আমার আলাদিন পর্ব ৬০
জাবিন ফোরকান
অরণ্য আর সাইবান উভয়ে গড়িয়ে পড়েছে মাটিতে। অরণ্যর বুকের উপর বসে মোক্ষম এক ঘুষি হাঁকিয়ে দিল সাইবান। অরণ্য কোনো বাঁধা দিলনা, বরং খিলখিল করে অদ্ভুতভাবে হাসল। তাতে সাইবানের মাথায় ভূত চেপে গেল বুঝি। চোখের সামনে সে স্রেফ একটা নরপশুকে দেখতে পাচ্ছে। আর কিছু নয়। আদালতের গেটের বাইরে এমন উত্তেজিত দৃশ্য সকলের আকর্ষণ কেড়ে নিল মুহূর্তেই। ভিড়ভাট্টা জমে গেল। কেউ কেউ দৌঁড়ে আসলো তাদের থামানোর উদ্দেশ্যে। অথচ সাইবানের কোনোদিকে খেয়াল নেই। আজ সে অরণ্যকে খু*ন করে ফেলবে!
“এত্ত বড় দুঃসাহস তুই আমার বউয়ের ছবি বিশ্রীভাবে এডিট করিস! তোর মনে হয় এই সাইবান তিনবেলা কবুতরের গু খায়? তোর পাছার গু তোর মাথায় উঠে গিয়েছে। হারামজাদা!”
সাইবান দ্বিতীয় দফায় আরেকটা ঘুষি বসাতেই যাচ্ছিল কিন্তু এমন সময়ে ভিড়ের ভেতর থেকে দৃঢ় একটা ডাক ভেসে এলো,
“আলাদিন!”
কন্ঠটা চিনতে একটুও অসুবিধা হলোনা সাইবানের। তার হাত মাঝপথে জমে গেল। কাঁপল ভীষণ, নিয়ন্ত্রণের তাড়নায়। পরক্ষণেই নিজের বাহুতে হ্যাঁচকা টান অনুভব করল সে। অরণ্যর উপর থেকে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য হলো। মাথা ঘুরিয়ে তাকাতেই ওই রুদ্রমূর্তির সঙ্গে দৃষ্টি মিলল। দন্ডায়মান ইরাম। চোখেমুখে স্নিগ্ধতার লেশমাত্র নেই। চোখজোড়ায় ঝরছে স্ফুলিঙ্গ। তীব্র ক্রোধ ভাসমান জ্বলজ্বলে সেই দৃষ্টিপটে। ইরাম শুধু চাহুনি দিয়েই সাইবানকে ঘায়েল করল বুঝি। অপরদিকে অরণ্যকে ততক্ষণে টেনেটুনে দাঁড় করিয়েছে আশেপাশের মানুষজন। এমনকি অরণ্যর উকিল পর্যন্ত চলে এসেছে। দূর থেকে দৌঁড়ে আসতে দেখা যাচ্ছে নীরবকে। সাইবান তখনো হাঁপাচ্ছে। ভয়ানক রাগের তাড়নায় তার শরীর থেকে থেকে কাঁপছে। হাত দুটো পাথরের মতন শক্তভাবে মুঠ করা। কোথাও আছড়ে পড়লে র*ক্তপাত ঘটিয়ে ছাড়বে। অরণ্য বৃদ্ধাঙ্গুলে নিজের কে*টে যাওয়া ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। হাসিমুখেই তাকাল সামনের দিকে।
“ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।”
কথাটা কানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবান আবার অরণ্যর দিকে তেড়ে যাচ্ছিল, কিন্তু ইরামের হাতের লৌহতুল্য বাঁধনের কারণে এক চুল নড়তে পারলনা। অরণ্যর উকিল গলা চড়িয়ে বললেন,
“এমন ঔদ্ধত্য! আপনাদের পরবর্তী শুনানিতে দেখে নেয়া হবে।”
“যান যান! আমিও দেখে নেব আপনি আর আপনার এই ফটকা কোন গুদামের চাল খান।”
“সাইবান, চুপ! একদম চুপ!”
ততক্ষণে কাছাকাছি এসে পড়েছে নীরব। বন্ধুকে এমন কাটকাট জবাব দিতে দেখে ধমক লাগাল সে। কাছাকাছি এসেই বুকে ধাক্কা দিয়ে জোর করে গাড়ির দিকে সরিয়ে নিল। ততক্ষণে ভিড় কমে এসেছে। যে যার নিজের পথে যাচ্ছে। তবে সবার মুখেই আলোচনা ছড়িয়ে গিয়েছে।
গাড়ির কাছে এসেই ঠেলেঠুলে সাইবানকে ভেতরে ঢোকাল নীরব। ইরামও নিঃশব্দে সিটে উঠে বসেছে। নীরব ড্রাইভারের পাশের সিট দখল করে বন্ধুর দিকে ফিরল। মাথায় আঙুল ঠেকিয়ে জোর গলায় বলল,
“পাগল? পাগল হয়ে গিয়েছিস তুই? ইন্সেনসিবল! ওরা এটাই চাচ্ছিল। আর তুইও, জি নিন নিন, আমার সবকিছু চেটেপুটে লুটে নিন বলে দিয়ে এসেছিস। পরের শুনানিতে এই টপিক ওরা তুলবেই তুলবে। গোটা আদালত তোকে দেখেছে সাইবান!”
সাইবান দাঁতের পাটি চেপে বসে ছিল। এবার আর চুপ থাকতে পারলনা। পাল্টা খেঁকিয়ে উঠল সে,
“তো? আমি চুপচাপ বসে থাকব? উনি যা নয় তাই বকবক করবে আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাততালি দেব?”
“হ্যাঁ! প্রয়োজন পড়লে তাই দিবি। এটা আমাদের নাইট ক্লাব নয়, তোর কোনো শো নয়, বন্ধুমহলের আড্ডার ক্যাফে নয়। এটা আদালত সাইবান, আদালত! জাস্ট গ্রো আপ ম্যান! তোর সব শয়তানিতে আমি সাথে থাকি। কিন্তু আমাকে দেখেছিস এখানে এসে কোনো ফালতু কাজ করতে? তুই বিবাদী পক্ষ, উপরন্তু বাচ্চার কাস্টাডির মতন একটা সেনসিটিভ কেইস লড়ছিস। আদালত অবশ্যই তোর আচার আচরণ দেখবে, তুই বাচ্চাকে লালন পালন করার উপযুক্ত কিনা যাচাই করবে। অরণ্য কিন্তু তোর গায়ে একটা টোকা পর্যন্ত দেননি। ওনার কিছুই হবে না। হবে শুধু তোর!”
নিজের সবটুকু হতাশা কথায় ঢেলে দিয়ে নীরব থামল। জোরে শ্বাস টানল। চুলে আঙুল বুলিয়ে নিজেকে জোরপূর্বক শান্ত করল। সাইবান চুপ করে গিয়েছে একদম। দুহাত কোলে চেপে পায়ের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। নীরব এবার খানিকটা নরম হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“উনি তোকে কি এমন বলেছে যে তুই এভাবে রেগে গেলি?”
সাইবান মুখ খুলল,
“একটা খুব বাজে ধরণের….!”
কথাটা সম্পূর্ণ করলনা সাইবান। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ফেলল। দুহাত মুঠো পাকিয়ে ধরল তার ট্রাউজারখানি। নীরব আশা নিয়ে তাকিয়ে রইল। কিন্তু সম্পূর্ণ জবাব পেলনা। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“তুই এটাও বলতে পারছিস না কেন রেগে গিয়েছিস। ওয়েল ডান! আদালতে স্বাগতম। বিচারক জিজ্ঞেস করলেও এভাবে ঠোঁটে কুলুপ এঁটে রাখিস। কংগ্র্যাটস! ইযানের তোর হাত থেকে ফসকে যাওয়া এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।”
নীরব যে যথেষ্ট হতাশ তা তার কথাতেই প্রকাশ পেল। এক মুহূর্ত সময় ব্যয় করলনা সে আর। গাড়ির দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেল। গাড়িতে রয়ে গেল শুধু ড্রাইভার, ইরাম এবং সাইবান। পিনপতন নীরবতা ভর করল অভ্যন্তরে। সাইবান সাহস করে ইরামের দিকে তাকাতেও পারছেনা। পাছে ওই চোখে নিজের প্রতি হতাশা বা ঘৃণা দেখতে পায়! কয়েক মুহূর্ত বাদে ইরামের শীতল কন্ঠস্বর ধ্বনিত হলো,
“বাড়ি চলুন।”
ড্রাইভার বিনা বাক্য ব্যয়ে আজ্ঞা পালন করল। গাড়ির ইঞ্জিন চালু হলো। ধীরে ধীরে আদালত প্রাঙ্গণ ছেড়ে তারা বেরিয়ে এলো সড়কে। চলতে শুরু করল বাড়ির উদ্দেশ্যে। গাড়ির ভেতরে দীর্ঘক্ষণ নিঃশব্দ রইল সাইবান। অতঃপর মুখ তুলে তাকাল। ইরাম একপাশের জানালায় মাথা ঠেকিয়ে বসে আছে। তার মুখমণ্ডলে অনুভূতির লেশমাত্র নেই। জানালার কাঁচে নির্মল মুখটি প্রতিফলিত হচ্ছে ঝড়ের আগে নীরবতা বরণ করা কালো মেঘযুক্ত আকাশের মতন। সাইবান একটি ঢোক গিলল। কাঁপা কাঁপা হাত বাড়িয়ে ইরামের কোলের উপর রাখা হাত আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দিল। অর্ধাঙ্গিনী তৎক্ষণাৎ এক টানে নিজের হাত সরিয়ে নিল। চমকে উঠল সাইবান। বুকের ভেতরটা ভয়ংকরভাবে মোচড় দিল তার। অত্যন্ত আবেদন নিয়ে সে বলল,
“স…সরি মাই প্রেশিয়াস! আম…আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি। আমি…আমি আমি…”
“আমার কুচুপুর উপর যদি কোনো আঁচ আসে, আমি কাউকে ছেড়ে কথা বলবনা। তোমাকেও না।”
শীতল গলায় বলল ইরাম। একবারও সাইবানের দিকে ফিরে তাকালনা। একটি ঢোক গিলে করুণ দৃষ্টিতে রুষ্ট অর্ধাঙ্গিনীর দিকে চেয়ে রইল সাইবান। সে জানে, সে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে।
আরওয়ার সমুখে দাঁড়িয়ে মিসিরের কন্ঠে নিজের এমন সম্বোধন শুনে যারপরনাই বিস্মিত হলো সারিকা। লোকটাকে অন্যরকম দৃষ্টিতে দেখতে ইচ্ছা হলো তার। দেখলও সে, বেশ খানিক আবেগ নিয়ে। অপরদিকে আরওয়ার মাঝে বিশেষ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেলনা। তবে তার চেহারায় সূক্ষ্মতর এক বিষাদের ছায়া ফুটল। মোলায়েম হাসার চেষ্টা করল সে,
“পরিচিত হয়ে ভালো লাগল। তোমাদের দুজনকে মানিয়েছে ভীষণ।”
মাথা দুলিয়ে প্রশংসাটুকু গ্রহণ করে নিল মিসির। সারিকা এবার সোজা হয়ে দাঁড়াল। গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
“আমারও আপনার সাথে পরিচিত হয়ে ভালো লাগল, মিস আরওয়া।”
“কি করেন আপনি?”
“আমি একজন ডেন্টিস্ট। আপনি?”
“তেমন কিছু না। বাবা মায়ের টাকা উড়াই। তাই আমার কপালের সুখও উড়ে যায়। বেশিদিন টেকেনা।”
আরওয়ার এমন বেখাপ্পা উত্তরে সারিকা অবাক হলো। মিসির একটাও কথা বলছেনা আর। নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। সারিকা এবার মৃদু হাসল, বলল,
“সুখ টিকিয়ে রাখতে হলে টাকা নয়, চেষ্টার প্রয়োজন।”
“আশা করছি আপনি আপনার চেষ্টার মূল্য পাচ্ছেন।”
এই কথাটা সারিকাকে জমিয়ে দিল। চেষ্টা? আদৌ কোনোদিন করেছে কি সে? মানুষকে পরামর্শ দেয়াটা তো খুব সহজ। কিন্তু নিজ জীবনে সেই পরামর্শের তামিল করাটা কি সহজ? সারিকা কি তার বিশ্বাস করা নীতিবাক্যের কোনোটা নিজের মাঝে ধারণ করে? চেষ্টা করে জীবনটা গুছিয়ে নেয়ার? উত্তরটা ভেতর থেকেই এলো—না।
আরওয়া দাঁড়ালনা বেশিক্ষণ। বলল,
“যাই হোক, আমার কিছু কাজ আছে। আমি তবে আসছি মিসির। ভাগ্যে থাকলে হয়ত পরেরবার নিজের পরিবারসমেত দেখা হবে? ভালো থেকো। ভালো থাকবেন সারিকা, মিসিরের খেয়াল রাখবেন। আপনি জানেন না, জীবনে কত দারুণভাবে জিতে গিয়েছেন।”
এটুকুই। আরওয়া তাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেল। মিসিরও দাঁড়িয়ে রইলনা। শপিং ব্যাগগুলো হাতবদল করে যেদিকে যাচ্ছিল সেদিকে এগোল। যেন এইমাত্র তেমন কিছুই হয়নি। দাঁড়িয়ে রইল শুধু সারিকা। বীভৎস উপলব্ধি গ্রাস করল তাকে। এটারই হয়ত কমতি ছিল। চেষ্টা। একটুখানি সৎ চেষ্টা।
“সারিকা?”
মিসিরের ডাকে ভাবনা থেকে বেরোল সারিকা। চোখ পিটপিট করে সামনে তাকাল। মিসির অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে, পিছন ফিরে তার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। সারিকা দ্রুত পা চালিয়ে স্বামীর কাছে পৌঁছাল। মিসির কিছু না বলেই হাঁটা শুরু করল আবার। তবে এবার একটি সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটাল সারিকা। হাত বাড়িয়ে স্বামীর একটা হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিল। ওভাবেই হাত ধরে হাঁটতে লাগল পাশাপাশি। মিসির তাতে যারপরনাই অবাক হলো। তবে স্ত্রীর হাতটা সরিয়ে দিলনা। উষ্ণ বন্ধনে একে অপরের নরম তপ্ত ছোঁয়া অনুভব করে বুক ভারী হলো দুজনেরই।
শপিং মল থেকে বেরিয়ে গাড়ির দিকে এগোল তারা। মিসির শপিং ব্যাগগুলো পিছনের সিটে রেখে সামনে যাচ্ছিল ঠিক এমন সময় গলা খাঁকারি দিল সারিকা। হুট করে বলল,
“মিসির। আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।”
ড্রাইভিং সিটের দরজা খুলে দাঁড়িয়ে পড়ল মিসির। দুহাত দরজার উপর ভাঁজ করে রেখে আপাদমস্তক দেখল স্ত্রীকে। সারিকা খানিকটা ইতস্তত করে জানাল,
“বরিশাল থেকে আসার পরপরই বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারিনি। আমার মনে হয়, এবার তোমাকে বলে দেয়া উচিত।”
“আমি জানি তুমি কি বলতে চাও। সত্যি বলতে আমি এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম।”
বিস্মিত হলো সারিকা। চোখজোড়া প্রসারিত হলো তার। বুকে শীতল আতঙ্ক ভর করল। আমতা আমতা করে সে শুধাল,
“তুমি জানো?”
“হুম।”
“কি জানো?”
মিসির এক মুহূর্ত চুপ থেকে অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিল,
“তুমি আমার কাছে তালাক চাও।”
সারিকা কিছু অনুভব করলনা। বাক্যটা তার কানে প্রতিধ্বনিত হলো বারংবার। অথচ শূন্যতার দেয়ালে গোত্তা খেয়ে ফিরে গেল শব্দগুলো। মিসির যুক্ত করল,
“চিন্তা করোনা। আমি কোনোদিন তোমার স্বাধীনতা হরণ করিনি, এবারেও করবনা। জীবনে নিজের মতন বাঁচতে চাওয়ার অধিকার সবার আছে। তুমি মুক্তি পাবে এই বোঝা থেকে। খুব শীঘ্রই।”
আর একটাও কথা বাড়ালনা মিসির। গাড়ির ভেতর উঠে বসল। অথচ সারিকা তখনো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইল নিজ স্থানে। শনশনে হাওয়া বয়ে গেল তার কানের পাশ ঘেঁষে। স্তব্ধ হয়ে রইল সে। কিন্তু অবাক হলোনা। কেউ নিজের প্রাপ্য বুঝে পেলে হয়ত আর অবাক হয়না।
“আ…দা! দা!”
ডাইনিং টেবিলের চেয়ার ধরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইযান। বারবার পরে যাচ্ছে। আবারও উঠে দাঁড়াচ্ছে। নিচে নরম ম্যাট্রেস পাতা রয়েছে। সুগন্ধা পাশেই বসে বই পড়তে পড়তে খেয়াল রাখছে ইযানের উপর। ছোট্ট শরীরটা ভারসাম্যহীন। হেলেদুলে পরে গিয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে ইযান। পরেই আবার ছোট ছোট কয়েকটা দাঁত দেখিয়ে ভ্যাকভ্যাক করে হাসছে। তার বিনোদনের কমতি নেই। সুগন্ধাও না হেসে পারলনা। পড়া রেখে হাত বাড়িয়ে আলতো করে চাপড়ে দিল ইযানের পিঠ,
“ওইদিকে তোমারে নিয়া পানিপথের যুদ্ধ চলতাছে, আর তুমি এইহানে দাঁত ক্যালাও। ভগবানের দয়া তোমার বাপে নাই, থাকলে তোমার কল্লা ধইরা ঘুরান্টি দিয়া ফিক্কা মারত বাইরে।”
“সুসু! আআ…সু…সু!”
“তুই সুসু! তোর বাপ সুসু!”
রাগে গজগজ করতে লাগল সুগন্ধা,
“বাপ পুতের এক খাইচ্চত! মাইনষের ভালো নাম ওগো সহ্যই হয়না, কইলজায় কামড়ায় মনে হয়!”
“সুসু!”
“এই চোপ!”
বিপরীতে দুই পা উঁচিয়ে হাওয়ায় লাথি মারতে মারতে গড়াগড়ি দিয়ে হাসতে লাগল ইযান। সামিয়া অদূরে সোফায় বসে কুশিকাটার কাজ করছিলেন। হাসপাতাল থেকে সকালেই চক্কর দিয়ে এসেছে। আজ বিশেষ কোনো কাজ নেই। ইমারজেন্সি হলে ফোন করে ডাকা হবে। তাছাড়া ভীষণ চিন্তায় আছেন তিনি, এমনিতেও কাজে মনোযোগ দিতে পারতেন না। অতিরিক্ত চিন্তায় থাকলে স্ট্রেস কমাতে কুশিকাটা নিয়ে বসেন সামিয়া। আজও ব্যতিক্রম ঘটেনি। শীত আসন্ন। তাই নাতির জন্য কিছু বানাবেন বলে ঠিক করেছেন। চশমার ভেতর থেকে অদূরের খুনসুঁটির দৃশ্য দেখে পরিপূর্ণতা অনুভব করলেন তিনি। জীবনে যেন আর কোনো অভাব নেই তার। ওই ছোট্ট অস্তিত্ব, তার হাসি, তার কলরবে অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছে এই বাড়ি। হঠাৎ করে যদি এই হাসি মিলিয়ে যায়? যদি সেই তিক্ত শূন্যতা ফিরে আসে বাড়িতে? তবে সামিয়া সইতে পারবেন? আতঙ্কে তার হৃদযন্ত্র অবিশ্বাস্য গতিতে স্পন্দিত হতে লাগল। এসব কি আসলে তার পাপের শাস্তি? নাকি অন্যকিছু?
মাথা ঝাড়া দিয়ে জোর করে অশুভ চিন্তাগুলো সরালেন তিনি। সারাদিন ওইসব ভাবতে থাকলে শান্তি পাবেন না। তাই অন্যকিছু চিন্তা করা যাক। সুগন্ধার দিকে চোখ পড়তেই ভিন্ন চিন্তাটা মাথায় এলো। গলা খাঁকারি দিয়ে আদুরে গলায় ডাকলেন তিনি,
“সুগন্ধা?”
“জি আম্মাজান?”
ইযানকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করতে করতে জবাব দিল সুগন্ধা। সামিয়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
“তোর পরীক্ষা কবে যেন?”
“এইতো আম্মা দুই মাস পরেই।”
“এরপর অনার্স থার্ড ইয়ারে উঠবি তাইনা?”
“হয়।”
“ভালোমত পড়াশুনা করিস।”
“জি আম্মা।”
সামিয়া কিছুক্ষণ ইতস্তত করলেন, অতঃপর বললেন,
“ওইদিন আমাদের বাড়িতে এসেছিল আমার জুনিয়র, মনে আছে?”
“আদিত্য দেবনাথ?”
“হ্যাঁ হ্যাঁ। ওই ছেলেটাকে কেমন লেগেছে তোর?”
এবার সুগন্ধা অবাক হলো। ইযানের খেলনা হাতে ধরিয়ে দিয়ে মাথা হেলিয়ে সামিয়ার দিকে তাকাল। তার চোখেমুখে বিস্ময় এবং কৌতূহলের মিশ্রণ।
“হঠাৎ এমন প্রশ্ন আম্মাজান?”
“এমনিতেই। জানতে ইচ্ছা হলো আরকি। আদিত্য ছেলেটা অনেক ভালো বুঝেছিস? ঢাকা মেডিকেল থেকে পড়েছে। মায়ের জন্য কি না করেছে! কিন্তু সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে কি মানুষ পারে? এখন অনাথ। তবে চালচলন, আচার ব্যবহার অনেক ভদ্র। আমাকে খুব সম্মান করে। শিক্ষিত ছেলে। বড় ছোট, শ্রেনী বর্ণ কোনকিছুতে আপত্তি নেই।”
আদিত্য সম্পর্কে এত তথ্য একনাগাড়ে শুনে সুগন্ধা খানিকটা আতঙ্কিত হলো। তার বুঝতে একটুও অসুবিধা হলোনা। তড়িঘড়ি করে সে বলতে গেল,
“আম্মাজান, শুনেন! আমি আসলে…”
হুট করে বাইরে থেকে গাড়ির হর্ণের আওয়াজ শোনা গেল। যার কারণে সুগন্ধার কথাটা মাঝপথেই চাপা পড়ে গেল। তার আর সামিয়াকে নিজের সত্যিকার মতটা জানানো হলোনা। এর আগেই সোফা ছেড়ে তড়াক করে উঠে পড়লেন সামিয়া। ইযানও বুঝি পিতা মাতার উপস্থিতি টের পেয়েছে। তাই হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেল দরজার দিকে।
মিনিটখানেকের মাথায় বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করল সাইবান আর ইরাম। ইরাম সামনে সামনে, সাইবান পিছনে। দৃপ্ত পদক্ষেপ রমণীর। সে ঢুকতেই ইযান মায়ের পা চেপে ধরে শব্দ করে উঠল,
“আম! আম!”
ইরাম উবু হয়ে ছেলেকে কোলে তুলে নিল। এক পলক তাকালনা কারো দিকে পর্যন্ত। একদম নীরবে হনহন করে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগল। মায়ের কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে ডাগর ডাগর চোখ মেলে অবাক দৃষ্টিতে ইযান তাকিয়ে দেখল সাইবানকে। অতঃপর ইরাম ছেলেকে নিয়ে বেডরুমে আড়াল হয়ে গেল। বাড়ির বউয়ের এমন কাণ্ডে যারপরনাই অবাক সামিয়া এবং সুগন্ধা। সামিয়া দ্রুত তাকালেন সাইবানের দিকে।
“কি হয়েছে? ইরাম এমন করল কেন? খারাপ কিছু? হ্যাঁ? বলছিস না কেন?”
“কিছু হয়নি।”
সাইবানের জবাবটাও সংক্ষিপ্ত। সে হেঁটে চলে গেল সিঁড়ির দিকে। সামিয়া ঘামতে লাগলেন। নাহ, কিছু যে হয়েছে সেটা তো নিশ্চিত। তিনি ফোন বের করে নিজের রুমের দিকে চলে গেলেন। নীরবকে কল করে জানতে হবে সবকিছু। হলে রয়ে গেল শুধু একলা সুগন্ধা। যে কিছুক্ষণ আগে বলা সামিয়ার কথাগুলো এবং এখনকার পরিস্থিতি, উভয়কে একসাথে হজম করতে হিমশিম খাচ্ছে।
সারাটাদিন ইরাম সাইবানের সঙ্গে আর একটাও কথা বললনা। সাইবান বারবার চেষ্টা করেছে। নিজের তোয়ালে ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে রেখে হাকডাক করে ইরামকে ডেকেছে খুঁজে দেয়ার বাহানায়। কখনো বা দরজার সাথে আঙুল চাপ খাওয়ার নাটক করেছে। ইযানের ডায়পার বদলানোর বাহানায়ও কাছে ডেকেছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ইরাম নীরব। সব কাজই সে করেছে বিনা কথোপকথনে। এমনকি একবারের জন্য চোখ তুলেও তাকায়নি স্বামীর মুখপানে। সারাদিন সারারাত এমন যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়েছে সাইবান যা কাউকে বলে বোঝানোও সম্ভব নয়। বিছানাও আজ ইরাম আর ইযানের দখলে। ইযান সাধারণত তাদের বিছানার পাশেই আলাদা ক্রীবে ঘুমায়। কিন্তু আজ ছেলেকে নিজের সাথে বিছানায় শুইয়েছে ইরাম। অন্যদিন সাইবানের দিকটা পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখে সে। আজ বালিশ পর্যন্ত দেয়নি। মাঝরাত অব্দি বারান্দায় কাটিয়েছে সাইবান। চুপচাপ বসে আকাশের তারা গুণেছে। এক লক্ষ পর্যন্ত কি যেতে পেরেছে! জানেনা। শেষমেষ আর সইতে পারলনা সে।
ঘড়ির কাঁটা এখন দুইয়ের ঘরে। রাত দুইটা বাজে প্রায়। সমস্ত বাড়ি নিস্তব্ধ। নীরবের কাছ থেকে কি হয়েছে শুনে সামিয়াও অভিমান করেছেন ছেলের উপর। নিজের রুমেই আছেন। আর আহমদ থাকা না থাকা একই ব্যাপার। তিনি কখন আসেন, কখন যান কেউ খবরও রাখেনা। শুধু সুগন্ধাকে জিজ্ঞেস করলে খবর জানা যায়। কারণ ওই মেয়ের কাছে তার আম্মাজান আব্বাজান সমান। তাই কারো যত্ন আত্তিতে কমতি রাখেনা। হলরুমে শুধু একটা মৃদু হলদেটে বাল্ব জ্বলছে। সেই আলোয় চারপাশ কেমন যেন মাদকীয় দেখাচ্ছে। সাইবান হেঁটে গিয়ে নিঃশব্দে সোফায় শরীর এলিয়ে বসল। কিছুক্ষণ শূণ্য দৃষ্টিতে জানালা দিয়ে চেয়ে রইল বাইরের দিকে। তার পরিধানে একটা সাদা ট্যাংক টপ আর সাদা ঢোলা ট্রাউজার। সেই ট্রাউজারের পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটার বের করল সে। বহুদিন হয়েছে সাইবান ধূমপান করেনা। প্রথমে ধীরে ধীরে কমিয়েছে ইযানের জন্য। আর গত দুই মাস তো একেবারে ছুঁয়েও দেখেনি। কিন্তু আজ, সে নিজের উপোস ভাঙল।
প্রথম সিগারেটটা ধরিয়ে ঠোঁটে পুরে প্রায় মিনিট দশেক সময় নিয়ে ধীরে ধীরে শেষ করল। অ্যাশট্রেতে ফেলে দিয়ে আবার আরেকটা তুলল। প্রায় তিনটা বাজতে চলেছে এখন। অথচ সাইবানের শরীরে ক্লান্তি নেই, চোখে ঘুম নেই। দগদগে স্মৃতি হয়ে ভাসছে ছবিটা। নাহ, সে কিছুতেই ওই ভয়ংকর দৃশ্য বিশ্বাস করেনা। অরণ্য তার আবেগ নিয়ে খেলেছে। সে খুব ভালোভাবেই জানত সাইবানকে ইরামকে নিয়ে কিছু বললেই বাগে নেয়া সম্ভব। আজকাল কত উন্নত প্রযুক্তি বের হয়েছে। তাছাড়া অনেক ফটোশপ ইলাস্ট্রেটর দিয়েও এমন ছবি মিনিটের মধ্যে বানানো যায়। তবুও, বুকের ভেতর থেকে খচখচানিটা দূর করতে পারছেনা সাইবান। অরণ্য ইরামের জন্য যদি এতই পাগল হয়ে থাকে, তবে ইরামকে কেন এভাবে অপদস্থ করতে চাইছে? সাইবান অরণ্য আর ইরামের দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেনা। সে শুধু ইরামের মুখে শুনেছে। কিন্ত একটা মুদ্রার তো দুইটি পিঠ থাকে। তবে অরণ্যর গল্পটা কি?
নাহ, অরণ্যর গল্পে তার কিছু আসে যায়না। যেই তার ইরামকে টার্গেট করবে, তাকেই সাইবান মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলবে। এতে যদি তাকে অন্ধ হতে হয়, তাই হবে! দেখতে দেখতে সাইবান চতুর্থ সিগারেটে পৌঁছাল। সেটা ধরিয়ে সবেমাত্র ঠোঁটে ছুঁয়েছে ঠিক এমন সময় স্তব্ধ বাড়িতে একটা মৃদু কন্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হলো,
“আবার সিগারেট ধরেছ কেন?”
ঘুরে না তাকিয়েও সাইবান স্পষ্টত বুঝল ওটা কে। দৃষ্টি ফেলার প্রয়োজন নেই। ওই অস্তিত্বে মিশে থাকা সুবাস ইতোমধ্যে তার নাকে এসে ঠেকেছে। সিগারেটের তামাটে ধোঁয়াও তাকে মাতোয়ারা করতে পারেনি। অথচ ওই মিষ্টি ঘ্রাণ তার সমস্ত বুকজুড়ে হুকুমের ছড়ি ঘোরাচ্ছে।
সিঁড়ি বেয়ে ধীরপায়ে নিচে নামতে লাগল ইরাম। তার পরনে একটা ঢোলা কুর্তি আর প্লাজো। মুখটা হালকা মলিন, তবে তাতে বিষণ্নতা নেই। আছে একরাশ বিরক্তি এবং চিন্তা। তার দিকে ফিরে তাকালনা সাইবান। সোফায় পা এলিয়ে সিগারেট ফুঁকে বাতাসে তামাটে ধোঁয়া ছাড়ল সে। অতঃপর হালকা ভাঙা গলায় জানাল,
“যেন আপনার নিস্তব্ধতা আমাকে পোঁড়ানোর আগেই সিগারেট আমায় পুঁড়িয়ে দেয়।”
ইরাম সাইবানের কাছে এসে থামল। একনাগাড়ে তাকিয়ে দেখল স্বামীকে। হলদেটে বাতির আলোয় সাইবানকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে। চোখেমুখে পরিশ্রান্তির বপন। একমনে সিগারেট ফুঁকে যাচ্ছে সে। ইরাম প্রথমটায় কিছু বললনা। তারপর হুট করে কিছু না বলেই বাড়ির দরজার দিকে হাঁটা দিল। এবার খপ করে হাত বাড়িয়ে তার কব্জি ধরে ফেলল সাইবান। শুধাল,
“কোথায় যাচ্ছেন?”
“খুঁজেপেতে গাঁজা পাতা নিয়ে আসি। সিগারেট টেনে ধুঁকে ধুঁকে ম*রার চেয়ে গাঁজা টেনে একবারে টপকে যাও।”
এবার সাইবানের অবসাদগ্রস্থ ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটল। এক টান মেরে ইরামকে সোফায় বসিয়ে দিল সে। একটি ভারী হাত রাখল অর্ধাঙ্গিনীর কোমরে। কাছে টেনে শরীরের সঙ্গে শরীর মিশিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“আমার সাথে থেকে থেকে দিনদিন চটকদার হচ্ছেন।”
ইরাম উত্তর করলনা। সাইবানকে দূরে সরালনা। চুপটি করে ওখানেই বসে রইল। সাইবান সিগারেট ঠোঁটে পুরে ঝুঁকল, লম্বা আরেক সুখটান দিয়ে বাতাসে ধোঁয়া ছেড়ে জিজ্ঞেস করল,
“রাগ কমেছে?”
এবারেও উত্তর এলোনা ইরামের তরফ থেকে। হাত বাড়িয়ে সটান সে সাইবানের ঠোঁট থেকে সিগারেট কেড়ে নিজের ঠোঁটে পুরল। সাইবান থামানোর চেষ্টা করার আগেই টান দেয়ার চেষ্টা করল, পারলনা। বরং তামাটে ধোঁয়া নাকে যেতেই খুকখুক করে কেশে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে তার হাতে চাপড় দিয়ে সিগারেটটা ফেলে পা দিয়ে পিষে নিভিয়ে ফেলল সাইবান। ক্রোধ নিয়ে তাকাল,
“কি সমস্যা?”
“বা রে। তুমি খেতে পারলে…খুক খুক..আমি পারবনা?”
কাশতে কাশতে বলল ইরাম।
“পারবেন। অবশ্যই খেতে পারবেন। তবে সিগারেট নয়, সিগারেট খাওয়া এই ঠোঁটজোড়া।”
তৎক্ষণাৎ ইরামের চিবুক চেপে ধরে তার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট বসিয়ে দিল সাইবান। ইরাম অজান্তেই খামচে ধরল তার কাঁধ। দীর্ঘ সময় নিয়ে ধীরে ধীরে চলল অনুভূতির বিনিময়। আজ কোনো আগ্রাসন নেই। আছে শুধু নিরেট আবেগ। কিছুক্ষণ বাদে থামল সাইবান, তবে সরে গেলনা। জ্বলজ্বলে দৃষ্টিতে তাকাল অর্ধাঙ্গিনীর দিকে, চোখজোড়া বোঁজা তার। বৃদ্ধাঙ্গুল তার লালচে ঠোঁটে বুলিয়ে সাইবান মৃদু গলায় বলল,
“আপনি জানেন না? আপনি বোঝেন না? মেয়েরা নাকি এক বললে একশো বোঝে? তাহলে আপনি কেন আমায় বোঝেন না? ইরাম, আপনার হৃদয় কি একটুও উপলব্ধি করেনা আমার অনুভূতির হাহাকার?”
“কেমন অনুভূতি? দায়িত্ববোধ? বাধ্যবাধকতা? কর্তব্য? পুরোনো পরিচয়?”
“আপনার অপশনে ভালোবাসা নেই?”
আমার আলাদিন পর্ব ৫৯
ইরাম থমকাল, চোখ মেলে তাকাল। উজ্জ্বল নয়নে দেখল স্বামীকে। যে অতীব গভীর দৃষ্টিপাত করে রেখেছে তার উদ্দেশ্যে। কপালে কপাল ঠেকাল সাইবান, শ্বাস টেনে আবেগে ভেঙে আসা গলায় জানাল,
“এবার এটাও আমাকে উচ্চারণ করে বুঝিয়ে দিতে হবে যে আপনাকে আমি ভালোবাসি?”
