সায়রে গর্জন পর্ব ২৭
নীতি জাহিদ
দু চোখ শ্রাবনের ধারার মত অশ্রু সজল। হামজা পূর্বেই মেসেজে জানিয়েছে তারা সুস্থভাবে সিঙ্গাপুর পৌঁছেছে। শাহাদের সাথে এখন অবদি কারো যোগাযোগ হয়নি। ফ্রি হয়ে ফোন দিবে জানিয়েছে। আজ দুদিন। পুরো বাড়ি জুড়ে যেন শূন্যতা। নিজেদের ব্যক্তিগত রুমটাকে দিয়ার এখন উত্তপ্ত মরুভূমি মনে হয়। এই নিয়ে দ্বিতীয় বার মুঠো ফোন রিংগিং। কাঁপা হাতে ফোনটা তুলে নিলো। সামনে বসে আছে সুলতানা কবির, নওরীন,শিফা এবং রায়হান সাহেব। তারা যদিও জানেন ছেলের শয়নকক্ষে আশা অশোভনীয়। তবুও আজ কেউ নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারেন নি। শাহীনের কাছে টুকটাক খবর পাচ্ছে। তবে কিছুটা অবাক হয়ে শাহীনের কথা অবিশ্বাস করলো রায়হান সাহেব! এমনটা আগে কখনো হয়নি। সবার আগে রায়হান সাহেবের ফোনেই কল আসে শাহাদের। অথচ আজ দুদিন খোঁজ নেই। কিছুটা চিন্তিত থাকলে এখন স্বস্তি বোধ হচ্ছে। বাসায় কাউকে জানায় নি ফোন দিয়ে তাতে কারো রাগ নেই, দিয়াকে ফোন দিয়েছে শুনে সকলে রুমে উপস্থিত। একবার দেখবে বাড়ির প্রাণটাকে। ভিডিও কল করেছে, নিজেকে সামলে আঁচলে চোখ মুছে মাথায় ঘোমটা তুললো। ফোন রিসিভ করতেই ও পাশ থেকে হামজার মুখ ভেসে এলো। সকলে চমকে উঠলো। শাহাদের ফোন নিয়ে হামজা কেনো দিয়াকে ভিডিও কল দিবে!
– ম্যাডাম আসসালামু আলাইকুম
– ওয়ালাইকুমুস সালাম
হামজা ভিডিওতে ব্যাক ক্যামেরা দেখিয়ে বাস্তব চিত্র তুলে ধরলো। দিয়ার আঁচলে মুখ চেপে ধরলো। কান্নারা আর বাঁধ মানলো না। ফোন ধরিয়ে দিলো সুলতানা কবিরের হাতে। হাতে ফোন নিয়ে সুলতানা কবির আঁৎকে উঠলেন। বাকিরা এগিয়ে এসে দেখে নিরব। হামজা ও পাশ থেকে বলে,
– আমি একটু ও সময় পাই নি খালাম্মা। গত দুটোদিন আমি হাসপাতালে। প্লেন থেকে নামার পরই স্যার সেন্সলেস হয়ে যায়। এয়ারপোর্টের এমার্জেন্সি এম্বুলেন্স হাসপাতালে পৌঁছে দেয় আমাদের। আমার ফোনের চার্জ শেষ। তাই বাধ্য হলাম স্যারের ফোন দিয়ে আপনাদের কল দিতে। প্লেনেই আমাকে স্যারের ফোন হাতে দিয়ে বলেছিলো আপনাদের জানাতে যদি কিছু হয়। আংকেলকে ফোন দিতে বার বার বারণ করেছে। কিন্তু আংকেল তো সামনে। আংকেল ক্ষমা করবেন। স্যার চায়নি আপনি কষ্ট পান। হয়তো স্যারের অসুস্থতার কথা শুনে আপনি অসুস্থ হয়ে যাবেন…
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
রায়হান সাহেবের চোখে পানি। ছেলে নিজের এমন করূন পরিস্থিতিতেও বুড়ো বাপের ভালোর কথা ভাবছে। তার এই সম্বলকে কেনো এমন জীবন দিলো মহান রব!
হামজা পুনরায় বললো,
– প্লেনের মধ্যেই ছটফট করেছে। বার বার বলছিলো, হামজা আমার কিছু হয়ে গেলে হাসপাতালে নিয়ে বেশি টাকা খরচ করবেনা। শরীরের অবস্থা ভালোনা। যত তাড়াতাড়ি পারবে বাংলাদেশ নিয়ে সমাহিত করবে। এত তিন চারদিনের জানাজা প্রয়োজন নেই। পরিবারের মানুষদের একবার আমাকে দেখাবে। আমার মেয়েটা যেন আমাকে ছুঁয়ে দেখে এই দায়িত্ব তোমার। খালাম্মা আমি হাঁপিয়ে উঠেছি। আমার কান্না পায়। স্যারকে আমি শাসন করতে দেখেছি,আদর করতে দেখেছি। এখন আমার স্যার ওই সাদা বিছানায় হাসপাতালের পোশাক পরনে। যতবার দেখছি আমার ভেতরটা কেপে উঠছে। আফসোস হচ্ছে একা কেনো আসলাম। পাভেল ভাই,শাহীন স্যারকে আমার লাগতো। বার বার মনে হচ্ছে মানুষটা সুস্থ হয়ে আবার শাসন করুক। আমাকে এখানে কেউ দেখিয়ে দেয়ার মতো নেই। আমার ভয় হয় যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়! শক্ত করে বারণ করেছে কেউ যেন হাসপাতালের খবর না জানতে পারে। আমার জন্য দোয়া করবেন আপনারা সবাই যেন সাহস পাই।
কাঁদছে হামজাও। দিয়া উঠে গিয়ে মুখ ধুয়ে এসে সুলতানা কবিরের দিকে তাকালো। হেসে বললো,
– আম্মু আমাকে দিন আমি দেখছি। আব্বু আপনি আম্মুকে নিয়ে যান। এভাবে কাঁদলে অসুস্থ হয়ে যাবে।
রায়হান সাহেব স্তব্ধ হয়ে আছে। সত্তর বছর বয়সের মানুষটা আর নিতে পারছেনা কোনো স্ট্রেস। সুলতানা কবির ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে বলে,
– আমি আরেকটু বসি বৌমা।
দিয়া শাশুড়ীকে জড়িয়ে ধরে বলে,
– আচ্ছা। কিন্তু কাঁদবেন না। আমি কথা বলি কেমন।
বাধ্য সন্তানের মতো মাথা নাড়লো সুলতানা কবির। দিয়া বলে উঠলো,
– হামজা ভাই, ডাক্তার কি বলেছে?
– টেস্ট করেছে। অলরেডি ট্রিটমেন্ট শুরু অবজারভেশনে আছে। রিপোর্ট দেখে অপারেশন করবে। ডেট দেয়নি। চান্স ৬০/৪০। সাকসেসফুল হলে থেরাপির মধ্যে কেয়ারে থাকতে হবে কিছুদিন বা মাস।
– ঠিক আছে।
একটু থেমে দিয়া শিফার দিকে তাকালো। পুনরায় হামজাকে বললো,
– ভাইয়া আপনি কি কেবিনের ভেতর যেতে পারবেন?
– জ্বি ম্যাডাম।
– আচ্ছা কষ্ট করে যেয়ে, আপনার স্যারের দিকে সাউন্ড অফ করে ক্যামেরা টা ধরুন।
হামজা তাই করলো। এর মাঝে আফিয়া খালাকে ডাক দিলো। শেহজা আফিয়া খালার কোলে। রুমে আসতেই শিফাকে বললো,
– শিফা ফোন টা ধরো,আমি শেহজাকে ওর বাবাকে দেখাই।
কাঁদছে শিফাও। কেঁদে কেঁদে বলছে,
– ও ভাবীজান দেখাইয়েন না। আমাদের মেয়েটা ছোট্ট। কাঁদবে।
– আরেহ পাগল নাকি তুমি, না দেখালে ওর আফসোস থাকবে। ভালো মন্দ কিছু হলে আমাকে দূষবে।
শেহজাকে কোলে নিয়ে শাহাদকে দেখালো। হালকা ঘিয়া রঙা হাসপাতালের পোশাকে শাহাদ শুয়ে আছে। মুখে অক্সিজেন মাস্ক। শেহজা বুঝতে প্রথমে বুঝতে পারেনি কে। দিয়া বললো,
– শেহজা দেখো মা এটা কে?
তখনই সিস্টার ঢুকছে। হামজা কিছু একটা বুঝালো। সিস্টার সামনে গিয়ে শাহাদের মাস্কটা একবার সরালো। যেই না সরালো শেহজা বাবার মুখ দেখে চিৎকার দিয়ে উঠলো,
– বা বা…
ডাকছে তো ডাকছেই মেয়ের থামার নাম নেই। কিন্তু বাবা তো মেয়ের জবাব দিচ্ছে না। এবার মেয়েটা মায়ের দিকে তাকিয়ে অভিমান করেছে। বাচ্চার এই অভিমান স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে বাবা কথা না বলাতে রাগ হয়েছে। ঠোঁট উলটে কাঁদছে আর বলছে বা..বা। বাবা না, না, না। দিয়া মেয়েকে বুকে চেপে ধরলো। হামজা বেরিয়ে এলো কেবিন থেকে। সাউন্ড দিতেই দিয়া বললো,
– ভাইয়া আপনি খাওয়া দাওয়া করেন। আপনার স্যারের খেয়াল রাখবেন। এখন রেখে দিন।
– জ্বি ম্যাডাম।
ফোন কে*টে গেলো। মেয়েটা কেঁদেই যাচ্ছে। থামার আর নাম নেই। বাকিরা চেয়ে দেখছে।
নীল গগনে চন্দ্রিমা স্বপ্ন এঁকেছে। বারান্দা দিয়ে স্পষ্ট। মেয়েকে কোলে তুলে কাঁধের সাথে মাথা লাগিয়ে আলতো করে চাপ দিচ্ছে পিঠে। গেয়ে উঠলো,
‘ ঘুম হারা চোখে,
ফিরে দেখি একবার
ইচ্ছে করে
তোমার
হাতে হাতটা মেলাবার।
খুব মন খারাপের রাতে
দূরের বাঁকা চাঁদটার সাথে
আমার হাতটা যেন থাকে
তোমার ছোট্ট হাতের পাশে।
তোমার ঘুম ভাঙানোর রাতে
যখন বড্ড একা লাগে
আমার হাতটা যেন থাকে
তোমার ছোট্ট হাতের পাশে।
ঘুমিয়ে পড়লো মায়ের কোলেই। কান্নার দাগ স্পষ্ট মুখে। চলে গেলো সকলে রুম ছেড়ে। সহ্য করতে পারলোনা সুলতানা কবির ছেলের বউয়ের এই রূপ।মেয়েটা কি পাথর হয়ে গেল!
চারকোণা একটি টেবিল। দেখতে খেলার মাঠের মত। এই কামরা জুড়ে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস এই টেবিলটি। গত চারমাস টেবিলটির কাছে আসা হয়নি ভাইজানের। শাহীন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নওরীন সহ তিনতলার এই কামরায় ঢুকেছে শাহীন। নওরীনের কাছে আজকের পুরো ঘটনাই শুনেছে। সেতো ভাইজানকে আরো আগেই দেখেছে। বাসার মানুষগুলো মেনে নিতে পারবেনা ভেবে নিশ্চুপ ছিলো। ভাইয়ের জীবনের সব গল্প করতে করতে গল্পের মাঝে এই টেবিলের কথা আসে। নওরীনের অফিসের বসকে এই টেবিলের সামনে ছবিতে দেখেছে। শাহীন টেবিলটি ছুঁয়ে বললো,
– জানো নিরা, ভাইজান খেলতে খুব পছন্দ করতেন। ওনার কাছে এই পুল বল গুলো ছিলো এক একটা গুটি। যখনই সমস্যায় পড়তেন তখনই খেলতে আসতেন। বিলিয়ার্ড নিয়ে ভাইজানের প্রচন্ড আকর্ষণীয় ছিলো। খেলতে গেলে চাপ পড়ে ব্রেইনে তাই খেলেনি কয়েকমাস। অসুস্থ হওয়ার পর থেকেও অনেক খেলেছে। কত বারণ করেছি ফোনে।
– আমার মনে প্রশ্ন জাগে মেজর। ভাইজান কি আদৌ কারো কথা শুনেছে? সকলের প্রতি মনোযোগ রেখেছে অথচ নিজের প্রতি ছিলো অযত্নশীল। কেউই কি বুঝতে পারোনি তোমরা?
দীর্ঘশ্বাস ফেললো শাহীন। এই রুমের প্রতিটি কোণায় শাহাদের চিহ্ন। রুমটা খাঁ খাঁ করছে তাকে ছাড়া। শখ করে কিনেছিলো এই পুল টেবিল। ছয়টা পকেট বিশিষ্ট বিলিয়ার্ড টেবিলের কিউই বল গুলোর মাঝে খুঁজে পেত নিঃসঙ্গ জীবনের বেশির ভাগ সময়। শাহীন বললো,
– জানো নিরা রাশেদ ভাই কি বলতো? বলতো, “তোর পাগলামী লিমিটলেস শাহাদ” সত্যি তার পাগলামি লিমিটলেস।
আচমকা নিজেকে অস্থির করে পুনরায় বলে উঠলো,
– নিরা, কি করছি আমি? আমি রাশেদ ভাইকে স্মৃতিতে স্মরণ করছি কিন্তু আমার ভাইজানকে কেনো? আমি দুজনকেই স্মৃতিতে রাখছি। চলো এখান থেকে। এখানে থাকলেই ভাবনা গুলো ভাইজানকে মনে করাবে। আমার ভাইজান সুস্থ হবে।
শাহীনের অস্থিতিশীল অবস্থা নিরাকে ভাবিয়ে তুলছে। বেরিয়ে গেলো তালা ঝুলিয়ে কামরা থেকে।
সুলতানা মঞ্জিলের লিভিং রুমে আজ চাপা উত্তেজনা। এক সুদর্শন মধ্য বয়স্ক পুরুষ অপেক্ষা করছে মেজর শাহীনের জন্য। দেখতে অনেকটা দিয়ার মতো। কিছুটা মিলে চেহারায়। রায়হান সাহেব রুম থেকে বেরিয়ে আসলেন। সাথে পাভেল ও এসেছে সেই পুরুষের সঙ্গে। রায়হান সাহেবকে দেখে হাত বাড়ালেন হ্যান্ডশেক করার জন্য। সালাম দিলেন,
– আসসালামু আলাইকুম রেহান ভাইজান।
কিছুটা হতচকিত হয়ে সালাম নিলেন। বসলেন শান্ত হয়ে। নিজ থেকেই সেই মানব বললো,
– কেমন আছেন ভাইজান?
কি সুন্দর অবলীলায় বাংলা বলছে তবে টান আছে আরব দেশের।
– জ্বি আলহামদুলিল্লাহ আপনি।
– হামিও ভালো আছি। হামার নাম হাম্মাদ। আপনার ছেলের বউ এর মামু হই।
পাভেল মাথা ঝাঁকালো। এরমধ্যে শাহীন ঢুকলো বাসায়। হাম্মাদকে দেখে ঝাঁপিয়ে পড়লো বুকে। দুজনের গলায় গলায় ভাব দেখে লিভিং রুমে সবাই চমকিত। শাহীন সোফায় বসে বললো,
– মি. হাম্মাদ আমি খুব খুশি হয়েছি। আপনার অপেক্ষাতেই ছিলাম।
রায়হান সাহেব শাহীনকে কাছে টেনে ধীর স্বরে প্রশ্ন করলো,
– বৌমার মামা বুঝলাম, ইরানী তাও বুঝলাম। বাংলা পারে কিভাবে?
– আব্বু, হাম্মাদ ইরানের প্রফেশনাল হিট ম্যান। ও যে কয়টা খু/ন করছে তা গুণেও শেষ করা যাবেনা। ওর নখদর্পনে বেশিরভাগ ভাষাই।
– আল্লাহ, এই খুনী আমার বাড়িতে কি করে?
– আস্তে, ভাইজানের নির্দেশ। ভাইজান ইনভাইটেশন পাঠিয়েছে দেশে আসার জন্য।
রায়হান সাহেব শাহাদের কথা শুনে দমে গেলেন।ছেলে চেয়েছে মানে কারণ আছে হয়তো। পুনরায় হাম্মাদের দিকে তাকিয়ে বললেন,
– আপনার বাসার সবাই ভালো আছে?
শাহীন ভ্যাবাচেকা খেয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে যেন ঘরোয়া আলাপ করছে আন্টিদের মতো। এটা কেমন প্রশ্ন বাসার সবাই ভালো আছে! রায়হান সাহেব ও বিচলিত,ভাবছে কি গল্প করবে এর সাথে! হাম্মাদ হেসে দিলো। মাথা নেড়ে বললো,
– হাঁ ভালো আছি। শাহাদের সাথে তো হামার ওনেক কথা হতো। আমরা ভালো বন্ধু। আল্লাহ উইল সেভ হিম। ওর সিকনেস শুনে ওনেক দুঃখ পাইছিই।
এই মানুষটার আচরনে একটু ও ধরার উপায় নেই মানুষ মা*রায় এত এক্সপার্ট। হাম্মাদ থেমে বলে উঠলেন,
– হামি কি দিয়াকে দেখতে পারি?
শাহীন ঘাড় ঘুরিয়ে বললো,
– নিরা,ভাবীমা কে ডেকে আনো?
নওরীন চলে গেলো দিয়ার খোঁজে। কিছুক্ষন পর ফিরে এলো দিয়া এবং শেহজাকে নিয়ে। হাম্মাদকে দেখে ছলছলে চোখে তাকিয়ে বলে উঠলো,
– ছোট মামুজান!
হাম্মাদ এসে ভাগ্নিকে জড়িয়ে ধরলো। এত বছর পর ভাগ্নীকে দেখে আবেগে বলে ফেললো,
– উম্মি, কাইফা হালুক ( আম্মাজান, কেমন আছ?)
– তাইয়্যিব মামুজান। ( ভালো আছি)
– মিন আইনা জিতা? লিইমা জিতা মামুজান? ( মামুজান হঠাৎ আপনি এখানে কেন এসেছেন?)
– ফি ইয়ামালি। ( আমার একটা কাজে)
– মা আলিয়ামাল ফি বাংলাদেশ ? ( বাংলাদেশে কি কাজ)
কথা ঘুরিয়ে হাম্মাদ বললো,
– আনা সায়্যিদান বিরুইয়াতিক বায়্যিদ সানাওয়াত ইয়াদিদাতিন,উম্মি। (মা, তোমাকে এত বছর পর দেখে খুব খুশি লাগছে)
– শোকরান মামুজান।
– মা শা আল্লাহ মা শা আল্লাহ ইয়ালুহা মিন ফাতাত জামিলা? হাল হাদ্দিহ আবিনাতুক? ( মা শা আল্লাহ আদুরে একটা বাচ্চা। তোমার মেয়ে?)
– নিয়ামাল আ বিন্তি। ( আমার মেয়ে)
শেহজাকে কোলে নিয়ে সবার দিকে তাকাতেই দেখলো আশ্চর্যের উচ্চ শিখরে গিয়ে সবাই তাকিয়ে আছে। হাম্মাদ হেসে এবার দিয়েকে বললো,
– উম্মি, হামি বাংলা পারি। তুমি বাংলা বলো।
দিয়া মাথা নাঁড়ায়। শেহজা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে অপরিচিত মানুষটাকে। কিছুক্ষন বসে কথাবার্তা বলে হাম্মাদ চলে যাওয়ার জন্য তৈরি হলো। দাঁড়িয়ে বললো,
– দেখা হবে আবার, চিন্তা করবেন না মি. শাহাদের জন্য। হামার লোক আছে সেখানে তার প্রোটেকশন এর জন্য।
দিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
– উম্মি, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। মন খারাপ হলে মামুজানকে ফোন দিও।
সায়রে গর্জন পর্ব ২৬
মাথা নাঁড়ায়। হাম্মাদ জড়িয়ে ধরে ভাগ্নীকে। বিদায় নিয়ে বেরিয়ে গেলো কানের কাছে কিছু একটা বলে। ছোট মামুজানের কথায় কিছুটা আশ্বস্ত হলো। আম্মিজান বেঁচে থাকতে প্রায় সময় একবার দেশে আসতো আম্মিজানকে দেখতে। বড় মামু,নানাজান কেউ মেনে নেয়নি আম্মিজানের বিয়ে। তবে ছোট মামু ছিলো আম্মিজানের নেওটা। দিয়া ছিলো আদরের। ছোট মামুর দেশে আসার সংবাদ বরাবর গোপন রাখতো বাবাজান। লুকিয়ে দেখা করতো ওরা মামুজানের সাথে। আজ ছোট মামু কেনো এসেছে? যাওয়ার সময় কেনো বললো, যেকোনো সময় ডাকবে। আস্তাবলে নিয়ে যাবে। তবে কি কোহিনূর মামুজানের কাছে! দিয়ার সেই সাদা ঘোড়া যা হামিদ মজুমদার সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন গোপন আস্তাবলে। শরীর শিউরে উঠলো। খেলার ছলে তলোয়ার চালানো শেখা মায়ের কাছ থেকে। আর ঘোড়া ছিলো বিনোদনের মাধ্যম। তবে আজ তা কি উপকারে আসবে!!
