষতে ব্যস্ত ছিল আরশিয়ান। তার ভাবনায় ছেদ ঘটিয়ে আচমকা এক রিনরিনে কন্ঠ বলে উঠল,
–” ভেতরে আসতে পারি?
কন্ঠের মালিক তার চেনা তবে এই অসময়ে প্রিমার আসার কারণ বুঝল না আরশিয়ান। পাশ ফিরে বলল,
–” আসুন..
অনুমতি পাওয়া মাত্রই দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল প্রিমা। হাতে তার খাবারের ট্রে। প্রিমাকে অতো ভারি ট্রে সমেত ভেতরে আসতে দেখে আরশিয়ান একটু অবাক হয়৷ এগিয়ে এসে ট্টে টা নিজের হাতে নিয়ে সাইডের মিনি কেবিনেটের উপর রেখে বলে,

–” কিছু বলবেন?
প্রিমার সম্পূর্ণ মনোযোগ খাবারের ট্রে-তেই ছিল। হুট করে শান ওটা ছিনিয়ে নেওয়ায় চোখ তুলে তাকায় প্রিমা। সাথে সাথেই আরেক দফা চমকায়। অর্ধনগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আরশিয়ান। পরনে রয়েছে স্রেফ একটা নেভি ব্লু ট্র্যাক প্যান্ট। সৌম্য বুকটাতে লেপ্টে আছে শ’খানেক আঁচড়ের দাগ৷ প্রিমা লজ্জায় স্তব্ধ হয়ে যায়৷
গত রাতে আরশিয়ান এতটাই জেন্টাল ছিল যে তার শরীরে একটাও দাগ পড়েনি। আর সে কি-না…. প্রিমাকে অপ্রস্তুত হতে দেখে আরশিয়ান প্রশ্নাত্মক চোখে তাকায়। প্রিমা চোখ নামিয়ে মিনমিনিয়ে বলে,

–” কিছু একটা পরুন..
আরশিয়ান জবাবে বলে,
–” অভ্যস্ত হতে শিখুন। আমি যেমন তেমন ভাবে গ্রহণ করতে হবে..
বলার মতো কিছু খুঁজে পায় না প্রিমা। নজর ঘুরিয়ে আশেপাশে তাকায়৷ বিশাল একটা রুম। দেওয়ালের সাথে লাগোয়া সেল্ফগুলো নানাবিধ বইয়ে ঠাঁসা। সে রীতিমতো চমকে ওঠে উপন্যাসের কালেকশন দেখে।
প্রিমার হুঁশ ফেরে আরশিয়ানের গম্ভীর প্রশ্নে,
–” কী চাই আপনার?
প্রিমা আমতা আমতা করে বলে,
–” খাবার নিয়ে এসেছিলাম।
আরশিয়ান তৎক্ষনাৎ জবাব দেয়,
–” ক্ষিধে নেই। আপনি খেয়ে নিন..
প্রিমা একটু থেমে বলে,
–” আমি দু লোকমা খাইয়ে দিই?
বউয়ের আকস্মিক পরিবর্তনে খানিকটা চমকায় আরশিয়ান। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,

–” আচ্ছা।
সম্মতি পেয়ে প্রিমা ইতিউতি চেয়ে বসার জায়গা খুঁজতে থাকে। কিন্তু বিধিবাম, এমন কিছুই নজরে আসে না তার। ঘরের কোণায় একটা বিছানা আছে তবে ওখানে খাওয়া ঠিক নয়। প্রিমা হতাশ চোখে চেয়ে বলে,
–” কোথায় বসব?
এতক্ষণ টনক নড়ে আরশিয়ানের। তাইতো.. কোথায় বসতে দিবে বউকে? ক’দিন আগে স্টাডি রুমের সব ফার্নিচার চেঞ্জ করিয়েছে ইশতিরাজ। পুরোনো গুলো ফেলে নতুন অর্ডার দিয়েছে। দুঃখের বিষয় হলো সেগুলো আসেনি এখনো। তাই রুমটা ফাঁকা পড়ে আছে।
এদিক ওদিক চাইতেই সুবিশাল ক্যারাম বোর্ডটা চোখে পড়ল। আনমনে কিছু একটা ভেবে প্রিমাকে তুলে বসিয়ে দিল ওখানে। চোখের পলকে ঘটলো ঘটনাটা৷ প্রিমা হকচকিয়ে উঠে আরশিয়ানের কাঁধ জড়িয়ে ধরল। আরশিয়ান তার পিঠে মৃদু চাপড় মেরে বলল,

–” রিল্যাক্স।
প্রিমা তখনও আরশিয়ানের বাহু জড়িয়ে ছিল। হুট করে ওমনটা হওয়ায় অবাক গলায় বলল,
–” এখানে বসে খাবেন আপনি?
আরশিয়ান হতাশ চোখে চাইল মাথামোটা বউয়ের দিকে। জবাব দিতে মন চাইলো না একটুও তাই চুপ থেকে আরেকটু পাশ ঘেঁষে দাঁড়ায় প্রিমার। অনুমতি ছাড়াই শক্ত করে জড়িয়ে ধরে প্রিমাকে। প্রিমা একটু অবাক হলেও কিছু বলে না। উল্টো এক হাতে শানের পিঠে আর অন্য হাতে তার মাথায় রাখে।
আহ্লাদ পেয়ে আরশিয়ানের সাহস বাড়ে। আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে প্রিমাকে। তার ভেতরের অসহ্য ভাবটা টের পেয়ে যায় প্রিমা। তাই প্রথমবার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আরশিয়ানকে জড়িয়ে ধরে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
–” খুব বেশি কষ্ট পেয়েছেন?
প্রিমার গলায় মুখ গুঁজে ধরা গলায় বলে শান,
–” বোধহয়।
প্রিমা শান্ত গলায় শুধায়,
–” কিন্তু কেনো?
আরশিয়ান অস্পষ্ট গলায় জবাব দেয়,
–” আমার কথার কোনো মূল্য নেই তার কাছে। মুখে আপন বললেও আদতে আমি পর। এই সত্যটা হজম হচ্ছে না আমার।
প্রিমা তার পিঠে মৃদু চাপড় মেরে পুনরায় শুধায়,

–” আর কোনো রিজন আছে?
খানিকটা থেমে আরশিয়ান পুনরায় জবাব দেয়,
–” ভয় পাচ্ছি আমি। মেহরিমার একেকটা দীর্ঘশ্বাস যদি অভিশাপ হয়ে বর্তায় তখন কী করবে ও? আমি পারব না ওকে ধ্বংস হতে দেখতে..
প্রিমা নড়েচড়ে উঠে আরশিয়ানের কথায়। লোকটা কী ভীষণ শক্তপোক্ত। কন্ঠে কম্পন অথচ একটা ফোঁটা পানি গড়ালো না তার চোখ বেয়ে। প্রিমা তার চুলের ভাঁজে হাত বুলিয়ে শান্ত গলায় বলল,
–” ওসব ভুয়া কথা। অভিশাপ বলে কিছু নেই..
আরশিয়ান তার গলায় মুখ গুঁজে লম্বা শ্বাস টেনে বলে,
–” রুহেয় হায় বড্ড ভয়ংকর প্রেম।
উত্তরে কিছু বলতে পারে না প্রিমা। নরম কন্ঠে বলে,
–” ভেতরে অনেক কিছু জমিয়ে রেখেছেন আপনি।হয় শেয়ার করুন নয়তো শান্ত হোন। এভাবে চললে অসুস্থ হয়ে পড়বেন কিন্তু।
আরশিয়ান অসহায় কন্ঠে বলে,

–” কোনোটাই সম্ভব নয়।
প্রিমার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। কিছু একটা ভেবে বলে,
–” একটু ঘুমানোর চেষ্টা করুন না-হয়..
আরশিয়ান পুনরায় একইভাবে জবাব দিল,
–” আসবে না।
প্রিমা পুনরায় শুধায়,
–” ঘুমের মেডিসিন দিই?
আরশিয়ান ভাঙা ভাঙা স্বরে বলে,
— ” উঁহু। হবে না তাতে। ক্লান্ত হতে হবে আগে৷
প্রিমা কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,
–” ক্লান্ত হওয়ার মতো কাজ করুন তবে..
আরশিয়ান তার কোমরে চাপ প্রয়োগ করে নিজের দিকে টেনে নিতে নিতে বলে,
–” যথা আজ্ঞা মহারাণী।

বলেই ব্যগ্র ভঙ্গিতে প্রিমার অধর সুধা পান করে আরশিয়ান। এর মাঝেই তার শাড়ির আঁচল সরিয়ে ফেলে। ঢিলাঢালা ব্লাউজটা ছুঁড়ে ফেলে অজানায়। তার অবাধ্য হাত ছুঁয়ে দেয় প্রিমার অনাবৃত দেহ। মিষ্টি আদরের বদলে যন্ত্রণাদায়ক নিপীড়ন সইতে হয় তার কোমল সত্তাকে। প্রিমা গুঙিয়ে উঠে ব্যথায়।
আরশিয়ান বেখবর আজ। নিজের যন্ত্রণা উগড়ে দিতে ব্যস্ত সে। এই ব্যস্ততায় ভুলে বসল সবকিছু। সময়ের পরিক্রমায় সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হলো দু’টো শরীর। নিয়ন্ত্রণহীন আরশিয়ান মত্ত হলো নিজ কাজে। পর পরই পুরো ঘর জুড়ে শোনা গেল মেয়েলি আর্তনাদের স্বর। ঘরের দেওয়ালে বাড়ি খেত লাগলো মৃদু কান্নার গুঞ্জন।
চূড়ান্ত লেভেলের অসভ্য হলো শান। প্রিমা কাঁদলেও ছাড়ল না তাকে। আস্তে-ধীরে প্রিমার ক্রন্দনধ্বনি রুপান্তরিত হলো গোঙানিতে। আরশিয়ানকে ক্লান্ত করতে গিয়ে কাঙাল হলো প্রিমা। খানিকক্ষণ পর নিজের সুবিধার জন্য প্রিমাকে টেনে ফ্লোরে নামাল আরশিয়ান।

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৩

শীতের কনকনে ঠান্ডা ফ্লোরের স্পর্শ পেতেই ঠকঠক করে কেঁপে উঠল প্রিমা। অস্পষ্ট গলায় কিছু একটা বলতে চাইল কিন্তু গলা ভেঙে যাওয়ায় একটা শব্দও বেরোলো না মুখ থেকে। চোখের কোল ঘেঁষে গড়িয়ে পড়ল সুখমিশ্রিত যন্ত্রণার অশ্রু।
ভালোবাসার উন্মাদনায় ভাসতে থাকল দু’জন। এর মধ্যে হুট করে ট্রের উপর থাকা প্রিমার ফোনে একটা মেসেজ আসলো। হোম পেইজে জ্বলজ্বল করছিল একটা ভয়ংকর বার্তা,
–” প্রতিশোধ নিতে গিয়ে প্রেম রোগে আক্রান্ত হইয়ো না মেয়ে। প্রতিপক্ষ কিন্তু তোমার জাত শত্রু। ভুলো না, কীভাবে হত্যা করা হয়েছে তোমার বাবাকে। মনে রেখো..তোমার মা কিন্তু এখনো তাদের হাতে জিম্মি।

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৫