সাঁঝের মায়া পর্ব ২২
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
ঈশান দ্রুত পায়ে বেড়িয়ে এলো ওয়াশরুম থেকে।পুরো আলমারি খুঁজে একটা নরমাল জামা পেলো না।সব শাড়ি। মেজাজ দারুণ খারাপ হচ্ছে এবার।রাতভর এভাবে জ্বরের মানুষ বসিয়ে রেখে.।. তার ওপর সে মেয়ে তো তাকে আজ পাগল করতে উঠেপড়ে লেগেছে।সন্ধ্যা রাতে ডিভোর্স চেয়ে মাঝরাতে কনট্রোল হারিয়ে বাসর সেরে ফেললে বিষয়টা নিশ্চয়ই ভালো দেখায় না।তার সব প্ল্যান এক ধাক্কায় জলে যাবে।তখন আরেক সমস্যা।
শাড়ি সে পড়াতে জানেনা।বাধ্য হয়ে নিজের শার্ট বের করলো আলমারি থেকে।বাথরুম এর দরজায় গিয়ে পা আটকে গেলো।খোদা জানে গিয়ে আবার বউ নামক নির্বোধ টাকে কি খোলা অবস্থায় দেখবে।ভয়ই করছে ঢুকতে।জোরেসোরে শ্বাস নিলো।এবার কিছু খুলে বসে থাকলে তারও কিছু করার থাকবে না আর।নিজের কোমড়ের বাকিটুকু খুলে ফেলে রাত টা এনজয় করা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না তার।সম্ভবই না আর কনট্রোল করা।আগুন এসে শরীর ঘেষবে আর সে পুড়বে না সেটা সম্ভব! পারবে সে!সে তো পুরুষ।হালাল এর সার্টিফিকেট নিয়ে এমন কাছে টানলে দিনদুনিয়া ভুলবে না সে! চোখ বন্ধ করে বাথরুম এ পা রাখলো সে।দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তাকালো সামনে।মূহুর্তে তার দুনিয়া থেমে গেলো।হৃদপিন্ড টা খাচা ছেড়ে বেড়িয়ে এলো বলে।দু হাতে বা পাশে চেপে ধরলো সে।চোখ বন্ধ করে পিছিয়ে গিয়ে ধাক্কা খেলো দেয়ালে।
যে ভয় পাচ্ছিলো সেটাই ঘটিয়ে বসে আছে মেয়েটা।ঈশান চোখ বন্ধ করে ফেললো দ্রুত। সবকিছু আগুনের তাপে ভস্ম হয়ে যাচ্ছে যেনো।তিতির সত্যিই জ্বরের ঘোরে নিজের জামাকাপড় খুলে বসে আছে।ঈশান কে সে বোধহয় মনেই রাখতে পারছে না।না হলে এমন করতো কখনো!
তোয়ালে খানা কোমড়ে জড়িয়ে নিয়েছে কোনোমতে,দাড়ালে অবশ্য খুলে পরবে বোধহয়, এবং ওপরের অংশে শুধু ভেজা কালো ইনার খানা…ব্লাউজ,পেটিকোট সব অবহেলায় নিচে পরে আছে।এইটুকু সময়ের মধ্যে ঈশানকে পোড়ানোর সব আয়োজন করে ফেলেছে মেয়েটা।
জোরে জোরে শ্বাস নিলো,নিজেকে ধাতস্থ করতে চাইলো।ভাগ্যের ওপর আজ রাগ হচ্ছে। এমন জঘন্য পরিস্থিতি তৈরি করে দেয়ার মানে হয় আজকের দিনে!তিতির প্রচন্ড জ্বরে বিরবির করছে কিছু একটা,গোঙাচ্ছে…
ঈশান তাকালো।মেয়েটা দেয়ালে হেলান দিয়ে আছে।দু হাত ঝুলে আছে। ঈশান কাঁপা পায়ে এগিয়ে গেলো সেদিকে। বেসিং এর শুকনো জায়গায় তার শার্ট টা রেখে অন্য তোয়ালে তে ভেজা চুল মুছে দিলো।শীতে নাকি ঈশানের ছোঁয়ায়, বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছে তিতির।তাকাতেই পারছে না,তবে বারবার তাকাতে চাচ্ছে।হঠাৎ অনেক কষ্টে দূর্বল নরম হাত টা তুলে দিলো ঈশানের ঘাড়ের ওপর।বাচ্চাদের মতো ফুপিয়ে ফুপিয়ে উঠলো,
“আমাকে বিছানায় যেতে দেওয়া হচ্ছে না কেনো!শীতে মরে যাচ্ছি।”
ঈশান দাঁতে দাঁত চাপলো।এই নেশার মতো কন্ঠ সে নিতে পারছে না।এই কন্ঠ যতবার তার কানে আসছে ততবার তার কঠিন হৃদয় ঝড় তুলছে।বিদ্রোহ করছে পুরো শরীর।
“বিছানায় নিলে আমার আদরে মরবি তাই নিচ্ছি না।”
তিতির ভাবুক চোখে তাকালো।রক্তিম চোখজোড়া নিভু নিভু অবস্থা। ঘাড়ের ওপর থেকে হাত টা ঈশানের গাল ছোয়ালো।গরমে পুরে যাচ্ছে শরীর।
“আদর করবেন?আমাকে?কেনো?”
“কেনো তুই ভাব।”
ঈশান সুন্দর মতো মাথা মুছিয়ে দিচ্ছে।তিতির বোধহয় ভাবতে ব্যাস্ত হয়ে গেলো। ঈশান শার্ট হাতে নিয়ে অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো আবার।এখন কি করবে।শার্ট টা পরাতে হলে তো আবার ভেজা ইনার টাও খুলতে হবে।আলতো হাতে তিতিরের দু গাল চেপে ধরলো সে।
“তাকা আবার।”
তিতির বাধ্যের মতো তাকালো।মাথা সোজা রাখতেই পারছে না।বারবার হেলে যাচ্ছে পিছনে।
“হুমমমম্।”
“আমি উল্টো ঘুরবো।তুই ইনার টা খুলে এই শার্ট টা পরে নিবি কেমন?তারপর বিছানায় নেবো।ওকে?”
তিতির মাথা নাড়লো।ঈশান শার্ট তার পায়ের ওপর রেখে নিজে ঘুরে দাড়ালো।শরীর জ্বালা করছে,মেয়েটাকে শুয়িয়ে দিয়ে আবার একটা লং শাওয়ার না নিলেই না।এতো অত্যাচার হচ্ছে আজ তার ওপর।এমন অবস্থায় এ জীবনে কখনো পরেছে বলে তার মনে পরলো না।কই সকালে যখন রুষার রুমে ছিলো।রুষা তো ঘুমের ওষুধ এ জ্ঞান হারানোর আগে প্রায় নাইটি টা খুলেই ফেলেছিলো।তখন তো একবারের জন্যও কোনোকিছু ফিল হলো না।আর না তো বাঁ পাশের এই অসভ্য বস্তুটা তখন এতো আন্দোলন করলো।তাহলে এই পুচকে মেয়ের সামনে এমন হওয়ার মানে কি।রুষা ও সুন্দর, কাছে টানতে ওস্তাদ। কই তার প্রতি এই আকর্ষণ তো কখনো ফিল করেনি সে,আর না তো ভুল হওয়ার কোনো ভয় পেতো,সবসময় নিজের ওপর কনফিডেন্স থাকতো,যে কারণে এতদিন এও রুষা তাকে এক বিন্দুও টলাতে পারেনি,কাছে নিতে পারেনি।তাহলে আজ এমন হওয়ার কারণ কি!
কোমড়ে হাত রেখে অন্য হাতে কপাল ডললো।তার শরীরে শুধু একটা প্যান্ট। উদাম শরীর অথচ শীত লাগছে না।শরীর থেকে যেনো গরম ধোয়া উঠছে ক্রমাগত,জ্বালা করছে সবকিছু।ভাবনার ছেদ পরলো তিতির এর কাঁদো কাঁদো কন্ঠে।
“ঈশান ভাই। “
ঈশান ঝট করে ঘুরে তাকালো।তার ধারনা ছিলো তিতির এর শার্ট টা পরা শেষ।তবে ঘুরে আশাহত হলো।শার্ট টা হাতে নিয়ে গোল গোল চোখ করে তার দিকে তাকিয়ে আছে।চোখজোড়া ছলছল করছে।ঈশান বিরক্তিসূচক শব্দ করলো।কড়া গলায় ধমক দিলো।
“এখনো জ্বালাময়ী রুপে বসে আছিস কেনো!পাল্টাতে বললাম না?”
“ইনারের হুক খুলছে না তো।”
ঈশানের বুক চিড়ে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে এলো।তার মতো ধৈর্যবান পুরুষ এ দুনিয়া তে আর কেউ কোথাও খুঁজে পাবে না।অসম্ভব! অ্যাওয়ার্ড পাওয়া উচিত তার একটা।মেজাজ খারাপ হলে।কিড়মিড় করে উঠলো।ধমকের স্বরে বললে,
“অন্যদিন খুলিস কিভাবে?”
“অন্যদিন তো এরকম হুকের ইনার পরিনা।ওইযে..
“ থাম।এখন ইনারের বর্ণনা শুনতে চাইনা আমি।দেখি ঘোর।”
তিতিরকে খানিকটা কাত করে বসালো।উন্মুক্ত পিঠ দৃশ্যমান চোখের সামনে।আজ এই বউ নামক নারীদেহের প্রতিটা অংশ,ভাজ তার চোখের সামনে খোলা খাতার মতো পরে আছে।
“হাত টা বুকে রাখ।”
“কেনো!”
“যা বলছি কর।ইনারের হুক খুলে দিলে আমার চোখের সমানে… ননসেন্স। বোকার মতো সব বর্ণনা না করলে বুঝিস না?হাত রেখে চেপে ধরে রাখ সামনের ইনার টা।”
তিতির ধীরেসুস্থে হাত রাখলো। কি আশ্চর্য! তিতির না হয় পারছে না খুলতে,সে কেনো দেখেশুনেও খুলতে পারছে না।চোখ ঘোলা হয়ে আসছে।হাতেও শক্তি পাচ্ছে না।দু হাতে চোখ ডলে নিলো।ফর্শা ধবধবে নগ্ন পিঠের ওপর এক টুকরো সুতোর মতো,সেখানে সরু একটা হুক!এগুলো মেয়েরা হ্যান্ডেল করে কিভাবে! অবাক লাগলো ঈশানের কাছে! সরু একটা ফিতের ভরসায় এরা দুনিয়াদারি ঘোরাঘুরি করে।ভাবা যায়।
পিঠের বা পাশটায় সুন্দর একটা তিল।ঈশানকে এবসর টানছে সেই বেয়াদব টা।আর পারছে না সে, শ্বাস নেয়া দুষ্কর।অজান্তেই আঙুলের উল্টো পাশ দিয়ে এবার ছুঁয়ে দিলো সে কালো কুচকুচে তিল টা।তিতিরের শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো।ঈশান দ্রুত হাতে হুক টা খুলে আবার উঠে দাড়ালো।
“এখন পর।দ্রুত।আমিও মানুষ। পুরুষ মানুষ।বোঝার চেষ্টা কর একটু।”
তিতির মোটেই দ্রুত কিছু করলো না।পারলে তবে তো।ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ইনার খানা খুলে পাশে রাখলো।উল্টো ঘুরে থাকা ঈশানের চোখ পরলো সেদিকে। পকেটে রাখা হাতের মুঠো পাথরের মতো শক্ত হয়ে এলো।কেউ একজন যেনো কানে কানে এখন তাকে ঘুরতে বলছে।বউ নামক নারীটির দেহের প্রতিটা অংশ নিজ চোখে দর্শন করতে বলছে,ছুঁয়ে,মেপে আদর করতে বলছে।ঈশান দাঁতে দাঁত চেপে নিজের মনকে ধমকের ওপর রাখলো।
” এখন যাই?”
“পরা হয়েছে?”
“উমমমম্।”
ঈশান ভয় ভয় চোখে তাকালো।পরেছে শার্ট টা।তবে এলোমেলো বোতাম লাগানো।ওপরের দুটো বোতাম তো লাগায়নি।যথারীতি বুকের ভাজ স্পষ্ট।
“ওপরের বোতাম দুটো লাগা।”
“খুঁজে পেলাম না তো।”
“হাত দে।খুজে পাবি।”
“লাগাবো কিভাবে?”
“মানুষ তো নেশা করলেও এতো মাতাল হয়না,যতটা তুই জ্বর বাঁধিয়ে হয়েছিস!নেশা করলে তুই তো বোধহয়… “
ঈশানের ধমকে ছলছল চোখ নিয়ে তিতির অপটু হাতে সময় নিয়ে কোনোমতে আর একটা বোতাম লাগালো।
“হয়েছে চল এবার,আর লাগবে না।”
ঈশান নিচু হয়ে পাঁজা কোলে তুলে নিলো তিতিরকে।ঢুলু ঢুলু মাথাটা এসে ঠেকলো ঈশানের উদাম বক্ষে।হাত বাড়িয়ে গলা ধরলো না।শক্তিই নেই বোধহয়। তিতির এর শরীরের উত্তাপে ঝলসে যাচ্ছে ঈশানের সর্বাঙ্গ। ফুলেল বিছানায় শুয়িয়ে দিতেই মুখটায় কেমন শান্তির আভা পরলো।এসি বন্ধ করে,চাদর গায়ে টেনে দিতেই শোনা গেলো তিতির এর আধো আধো কন্ঠ।
“আপনি কোথায় যাচ্ছেন?”
ঈশান নিচু হলো।ভেজা বেবি হেয়ার গুলো সরিয়ে দিলো মেয়েটার মুখের মুখের ওপর থেকে।আধবোজা চোখের পাতা তিরতির করে কাঁপছে, গোলাপি অধর জোড়াও তাই।মুখটা অস্বাভাবিক রক্তিম এখনো।জ্বর বিন্দুমাত্র কমেনি।আরও এতক্ষণ ভেজা গায়ে থাকায় বেড়েছে বোধহয়।ঈশান নরম আর নীচুগলায় বললো,”কোথাও না।”
“শোবেন না?”
“শোবো।”
“আমার কাছে আসুন। “
“তুই ঘুমা আমি….”
“রুষার কাছে যাবেন?”
“তিতির!”
“যান।মনেই ছিলো না আমার।যান যান।”
“উল্টাপাল্টা বকবি না।ঘুমা।আমার ধৈর্যের পরীক্ষা আজ কতটুকু নিয়েছিস তার হিসেব করলে নিজেই আফসোস করবি আমার জন্য। নেহাৎ তোর শরীর ভালো না জন্য দাঁতে দাঁত চেপে চুপ করে রইলাম।না হলে আই জাস্ট ফাকিং কেয়ার অ্যাবাউট অ্যানি সিচুয়েশন..যা হওয়ার পরে বুঝে নিতাম।”
“রুষাকে খুব ভালোবাসেন?”
“চুপ করতে বলেছি।”
তিতির মোটেও চুপ করলো না।ঈশানের কোনো কথা বোধহয় তার বোধগম্য হচ্ছেই না।সে তার মতো বলে চলেছে।
“খুব সুন্দর মেয়েটা?”
ঈশান হাটু ভেঙে বসলো বিছানার পাশে।তিতির কাত হয়ে তার হাত টেনে ততক্ষণে নিজের নরম তুলোর মতো গালের নিচে নিয়ে ফেলেছে তার হাতের তালু।মেয়েটার শরীরের উষ্ণতা অনুভব করতে পারছে খুব করে।রুমের সোনালী আলো আছড়ে পরেছে সেই মায়াবী চোখেমুখে। গোলাপি অধর কাপছে অনবরত।
ঈশান শুকনো ঢোক গিললো।বাঁকা হাসলো মেয়েটসর জেলাসি থেকে।নরম গলায় বললো,”হবে হয়তো।”
“আমার থেকেও সুন্দর? “
“না।”
“তাহলে ওর কাছে ছিলেন কেনো?”
“কে বললো।”
“আপনি।”
“সারাদিন, সারা সন্ধ্যা তো অনেকের সাথেই ছিলাম ?”
তিতির এর বন্ধ চোখের মাঝে সরু ভাজ পরলো।
“ওকে আদর করলেন কেনো।আমার বুকে জ্বালা করছে।কষ্ট হচ্ছে। “
ঈশানের অস্থির হৃদয় ক্রমশ অস্থির হচ্ছে। মেয়েটা জ্বরের ঘোরে কতকিই না বলছে।
“তোর কেনো কষ্ট হচ্ছে। “
“আপনি আমার ঈশান ভাই।আজকের পর থেকে তো আপনার আমার হওয়ার কথা ছিলো।শুধু আমাকে আদর করার কথা ছিলো।আজকের রাতটা আমাদের… কেনো নষ্ট করলেন। আমাকে কেনো ঠকালেন। “
ঈশানের বুকটা দুমড়েমুচড়ে উঠলো। এমন গলায় অভিযোগ জানালে সহ্য হয়!তার তো আজকে কঠিন সংযম এর দিন।পরিস্থিতির চাপে আজ সবটা এলোমেলো তাকে নিজ হাতে করতে হলো,না হলো আজকে। …
অন্য হাতের উল্টো পাশ তিতির এর অন্য গালে ছোয়ালো। স্লাইড করলো ধীরে ধীরে।
“কিচ্ছু নষ্ট হয়নি।”
“মিথ্যুক আপনি।আমাকে ঠকিয়েছেন।চলে যাবো।হারিয়ে যাবো।”
ঈশান শক্ত হাতে চেপে ধরলো তিতির এর গাল।বেঘোরেই ব্যাথায় চোখমুখ কুচকে নিলো।
“উল্টাপাল্টা কথা বলতে নিষেধ করিনি?বারবার এক কথা বলে কি বোঝাতে চাচ্ছিস?”
“আ…আপনি খারাপ লোক।”
“খারাপের দেখেছিস কি।দেখাবো?”
“রাহাত ভাই আমাকে অনেক ভালোবাসে।তার কাছে চলে…
তিতিরের কথা শেষ হতে পারলোনা।তার আগেই পাতলা গোলাপি অধর জোড়া দখল করে নিলো ঈশান।সরে যেতে নড়াচড়া করলো তিতির,কিন্তু ঈশান মোটেই ছাড়লো না।বরং তীব্র থেকে তীব্রতর হলো ওষ্ঠের ছোঁয়া। দূর্বল নরম শরীরখানা ঝাঁকি দিয়ে উঠছে বারবার,জ্বরের ঘোরে গভীর ভাবে অনুভব করছে কারো ছোঁয়া। ঈশান উন্মাদ এর মতো যন্ত্রণাময় আদরে ক্ষতবিক্ষত করে ফেললো নরম অধরোষ্ঠ…
ব্যাথায় গুঙিয়ে উঠছে তিতির,দূর্বল হাতে ঈশানের নগ্ন বুকে ঠেলছে সরাতে।সময় নিয়ে ছাড়লো ঈশান।কপালে কপাল ঠেকালো।দুজনেই হাপাচ্ছে, তপ্ত নিঃশ্বাস ছুঁয়ে যাচ্ছে একে অপরকে।
“যতবার পরপুরুষের নাম মুখে আনবি ততবার এভাবেই চুপ করাবো বলে দিলাম।”
তিতিরের অর্ধবোজা চোখজোড়া বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পরলো।ঈশান আবার উঠে যেতেই আবার টান পরলো হাতে।তিতির আবার হাত টা টেনে ধরেছে।
“যাবেন না ওই মেয়েটার কাছে।আমি এরকম সব ব্যাথা মেনে নেবো।”
ঈশান তিতির এর বাচ্চা বাচ্চস ফোলা মুখটার দিকে তাকালো।সৃষ্টিকর্তা সত্যিই জগতের সকল মায়া,সৌন্দর্য এই মুখটায় ঢেলে দিয়েছে।হাস্কিস্বরে বললো,
“এভাবে এখন ব্যাথা চাস না।আমি নিজেকে কনট্রোল করতে পারছি না।এখান থেকে দূরে যেতে দে আমাকে এই মূহুর্তে অসুস্থতার সুযোগ নিতে চাইনা।”
আধো আধো চোখ খুলে তাকালো তিতির।কনুই এ ভর দিয়ে আচমকা উঠতে গেলো।ঈশান দ্রুত হাতে ধরে ফেললো হেলেদুলে পরা শরীর।
“উঠিস না,ওষুধ দিচ্ছি খেয়ে নে।”
পাশের টেবিল থেকে দ্রুত হাতে ওষুধ নিয়ে মুখে দিলো তিতিরের।বালিশ ঠিকঠাক করে দিলো মাথার।
“এখন ঘুমা।জ্বর ছেড়ে যাবে একটু পর।”
“আপনাকে যেতে নিষেধ করলাম তো।”
ঈশান ঝুকলো। মাথার পাশে হাতে ভর করে নিচু হলো।কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
“আমার এখানে থাকাটা তোর জন্য কিন্তু একদম নিরাপদ না।আমি কিন্তু কনট্রোল এ নেই একদম।কেনো খুন হতে চাচ্ছিস! সহ্য করতে পারবি না আমাকে আজকে।”
তিতির দু হাতে জড়িয়ে ধরলো ঈশানের গলা।টেনে আনলো নিজের দিকে।ঈশান বাধ্যের মতো বিছানায় উঠে গেলো।বা হাতে ভর দিয়ে কাত হয়ে আধশোয়া হলো তিতির এর ওপর।তিতির যেনো সত্যিই আজকে নিজের সর্বনাশই চাইছে।অস্পষ্ট গলায় বললো,
“আদর চাই আমার।”
“তুই..
“করুন না আদর..আমাদের আজকে বাসর না?অনি আপু বলেছে আজকে আপনি যা করতে চাইবেন করতে দিতে।একদম বাধা না দিতে।আমার কষ্ট হলেও না।আমি দেবো না তো বাধা…একদম দেবো না।আমি তো আপনারই।তবু ওই মেয়েটার কাছে যাবেন না।আমি বাধা দেবো না।”
ঈশানের কনট্রোল ভেঙে চুরে মেঝেতে গড়াগড়ি খেলো। তিতির কল্পনাও করতে পারবে না তার কন্ঠ কোন পর্যায়ের আবেদনময়ী লাগছে।নিজ মুখে যদি কোনো নারী তার স্বামী কে এভাবে ডাকে সে পুরুষ কতক্ষণ পারবে নিজেকে আটকাতে।ঈশানও পারলো না।এক হাতে চাদর তুলে সরিয়ে দিলো।চেখের সমানে উন্মুক্ত হলো তিতিরের নগ্ন পাজেড়া..গায়ে শুধু মাত্র তার শার্টখানা।তিতিরের ছোট্ট দেহে কোমড় ছেড়ে আর একটু নিচ অবধি।
ঈশানে ভাড়ি শরীরের নিচে চাপা পরলো তিতির।নিজের হাত ছুয়ে দিলো ঈশানের উদাম শরীরে।লোমহীন বুকে কিছুক্ষন বিচরন করলো সে হাত।দু হাতে আকড়ে ধরলো ঈশানের পিঠ।খামচে ধরলো একপ্রকার। ঈশান খেই হারালো।ঠোঁট ডোবালো তিতির এর ওষ্ঠে।আলতো আদরের ধারেকাছে দিয়ে যাচ্ছে না ছেলেটা।যেতে পারছে না হয়তো।এতক্ষণ ধরে নিয়ন্ত্রণে রাখা নিজের পৌরুষ্যত্ব তিতির এর কামুক আবদারে বাধ ভেঙেছে।সেটারই বহিঃপ্রকাশের ফলস্বরূপ এই উন্মাদ এর মতো আদর।গভীর আশ্লেষে টেনে নিচ্ছে অধরসুধা।এরইমধ্যে হাত ছুঁয়ে দিচ্ছে নারী দেহের প্রতিটি ভাজ।অবাধ্য হাতের ছোঁয়ায় আবেশে বেঁকে যাচ্ছে তিতির নরম শরীর।ভিছানা ছেড়ে উচু হয়ে উঠছে সে ছোয়া সহ্য করতে না পেরে।আগুন আর ঘি মিলে গেছে।দুজনের কেউই নিয়ন্ত্রণে নেই।একে অপরকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করতে ব্যাস্ত।
ঠোঁট ছেড়ে এবার মুখ নামালো কন্ঠদেশে।টুকরো টুকরো চুমো একে দিলো সেখানে।দ্রুত হাতে তিতিরের শার্টের ওপরের বোতাম দুটো খুলে ফেললো।কামুক দৃষ্টি রাখলো বক্ষজোড়ার ভাজে।বা পাশের নরম অংশের ওপর একটা কালো কুচকুচে তীল।নিজের ঠান্ডা ওষ্ঠ ছোয়ালো সেখানে।চুমু তে স্থির থাকতে পারলো না।সেখায় কামড় বসাতেই গুঙিয়ে উঠলো তিতির।খামচে ধরা হাতের নখের আচরে ক্ষত হলো ঈশানের পিঠে।শরীর আবেশে শিথিল হচ্ছে তিতিরের।কাঁপতে কাঁপতে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরতে চাইছে ঈশানকে।কন্ঠদেশ থেকে বক্ষজোড়ার ভাজ কামড়ের কামড়ে রক্তিম হয়ে গেছে।তিতিরের গলা দিয়ে এখন শুধু শীৎকার এর শব্দ।এই শব্দে ঈশান নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে,কঠিন থেকে কঠিন আদরে পিষে ফেলছে তিতিরকে।তিতির শোয়া অবস্থাতেই পা জোড়া দিয়ে পেচিয়ে ধরেছে ইশানের কোমড়।
ঈশান ঠোঁট জোড়া আবার আকড়ে ধরে আরেকটু নিচু হতেই ভয়াবহ টান লাগলো পেটের কাটা জায়গা টায়।সেলাই এ ভয়াবহ ব্যাথা করে উঠলে।গরম অনূভুত হলে,রক্ত বের হচ্ছে হয়তো।সেদিকে খেয়াল দিলো না।ঠোটের কাজ অব্যহত রেখে উঠে বসলো।
নিজের হাত গলিয়ে দিলো তিতির এর ঘাড়ে।শক্ত হাতে চেপে কোলে এনে বসালো তিতিরকে।দু পা ঈশানের কোমড় আকড়ে ধরলো। তিতির তার ওপর বসতেই চোখমুখ বন্ধ করে ফেললো ঈশান।দু হাতে তিতিরের কোমড় হেচকা টানে আরও মেশালো নিজের সাথে।
আধভেজা খোলা চুল গুলো পেচিয়ে ধরলো নিজের হাতে।পিছন দিকে হেচকা টানে কাত করে মুখ ডুবালো বক্ষজোড়ায়।তিতির পিছন দিকে আবেশে একদম বেকে গেছে।নরম হাতে খামচে ধরলো ঈশানের চুল।
হঠাৎ অস্বাভাবিক কিছু চোখে পরতেই ঝট করতে বিছানার দিকে তাকালো ঈশান।চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেলো।অস্ফুটস্বরে আওড়ালো,”ওহ শিট!শিট!”
লাল রঙের তরলে সফেদ বিছানার চাদরখানা রক্তিম বর্ণ ধারন করেছে..ঈশান অসহায় চোখে তাকলো তিতির এর দিকে।আবেশে চোখ খিচে বন্ধ করে রাখা তিতিরের।তিরতির করে কাপছে গোলাপি অধরজোড়া।ঘাড় ছেড়ে পিঠে হাত নামিয়ে জড়িয়ে নিলো নিজের সাথে। মাথাটা চেপে ধরলো নিজের বুকের বা পাশটায়…তিতির নড়েচড়ে উঠতেই নরম কানের লতিতে ঈশানের ঠান্ডা চুমু অনুভব করলো।
“হুশশশশশ স্টপ মুভিং।জাস্ট স্টপ…”
এতো আদুরে কন্ঠের পরশে স্থির হলো তিতির।নিজের দুহাতে জাপটে ধরলে ঈশানকে।ইশান ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো,
“আজ তোর পিরিয়ড এর ডেট মনে ছিলো না?”
জ্বরের ঘোরেও চমকে উঠলো তিতির।নিভু নিভু চোখটা ঈশানের চোখে রাখতেই ঈশান ইশারা করলো বিছানার দিকে।তিতির একনজর দেখলো সেটা।ফিরলো ঈশানের দিকে।দু দুটো কামুক অসহায় দৃষ্টি মিলিত হলো।তিতির এবার এক অঘটন ঘটালো।ঠোঁট ছোয়ালো ঈশানের বুকে,কন্ঠদেশে..একদম কন্ঠ নামিয়ে ফিসফিস করে উঠলো,
“আমার আদর চাই।”
ঈশান হাপাচ্ছে।বুকের ভিতর,পুরো শরীরজুড়ে কি হচ্ছে তার শুধু সেই জানে।তিতিরের চুলের মুঠো ধরে পিছাতে চেষ্টা করলো তিতিরকে।একদম নড়লো না।বরঞ্চ আরও নড়েচড়ে উঠলো।নিজের ঠোঁট কামড়ে মাথা পিছিয়ে নিলো ঈশান।
“নড়বি না। প্লিজ।আমাকে স্থির হতে দে।”
“উহু।”
“নড়তে না করলাম তো।কোথায় বসেছিস হুশ আছে।নড়বি না।মরে যাচ্ছি আমি।”
“আই নিড ইউ..”
“আই অলসো নিড ইউ ব্যাডলি।বাট আই কান্ট।”তুই অসুস্থ। ইউ আর ইন ইওর পিরিয়ড রাইট নাও।উই কান্ট ডু অ্যানিথিং…
তিতির বুঝতে চাইছে না।ছোটাছুটি করছে একপ্রকার। ঈশান শক্ত করে চেপে ধরলো মেয়েটাকে। শক্তপোক্ত হাতে চাপে এবার নড়তে পারলো না। স্থির হলো খানিক টা।তিতির বুঝলো কি না কে জানে।দুজনের বুকের গতিই ছুটছে রীতিমতো। তিতিরকে বুকে রেখে বেশ সময় নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো ঈশান।তার শরীর ভিজে উঠছে… কিছুক্ষণ এর মধ্যে শরীর ছেড়ে দিলো তিতিরের।ঈশান শক্ত করে আগলে নিলো।জ্ঞান হারিয়েছে মেয়েটা।ঈশান মাথা হেলিয়ে তাকালো নিষ্পাপ সে মুখটার দিকে।জ্বরের ঘোরে কি পাগলামিই না করলো।আলতো চুমু বসালো পাতলা ঠোটে।
“কাল সকালে এগুলো কিছু মনে থাকবে তোর?থাকবে না তাইনা।আজ তোর এই অবস্থার জন্য আমি দায়ি।কি করেছিস নিজের দেখতে পাচ্ছিস! আজ যদি সেন্স এ থাকতি না আমি এতো কাছে আসতে পারতাম,আর না তুই আসতি…”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে কপালে কপাল ছোয়ালো।হৃদয় টা কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না।একদম হচ্ছে না।তার ওপর দিয়ে আজ কি ঝড় গেলো মেয়েটা কখনো বুঝবে?বুঝবে না।অবশ্য তাতে ওরও দোষ নেই,এই বাজে পরিস্থিতি, তাদের এই দুরত্ব নিজ হাতে তৈরি। কি করতে পারতো সে এ ছাড়া।
“আজকের রাত টা নিয়ে তুই বুঝি অনেক স্বপ্ন দেখেছিলি?অ্যাম সরি।খুব সরি আমার রাতপরী।আমি সব ঠিক করে দেবো।সবটা।”
আলতো করে বিছানায় শুয়িয়ে দিলো তিতির কে।উঠে গিয়ে শার্ট টা গায়ে জড়ালো।সফেদ ট্রাউজার খানা এই মূহুর্তে রক্তে মাখামাখি। দ্রুত পাল্টে নিলো সেটা।সাত পাঁচ ভাবলো কিছুক্ষণ। এই অবস্থায় একটা মেয়েকে কি করে কি করতে হয় তার জানা নেই।অনিমার নাম্বার ডায়াল করলো।দু বার কেটে যাওয়ার পর ওপাশ থেকে কল ধরলো।
“অনি।”
“ইশান?এতো রাতে।কোনো প্রবলেম? “
“,একটু আমার রুমে আসতে পারবি।তিতির ইজ সিক।”
“আসছি আসছি। “
“একা আসিস প্লিজ।”
মিনিট পাঁচেক এর মধ্যে অনিমা আসলো ঈশানের রুমে।তিতিরের শরীর চাদরে ঢাকা।চাদর খানা বুক অবধি তোলা।সেদিকে তাকাতেই অনিমা বাকা হাসলো।গলায় বেশ কয়েক জায়গায় জখম হয়ে আছে।গায়ে ঈশানের শার্ট।ঈশানের দিকে তাকাতেই ঈশান চোখ সরিয়ে নিলো।
“ওভাবে তাকানোর মতো কিছু হয়নি।”
অনিমা হাসলো।”হয়নি?সে-তো দেখতেই পাচ্ছি।সেন্সই নেই মেয়েটার।”
“যেটা ভাবছিস সেটা নয়।ওর প্রচন্ড জ্বর।”
“ওয়েট ওয়েট…বুঝতে পারছি তো আমি।বলতে হবেনা।”
অনিমা ঘুরেফিরে উল্টাই বুঝছে।অতটা ভাবার মতো যে কিছু হয়নি সেটা সে কিভাবে বোঝায়।
“সি ইজ ইন হার পিরিয়ড।”
অনিমা গোল গোল চোখ করে তাকালো।
“হোয়াট! “
“আমি ঘুমিয়ে পরেছিলাম।বৃষ্টি তে ভিজে জ্বর বাধিয়েছে।জ্বরের।ঘোরে প্রলাপ বকছিলো।কোনোমতে চেঞ্জ করিয়েছি।এখন খেয়াল করলাম….দেখ একটু। ও জ্বরে একদম সেন্স এ নেই।”
অনিমা বন্ধুর কাঁধে হাত রাখলো।”,আমি দেখছি।”
”আমি বাইরে যাচ্ছি।তোর হলে আমাকে ডাকিস।”
“দেখিস কারোর সামনে পরিস না আবার।ক্ষেপিয়ে পাগল করবে কিন্তু। “
কথায় আছে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয়।দরজা খুলে করিডরে দারাতেই কিছুক্ষনের মধ্যে সাক্ষাৎ বাঘের সামনেই পরলো সে।নিয়াজ সবেই নিচ থেকে বোতলে করে পানি নিয়ে সিড়ি দিয়ে ওপরে আসছিলো।তার রুমের পানি শেষ হয়ে গিয়েছিলো।করিডরে ঈশান কে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে গেলো।একপ্রকার চেচিয়ে উঠলো।ছুটে এলো ওর সমানে।
“কিরে তুই এখানে কেনো এখন।তোর বউ কোথায়?”
“কোথায় থাকবে।ভিতরে…”
“পারফরম্যান্স বাজে বলে বের করে দিয়েছে?”
ঈশান চোখ রাঙিয়ে তাকালো নিয়াজ এর দিকে।নিয়াজ হো হো করে হেসে উঠলো।
“বল বল।চোখ রাঙিয়ে লাভ নেই।ভয় পাই আমি?”
“শাট আপ।”
“সত্যি করে বল।”
“তিতির অসুস্থ…তাই অনিমা কে ডেকেছিলাম।”
নিয়াজ এবার আরও উচ্ছসিত হলো।বিষ্ময়মাখা গলায় বললো,”কি করেছিস ভাই মেয়েটার সাথে! বলেছিলাম বাচ্চা মেয়ে,নাজুক..বি জেন্টল…”
ঈশান সজোরে কিল বসালো নিয়াজের কাঁধে, ছেলেটা ব্যাথা বাঁকা হয়ে গেলো।
“অন্য প্রবলেম। “
“তোকে আমি বিশ্বাস করলামই না।কি করেছিস সেটা বল।”
“বাজে বকিস না।কিচ্ছু হয়নি আমাদের। আই ডোন্ট লাইক হার আই সেইড দ্যাট..”
এবার মনে হয় সিরিয়াস হলো নিয়াজ।এক হাতে চেপে ধরলো ঈশানের বাহু।
“এখন এটা বলিস না তুই সত্যি মেয়েটাকে উল্টাপাল্টা বলেছিস।”
ঈশান পকেটে দু হাত গুজলো।উত্তর দেওয়ার কোনো লক্ষন দেখতে পাওয়া গেলো না।
“ঈশান..?”
“বলেছি। তো?”
“কি বলেছিস? “
“যা বলার।”
নিয়াজ দু হাতে কপাল ঘষলো।চোখেমুখে উদ্বেগ।
“রুষা কে নিয়ে কিছু বলিস নি তো।”
ঈশান ভাবলেশহীন ভাবে তাকালো।
“বলেছি।”
নিয়াজ দু হাতে মুখ ডললো।হতাশা চোখেমুখে স্পষ্ট।
“তোর রাগ জেদ কমাবি না তুই!”
“রাগ জেদের কি আছে।”
“মেয়েটাকে কষ্ট দিচ্ছিস কেনো।লাইফে আগে কেউ থাকতে পারে।বিয়ে করেছিস। এখন তোর বউ ও।অতীত ভুলানোর দায়িত্বও তোর।ওগুলো নিয়ে জেদ করে কষ্ট দেয়ার মানে হয়?”
“আই ডোন্ট লাইক হার।আমি ওকে বউ হিসেবে অ্যাকসেপ্ট করি না।”
“তোর জেদে একদিন মেয়েটাকে হারাবি বলে দিলাম।আর কি বলেছিস।”
“ডিভোর্স চেয়েছি।”
ইশানের নির্বিকার জবাবে নিয়াজ এর চোয়াল ঝুলে গেলো।ঠিক শুনেছে কি না বোঝার চেষ্টা করলো।নিজেকে ধাতস্থ করে চেচিয়ে উঠলো।
“আর ইউ ম্যাড বাডি?”
ঈশান কিছু বলার আগেই অনিমা বেরিয়ে এলো রুম থেকে।নিয়াজ কে দেখে বাকা হাসলো ঈশানের দিকে তাকিয়ে।
“যা জ্ঞান ফিরেছে।আমি উঠিয়ে ওকে ফ্রেশ করে দিয়েছি,শুয়িয়ে দিয়ে এসেছি।পেইন কিলার খায়িয়ে দিস একটা।”
ঈশান মাথা নাড়লো।নিয়াজ এর মাথায় কিচ্ছু ঢুকতে চাচ্ছে না।এই সবে বললো কিচ্ছু হয়নি,কিচ্ছু করেনি মেয়েটার সাথে। ডিভোর্স চেয়েছে।এই আবার অনিমা বলছে সেন্স ছিলোনা,পেইনকিলার।মানে কি এসবের।হা হুতাশ করতে করতে অনিমার সামনে আসলো নিয়াজ।
“কি করেছে ও মেয়েটার সাথে বলতো?ওর কথা আমি বিশ্বাস করিনা।”
“আগে কি করেছে জানিনা।তবে পরে বোধহয় শেষ করতে পারেনি।”
নিয়াজ অধৈর্য হলো।
“হেয়ালি করবি না।”
অনিমা আড়চোখে ঈশানের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট টিপে হাসলো।নিয়াজকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বললো,
“মান্থলি প্রবলেম গাধা…দেওয়ান সাহেব উপোশ ভাঙ্গতে চেয়েছিলো।শেষ মূহুর্তে বোধহয় পারেনি।চল এখন।”
ঈশান ধীরে সু্স্থে ঘরো আসলো।অনিমা বিছানার চাদর থেকে শুরু করে সব সুন্দর করে পাল্টে দিয়ে গেছে।তিতিরকে একটা পাতলা সুতির শাড়িও পড়িয়ে গেছে।ঈশান বিছানায় উঠে পাশে গিয়ে বসলো।নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।কপালে হাত রাখলে।বেশ জ্বর এখনো।
“আমাকে পাগল করে কি নিশ্চিন্তেই না ঘুমাচ্ছিস!কি একটা বাসর রাত গেলো।জীবনে ভুলবো না বিশ্বাস কর…কি শাস্তিটাই না দিলি।”
আলতো হাতে চাদর টা টেনে দিলো।নিজেেও শুয়ে পরলো পাশে।গরম শরীরের উপস্থিতি পেয়েই বিড়াল ছানার মতো ঘেষে আসলো তিতির। ধীরেসুস্থে ঢুকে গেলো ঈশানের চওড়া শক্তপোক্ত বুকের মধ্যে। ঈশান নিজেও কোমড়ে হাত রেখে কাছে টেনে আনলো।ওর হয়তো এখনো শীত শীত লাগছে,লাগারই কথা,জ্বর না কমা পর্যন্ত শীত লাগবেই।
সাঁঝের মায়া পর্ব ২১
“সকালে এভাবে আমার বুকে নিজেকে পেয়ে আবার চরিত্রহীন আখ্যা দিবি না তো?”
“উমমমম্।”
“আর এমন শব্দ করিস না বাপ।এবার আর বাঁচবো না।এমনিতেই এখনো জ্বালা যন্ত্রণা একবিন্দু ও কমেনি।”
“উমমমমম।”
আরও দ্বিগুণ আবেদনময়ী শব্দ করে মুখ ঘষলো ঈশানের বুকের খোলা অংশে।ঈশান ঠোঁট কামড়ে চোখ বুজে পরে রইলো।
