Home সাঁঝের মায়া সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৯

সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৯

সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৯
দুর এ দিলশাদ্ দুআা

ঝড়ো হাওয়া আর গুড়গুড় মেঘের শব্দ স্পষ্ট জানান দিচ্ছে জাঁকিয়ে বৃষ্টি নামবে এখনি । দিনের বেলাও রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসছে। বাতাসের তীব্রতায় গাছের পাতা, ছোটখাটো খড়কুটো ঘূর্ণির মতো ঘুরছে।
বাতাসের গতি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেলো একদম চোখের পলকে। কোনোমতে শরীর বাচিয়ে একটা পরিত্যাক্ত ছাওনির নিচে এসে দাড়িয়েছে ঈশান তিতির।
পার্কের এ পাশের সাইট সম্ভবত এখনো কাজ ধরেনি কর্তৃপক্ষ। যে কারণে অন্য দিকগুলোর থেকে এ পাশটা বেশি গাছপালায় ঘেরা।
বৃষ্টি থেকে বাচতে এটা আবার কোন রাস্তায় এলো সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। ঝুম বৃষ্টির আর ঘনঘন বজ্রপাতের শব্দে ভয়ে গুটিয়ে গেছে তিতির। দুজনের পরনেরই সাদা কাপড়চোপড়। যার দরুন যতটুকু পানিই গায়ে পরেছে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ঈশান দু হাতে নিচের চুল থেকে পানি ঝেড়ে নিলো। যদিও বৃষ্টি এখনো নামেইনি। তিতির ভয়ার্ত চোখে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। পরনের সফেদ শাড়ির জায়গায় জায়গায় ভিজে ফর্শা শরীরের অনেকাংশ দৃশ্যমান। ঠকঠক করে কাঁপছে হীম শীতল বাতাসে।
তবে বৃষ্টি থেমে গেলো কয়েকফোটা দেখা দিয়েই। এখান থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। ঘূর্ণিঝড়ের মতো হচ্ছে। প্রচন্ড বাতাসে বাইরে গেলে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার বেশ সম্ভাবনা আছে।

তিতির ঘেষে আসলো ঈশান এর দিকে। পাঞ্জাবির অংশ হাতের মুঠোয় চেপে দাড়িয়ে রইলো। মিনমিন গলায় বললো,
____”এখান থেকে চলে যাওয়া যায়না? জায়গাটা ভয়ংকর। ক্রাইম থ্রিলার মুভি গুলো তে এরকম জঙ্গলের মধ্যে আটকা পরতে দেখেছি। সাথে বৃষ্টিও থাকে। কি যে ভয়ংকর অবস্থা! “
ঈশান জবাব দেয় না। তিতির কাছে ঘেষতেই শরীর কেমন শিওড়ে উঠেছে। নিজের ওপর মহাবিরক্ত হলো সে। এখন এই পরিস্থিতি তে কিভাবে ঝড় থামলে চলে যাবে সেই চিন্তা মাথায় না এসে এলোমেলো চিন্তা মাথায় জায়গা করতে চাচ্ছে। ঈশান এদিক ওদিক তাকালো। গাছপালা, ঝোপঝাড় ছাড়া আর কিচ্ছু চোখে পরলো না। এখানে ছাওনি দেখে এসেছিলো, তবে জনসমাগম একদম নেই। তারই ভুল। মেয়েটার পিছু পিছু আসাই উচিত হয়নি এ রাস্তায়। খোদা জানে ঘন্টা লাগিয়ে কতদূর এসেছে তারা। ফোন বের করে সময় দেখলো। পোনে চারটে বাজে। অথচ প্রকৃতি জানান দিচ্ছে সন্ধ্যা পেরিয়ে গিয়েছে বুঝি। সবার অসংখ্য কল, মেসেজ। সাজিদ কেই জানিয়ে দিলো তারা ঠিক আছে। আটকা পরেছে বৃষ্টি তে।

জানিয়ে একপ্রকার নিশ্চিন্ত হলো যেনো। ফোন পকেটে রাখতেই বিকট আওয়াজে বজ্রপাত হতেই পাশ থেকে চোখমুখ খিচে ঈশানের হাত পেচিয়ে ধরলো তিতির। মেয়েটার ছোঁয়া পেতেই জাগ্রত হলো মস্তিষ্ক। উল্টাপাল্টা ইশারা করছে। শো শো বাতাসের আওয়াজ। সামান্য দূরেই শব্দ করে ভেঙে পরলো একটা বিশাল গাছের ডাল। বৃষ্টি না থাকলেও এরকম অবস্থায় এই গাছপালার নিচ দিয়ে পার হওয়া মোটেই নিরাপদ নয়। তার ওপর মেয়েটা পরে আছে শাড়ি। না ছুটতে পারবে আর না তো কিছু। তিতির বিরবির করে কি যেনো বলছে !
যতবার শব্দ হচ্ছে ততবার তিতিরের হাতে বাধন দৃঢ় হচ্ছে। যেনো ঈশানের হাতটা নিজের বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে নেবে। নরম শরীরের স্পর্শে বেহায়ার মতো মস্তিষ্ক জ্বলছে ঈশানের। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই এবার ঈশান দু হাতে হেচকা টানে নিজের সাথে মেশালো। তিতির বড় বড় চোখে তাকালো।স
ঈশান তিতিরের খোলা চুলগুলো কাধের ওপর থেকে সরিয়ে দিয়ে বললো,

____”ভয় করছে?”
মাথা ওপর নিচ ঝাকালো তিতির। ভয় করছে মানে! এরকম পরিস্থিতিতে ভয় করবে না!
ঈশান অনিমেষ তাকিয়ে রইলো তিতিরের দিকে। নরম কন্ঠে বললো,
____”বাতাস টা কমলেই ওদিকে যাবো। ভয় নেই। আমি আছি তো।”
তিতিরের বুকের বা পাশ টা আচমকা দ্রুত ছুটতে শুরু করলো। ঈশানের এই ‘আমি আছি তো’ লাইন টুকুর প্রশান্তি যে তার কাছে কতটুকু তা কেবল সেই জানে।
ঈশান নিজের শুকনো ঠোঁট জোড়া জিব দিয়ে ভেজালো। সামনে ভয়ার্ত একটা বাচ্চা বাচ্চা মুখের মেয়ে। ভয়ে লাল হয়ে আছে মুখটা। চোখেমুখে রাজ্যের চিন্তা।
আচ্ছা মেয়েটার ভয় কাটিয়ে দিলে কেমন হয়! সে যদি আর একটু গভীরে ছুঁতে চায় বা আদর করে মেয়ে টা কি তবুও তাকে অনূভব না করে ওই বৃষ্টিকে নিয়ে ভাববে!
ঈশানের খড়খরে ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেলো তিতিরের নরম কোমল গাল। হাতের আঙুলের উল্টো পাশ আলতো করে ছুয়ে যাচ্ছে। নিমিষেই গাল দুটো দ্বিগুন রক্তিম হলো। লজ্জা পাচ্ছে কি তিতির! তীব্র বাতাসে উড়ছে রেশমের মতো চুল,শাড়ির আচল। ঈশান চুলগুলোও এসে কপাল ছুয়ে দিচ্ছে। তিতির ঈশানের এই স্পর্শের তীব্রতা জানে। তার মনের গভীরে সকল আবেগ,অনূভুতি গুলো জাগ্রত করে দেয় এই মানুষ টার স্পর্শ।

____”তিতির?”
তিতির এর দৃশ্য ঈশানের পাঞ্জাবির বোতামের দিকে। দু হাত খামচে ধরা ঈশানের পেটের কাছে পাঞ্জাবির অংশ। ঈশানের মুখে যতবার তার নাম শোনে ততবার দ্রিমদ্রিম শব্দ জোরালো হয় তার। এভাবে ঈশান কখন ডাকে জানে সে। এই ডাকের পর ঈশানের অবশ্যই কিছু চাওয়ার থাকে। এমন কিছু চায় যা দিতে মরিয়া সে অথচ লজ্জায় আড়ষ্ট নারীসত্ত্বা আটকে দেয় তালো। মৃদু গলায় উত্তর নিলো,
____”হুম।”
____”ইউ লুকস প্রিটিই। শাড়িটা তুই পরবি ভাবিনি। “
____”নিজ হাতে দিলেন না কেনো? নাও তো পরতে পারতাম।”
____”দেওয়া হয়ে ওঠেনি আরকি।”
____”ইগো?”
____”জানি না। কিছু একটা হবে হয়তো।”
____”বাকি অর্নামেন্ট কিনেছেন। নিজে নিজে এতো কিছু মনে রেখে কিনতে পারলেন?”
ঈশান আরেকদফা গভীরে পরখ করলো তিতিরের বদনখানি। হাস্কিস্বরে বললো,
____”না পারার কি আছে। আমার দৃষ্টি কতটা অতলস্পর্শি বুঝিস তুই। হুম? তোকে কতবার কতভাবে ভেবেছি মনে মনে আন্দাজ আছে তোর? তোর শরীরের প্রতিটি অংশের মাপঝোঁক সব চোখের দেখাতেই মাপা।”
তিতির ছিটকে সরে এলো ঈশানের থেকে। বললো কি আর উত্তর পেলো কি৷ ঈশান বুকে আড়াআড়ি হাত ভাজ করে দাড়ালো। তিতিরকে পিছিয়ে কোমড় অবধি উচু দেয়াল টায় বসতে দেখলো।

____”এখানে এসে বসুন।”
ঈশান বসলো পাশেই। তিতির শাড়ির আচল টানছে বারবার। উশখুশ করছে।
____”কি হয়েছে? “
____”দৌড়ে আসলাম না! শাড়ির পিনগুলো লুজ হয়ে গেছে।”
____”ঠিক করে দেবো?”
____”এই নাআআ। দরকার নেই। আমি ঠিক করে নেবো।”
ঈশান খেয়াল করলো সম্ভবত পেটের কাছের কুচির কোনো সমস্যা হয়েছে। আচল গায়ের ওপর ভালো করে ছড়িয়ে সেটা ঠিক করতে চাচ্ছে। ঈশানের কি হলো কে জানে। বিনাবাক্যে নিজের হাত গলিয়ে দিলো তিতিরের পেটের দিকে। ঠান্ডা হাতের স্পর্শে শিরদাঁড়া সোজা হয়ে আটকে গেলো শ্বাস।
ঈশান খানিকক্ষণ হাত নাড়াচাড়া করে গম্ভীর কন্ঠে বললো,

____”পিন শাড়িতে আটকেছে। দেখি আচল সরা।”
রসগোল্লার মতো চোখ করে দুদিকে মাথা নাড়লো তিতির। ব্যাস্ত কন্ঠে বললো,
____”আমি খুলে নিচ্ছি।”
____”আচল টা সরাতে সমস্যা কি?”
____”সমস্যা আছে। আমি পারবো।”
ঈশান বিরক্ত হলো এ যাত্রায়। ভ্রু কুচকে ধমকে উঠলো,
____”লজ্জা কমাতে বলেছি তোকে। সামান্য একটু আচল সরাতে লজ্জায় মরে যাচ্ছিস। যেদিন পুরোটা খুলে ফেলবো নিজ হাতে। সেদিন তো সাপের মতো মোচড়াবি লজ্জায়। বেশ বুঝতে পারছি।”
লজ্জায় কান দিয়ে গরম ধোয়ার কুন্ডলি বের হলো যেনো। নিচের ঠোঁট কামড়ে কাঁপা হাতে একটুখানি আঁচল তুলতেই চোখ আটকালো ঈশানের। মেদহীন নগ্ন পেটের ওপর সামান্য ভাজ পরেছে মাঝ বরাবর। সামান্য বললেও বিষয়টা মোটেই সামান্য নয়। ঈশানও সেটা বুঝলো। দমকা বাতাসে তিতিরের চুলগুলো এসে বারি খাচ্ছে ঈশানের চোখেমুখে। দুটো শরীরের কড়া পারফিউম এর ঘ্রান মিলেমিশে একাকার।
আচমকা ঈশান হাটু ভেঙে তিতিরের সামনে বসলো। ঈশান বসতেই চমকে দাড়িয়ে পরলো তিতির।

____”আরেহ এভাবে বসছেন কেনো! উঠুন। “
____”যেভাবে দাড়িয়ে আছিস ওভাবেই দাড়া।”
তিতির কম্পিত শরীর নিয়ে দাড়িয়ে রয়। ঈশানের পুরুষালি হাত সযত্নে শাড়ির আচল টুকু সরায় পেটের ওপর থেকে। নাভিকুণ্ডল এর সামান্য নিচে শাড়ির গোঁজা। সেখানেই বাঁকা হয়ে সেফটিপিন টা খুলে আছে। সযত্নে সেটা সময় নিয়ে ছাড়িয়ে নিলো ঈশান। ঠান্ডা আঙ্গুলের আলতো ছোয়া বারবার লাগছে তিতিরের নরম উদরে। শিওড়ে উঠছে ছোট্ট শরীরটা। এলোমেলো দৃষ্টি এদিকওদিক সরিয়ে নিচ্ছে বারবার।
সেফটিপিন টা খুলে সুন্দর করে পিন আপ করে দিতেই তিতির মিনমিনে গলায় বললো,
____”উঠে আসুন।”
ঈশান উঠলো না। শ্বাসপ্রশ্বাস তো সেই কখন থেকেই দ্রুত চলছে। ঝরো হাওয়ায় এলেমেলো মন,শরীর,পোষাক সব। দু হাতে কোমড় চেপে ধরলো। কোনো সতর্ক বানি ছাড়া মুখ ডুবালো তিতিরের নগ্ন পেটে। থরথরিয়ে কেঁপে উঠলো তিতির। ভূমিকম্প হলো যেনো তার গোটা শরীরটা জুড়ে। ঈশানের শীতল অধরের ছোঁয়ায় কঠিন ভাবে সাড়া দিয়ে উঠলো তার নারী সত্ত্বা । ঠোঁট কামড়ে ধরে বুজে এলো চোখ । শাড়ির দু পাশে খামচে ধরে আছে। ঈশান টুকরো টুকরো চুমু আকলো উন্মুক্ত পেটে। নাক ঘষলো সেখানটায় । তিতির এর হাত চলে গেলো ঈশানের চুলে। খামচে ধরে কোনোমতে বললো,
____”প্লিইইজ, আর না।,”
ঈশান থামলো। সময় নিলো বেশ খানিকটা। কপাল ঠেকিয়ে রাখলো তুলতুলে প্রিয় জায়গাটায়। জোরে জোরে শ্বাস টানলো। উঠে দাড়িয়ে তিতিরের থেকে সরে দাড়ালো। পাশের পিলার টায় হাত রেখে চোখ বুজে নিজেকে ধাতস্থ করলো। তিতির ধপ করে বসে পরলো। কি এক যন্ত্রণা এটা। এভাবে কতদিন চলবে দুজনের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ এর প্রতিযোগিতা। জ্বলেপুড়ে ভস্ম হওয়া অবধি?

আর দশ মিনিট পর রাহাতের ফ্লাইট। মাকে শত বার বুঝিয়েও কাজ হয়নি তার। তিতির এর বাড়িতে আজকেই যেতে হবে ব্যাস। শেষ পর্যন্ত কসম টসম কাটিয়ে অস্থির। যাওয়ার আগে তিতিরকে দেখে যেতে চায় সে। ছেলের বউ এর জন্য রেখে দেওয়া জিনিসগুলো বুঝিয়ে দিয়ে যেতে চায় তিতিরকে।
সাতপাঁচ ভেবে রাহাত ঠিক করেছে বাকিসব এর চিন্তা পরে করলেও, অন্তত শেষবার এর মতো তিতির কে যদি দেখা করানো যেতো মায়ের সাথে । তাহলে হয়তো একটা বড় পাথর নেমে যেতো বুকের ওপর থেকে।
ঢাকা শহরের আবহাওয়া গুমোট হয়ে আছে আজকে বড্ড। বৃষ্টি বা কড়া রোদ কোনোটাই না থাকলেও যেটা আছে সেটা হলো ভ্যাপসা গরম। এরকম আবহাওয়া আরও বিরক্তিকর। পাঁচটার সময় ফ্লাইট। ট্রেন, বাস বা কার সবেতেই ভীষন সময় লেগে যাবে। চটজলদি ফ্লাইট বুক করে নিয়েছে বাধ্য হয়ে।
তিতিরকে কি বলে রাজি করাবে নিয়ে আসতে! বা আদৌ রাজি হবে কি না। রাজি না হওয়ার সম্ভাবনা শত ভাগ।
ফ্লাইট এ উঠে বসতেই অস্থিরতা শুরু হলো তার। আজকাল উচ্চতা ভীতি হচ্ছে নাকি! কি আশ্চর্য। সে আর উচ্চতা ভীতি! মানা যায়?

ওয়ালেট বের করে তিতিরের একটা ছবি বের করলো। পুরানো একটা ক্যানডিট ছবি ছিলো এতদিন। মাসখানেক আগে হারিয়ে ফেলেছে সেটা। এই ছবিটাও ভীষন প্রিয় তার। এটা কবে তুলেছিলো?
মনে করার চেষ্টা করলো রাহাত। বেশখানিকটা সময় পর মনে পরলো যদিও। এটা তোলা তিতির এর কলেজ ফাংশন এ। এটায় অবশ্য শাড়ি পরা না মেয়েটা। স্কাই ব্লু একটা ভারি কাজের থ্রি পিস । মুখ চোখ কেমন শুকনো । জ্বর ছিলো সেদিন মেয়েটার । হোস্টেল এ ফেরার সময় মাঝরাস্তায় সেন্স লেস ও হয়ে যায়। কি এক ভয় পেয়েছিলো রাহাত সেদিন ।
শব্দ করে হেসে ফেললো আনমনেই। কি থেকে কি হয়ে গেলো! একটা সময় ছিলো যখন রোজ দেখতে পারতো মেয়েটাকে। রোজ মানে রোজ। মেয়েটা বাড়ি যেতো ছুটিতে । কখনো অস্থির লাগতো না। শেষবার যেদিন গেলো সেদিন বিদায় দিতে এসে ছিলো সে স্টেশন অবধি । সেদিন অস্থির করছিলো বুকের ভিতরটায়। আফসোস হয় আজকাল।

সেদিন যদি জানতো ওই বিদায় টাই আজন্মের মতো বিদায় হবে। তাহলে সে কি বিদায় দিতো মেয়েটাকে ! দিতো না। কখনো দিতো না । মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজলো রাহাত। পৌছুতে খুব একটা সময় লাগার কথা নয়। তিতিরকে নিয়ে আসবে। ভালোবেসে বুঝিয়ে আনতে পারলে, না হলে জোর করে। তার মায়ের ইচ্ছে পূরন করতে সে এতটুকু জোরজবরদস্তি ঠিক করতে পারে।

ঈশান তখন থেকে দাড়িয়ে আছে ওখান টায়। একবারও ফিরে তাকাচ্ছে না । তিতরের মনে হলো ঈশান কি রাগ করেছে তার ওপর! কি করতো সে। এটা কি ওইসব করার জায়গা। আজব মানুষ একটা।
ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো তিতির। পিছন থেকে ডাকলো।
____”আপনি কি রাগ করেছেন?”
____”নো।”
____”তাহলে? “
____”তাহলে কি?”
____”কাছে আসছেন না কেনো!”
____”কাছে যাওয়া তুই এখনো মানতে পারিস না তাই।”
ঈশানের কন্ঠে স্পষ্ট টের পেলো অভিমান। এখানে বাচ্চাদের মতো অভিমান করার মানে আছে! এটা কি রোমান্স করার জায়গা ? কথাটা ভেবেই একবার আসেপাশে তাকালো তিতির। যেদিক চোখ যায় সবুজে সবুজে ছেয়ে আছে। লম্বা লম্বা আদিম যুগের গাছপালায় ভরা চারপাশ। ঘনকালো মেঘের সাথে ধুলি ঝড়। এরমধ্যে রোমান্স এর চিন্তা কিভাবে আসতে পারে একটা মানুষ এর!
তিতির আরও দুবার ডেকেও আর সাড়া না পেয়ে সাহস করে একটা কাজ করে বসলো। কম্পিত দু হাত বাড়িয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো ঈশানকে। এটা আশা করেনি ঈশান মোটেই। থ মেরে গেলো। তিতিরের নরম গলা শুনতে পাওয়া গেলো,

____”বৃষ্টি হবে ঈশান ভাইই?
এমন রোমান্টিক ওয়েদার এ, এমন অন্তরঙ্গ ভাবে দাড়িয়ে থেকে তিতিরের ভাই সম্বোধন টা ঠিক হজম হলো না ঈশানের। ভাই টা যোগ না করলেই এখন একটা রোমান্টিক কারবার করে ফেলে সে। সবে জল ঠালতেই হবে মেয়েটার। চোখমুখ কঠিন করে বাজখাঁই গলায় বললো,
____”আমাকে কি তোর আবহাওয়া অধিদপ্তর মনে হয়?”
তিতির হাসলো নিঃশব্দে। হাতের বাধন দৃঢ় করে মাথা ঠেকালো ঈশানের পিঠে। ঈশান স্পষ্ট টের পাচ্ছে শরীরের সাথে লেপটে থাকা নরম একটা উত্তপ্ত শরীরে কাঁপন। তিতির একই কন্ঠে বললো,
____”আকাশে কি পরিমাণ মেঘ দেখতে পাচ্ছেন না? কালো হয়ে আসছে চারপাশ। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে আরও ঝড় উঠতে পারে।”
____”তাহলে তো টেরই পাচ্ছিস। ঘ্যানঘ্যান করার কি আছে?”
____” গিরগিটিও আপনার থেকে কম রাঙ পাল্টায়। এতক্ষণ মুখে মধু লাগিয়ে কথা বলে এখন নিমিষে করলার রষ এলো কোত্থেকে।”
____”এতক্ষন আদর সোহাগ নিয়ে এখন যেখান থেকে তুই তোর ভাই ডাকটা আমদানি করলি সেখান থেকে।”
তিতির এ যাত্রায় ধরতে পারলো ঈশানের হুট করে রেগে যাওয়ার কারণ। ঠোঁট চেপে হাসলো। রাগানোর মহা ঔষধ মিললো একটা।

____”সম্মান করে বলি।”
____”তোর সম্মানের ধার ধারি না আমি।”
____”তাহলে দিন রাত নাম ধরে ডেকে, তুমি তুমি করে মুখে ফেনা তুলে ফেললে ভালো লাগবে?”
কপালে দুটো ভাজ পরলো ঈশানের। এটা তো ভাবেনি। তিতিরের মুখে তার নাম টা শুনতে কেমন লাগবে! তুমি শব্দটাই বা কেমন লাগবে। পেটের ওপর রাখা তিতিরের নরম হাত দুটো দু হাতে চেপে নিজে ঘুরে দাড়ালো। হেলান দিলো পিলার টার সাথে।
____”মন্দ লাগবে না। ডাক তো।”
থতমত খেলো তিতির। এখন কি ঈশান নাম ধরে ডাকতে বলবে নাকি!
____”কি?”
____”আমার নাম ধরে।”
____”অসম্ভব। “
____”অসম্ভব কেনো? “
____”অভ্যাস আছে নাকি!”
____”নেই, হবে। না ডাকলে অভ্যেস টা হবে কিভাবে?”
____”নাম ধরেই বা ডাকতে হবে কেনো! এমনিই তো ঠিক আছি।”
____”আমি নেই বিশ্বাস কর। সময় অসময় ভাই ডেকে মুডের চৌদ্দ টা বাজিয়ে দিস তুই।”
____”ভাই ডাক টা কি খারাপ নাকি!”
ঈশানে তিতিরের পাতলা কোমড় টেনে নিজের সাথে মেশালো। হাস্কিস্বরে বললো,

____”খারাপ। খুব খারাপ। ধর আজ বাদে কাল যখন আমাদের সেই মূহুর্ত টা আসবে। যে মূহুর্তে তোর আমার মধ্যে কোনো দুরত্ব থাকবে না, তোর লজ্জা ভাঙবো আমি, তোর শরীরের প্রতিটি ভাজে আমার স্পর্শ, আমার দেওয়া আদর থাকবে। আমি দিনদুনিয়া ভুলিয়ে আদর দেবো তোকে । সেই মূহুর্তে যদি আমাকে ভাই ডেকে উঠিস। ভাবতে পারিস আমার অবস্থা টা তখন? আমি তো সেদিনই সন্নাসী হয়ে গৃগত্যাগ করবো তিতির। আর নয় তো হার্টফেইল করে মরবো। তুই কি সেটা চাস? হুম? স্বামী স্ত্রীর বিশেষ মূহুর্তে স্ত্রীর মুখে ভাই ডাক শুনে স্বামী গৃহত্যাগী অথবা ওপরে চলে গেছে! কেমন না বিষয়টা? আমি তো ভাবতেই পারি না।”
কি থেকে কি বলে গেলো এতগুলো কথা। লজ্জায় মরি মরি অবস্থা তিতিরের। সামান্য একটা বিষয়কে অশ্লীলতার কোন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায় তা কেউ ঈশান আরশাদ এর থেকে শিখুক। তিতিরের গাল, নাকের ডগা টমেটোর মতো লাল হয়ে গেছে। ঈশান আঙুল ছোয়ালো শেখানটায়।

____”ভাই ডাকবি না। একদম না। দরকার হলে বোবার মতো ইশারা ইঙ্গিত এ কথা বলবি। তবুও ভাই নট এলাও। নো মিনস নো।”
____”অসভ্য। ছাড়ুন।”
ঈশান এর মুখ অন্ধকার হলো। বিরক্তের সাথে বললো,
____”ধরতেই পারলাম না এখনো। যখনই ধরতে যাই মোচড়ামুচড়ি করিস। এখন কাছে কে এসেছিলো? আমিতো দূরেই দাড়িয়ে ছিলাম। জড়িয়ে ধরে নিজের শরীর উত্তাপ আমার দেহে ট্রান্সফার করতে বলেছিলাম আমি? তারপর আমি খেই হারালে সব দোষ একা আমার?”
তিতির তবুও থাকলো না আর হাতের বাধনে। এরকম আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে উল্টাপাল্টা কথায় লজ্জা দিলে থাকা যায় নাকি।
এতক্ষণ এর ঝিরিঝিরি বৃষ্টি এক নিমিষে এবার রুপ নিলো ঝুম বৃষ্টি তে। কালবৈশাখীর থেকে কোনো অংশে কম নয়। এতক্ষণের ঝরো হাওয়ার সাথে এখনকার আকাশ ভাঙা বৃষ্টির তোড়ে মূহুর্তেই ভিজিয়ে দিলো দুজনকে। চোখের পলকে সাদা জামাকাপড় শরীরে লেগে গেলো দুজনের। ঘনঘন বজ্রপাতের শব্দে তিতির আর দূরে যাওয়ার সাহস করলো ন এবারে।

____ “কি কুক্ষণে আজ বেরিয়েছিলাম বলুন তো।”
____”ইজেন্ট ইট রোমান্টিক? “
ঈশানের কেমন কেমন কন্ঠস্বরে মিটিমিটি করে তাকালো তিতির। ঈশানের চোখজোড়া ভীষন ঘোলা লাগছে। অপলক দৃষ্টি তিতিরকে ইশারা করছে অনেক কিছু বুঝে নিতে। তিতির শুকনো ঢোক গুললো। বৃষ্টির ঝাপটায় এখন তাকিয়ে থাকাও জুলুম মনে হচ্ছে। মাথার ওপরের ওই সামান্য ছাওনি কিচ্ছু বাচাতে পারলো না আর। ঈশানের কন্ঠদেশের অ্যাডামস অ্যপেলের দিকে নজর যেতেই শিরশির করে উঠলো পায়ের তলা।
ঈশানেরও একই অবস্থা। সিফনের পাতলা শাড়ি ভেদ করে নারীদেহের ভাজ তো সেই কখন থেকেই তার চোখের সমানে দৃশ্যমান। অনবরত পানির ফোটা গড়িয়ে পরছে তিতিরে এর শরীর থেকে। ব্লাউজের ওপরের শরীরের উন্মুক্ত অংশটুকু ভিজে চিকচিক করছে।
ঈশান চোখে চোখ রেখে তিতিরের ঠোটের উদ্দ্যেসে মুখ খানিকটা নামাতেই পিছিয়ে গেলো তিতির। অস্ফুটস্বরে বললো,

____”এখন না।”
দীর্ঘশ্বাস ফেললো ঈশান । বিয়ে একটা করেছে মাশাল্লাহ। বউ কে ছুলোই না একদিনও, তার আগেই দূরে সরিয়ে দেয়।কধিন গলায় বললো,
____”তোর সেই এখন টা কবে আসবে বলতে পারিস?”
তিতির কিছু বলার আগেই আকাশ ফাটিয়ে বিকট আওয়াজ হলো একটা। হুড়মুড়িয়ে এগিয়ে এলো তিতির। কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,
____”আমি এখানে থাকবনা।”
____”কিছু করার নেই। অপেক্ষা করা ছাড়া।”
সত্যিই কিছু করার নেই। এ বৃষ্টি আজ থামবে বলে মনেই হচ্ছে না। রুহ কেঁপে উঠলো তিতিরের। বৃষ্টি না থামলে এখানে সারারাত থাকতে হবে নাকি! কি জ্বালায় পরলো। এরকম একটা জায়গায় এই আবহাওয়ার শেয়াল কুকুরে রাত্রে টানাটানি শুরু করে দেবে। সাথে মানুষ এর তো ভরসা নেই-ই।
ঈশান মাথার চুল থেকে পানি ঝাড়ছে। গায়ের ভেজা পাঞ্জাবি অস্বস্তি হচ্ছে ভীষন। সেটা টানাটানি করে শরীর থেকে সরাচ্ছে বারবার। তিতির খানিকটা সময় পর ঈশানে মন দিলো। এর আগে ঈশান কে পাঞ্জাবি তে বিয়ের দিন দেখেছিলো। আর আজ দেখলো। এর আগে ছোটবেলায় দেখেছিলো কি না মনে পরছে না । কি ম্যানলি যে লাগছে পাঞ্জাবি টা তে। বলার মতো না। ঈশান চোখ তুলতেই চোখাচোখি হলো দুজনের । তিতির তার দিকে ওভাবে তাকিয়ে আছে বুঝতে পেরে ঈশান নিজের দু হাত আড়াআড়ি বুকের ওপর দিয়ে কপট ভঙ্গিতে বললো,

____”বৃষ্টির দিনে এমন ভুল হতেই পারে। বেরিয়েছি না হয় ভুলে সাদা পরে। তাই ওভাবে তাকিয়ে থাকবি?”
তিতির হতভম্ব হয় ঈশানের অভিনয়ে। কথাটা যে তাকে খোটা দিয়ে বলা হলো তা নিজের শরীরের লেপটে থাকা সফেদ শাড়ির দিকে তাকাতেই টের পেলো। রক্তিম হলো গাল। আশেপাশের অবস্থা পরখ করে শাড়ির ভেজা আচল টেনেটুনে ঠিক করতে করতে বললো,
____”কিছু একটা করুন।”
ঈশান হাস্কিস্বরে বলে উঠলো,
____”করতেই তো চাই। বৃষ্টির মধ্যে এমন অবস্থায় কত কিই তো করতে মন চাচ্ছে। করে ফেলি বল?”
আবার কথাটা বাকা ইঙ্গিতে নিচ্ছে বুঝতে পেরে দাঁতে দাঁত পিষলো তিতির।
____”অসভ্য কোথাকার।”
ব্যাস্ত হাতে বারবার পাতলা আঁচলে নিজের বুকের ওপর আড়াল করতে ব্যাস্ত। লাভের লাভ তাতে অবশ্য কিছু হচ্ছে না। ঈশান কপট হাসি দিলো সামান্য।

____”এভাবে কি ঢাকছিস??দেখে ফেলছি।”
সঙ্গে সঙ্গে উল্টো ঘুরে দাড়ালো তিতির। আতঙ্কিত কন্ঠে আউরালো,
____”ছিহ ছিহ্ । ঈশান আরশাদ যে এতটা অসভ্য জীবনে কল্পনায় ছিলো না।”
তিতির ঘুরতেই দু কদম এগিয়ে আবার দুরত্ব ঘোচালো ঈশান। মাথা নুয়িয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,
____”আগে কি বউ ছিলিস যে জানাতাম তোকে?কাপড়চোপড় খুলে তোকে দিতে পারবো না। চাইলে বুকে আসতে পারিস। আমার এরকম কসরত করে বানানো বডি রেখে আমার বউ জামাকাপড় এ শরীর ঢাকবে? Isn’t it so lame? আয় আয় বুকে আয়।”
এতো কাছে ঈশানের অস্তিত্ব টের পেয়ে আরেকটু এগিয়ে যাবে ভাবতেই পিঠের ওপর থেকে কেউ সরিয়ে দিলো কোমড় ছরানো ভেজা চুল গুলো।
____”আ…আপনি…”
____”হুশশশশ, চুপ।”
ঈশানের শীতল অধর ছুঁয়ে দিয়েছে তিতিরের নরম কানের লতি। শ্বাস আটকে দাড়িয়ে থাকার মাঝে কানের ভাড়ি দুলটা খুলে গেলো। পরপর দুটো কানেরই। ঈশান মৃদু কামড় বসালো এবারে সেখানটায়।

____’এতো ভারি দুল কেনো? লাল হয়ে গেছে!”
তিতির জবাব দেয় না। ঈশান এক হাত তার শাড়ির আচল ভেদ করে পেটের ওপর আকিঁবুকিঁতেও ব্যাস্ত। ভেজা অঙ্গ ঝলসে যাচ্ছে যেনো ঈশানের ছোঁয়ায় । তিতিরের দুলজোড়া পাঞ্জাবির পকেটে রেখে আখিজোড়া স্থির করলো তিতিরের উন্মুক্ত পিঠে । শুকিয়ে এলো গলাটা। শুকনো ঢোক গিলতেই তরঙ্গিত হলো পুরুষালি অ্যাডেমস অ্যাপেলটা। কাধের ওপরে লেপটে থাকা চুলগুলো একটা একটা করে সরালো।
____”আমি যদি এখন তোকে একটু আদর করি তুই কি দূরে সরিয়ে দিবি তিতির?”
তিতির কি জবাব দেবে এখন। ক্ষনে ক্ষনে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। একের পর এক বজ্রপাত হচ্ছে। আকাশ ভেঙে ঢল নেমেছে। বৃষ্টির শব্দে পরুবেশ কেমন অন্যরকম লাগছে ভীষন। শীতল বাতাসে কাঁপুনি ধরার কথা শরীরে। কিন্তু এখন আর সেটা মনেই হচ্ছে না। শরীর কাপছে, আগের থেকেও দ্বিগুণ হারে কাঁপছে। তবে তা শীত অনূভুত হওয়ার জন্য নয়। বরং ঈশান কাছে আশায়। ঈশান তিতিরের জবাবের অপেক্ষা করে সেভাবে ঝুকেই। তবে তিতিরের সাড়াশব্দ না পেয়ে মাথা তুলে ফেলে। ঘাড়ের ওপর থেকে তপ্ত নিঃশ্বাস সরে যেতেই বন্ধ চোখজোড়া খুলে ফেললো। ঈশান সরে যাচ্ছে টের পেতেই রুদ্ধশ্বাসে বললো,

____ “উহু।”
ঈশান বুঝলো না। তিতির মানা করলো নাকি সম্মতি দিলো। তবে ওকে ওভানেই দাড়িয়ে থাকতে দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারলো না । কোমড়ে থাবা বসিয়ে মুখ ডুবালো গ্রীবাদেশে । একটানে ব্লাউজের ফিতে টান দিয়ে খানিকটা নামিয়ে দিলো ডান পাশের অংশ । ইনারের কালো ফিতে আষ্টেপৃষ্টে আছে মখমলের মতো শরীরটায়। চুমুতে চুমুতে ভেজা শরীর আরেকদফা ভিজে উঠলো । বৃষ্টির পানি ভিজিয়ে দিচ্ছে সর্বাঙ্গ, সঙ্গে সঙ্গে পরম আবেশে ঈশান শুষে নিচ্ছে সেসব । চুমুর সাথে সাথে কামড়ে কামড়ে জর্জরিত হচ্ছে জায়গা গুলো । তিতিরের এর হাত আনমনেই উঠে এলো পিছনে। ঈশানের কাধ খামচে ধরলো সে হাত।

ঈশান মুখ তুললো ঘোরলাগা দৃষ্টি ফেললো ইনার এর ফিতের ওপর। ঠোঁট নামিয়ে ছোয়ালো সেটায়। মুখের সাহায্যে নামালো সেটাও বেশখানিকটা। তিতিরের শরীর এবারে ভেঙে আসছে। দাড়িয়ে থাকতে পারলো না। অবশ শরীর ছেড়ে দিলো। মিশে গেলো ঈশানের সাথে। ঈশান হেঁচকা টানে ঘুরিয়ে ফেললো তিতিরকে নিজের দিকে।চুলগুলো পিছনে ঠেলে দিয়ে এক হাত গলিয়ে দিলো চুলের নিচে। চুলগুলো হাতে পেচিয়ে কপালে কপাল ঠেকালো।
তিতিরের চোখজোর বন্ধ। দাবানলে পুড়ছে দু দুটো মানব হৃদয়। ঈশান অনুমতির প্রয়োজন বোধ করলো না এবারে। পাতলা ওষ্ঠে মেলালো নিজের অধর। পেটের মধ্যে হাজার একটা প্রজাপতি ওড়াউড়ি করছে জেনো তিতিরের। চুমুর তালে নিজের হাত দুটো দিয়ে আকড়ে ধরলো ঈশানের ঘাড়। অবশ শরীরের সম্পূর্ণ ভর ঈশানের শরীরের ওপর। তিতিরের নরম সত্ত্বা ঈশানের শক্তপোক্ত বুকে মিশে আছে।
ঈশানের পাগলামি ক্রমশঃ বাড়লো। উন্মাদের মতো করছে ঈশান। ছেলেটার ওষ্ঠজোড়ার তীব্র ছোঁয়ায় তাল মেলাতে পারছে না তিতির। ছটফট করছে সে। তিতিরের শ্বাস নিতে চাওয়ার ক্ষুদ্র চেষ্টাটুকু কে পায়ে পিষে আগের থেকেও দ্বিগুণ উন্মাদ এর মতে আকড়ে ধরছে মেয়েটার অধরজোড়া।
মিনিট ছয়েক পর ঈশান আচমকা থামলো। সেই সুযোগে বুক ভরে শ্বাস নিলো তিতিরে। তবে ক্ষান্ত হয়নি ঈশান। তিতিরকে ঠেলে বসিয়ে দিলো প্রস্যস্ত কোমড় সমান দেয়াল এর ওপর। কেনো দিকে মন নেই যেনো আর ছেলেটার। বাইরের উথালপাতাল ঝড়ের থেকে বেসামাল হয়েছে ঈশান। বসানো মাত্র তিতিরের হাত দুটো আবার তুলে দিলো নিজের ঘাড়ের ওপর। তিতিরের হাটুর ওপর হাত রেখে দু পা দুদিকে সরিয়ে এগিয়ে এলো একদম। ভেজা চুলগুলো আবার হাতে পেচিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,

____”এটা সেই জায়গা না যেখানে তোকে আমি আমার ওই আদরটা করতে পারি। কিন্তু এই মূহুর্তে আমি সরতে পারছি না। পারছিই না । একটু আদর করি হ্যা? লিমিট ক্রস করতে গেলে বাধা দিবি কেমন? তার আগে না।।”
তিতিরকে উত্তর করার সময় দিলো না ঈশান । আবারও দখল করে নিলো পাতলা ওষ্ঠজোড়া। এবার শুরু থেকেই চূড়ান্ত ঔদ্ধত্যের পরিচয় দিলো ঈশান। বিন্দু মাত্র নমনীয়তা দেখালো না মেয়েটার নরম কোমল ঠোঁট জেড়ার ওপর। গভীর থেকে গভীর আশ্লেষে শুষে নিচ্ছে সবটুকু অধরসুধা। একটু পরপর কামড়ে ধরছে ওষ্ঠজোড়া । টেনে নিচ্ছে নিজের অধরজোড়ার মাঝে। তিতিরের হাত খামচে ধরে আছে ঈশানের ঘাড়। ঈশানের এক হাত শক্ত করে তিতিরের চুল পেচিয়ে থাকলেও অন্য হাতের বিচরন সমস্ত অঙ্গজুড়ে। বেহায়া স্পর্শে মুচড়ে উঠছে তিতিরের শরীর।
ঘড়ির সেকেন্ড, মিনিটের কাটা ক্রমাগত ঘুরছে। তবে প্রকৃতি বা ঈশান কারোরই নিজেদের বেসামাল ঝড় থামানোর কোনো লক্ষন নেই। এ যাত্রায় হাসফাস করে তিতির। শ্বাস আটকে মরে যাবে বোধহয় মেয়েটা । ঠোঁট জোড়া জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে। রক্তের নোনতা স্বাদ ক্রমাগত মুখের ভিতর অনূভব করছে দু’জনেই । দু হাত এবার নেমে আসে ঈশানের বুকের ওপর। ঠেলে সরাতে চায় পাগল পুরুষ টাকে । লাভের লাভ কিচ্ছু টি হয়না। উল্টো আরও ব্যাথাতুর চাপ অনূভব করে নগ্ন উদর আর চুলের ভাজে।

আরও মিনিট পাঁচেক সময় নিয়ে ওষ্ঠজোড়া থেকে মুখ তুললো ঈশান। তিতিরের ঠোঁটের গাঢ় লাল লিপস্টিক ছড়িয়ে ঠেকেছে দু গাল এপাশে থুঁতনি অবধি। দুজনেই শ্বাসকষ্টের রুগীর মতো হাপাচ্ছে। তিতিরের চোখের নোনাজল গড়িয়ে মিশে যাচ্ছে বৃষ্টির পানির সাথে। ঠোঁটের ওপর কেউ মরিচ লাগিয়ে দিয়েছে এমন অনূভুতি হচ্ছে তার। কৃত্রিম লাল রং ভেদ করে ঠোঁটের দু পাশের কাটা থেকে রক্ত গড়িয়ে পরতেই ঈশান নিজের ওষ্ঠাগত করলো সে জায়গা আবার। পরম যত্নে শুষে নিলো সবটুকু লোহু।
তিতিরের চোখবুঝে চোখের পানি আটকানোর পায়তারায় ব্যাস্ত। ঈশান মুখ তুলে বৃদ্ধাঙ্গুলি সাহায্য নিজের ওষ্ঠে লেগে থাকা তিতিরের অধরজোড়া থেকে লেগে যাওয়া রক্তটুকু মুছে ফেললো।

তিতির শ্বাস ফেলছে জোরে জোরে। তিরতির করে কাপতে থাকা মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরলো ঈশান। কন্ঠদেশের দিকে নজর দিলো। বাইরে অন্ধকারে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানোর আলোয় পানির কনা গুলো জ্বলজ্বল করছে। ঈশান এবারে মুখ ডুবালো কন্ঠদেশে। তিতির ছটফট করলো। শীরদাড়ার বল তো হারিয়েছে সেই কখনই। নেহাৎ ঈশান তাকে কোমড় আকড়ে ধরে আছে বলে। না হলে তো কখনই জ্ঞান হারাতো।
ঈশানের আদরে আদরে ক্ষতবিক্ষত হলো তিতির। পিঠ,ঘাড়,কাধ ঠোঁট সব জ্বলে যাচ্ছে যেনো। গোটা অঙ্গ জ্বলছে তার । ঈশান শাড়ির আচল নামিয়ে কন্ঠদেশ থেকে আরেকটু মুখ নামাতেই অজান্তেই তিতিরের মুখ থেকে আবেদনময়ী শব্দ বেড়িয়ে এলো । মৃদু শীৎকার এসে বাজলো ঈশানের কানে। ঈশান খেই হারালো সেই শব্দে। বাড়লো তীব্রতা। বৃষ্টির শব্দের সাথে তিতিরের গোঙানির শব্দে পাগলপ্রায় ঈশান।
বেশ সময় নিয়ে ঈশান মুখ তুললো । তিতিরের নখ যে তার ঘাড়ে বসে গেছে, ঘাড়ের জ্বলুনি তে স্পষ্ট টের পাচ্ছে সেটা। তিতির এর বক্ষজোড়ার ওঠানমা চোখে পরার মতো। ঈশান কপালে কপাল ছোয়ালো । থামানো উচিত নিজেদের! থামানো উচিত তো। কিন্তু পারছে না। সন্ধা নেমে আসছে। বৃষ্টির গতি কমে এসেছে। কিন্তু তার মনের ঝড় থামতে চাচ্ছে না কিছুতেই।

____ “তিতির?”
____”উমম।”
____”মরে যাচ্ছি তো।”
তিতির হাপাচ্ছে । শব্দ উচ্চারণ এর মতো শ্বাসপ্রশ্বাস এর জোর নেই তার । ঈশানও হাপাচ্ছে। বুকের ভিতরের হৃদপিন্ড খাচা ছেড়ে বেড়িয়ে আসতে চাচ্ছে । তিতির এর নিচের ঠোটে নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি চেপে ধরলো হাস্কিস্বরে বললো,
____”আই ওয়ান্ট মোর।”
তিতির চোখ খোলে না। দুদিকে মাথা নাড়ে। আর নয় সেটা বোঝায়।
____”তাহলে কাছে আসার অনুমতি দিস কেনো? চাস না আমাকে তুই?”
তিতির ঈশানের পাঞ্জাবির কলার আকড়ে ধরা এখনো। তিরতির করে কম্পিত আখিজোড়া খোলে। নিভু নিভু দৃষ্টিতে দেখে মুখের একদম কাছে আরও একজোড়া ঘোলাটে হয়ে আসা আকুল দৃষ্টি।
ঈশান কপালে কপাল রেখে চোখ বুঝলো। জোরে শ্বাস টেনে বললো,
____”আমার তোকে লাগবে।”
তিতিরের নিরবতায় অশান্তি লাগছে ঈশানের। কোমড়ে শক্ত চাপ প্রয়োগ করে হিসহিসিয়ে প্রশ্ন করে,
____”জবাব দিচ্ছিস না কেনো?”
তিতিরের কন্ঠ কাঁপছে। গলার কাছে দলা পাকিয়ে আছে। কি বলবে সে । নিজেকে সামালতে ব্যাস্ত সে। আমতা আমতা করে বললো,

____”ক..ক..কি বলবো?”
____”সংসার করবি আমার সাথে? “
____”হু।”
____”কবুল পরে এতটা দূরত্ব রাখলে সংসার হয়? সংসার এ স্বামী, সন্তান,আদর, ভালোবাসা লাগে না?”
____”ল..ল..লাগে।”
____”তোর লাগবে না?”
____”লাগবে।”
____”কবে সেটা?”
কবে সেটা কি করে মুখে বলবে তিতির! তাছাড়া এটা সংসার চাওয়ার জায়গা? নাকি সংসার, সন্তানের এর প্রসেস শুরু করার জায়গা!
____”বাড়ি চলুন।”
ঈশান মাথা তুলে আঙুলের সাহায্য তিতিরের মুখ টা তুললো। তিতির তাকাতে পারছে না ঈশানের দিকে। তার লিপস্টিক এর রঙে ঈশানের ঠোঁট এর আশপাশে ও লাল হয়ে আছে। লজ্জায় মরে যাচ্ছে সে। ঈশান তিতিরের কাধে ভেজা চুমু একে ইনারের ফিতে আর ব্লাউজ দুটোই তুলে দিলো।
হাস্কিস্বরে বললো,

____” আমি আর সময় দিতে পারবনা। নিতেও পারবনা। আমি হার মানলাম। আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারছি না। মরে যাচ্ছি তোর দহনে। প্রতিনিয়ত ঝলসে যাচ্ছি তোর রুপের অগ্নিস্ফুলিঙ্গে। দূরে থেকে পোড়াস না। হয় নিজে সম্পূর্ণ পুড়িয়ো দে না হয় আমাকে সেই অনুমতি দে। আদর করার অনুমতি চাই তিতির। আজই চাই।”
তিতির আচমকা চেপে ধরলো ঈশানের মুখ। কপাল ঠেকালো নিজের হাতের ওপর। কোনোমতে বললো,
____”আর কিছু বলবেন না প্লিজ। পাগল করে দিচ্ছেন আপনি আমাকে।”
ঈশান তিতিরের হাত সন্তর্পণে সরিয়ে দিলো। হাস্কিস্বরে বললো,
____”উহু। পাগল করতে পারিনি এখনো। পারলে দূরে রাখতে পারতি না।”
তিতির চোখে চোখ মেলালো। আশেপাশে নজর বুলিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে খানিকক্ষণ পর মিনমিনে কন্ঠে বললো,
____”এটা কি কাছে টানার জায়গা?”
____”বাড়ি গেলেও তো বাহানা করবি।”
তিতির মাথা ঝুকিয়ে ফেললো। বুকের উথাল পাথাল সামাল দিয়ে বললো,
____”ক..করবোনা।”
ঈশান চমকালো। ঠিক শুনলো কি না বোঝার জন্য হাস্কিস্বরে বললো,

____”আমি আজকে কাছে টানবো তোকে। তোর সবটুকু কাড়বো। তোর নারীত্বে দখলদারি ফলাবো ।সেটার অনুমতি। দিচ্ছিস?”
লজ্জায় রক্তিম মুখ আরেকটু ঝুকিয়ে মাথা নাড়লো তিতির।
____”মুখে বল।”
____”দ..দেবো।”
____”আজ রাত টা আমার কিন্তু তিতির। মনে থাকবে? “
____”হু।”
____”তোর ঈদের সালামি বাকি রয়ে গেছে। সেটা উশুল করে দেবো কেমন?”
তিতির এবারে মুখ লুকালো ঈশানের বুকে । দু হাতে জাপটে ধরে মুখ তুললো না লজ্জায়। ঈশান মৃদু হাসলো। শ্বাস নিলো জোরে জোরে। ঝড়ের গতি কমে এসেছে। সন্ধ্যা হয়ে আছে। সেই তখন থকে পকেটে ভাইব্রেট করছে সেলফোন টা। কোনো দিকে খেয়াল দিতে ইচ্ছে হলো না এখনো। তার বুকের বা পাশের অস্থির অঙ্গটার ওপর তাকে শান্ত করার নারীটি মাথা রেখেছে। যার মুখপানে তাকালে সকল অস্থিরতার, অশান্তির অবসান হয়। যার স্পর্শে নিজের শক্তপোক্ত খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে অসভ্য হয় সে বারবার। ঈশানও জড়িয়ে ধরলো তিতিরের কোমড়। চুমু আকলো ভেজা সিঁথি তে।
বৃষ্টির গতি কমে আসায় কানে বেজে আসছে পার্কের সাউন্ড বক্সে উচ্চস্বরে বাজতে থাকা একটা গানের লাইন। ঈশান তিতির দুজনেরই একসাথে মনে হলো গানটা তাদের জন্যই বাজানো হচ্ছে বুঝি!

“হালকা হাওয়ার মতন,চাইছি এসো এখন
করছে তোমায় দেখে,অল্প বেইমানী মন
বাঁধবো তোমার সাথে,আমি আমার জীবন
আমি তোমার কাছেই রাখবো
আজ মনের কথা হাজার
দিয়ে তোমার কাজল আঁকবো
আজ সারা দিনটা আমার
তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে
তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে
আর কমলো চিন্তা আমার”

সাঁঝের মায়া পর্ব ৩৮

গানের শব্দগুলো আরও লজ্জা দিচ্ছে তিতিরকে। এবারে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকা তিতিরকে নিজের বুকের ওপর থেকে তুললো। লজ্জারুন মুখখানা নিজের খসখসে হাতের আজলায় নিয়ে কপালে কপাল ঠেকিয়ে হিসহিসিয়ে গেয়ে উঠলো,
চাইলে আশকারা পাক, বেচে থাকার কারণ
আজকে হাতছাড়া যাক,ব্যাস্ততারই বারণ;
লিখবো তোমার হাতে, আমি আমার মরণ…

সাঁঝের মায়া পর্ব ৪০