Home শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮৩

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮৩

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮৩
নূরজাহান আক্তার আলো

-‘আমার বাবার শরীরে আজ না জানি কত আঘাত। কত ব্যথা। আপনারা যখন ধরবেন একটু আস্তে করে ধরবেন আমার বাবাকে। যত্ন করে শুঁইয়ে দিয়ে আসবেন শক্ত মাটির বিছানায়। আমি মেয়ে হয়ে তো সেসব পারব না তাই সবার মতো আপনার ঘাড়েই দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে গেলাম। আসছি আমি..।’

​কথাগুলো বলতে বলতেই শীতল একবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল কান্নারত মা-বোনের দিকে। মা-বোনকে কখনো এতটা অসহায় রূপে দেখে নি সে। সাক্ষী হয় নি এমন কঠিন পরিস্থিতির! হায় জীবন! এ জীবন তাকে এক নির্মম পরিস্থিতিতে এনে দাঁড় করাল। বুঝিয়ে দিলো জীবনের এক নির্মম বাস্তবতা। সে শুদ্ধর দিকে একপলক তাকিয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। পা জোড়া যেন চলছে না। হাঁটতে হাঁটতে মুখ তুলে আকাশপানে তাকাল।
অভিযোগ করবে কাকে? কী-ই বা বলবে? মৃত্যুর মতো এক ধ্রুবসত্যকে মানতে হবে। মানতে বাধ্য! পরক্ষণেই ঘুরে তাকাল খাঁটিয়ায় শুয়ে থাকা নিথর মানুষটার দিকে। অবাধ্য মন খুব করে চাচ্ছিল এটা দুঃস্বপ্ন হোক। মিরাক্কেল ঘটিয়ে বাবা তাকে ডেকে উঠুক। বরাবরের মতো তার মাথায় স্নেহের হাত রেখে আদুরে সুরে বলুন, ‘ ভয় নেই মা, আমি আছি তো।’

কিন্তু এমনটা হলো না আবার মনটাও মানতে চাইছে না বাবা আর নেই। ​
সে গাড়িতে উঠে বসতেই গাড়ির চাকা ঘুরতে শুরু করল। ঝাপসা চোখে তাকিয়ে রইল বাগানের দিকে। ধীরে ধীরে গাড়িটি মূল ফটক পেরোতেই চোখের আড়াল হয়ে গেল অতি প্রিয় মুখগুলো। উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখতে পেল না বাবাকে। আর পাবেও না কখনো, সারা পৃথিবী খুঁজলেও দেখা মিলবে না প্রাণপ্রিয় বাবার। হারিয়ে ফেলেছে সে, বাবা নামক অমূল্য সম্পদ চিরতরে হারিয়ে ফেলেছে। শীতল চলন্ত গাড়িতে বসে দু-হাতে মুখ ঢেকে চুপ করে বসে রইল। তবে নীরবে তার দুই কনুই বেয়ে গড়াতে লাগল তপ্ত নোনাজল। অবশ্য এ জল বুক ফেটে যাওয়ার জল। এ জল নিয়তির কাছে হার মানার জল। এ জল অসহায়ত্ব স্বীকার করার জল।
​পুলিশের গাড়িটি বেরিয়ে যেতেই সেনাবাহিনীর একটি কনভয় প্রবেশ করল চৌধুরী নিবাসে। বুট জুতার খট খট শব্দে চারপাশ প্রকম্পিত করে

‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের জন্য প্রস্তুত হলো। সকলেই দেখল জলপাই রঙের পোশাক পরা সৈনিকদের সম্মান প্রদর্শন। এরপর আকাশপানে তিনবার রাইফেলের ফাঁকা গুলি আর বিউগলের করুণ সুর বাজিয়ে শাহাদত চৌধুরীকে জানাল রাষ্ট্রীয় সম্মান। বুকে জড়িয়ে দিলো সবুজ জমিনের উপর লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকা।
​সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই শুদ্ধ, শারাফাত ও সাফওয়ান চৌধুরীসহ আত্মীয়-স্বজনরা ধীর গতিতে এগিয়ে এলেন। পরম মমতায় কাঁধে খাঁটিয়া তোলার প্রস্তুতি নিলেন। অদূরে ঘাসের উপর বসা সিমিনও বুঝে গেল শেষ বিদায়ের ঘন্টা বেজে গেছে। উনি মাটি আঁকড়ে ধরে শব্দ করে কাঁদতে লাগলেন। উন্মাদের মতো হাত-পা দাপাতে লাগলেন। উনার মনে হচ্ছে কেউ বুক চিরে হৃদপিণ্ড বের করে নিচ্ছে। বুকটা ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। প্রিয় মানুষটাকে ছাড়া কিভাবে বাঁচবে? কিভাবে চিরবিদায় জানাবে? কিভাবে মাটির অন্ধকার কবরে রেখে আসতে দেখবেন? রেখে আসা মাত্রই মাটি কি একটু সহজ হবে? নাকি মানুষটার দেহখানায় পঁচন ধরিয়ে মাটির সঙ্গে মিশেয়ে ফেলবে? আর কখনো কথা হবে না, দেখাও হবে না। মুখ খারাপ থাকলে হাসানোর চেষ্টা করবে না। কোনোকিছু নিয়ে চিন্তা করলে সাহস জোড়াবে না। ছুটি শেষে ফিরে গেলে পুনরায় ফেরার
অপেক্ষায় তৃষ্ণার্ত চাতক পাখির ন্যায় অপেক্ষা করা হবে না। কড়া গুনে গুনে হিসাব করে বলা হবে না, ‘কবে ফিরবে?’ যদিও এবারও ছুটি নিয়ে যাচ্ছে তবে এই ছুটি ফেরার ছুটি নয়! এই ছুটি চিরস্থায়ী ছুটি! পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে নিঃচিহ্ন হওয়ার ছুটি!

সিমিনকে এভাবে কাঁদতে দেখে শারাফাত চৌধুরী সিতারাকে ইশারায় বোঝালেন সিমিনকে সামলাতে। এমন করলে অসুস্থ হয়ে পড়বে তো।
স্বামীর ইশারা বুঝেও সিতারা সামলাতে পারলেন না। উনারা খাঁটিয়া তোলার আগেই সিমিন দৌড়ে গিয়ে বড় ভাই তুল্য শারাফাত চৌধুরীর পা জোড়া চেপে ধরলেন। করুণ সুরে কাঁদতে কাঁদতে হাতজোড় করে বললেন,
-‘ভাইয়া, ভাইয়া, ওকে নিয়ে যাইয়েন না ভাইয়া। আমার মেয়েরা বিপদে আছে। উঠতে বলুন ওকে। চারিদিকে বিপদ এখন কি ঘুমানোর সময়?ও
কথা দিয়েছিল আমার শীতলকে আমার বুকে ফিরিয়ে দেবে।দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে কেন পালানোর এত তাড়া তার? আর ও কোথায় যাচ্ছেন? ও কি ভুলে গেছে ওর ঠান্ডার ধাত আছে? সে তো ঠান্ডা মাটিতে শুতে পারে না, বুকে ঠান্ডা লেগে যায়। ভীষণ কষ্ট হয় মানুষটার।’
একথা বলে উনি খাঁটিয়ার কাছে এগিয়ে গেলেন। চোখের পানিতে ঠিক মতো দেখতেও পেলেন না মানুষটাকে। আস্তে করে জিজ্ঞাসা করলেন,

-‘ এত তাড়াতাড়ি পালাচ্ছ কেন তুমি? এমননতো কথা ছিল না। তোমার অবর্তমানে কাকে শোনাব আমার পোড়া জীবনে কথা? কে শুনবে বুকপোড়া আর্তনাদের কথা?’
উনার কথা শুনে সকলের চোখজোড়া ভিজে গেল। কিন্তু নিয়তি আজ বড়ই নিষ্ঠুর! বলা বাহুল্য, আপন বোনের মতোই ভাইয়ের বউদেরকেও স্নেহের নজরে দেখেন শারাফাত চৌধুরী। প্রতি ঈদে বাড়ির ছেলেমেয়ের সাথে সিমিন, সিরাতেকেও পোশাক দেন, সালামি দেন, অনেক সময় দেখা যায় সিতারার মাধ্যমে সিমিন, সিরাত উনার কাছে আবদার করে।

এ যেমন বাড়িতে একঘেয়েমি লাগলে কাছে কোলে ঘুরতে যাওয়ার কথা জানায়। নতুবা বাগানে পিকনিকের আয়োজন করার প্রস্তাব রাখে। রান্না করতে ইচ্ছে না করলে ইনিয়ে বিনিয়ে বাইরে খাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। আর উনিও সেসব মেনে নেয় কারণ না করার কারণ নেই, কারণ বাড়ির বড় তিনি; সকলের সবদিক খেয়াল রাখার দায়িত্বও উনার। বিপদে কত করে বোঝান। সাহস দেন। কিন্তু আজ সময় ভিন্ন। পরিস্থিতি ভিন্ন। শারাফাত
চৌধুরী বহুকষ্টে নিজেকে সামলে নিজের পা ছাড়িয়ে নিলেন। তারপর সিমিনের মাথায় স্নেহের হাত রেখে বললেন,
-‘ধৈর্য্য ধরো বোন। যেতে দাও আমাদের। যত সময় যাবে ভাইয়ের কষ্ট বাড়বে।’

উনি আর কিছু বলতে পারলেন না কন্ঠস্বর রোধ হয়ে এলো। ঝরঝর করে নিজেও কেঁদে ফেললেন। ভাইয়ের লাশ কাঁধে নেওয়ার মত কষ্ট কি কেউ জানে? বুঝে এ কষ্টের ওজন কতটা? মোদ্দাকথা, উনি সবার বড়, যাওয়ার কথা উনার, অথচ উনি থেকে গেলেন আর ছোটো ভাইটাই চলে গেল। এত কান্নাকাটির মাঝে অন্যরা এবার তাড়া দিলো। কেউ কেউ খুব বিরক্ত। অনেকে কাজ ফেলে এসেছে জানাযায় শরীক হয়ে আবার ছুটে যাবে কাজে। এবার শুদ্ধ বাকিদের যেতে বলে সিমিনকে আগলে বাড়ির দিকে হাঁটা ধরল। সিমিন যেতে চাইলেন না কেঁদে কত বারণ করল। কত আকুতি করল। তবুও নিথর দেহের শাহাদত চৌধুরীকে সাড়া দিলেন না। অতঃপর খাঁটিয়া কাঁধে তুলে দলে দলে পুরুষরা এগোলেন পারিবারিক কবরস্থানের দিকে। ততক্ষণে সিমিনের আর্তনাদে থমকে গেছে চারপাশ। সিতারা, সিরাতও ধরে রাখতে পারছিলেন না উনাকে। শুদ্ধ ধরে রাখায় রেগে কত মারলেন ছেলেটাকে। শুদ্ধ তবুও ছাড়ল না ছোটোমাকে। দাঁতে দাঁত চেপে লালবর্ণ চোখে শুধু সয়ে গেল সবটা। তারপর উনাকে বুঝিয়ে কোনোমতে শান্ত করে ছুটল কবরস্থানের দিকে। অন্যদিকের হসপিটালে থাকা সায়ন জানতেও পারল না তার তিন বাবার মধ্যে একজন চিরতরে বিদায় নিয়েছে। যার আঙুল ধরে কত ঘুরেছে, কত কী আবদার করেছে, কত জ্বালিয়েছে—সেই মানুষটার কবরে এক মুঠো মাটি ফেলার সুযোগ পেল না ছেলেটা। ​দেখতেও পেল না প্রিয় চাচ্চুর মুখখানা।

দুদিন পরের ঘটনা,
একটা সময় মাফিয়া জগতের সম্রাট ছিল ইয়াসির খান। যার ইশারায় পুরো শহর থমকে যেতো আজ সেই ইয়াসিরই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে ফ্ল্যাটের চার দেয়ালে। অর্থহীন হয়ে পড়েছে ক্ষমতার দাপট। একই শহরে থেকে শুনেছেও চৌধুরী বাড়ির বর্তমান অবস্থার কথা। এদিকে তাকেও পুলিশ খুঁজছে। বুরাকের মৃত্যুর দিন থেকে তার নামে ইনকাউন্টার জারি হয়েছে। যদিও পুলিশ, মৃত্যুর ভয়, কোনোকালেই ছিল না তার। ছিল না কোনো পিছুটান। কিন্তু এখন আছে।

আর সুবহানা চৌধুরী সেই পিছুটানে শক্ত করে লাগাম টেনে রেখেছে। তার হাত-পা ও ক্ষমতায় বেঁধে দিয়েছে অদৃশ্য শেকল। কিন্তু সেই শেকল ভেঙে মধ্যেরাতে উপস্থিত হয়েছে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের পেছনের গলিতে। পরনে কালো হুডি, মুখ মাস্কে ঢাকা। এদিকে স্ট্রিট লাইটের আলো পৌঁছায় না বিধায় একটু সুবিধায় হয়েছে।তাও প্রায় দেড় ঘন্টা রে ঘন্টা ওখানেই বসে আছে। পিস্তলটা কোমরে গোঁজা থাকলেও সেটা বের করার ইচ্ছা তার নেই। শীতল এখানে আসার পর থেকে প্রায়ই রাত এই গলিতেই কাটে তার। কি করবে সরাসরি গিয়ে তো দেখা করতে পারবে না কারণ এখানকার নিয়মকানুনও বেশ কড়া।

​সে যেহেতু অপরাধ জগতের সাথে যুক্ত তার জন্য শীতলের সাথে দেখা করাটা প্রায়ই অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ। এখানে দেখা করতে এলে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি পাস লাগবে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও বন্দীর সাথে সম্পর্কের প্রমাণ দাখিল করতে হয়। আর এ দুটোতেই তার ধরা পড়ার সম্ভাবনা ১০০%। কদিন অনেক চেষ্টা করে একটা পথে খুঁজে পেয়েছে। সেই আশাতেই কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে গোপন কক্ষে দেখা করার ব্যবস্থা করেছে। যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শীতলকেও আনা হয়েছে। এতরাতে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ভেবে মনে মনে ভয়ও পাচ্ছিল সে। কিন্তু রুমে ঢুকে পরিচিত পুরুষালি অবয় দেখে বুঝতে বাকি নেই মূল ঘটনা। রুমে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াসির ঘুরে দাঁড়াতেই মুখোমুখি হলো। তাকে দেখে শীতলের ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। বলল,

-‘ দিনের আলোতে এত ভয় কেন আপনার?’
-‘আমি রাতের রাজা তাই।’
-‘রাজারা চুরি করে না।’
-‘করে। স্বার্থে ঘা লাগলে রাজা-প্রজা কেউই চুরি করতে পিছ-পা হয় না।’
-‘এখানে কেন এসেছেন? দয়া দেখাতে?’
একথা শুনে ​ইয়াসির মাস্কটা নামিয়ে পকেট থেকে একটা ছোট প্যাকেট বের করল। ধীরস্থির কণ্ঠে বলল,
– ‘দয়া দেখানোর ক্ষমতা এখন আর রাখি না বাবুই। তবে পছন্দের কিছু
আগলে রাখার অভ্যাসটা এখনো যায়নি।’
​শীতল মলিন হাসল। আশপাশে তাকিয়ে চেয়ার টেনে বসে জবাব দিলো,

-‘আমাকে আগলে রাখার চেয়ে নিজেকে বাঁচানোটা আপনার জন্য এখন বেশি জরুরি ইয়াসির খান। তাছাড়া সুবহানা চৌধুরী আপনাকে অদৃশ্য শেকলে বেঁধেছেন, তা ভাঙার সাধ্য আপনার নেই।’
​ইয়াসির টেবিলের ওপর হাতে ধরা প্যাকেটটা রাখল। বরাবরের মতো সুন্দর করে পাল্টা উত্তর দিলো,
– ‘সুবহানা আমাকে আটকেছে আমার দুর্বলতা দিয়ে, ক্ষমতা দিয়ে নয়। আর আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এখন এই বদ্ধ ঘরে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমাকেই তাচ্ছিল্য করছে।’

কথার এ পর্যায়ে ​মেসেজ টোন বেজে উঠতেই ইয়াসির সতর্ক হয়ে গেল। বুঝে নিলো সময় খুব কম। সে এগিয়ে এসে শীতলের মাথায় হাত রাখতে গেলে শীতল মাথা সরিয়ে নিল। ইয়াসির হাত গুঁটিয়ে নিয়ে মলিন হেসে বলল,
– ‘ যেভাবেই হোক বের করব আমি, শুধু ধৈর্য ধরো।’
-‘যে শহরের রাজা নিজেই এখন ফেরারি, সে আমাকে বের করবে? এটা একটু হাস্যকর হয়ে গেল না? আর আমার বাড়ির লোক থাকতে আপনি কেন এসবে জড়াচ্ছেন? জড়ালেও আপনার সাহায্য কেন নিবো?’
-‘ তুমি যেখানে থাকবে, আমার সাম্রাজ্য সেখানেই হবে। দরকার পড়লে নতুন শহর গড়ব, তাও তোমাকে এই নরকে পচতে দেব না।’
​শীতল স্থির দৃষ্টিতে ইয়াসিরের দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখে ঘৃণা না কি অভিমান, তা বোঝা বড় দায়। সে নিচু স্বরে বলল,

-‘ সাম্রাজ্য তো আপনার ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। আজ আপনি নিজেই ফেরারি। যে মানুষটা নিজের পরিচয় লুকিয়ে মাঝরাতে চোরের মতো দেখা করতে আসে, তার মুখে বড় বড় কথা মানায় না।’
​ইয়াসির পকেট থেকে একটি রুপোর চেইন বের করল, যার লকেটে অদ্ভুত এক কারুকাজ। সে সেটা টেবিলের ওপর রেখে আলতো করে শীতলের দিকে ঠেলে দিল।
-‘পরিচয় লুকানোটা ভীরুতা নয় বাবুই এটা কৌশল। যে বাঘ শিকারের আগে নিজেকে ঝোপের আড়ালে লুকায়, সে ভয় পায় না বরং সে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করে।’

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮২

এবার ​হঠাৎ দরজায় দুবার টোকা পড়ল। বাইরে দাঁড়ানো সেই অসাধু কর্মকর্তার সতর্কবাণীতে জানা গেল, সময় শেষ। সিসিটিভি ক্যামেরা বেশিক্ষণ বন্ধ রাখাও ঝুঁকিপূর্ণ। ​​ইয়াসির মাস্কটা আবার মুখে টেনে নিল। যাওয়ার আগে শেষবার শীতলকে দেখে নিয়ে দরজার দিকে পা বাড়াল। দরজার হাতলে হাত রেখে ফিরে না তাকিয়েই বলল,
-‘আগামী শুক্রবার বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। সেদিন জানালার ওপাশে তাকিয়ে থেকো। রাতের রাজা তার রানীকে ফিরিয়ে নিতে ঠিকই আসবে।’

শেষ চৈত্রের ঘ্রাণ পর্ব ৮৪

20 COMMENTS

  1. আপু এতো দেরিতে কেনো দেন গো আর অপেক্ষা করা যায় না

  2. আপু তারাতাড়ি দেও ৮৪ নাম্বার পর্ব। আর কতো অপেক্ষা করবো।

Comments are closed.