শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮৪
নূরজাহান আক্তার আলো
-‘আগামী শুক্রবার বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেদিন বিশেষ একটি আহ্বানের অপেক্ষায় থেকো। রাতের রাজা তার রানীকে ফিরিয়ে নিতে ঠিকই আসবে।’
একথা বলে পা বাড়াতেই আচমকা দুটো বুলেট এসে লাগল ইয়াসিরের
বুকের বাঁ পাঁজরে। নাকে এসে লাগল বারুদের উৎকট গন্ধ। উষ্ণ, রক্তের স্রোতে মুহূর্তেই ভিজে গেল পরনের কালো শার্ট। তার মনে হলো শরীরে কেউ ফুটন্ত সিসা ঢেলে দিয়েছে। শ্বাস টানতে গেলে বুকটা ফেটে যাচ্ছে।
সে বুক চেপে ধরে সামনে তাকিয়ে দেখে একদল পুলিশ তখনো বন্দুক তাক করে তারই দিকে তাকিয়ে আছে৷ যে ব্যক্তি তার থেকে লক্ষাধিক টাকা খেয়েছিল সেও রয়েছে তাদের মধ্যে। উনার ঠোঁটের কোণে কুটিল হাসি। বুঝতে বাকি রইল না তাকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। যা হচ্ছিল তাকে এখানে আনার পরিকল্পনামাত্র। আবেগের বশে আগে-পিছে না ভেবেই সেও চলে এসেছে। ফলস্বরূপ এ পরিস্থিতিতে ফেঁসে গেছে। এখন? এখন কি করবে সে? খোলা জায়গা হলে রিক্স নেওয়া যেতো কিন্তু এখানে তো তিনপাশে দেওয়াল। সামনের দরজায় পুলিশ। পালানোরও পথ নেই।
গা ঢাকার উপায় নেই। এখন ধরা দিতে হবে নতুবা এনকাউন্টার! বুলেট তো গেঁথেই গেছে বুক বা পাঁজরে! এসব ভেবে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল শীতলের দিকে। অসহায়ত্ব ফুটে উঠল তার চোখের চাহনিতে। শুকনো ঠোঁটজোড়া টেনেও জোর করে হাসি ফুটাতে পারল না। নীল চোখের কোণে জমতে লাগল নোনাজল। বুকে রক্ত ঝরে যতটা না কাবু করতে পারল তারচেয়ে আফসোসে বুক পুড়তে লাগল। তার বাবুইকে এখান থেকে বের করতে পারল না। মুক্ত পাখির ন্যায় বাঁচার সুখটুকুও দিতে পারল না। সে নাহয় বহুদূরে চলে যাবে আর কখনো দেশের মাটিতে পা-ও রাখবে না। চৌধুরী নিবাসের ছায়া মারাবে না। কিন্তু চঞ্চল পাখিটার এই অবস্থাতে কিভাবে যাবে? তার যে পা উঠবে না। ধাপ এগোবে না। মন সায় দিবে না।
নিজের চোখে দেখেছে মেয়েটা উড়ে-উড়ে, ঘুরে-ঘুরে মুক্ত আকাশে শ্বাস ফেলে বাঁচতে অভ্যস্ত। তাকে এমন বন্দিদশায় দেখার কষ্ট কিছুতে সহ্য হচ্ছে না তার। মানতে পারছে না করুন অবস্থা। সে খুব ভালো করে জানে চৌধুরী বাড়ির কেউই তাকে দুচক্ষে সহ্য করতে পারে না। পারার কথা না যদিও।
তবুও ভেবেছিল সিমিন নামের স্বামী হারা মহিলাটাকে যেভাবেই হোক আদরের মেয়েটাকে ফিরিয়ে দেবে। সে মায়ের ভালোবাসা খু্ব একটা পায় নি। মাকে নিয়ে যেসব স্মৃতি জমিয়েছিল সেসব এখন বেশি ভাগই ঝাপসা। পুরো পৃথিবী না জানলেও তার অসহায়ত্ব জানে মাকে ভীষণ ভালোবাসে। ভীষণ মিস করে। অসুস্থতায় মায়ের ছবি বুকে জড়িয়ে ধরে মুখ লুকিয়ে কাঁদে। খুব ভালো করে জানে মাকে ছাড়া থাকার কষ্ট। তাই ভেবেছিল বাবুইকে মা ছাড়া রাখবে না। মায়ের অভাবটুকু বুঝতে দেবে না৷ কিন্তু, হায় আফসোস! হায় নিয়তি! এবারও গো-হারান হেরে গেল। ঠিক যেভাবে হেরেছিল সেদিন হসপিটালে শুদ্ধর ‘কবুল’ বলা একটিমাত্র শব্দের মাধ্যমে। তবে এর মধ্যে সূক্ষ্ণ একটি পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্যটুকু হচ্ছে সেদিন ভালোবাসার মানুষটাকে চিরতরে হারিয়েছিল আর আজ ভালোবাসার মানুষটাকে বাঁচাতে প্রাণ হারাচ্ছে। যদিও বুঝ হওয়ার পর থেকে প্রাণের মায়া খুব একটা করা হয় নি। ওসব মায়া-টায়া থাকলে অনেক আগেই সুন্দর স্বাভাবিক জীবন নিয়ে ভাবত। পরিবার থাকত।
কিন্ত আগে কেন জানি ইচ্ছেই হয় নি। দুঃভাগা কপালে এখন যা ভাবছে জীবন তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিচ্ছে। যেখানে ফেরার পথ নেই, যা চায়; যেভাবে চায়, তা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, সেই অবস্থানে এসে বড্ড আফসোস হচ্ছে।
এদিকে আকষ্মিক ঘটনায় শীতলও হতভম্ব। একই জায়গায় অনড় হয়ে থরথর করে কাঁপছে। তার দৃষ্টি স্থির ইয়াসিরের হাত গলিয়ে আসা লাল রক্তের দিকে। কদিন আগেও পরিস্থিতির চাপে হাতে ছুরি ধরলেও এখন কারো রক্ত দেখতে পারে না। প্রথমে ভাইয়ের রক্তে হাত রাঙাল, বাবার রক্তে হাত ভিজল এখন চরম ঘৃণা করা মানুষটাও একই পথের পথিক।
সবাই কেন তার সামনে এ রুপে আসে? শেষ যাত্রার সাক্ষী তাকেই কেন করে? আর কত সহ্য করা যায়? সে তো মানুষ ! তারও ধৈর্য্যশক্তি আছে।
সে আর পারছে না দেখতে। পারছে না সহ্য করতে। শীতল আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না তার হাঁটুর জোর কমে এলো। রক্তের দিকে তাকাতেই হাত-পা অবশ হয়ে এলো। আঙুলের ডগাগুলো ঝিনঝিন করতে করতে অসাড় হয়ে গেল। চারপাশটা কেমন আচমকা থমকে গেল। মনে হলো বুকটা কেউ লোহার শিকল দিয়ে চেপে ধরেছে। গলার কাছে কী একটা দলা পাকিয়ে আছে। দরদর করে ঘামতে লাগল সে। ইয়াসিরও বুঝল শীতলের অবস্থা। মুখে যতই বড় বড় কথা বলুন, নিজেকে শক্ত দেখাক, আসলে তার বাবুই পাখিটা বড্ড বেশি নাজুক। যতই ঘৃণা করুক চোখের সামনে এনকাউন্টার সহ্য করতে পারবে না। শীতলের কথা ভেবে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল ইয়াসির। ঠোঁটের কোণে হাসি এঁটে ইশারায় অভয় দিলো কিচ্ছু হয় নি। তার জন্য শীতলের চোখে ছিঁটেফোঁটা মায়া
দেখে ভালোও লাগল। আজকাল দু’একটা কথা তার মস্তিষ্কে বারি খায়।
বিশাল এই পৃথিবীতে সে একা। মা নেই, বাপ নেই, আদরের ভাই-বোন কেউ নেই। মৃত্যু যখন তাকে জাপটে ধরবে তখন কী পানি দেওয়ার কেউ থাকবে? তার জন্য কেউ কাঁদবে? কবরের মাটি কি জুটবে? নাকি তাও জুটবে না? জীবনের এ পর্যায়ে এসে বিবেক জানান দিলো কবরের মাটি পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু কিছু করার নেই তার পোড়া জীবনের রুপরেখা অপ্রাপ্তির রুপকাঠি দিয়েই লেখা। কত যত্ন করে সাজানো তার জীবনী। তাছাড়া সময় প্রায় ফুরিয়ে এসেছে, নিঃশ্বাসটাও ফুরাতে যাচ্ছে এতসব প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি দিয়ে আর কি হবে? সে জোরে জোরে শ্বাস টেনে পুলিশ দেখে একটু পিছিয়ে শীতলকে আড়াল করে দাঁড়াল। তবে পারল না দাঁড়িয়ে থাকতে। ধপ করে বসে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলল,
__’ওর সামনে না.. প্লিজ!’
__’কেন, কেন? ওর সামনে মারলে কি হবে? আচ্ছা, চৌধুরীর বউ তোর কে লাগে, রক্ষিতা নাকি? এইটুকু মেয়ে দু’দুটো দামড়াকে কনট্রোল করে?’
__’মুখ সা..সামলে অফিসার।’
__’কেন?’
__’তুই বলার কে?’
একথা বলে অফিসার ইয়াসিরকে কপাল বরাবর শ্যুট করল। আচমকা শরীরে ঝাঁকুনি খেয়ে নিভু নিভু চোখে একবার তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো ইয়াসির। কিন্তু চোখ বন্ধ করেও লাভের লাভ হলো না। ভাঙা স্বপ্ন কোনোভাবেই জোড়া লাগল না। শীতলের মুখখানাও দেখতে পেল না।
দুই হাতে শক্ত করে মাথা চেপে ধরে এপাশ-ওপাশ করেও স্বপ্নের ঘোরে ঢুকতে পারল না। ব্যর্থ হয়ে মুখের উপর থেকে হাত সরিয়ে ক্ষ্যাপা দৃষ্টিতে তাকাল পাশে দাঁড়ানো ছেলেটার দিকে। ছেলেটার নাম ক্যাসপিয়ান তবে ছোট করে ডাকে পিয়ান নামে। বুরাকের পর পিয়ানকেই তার সহকারীর পদে নিযুক্ত করা হয়েছে৷ যদিও আগের মতো রিক্সি কাজ আর করে না ইয়াসির।
তবে যে জগতের মাফিয়া চাইলেও মুছে ফেলা যায় না। দলের কিছু ছেলেপুলে এখনো তার সঙ্গে আছে। কেউ কেউ ভালো থাকার জন্য দেশদেশান্তর পাড়ি জমিয়েছে। বুরাকের মৃত্যুর পর শুদ্ধ-শীতলের বিয়ে,
দলের পার্টিদের প্রতারণা, সব মিলিয়ে চারিদিক থেকে কোণঠাসা হয়ে গিয়েছিল। এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুলিশের এনকাউন্টারের ঘোষণা।
দুবাই পুলিশ জানিয়েছে তাকে জ্যান্ত গ্রেফতার করতে না পারলে যেন সরাসরি এনকাউন্টার করে। ওর মতো মাফিয়া বেঁচে থাকা মানে বিপদ।
তাছাড়া একের পর এক ওর কাজের যেসব তথ্য বের হচ্ছে তাতে পিলে চমকে যাওয়ার মত অবস্থা। আর ইয়াসিরের দলের মধ্যে পিয়ানের সঙ্গে বুরাকের ভালো সম্পর্ক ছিল। বুরাক যেদিন এক্সিডেন্ট করেছিল সেদিন বের হওয়ার আগেও পিয়ানকে ইয়াসিরের সঙ্গে রেখেছিল। সাবধানও করেছিল চোখ-কান খুলে চলতে। বুরাক ছেলেটা কেন জানি খুব খেয়াল রাখত ইয়াসিরের। প্রথম প্রথম পিয়ানও বিরক্ত হতো পরে সঙ্গে থেকে থেকে ইয়াসিরকে চিনেছে৷
যদিও এখনকার ইয়াসির আর আগের ইয়াসিরের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। আগের ইয়াসির ছিল যেই তার মতের অমিল দেখাবে সেই শেষ। বেশি কথাও বলত না। একবার এক ছেলেকে শুট করেছিল তার ইশারা বুঝতে পারে নি তাই। বাংলাদেশে পুলিশ হন্ন হয়ে তাকে খুঁজছে দেখে গা ডাকা দিয়েছিল। সঙ্গের সঙ্গী বুরাকের লাশটা অবধি দাফন করতে পারে নি সে। পুলিশের তাড়া খেয়ে পালাতে হয়েছিল পরে শুদ্ধ, সায়ন, রুবাব
এসে দাফনের কাজ সম্পূর্ন করেছিল। তাদের খবরটা দিয়েছিল আজম।
তাদের কাজে ইয়াসির মুখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলেও কৃতজ্ঞ সে। সে এটাও ভেবেছিল আর চৌধুরীদের মুখোমুখি হবে না তার কারণে কোনো অশান্তি হতে দেবে না। কিন্তু এরমধ্যে ঘটল শীতলের ঘটনা। শুদ্ধর থেকে শীতল দূরে সরে গেল স্বর্ন সায়নের অবস্থাও করুন। সবাই বলে ইয়াসির অভিশাপ। ইয়াসির ভাঙ্গতেই জানে কিন্তু অভিশাপ সরে যাওয়ার পরও কেন তাদের এ দূগর্তি? কেন শুদ্ধর থেকে শীতল সরলো? তাকে হারিয়ে দিয়ে ঠিকই তো এক হলো দু’জন। নিয়তি সবই নিয়তি! আর শীতল যে কনককে মেরেছে একথা শুনে সে পাগলের মতো হেসেছিল। একা একা বিরবির করে বলেছিল, ‘আগেই বলেছিলাম তুমি যা দেখাও সেটা তুমি নও, বাবুই। তুমি শুদ্ধর মতোই ভীষণ ধুরন্ধর। অবশ্য চালাকদের সঙ্গে থাকলে বোকারাও যে বোকা থাকে না। আলাদা করে কৌশল শিখাতে হয় না। তবে তোমরা যখন যা করো কেন জানি তাই হয় পুর্ন আর আমি যা করি সেটাতেই শূন্য। নাও, সব মিলিয়ে তোমাদের জয়! শুধু মাঝখান থেকে হতভাগা আমিটা জঘন্যভাবে ফেঁসে গেছি। এমনভাবে ফেঁসেছি না তোমায় নিজের করতে পারছি না এতকিছুর পরও ছাড়তে পারছি।’
পুলিশের কারণে বাইরে যেতে পারছিল না ইয়াসির। তার উপরে শুনেছে শীতলও জেলে। আর সুন্দরী মেয়ের জন্য জেলে হচ্ছে আরেকটা নরক, পুলিশরা হচ্ছে সেখানকার নারীখাদক। যদিও এসব জানে বলেই শুদ্ধ
শীতলকে স্পেশাল ট্রিটে রাখার আবদার করছিল কিন্তু মঞ্জুর করে নি আদালত। বিচারকের মতো আইন সকলের জন্য সমান। ওদিকে রবিরা
আক্রোশ মিটাতে লোক দিয়ে আন্দোলনে নেমেছে চৌধুরী বাড়ির মেয়ে বলে যেন ছাড় না পায়। টাকার দাপটে শাস্তি যেন কম না হয়। খুন খুনই! খুনের দায়ের যেন তাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। মিডিয়াও চৌধুরী বাড়ি নিয়ে নানান কুটুক্তি করে যাচ্ছে। আর এ সবটা একা হাতে সামাল দিচ্ছে শুদ্ধ। সেও দেখে যাচ্ছে শুদ্ধর দম! বলতেই হবে ছেলেটার দম আছে।
এরমধ্যে শাহাদত চৌধুরীও মারা গেলেন বর্তমানে বাড়ির অবস্থা আরো করুণ। এ কঠিন পরিস্থিতিতে শুদ্ধ আরেকটা ধাক্কা খাবে, বিশাল ধাক্কা।
এই ধাক্কা কিভাবে সামাল দেবে এটাই দেখার বিষয়। এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে টানা তিনদিন ধরে ইয়াসিরের খাওয়া নেই, ঘুম নেই। সে নিজের ফ্ল্যাটে একটু ঘুমের জন্য ছটফট করে যাচ্ছিল। কিন্তু কিছুতেই ঘুমাতে পারছিল না। পরে পিয়ান খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে ঘুমাতে সাহায্য করেছিল। ওষুধের প্রভাবে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিল সে আর ঘুমের মাঝে এতক্ষণ যা হচ্ছিল স্বপ্নে দেখছিল। কথায় বলে মানুষ নাকি কল্পনা বিলাশী। কল্পনায় তারা বেশি সুখী। একজন মানুষ যার কথা বেশি ভাবে, যাকে নিয়ে বেশি চিন্তা করে, মস্তিষ্কও সেটা লক করে ফেলে এবং স্বপ্নে তাকে দেখে। তার সঙ্গেও এটাই হচ্ছিল। এমন অবান্তর স্বপ্ন দেখে উঠে দাঁড়িয়ে ঘামে ভেজা মুখ মুছল। তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে পিয়ানকে নিয়ে বেরিয়ে গেল।
শারাফাত চৌধুরী হতভম্ব হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন। উনি বুঝে উঠতে পারছেন না শুদ্ধ হঠাৎ ঘুঙুর কিনল কেন? ঘুঙুর দিয়ে কি করবে সে? বাবাকে হতবাক দৃষ্টিতে তাকাতে দেখে শুদ্ধ নিস্পৃহ ভঙ্গিতে ঘুঙুরের দাম মিটিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে এলো। ইশারায় বাবাকে গাড়িতে বসতে বলে নিজেও ড্রাইভিং সিটে বসল। শারাফাত চৌধুরী পাশের সিটে বসে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করলেন,
__ ‘ঘুঙুর দিয়ে কি করবে?’
__’ তোমার ধার করা ছেলেকে পরাব।’
__’ইয়াসির? কি করেছে ও?’
__’বলব না। পারলে নিজে খোঁজ নিয়ে জেনে নাও।’
__’ শুদ্ধ! বিহেভ ইয়োর সেল্ফ। কি করেছে ইয়াসির?’
কয়েক মিনিট কোনো জবাব দিলো না শুদ্ধ। চোয়াল শক্ত করে গাড়ির হুইল ঘোরাতে লাগল। ঘাড়ত্যাড়া ছেলের মুখভঙ্গি দেখে কিছু বললেন না তিনি। তবে উশখুশ করতে লাগলেন। বাবার অবস্থা বুঝে কয়েক মিনিট পর শুদ্ধই জবাব ছুঁড়ল,
__’ ইয়াসির একটু বেশিই লাফাচ্ছে অথচ কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ঘুঙুর পরিয়ে দেই যাতে ঘটে বুদ্ধি না থাকলেও শব্দের জোরে অন্তত মানুষের মনোযোগ পায়। ঘুরে ঘুরে সবাই ওর দিকে তাকায়।’
__’সে কিন্তু তোমার বড় ভাই হয়!’
__’ তার পরিচয় সে শুধু তোমার ছেলে আমার কেউ টেউ না।’
__’সম্মান পেতে গেলে আগে সম্মান দিতে হয়।’
__’আমি তাকে সম্মান করি যে সম্মানের যোগ্য। এসব জ্ঞান আমাকে না দিয়ে তাকে বোঝাও আমাদের মাঝে যেন না আসে। শুধু তোমার জন্য বারবার বেঁচে যাচ্ছে। সোমবারে শীতলের সুনানি আছে এর আগে ওকে থামতে বলো। ওর জন্য যদি আমি আমার ওয়াইফের সঙ্গে দেখা করতে না পারি আমি কিন্তু কাউকে পরোয়া করব না।’
ছেলের কথা শুনে শারাফাত চৌধুরী সিটে হেলান দিয়ে চোখজোড়া বন্ধ করে নিলেন। এদের থামাবে কিভাবে উনি? ছোটো হলে কান মুলে নাহয় ঝগড়া থামাত। কিন্তু এরা যা শুরু করেছে কিছু বলার ওভাষা খুঁজে পান না তিনি। যেমন একরোখা ইয়াসির তেমনি ঘাড়ত্যাড়া শুদ্ধ। ছেলেটাকে কত করে বোঝালেন পরিস্থিতি খারাপ এখন যেন কোনো পাগলামি না করে। এখন যা হবে সব শীতলের উপর গিয়ে পড়বে। ছেলেটা শুনলোই না বরং আরেকটা বোকামি করে এসেছে। গতদিন যে বিচারক শীতলকে স্পেশাল ট্রিটে রাখার আবেদন গ্রহন করে নি তাকে থ্রেট দিয়ে এসেছে।
সেই বিচারক শীতলকে কারো সঙ্গে দেখা না করার আদেশ দিয়েছেন।
আর এতেই শুদ্ধর রাগের পারদ দ্বিগুন বেড়েছে। এর হেস্তনেস্ত করেই
ছাড়বে সে। শুদ্ধ হঠাৎ একসাইডে গাড়ি পার্ক করে শারাফাত চৌধুরীকে বলল ইয়াসিরের নাম্বারে কল করতে। তিনবারের বেলায় রিসিভ করতেই শুদ্ধ ফোনটা নিয়ে বলল,
__’ কোথায় তুই? তুই আসবি নাকি আমি যাব তোর কাছে?’
শুদ্ধর কন্ঠস্বর চিনে ইয়াসির ভ্রুঁ কুঁচকে ফোনের দিকে একবার তাকিয়ে রুক্ষ স্বরে জবাব দিলো,
__’ আমাকে কি প্রয়োজন?’
__’ আমি বিন বাজাব আর তুই নাচবি। তোর নাচ দেখার জন্য ডাকছি।’
ইয়াসির বিরক্তসূচক শব্দ করল। সব সময় এভাবে কথা বলে এই ছেলে।
এখন যদি সে গালি দেয় তাহলে তার দোষ হয়ে যাবে। তবে সে রাগল না বরং দাঁতে দাঁত চেপে জবাব দিলো,
__’ দেখ শুদ্ধ, মন-মেজাজ খুব খারাপ মাথা খারাপ করবি না। চুপ যা।’
শুদ্ধরও কথা বাড়ানোর রুচি নেই তাই মেইন পয়েন্ট এলো। হিসহিসিয়ে বলল,
__’আমার বউ খুনী হোক, ডাকাত হোক, জেল হোক কিংবা ফাঁসি হোক আমি বুঝে নেব। তুই এসবে জড়াবি না। না মানে, না! যদিও তোর শিক্ষা অন্যের বউয়ের পেছনে কুকুরের মতো লেগে থাকা। আর আমার শিক্ষা কুকুরকে মুগুর দেওয়া। দোয়া কর কাল যেন আমি আমার বউয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারি। কথা বলতে পারি। নয়তো কালই তোর ফাতরামির মাশুল তোকে দিয়েই উঠাব।’
এটুকু বলে কল কাটতেই তার ফোনে কল এলো। আজমের কল রিসিভ করে মন দিয়ে পুরো কথা শুনল। তারপর শারাফাত চৌধুরীকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে কাঁচা চিকন কঞ্চি হাতে গেল আজমের বলা লোকেশনে। রবির ছেলেপুলেদেরকে পটিয়ে ডাল-পরোটা খাইয়ে জায়গামতো নিয়ে গেছে আজম। যদিও সে নিয়ে যেতে বলেছে। কেন নিয়ে গেছে? ওই যে সেদিনের গানের পারিশ্রমিক দিতে হবে না? এত সুন্দর গান গাইল কিছু না দিলে হয়? একথা ভেবে শুদ্ধ প্রতি ধাপ ফেলতে ফেলতে গানের সেই লাইনগুলো মনে করার চেষ্টা করল। হাতের কঞ্চির দিকে তাকিয়ে ভেবে নিলো এটা দিয়েই তাদের কোমরে ঢেউ উঠাবে। না, না, ভুল হয়ে গেল
বকেয়া পারিশ্রমিক দেবে। আর গানের লিরিকগুলো তো এমনটাই ছিল,
শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮৩
বাংলা সিনেমায় নাকি ধুম পড়েছে,
আহামরি সুন্দরী এক নায়িকা এসেছে।
কোমরের দোলায় নাকি সাগরেরই ঢেউ,
দেখেছিস নাকি ওরে তোদের মাঝে কেও?
চল যাই, চল যাই, বাংলা সিনেমা দেখি…!’
সিনেমারই নাম নাকি পরাণ পাখি।’

Next part
apu next part den
Ato late kore kn porbo daw taratrai next part dio
Porer gulo taratari diyen plz ar ato choto prt kano?
Ar koto part baki?
প্রনয়ের অমল কাব্য সিজন ২ দেন
আপু তুমি ইয়াসিরের জন্য একটা পাটনার আনো plz ওকে এই ভাবে দেখতে কষ্ট হয়🥺
Det running golpo porte valoi Lage na 😔
Plz apu taratari diyo….❤️❤️❤️❤️
plz next part tadatadi den
Apu ektu taratari diba?
Next part plz tadatadi den
Ar koto kadaben apu🙂💔?
Next part?
পরবর্তী পর্ব গুলো একটু তাড়াতাড়ি দিবেন প্লিজ
আপু একটি তাড়াতাড়ি পরের পর্বটা দেও প্লিজ
আপু এবার তো চৌধুরী পরিবারের সবাইকে একসাথে করে দেও। আর কাঁদতে ভালো লাগে না। শীতলের আর শীতলের পরিবারের জন্য খুব কষ্ট হয়। এবার প্লিজ সব ঠিক করে দেও।😢😢
আপু প্লিজ অনেকগুলো পার্ট একসাথে দাও,এভাবে একটা একটা দিলে পড়ে মজা পাওয়া যায় না
85 part