শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৫
রুহানিয়া ইমরোজ
পূর্ব আকাশে উঁকি দিয়েছে সূর্য। সময়টা তখন দশটা পঁয়ত্রিশ মিনিট। চৌধুরী বাড়ির লিভিং রুমটা গমগম করছে আত্মীয়দের আগমনে। ইতিমধ্যে সর্বত্র খবর ছড়িয়ে গেছে, বিশিষ্ট সন্ত্রাসী তাজরিয়ান জাওয়াদ চৌধুরী বিয়ে করেছে।
কেউ আশ্চর্য। কেউ ভীত আবার কেউ হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে ব্যপারটা। তাজের মতো নারীবাদী পুরুষ স্ব ইচ্ছায় বিয়ে করেছে.. এটা মশকরাই বটে। সত্যতা যাচাই করতেই মূলত দল বেঁধে হাজির হয়েছে নাম মাত্র কিছু আপনজন।
সারারাত বাহিরে কাটিয়ে মাত্র বাড়িমুখো হয় তাজ। মূল ফটকে পা দিতেই কারও বলা তাচ্ছিল্য ভরা মন্তব্য কানে বাজে তাজরিয়ানের,
–” গঠন সুন্দর হলেও একটু বেশি ফর্সা ছোটো মিঞার বউ। কেমন যেনো শ্বেতাঙ্গ রোগীদের মতো দেখা যায়৷
কথাটা শেষ হওয়ার সাথে সাথে বেশ কিছু চাপা হাসির শব্দ পাওয়া গেল। এমনিতেই মেজাজ তুঙ্গে উঠে ছিল তাজের। তার উপর এসব কথাবার্তা আগুনে ঘি ঢালার মতোই কাজ করল। রক্তিম চোখে চাইল লিভিংরুমের জটলার পানে। যার কেন্দ্রবিন্দু তারই বিয়ে করা বউ।
মেয়েটা পুতুলের মতো অনুভূতিহীন ভাবে বসে আছে। তাকে ঘিরে রেখেছে দশ পনেরোজন মহিলা। কেউ চুল নেড়ে দেখছে, কেউবা দেখছে হাতের নখ, আরেকজন তো সোজা গাল স্পর্শ করে দেখল। সে আসলেই সুন্দর নাকি সব মেকাপের কামাল।
এপর্যায়ে আর মেজাজ ঠিক রাখতে পারল না তাজ। রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে এল তার। মন চাইল তক্ষুনি সব কয়টার খুলি উড়িয়ে দিতে। কোমরের পেছনে থাকা পিস্তলটা বের করতে নিলে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা তামজিদ তার হাত ধরে বলে,
–” চৌধুরী ভিলায় কোনোরূপ নৃশংসতা দেখানোর অনুৃমতি নেই স্যার। ওরা বাড়ির বাইরে আসলে যা খুশি কইরেন। এখন শান্ত হোন প্লিজ..
তাজরিয়ান চোখ বুঁজে গভীর শ্বাস ফেলে। রাগটা একটু দমিয়ে বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে যায় মেহুর দিকে। নিজেদের কথায় ব্যস্ত ছিল সবাই। আফিয়া চৌধুরী এককোনায় দাঁড়িয়ে জোরপূর্বক ভদ্রতা দেখাচ্ছিলেন। আচমকা ভারিক্কি পদচারণের শব্দে ধ্যান ফেরে সবার৷
চোখের সামনে সাইকো খেতাবপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীকে দেখে গা হীম হয়ে আসে সকলের। সবাইকে চুপ করে যেতে দেখে মেহরিমাও কৌতূহল বশত নজর তুলে তাকায়। ট্রাউজারের পকেটে হাত গুঁজে ভাবলেশহীন ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা তাজরিয়ানকে দেখে বিতৃষ্ণায় চোখ নামিয়ে ফেলে।
তাজরিয়ান রাগ করে না। উল্টো মেহুর মুখ ফিরিয়ে নেওয়াতে তার ভেতরকার শয়তান জেগে উঠে। সে ধীর পায়ে মেহুর পাশে এসে দাঁড়ায়। তাজরিয়ানকে আসতে দেখে মেহরিমার দু’পাশে বসে থাকা পাবলিক দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে সাইডে সরে। তাজ কোনোরূপ ভদ্রতা না দেখিয়ে ধপ করে মেহুর পাশে বসে পড়ে।
ওমন করে বসায় কাঠের সোফাটা শব্দ করে নড়ে উঠে। মেহরিমা চোখমুখ কুঁচকে হজম করে নেয় ব্যপারটা। এমনিতেই ব্যথায় দম বেরিয়ে যাচ্ছে তার উপর তাজরিয়ানের বাচ্চামি। আর ধৈর্যে কুলাচ্ছে না তার।
এতক্ষণ সবাই পকর পকর করলেও এখন চুপসে গেছে। কেউ কেউ তো চলে যাওয়ারও পায়তারা করছে কিন্তু তাজ সেটা হতে দিলে তো? অসভ্যটা কোনো কথাবার্তা ছাড়াই মেহরিমার রক্তিম ঠোঁটে সময় নিয়ে আলতো করে চুমু খায়। এরপর জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নাটকীয় স্বরে বলে,
–” রাতের আদরের ফল দিনে প্রতিফলিত হচ্ছে বোধহয়। দমবন্ধ করে দেওয়ার মতো তীব্র সুন্দর দেখাচ্ছে তোমায়। এজন্যই ডেট এক্সপায়ার্ড লুলা গুলো ভেতরে-বাইরে সমানতালে জ্বলছে। ডোন্ট টেইক দেম সিরিয়াসলি। কদিন পর এমনিতেই ওরা পৃথিবীর বোঝা কমিয়ে নরকের কুয়ায় জ্বলবে৷ জস্ট চিল বেবিগার্ল!
মেহরিমা কিছুই শুনে না। কেবল হতভম্ব হয়ে হাত দিয়ে ঠোঁট ঢেকে বসে থাকে। আফিয়া চৌধুরী ভোঁ দৌড়ে চলে যান কিচেনে। মাথা পাগল ছেলে কোন তান্ডব শুরু করবে কে জানে? বুড়ো বয়সে এসব ঝড় সামাল দেওয়ার সামর্থ্য নেই তার।
ওইখানে উপস্থিত বাকিরা স্তব্ধ হয়ে যায় তাজের কথায়। কারও বুঝতে বাকি থাকে না ডেট এক্সপায়ার বলে পরক্ষ ভাবে তাদের বয়সের খোঁচা দিয়েছে তাজ। কথাটা গায়ে লাগলেও তাজের বিরোধিতা করার সাহস নেই কারোর। তবুও এক আর্মি অফিসারের মা জোরপূর্বক হেসে বলেন,
–” তুমি বোধহয় ভুল বুঝছো বাবা। আমরা তো মজা করছিলাম। তোমার বউটা মা শা আল্লাহ খুব মিষ্টি দেখতে…
অতো মিঠা কথা হজম হলো না তাজের। মেহুর দিকে ঠোঁট কামড়ে তাকিয়ে থেকে বলল,
–” মিষ্টি বলেই তো এখনো আমার টেম্পার লেভেল লিমিটে আছে ; আর আপনারাও আস্ত আছেন। তবে এখান থেকে বেরোলে কী হবে সেটার গ্যারান্টি দিতে পারলাম না।
কথায় রাখ ঢাক নেই। একদম ওপেন থ্রেট। উপস্থিত প্রত্যেকে ফাঁকা ঢোক গিলে একে-অপরের দিকে তাকাল৷ তা দেখে বাঁকা হাসি খেলে গেল তাজের ঠোঁটে। সোফার হেডরেস্টে দু’হাত মেলে, পায়ের উপর পা তুলে রাজার মতো বসে একদৃষ্টিতে চেয়ে রইল মেহরিমার দিকে।
বড্ড সাহস নিয়ে একজন বয়স্ক মহিলা আমতা আমতা করে বললেন,
–” বয়স্ক মানুষ তো তাই আগের দিনের চিন্তাটা রয়ে গেছে মাথায়। এখন বুঝি এসব অন্যায় কিন্তু মন তো আর মানে না। এবারের মতো…
আর কথা শুনতে চাইল না তাজরিয়ান। তাকে থামিয়ে দিয়ে অকপটে বলল,
–” ছোটো মানুষ তো তাই মাথাটা একটু বেশিই গরম। অযথা ভয় পাচ্ছেন কেনো আপনারা? ওটা শাস্তি নয় বরং স্পেশাল ভিটামিন। যেটা একবার খেলে পরের বার থেকে কখনো কারও সংসারে আগুন লাগাতে যেতে মন চাইবে না।
একেকটা অপমান একেকজনের কলিজা ভেদ করে দিচ্ছে। তবে যেখানে মুখ খুলা মানে মৃত্যু সেখানে চুপ থেকে হজম করারাই শ্রেয়। মেহরিমা নিতে পারছে না এসব। এমনিতেই শরীর দুর্বল তার উপর পিরিয়ডিক ইস্যু। ও আস্তে-ধীরে শরীর ছেড়ে দিল। পিঠ ঠেকল সোফায় কিন্তু মাথাটা গিয়ে পড়ল তাজের হাতের উপর। সে ভ্রু কুঁচকে তাকাল মেহরিমার দিকে।
দেখল বউ তার আধা হুঁশে আছে। যখন তখন জ্ঞান হারালো বলে। দৃশ্যখানা দেখে ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসলো তাজরিয়ানের। শেষমেশ কিনা কথায় কথায় উল্টে পড়া পাবলিক জুটলো কপালে?
মেহরিমাকে নিয়ে বিশেষ ভাবান্তর নেই তাজের তবুও শো অফ করতে চোখের পলকে ওর নরম তুলোর মতো শরীরটা কোলে তুলে সটান হয়ে দাঁড়াল। এর পর তামজিদের পানে চেয়ে বলল,
–” চুলকানির মাত্রা বুঝে মেডিসিন দিয়ে এরপর ছাড়বা। গট ইট?
তামজিদ সম্মতি জানিয়ে বলে,
–” জ্বি স্যার।
সবাইকে আতঙ্কে ফেলে তাজরিয়ান চললো তার বউ নিয়ে। দায়িত্বে অনড় তামজিদ সবাইকে ধরে বেঁধে নিয়ে গেল জায়গামতো। কথায় আছে, যেমন কর্ম তেমন ফল। নিজের ত্রুটি ফেলে অন্যেরটা নিয়ে সমালোচনা করলে বাস্তবতার খোঁচা তো খেতেই হবে।
মেহরিমা জ্ঞান না হারালেও ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। অজ্ঞ তাজরিয়ান কী আর সেসব বোঝে? মেহরিমাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে শাসিয়ে বলে,
–” সুখবর আসতে ঢের দেরি। তুমি লক্ষণ দেখিয়ে আমায় বদনাম কোরো না মেয়ে। বাড়ির লোকজনের চোখে কালার খেয়ে যাব নয়তো।
মেহরিমা দাঁতে দাঁত চেপে সয়ে নেয় কথা গুলো। তর্ক করার এনার্জি নেই তার মাঝে। এমনিতেই মন মস্তিষ্ক এলোমেলো তাই উল্টোপাল্টা বলে তাজকে রাগাতে চাইল না আর। চোখ বুঁজে ঘুমানোর চেষ্টা করল।
মেহরিমার ফ্যাকাশে চেহারা দেখে তাজও আর কথা বাড়াল না। জীবনেও কারও সাথে কিছু শেয়ার না করা ছেলেটা অবলীলায় বেডের একপাশ ছেড়ে দিল নিজের অর্ধাঙ্গিনীর জন্য। অপর পাশে শুয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
–” বরবাদি মোবারক হো!
সকাল হতে লাপাত্তা এমপি সাহেবের দেখা পাওয়া গেল বিকেলের দিকে। অদ্ভুত তার বেশভূষা। হাই নেক সোয়েটার পরে নিচে নেমেছে। উষ্কখুষ্ক চুলের দশা। চোখদুটো রক্তিম, মুখে স্পষ্ট অসুস্থতার ছাপ।
ডে অফ থাকায় বাসায় বসে অলস সময় কাটাচ্ছিল ইশতিরাজ। হুট করে কী মনে হতেই ড্রয়িংরুমে এসে মানি হেইস্ট সিরিজটা দেখতে বসল। অর্ধেকটা দেখা হতেই আরশিয়ানের আগমন ঘটে। তার অবস্থা পরখ করে ইশতিরাজ শুধায়,
–” কী হয়েছে তোর? এমন দেখাচ্ছে কেন?
মেইডকে খাবার রুমে পাঠাতে বলে আরশিয়ান এসে বসে ভাইয়ের পাশে। প্রশ্নের জবাবে বলে,
–” রাতে ঘুম হয়নি তাই এমন লাগছে উপরন্তু সব দিকের টেনশন। বুঝিসই তো..
বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে আরশিয়ান। ভাইকে তো আর বলা যায় না, “বউয়ের হাতে আঁচড় খেয়ে জ্বর বাঁধিয়ে ফেলেছি আমি। ” কী ভয়ংকর লজ্জার কথা। মাঝেমধ্যে পরিস্থিতি সাপেক্ষে মিথ্যে বলতে হয়। এটা তে পাপ হয় না। নিজেই নিজেকে কথাগুলো বলল আরশিয়ান।
ভাইয়ের কথায় মনে মনে হাসল ইশতিরাজ। মাইন্ড রিডারকে ভুজুংভাজুং বুঝ দিয়ে লাভ আছে? তবে আরশিয়ান যেহেতু কম্ফোর্টেবল না তাই ইশতিরাজ ওই টপিকে কথা বাড়াল না। প্রসঙ্গ চেঞ্জ করে বলল,
–” সময় হবে তোর?
আরশিয়ান হাত ঘড়িতে সময় দেখে বলল,
–” আধাঘন্টা মতো হবে। তবে তাজকে নিয়ে কোনো কথা বলতে চাইনা আমি।
ইশতিরাজ লম্বা হামি তুলে বলল,
–” দ্যাট উইল বি এনাফ। প্রসঙ্গটা তাজ নয়। মিস ফারজানা কে নিয়ে কথা ছিল।
আরশিয়ান প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে চেয়ে বলল,
–” কী কথা?
ইশতিরাজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
–” মেন্টালি খুব নাজুক পজিশনে আছে মেয়েটা। বাঁচার আগ্রহ নেই বললেই চলে। তাও একটুখানি শক্ত হয়েছে এই ক’দিনে। এখন যদি জানতে পারে তার বোনেরা তার জন্য এত বড় কুরবানি দিয়েছে তাহলে উনাকে সুস্থ করে তোলা অসম্ভব হয়ে যাবে। জীবনেও নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন বলে মনে হয় না।
আরশিয়ান ভেবে দেখে বিষয়টা। সত্যি তো। রাজের বলা কথাগুলো ভুল নয়। সে কৌতূহলী হয়ে শুধাল,
–” এখন কী করা যায়?
ইশতিরাজ তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বলে,
–” প্রিমার বিয়েটা হাইড রাখা গেলেও তাজরিয়ান কখনো মেহুকে ছাড়বে না৷ আর কোনোভাবে এদের বিয়ের কাহিনী জানলে পুরুষ মানুষের প্রতি তীব্র অনীহা চলে আসবে উনার। ভয়টা তীব্র ঘৃণায় রুপ নিবে। তাছাড়াও প্রিমা আর মেহরিমা.. দুজনেই এখন ভীষণ ডিস্টার্বড। সুতরাং সব মিলিয়ে আমাদের উচিত উনাকে হসপিটালেই রাখা।
আরশিয়ান চিন্তুিত কন্ঠে বলল,
–” মিস ফারজানা কী রাজি হবেন?
ইশতিরাজ হামি তুলে বলল,
–” ওটার জন্য আমি আছি। ভুজুংভাজুং বুঝিয়ে দিব। এখন প্রিমা আর মেহরমার একটু স্পেসের দরকার আছে। যারা নিজেরাই ঠিক নেই ওরা রোগী সামলাবে কী করে?
আরশিয়ান রাজি না হয়ে উপায় পেল না। তবে কৌতুহল বশত জিজ্ঞেস করল,
–” আমার জানামতে তুই কখনো কোনো মেয়ের কেইস নিজ হাতে নিস না। তাহলে উনারটা নিয়েছিস যে?
ইশতিরাজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
–” খুব প্রিয় একজনের সাথে মিলে যায় তার মুখশ্রী। একটু কাছ থেকে অবজারভ করতেই নিজের বানানো নিয়ম ভেঙেছি।
আরশিয়ান থমকায়। চমকায় কিঞ্চিৎ। অবাক কন্ঠে বলে,
–” এসব পাগলামি নয়?
ইশতিরাজ দু’পাশে মাথা নাড়িয়ে বলে,
–” উঁহু। সবই এক্সপেরিমেন্ট।
আরশিয়ান আরও কিছু বলার আগেই তার ফোন বেজে ওঠে। আননোন নম্বর থেকে কল এসেছে। ভ্রু কুঁচকে কলটা রিসিভ করতেই অপর পাশ থেকে আবির্ভাব শান্ত গলায় বলে ওঠে,
–” আমাদের ড্রিম প্রজেক্টের মেইন ফাইল কার কাছে আছে স্যার?
আরশিয়ান বিরক্ত হয়ে বলে,
–” সফটকপি আমার ল্যাপটপে আছে। কেনো?
আবির্ভাব ফাঁকা ঢোক গিলে জবাব দেয়,
শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৪
–” ওটা ওয়াসীত্ব লিমিটেডের হাতে লেগে গেছে সামহাও। বর্তমানে সেটারই মার্কেটিং চলছে। টপ ইনভেস্টাররা মুখিয়ে আছেন তাদের সাথে ডিল করার জন্য। এক ধাক্কায় ওরা আকাশ ছুঁয়ে ফেলল রীতিমতো।
আর কিছু শোনার আগেই হাত ফস্কে পড়ে যায় ফোনটা। থম মেরে বসে থাকে আরশিয়ান। হতভম্ব স্বরে বলে,
–” হোয়াটটটট?
