Home সাঁঝের মায়া সাঁঝের মায়া পর্ব ৬৪ (২)

সাঁঝের মায়া পর্ব ৬৪ (২)

সাঁঝের মায়া পর্ব ৬৪ (২)
দুর এ দিলশাদ্ দুআা

নিস্তব্ধতায় ঘেরা চারদিক। ভরা বর্ষাতেও বৃষ্টির দেখা নেই। খাঁ খাঁ করা রোদ্দুরে চোখ ঝলসে যাওয়ার উপক্রম। দেওয়ান বাড়ির মানুষদের নির্ঘুম দিন-রাত কাটে আজকাল। বাড়ির আলো নেভে না গোটা রাতেও। জেগেই কাটায় সবাই একপ্রকার। সামনে সোমবারে ঈশানের কেসটা কোর্টে ওঠার কথা। এদিকে গত পরশু থানা থেকে চিঠি এসেছে, ঈশান নাকি পরিবারের কারোর সাথেই দেখা করতে চায় না। রাইসুল দেওয়ান তার দুই ভাইকে নিয়ে আজকে সকাল সকাল বেড়িয়ে পরেছে ঢাকার উদ্দেশ্য। ঈশানের সাথে আরও একবার দেখা করার চেষ্টা করে, ওই মেয়েটার সন্ধান করবে। যে কি-না, ঈশানের নামে আরেক দফা মামলা ঠুকেছে।
দু’দিন হলো তিতিরের তীব্র জ্বর। প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছিলো ঘনঘন। তীব্র মাথা যন্ত্রনায় কাবু হয়ে আছে মেয়েটা। সারারাত ছটফট করে গিয়েছে সেই যন্ত্রনায়। চোখ বুজেছে বেলা এগারো টার দিকে। মেয়েটাকে ঘুমাতে দেখে তবেই, ঘর ছেড়ে নিচে এসেছে দেওয়ান গিন্নি। নিশি আজকাল এ ঘরেই থাকে। এমন অবস্থায় মেয়েটাকে একা রাখা যাবে না মোটেই । সে-ও খানিক আগেই নিজের ঘরে এসেছে শাওয়ার নিতে। তিতির ঘুমাচ্ছে এই ফাঁকে আরকি। দুপুরের খাওয়াদাওয়া শেষে সবাই বোধহয় এখন নিজেদের ঘরেই। কর্তারা কেউ বাড়িতে নেই। ছেলেমেয়ে গুলোও এমন মানসিক অবস্থায় স্কুল, কলেজে যায়নি।

বদ্ধ দরজার এপাশে শ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে রইলো নয়ন। সেদিন মাতাল হয়ে যে কর্মকাণ্ড গুলো করেছে, সেগুলোর জন্য তিতিরের কাছে একটাবারও ক্ষমা অবধি চাইতে পারেনি। সে ভুলেও কখনো চায়নি, তিতির এই সত্যিটা জানতে পারুক। কিন্তু সেদিন কি থেকে কি হয়ে গেলো, আর সে এতবড় একটা ভুল করে ফেললো। তবে কেমন একটা সাহস করে, ভিতরে যেতে পারছে না সে। মেয়েটা জেগে আছে কি-না তাও জানে না। তাকে দেখে এই অবস্থায় কি ভাবে রিঅ্যাক্ট করবে সেটাও একটা কথা। তবে নিচু গলায় দু’বার ডেকেও যখন সাড়া পাওয়া গেলো না ভিতর থেকে, একপ্রকার দরজা ঠেলেই পা বাড়ালো ঘরের দিকে। তিতির ঘুমাচ্ছে। ঘরের জানালা গুলোও বন্ধ করে দেওয়া, পর্দাগুলো টেনে দেওয়া। দিনের আলো ঘরে প্রবেশ করতে পারছে না একফোঁটাও। কমফোর্টার একদম গলা অবধি টেনে রাখা। নয়ন বুঝলো ঘুমে আছে মেয়েটা৷ ইতস্তত করলো খানিকটা। একবার বেড়িয়েও যেতে চাইলো। পরক্ষণেই অজানা এক আকর্ষণে এগিয়ে গেলো ঘরের ভিতর। বিছানার পাশেই রাখা চেয়ারটাতে বসলো শব্দহীন। এসি,ফ্যান দু’টোই বন্ধ। কপালে হাত ছোঁয়াতেই জ্বরের তীব্রতা টের পেলো। অন্ধকার হয়ে এলো মুখটা। কমফোর্টার টা পাশ দিয়ে আরেকটু ভালো মতো টেনে দিয়ে নিজের কোলের ওপর হাত গুটিয়ে বসলো। ঘুমন্ত মুখটার দিকেও আজকে তাকাতে পারছে না। তীব্র অপরাধবোধ হচ্ছে তার। অপরাধি কন্ঠে বললো,

—’ ভালোবাসি তোকে। খুব ভালোবাসি। কিন্তু যেটা চাইনি সেটাই হয়ে গেলো,মণি। সেটাই করে বসলাম। যে কথাটা ঠিক সময়ে তোকে জানাতে পারিনি। কি করে সেটা সেদিন ওভাবে জানিয়ে দিলাম তোকে। তা-ও ওইরকম একটা বাজে ব্যবহার করে। তোকে একপ্রকার অপদস্ত করে…’
দীর্ঘশ্বাস ফেললো ছেলেটা। হাত ছুঁয়িয়ে দিলো মেয়েটার মাথায়। দু’বার হাত বুলিয়ে নরম গলায় বললো,
—’ তুই যখন প্রথম এই বাড়িতে এলি, তখন আমার সাত বছর বয়স। ভীষন ফুটবলের নেশা। বাড়ির বাগানে প্রতিবেশিদের সাথে একটা দিন মা খেলতে না দিলে, আমি কান্নাকাটি করে বাড়ি মাথায় তুলে ফেলতাম। অথচ তোকে বাড়িতে আনা মাত্র আমার সে নেশা ছুটে গেলো। রাতদিন মা, মামনী দের পিছু পিছু ঘুরতাম। তুই যেখানে আমিও সেখানে। সবাই বলতে শুরু করলো নয়নের মণি এটা। নয়ন চোখে হারায় মেয়েটাকে না দেখলে। কালের পরিক্রমায় মনের পরিবর্তন হলো। তুই বড় হতে থাকলি, তোকে এতো যত্ন দেখে আশেপাশের অনেকেই মা’কে বলতো তোর আমার বিয়ে দিতে। মা হেসে উড়িয়ে দিতো। কিন্তু আমার কিশোর মনে সেটা গেঁথে গেলো। তোকে অন্য নজরে দেখা শুরু করলাম। এখন তোর বয়স কত? বিশ পার হচ্ছে, তাই না? অথচ আমি তোর জন্য পাগল হয়ে বসে আছি তুই যখন সবে দশ। ভাবতে পারিস? দশটা বছর, মণি। কম লাগে খুব? অনেকটা সময়। ‘

মেয়েটার মাথার ওপর থেকে নিজের হাতটা সরিয়ে নিলো সে। অপলক তাকিয়ে রইলো সেদিকে। মেয়েটা কি নিশ্চিন্তেই না ঘুমাচ্ছে। অথচ ঘুম ভাঙলেই ঈশানের জন্য মুখটা মলিন করে ঘুরবে। নয়ন ব্যাথাতুর হাসলো।
—’ বড় ভাইয়া আমাদের সব কাজিনদের থেকে বরাবরই আলাদা ছিলো। কারোর সাথেই সেরকম মিশতে পারতো না। যত বয়স বাড়লো, বড় বাবার সাথে তার দুরত্ব বাড়লো। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার সব নিয়ে এতটা ব্যাস্ত হলো, এতোটা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেলো যে বাড়ির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো সেই হাই স্কুল জীবন থেকেই। এর কারণ অবশ্য আমাদের পরিবারই। ভাইয়া বেস্ট স্টুডেন্ট ছিলো, বড় স্কুলে পড়তে হলে তখন বোর্ডিং এ থাকতে হতো। সেই যে দুরত্ব। আর মিটলো না। বাড়ি ফিরলেও খেয়াল করতাম, তোকে পছন্দ করতো না। সবার সাথে যেমন তেমন, তোর দিকে কখনো ফিরেও তাকাতে দেখতাম না। একদিন তো থাপ্পড় ও দিয়ে বসলো। তোর সেকি কান্না। মনে পরে? ‘
একপ্রকার শব্দ করেই হেসে ফেললো নয়ন। সেদিন রাইসুল দেওয়ান এর সাথে কিছু একটা নিয়ে ঝামেলা হয়েছিলো ঈশানের। তারপর বাইরে তিতির কি একটা করেছিলো, কি করেনি। সজোরে থাপ্পড় পরলো মেয়েটার গালে। মেয়েটা সে- কি কান্না। সেই দেখে ঈশানের আরও রাগ। সেদিনও নয়নই বুকে জড়িয়ে সরিয়ে এনেছিলো সেখান থেকে। কত আদর আহ্লাদ করে থামিয়েছিলো মেয়েটাকে।
নয়ন পুনরায় বললো,

—’ তোকে আমি ভালোবাসি, মণি। এ কথাটা ওইসময় কেনো বলার কথা মনে হয়নি। বল তো? হতে পারে নিজের প্রতি অতি আত্মবিশ্বাস। তুই যে আমারই হবি, আমারই থাকবি শেষ পর্যন্ত। এটাই ধারনা ছিলো আমার। কেনো হলি না বলতো? আমি তো তোকে কখনো বোনের নজরে দেখিইনি। তাহলে? দিদা, তোকে কেড়ে নিলো আমার কাছ থেকে। নিলো তো নিলো, সোজা বড় ভাইয়ার সাথে বিয়ে! যাকে সেই এতটুকুন থেকে আগলে রাখলাম, বিগত দশটা বছর– মনপ্রান উজার করে ভালোবেসে গেলাম। তাকে নিজের বড় ভাইয়ের বউ হিসেবে কিভাবে মানবো আমি? দশ বছরের ভালোবাসা, তিন মাসে ভোলা যায়? যায়? তুই-ই বল। কিভাবে সম্ভব। চোখের সামনে তুই বড় ভাইয়ার বউ হয়ে ঘুরে বেড়াস, তার জন্য কাঁদিস। তার আদরে মুড়িয়ে থাকিস। আমি কি দোষ করলাম। তুই কেনো আমার হলি না বলতো। ‘
পুরুষালি মশ্রিন গালে নোনাজল গড়িয়ে পরলো। দু’হাতে মুখ ডললো। কান্না আটকালো। শান্ত গলায় বলে গেলো,

—’ ভাইয়ার নামে এতবড় এলিগেশন, তারপরও বিন্দুমাত্র ভরসা হারালি না তুই। তার রুহ সঙ্গী তুই। এত বড় একটা কথা কত সহজে বলে দিলি। এই তিনমাসের বিয়েতে তাকে যদি এতটা চিনে ফেললি , আমাকে কেনো দশটা বছরে চিনলি না। কেনো আমার চোখ পড়তে পারলি না। কেনো পারলি না?
আমি তোকে ভালোবাসতাম,মণি। এখনো বাসি। আমার কি উপায় এখন। জবাব দে। ‘
আচমকা খট করে দরজাটা বন্ধ হতেই হতচকিত হলো ছেলেটা। বসা ছেড়ে একপ্রকার লাফিয়ে দাঁড়িয়ে পরলো। ঘুরে তাকাতেই দৃষ্টির মিলন ঘটলো আর একটা অশ্রুসজল আঁখিজোড়ায়। নয়ন বিরবির করে ডেকে উঠলো,

—’ তমা ! ‘
তমার হাতে একটা বিশাল টিফিন বাটি। এগিয়ে এসে সেটা তিতিরের মাথার কাছের টেবিলে রাখতে রাখতে চাপা গলায় শুধু বললো,
—’ প্রেমে পরে একা আমিই পাগল হয়ে যাইনি, নয়ন ভাই। আপনিও পাগল হয়ে গিয়েছেন। দিন দুপুরে এরকম ভাইয়ের ঘরে ঢুকে, ভাইয়ের ঘুমন্ত বউয়ের পাশে বসে অনর্গল নিষিদ্ধ সব বাক্য আউরিয়ে যাচ্ছেন। তাও আবার ঘরের দরজা এভাবে হাট করে খুলে রেখে! বাহ্। ‘
নয়ন সত্যিই চমকেছে মেয়েটাকে দেখে। কোন ঘোরে ছিলো সে। সত্যিই তো। সেদিন না-হয় নেশা করে এরকম পাগলামি করেছিলো। কিন্তু আজ? আজ কোন কারণে এরকম পাগলামি করে বসলো সে। সেদিন মা, আজকে তমা! তমার মুখটা অস্বাভাবিক শীতল। নয়ন চাপা গলায় শুধালো,

—’ কখন এসেছো তুমি? ‘
—’ আপনি যখন ঘরে ঢুকলেন,পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। ‘
নয়ন চটলো বেশ করে। ধমকে উঠলো তাকে।
—’ এটা কি ধরনের ব্যবহার, তমা? এতক্ষণ লুকিয়ে লুকিয়ে আমার কথা শুনে যাচ্ছিলে। ছিহ্।’
বাঁকা হাসলো তমা। বাঁকা গলাতেই বললো,
—’ ছিহ্ তো আমার বলা উচিত, নয়ন ভাই। তিতির এখন আর আপনার দশ বছরের সেই অব্যাক্ত ভালোবাসার রমনীটি নেই। সে এখন একজন বিবাহিত নারী। তাও কার সাথে? আপনার বড় ভাইয়ের সাথে। তার ঘুমের সুযোগ নিয়ে এই প্রেমানুভূতি গুলো ব্যাক্ত করে যাচ্ছেন? যা বিগত দশ বছরেও পারেননি? এখন এসব বলতে মরিয়া আপনি, যখন সে আপনার বড় ভাইয়ের সাথে সুখে,শান্তিতে ভালোবেসে সংসার করছে? ওকে এই মানসিক চাপ টা দেওয়া কি খুব দরকার ছিলো?’

—’ আমার বাড়ি এটা। তোমার কাছ থেকে জ্ঞান নিয়ে চলাফেরা করবো আমি? নাকি আমার বউ হয়ে এ বাড়িতে আসার নতুন কোনো মোক্ষম পরিকল্পনা এঁটেছো। যার কারণে এতো কনফিডেন্সের সাথে, গলা উঁচিয়ে কথা বলে যাচ্ছো?’
তমা স্থির চোখে তাকিয়ে থাকে কিয়ৎক্ষন। নয়ন যখন এ ঘরে ঢোকে, সে-ও পিছনেই ছিলো। পিছু পিছু এসে ঘরে ঢুকবে, তার আগেই নয়নের এমন আবেগঘন কথাবার্তায় থমকে গিয়েছিলো তার পা জোড়া। তার ভালোবাসার মানুষটির, সেই লুকিয়ে রাখা ভালোবাসার নারীটি যে আসলে তিতির। এটা বুঝতে সময় লাগেনি তার মোটেও। তারপরও? এত বড় সত্যি টা মেনে নিতেই তো হিমশিম খাচ্ছিলো মেয়েটা। গলার শব্দ গুলো আঁটকে ছিলো একপ্রকার। ডাকতো আর কি! তমা নিজেকে ধাতস্থ করলো আবার। ঠোঁট কামড়ে শক্ত করলো মনকে। ঠান্ডা গলায় বললো,

—’ ভুল ভাবছেন, নয়ন ভাই। আমি সেরকম কিছুই ভেবে আসিনি। আর ভাবাভাবিরও জায়গা নেই কোনো।’
—’ মানে? ‘
—’ মানে খুব সহজ । আপনার সাথে আমার বোঝাপড়া ফুরালো, নয়ন ভাই। আপনি আমার বোনকে ভালোবাসেন, বছরের পর বছর ধরে বেসে এসেছেন। এতো গভীর একটা সত্যি জানার পর, আমার আর আপনাকে ভালোবাসা সাঁজেনা। ‘
—’ যাক বোধবুদ্ধি হলো অবশেষে।’
তমা মলিন হাসলো। নয়নের মুখপানে তাকিয়ে বললো,
—’ আপনি মানুষ হিসেবে নিজেকে যতটা পারফেক্ট মনে করেন, ততটা নন মোটেই। এমনকি ধারে কাছেও নন। তা কি জানেন? একটা মানুষ কে ভালোবাসেন, দশ বছরেও সেটা জানাতে পারেননি! হাস্যকর নয় কি? এখন অন্যদের দোষ দিচ্ছেন? বড় ভাইয়া, দিদা, আপনার মা এমনকি তিতিরকেও? কোন যুক্তিতে? তারা আপনার মনের ভিতরের লুকায়িত সত্য টা দৈবক্রমে জানতে পারেনি বলে? তিতির, বড় ভাইয়ার দৃষ্টি বোঝে, তখন আপনার টা বোঝেনি বলে?

ানিজের অপারগতা অন্যের ওপর চাপাবেন না। ভালো আপনি বেসেছেন, তিতির নয়। সুতরাং বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব ওর না। বলার দায়িত্ব টা আপনার ছিলো। কথায় কথায় নিজের দুঃখ কষ্টের জন্য, সামনের মানুষটার ওপর আঙুল তোলা খুব সহজ। ওরা বৈধ স্বামী স্ত্রী। ওপরওয়ালার রহমত আছে ওদের ওপর। ওদের সম্পর্কের ওপর। যা আপনি আমি টের পাবো না। যেই শব্দটা আপনি বিগত দশ বছরে বলতে পারেননি, বোঝাতে পারেননি– বড় ভাইয়া সেটা তিনমাসে বলেছে, পদে পদে বুঝিয়েছে। ভালোবাসা এমনি, নয়ন ভাই। আপনার যত্নে তিতির যেটা অনুধাবন করেনি, ভাইয়ার গম্ভীরতায় ও সেটা অনূভব করেছে। কারণ বড় ভাইয়া অনূভব করাতে চেয়েছে। যা আপনি চাননি।
মনে মনে ভালোবেসে চুপ করে থাকাটা পৌ রুষ্যত্ব নয়। দিদা যেদিন ওদের বিয়ের কথাটা বলেছিলো, সেদিন আপনি মুখ খুলতে পারতেন। এই মড়াকান্না গুলো সেদিন জায়গামতো কাঁদতে পারতেন। আপনি তা করেননি। সো কলড গুড বয় হয়ে ছিলেন। তাহলে আজকে কিসের আর্তনাদ? কেনো এতো অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলতে চাচ্ছেন মেয়েটাকে। কেনো এসব? ‘
নয়ন থমকে তাকিয়ে ছিলো এতক্ষণ। দম বন্ধ হয়ে আসছিলো একপ্রকার। তমার কবজি চেপে ধরলো সজোরে। দাঁতে দাঁত পিষে রাগ উগড়ে দিলো,

—’ ভালো, মন্দ এখন তুমি আমাকে শেখাবে?’
—’ একদম নয়। আমি কে শেখানোর। আপনি এমন এক জাতির মধ্যে পরেন, যাদের কখনো কিছু শেখানো যায়না। আপনি নিজেই সেরা। ‘
তমা ঝটকা টানে হাত ছাড়িয়ে নিলো। ছলছল করছে চোখের পানি। বাঁধ মানতে চাচ্ছে না।
—’ আমি আপনাকে ভালোবাসি। নিজের ব্যার্থতা থেকে অন্তত শিক্ষা পেয়ে হলেও, নতুন করে সবটা শুরু করার চেষ্টা করতে পারতেন। ভালোবাসা ভোলা সম্ভব নয় এতো সহজে, কিন্তু যেটা এখন পাপ সেটাকে পাপ মনে করে ভুলতে চাওয়া উচিত। আপনি সেটাও চাচ্ছেন না। চেষ্টাও করছেন না। উল্টো আরও পেঁচিয়ে ফেললেন সব। ‘
—’ তোমাকে আমি সহ্য করতে পারছি না তমা। চলে যাও প্লিজ। আমি যদি বলি আমার এই নতুন করে উন্মাদনার পিছনে তুমি। তাহলে কি বলবে?’
তমা অবাক হয়। ভ্রু উঁচিয়ে শুধায়,

—’ আমি? ‘
—’ তুমি। তুমি যদি নিজের ভালোবাসা ব্যাক্ত না করতে। আমাকে এতোটা প্রেশারাইজ না করতে, আমি কখনোই এতটা ডেস্পারেট হতাম না।’
শব্দ করে হেসে ফেললো তমা।
—’ নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপানো একটা বাজে স্বভাব। আপনি যেটা পারেননি দশ বছরে। একই আক্ষেপ আমি আমার ওপর রাখবো কেনো? ভালোবাসা প্রকাশ করে দিতে হয়। আমিও দিয়েছি। সেটা গ্রহন করা বা না করার ওপর আমার জোরজবরদস্তি থাকতে পারে না। আপনি করেন নি। আমি চেষ্টা করেছি। আমার দিক থেকে আক্ষেপ, আফসোস থাকলো না। ‘
—’ তুমি প্লিজ চলে যাও, তমা।’
—’ চলেই তো যাবো। তবে একটা কথা বলুন তো।আমার প্রতি আপনার একটু একটু অনূভুতি জন্মাচ্ছে, তাইতো? আর সেই টা আপনি মানতে নারাজ। ’
চমকে তাকালো নয়ন। সজোরে মাথা নাড়লো ডানে বায়ে। ব্যাস্ত গলায় বললো,

—’ কক্ষনো না। সম্ভব নয়। এত বছরের ভালোবাসা, আমি এই তিনমাসে ভুলে যাবো! আমার ভালোবাসাকে এতোটা ঠুনকো লাগে?’
আরেকদফা হাসলো তমা। শান্ত গলায় বললো,
—’ নয়ন ভাই, আমি মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী। আমি যদি বলি, এই বাক্যটাকে আপনি মনে গেঁথে নিয়েছেন। আপনার মস্তিষ্ক যতবার আপনাকে সামনে এগিয়ে যেতে বলবে, ততবার আপনি জোর করে নিজেকে এই এক বাক্য বোঝাবেন। আপনি ভবিষ্যৎ এও তাই করে যাবেন। মনের রোগ এটা আপনার। তবে এটা মানতে হবে। তিতিরকে ভুলতে হবে। যা সম্ভব নয়, তা আগলে বসে থাকলে ক্ষতি আপনারই। সুস্থ স্বাভাবিক জীবন নাতো আপনি কাটাতে পারবেন, না তো তিতির।’
তমা শব্দহীন চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো তিতিরের সিউরে। ঠান্ডা গলাতে বললো,

—’ চলে যান এখান থেকে। তিতির উঠে আপনাকে দেখলে ও বড্ড ইতস্তত বোধ করবে। মেয়েটার শরীর এমনিতেই ভালো না। আর শুনুন, ওদের দু’জন কে আলাদা করার কথা চিন্তাতেও আনবেন না। আমাকে আপনি ভালো না-ই বা বাসলেন, আমার এই শেষ আবদার টুকুন রাখবেন। আর ওদের মধ্যে আসবেন না। যেটা সঠিক সময়ে করতে পারেন নি, সেটা এই ভুল সময়ে এসে করবেন না। একই বাড়িতে থাকবেন আপনারা। আগামী দিনগুলোও। এতো ইতস্তততা নিয়ে কাটানো জটিল। তিতির মেয়ে, ওর দিকটা বুঝবেন আশা করি। ঈশান তিতিরকে শান্তিতে থাকতে দেবেন। ‘

—’ একটা মেয়ের ব্যবাস্থা করো, জর্ডান। জলদি। বিশ মিনিটের মাথায় একটা মেয়ে চাই আমার। ‘
জর্ডান হাইরোডের ওপর থমকে দাঁড় করালো গাড়িটা। সে ইয়াজ মির্জার এসিস্ট্যান্ট, ড্রাইভার যা-ই বলা হোক না কেনো। শুনশান এই পথের মাঝে মেয়ে কোথা থেকে জোগাড় করবে সে! ব্যাস্ত গলায় বললো,
—’ বস, হোটেলে ফিরতে আর ঘন্টাখানেক লাগবে। ওখানে ব্যাবস্থা করে দিতে বলছি। মেয়ে রেডি রাখতে বলছি। ‘
দাঁত কিড়মিড় করে উঠলো সে। দু’হাতে কপাল চেপে ধরলো। তীক্ষ্ণ কন্ঠে আদেশ ছুড়লো জলদি গাড়ি চালাতে। ঈশান আরশাদ দেওয়ান তার খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে। মিতুকে দিয়ে থানায় মামলা করার পরও, কিছুতেই তিতিরের মন ঘুরিয়ে ফেলা যাচ্ছে না। আজকে সারাদিন নূরি কেও কলে পায়নি সে। মেয়েটা আজকাল বড্ড বেড়েছে। ভাইয়ের জানেরও পরোয়া করছে না। বাঁকা হাসলো ইয়াজ। ঈশানের বিরুদ্ধে যা প্রমাণ জোগাড় করার সবই করে ফেলেছে। এই জালের ফাঁক গলিয়ে বের হওয়া অসম্ভব একেবারে। সবথেকে বড় কথা ঈশান আরশাদ দেওয়ান নিজে থেকে কো অপারেট করে যাচ্ছে তার সাথে। হয় চূড়ান্ত বোকামি থেকে নয়তো বড়সড় কোনো জাল পাতছে সে। তবে পুলিশের নজরে ঈশানের এই পালিয়ে যাওয়াটাকে, চূড়ান্ত বোকামি হিসেবেই ধরে নিচ্ছে ইয়াজ মির্জা। কফিনের শেষ পেরেকটা পুঁততে আরেকটু সুবিধা হলো তার। ইয়াজ শার্টের বোতাম গুলো আলগা করলো। প্যান্টের বেল্টখানা ঢিলে করতে করতে বললো,

—’ ঈশান আরশাদ দেওয়ান যে সিলেট যায়নি, সে খবর পাক্কা?’
—’ পাক্কা, বস। যায়নি। ‘
—’ আমি যাবো আজ রাতে।’
চমকালো জর্ডান। ঠান্ডা গলায় বললো,
—’ কেনো?’
—’ ঈশান আরশাদের বুকে সুড়সুড়ি দিতে। ওর বউটাকে বুকে চেপে ধরতে । শরীরটা বড্ড ছটফট করছে, জর্ডান। বি ছানায় দরকার তিতির কে। অথচ নিতে হচ্ছে কাদের! এই যন্ত্রনা বোঝো? তারমধ্য এক ন ষ্টা তো আবার পে ট বাঁধিয়ে বসে আছে। রুষার পরিকল্পনা মাফিক চলতে গিয়ে সেটাও খালাস করতে পারছি না। ছ্যাহ্। একটা স্লা টের পেটে মির্জাদের সন্তান! মেয়েটা আস্ত একটা ফা কিং বি’চ! ‘
জর্ডান ব্যাস্ত হাতে জলদি ড্রাইভ করতে থাকে। ঘন্টার পথ আধঘন্টায় পৌছুবে, এমন ভাবসাব তার। ইয়াজ কয়েকটা ফোনকল সেরে নিলো। হোটেল রুমে মেয়ে রেডি রাখতে আদেশ ছুড়লো। ফোনটা পাশে ছুঁড়ে ফেলতে ফেলতে বললো,
—’ একজনে হবে না, জর্ডান। কয়েকটা রেডি রাখতে বল। রাতে আবার আমার পরী টার দর্শনে যাবো। ওকে দেখে হুট করে কন ট্রোল হারালে, বড্ড লোড পরে যাবে আমার তিতির পাখিটার ওপর। আজকের মতো নিজেকে শান্ত করে যাই ওর কাছে। ‘

বদ্ধ কামড়ায় মুখোমুখি বসা সাজিদ আর ঈশানের। ঈশানের পিছনের দিকটাতেই গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে অমিত। সে সরে যাবে নাকি এখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবে, সেটা বুঝতে পারছে না। মুশকিল আশান করে দিলো ঈশানই। ঠান্ডা গলায় আদেশ ছুড়লো,
—’ অমিত, এসপি সাহেবের জন্য চা, কফির ব্যবাস্থা করো। ‘
অমিত ছুটে বেরিয়ে যেতেই ঈশান, সাজিদ কে উদ্দেশ্য করে বললো,
—’ সরি এসপি সাহেব। আপনার জন্য খারাপ লাগছে। আমাকে এরেস্ট করার সুযোগ আপনাকে দেওয়া হলো না। শুনলাম, আপনাকে নাকি অব্যহতি দেওয়া হয়েছে চাকরি থেকে। সো স্যাড, সো ব্যাড!’
গোটা ঘর থেকে কেমন একটা ভ্যাপসা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কেমন একটা পুরান আমলের একটা বাড়ি। যেমন বাইরে থেকে দেখতে, তেমন ভিতরের অবস্থা! সাজিদকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে চোখ বেঁধে। সদর দরজার কাছে এসে এক মূহুর্তের জন্য চোখ খোলা হয়েছিলো। বিগত কয়েকদিন হলো এখানেই আটকে রাখা হয়েছিলো। কে বা কারা এখানে আটকে রেখেছিলো আজ টের পাচ্ছে। এরা ঈশানের লোকজন। অবিশ্বাস্য সব কারবার। সাজিদ হালকা কন্ঠে বললো,

—’ তুই আপাদমস্তক একজন ফ্র’ড, ঈশান। এসব কি হচ্ছে? কে তুই? ‘
হাসলো ঈশান। হাতের পি স্তল খানা টেবিলে শব্দ করে রেখে প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে উচ্চস্বরে গেয়ে উঠলো,
—’ তুমি দেখছো তাকে, ভাবছো যাকে
সে আসল মানুষ নয়…’
—’ হেয়ালি নয়, ঈশান। সত্যি টা বল।’
—’ আমি গ্রেফতার হয়েছিলাম, জানিস?’
সাজিদ চমকালো। গ্রেফতার হয়েছিলো মানে! গম্ভীর গলায় শুধালো,
—’ তাহলে এখানে কিভাবে?’
—’ পালিয়ে। ‘
—’ তুই পাগল? যে এলিগেশনে এ রেস্ট হয়েছিলি, এমনিতেই সেটা থেকে বেঁচে ফেরা মুসকিল। তার ওপর আবার পালিয়েছিস মানে কি? কার আন্ডারে ছিলি তুই?’

—’ তাহমিদ… তাহমিদ কায়েস।’
—’ ওহ্ গড। ‘
—’ তোর বাড়ির মানুষ? ‘
—’ জানে। সব জানে।’
—’ কি জানে!’
—’ এই, যে আমি রে প কেসের আসামি। ‘
—’ হোয়াট দা হে ল, আর ইউ ডুয়িং, ঈশান? কি খেলা খেলছিস?’
—’ পাশা। ‘
সাজিদ এখন বাঁধন মুক্ত হয়ে বসা। ঝটপট উঠে এসে বন্ধুর পিছনে দাঁড়ালো। চিন্তিত কন্ঠে বললো,
—’ তুই আমাকেও সত্যিটা বলছিস না। এতদিন আমি পুলিশের লোক ছিলাম। আজ তো নেই। আজও কেনো বলছিস না। সবার থেকে লুকিয়ে আর কতদিন। সত্যিটা জানতে চাই আমি। ‘
সেই কথার জবাব তো ছেলেটা দিলোই না। উল্টো আরেকদফা হেঁয়ালির সুর টেনে বললো,
—’ সত্যি? বলি একটা সত্যি। পরশু সকালের মধ্যে, পুলিশ আমাকে এরেস্ট করবে। এবারে প্রপার এরেস্ট যাকে বলে আরকি। এক্কেবারে হাতে হাতকড়া পরিয়ে, কোমড়ে দড়ি বেঁধে, প্রেস মিডিয়া কে জানিয়ে। তবে…’
—’ তবে?’
ভ্রু জোড়া নাচিয়ে ঘুরে তাকালো ঈশান। টেবিল থেকে নিজের পিস্তল খানা হাতে তুলে নিয়ে কপালের এক কোনায় চুলকালো। বাঁকা গলায় বললো,

—’ তবে, তার আগে আরেকজন ভিকটিম হবে। আই মিন আমার নামের রে প কেসের ভিকটিম পাঁচ থেকে ছয়ে পৌছুবে। ‘
স্তম্ভিত হয়ে গেলো সাজিদ। কিছু বলতে যাবে, তার আগেই ঈশান বললো,
—’ তোকে কেনো বললাম বল তো? কারণ তুই তো আর পুলিশের লোক নেই। তাই।’
—’ কি যা তা বকছিস তুই। এলিগেশন গুলো সব মিথ্যা। আমি জানি।’
—’ তুই-ও তিতিরের মতো বোকা বোকা ডায়লগ দিয়ে যাচ্ছিস।’
—’ মানে? ‘
—’ মানে তিতিরও এসবই বলেছে, শুনলাম। এখনো এতো বিশ্বাস।’
—’ ঈশান, তুই একটা বদ্ধ উ ন্মাদ।’
—’ হু, পুলিশের ভাষায়– হোমিসাইকাল ম্যানিয়াক। ‘
মাথার চুল খামচে ধরলে সাজিদ। বিরক্ত গলায় বললো,
—’ ছয় নাম্বার মা র্ডার টা? ‘
—’ পরশু নিউজে দেখে নিবি। ‘
—’ আমাকে এখানে রেখেছিস কেনো? ‘
—’ তোর বউকে বিধবা দেখতে চাই না তাই। ‘
সাজিদ বাঁকা হাসলো। টেবিলের সাথে হেলান দিতে দিতে বললো,

—’ নিজের বউয়ের জীবন নিয়ে খেলছিস কেনো তাহলে? ‘
—’ কি করবো? ‘
— তুই যদি ঠিক করেই থাকিস, এরকম এলোমেলো, অন্ধকারে জীবন কাটিয়ে দিবি, তাহলে মেয়েটাকে ডিভোর্স দিয়ে দে। আর বাড়ি ফিরিস না। ওর গতি তোর পরিবার করবে। এমনিতেও পরিবার ছেড়ে উধাও হতে তুই খুব ভালোই পারিস। একটা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন কাটাতে না দিলে, সে বাঁধনে বেঁধে রেখে লাভ কি! ‘
বুঝদারের মতো মাথা ঝাকালো ঈশান। কপাল কুঁচকে, ভাবুক গলায় বললো,
—’ ডি ভোর্স লেটার আজ রাতের মধ্যে পৌছে যাওয়ার কথা তো। গিয়েছে কি-না, অমিতের থেকে শুনতে হবে।’
আরেকদফা হোঁচট খেলো সাজিদ। সে-তো বললো রাগের মাথায়, ছেলেটা এমন ভাবে উত্তর করলো, তাতে মনে তো হচ্ছে না, মজা করে বলেছে। সাজিদের অসহায় বোধ হচ্ছে রীতিমতো। খানিকক্ষণ বিনাবাক্য ব্যায়ে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রইলো। অতঃপর ঠান্ডা গলায় বললো,

—’ কাজ গুলো তুই-ই করছিস, ঈশান?’
—’ কোনো সন্দেহ আছে? ‘
—’ থাকা উচিত না? ‘
—’ না তো। পরশু সব জায়গার হেডলাইনেই তো দেখতে পারি। ‘
—’ তিতিরকে জড়ালি কেনো এসবে? ‘
—’ ইচ্ছে হয়েছিলো। ‘
—’ আর এখন? ‘
ঝুঁকে এলো ঈশান। সাজিদের কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বললো,
—’ ইচ্ছে টা অ্যাডিকশনে পরিনত হয়েছে।’
—’ তাহলে ছাড়ছিস কেনো? ঠকাচ্ছিস কেনো?’
—’ ছাড়বো কখন বললাম।’
—’ ডিভোর্স? ‘
—’ তাতে কি।’
সাজিদ দু’হাতে কলার চেপে ধরলো ঈশানের। সজোরে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালে মেশালো। দাঁতে দাঁত পিষে বললো,

—’ তুই আর ফিরবি না ওর জীবনে। ডিভোর্স দিয়ে, জাহা ন্নামে যা তুই। কিন্তু ফেরার ভুল আর করবি না। তুই গোটাটাই একটা ধোঁয়াশা। আর নিরীহ মেয়েটাকে সেখানে বিলীন করিস না।’
—’ ও ইতিমধ্যে আমাতে বিলীন। আমার কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে। ‘
—’ হোক। তবুও, আর ফিরবি না।’
ঈশান শব্দ করে হাসলো। সাজিদ খেয়াল করলো, ছেলেটা যতবার হাসছে,ততবার পি স্তলের ডগায় কপালে ঠেকাচ্ছে। এতো হেঁয়ালিপনায় অসহ্য ঠেকছে তার কাছে। ঈশান সাজিদকে ইশারা করলো পাশের একটা ঘরের দিকে যেতে। সাজিদ না চাইতেও পা বাড়ালো। এক ধাক্কায় দরজাটা খুলতেই বাইরের ভ্যাপসা গন্ধ কাটিয়ে, তীব্র একটা পারফিউমের ঘ্রান নাকে ভেসে এসো। মেয়েলি পারফিউমের সুঘ্রান কি-না বুঝতে পারলো না । সাজিদ দু কদম এগিয়ে এসে ভিতরে তাকাতেই হত-বিহবল হলো। থমকে দাড়ালো, শ্বাস আটকে এলো। হা করে শ্বাস টেনে ঈশানের দিকে তাকাতেই, সে বাঁকা অথচ দৃঢ় কন্ঠে বললো,

সাঁঝের মায়া পর্ব ৬৪

—’ কাল সত্যিই কিছু একটা ঘটতে চলেছে এসপি সাহেব। এবং পরশুর নিউজ, মিডিয়ার হেডলাইন যে ঈশান আরশাদ দেওয়ান, সেটা বুঝতে পারলেন তো। হতেই হতো এটা। তাই না? ‘

সাঁঝের মায়া পর্ব ৬৫