সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৪৩
Raiha Zubair Ripti
বাহিরে তখন শীতল বাতাসের ছোটাছুটি বিদ্যমান। হয়তো তুমুল বৃষ্টি হবে। জানালা দিয়ে আসা বাতাসের ছোঁয়ায় মোমবাতি টা নিভে যেতে চাচ্ছে বারবার। বিড়ালটা তখন লাফ দিয়ে তার কোল থেকে নেমে সিকান্দারের পায়ের কাছে গোল হয়ে ঘুরছে। সিকান্দার একবার তাকালো নিচে। তারপর আবার তাকালো স্ত্রীর পানে। স্ত্রীর দৃষ্টিখানা নিবদ্ধ মোমবাতি তে। সিকান্দার সরে গিয়ে সুইচ খুঁজে লাইট জ্বালাতে নিলে লাইট জ্বললো না। বুঝতে পারলো কারেন্ট চলে গেছে হাল্কা বাতাস আসতেই। তিন দিন আগেই তাদের গ্রামে কারেন্টের লাইন এসেছে। প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই এখন কারেন্ট আছে বলা চলে। মুনতাহা সেদিন কলেজে ছিলো। সিকান্দারের বাসায় আসলো কারেন্টের লোকেরা। মিটার লাগিয়ে দিয়ে গেলো দুটো। সিকান্দার বাজার থেকে তার সুইচ বাল্ব কিনে নিজেই লাগালো সব। এসব সে ভালোই পারে। মিস্ত্রির প্রয়োজন পড়ে নি। মুনতাহা ভার্সিটি থেকে এসেও বুঝতে পারে নি তাদের বাসায় কারেন্ট এসেছে। যখন সে বোরকা নিকাব খুলে বিছানায় ক্লান্ত হয়ে বসলো তখনই সিকান্দার সুইচ টিপে ফ্যান অন করতেই সে বাতাসের ছোয়া পেয়ে উপরে তাকিয়ে দেখে ফ্যান ঘুরছে তাদের শোবার ঘরে! বসার ঘরে আর অতিথি ঘরে লাগায় নি। ঐ দুই রুমের জন্য দুটো চার্জার ফ্যান আছে।
মুনতাহা সে কি খুশি! অবশ্য সোলারেও তেমন সমস্যা হত না। তারপরও খুশির সীমা ছিল না। অবশেষে তাদের গ্রামে কারেন্ট এসেছে। বিকেলের পর সেদিন পুরুষেরা বাহির থেকে সিকান্দার কে ডেকে নিয়ে আনন্দ উৎসব পালন করলো। সন্ধ্যার পর খিচুড়ি রান্না করে গ্রামের সবাইকে খাওয়ানো হলো। চেয়ারম্যান বাড়িতেও পাঠানো হয়েছিল। পীর তো চেটেপুটে খেয়েছে। সিকান্দার মুনতাহার জন্যও এনেছিল। সেদিন রাতটা তারা খিচুড়ি খেয়ে কাটিয়েছিল।
মুনতাহা মোমবাতিটা একটু ঝুঁকে নিচু টেবিলটার উপর রাখলো। সিকান্দার এগিয়ে এসে তার সামনে বসতেই সে বলল,
” কারেন্ট নেই? ”
” না চলে গেছে। ”
” সামান্য বাতাসেই চলে গেল! ”
” হয়তো বুঝতে পেরেছিল সে থাকলে মুনতাহা মুন লজ্জা পাবে তার আলোতে। তাই সে মুনতাহা মুনের জন্য অন্ধকার কেই স্থায়ী করলো। ”
মুনতাহা চোখ তুলে তাকালো। একটু অভিমান সুরে বলল,
” আপনি আজ কিছু ভুলে গিয়েছেন। ”
সিকান্দারের ভ্রু কুঁচকে আসলো। ” কি ভুলে গিয়েছি? ”
মুনতাহা মুখ ঘুরিয়ে বলল, ” বলে দিব কেন? মনে করুন। ঠিক মনে পরবে। ”
সিকান্দার অনেকক্ষণ মনে করার চেষ্টা করলো। তারপর হুট করে মনে পরায় হেঁসে উঠলো। ধীরে মুখটা এগিয়ে নিয়ে স্ত্রীর কপালে গালে আর দু হাতের উপর পিঠে ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দিয়ে বলল, ” সত্যি আজ ভুলে গিয়েছিলাম আপনার রূপের সৌন্দর্যের মোহে পড়ে। ভাগ্যিস মনে করিয়ে দিলেন! ”
মুনতাহার অভিমান তখনও কমলো না। বরং আরো গাঢ় হয়ে আসলো। বলল, ” হ্যাঁ দিন যত যাচ্ছে ততই পুরোনো হচ্ছি তো। সেজন্য এখন মনে থাকবে না। ”
সিকান্দার দীর্ঘ এক শ্বাস ফেললো। সে বুঝালো কী আর তার নারী বুঝলো কী! হ্যাঁ পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল চরিত্র নারী। তাদের মুড সুয়িং হতে সময় লাগে না। আবার ঠিক হতেও সময় লাগে না। সিকান্দার নত স্বরে বলল, ” আচ্ছা সরি। রিয়েলি রিয়েলি সরি। এমন ভুল আর কখনো হবে না। আপনি আমাকে যতই সেজেগুজে মোহাচ্ছন্ন করতে চান না কেন। আমি মোহাচ্ছন্ন হব না। দিন দুনিয়া ভুলবো না। কান মস্তিষ্ক সজাগ রাখবো। খুশি? ”
মুনতাহা দু দিকে মাথা নেড়ে জানালো সে খুশি না। সিকান্দার আবার বলল, ” তাহলে আমার করণীয় কী ম্যাডাম? আপনি যা বলবেন আমি তাই করবো। ”
মুনতাহা সিকান্দারের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটিয়ে বলল, ” আমি সাজলে মোহাচ্ছন্ন হবেন আবার নিজের কাজ ঠিক মতোও করবেন। দুটোকে ব্যালেন্স রাখবেন। ”
” ওকে ম্যাডাম। আরো একটু প্রশংসা করি? ”
” করুন। স্বামীর মুখে প্রশংসা শুনতে বেশ ভালোই লাগে। ”
” আজ আপনি সাজবেন বলে দেখুন চাঁদ নিজেই মেঘের নিচে লুকিয়ে পড়েছে। একই সময় পৃথিবীতে কি দুটো চাঁদ থাকতে পারে? পারে না। ”
মুনতাহা জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলো সত্যি চাঁদ দেখা যাচ্ছে না। সে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেলো। আর বলল, ” সবচেয়ে বেকার জোক্স ছিল এটা। ”
সিকান্দার মাথা চুলকে বলল, ” হতে পারে। আমি কথা হারিয়ে ফেলছি। সব উপমা, বর্ণনা,শব্দ ভুলে গেছি আপনাকে দেখে। মনে পড়ছে না এখন আর। ”
মুনতাহা খাবারের উপর থেকে ঢাকনা সরিয়ে বলল, ” বৃষ্টি আসার আগে হাত মুখ ধুয়ে আসুন। আজ বিরিয়ানি রেঁধেছি। নিজের হাতে। এ নিয়ে কিন্তু বকবেন না। ” কথাটা বলেই সে দু হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ” দেখুন তেল ছিটে আসে নি। আঙুল কাটে নি। কোনো ব্যথা বা আঁচড় লাগে নি। হাত একদম পারফেক্ট আছে। ”
সিকান্দার হেঁসে ফেললো। দু হাতে আবার চুমু খেয়ে উঠে গিয়ে কলপাড় থেকে হাত মুখ ধুয়ে আসলো। দু প্লেটে বিরিয়ানি বাড়া দেখে সিকান্দার বলল, ” আপনার সুন্দর হাতটা নষ্ট করতে হবে না মন। আমি খাইয়ে দিচ্ছি। আমার কাছে এসে বসুন তো। ”
মুনতাহারও ইচ্ছে করছিল না চুড়ি পড়া হাত টা দিয়ে বিরিয়ানি খেয়ে হাতে তেল ভরাতে। সে চুপচাপ সিকান্দারের পাশে গিয়ে বসলো। সিকান্দার বিসমিল্লাহ বলে প্রথম লোকমা টা মুনতাহার মুখে দিলো। সাইডে ছোট বাটিতে মিনিকে দেওয়া হয়েছে। বেশরম টা না খেয়ে তাকিয়ে আছে। ভাবছে সিকান্দার ও হয়তো তাকে খাইয়ে দিবে। ইশ রে! কি সখ বিড়ালের। মুনতাহা মুখ ভেঙালো। আকস্মিক ভাবে বিড়াল টা খাবার ছেড়ে উঠে চলে গেল। মুনতাহা চমকালো। হায়রে এই বিড়াল কি বুঝে গেলো নাকি মুনতাহার মনের ভাষা! সে ডাকলো মিনি বলে। মিনি আসলো না। সিকান্দার কে বলল ডাকতে। সিকান্দার দু তিনবার ডাকার পর লেজ নাড়াতে নাড়াতে সিকান্দারের গা ঘেঁষে বসে খেতে লাগলো।
খাওয়াদাওয়া মাঝেই বৃষ্টি নামলো। তারা খাওয়া শেষ করে এঁটো থালাবাসন টেবিলের এক পাশে জড়ো করে রেখে দিলো। তারপর বারান্দায় এসে বসলো। বিড়ালটা খেয়েদেয়ে ঘুম দিয়েছে। টিনের চালে বৃষ্টি পড়ার কারনে কি সুন্দর একটা শব্দ হচ্ছে! মুনতাহা হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির পানি ছুঁতে লাগলো। মুখে হাসি। পানির ঝাপ্টায় নিচের দিকে শাড়ি ভিজে যাচ্ছে। আর সেই বৃষ্টির সাথে গেয়ে উঠছে..
“আস সুব হু বাদা মিন ত্ব’ল আ তিহি…
ওয়াল লাইলু দাযামিও ওয়াফরাতিহি…
হে নূরে সাহার চেহেরে সে তেরে…
অর শাব কি রওনাক জুলফ হে…
আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহ…
আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহ…”
মুনতাহার গলার সুর দিনকে দিন অসম্ভব রকমের সুন্দর হচ্ছে। আগে যে মেয়ে কুরআন পড়তে গেলে আঁটকে যেত। সে মেয়ে এখন শুদ্ধ ভাবে না দেখেই কুরআন তেলওয়াত করতে পারে। অবশ্য সেসব সিকান্দারের জন্যই। বেশ কয়েকটা নাশিদ ও শিখেছে সে ফোন থেকে। মাঝেমধ্যে এভাবে সিকান্দার কে গেয়ে শুনায় তো কখনো একাকী কাজ করার সময় গেয়ে উঠে।
সিকান্দার মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল এতক্ষন। একসময় সে সেই ঝুম বৃষ্টির মাঝেই বলে উঠলো,
” মুনতাহা..!!”
মুনতাহা নাশিদ গাওয়া থামিয়ে দিয়ে ঘাড় ফিরিয়ে তাকিয়ে বলল, ” হু। ”
” দিনশেষে কী মনে হয় এখন? আমাকে বিয়ে করে কী আপনি ঠকে গেলেন নাকি জিতে গেলেন? ”
মুনতাহা মৃদু হাঁসলো। চোখেমুখে তখন অদ্ভুত এক তৃপ্তি নিয়ে বলল,
” কি অদ্ভুত কথা আপনার। আপনি কী জানেন না উত্তর? ”
” না জানি না। বিয়েই তো করতে চান নি শুরুতে আমাকে। ”
” হাহাহা! তাহলে শুনুন ডিয়ার হাসবেন্ড। জিতেছি। ভীষণভাবে জিতেছি। এতটাই জিতেছি যে, আফসোস করার মতো কোনো সুযোগই আপনি আমাকে দেননি। বরং যত দিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছে আপনাকে বিয়ে করে আমি আসলে কতটা ভাগ্যবতী। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় এচিভমেন্ট হলো একজন সৎ জীবনসঙ্গী পাওয়া। আমি তা পেয়েছি। হাসবেন্ড হিসেবে আপনার হাত ধরাটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সিদ্ধান্ত। যে হাত আদর,ভরসা আগলে রাখা অনুভব করায় আমাকে। তার জন্য আপনার চাচি ময়না বেগমকে আর আপনার চাচা সালমান মির্জাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো তাদের কাছে এই সিদ্ধান্ত টা নিয়ে। আমার জন্য বেস্ট একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা। ”
সিকান্দার কিছুটা মুখ গম্ভীর রেখেই বলল, ” প্রায় মানুষই বলে বিয়ের পর মেয়েরা সুন্দর ভাবে বাঁচতে পারে না। আপনার কি মতামত এটা নিয়ে? ”
” তারা ভুল বলে সিকান্দার শাহ্। তারা হয়তো আমার কথা,আমার স্বামী সিকান্দার শাহ্ এর কথা জানে না। আমি আমার স্বামীকে দেখেছি। আমার মুখে সামান্য হাসি না দেখলেই পাগল হয়ে যায়। আমার সুন্দর জীবনের চিন্তায় তার কত-শত ত্যাগ কত পরিশ্রম। আলহামদুলিল্লাহ আমি ভাগ্যবতী নারী একজন। দুনিয়ার বুকে যেই নারীর স্বামী ভালো হয়,সেই নারী দুনিয়ার বুকে এক টুকরো জান্নাতের সুখ পায়। আমি পাচ্ছি। ”
” আপনার স্বামী ভালো? ”
” শুধু ভালো? বেস্ট। ওয়ার্ল্ডের বেস্ট হাসবেন্ড আমার সে। ”
সিকান্দার হেঁসে ফেলায় মুনতাহা টিটকারি মেরে বলল, ” আমার থেকে তো খুব করে নিজের প্রশংসা কুড়িয়ে নিচ্ছেন। তারপর আপনিও বলুন, মুনতাহা মুনকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পেয়ে, কেমন বোধ করছেন?”
সিকান্দার বসা থেকে উঠে এগিয়ে আসলো। কোমর টেনে মুনতাহাকে নিজের কাছে এনে কানের লতিতে চুমু খেয়ে বলল,
” খোদা আমাকে এক টুকরো জান্নাত পৃথিবীতেই দান করেছেন মুনতাহা রূপে। তাকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পেয়ে আইম ব্লেসড। এর চেয়ে সৌভাগ্যবান আর কী-ই বা হতে পারে আমার জন্য ! আমি প্রতিদিন আলহামদুলিল্লাহ বললেও কম হবে। ”
তারপর সোজা পাঁজা কোলে নিলো মুনতাহাকে। নাকের সাথে নাক ঘষে বলল, ” রাত অনেক হয়েছে। ঘুমোবেন চলুন।”
তারা ঘুমোতে চলে গেল।
তারপরে দুদিন টানা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হলো। তার ভিতরে একদিন বিনোদিনী আসলো। এসে সেদিন মুনতাহা কে জিজ্ঞেস করলো,
“ ইসলাম যদি পৃথিবীর সর্বপ্রথম ধর্ম হয়, তাহলে আজ পৃথিবীতে এত ধর্ম কীভাবে এলো? আদম (আ.) যদি প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী হন, তাহলে হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, ইহুদিধর্ম, খ্রিস্টধর্মসহ এত এত ধর্মের সৃষ্টি হলো কীভাবে?”
বিনোদিনী যখন তাদের বাসায় আসে তখন কেন যেন এসে দেখে সিকান্দার বাড়িতে নেই। অর্থাৎ সে আসার আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সিকান্দার। আর বাড়িতে ফিরে যখন বিনোদিনী চলে যায় তার পরই। এটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত বোঝা যায় না। তবে বিনোদিনীর খুব আগ্রহ জাগে আজকাল ইসলাম নিয়ে। ভীষণ ইন্টারেস্টিং লাগে। যত পড়ছে ততই তার প্রশ্ন জাগছে। সেই প্রশ্ন গুলোরই উত্তর জানতে আসে। মুনাতাহা হাতের কাজ চলমান রেখেই স্মিত হেসে বলল,
” এর উত্তর বুঝতে হলে ইসলামের দৃষ্টিতে ইসলাম শব্দটির অর্থ আগে বুঝতে হবে। ইসলাম অর্থ হলো,আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা। অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলা। এই মূল শিক্ষা নিয়েই পৃথিবীর প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী আদম (আ.) থেকে শুরু করে পরবর্তী সব নবী-রাসূল এসেছেন।
আমি আপনাকে নিয়ে যাব একেবারে শুরুতে যখন পৃথিবীতে কোনো মানুষ ছিল না, কোনো জাতি ছিল না, কোনো মন্দির, গির্জা, মসজিদ কিছুই ছিল না। ছিলেন শুধু আল্লাহ, আর তাঁর সৃষ্টি। আপনি আদম আঃ এর বর্ননা পড়েছেন? হাওয়া আঃ ইবলিশ উনাদের ঘটনা গুলো? ”
” হ্যাঁ পড়েছি। আল্লাহ ফেরেশতাদের একদিন বললেন,
“আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।”
সূরা আল-বাকারা, ২:৩০। ফেরেশতারা প্রশ্ন করেছিল, এমন সৃষ্টি কি পৃথিবীতে ফিতনা করবে এবং রক্তপাত করবে? আল্লাহ তখন বললেন, “নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।” সূরা আল-বাকারা ২:৩০। অর্থাৎ আল্লাহ মানুষের মধ্যে এমন কিছু সম্ভাবনা জানতেন, যা ফেরেশতারা জানতেন না। তারপর আল্লাহ আদম (আ.)-কে বিশেষ মর্যাদা দিলেন। ফেরেশতাদের আদেশ দেওয়া হলো আদম (আ.)-এর সামনে সিজদা করতে। কিন্তু ইবলিশ সেজদা করতে অস্বীকৃতি জানায়। কারন সে আগুনের তৈরি ছিল আর আদম আঃ মাটির তৈরি ছিল। তার ভেতর একধরনের অহংকার জন্ম নিয়েছিল এটা নিয়ে। ”
” এগজ্যাক্টলী। তবে সে কোনো ফেরেশতা ছিল না,কুরআন স্পষ্ট করে বলেছে, “সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত।” সূরা আল-কাহফ, ১৮:৫০। সে দীর্ঘদিন আল্লাহর ইবাদত করেছিল এবং ফেরেশতাদের সঙ্গে অবস্থান করত। তার অপরাধ ছিল শুধু সিজদা না করা নয়। তার ভেতরে জন্ম নিয়েছিল অহংকার। কুরআনের অন্য জায়গায় আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারীদের পছন্দ করেন না।” সূরা আন-নাহল, ১৬:২৩। ইবলিশ তখন ক্ষমা চেয়ে ফিরে গেল না। বরং সে আরও ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিল। সে বলল, তাকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া হোক। আল্লাহ তাকে অবকাশ দিলেন। কেন? কারণ পৃথিবী একটি পরীক্ষা। আল্লাহ জানতেন ইবলিস কী করবে। কিন্তু মানুষের সামনে সত্য ও মিথ্যার পথ, ভালো ও মন্দের পথ, আনুগত্য ও অবাধ্যতার পথ স্পষ্ট হবে। ইবলিস তখন বলল,
“আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে থাকব। তারপর আমি তাদের কাছে তাদের সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে আসব এবং আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।” সূরা আল-আরাফ, ৭:১৬–১৭
আল্লাহ তায়ালা ইবলিশকেও ফেরান নি। তাহলে ভাবুন আমরা তো তার বান্দা। আমরা কিছু মন থেকে চাইলে কি তিনি আমাদের ফেরাবেন? কল্যাণকর হলে অবশ্যই দিবেন।
তারপর আদম আঃ কে জান্নাতে থাকতে দেওয়া হলো। তাঁর চারপাশে জান্নাতের অসংখ্য নিয়ামত, কিন্তু তাঁর মতো আর কেউ নেই। সে নিঃসঙ্গতা অনুভব করলো। তখন আল্লাহ আদম (আ.)-এর জন্য তাঁর সঙ্গী সৃষ্টি করলেন, হাওয়া (আ.) কে। তারপর আল্লাহ তাঁদের জান্নাতে বসবাস করতে দিলেন। এবং বললেন, “তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং যেখানে ইচ্ছা সেখান থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে খাও,কিন্তু এই গাছটির নিকটবর্তী হয়ো না।” সূরা আল-বাকারা, ২:৩৫
খেয়াল করুন জান্নাত তাঁদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। অসংখ্য নিয়ামত তাঁদের সামনে। শুধু একটি বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা।
এটাই ছিল পরীক্ষা। আর শয়তান তখনও তার প্রতিশ্রুতি ভুলেনি। সে আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর কাছে কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করল।
সে বলল, “তোমাদের রব তোমাদের এই গাছ থেকে নিষেধ করেছেন যাতে তোমরা ফেরেশতা না হয়ে যাও অথবা চিরস্থায়ী না হয়ে যাও।” সূরা আল-আরাফ, ৭:২০
সে তাদের কাছে শপথ করেও মিথ্যা বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করল। অবশেষে তারা সেই গাছের ফল খেলেন।
“অতঃপর শয়তান তাদের উভয়কে সেখান থেকে পদস্খলিত করল…” সূরা আল-বাকারা, ২:৩৬
আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) নিজেরা নিজেদের ভুল স্বীকার করলেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন। আল্লাহ তাঁদের তওবা কবুল করলেন। তারপর তাঁদের পৃথিবীতে অবতরণ করতে হলো। আল্লাহ জানিয়ে দিলেন পৃথিবীতে তোমরা থাকবে। এও বললেন,“অতঃপর আমার পক্ষ থেকে যখন তোমাদের কাছে হেদায়েত আসবে, যে আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগ্যগ্রস্তও হবে না।” সূরা ত্ব-হা, ২০:১২৩
এখান থেকেই মানুষের আসল পরীক্ষা শুরু। আদম (আ.) ছিলেন প্রথম মানুষ এবং প্রথম নবী। তাঁর সন্তানরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ল। আদম (আ.) এর সন্তানদের মধ্যে হাবিল ও কাবিলের ঘটনা কুরআনে এসেছে। তাদের একজনের কুরবানি কবুল হয়েছিল, অন্যজনের হয়নি। ঈর্ষা ও ক্রোধের কারণে কাবিল তার ভাই হাবিলকে হত্যা করে। মানুষের মধ্যে পাপ, হিংসা ও অবাধ্যতার সূচনা কীভাবে ঘটতে পারে তার একটি প্রাথমিক উদাহরণ ছিলো তারা।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম এল। মানুষ বাড়ল। সমাজ তৈরি হলো। সভ্যতা তৈরি হলো। তারপর মানুষের মধ্যে মতভেদ শুরু হলো। কেউ সত্য ভুলে গেল। কেউ নিজের ইচ্ছাকে সত্যের ওপরে বসাল। কেউ আল্লাহর সঙ্গে অন্যকে শরিক করল। কেউ নিজের হাতে বানানো জিনিসকে উপাস্য বানাল। আর তখন আল্লাহ মানুষকে ছেড়ে দিলেন না। বরং নবী রাসূল পাঠালেন।
শয়তানের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। আর সে মানুষকে একদিনে শিরকের মধ্যে ফেলেনি, ধীরে ধীরে করেছে। আল্লাহ তাকে অবকাশ দিলেন, কিন্তু তাকে মানুষের ওপর স্বাধীন কর্তৃত্ব দেননি। বরং আল্লাহ স্পষ্ট করে দিলেন, “নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো ক্ষমতা থাকবে না, তবে যারা পথভ্রষ্ট হয়ে তোমাকে অনুসরণ করে তারা ছাড়া।” সূরা আল-হিজর, ১৫:৪২
প্রথম শিরক বা মূর্তিপূজা কীভাবে শুরু হলো ? এই প্রশ্ন টা আপনার মনে আসছে। এখানেই আসে নূহ (আ.)-এর যুগের ঘটনা। নূহ (আ.)-এর আগে কী ঘটেছিল জানেন? মানুষের মধ্যে কিছু অত্যন্ত নেককার মানুষ ছিলেন। তাঁরা আল্লাহর অনুগত ছিলেন এবং মানুষ তাঁদের ভালোবাসত ও সম্মান করত। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, সেই নেককার ব্যক্তিদের নাম ছিল, ওয়াদ্দ, সুয়া, ইয়াগূস, ইয়াউক ও নাসর। তাঁরা মারা যাওয়ার পর শয়তান মানুষের মনে একটি চিন্তা ঢুকিয়ে দিল,
“তাঁদের স্মরণে যদি কিছু প্রতিকৃতি বা মূর্তি বানানো হয়, তাহলে তাঁদের কথা মনে থাকবে এবং তাঁদের মতো ভালো হওয়া যাবে।”
প্রথমে উদ্দেশ্য ছিল উপাসনা নয়, স্মরণ। মানুষ তাঁদের স্মরণে প্রতিকৃতি বানাল। এরপর সময় চলে গেল। যারা সেই মূর্তি বানিয়েছিল তারা মারা গেল। তাদের পরের প্রজন্ম এলো। পরবর্তী প্রজন্ম আর জানল না, এই মূর্তিগুলো কেন বানানো হয়েছিল। তখন শয়তান তাদের বোঝাতে লাগল,
“তোমাদের পূর্বপুরুষেরা এসবেরই ইবাদত করত।”
এভাবেই ধীরে ধীরে সম্মান, প্রতিকৃতি, অতিরঞ্জিত মর্যাদা, মূর্তিপূজা এই পরিবর্তন ঘটে। মানুষ হঠাৎ করে একদিন সকালে উঠে নতুন ধর্ম আবিষ্কার করেনি। বরং তাওহিদ থেকে ধীরে ধীরে বিচ্যুতি ঘটেছে।
যখন মানুষ শিরকে জড়িয়ে গেল, তখন আল্লাহ তাদের সতর্ক করার জন্য নূহ (আ.)-কে পাঠালেন।
নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে দীর্ঘ সময় ধরে দাওয়াত দিলেন। কুরআন বলে তিনি তাঁর জাতির মধ্যে এক হাজার বছর থেকে পঞ্চাশ বছর কম অবস্থান করেছিলেন অর্থাৎ প্রায় ৯৫০ বছর দাওয়াত দিয়েছেন। ভাবুন, ৯৫০ বছর!
তিনি বললেন, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো। তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তাঁর কথা মানল না। তারা তাদের পূর্বপুরুষের ধর্ম আঁকড়ে ধরে রইল।
তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে, বিদ্রূপ করেছে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশে তিনি নৌকা নির্মাণ করলেন। মানুষ তাঁকে পাগল বলে উপহাস করল। তারপর এল সেই মহাপ্লাবন। নূহ (আ.)-এর নিজের সন্তানও ঈমান আনেনি। তিনি তাকে ডাকলেন, কিন্তু সে বলল, পাহাড়ে উঠে নিজেকে বাঁচাবে। পানি তাকে গ্রাস করল। একজন বাবা নিজের সন্তানকে চোখের সামনে ডুবতে দেখলেন, তারপরও আল্লাহর দেওয়া হুকুম থেকে তিনি নড়লেন না। ইসলামী তাফসিরের প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী নূহ (আ.)-এর জাতির মধ্যেই প্রথম শিরক/মূর্তিপূজার ব্যাপক প্রকাশ ঘটে। আই থিংক বোঝাতে পেরেছি। আর একজন নবী বা রাসুল মারা যাওয়ার পর বা তাদের যুগ শেষ হওয়ার পর মানুষ ধীরে ধীরে আল্লাহর সঠিক পথ থেকে সরে যেত এবং পথভ্রষ্ট হতো। শয়তানের প্ররোচনা এবং দুনিয়াবি লোভে পড়ে তারা সত্য ধর্ম থেকে দূরে চলে যেত। আর তখনই আল্লাহ তায়লা নবী রাসূল পাঠাতেন। নূহ আঃ মারা যাওয়ার পর মানুষ আবার পথভ্রষ্ট হয়েছে। মানুষ বিভিন্ন জাতি ও ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও সামাজিক পরিস্থিতি ভিন্ন হয়েছে। আল্লাহ বিভিন্ন জাতির কাছে বিভিন্ন সময়ে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। কুরআনে বলা হয়েছে,“প্রত্যেক জাতির জন্য একজন রাসূল রয়েছে।” সূরা ইউনুস, ১০:৪৭
অর্থাৎ কোনো জাতিই আল্লাহর হেদায়াত থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল না। কোনো কোনো জাতির কাছে আমরা যাঁদের নাম জানি, তাঁদের পাঠানো হয়েছে। আবার বহু নবীর নাম আমাদের জানানো হয়নি। কুরআন স্পষ্ট বলছে “আর অবশ্যই আমি তোমার পূর্বে অনেক রাসূল পাঠিয়েছি। তাদের মধ্যে কারও কাহিনি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি এবং কারও কাহিনি তোমার কাছে বর্ণনা করিনি। সূরা গাফির, ৪০:৭৮
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে মোট নবীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলেনি। একটি প্রসিদ্ধ বর্ণনায় ১,২৪,০০০ নবী এবং ৩১৩/৩১৫ জন রাসূলের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এই বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে হাদিসবিশারদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই নিশ্চিতভাবে বলা উচিত হবে না অতগুলো পাঠিয়েছিল। আল্লাহ অসংখ্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন।তাঁদের সঠিক মোট সংখ্যা কেবল আল্লাহই ভালো জানেন।কিন্তু কুরআনে ২৫ জন নবী-রাসূলের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের নাম উল্লেখ নেই,হতে পারে তাদের জাতি থেকে কোনো ধর্মের সূচনা হতে পারে। নিশ্চিতভাবে এটা নিয়ে বলতে পারছি না যেহেতু কুরআন আমাদের জানায় নি।
এবার আসি ইহুদি ধর্মের বিষয়ে। তারা নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে, অন্যান্য জাতিকে হীন বলে গণ্য করে । অথচ তাদের মধ্যে জগতের সকল নিকৃষ্ট ও জঘন্য কার্যকলাপ বিদ্যমান । তারা সেই আদিকাল থেকেই পৃথিবীর বুকে নানান অশান্তি, যুদ্ধ বিগ্রহ বাধঁতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ইহুদী এমন একটি জাতি যাদের নামের সাথে জড়িয়ে আছে বহু সংখ্যক নবী ও রাসুল হত্যার ইতিহাস। তারা হযরত ইয়াহিয়া (আ.) কে হত্যা করেছিল, হযরত যাকারিয়া (আ.) কে করাত দিয়ে চিরে দুই টিকরা করে ফেলেছিল, ইউসুফ (আ.) কেও হত্যা করতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি।
হজরত ইসহাক (আ.)-এর পুত্র হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর বংশধররা বনি ইসরাইল নামে পরিচিত। বনি ইসরাইল হচ্ছে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশধরদের একটি শাখা। এ শাখারই একটি অংশ পরবর্তীকালে নিজেদের ইহুদি নামে পরিচয় দিতে থাকে। হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর এক পুত্রের নাম ছিল ইয়াহুদা। সেই নামের অংশবিশেষ থেকে ইহুদি নামকরণ করা হয়েছিল।
কোনো কোনো নবী এসে আল্লাহর নির্দেশে ইহুদিদের এ ধরনের কার্যকলাপের শোচনীয় পরিণাম সম্পর্কে সতর্কবাণী শোনালেও তারা তাঁর কথা না মেনে উল্টো নবীর সঙ্গে বিদ্রোহ করে।হজরত ইয়াহইয়া (আ.) ইহুদিদের অশ্লীল কার্যকলাপের বিরোধিতা করলে তারা তাঁকে দ্বিখণ্ডিত করে কতল করে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, বনি ইসরাইল ৩০০ আল্লাহর নবীকে হত্যা করেছে। (তাফসিরে ইবনে আবি হাতেম : ১/১২৬)।
মূসা (আ.) ছিলেন আল্লাহর মহান নবী ও রাসূল। আল্লাহ তাঁকে বনী ইসরাইলের কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর উপর আসমানী কিতাব তাওরাত নাজিল করেন। মূসা (আ.) তাঁর জাতি বনী ইসরাইলকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাকতেন। কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: “আর আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং সেটিকে বনী ইসরাইলের জন্য পথনির্দেশ বানিয়েছিলাম যাতে তারা আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক না মানে।” সূরা আল-ইসরা, ১৭:২
তখন বনী ইসরাইল ছিল মূসা (আ.)-এর অনুসারী জাতি। পরবর্তীকালে তাদের মধ্য থেকেই ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পরিচয় গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে মানুষের মধ্যে মতভেদ, অবাধ্যতা এবং আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে গাফিলতি দেখা দিতে থাকে। কুরআন বনী ইসরাইলের মধ্যকার কিছু মানুষের এমন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেছে। আল্লাহ বলেন, তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদেরকে লা‘নাত করেছি আর তাদের হৃদয়কে আরো শক্ত করে দিয়েছি, তারা শব্দগুলোকে স্বস্থান থেকে বিচ্যুত করেছিল এবং তাদেরকে দেয়া উপদেশের বড় অংশ তারা ভুলে গিয়েছিল। (সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:১৩)।
আরও কঠোরভাবে কুরআনে এসেছে,“তাদের একদল আল্লাহর বাণী শুনত, তারপর তা বুঝে নেওয়ার পর জেনেশুনে বিকৃত করত।” সূরা আল-বাকারা, ২:৭৫
কুরআন আরও এমন লোকদের কথা বলে যারা নিজেদের হাতে লিখে সেটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে বলে দাবি করত। এটিও পূর্ববর্তী কিতাবের ব্যাপারে মানুষের হস্তক্ষেপ ও বিকৃতির একটি গুরুতর দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি ইসলাম সব ইহুদিকে একইভাবে অভিযুক্ত করে না। কুরআন যখন বিকৃতির কথা বলে, তখন নির্দিষ্ট কিছু লোক ও তাদের কর্মকাণ্ডের কথা বলে। বরং কুরআন নিজেই ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেছে,“তাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া তাদেরকে সর্বদা বিশ্বাসঘাতকতা করতে দেখতে পাবে। কাজেই তাদেরকে ক্ষমা কর, মার্জনা কর, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।। (সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:১৩)
দিন যত যেতে থকে ততই তারা তাওরাত কে বিকৃতি করে নিজেদের মতো করে অনেক কিছু যোগ করেছে,এবং করে যাচ্ছে। মূসা (আ.)-এর পরও আল্লাহ বনী ইসরাইলের কাছে একের পর এক নবী পাঠিয়েছেন। তাদের মধ্যেই ছিলেন ঈসা (আ.)। তাঁর ওপর আসমানী কিতাব ইনজিল নাজিল করা হয়।
তাকে মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় ধর্মেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে মানা হয়। তবে তাঁকে নিয়ে দুই ধর্মের বিশ্বাস সম্পূর্ণ আলাদা। খ্রিস্টান রা ইসা আঃ কে ইশ্বরের পুত্র বলতেন। অর্থাৎ আল্লাহর পুত্র। নাউজুবিল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ।
ঈসা (আ.)-এর জন্ম ছিল অত্যন্ত অলৌকিক। তাঁর কোনো মানব-পিতা ছিল না। মারইয়াম (আ.) এর গর্ভে আল্লাহর কুদরতে তাঁর জন্ম হয়। এই বিষয়টি মানুষকে বিস্মিত করেছিল। কিন্তু কুরআন স্পষ্ট করে দিয়েছে পিতা ছাড়া জন্ম নেওয়া মানেই আল্লাহর সন্তান হওয়া নয়। আল্লাহ বলেছেন,“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো। তিনি তাঁকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তাঁকে বলেছেন, ‘হও’, ফলে সে হয়ে গেছে। সূরা আলে ইমরান, ৩:৫৯
এখানে আল্লাহ অত্যন্ত শক্তিশালী একটি যুক্তি দিয়েছেন। যদি পিতা ছাড়া জন্ম নেওয়ার কারণে ঈসা (আ.) আল্লাহর সন্তান হন, তাহলে আদম (আ.)-এর ব্যাপারে কী বলা হবে? আদম (আ.)-এর তো পিতাও ছিল না, মাতাও ছিল না। অথচ তাঁকে এক আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন।
ঈসা (আ.)-এর জীবদ্দশায় তাঁর অনুসারীরা তাঁকে আল্লাহর প্রেরিত মসীহ ও নবী হিসেবে অনুসরণ করেছিল। কিন্তু তাঁর পর তাঁর অনুসারীদের মধ্যে ঈসা (আ.)-এর পরিচয় ও মর্যাদা নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ গড়ে উঠতে থাকে। সময়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে এমন ধর্মতাত্ত্বিক ধারণা তৈরি হয় যে তিনি শুধু আল্লাহর নবী নন, বরং ঈশ্বরীয় সত্তার সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত। পরবর্তীকালে তারা তার ইনজিল কেও বিকৃত করেন। তারা নিজেদের কথা সেখানে লিখেন। নিজেদের চিন্তা ভাবনা কে ধারণ করেন। খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বে ঈসা (আ.)-কে Son of God বা ঈশ্বরের পুত্র বলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাসে পরিণত হয়। পরে খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বে তাঁর ঈশ্বরত্ব এবং পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মাকে নিয়ে Trinity বা ত্রিত্ববাদ গড়ে ওঠে।
ইসলাম এই বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে। আর ঈসা (আ.) ও তাঁর মা মারইয়াম (আ.) উভয়েই মানুষের মতো খাদ্যের প্রয়োজন অনুভব করতেন। ইসলামি যুক্তিতে যে সত্তা খাদ্যের মুখাপেক্ষী, তিনি আল্লাহ হতে পারেন না।
এরপর আল্লাহ তাআলা মানবজাতির জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল হিসেবে মুহাম্মদ ﷺ-কে প্রেরণ করলেন। তিনি শুধু কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের জন্য প্রেরিত হননি বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর পবিত্র কুরআন নাজিল করলেন যা হলো সর্বশেষ আসমানি কিতাব এবং কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য হিদায়াতের উৎস। এরপর আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ ﷺ-এর মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দেন। আল্লাহ বলেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:৩
অর্থাৎ মুহাম্মদ ﷺ-এর আগমনের মাধ্যমে নবুয়তের ধারাবাহিকতা পূর্ণতা লাভ করে এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহর মনোনীত দ্বীন ইসলাম পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ তাঁকে সর্বশেষ নবী হিসেবেও ঘোষণা করেছেন, “মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী।” সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৪০
তাই তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না এবং নতুন কোনো আসমানি কিতাবও নাজিল হবে না। আর কুরআন?
পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোর ব্যাপারে মানুষের হস্তক্ষেপ ও বিকৃতির কথা কুরআন উল্লেখ করেছে। কিন্তু কুরআনের ক্ষেত্রে আল্লাহ নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব ঘোষণা করেছেন, “নিশ্চয়ই আমিই কুরআন নাজিল করেছি এবং অবশ্যই আমিই এর সংরক্ষক।” সূরা আল-হিজর, ১৫:৯
এটাই কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। আল্লাহর এই প্রতিশ্রুতির কারণে মুসলিমরা বিশ্বাস করে কুরআনের মূল ওহি কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে,কোনো মানুষ বা কোনো শক্তি আল্লাহর কিতাবকে বিলীন বা পরিবর্তন করে দিতে পারবে না। আজ পৃথিবীর যেখানেই কুরআন থাকুক আরব, বাংলা, ইংরেজি কিংবা অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ হোক,মূল আরবি কুরআন একই। কোটি কোটি মুসলিমের অন্তরে কুরআন মুখস্থ রয়েছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা একইভাবে সংরক্ষিত হয়ে এসেছে। আর আমরা সেই রাসূল ﷺ এর উম্মত।
আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে আমাদের জানায়নি যে পৃথিবীর প্রত্যেক বর্তমান ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন বা প্রত্যেক ধর্ম কীভাবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু ঐ যে বললাম সূত্রপাত টা কিভাবে হয়েছিল।
হ্যাঁ এখন আপনি বলতে পারেন আমি তো হিন্দু পরিবারে জন্মেছি তাহলে আমার দোষ কোথায়? আমি তো হিন্দু হয়ে জন্মানোর সিদ্ধান্ত নিইনি। আমার বাবা-মা আমাকে হিন্দু পরিবারে জন্ম দিয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁরা আমাকে হিন্দু ধর্মের কথা শিখিয়েছেন। আমার চারপাশের মানুষ, আত্মীয়স্বজন, সমাজ সবাই আমাকে সেই ধর্মের মধ্যেই বড় করেছে। তাহলে আমি যদি হিন্দু পরিবারে জন্মানোর জন্য দায়ী না হই, আল্লাহ কেন আমাকে বিচার করবেন? একজন মুসলিম শিশু জন্মের পর থেকেই আল্লাহর কথা শোনে, কুরআন শেখে, নামাজ শেখে। তার বাবা-মা তাকে বলে আল্লাহ এক, মুহাম্মদ ﷺ তাঁর রাসূল। কিন্তু আমি ছোটবেলা থেকে আমার পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে অন্য ধর্মের শিক্ষা পেয়েছি। তাহলে মুসলিম শিশুটি তো শুরু থেকেই সুবিধা পেল, আর আমি পিছিয়ে গেলাম। এটা কি অন্যায় নয়? এখন আমি যদি ইসলাম গ্রহণ করতে চাই, তাহলে আমার পরিবার আমাকে মেনে নাও নিতে পারে। বাবা-মা কষ্ট পেতে পারেন, আত্মীয়রা সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারেন, সমাজে অপমানিত হতে পারি। কিন্তু একজন মুসলিমের তো ধর্ম পরিবর্তন করার এই ঝুঁকি নেই। তাহলে আমার পরীক্ষা তো অনেক কঠিন! আল্লাহ যদি আগে থেকেই জানেন আমি কোন পরিবারে জন্মাব, তাহলে আমাকে এমন পরিবারে জন্ম দিলেন কেন? তিনি তো চাইলে আমাকে মুসলিম পরিবারেও জন্ম দিতে পারতেন!
এসব প্রশ্নের উত্তর ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনও যে পরিবারে জন্মেছেন, সেটা আপনার অপরাধ নয়। আপনি কোথায় জন্মাবেন, আপনার বাবা-মা কারা হবে, কোন দেশে জন্মাবেন এসব আল্লাহর ইচ্ছা।
তাই শুধু জন্মপরিচয়ের জন্য আল্লাহ কাউকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেবেন এটা ইসলামের ন্যায়বিচারের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এখন বলতে পারেন ঠিক আছে, আমার জন্মের জন্য আমাকে দায়ী করা হবে না। কিন্তু আল্লাহ তো বলেছেন তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য ধর্ম ইসলাম। তাহলে আমাকে কি ইসলাম গ্রহণ করতেই হবে? ইসলামের উত্তর হ্যাঁ, সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর মানুষের দায়িত্ব হলো সত্যকে গ্রহণ করা। ইসলামের দাবি স্পষ্ট আল্লাহ এক, তিনি একমাত্র উপাস্য, এবং মুহাম্মদ ﷺ তাঁর সর্বশেষ রাসূল। আপনি বলতে পারেন, আমি যদি সত্যিই ইসলামকে সত্য মনে করি, তাহলে আমার বাবা-মায়ের কী হবে? তারা আমাকে ত্যাগ করতে পারে। আমার পরিবার ভেঙে যেতে পারে। আমি সমাজ হারাতে পারি। তাহলে আল্লাহ কেন আমাকে এমন পরীক্ষায় ফেললেন অন্য ধর্মে জন্ম দিয়ে?
সত্যের পথে আসাটা সব সময় সহজ হবে এমন প্রতিশ্রুতি আল্লাহ দেননি। বরং পৃথিবীটাই পরীক্ষা। কারও পরীক্ষা হয় অর্থ দিয়ে, কারও পরিবার দিয়ে, কারও সম্মান দিয়ে, কারও ভয় দিয়ে। তাই কোনো মানুষের পরীক্ষা কঠিন হওয়া মানেই আল্লাহ তার প্রতি জুলুম করেছেন এটা নয়। বরং যার পরীক্ষা যত কঠিন, আল্লাহ তার পরিস্থিতি তত ভালো জানেন। এখন বলবেন, তাহলে মুসলিম পরিবারে জন্মানো মানুষ কি সুবিধা পেল না? অবশ্যই সে একটি সুযোগ পেয়েছে। একজন মুসলিম পরিবারে জন্মানো শিশু ছোটবেলা থেকেই তাওহীদ, কুরআন, নামাজ ও রাসূল ﷺ সম্পর্কে জানতে পারে। একজন হিন্দু পরিবারে জন্মানো মানুষের কাছে এসব পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে।
কিন্তু এই সুবিধা মানেই তার জন্য বিনা পরীক্ষার জীবন নয়। মুসলিম পরিবার মানে বিনা পরীক্ষায় জান্নাত অমুসলিম পরিবার মানে জন্ম থেকেই জাহান্নামের টিকিট। বিষয়টা এমন নয়। মুসলিম পরিবারে জন্ম নিলে ইসলাম জানার একটি বড় সুযোগ সেই অনুযায়ী বড় দায়িত্বও থাকে।
একজন মুসলিমের কাছে প্রশ্ন থাকবে, তুমি যে সত্যের কথা ছোটবেলা থেকেই শুনলে, সেটা কি সত্যিই মানলে? সে যদি শুধু মুসলিম পরিবারে জন্মেছে বলে নিজেকে নিরাপদ মনে করে, কিন্তু আল্লাহর অবাধ্যতায় জীবন কাটায় এবং এরা ভাবে তার জন্মপরিচয় তাকে বাঁচাবে, তাহলে ভুল। ইসলামে বাবা মুসলিম, মা মুসলিম এটা ঈমানের বিকল্প নয়।
আর অমুসলিম পরিবারে জন্ম নিলে, ইসলাম জানার পথে অতিরিক্ত বাধা থাকতে পারে আল্লাহ সেই ব্যক্তির বাস্তব পরিস্থিতি ও তার কাছে সত্য কতটা পৌঁছেছিল,এবং পৌঁছানোর পর সে কী করেছিল তা বিবেচনা করবেন।
এখন বলবেন তাহলে আমার আর মুসলিমের পরীক্ষা কি সমান? না। পরীক্ষা হুবহু সমান নয়। কিন্তু আল্লাহর বিচার সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত। আর আল্লাহ বলেন,“নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না।” সূরা আন-নিসা, ৪:৪০
আমাদের মাঝেও অনেক অবাধ্য মুসলিম কে দেখবেন। তারা কি সবাই জান্নাতে যাবে কেবল মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেছে বলে? না। মানুষ তার ইমান ও কর্মফল দ্বারা জান্নাত লাভ করবে। তারজন্য অবশ্যই তাকে মুসলিম হতে হবে।
বিনোদিনী সেদিন খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলো। আসরের আজান দিতেই মুনতাহা মাথায় কাপড় দিয়ে আজানের জবাব দিলো। বিনোদিনী জিজ্ঞেস করলো,
” কী বিরবির করলে ওটা তুমি? ”
মুনতাহা জানালো আজান কানে আসলে জবাব দিতে হয়। বিনোদিনী জিজ্ঞেস করলো, জবাবে কী বলতে হয়? মুনতাহা পূনরায় আবার মুখে বলে বুঝিয়ে দিলো কোন কথার পর কোনটা বলতে হয়। বিনোদিনীর স্মৃতিশক্তি বেশ ভালো। একবার শুনেই মুখস্থ করে ফেললো। সে সেদিন মুনতাহার ওজু করা দেখলো। ওজুর দোয়া শুনলো। তারপর দূর থেকে নামাজ পড়াও দেখলো। তারপর চুপিচুপি চলেও গেল।
এরপর দুদিন সে আসে নি আর সিকান্দারের বাড়ি। এক রাতে সে এশার নামাজের পর মসজিদের সামনে এসে ইমাম সাহেব কে ডাকলেন।
সিকান্দার শাহ্ পর্ব ৪২
” ইমাম সাহেব..!!”
ইমাম সাহেব বিনোদিনীর গলার আওয়াজ শুনে বাহিরে আসতেই বিনোদিনী আশেপাশে একবার তাকিয়ে বলল,
” আমি ইসলাম গ্রহণ করতে চাই। আমাকে কালেমা পড়িয়ে দিন।”
