Home সাঁঝের মায়া সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৮

সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৮

সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৮
দুর এ দিলশাদ্ দুআা

অন্য দিনের থেকে আজ আবহাওয়া বেশ অন্য রকম। টানা কয়েকদিনের তীব্র গরমের পর আজ শীতল বাতাস বইছে দিনের আলোতে। আকাশে বেশ মেঘ। সূর্য ঢাকা পরে আছে আবছা কালো মেঘেগুলোর আড়ালে।
যে কারণে বাইরে বেশ মানুষ জনের সমাগম। ঈদ উপলক্ষে পরিবার, পরিজন নিয়ে ঘোরাঘুরি তে ব্যাস্ত সকলেই ।
দেওয়ান বাড়ি থেকে সবাই মিলে বেড়িয়েছে বেলা সাড়ে বারোটার দিকে। দুপুরে বাইরেই লাঞ্চ করবে। যদিও সকাল থেকে যে পরিমাণ খাওয়া দাওয়া করা হয়েছে কারোরই দুপুরের খাবারে আপাতত আগ্রহ কাজ করছে না ।
ঈশান রা এসেছে তাদের এলাকা থেকে কয়েকমাইল দূরে নতুন এক লেক সাইট পার্কে। সম্পূর্ণ ইকোপার্ক এর মতো সাজানো গোছানো বিশাল এড়িয়া জুড়ে। সবুজে সবুজে ছেয়ে আছে গোটা পার্কটা। কিছুদূর পরপর ছোট্ট ছোট্ট লেক, পর্যটক দের জন্য মিনি কটেজ। মনোমুগ্ধকর জায়গা।

এই জায়গার খোঁজ দিয়েছে নিয়াজ। ঈদে ঘুরতে বের হবে সবাইকে নিয়ে, এ উপলক্ষে পনেরো দিন হলো জায়গা খোঁজ করে যাচ্ছে। বাড়ি থেকে আসতে সময় লেগেছে এক ঘন্টার মতো।
গাড়ি থেকেই নামতেই দমকা বাতাস এসে ছুয়ে দিলো সকলকে। রিয়া, রোশনি,রাফি আর তমার ছোট ভাই তিয়াশ চারজন একসাথে হাত ধরাধরি করে সামনে সামনে হাটছে। পিছনেই নূরি আর নিশি। নিয়াজ আসার পর থেকে ছটফট করছে নিশির কাছাকাছি ঘেষতে। ঈশানের ভয়ে যদিও পারছে না সেটা। ঈশানকে পরখ করে গলার স্বর নামিয়ে বন্ধুদের দিকে ফিরে বললো,

_____”ঈশান আর তিতির কে আলাদা করে দিচ্ছিস না কেনো? ওরা আলাদা হলে আমরা আমাদের মতো সময় পাই একটু।”
নিয়াজের কথায় ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকালো সাজিদ, অনিমা, নাঈম। তিতির আর তমা হাত ধরাধরি করে করে আসছে। বেশ পিছনে যদিও । ঈশান তারও পিছনে। গভীর মনোযোগ ফোনের দিকে। অনিমা হেসে বললো,
_____”বউ যেনো আবার শাড়িতে জড়িয়ে আছাড় না পরে তার জন্য ঈশানের কনসার্ন দেখেছিস। হাও সুইট।”
সাজিদ বউয়ের অতি উচ্ছাস দেখে অবাক কন্ঠে বললো,
_____”ও পিছন পিছন হাটছে সেটা তোমার চোখে পরলো। অথচ আমি যে তখন থেকে হাত ধরে হাটছি সেটা চোখে পরলো না তোমার? “
অনিমা মুখ বাকায়। মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ওদের দিকে। নাঈম দাড়িয়ে থাকা বন্ধু দের পাশে থামলো। খানিকদূরে নিশি আর নূরিও দাড়িয়ে। গাছের ওপর একটা হলুদ পাখি দেখিয়ে কি সব বলছে তখন থেকে। নাঈম সেদিক থেকে চোখ সরিয়ে বললো,

_____”ঈশান তিতির কে আলাদা পাঠাই। আর সাজিদ অনিমা তোরাও। আমি আর নয়ন রিতু, নূরি, রিশা, রোশনি, তিয়াশ, তমা কে নিয়ে আশপাশ টা ঘুরে ফিরে দেখি। তাহলে ওদিকে নিয়াজ আর নিশি ও একটু সময় কাটাতে পারবে। কি বলিস?”
মাথা নাড়লো সকলে। নয়ন নিজে নিশি আর নিয়াজ এর বিষয়টা আন্দাজ করলেও সিওর ছিলো না। তবে এদের কথায় আজকে নিশ্চিত হলো। মিটিমিটি হাসলো শুধু খানিকটা। মিনিট তিনেক পর তিতির আর তমা এসে পৌছুলো তাদের কাছে।
_____”দাড়িয়ে কেনো সবাই!”
তিতিরের প্রশ্নে ঈশান ফোন থেকে মুখ তুললো।
সাজিদ ঈশানের দিকে উদ্দেশ্য করে বললো,

_____”নতুন কাপল দের একটু কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করতে দিতে হয়। আমরা সেটা বুঝি। তমা আমাদের সাথে এসো। তোমার বোন আর দুলাভাই একটু ঘোরাঘুরি করুক।”
তমা সাজিদের ইশারা বুঝে লাফিয়ে চলে গেলো তিতির এর পাশ থেকে। তিতিরের হাত ছেড়ে রিতুর পাশে এসে দাড়ালো। তিতির ইতস্তত করে ঈশানের দিকে তাকালো। ঈশান ভাবলেশহীন ভাবে দাড়িয়ে। তিতিরের মনে হলো ঈশান সম্ভবত চাচ্ছে না। ধীর গলায় বললো,
____”সমস্যা নেই ভাইয়া। একসাথেই থাকি সকলে।”
সবাই তাকালো ঈশানের দিকে। ওর ভাবলেশহীনতা দেখেই যে তিতির ইতস্তত করছে তা বুঝতে পারলো সকলে। তাছাড়া সত্যিই তিতির সবার সাথেই ঘুরতে চাচ্ছিলো আদতে। তিতির এগিয়ে গেলো সবার দিকে।
____”আমি আপনাদের সাথেই থাকবো। চলুন।”
নিয়াজ অসহায় চোখে তাকালো নাঈম এর দিকে। ঈশান যতক্ষণ তাদের সাথে থাকবে ততক্ষণ কেউ-ই নিজেদের মতো এনজয় করতে পারবে না। কতগুলো দিন পর নিশি কে বাড়ির বাইরে পাচ্ছে। একটু হাত ধরে হাঁটবে না! হোক নিব্বা নিব্বির কারবার। ভালোবাসায় কোনো ম্যাচুইরিটি দরকার নেই। নিয়াজ এর চোখের ভাষা ধরতে পেরে নাঈম আরেকদফা জোর করলো ঈশানকে। সবার যুক্তিতে বিরক্ত হয়ে ঈশান তিতিরের কবজি ধরে আচমকা টেনে রওনা হলো অন্য রাস্তায়।
হেসে ফেললো সকলে। তিতির, ঈশানের ওভাবে চলে যাওয়া দেখে এগিয়ে আসলো নিশি, নূরি। ঈশান রা চোখের আড়াল হতেই নিয়াজ একদম ঘেষে দাড়ালো নিশির পাশে। গলা নামিয়ে বললো,

____”ময়নার মা আমার সাথে এসো।”
নিশি বিরক্ত চোখে তাকালো। দাতে দাঁত পিষলো।
____”তোমাকে কতবার বলেছি আজেবাজে নামে ডাকবে না আমাকে।”
নিয়াজ দাতে জিব কাটলো। এক হাতে কান স্পর্শ করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গি করলো। অবশেষে আগের মতোই ঠিক হলো। নিয়াজ নিশিকে নিয়ে যাবে। তবে সাজিদ আর অনিমা আলাদা যেতে রাজি হলো না। বহু বছরের বিবাহিত জীবন তাদের। নতুন স্বামী স্ত্রী বা প্রেমিক প্রেমিকাদের মতো লুকিয়ে,আলাদা আলাদা প্রেম করা তাদের শোভা পায় নাকি! তাছাড়া ছোট ভাইবোন গুলোকে এভাবে একা রেখে আলাদা ঘুরবে এটা কেমন দেখায়! ঈশান তিতিরের নতুন দাম্পত্য, নিয়াজ নিশির লুকিয়ে প্রেম। ওদের না হয় ব্যাপারটাই আলাদা।

আজিমপুর কবরস্থান এ একটা কবরের সামনে স্থির হয়ে দাড়িয়ে আছে ইয়াজ ৷ ঘন্টাখানেক হলোই দাড়িয়ে। বছরের একটা দিনই সে এই খানে আসে। সেটা এই রোজার ঈদের দিন। যেদিন কবরে শুয়ে থাকা মানুষ টা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলো ইয়াজ দীর্ঘক্ষণ পরে নড়েচড়ে উঠলো এবারে। ঝুকে বাধাই করা কবরের ওপর থেকে মরা পাতা, ডাল-পালা সরিয়ে দিলো সযত্নে। পাশেই বসলো হেলান দিয়ে।
_____”অনেকদিন পর আসি বলে রাগ করিস হু? আমিও রাগ করেছিলাম। যেদিন আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলি তুই। বড্ড একা হয়ে গেছি আমি তারপর থেকে। আজ নাকি ঈদ! তুই চলে যাওয়ার পর থেকে ঈদ আমার জীবনে আর আসেনি। সত্যি। একদম আসেনি। ভবিষ্যতেও আসবে না। এই দিনটা আমার সব কেড়ে নিয়েছে। সব। সুখ, শান্তি, মানুষ, সময় কিচ্ছু বাদ রাখেনি।”
খানিকক্ষণ চুপ করে রইলো ইয়াজ। অনেকেই আসছে কবর জিয়ারত করতে। ঈদের একটা পবিত্র দিন বলে কথা। অন্য সময় নিদারুণ নিরবতা থাকলেও আজকের দিনে ক্ষনে ক্ষনে মানুষ জনের সমাগম দেখতে পাওয়া যায়। এইযে এখন যেমন যাচ্ছে। যোহরের নামাজ আদায় করে অনেকেই আসছে প্রিয়জনের কবর জিয়ারত এ। আশপাশে বড় বড় গাছে ঢাকা। পাখির কলরব কানে এসে বাজছে। রোদ নেই আজকে। বিধায় গরমের তীব্রতা নেই বললেই চলে। মৃদু বাতাসে গাছের মরা পাতাগুলো ঝরে পরছে। ইয়াজ বারবার ব্যাস্ত হাতে সেসব সরাতে ব্যাস্ত।

_____”তুই চলে যাওয়ার পর হয়ে গিয়েছি নাস্তিক বুঝলি। খোদাকে ডাকা বন্ধ করে দিয়েছি। পাপ করছি তাইনা? আচ্ছা আমার পাপের শাস্তি ও কি খোদা তোকে দিচ্ছে? যেমন করে তোর পাপের শাস্তি আমরা ভোগ করছি। হুম?”
নিস্তব্ধতায় ঘেরা কবর থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসবে না। কখনো আসবে না। তবুও একেরপর এক প্রশ্ন সাজাতে ব্যাস্ত ইয়াজ। আচমকা শব্দ করে বেজে উঠলো সেলফোন খানা। ফোন কানে ঠেকালো।
_____”স্যার ঈশান আরশাদ পরিবার নিয়ে শাহবাজপুর ইকো পার্ক টায় গিয়েছে আধঘন্টা হলো।”
_____”কে কে?”
_____”ওর বউ,বোন,ভাই, বন্ধুরা সবাই।”
_____”নূরি?”
_____”নূরি ম্যাডাম ও আছে।”
_____”সুস্থ? “
_____”দিব্যি হাটাচলা করছে। হেসে হেসে কথাও বলছে।”
বড্ড অসন্তুষ্ট হলো ইয়াজ এ কথায়। ঘাড়ে হাত ঘষতে ঘষতে বললো,
_____”বেইমান একটা। হাসি আসে কোথা থেকে ওর! পর হাসি আমার সহ্য হবে না আজকের দিনে। আর ঈশান?”
_____”বউ নিয়ে ।”
_____”আলাদা?”
_____”হু।”
_____”নজর রাখ সবার দিকে। “
ফোন পকেটে রেখে বিশ্রী শব্দে হাসলো ইয়াজ।

_____”ওরা খুব সুখি পরিবার বুঝলি। আমরা যেমন ছিলাম। ঈশান আবার নতুন বিয়ে করেছে। কাকে জানিস? তিতির! চিনলি কি? নাহ তোর চেনার কথা না। প্রথমে দেখিনি মেয়েটাকে। যখন দেখলাম বুঝলাম সাক্ষাৎ স্বর্গ থেকে নেমে আসা কোনো অপ্সরা। ওদের জন্য কবর খুড়ে রেখেছি তোর পাশে। এইযে দেখ। কিন্তু ঈশান আরশাদ নাকি মেয়েটাকে ভালো বাসে না। সে কারণে হয়তো লোকসমাজে জানায় নি বিয়ের কথা। তাহলে কেমন হলো! মেয়েটাকে মারার পরিকল্পনায় দেরি হচ্ছে এ কারণে। ভালো না বাসলে মেরে কি হবে। ঈশান টা পুড়বে না তো। ওকে পুড়িয়ে অঙ্গার করতে হলে মেয়েটাকে আগে ওর ভালোবাসতে হবে। যে মূহুর্তে আমি নিশ্চিত হবো ও মেয়েটাকে পাগলের মতো ভালোবাসে সেই মূহুর্তে ওই মেয়ের আয়ু শেষ হবে ঈশানের দুনিয়াতে। তখন ঈশান আরশাদ দেওয়ান ও দেখবে অন্য কারোর ভালোবাসা, সুখ কেড়ে গোটা একটা পরিবার ধ্বংস করলে কেমন লাগে। আর একটু অপেক্ষা কর হ্যা? ঈশান আরশাদ এর সুখ আমি তোর ঠিক পাশে কবর দেবো। দেবোই।”

আশেপাশে প্রচুর গাছপালা। মাঝখান দিয়ে সরু পিচ ঢালাই করা রাস্তা এঁকেবেঁকে গিয়েছে। তিতির শাড়ির কুচি এক হাতে ধরে পাশাপাশি হাটছে ঈশানের। ঈশান দু হাত পিছনে রেখে চুপচাপ হাটছে। তিতির বেশ বোরিং হচ্ছে এ যাত্রায়। জানতো এমন টাই হবে। এ কারণেই চেয়েছিলো সবাই একসাথে ঘোরাফেরা করুক। কিন্তু তা আর হলো কোথায়। সেই তো এই রাম গরুরের ছানার সাথে তাকে গছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মন মর্জি ব্যবহার। এ বেলা ভালো থাকলে আরেক বেলা তাকাতেও রুহ কাপে।
পাখির কিচিরমিচির, লেকের পানির উথাল-পাতাল শব্দ ভীষন স্নিগ্ধ লাগছে আশপাশটা। তবে সবকিছুর মধ্যে ঈশানের কানে তিতিরের নূপুর এর শব্দ ছাড়া আর কিচ্ছু বাজছে না। সে তখন থেকে একমনে সেটা শুনতেই ব্যাস্ত।
যত পথ এগিয়ে সামনের দিকে যাচ্ছে ততটা জায়গাটা সুন্দর হচ্ছে আরও। রঙ বেরঙের বাহারি ফুল লতাপাতায় ছেয়ে আছে আশপাশ। তিতির একটা জিনিস বেশ খেয়াল করছে, গোটা পার্কে সবথেকে বেশি আছে যেটা সেটা হচ্ছে জারুল ফুল। বিশাল বড় বড় গাছে পারপেল কালার ফুল গুলো। কি যে সুন্দর লাগছে।
হাঁটতে হাঁটতে থামলো তিতির। ঘুরে দাড়ালো ঈশানের পথ আটকে।

____”আপনার প্রিয় ফুল কোনটা ঈশান ভাই?”
____”নেই।”
____”এ আবার কি কথা! প্রিয় ফুল নেই এটা হয়?”
____”আমার হয়। হাঁটা ধর। পথ আটকে দাড়িয়ে না থেকে।”
তিতির ঠোঁট উল্টায়। ঈশান তার দিকে তাকিয়ে কথা বলছে না। এদিক ওদিক করছে শুধু।
____”আমার প্রিয় ফুল কি বলুন তো?”
____”আমি কি করে জানবো।”
____”জারুল ফুল চেনেন? ওইযে বড় বড় গাছগুলোয়। দেখুন না। কোনোটায় সাদা,কোনোটা পারপেল,পিংক। সুন্দর না? আমার ভীষন প্রিয়। জানতেন এটা?”
____”জানলাম আজকে।”
____”আপনি আমার কোনো পছন্দলর খোঁজই জানেন না।”
____”তুই জানিস আমার পছন্দ! ”

ঈশানের ভাবলেশহীন উত্তরে বিরক্তির সাথেই হাঁটা ধরলো আবার। আচ্ছা তাকে কি সুন্দর লাগছে না! ঈশান ভুলেও তাকাচ্ছে না তার দিকে। ফোন ক্যামেরা বের করে মুখটা পরখ করলো নিজের। কই সব ঠিকঠাকই তো আছে। সফেদ শাড়িতে ডার্ক রেড লিপস্টিক কি সুন্দরই না লাগছে। হেয়ার স্টাইল, মেক-আপ সবই পারফেক্ট। আশ্চর্য লোক একটা। কালও তো কত রঙঢং করলো মাঝারাস্তায় রাত্রির বেলা। আর আজ এতো সুন্দর করে শাড়ি পরার পরও তাকাচ্ছে না! সাথে সাথে কানে বাজলো সকালে কানের কাছে গেয়ে যাওয়ার ঈশানের গানটা। আনমনে হেসে উঠলো সে। মুখে বলতে ইচ্ছে হলো “কনট্রোল হারাবেন জন্য তাকাচ্ছেন না দেওয়ান সাহেব। হু?”
বেশ এগিয়ে যাওয়ার পর ঈশানের পায়ের আওয়াজ না পেয়ে ঘাড় ঘুরালো। ঈশান বেশ খানিকটা পিছনে। দৃষ্টি ফোনের দিকে। মুখ অত্যন্ত গম্ভীর হয়ে আছে। তিতির এগোতে যাবে তার আগেই পাশ দিয়ে ছুটে গেলো একটা খরগোশ। একে একে আরও কয়েকটা দেখা গেলো সেটার পিছু পিছু।
ঈশান ফোন থেকে মুখ তুলে খেয়াল করলো তিতিরকে। কয়েকটা খরগোশ এর বাচ্চার পিছু পিছু ছুটছে বাচ্চাদের মতো। ঈশান হাতের ফোন কল বাজছে। কানের ইয়ার পডস্ গুজে হাতের ফোনে সদ্য আসা একজনের ছবিতে মন দিলো।কল তুলতেই ওপাশ থেকে উত্তেজিত কন্ঠ শোনা গেলো তার ম্যানেজার অমিত এর।

_____”বস খবর পেয়েছি ছেলেটার।”
ঈশান নড়েচড়ে দাড়ালো। অমিত কে ওয়েট করতে বলে গলা উচিয়ে ডেকে তিতিরকে সাবধান করলো রাস্তা বাদে অন্য দিকে না যেতে।ফোন কানে ধরে বললো,
____”ডিটেইলস্?”
____”ছেলেটার নাম ইয়াজ মির্জা। আপনার ফোনে প্রথম যে মেসেজ টা আসে ওর লোকই পাঠিয়েছিলো। তবে পাঠিয়েছিলো সিঙ্গাপুর এর এক বুকশপের এমপ্লয়ির ফোন থেকে। মেয়েটা ওখানে পার্ট টাইম জব করতো।
তবে ফোনটা চুরি হয় সেদিন রাতে। যে কারনে মেয়েটা কিছুই জানতো না। আমাদের লোকেরা ওখান কার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে নিশ্চিত হয়েছে চুরি অন্য লোক করলেও ফোনটা শেষ পর্যন্ত ইয়াজের হাতে যায়। ইয়াজকে ওইদেশে খোঁজ করে কিচ্ছু জানতে পারি না। কারণ শুরুতে আমাদের কাছে ওর কোনো ছবিই ছিলো না। এমনকি দেশেও ওর তথ্য পাচ্ছিলাম না কোথাও। তবে…বস ক্ষমা করবেন। কাজের স্বার্থে আমরা আপনার বোন নূরির ফোন হ্যাক করি। সেখান থেকে সব কালেক্ট করে আমরা সিঙ্গাপুর এ ওনাদের থেকে নিশ্চিত হই ইয়াজ ওই বুকশপের রেগুলার কাস্টমার। লোকটার বই কেনার বাতিক আছে হয়তো। ওসব দেশে কারোর গোপন তথ্য পাওয়া খুব টাফ। তবে যতটুকু বের করতে পেরেছি। ইয়াজের ওখানকার নাগরিকত্ব আছে। যে কারণে সেখান থেকে আরও কেউ মুখ খুলছে না। নূরি ম্যাডাম এর ফোন থেকে বুঝেছি কোনো বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছিলো। যার দরুন সেদিন এর সুইসাইড এর ঘটনা টা ঘটেছে। ইয়াজ ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করছিলো নূরি ম্যাডামকে। আর…”
ঈশান ভ্রু কুচকে শুনে যাচ্ছিলো এতক্ষণ সবকিছু। তার অনুমান মোটেই মিথ্যা ছিলো না তাহলে। এই ছেলের সাথেই তার গাড়ির প্রায় অ্যাক্সিডেন্ট হতে যাচ্ছিলো সেই রাতে যে রাতে সে ঢাকা যাচ্ছিলো তিতিরকে বাসায় ড্রপ করে। হাই রোডের ওপর। তাদের এলাকার এই রাস্তা থেকে গাড়ি মেইন রোডে উঠছিলো। চেহারা সেদিনই চোখে পরে আবছা অন্ধকারে। এরকম গেট আপ আগে কোথায় দেখেছে মনে করতেই খেয়াল হয় এর আগে তার লোকেরা নূরির সাথে একটা লোকের ছবি পাঠিয়েছিলো তাকে। দক্ষ চোখ অল্পতে খুটিনাটি মনে রাখতে পারে। তাছাড়া তাদের এলাকায় ওই ব্র্যান্ডের কার কারোর নেই। বাইক হোক বা কার ঈশান এর ওপরে কারোর নেই। সেখানে ঈশানের সেম ব্র্যান্ডের একটা কার!
অমিতের পাঠানো স্পষ্ট অবয়ব এর ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বুলালো ঈশান। আরও কোথায় দেখেছে একে!
ওপাশে অমিত থেমে আছে। বোধহয় ইতস্তত করছে খানিকটা। ঈশান অভয় দিলো।

_____”বলে ফেলো অমিত।”
____”বস, নূরি ম্যাডাম আমার বোনের বয়সী। ওনার বয়সী আমার বোন আছে একটা। আসলে…
আসলে ওই ছবিগুলো যেটা আপনাকে পাঠানো হয়েছে ওটা আমার ফোনে রেখে দিতে হয়েছিলো। আরও কিছু খোঁজ করার জন্য। আপনার অনুমতি নেইনি। তবে খোঁজ পেয়েছি।”
____”তোমাকে আমি ভরসা করি অমিত। বলে ফেলো।”
____”বস। ছবিগুলো ফেক নয়। ছবি গুলো হোটেল রিভার ভিউ এর। আমরা শহরের সকল হোটেলের বিগত দু মাসের সিসিটিভি চেক করেছি। আপনাদের বিয়ের সাতদিন আগের ছবি ওগুলো। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে। ম্যাডাম সেদিন ভার্সিটি যায়নি। ইয়াজ তার আগের দিন রাতে একা উঠেছিলো হোটেলে। নূরি ম্যাডাম পরের দিন দুপুর পোনে বারোটায় যায় দেখা করতে। রিসেপশনে ইয়াজ বলেই রেখেছিলো। ইয়াজ এর নাম আমরা পাইনি তার কারণ সে ওই নামে ওঠেই নি। উঠেছিলো একটা ফেক আইডি কার্ড দিয়ে। যেটা তে নাম দেওয়া আহনাফ। ওটার সত্যতাও আমরা পাইনি। তবে সে রেগুলার গেস্ট ওখানকার। বিগত তিন বছর যাবত আসলেই ওই হোটেলে স্টে করে। নূরি ম্যাডাম দশ মিনিট এর জন্য দেখা করতে আসেন। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ি বের হয় তেরো মিনিট পর। তবে বের হয়ে খুব দ্রুত ছুটে যাচ্ছিলেন। রিসেপশনিস্ট বলেছেন নূরি ম্যাডাম কিছুতেই রুমে দেখা করতে যেতে চাচ্ছিলেন না। আমরাও তাই দেখেছি ফুটেজে।
বস…সম্ভবত ফোর্স কর হয় ম্যাডাম কে। তবে ছবিতে যেভাবে দেখানো হচ্ছে স্ব ইচ্ছেয় হলে ম্যাডাম ওভাবে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যেতেন না। তার কিছুক্ষণ এর মধ্যে ইয়াজকেও আসতে দেখা যায় ছুটে। তবে ততক্ষণে ম্যাডাম সিএনজি নিয়ে চলে গেছেন ওখান থেকে।”

____”ছেলেটা এখন কোথায়?”
____”এখন সম্ভবত দেশেই আছে। “
____”পরিবার? “
____”এসব কিচ্ছু এখনো জানতে পারিনি বস। তবে ওর যে লোক ধরেছি আমরা সে নতুন। বিশেষ কিছু জানেনা। পেশা কি,বাড়ি, বা বাপ মা কিচ্ছু জানেনা এরা।”
____”গুড জব। অনেকটা জেনেছো। বাকিটাও জলদি ক্লিয়ার আউট করো। “
____”বস এখন তো আর কোনো সন্দেহ রইলো না লোকটা নূরি ম্যাডামের জন্য নয়। “
____”নূরিকে আমি সামলে নেবো। তোমার কাজ করো দ্রুত।”
হাতের ফোনে ছবিটা আবার বের করলো ঈশান। ছেলেটা সুদর্শন। ফর্শা চেহারা। বা পাশের চোখের সাইটে কাটা একটা দাগ। যদিও যেটা মোটেই ক্রিমিনাল দের মতো লাগে না। স্বাভাবিক ইনোসেন্ট চেহারা। কড়া ভদ্রলোক লাগে। তবে তার আড়ালে লুকিয়ে আছে ভীষন ম্যানুপুলেটিভ একটা সত্ত্বা। কি কারণে পিছু লেগেছে ঈশানের? সাত জন্মেও ঈশান একে কখনো দেখেছে বলে তো মনে পরছে না। আশ্চর্য বিষয়। অবশ্য কার সাথে ঠিক কি নিয়ে গুপ্ত বিদ্বেষ তৈরি হয় তা কে বলতে পারে! তার সাথে তো এটা হওয়া স্বাভাবিক। তার কোন ঘটনার খেসারত তার বোন, বউকে দিতে হচ্ছে বা হবে সেটাও ক্লিয়ার না সে।
তবে এটা পরিষ্কার বিদ্বেষ তার আদতে ঈশান এর সাথেই। যার দরুন গুটি বানানো হচ্ছে তার বোনটাকে। তবে তাই যদি হয় শুরুতে নূরি কে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হলো না কেনো! কেনো সেখানে তিতির কে বসানো হলো! আর বিয়ের রাতের সেই ফোনকল!
ঈশানের তীক্ষ্ণ চোখের পাতা ক্রমশঃ সরু হয়ে এলো।
অতীত,(ঈশান-তিতিরের বিয়ের রাত)
কোনো ল্যান্ড লাইন থেকে আসা কল। কপালে চিন্তার ভাজ পরলো ঈশানের , রিসিভ করলো ফোনটা। ওপাশে এক মূহুর্তের নিরবতার পর শোনা গেলো কন্ঠ…

____“ছবিগুলো দেখেছিস নিজের বউয়ের? বিশ্বাস হয়নি না? বিশ্বাস হলে ঈশান আরশাদ কবুল পরতো না জানি সেটা। এতো বিশ্বাস করে ফেলেছিস ওইটুকুন মেয়েকে! প্রেমে টেমে পরলি নাকি! না বিশ্বাস করলে নাই। তবে শোন।
স্ট্রেটকাট একটা কথা জানিয়ে দেই তোকে। তোর বউ হাজি দানেশ এর সেকেন্ড ইয়ার এর ইংরেজির স্টুডেন্ট না! থাকে কাছেপিঠেই একটা গার্লস হোস্টেলে। ছয়তালার দক্ষিণের একটা ডাবল বেডের রুমে। ওখানে মিনিট দশেকের মাথায় ওর বাপ চাচার বাড়ি। বাপ মা মরেছে। চাচা আছে। বেচারা মেয়েটাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসে। ছেলের বউ করতে চেয়েছিলো তো। বাড়ি এসে তোকে বিয়ে করে ফেসে গেলো বেচারি। তোর কৃতকর্মের ফল ওকে দিতে হবে। আহারে, আহারে। আচ্ছা ধর ওই ছবিগুলো যদি শহরের আনাচে কানাচে ছেপে যায় আজ রাতের মধ্যে। কেমন হবে সেটা? ধরে নে মিথ্যা। ধরতে হবে না। মিথ্যাই তো। তবুও। ছেপে দিলাম। কাল সকালে দেওয়ান বাড়ির পুতুল টার মানসম্মান কোথায় গিয়ে ঠেকবে বলতো। আরও একটা সারপ্রাইজিং কথা বলি হ্যা? ছবিটার দুটো ভার্সন আছে। ওটা তুই ঠিক দু একের মধ্যে ধরে ফেলবি। তোর বউ না হলেও আসল ফুটেজের মেয়েটার মানসম্মান ও তোর কাছে সমান দামি। তোর বউটা বড্ড আবেগী রে। বাপ মা মরা মেয়ে। ওর কৃতকর্মের দায়ে ওর বড় চাচাটাও যদি গলায় দড়ি দেয়! নিজে দেবে তা কিন্তু বলিনি। ধর আমিই কষ্ট লাঘব করতে ঝুলিয়ে দিলাম। লোকটা বড্ড সাদাসিধা জানিসতো। কন্যা সম ভাতিজির এই রুপ দেখে। ছিহ ছিহ্।”
ঈশান দৃষ্টি রাখলো তিতির এর দিকে। বুকের ভিতরটা দুমড়েমুচড়ে উঠলো। ঈশানের স্বাভাবিক মুখ অসম্ভব কঠিন হয়ে এলো। হাতের মুঠো শক্ত করে ফেললো। দাত কিড়মিড়িয়ে উঠলো।
“ডোন্ট… আই সে ডোন্ট ট্রাই টু ডু এনিথিং রং উইথ হার।”
ওপাশের ভয়ংকর হাসি শোনা গেলো।

_____”তোর বউ এর আগে একবার গাড়ির নিচে চাপা পরতে গিয়েছিলো। আমার লোক ভুলে চাপা দিতে যাচ্ছিলো। সময় মতো আমি থামিয়ে না দিলে কি বিচ্ছিরি কান্ডটাই না হতো। তবে ওকে না দিয়ে মেরে দিয়েছি পাশের ফুটপাতের ফুলওয়ালির ওপর। মাথার ওপর দিয়ে চাকা চালিয়ে দিলাম। তোর বউ তখন বাচ্চা বাচ্চা। দুপাশে বেনি করে হেলেদুলে স্কুল যায়। দু মাস পর এসএসসি ওর তখন।
মেয়েটা চোখের সামনে দেখলো একটু এদিকসেদিক হলে তার কি হতো। সাথে সাথে মেয়েটার প্যানিক অ্যাটাক হয়ে কি এক অবস্থা। নাক মুখে রক্ত উঠে মরি মরি ব্যাপার স্যাপার। জানিস না তুই? জানবি কি করে। তুই তো তোর সো কলড ভালোমানুষি লুকিয়ে লুকিয়ে জাহির করতে ব্যাস্ত। পরিবার এর থেকেও লুকিয়ে। মেয়েটার মাথার ব্যামো ট্যামো আছে হয়তো। নাকি পাগল! ওরকম কাউকে দেখিনি। ওরকম আরেকটা ধাক্কা পেলে ডাক্তার বলেছে মেন্টাল হসপিটালে পাঠাতে হতে পারে। কি এক অবস্থা বল তো। ভয় না পায়িয়ে দেবো নাকি ঠিকঠাক নিশানায় চাকা তুলে?”
ঈশান আরশাদ দেওয়ান কি ভয় পেলো সে কথায়! বুক কাঁপলো হয়তো। অসহায় দৃষ্টি ফেরালো তিতির এর দিকে। তিতির উল্টো হয়ে আছে। মাথা নোয়ানো। নতুন বউ,একটু আগে শুরু হওয়া স্বামী সোহাগে লজ্জায় আড়ষ্ট… একটু পর সে স্বামী নামক ব্যাক্তি তাকে হয়তো আরও সোহাগে ভাসাবে সে ভয়ও খানিক আছে মনে। ঈশানের নিজেকে অসহায় লাগলো এবার। ফোনের লোকটা জবাবের অপেক্ষা করছে।
ঈশান গলার আওয়াজ খাদে নামালো। তিতির এর কান পর্যন্ত যাতে না যায় কথাগুলো।

_____“এই মূহুর্তে তোর সময় ভালো,খেলা তোর ফেবারে তাই আমি খানিকটা স্যাক্রিফাইজ করলাম। তবে ভাবিস না ভয় পেলাম। ঈশান আরশাদ দেওয়ান তোদের মতো নরকিট কে ভয় পায়না। নিজের জীবনের পরোয়া তো আরও নেই। তবে তোরা তো আবার সামনে থেকে খেলতে ভয় পাস। ছুরি মারিস পেছন থেকে…ওকে। আই অ্যাগ্রিড। তবে আমিও সময় মতো সব বুঝে নেবো। ঈশান আরশাদ এর থেকে কিছু কেড়ে নেওয়া এতো সহজ লাগে? তাও আবার সে যদি হয় তার বিয়ে করা বউ……”
বাকি কথা বললো না ঈশান।
____”ফোন রাখ।আর কাউন্ট ডাউন শুরু কর নিজের। তোর নামে বলি চড়াবো, সেদিনই না হয় আমার উপোস ভাঙ্গবো তোর সামনে। এখন দিলাম সে পবিত্র ফুলটাকে কষ্ট। যাহ্””
ওপাশ থেকে অট্টহাসিতে ফাটলো লোকটা। বাঁকা কন্ঠে বললো,
_____”কে বলতে পারে কার ফুল শেষমেশ কার বিছানায় সুভাষ ছড়ায়। হতেও তো পারে বেড থাকলো,তোর পবিত্র ফুলটা সে বেডে থাকলো। পবিত্র ফুলটাকে ছুয়ে দেওয়া পুরুষ টা তুই হলি না। কেমন হবে?”

বর্তমান,
দীর্ঘশ্বাস ফেললো ঈশান। সেদিন এর ওই বাস্টার্ড টা যে ইয়াজ আর কোনো সন্দেহই রইলো না। ইচ্ছে করে নূরির ছবিতে তিতির এর মুখ বসিয়ে পাঠানো হয়েছিলো তাকে। যাতে শুরুতে তিতিরকে দেখে একটা বড়সড় ধাক্কা খায়। তারপর যখন জানবে এটা ফেক, একটু রিলিফ পাওয়ার আগেই আবার ধাক্কা খাবে। মেয়েটা নূরি জেনে ।
ঈশানের মনে একটা অজানা ভয় গেথে গেছিলো। তিতিরকে নিজের থেকে দূরে রাখতে চাইতো বরাবর। তার অবচেতন মন বলতো তার জন্য তিতির এর কোনো ক্ষতি না হয়। তার বউ হওয়ার অভিশাপ না লাগে মেয়েটার ওপর। তাই তো কাউকে জানতে দিতে চায়না তার বউয়ের পরিচয়। কারণ শত্রু কে সেটাই তো অজানা ছিলো।
নূরির কথা মনে পরতেই বুক চিড়ে হতাশার নিঃশ্বাস বের হলো। মেয়েগুলো এতো বোকা কি করে হয়। এরকম একটা বদলোকের প্রেমে পাগল হয়ে জীবন দিতে যাচ্ছিলো!

আরেহ মেয়েরা তো ছায়া দেখলেও বলে দিতে পারে সে ছায়ার আশেপাশে নিজে নিরাপদ কি না। আর তার বোন হয়ে তিন তিনটা বছর একটা ব্লাডির সাথে প্রেম করে গেলো। ভালোবেসে মরতে অবধি যাচ্ছে!
ভালোবাসা একটা মানুষ কে অক্ষম করে দেয়, বোধবুদ্ধি লোপ পায় ভালোবাসলে। ঠিক ভুল, ভালো মন্দের ফারাক করতে ভুলে যায়। বিশেষত মেয়েরা। নূরির মতো মেয়েরা। একজনকে মন প্রানে ভালোবেসে পাগলের মতো আকড়ে ধরে রাখে। ক্রমাগত মনে করে নিজের ভালোবাসায় শুধরে দেবে সামনের মানুষ টার ভুলগুলো। আহ্ বোকার স্বর্গে থাকে একেকজন।

দলবেধে সবাই এটা সেটা দেখতে দেখতে এগোচ্ছে। রিশা, রোশনি দের সাথে সাথে তমাও বাচ্চাদের মতো একেরপর এক বায়না করে যাচ্ছে। নয়ন বড্ড বিরক্ত মুখে সেসব কিনে কিনে দিচ্ছে। নিয়াজ আর নিশি তাদের সাথে নেই। খানিক পিছন পিছন হাত ধরাধরি করে আসছে। তমা আড়চোখে বারবার দেখছে সেদিকে। আর নয়নের পাশ ঘেষছে।

____”নয়ন ভাই?”
____”হু।”
____”আপনাকে যে বললাম সাদা পাঞ্জাবি টা পরবেন। তাহলে ম্যাচিং ম্যাচিং হবে।”
নয়ন পরেছিলো সাদা পাঞ্জাবি। তবে তিতিরকে সাদা শাড়িতে দেখে ঝটপট পাল্টে নিয়েছে সেটা। তবে মুখে বললো,
____”কাপল রা ম্যাচিং ম্যাচিং পরে। যাদের পরার দেখো তারা ঠিকই পরেছে।”
____”আমরা পরলে মহাভারত অশুদ্ধ হতো।”
____”হতো।”
____”আপনি পাল্টে গেছেন নয়ন ভাই। আগে জীবনেও এমন করে কথা বলতেন না আমার সাথে। হেসে হেসে কথা বলতন। আজকাল কেমন রুক্ষ ব্যবহার করেন।”
____”তোমার মনের ভুল।”
____”এখান থেকে বাড়ি ফিরে আবার কারোর সাথে বের হওয়ার প্ল্যান আছে?”
____”নাহ।”
____”রাতে বের হবেন আমাকে নিয়ে? “
____”ঘুরছোই তো।”
____”রাতের ভিউ আলাদা।”
____”বিয়ের পর স্বামী নিয়ে রাতে ঘুরো।”
____”বিয়ের পর কি আর রাতে ঘোরাঘুরি করে সময় নষ্ট করার মতো সময় হবে বলুন…”

নয়নের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সামনে থেমে গেলো এবার তমা। মিটিমিটি হেসে মুখ সরালো অন্য দিকে। তার পাশাপাশি হেটে চুপ করে থাকবে এটাও হয় নাকি! সে দিলে তবে তো।
টানা এতক্ষণ যাবত হাটাহাটি তে অসুস্থ লাগছে নূরির। মাথাটা কেমন বনবন করছে। শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত চলছে। নাঈম এর খেয়াল।হলো সেটা। ব্যাস্ত গলায় বললো,
____”শরীর খারাপ লাগছে নূরি?”
পাশের একটা বসার ব্রেন্চে বসতে বসতে সবার উদ্দেশ্যে বললো,
____”তোমরা ঘুরে এসো। আমি বসছি এখান টায়।”
নাঈম সবার দিকে তাকিয়ে বললো,
____”আমি বসছি ওর সাথে। তোমরা এগোও। ওর ভালো লাগলে নিয়ে আসবো পরে।”
সবাই খানিকক্ষণ যেতে না চাইলেও নূরির অনুরোধ এ গেলো সকলেই। নাঈম হাতের পানির বোতল এগিয়ে দিলো নূরিকে। নূরি হাত বাড়িয়ে নিলো সেটা।
____”ধন্যবাদ। “
____”এখন বেটার লাগছে?”
____”হুম।”
____”এখানে বসবে? নাকি কিছু খেয়ে নেবে? ওপাশে একটা টং ঘরের মতো দেখলাম। চা বিস্কিট আছে হয়তো। দুপুরে না খাওয়ার জন্য হয়তো অস্থির লাগছে? “
নূরি মৃদু হাসলো। খোলা চুলগুলো দূর্বল হাতে খোপা করতে গেলো। হাতের ব্যাথায় মুখ কুচকে এলো। দাতে দাঁত চেপে খোপা করে নিলো। মিহি গলায় বললো,
____”অস্থির অনেক কারণে হই আমরা নাঈম ভাই। শরীরের জ্বর অনূভব করা যায়। মনের টা না।”
নাঈম কিছু বললো না। উঠে দাড়ালো।
____”বোসো কেমন? আমি দেখছি দোকান থেকে কিছু পাই কি না।”

ঈশান কোনে ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে আচমকা। সাতপাচ ভেবে ভেবে, আর তিতিরের পিছু পিছু আসতে আসতে বেশ ভেতরের দিকে চলে এসেছে ঈশান আর তিতির। তিতির তখন থেকে একেকটা পাখি,প্রানি দেখছে। আর সেসবের পিছনে অনুসরন করছে। ঈশানও ইয়াজের কথা ভাবছে গভীর মনোযোগ এ। কখন যে এতটা ভেতরে চলে এসেছে খেয়ালই করে ওঠেনি। আকাশে মেঘের গুড়গুড় শব্দে খেয়াল হলো। আশপাশে বেশ অন্ধকার নেমে এসেছে কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যেই। তিতির খানিকটা সামনে ছিলো তার। শব্দ পেয়ে শাড়ির কুচি উচিয়ে দ্রুত চলে এলো ঈশানের কাছাকাছি।
____”চলুন চলে যাই।”
____”আয়।”
তিতিরের হাত ধরে এগোতে শুরু করলো ঈশান। মেয়েটা খোড়াচ্ছে। ঈশানের গতির সাথে পাল্লা দিতে না পেরে ছটফট করছে। তবে আকাশের পরিস্থিতি দেখে মুখে কিছু বললো না। ঈশান আচমকা দাড়ালো। নিচু হয়ে বললো,
____”জুতো জোড়া খোল।”
____”হ্য?”
____”তোকে কোলে নিয়ে ছুটতে আমি পারবনা। ধীরেসুস্থে হেলেদুলে হেটে যাওয়ার সময় সম্ভবত হবে না। জুতো খুলে হাতে দে। জোরে হাটতে পারবি।”
তিতির শুনলো। দ্রুত জুতো খুলে ফেললো। ঈশান তিতিরের হাত থেকে জুতো জোড়া খুলে হাটা শুরু করলো। তবুও সমস্যা হচ্ছেই। একে তো শাড়ি পরা।
ঈশানও বারবার রাস্তায় খেয়াল করছে। কোনো পাথর বা কাটা জাতীয় কিছু আছে কি না। তার এতো বড় জুতো ওইটুকু পায়ে মোটেই হবে না। এটা পরে আরও হাঁটতে পারবে না।

সাজিদ, অনিমা রা সকলে হুড়মুড়িয়ে ঢুকলো স্থানীয় এক রেস্তোরাঁয়। বেলা সবে সাড়ে তিনটে। অথচ দেখে মনে হচ্ছে রাত হয়ে গেছে। একে-তো ইকো পার্কের গাছপালার চোটে দিনের আলোতেই চোখে পরে না কিছু। তারওপর কালো মেঘে ঢেকে গেছে চারপাশ। নিয়াজ ও নিশিকে নিয়ে এসে ঢুকলো। আশেপাশে তাকালো। রিশা, রোশনি,রাফি আর তিয়াশকে রিতু আর তমা আগলে আছে। বাচ্চারা বেশ ভয় পাচ্ছে।
অনিমা, সাজিদ ব্যাস্ত ভঙ্গিতে কাউকে কল করছে।
খেয়াল হলো নূরি,নাঈম এখানে নেই। ঈশান আর তিতির তো আলাদাই ছিলো ও বেলা থেকেই। নিশি ব্যাস্ত গলায় বললো,
____”নূরি কোথায়?”
চতুর্থ বারের মতো কেটে গেলো নাঈমের কল। সাজিদ বিরক্ত গলায় বললো,
____”নাঈম টাও না। কাজের সময় এদের একটার নাগাল পাওয়া য়ায়না।”
অনিমা নিশিকে শান্তনা দিয়ে বললো,
____”নাঈম আছে নূরির সাথে। নূরি অনেকক্ষণ হেটে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলো বিধায় ওয়েট করছিলো একটা ব্রেন্চে বসে। নাঈম ও থেকে গেছিলো ওর সাথে। আমরা অন্য রাস্তায় এসেছি। ওদের সাথে পথে আর দেখা হয়নি। চলে আসবে জলদিই।”
রেস্তোরাঁয় লম্বা একটা টেবিলে বসলো সকলে। ছোটদের খিদে পেয়ে গেছে। খাবারের অর্ডার করে ওদের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিই বা করার আছে। কারোর জন্যই চিন্তার কিছু নেই। নূরির সাথে নাঈম আছে আর তিতিরের সাথে তো সয়ং ঈশান আরশাদ।

____”আপনি নূরি?”
কর্কশ একটা কন্ঠে চমকে পিছনে তাকালো নূরি। কালো দুটো লোক তার অদূরেই এসে দাড়িয়েছে। নূরির লোকটাকে দেখে ভীষন ভয় করলো কেনো জানি। নাঈম নেই এখানে। পানির বোতল কিনতে গেছে। এই শুনশান জায়গায় এমন ডাকাতের মতো চেহারায় লোককে দেখে ভয় পাওয়া টাই স্বাভাবিক। নূরি কিছু বলার আগেই লোকটাই সামনে চলে এলো। একই কর্কশ কন্ঠে বললো,
____”ইয়াজ ভাইয়ের বন্ধু আমি। ফরেস্ট এ চাকরি করি। “
ইয়াজের নাম শুনতেই চমকে উঠলো নূরি। সাথে সাথে সামনের মানুষ তিনজন কে দেখে একটা কথাই সবার আগে মাথায় এলো।
___”এরা ইয়াজের বন্ধু! এরকম ছেলেপেলে! “
যদিও কাউকে দেখে জাজ করার স্বভাব ভালো নয়। তবুও নূরির এটাই মাথায় এলো। তিনটে ছেলের হাতেই জলন্ত সিগারেট। আরেকটু এগিয়ে আসতেই সটানে উঠে দাড়িয়ে দু কদম পিছিয়ে গেলো নূরি।
নাঈম কে খুজলো তার অসহায় চোখ। ছেলেগুলো কেমন চোখে তাকিয়ে আছে। মোটেই স্বাভাবিক লাগলো না তার সে দৃষ্টি।
____”ঘুরতে এসেছেন বুঝি? ফ্যামিলির সাথে? “
____”জ্বি।”
____”তারা কোথায়?”
____”দোকানে। আসছে।”
____”আমরা তো দেখলাম পার্কের ফ্রন্টে রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়াদাওয়ার আসর জমিয়েছে। আপনাকে পৌছে দেই চলুন। “
দু কদম এগোতেই চোখে পরলো নাঈমকে। ভ্রু জোরা কুচকে ফেলেছে ছেলেগুলোকে দেখে। নাঈম এসে সোজা দাড়ালো নূরির পাশেই। ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললো,

____”কি চাই?”
____”আপনি? “
____”যেই হই। আপনাদের কাজ কি!”
____”ভাবি কে পৌছে দিতে চাচ্ছিলাম।”
ছেলেগুলোর নির্বিকার উত্তর আর ভাবি ডাকে গা জ্বলে গেলো নাঈমের। মুখে কিছু বললো না। নূরির হাত ধরলো আচমকা। এই প্রথম স্পর্শ করলো সে নূরিকে। স্পর্শ করে নিজেই টের পেলো বুকের ধুকপুক শব্দ।
_____”আমি আছি ওর জন্য। আপনারা যেতে পারেন।”
নাঈম দাড়ায় না। নূরিকে একপ্রকার টানতে টানতে নিয়ে সরে আসে সেখান থেকে। ওদের আশ্চর্য করে ছেলেগুলোও পিছু নিলো না। অন্ধকারে ছেয়েে গেছে আশপাশ। শুধু সময়ের অপেক্ষা ঝড় উঠে আসার। এরই মধ্যে দু চার ফোটা বৃষ্টির পানি গায়ে এসে পড়তেই গতি বাড়ালো নাঈম। পাশেই একটা টং ঘরে এসে দাড়ালো নূরিকে নিয়ে। এতক্ষণ ভয়ে ভয়ে নাঈমের সাথে আসলেও এখানে এসে হাত ছাড়িয়ে নিলো ঝটকা টানে। নাঈম দেখেও দেখলো না। পাশ থেকে বসার জন্য টুল এগিয়ে দিলো। বৃষ্টির গতি বেরেছে এখন। নূরির মাথায় মানুষ তিনজন ক্রমাগত ঘুরছে। তারা ইয়াজের বন্ধু পরিচয় দিলো? কিছু কি বলতে চাচ্ছিলো ইয়াজকে নিয়ে! আচ্ছা ইয়াজের সাথে ওইদিনের পর তো আর কথা হলো না। কেমন আছে ইয়াজ। আচমকা বোধবুদ্ধি খুয়িয়ে বুকের ভিতরের তোলপাড় এ মন দিলো নূরি। অবুঝ, বোকা, ভালোবাসার মিথ্যা মায়ায় আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে পরা মেয়েটা মনে মনে হা হুতাশ করা শুরু করলো লোকগুলোর কাছ থেকে ইয়াজ এর খোঁজ কেনো নিলো না।
নাঈম দুটো চায়ের কাপ হাতে এসে বসলো নিজেও নূরির পাশে। একটা কাপ এগিয়ে দিলো নূরির দিকে। বেখেয়ালে নূরি হাতেও নিলো সেটা। নূরির মন অন্যদিকে বুঝতে পেরে নাঈম জিজ্ঞেস করলো,

___”টং এর চা আগে খাওয়া হয়েছে কখনো?”
নূরি হাতের কাপের দিকে তাকালো। এতক্ষণে সম্ভবত খেয়াল করলো তার হাতে চায়ের কাপ দেওয়া হয়েছে। অনিহার সাথে বললো,
___”একবার।”
নাঈমের মনে পরলো এর আগে একদিন তাদের এলাকার রহমানের চায়ের টং এ তিতির,নিশি,নূরি কে নিয়ে স আর নিয়াজ চা খেয়েছিলো। সম্ভবত ওই একবারই। দমকা হাওয়া দিতেই নাঈম গলা নামিয়ে শুধালো,
____”শীত করছে?”
____”শার্ট খুলে দেবেন?”
____”প্রয়োজন এ দেবো।”
নূরি আচমকাই রেগে গেলো। কঠিন চোখে তাকিয়ে বললো,
____”হিরো সাজবেন না। আমাকে আজ বাঁচিয়ে এমনিতেই ভীষন উপকার করেছেন। বড় ভাইয়ার কাছে ক্রেডিট নিয়ে নেবেন কিন্তু মনে করে।”
নূরির রেগে যাওয়ার কারণ বুজলো না। আর বাঁচানোর ক্রেডিট মানে কি! লোকগুলো ভালোমন্দ সত্যিই কিছু করে বসলে!

____” বাঁচানোয় খুশি হওনি বুঝি।”
____”আমার ভালো আমাকে আর আমার পরিবার কে ভাবতে দিন দয়া করে। আমি ভালো আছি। আমার মন, শরীর দুটোই ফাস্ট ক্লাস। আমার লাইফ নিয়ে আপনি দয়া করে মাথা ঘামাবেন না।”
নূরি রেগে সম্পূর্ণ অন্য টপিকে চলে গেছে। নাঈম একদম মনে কিছু করলো না। রিতু ডাক্তার হওয়ার সুবাদে এটা তার খুব ভালো করে জানে মানসিক ট্রমায় থাকলে একটা মানুষ কি কি বলে বা করে কোনোটারই খেয়াল থাকে না। নূরি অত্যাধিক মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যে মেয়ে সুইসাইড এর মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে তার ওপর না বুঝে রাগ করা বোকামি। তবে নরম গলায় বললো,
____”সে কি জীবন ভালোবাসে তোমাকে?”
নূরি থমকালো। নাঈম জানলো কি করে সে কাউকে ভালোবাসে! তবে মুখে সেটা জিজ্ঞেস করা হলো না। মুখে বললো,
____”সে প্রশ্নের জবাব জেনে আপনার কাজ কি?”
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মৃদু হেসে নাঈম বললো,
____”পরিমাপ করতাম। আসলে আমিও কাউকে ভালোবাসি। ভালোবাসার সুত্র আজকাল মিলতে চায়না। কঠিন ভাবে প্রেমে পড়া আরেকজন এর থেকে একটু সাজেশন নিতাম আরকি।”
নূরি ঘাড় বাকিয়ে প্রশ্ন করলো,

____”ভালোবাসেন কাউকে?”
____”ভীষন ভাবে। এতটা ভালোবাসি যে সে অন্য কারো বুকে মাথা রেখে নিজের শান্তি খোঁজে। এটা জানার পরও ঘৃণা করতে পারি না তাকে। কি করা যায় বলোতো।”
নূরি বিদ্রুপের হাসি হাসলো। কেনো কে জানে! নাঈমের ভালোবাসার হদিশ তার অজানা। সে অন্য কারোর প্রেমে মাতোয়ারা। সুতরাং নাঈমের মনে তার জন্য আদৌও কিছু আছে কি না এটা তার ক্ষুনাক্ষরেও মাথায় আসেনি। তাছাড়া কথাবার্তাই এর আগে হাতে গোনা কয়েকবারই হয়েছে।

সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৭

____”কঠিন ফাঁসা ফেঁসেছেন দেখছি…”
মাথা ঝাকালো নাঈম। শব্দ করে হাসলো। হাতের খালি চায়ের কাপ টা রাখতে রাখতে বললো,
____”কঠিন ভাবে।”

সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৯