সুইটহার্ট পর্ব ২১
মোনালিসা মেহরোজ
মিনিট পাঁচেক পর দরজার ওপাশে কারো ভারী পদক্ষেপের আওয়াজ শোনা গেলো। পায়ের গতি খুব দ্রুত ছিলো না। একদম স্থিতিশীল ও দৃঢ় ছিলো প্রতিটি পদচারণগুলো। এরমধ্যেই পায়ের শব্দ আরো কাছে এগিয়ে এলো। একদম দরজার নিটকে। আর একসময় ঠাস করে খুলে গেলো দরজাটা। ভেতরের সকলে চমকে উঠলো। শাওন তখন বেডের কাছে হেলান দিয়ে বসে। আর শিফা বান্ধবীর পাশে, একহাতে মেহরিনের মুখের ঘোমটা’টা টেনে দিলো আগের তুলনায় আরো। কাঁদো কাঁদো গলায় ডাকলো—-
—ঠিক আছিস মেহু? লাগেনি তো তোর? এসব কি হচ্ছে বল তো বেইবি? বিয়ের আগেই এসব?
শাওন শিফার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। শিফা তাকালো না ফিরে। অভ্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পুরো ঘরে নজর বুলিয়ে ধীর পায়ে বিছানার পাশে এসে থামলো। তারা ছাড়াও আরো তিনজন মানব এখানে উপস্থিত। অভ্র তাদের চোখের ইশারা করলেই লোকগুলোও চোখের ইশারায় পরিস্থিতি শান্ত আছে বলেই জানায়। তারা অভ্রের লোক। শাওনের আশেপাশে অভ্রের আত্নীয় সেজে বসে আছে।অভ্র মূলত এই লোক’গুলোকে রেখেছে মেহরিনকে পাহারা দেওয়ার জন্য। যাতে আদ্রিয়ান কোনভাবে মেহরিনকে হাতের কাছে না পায়। এছাড়াও নিখুঁত এক ছক কষেছে যুবক। এদিকে এতোকিছু ঘটে গেলেও বাহিরে কেউ কিছু টের পায়নি। অভ্র পেতে দেয়নি। চারিদিকে শতশত গার্ড দিয়ে ভরে রেখেছে। যাতে কাক-পক্ষিও গলতে না পারে তার চোখ এড়িয়ে। সেখানে মেহরিন তো কোন ছাড়!
তখন রায়হান তালুকদার, অর্থাৎ অভ্রের বাবা নিজেই মেহরিনকে কিড্যনাপ করে বিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য ঘরে প্রবেশ করেছিলেন। তবে তার ব্যাড লাক। শাওনের সাথে তখন অভ্রের ভাড়া করা লোকগুলোর উপস্থিতির কারণে কিছু করতে পারেননি। তৎক্ষনাৎ তিনি ঘর ছেড়েছিলেন, আর উপস্থিত তিনজন অভ্রকে সেই খবর দিলে অভ্র সন্তুষ্ট হয়। সে জানতো এরকম কিছু হবে। তাই তো আগে থেকেই সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলো।
মেহরিনের সেন্স ফিরেছে। বিছানায় হেলান দিয়ে মাথা নুইয়ে চুপচাপ বসে আছে রমণী। অভ্র বাঁকা হাসে। আরো দু’পা এগিয়ে তাকায় মেহরিনের পানে। তবে তাকাতেই ভ্রু কুঁচকে যায় তার।
—ওর মুখে ঘোমটা কেনো? ওটা সরাও, দেখতে দাও আমায়।
অভ্রের কর্কশ গলায় শিফা মাথা নাড়িয়ে না করলো। নাক টেনে ঠোঁট উল্টে আওড়ালো—-
—না দুলাভাই। কবুল বলার আগে আর আমার বান্ধবীকে দেখতে পারবেন না। এখন দেখলে তো সবটাই শেষ।
অভ্র ভ্রু কুঁচকে নিলো। সুধালো—-
—কি শেষ?
কুটিল হাসলো শাওন। শিফার পানে তাকিয়ে আওড়ালো—–
—আসল মজা।
—মানে?
শিফা বিরক্তি হয়। বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে বলে—-
—এতো প্রশ্ন কেনো করেন, হবু দুলাভাই? বিয়ের আগে ওকে দেখতে পারবেন না মানে পারবেন না। ব্যাস। এখন যান-তো। এমনিতেই ওর পিছনে কোন শনি পরে আছে কে জানে? এখনো শরীর ঠিক লাগছে না বেচারির। আঙ্কেলকে বলে দিবো এখানে কি ঘটেছে এসব?
অভ্র থামে। এসময় মনোয়ার শেখ এ ঘরে ঘটা ঘটনাগুলো জানলে ভালোভাবে নিবেন না। তার বাবার এই কাজের জন্য এখন আবার উত্তর চাইতে বসবেন। তবে অভ্রের কাছে অতিরক্তি সময় নেই। তাই ওসবে মাথা ঘামালো না আর। বরং কথা না বলে শুধুমাত্র একবার তাকালো হাঁটুর মাঝে মুখ চেপে বসে থাকা মেহরিনের পানে। এ ঘরে কি ঘটেছে এসব জানাজানি হলে নির্ঘাত হুলুস্থুল পরে যাবে। তবে অভ্র তা চায় না। সে ধীর পায়ে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে যায়। যাওয়ার আগে তিন’জন ভাড়া করা লোককে ইশারায় মেহরিনের উপর নজর রাখতে বলে। তারাও মাথা নাড়ায়।
রায়হান তালুকদার তড়িঘড়ি করে নিজের ঘরে প্রবেশ করে দরজা আঁটকে লম্বা শ্বাস টানেন। দরজায় হেলান দিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করেন সময় নিয়ে। তখন তিনি নিজেই মেহরিনকে তুলে আনতে গেছিলেন যাতে তাকে স্ত্রী ও ছেলের নোংরা খেলা হতে বাঁচাতে পারে। তবে মাঝপথে সফল হতে পারেন নি তিনি। উল্টো শাওনের উল্টো-পাল্টা কথায় লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছিলো তার। শাওন যখন সেন্সলেস মেহরিনকে নিয়ে ব্যাস্ত তখন তড়িঘড়ি করে সেই ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে আসেন তিনি। অভ্র জানতে পারলে ভালো হবে না তার জন্য। আর জানতে পারবে নাই-বা কেনো? এতোক্ষণে নিশ্চিত খবরটা কানে পৌঁছে গেছে তার!
রায়হান তালুকদার চোখ তুলে সামনের দিকে তাকিয়ে পা বাড়াতে চান। তবে বিছানায় পায়ের উপর পা তুলে নিজ স্ত্রী’কে বসে থাকতে দেখে ঘাবড়ে যান তিনি। বুকটা ধক করে ওঠে। নীল হয়ে আসে মুখ৷ শুকনো ঢোক গিলে মাথা নুইয়ে নিলেন তিনি। নাজমা তালুকদার কুটিল হাসলেন। দাম্ভিক ভঙ্গিতে বসা হতে উঠে স্বামীর পিছনে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে হাসলেন। রায়হান তালুকদারের গা হিম হয়ে আসে।
—দরদ দেখাতে গেছিলে বুঝি?
কন্ঠ হতে স্বর বের হয়না রায়হান তালুকদারের। স্ত্রী”কে ভয় পাননা তিনি, ভয় পান স্ত্রী’র হিংস্রতাকে। তাই তো সবসময় মাথা নুইয়ে থাকতে হয় পুরুষ হয়েও। স্ত্রী’র মুখের উপর কথা বলতে পারেন না শুধুমাত্র এই কারণেই।
রায়হান তালুকদার দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলেন। বুঝতে পারেন ঢের, নাজমা সব বুঝে ফেলেছে, সবকিছু। গভীর ভাবনায় মগ্ন ভদ্রলোক। তন্মধ্যে নিজ স্ত্রী আচমকা দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে তাকে ধাক্কা মেরে ছুড়ে ফেলেন বিছানায়। বয়স হয়েছে, এভাবে আচমকা ধাক্কার টাল সামলাতে না পেরে বিছানায় মুখ থুবড়ে পরলেন তিনি। কোমড়ে বেজায় ব্যথা পেলেন। বিদঘুটে হয়ে এলো মুখের ভাজ। অস্ফুট আর্তনাদ করে উঠলেন তিনি।
অন্যদিকে হিংস্র নাজমা স্বামীর ব্যথাকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করলেন না। দ্রুত কদমে এগিয়ে এসে ঘাড়ে চাপ প্রয়োগ করলেন। ব্যথায় ফের মৃদু গুঙিয়ে উঠলেন রায়হান তালুকদার। নাজমা স্বামীর পানে দাঁত কটমট করে তাকিয়ে আওড়ালেন—–
—খুব খারাপ করলে। এর ফল তুমি পাবে। আগে কাজটা হাসিল করি, তারপর তোমায় দেখে নিবো। ঘরের শত্রু বিভীষণ হয়ে থাকার বড্ড শখ না তোমার! ঘুচিয়ে দেবো সেই শখ। কাপুরুষ একটা।
এক ঝটকায় ভদ্রলোককে ছেড়ে গটগট পায়ে ঘর ছাড়লেন নাজমা তালুকদার। যাওয়ার আগে বাহির হতে তালা দিতে ভুললেন না। ভেতরে অসহায় রায়হান তালুকদার ধপ করে বিছানায় বসে পরলেন৷ ঠিক কত বছর ধরে এসব সহ্য করে আসছেন তা হিসেব জানা নেই। তবে সহ্য করা ছাড়া কোন উপায়ও নেই তার। নইলে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলবে যে!
রায়হান তালুকদার চোখ মোছেন। মেহরিনের জন্য বড়ই চিন্তা হচ্ছে। মেয়েটাকে দেখেছেন। ফুলের মতো অতি চঞ্চল মিষ্টি একটা মেয়ে। সে এখন পরতে চলেছে অভ্র ও নাজমার মতো পাথর হৃদয়ের মানুষের হাতে। আদৌও প্রাণে বাঁচবে তো!
অভ্র মেহরিনের ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে ধীর কদমে এসে থামে আদ্রিয়ানের ঘরের সামনে। সামান্য উঁকি দিতেই লক্ষ করে আদ্রিয়ান তখনো বিছানার উপর বসে ফোন নিয়ে ব্যাস্ত। অভ্র হাসে। ঠোঁট কামড়ে আদ্রিয়ানের উপর উপহাস করে আওড়ায়—–
—প্রপার্টি না পেলাম। তবে তোর ভালোবাসাকে ছিনিয়ে নিতে তো পারবো! ওটায় আমার সবচেয়ে বড় জিত।
অভ্র তাকিয়ে থাকে ঘরের ভেতর, পকেটে হাত গুজে। পেছন হতে নাজমা তালুকদার ছেলের কাঁধে হাত রাখেন। অভ্র মাথা ঘোড়ায়। হাসে ফের।
প্রায় মিনিট ত্রিশেক পর মেহরিনকে নিচে বিয়ের আসরে নিয়ে যাওয়া হলো। বিশাল হলরুমটা ইতোমধ্যেই মানুষে গিজগিজ করছে। চারিদিকে আত্মীয়-স্বজন, পরিচিত মুখ আর নামি-দামি অতিথিদের আনাগোনা। একপাশে অতিথিদের বসার স্থান সাজানো। অন্যদিকে বিয়ের জন্য আলাদা করে সাজানো হয়েছে মঞ্চ। ফুল, আলো আর নানান রকমের ডেকোরেশনে পুরো জায়গাটাই যেনো উৎসবের রঙে রঙিন।
তখনি মেহরিনকে এনে মাথা ভর্তি ঘোমটা টেনে পর্দার আড়ালে বসানো হলোদ। পাশে এসে বসলো শিফা। বান্ধবীর হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছে সে। মেহরিন মাথা নিচু করে বসে আছে। শিফা এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। অদ্ভুত অনুভূতিতে বুকটা কেঁপে উঠছে তার।
অন্যদিকে পর্দার ওপাশে অভ্র এসে বসতেই নাজমা তালুকদার দ্রুত তার পাশে এসে দাঁড়ালেন। মুখে অস্থিরতার ছাপ স্পষ্ট। এদিক ওদিক তাকালেন। খুঁজলেন কাউকে। না পেয়ে ছেলেকে বললেন—-
—অভ্র! কি হবে? আদ্রিয়ান তো এখানে নেই। তাহলে কি আমাদের প্ল্যানটা ভেস্তে যাবে?
অভ্র আশেপাশে একবার নজর বুলালো। তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকালো।
—বিয়েটা বোধহয় করতে হবে, মম।
নাজমা তালুকদারের মুখটা মুহূর্তেই শক্ত হয়ে গেলো।
—তাহলে কি আমরা ফেইল?
অভ্র আর কিছু বললো না। বরং সামনে তাকিয়ে রইলো। তার চোখেমুখে অদ্ভুত এক নিশ্চিন্ত ভাব।
অন্যদিকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছেন মনোয়ার শেখ। মুখটা একেবারে বিরস হয়ে আছে। পাশে দাঁড়িয়ে সুফিয়া বেগম বারবার চোখের পানি মুছছেন। নিজের মেয়ের বিয়ে। অথচ মেয়েকে এভাবে বিয়ে দিতে হচ্ছে—মায়ের বুকটা কি আর মানে এসব?
—মেহুর বিয়েটা এমনভাবে হবে ভাবিনি গো।
কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন সুফিয়া বেগম।
মনোয়ার শেখ স্ত্রীর দিকে তাকালেন। কথা বললেন না। তাদের থেকে কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আশিক চৌধুরী ও সাহানা চৌধুরী একে অপরের পানে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। অতঃপর ফোনের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট একটা মেসেজ পাঠালেন ওপাশে। অতঃপর ধীর হস্তে নিজের কোটটা ঠিক করে নিলেন তিনি। চোখ রাখলেন বিয়ের আসরের পানে।
এরমধ্যেই কাজি সাহেব এসে নিজের জায়গায় বসলেন। কাগজপত্র সামনে রাখা হলো। আশেপাশের গুঞ্জন ধীরে ধীরে কমে এলো। সকলে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো পর্দার আড়ালে বসে থাকা বর-কনের পানে।
কাজি সাহেব নিয়মকানুন অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করলেন।
—বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
নিয়মকানুন অনুযায়ী কনে’কে আগে কবুল বলার অনুরোধ করা হলো। মেহরিন তখন চুপ। শিফা বান্ধবীর হাত মুঠোয় চেপে বসে আছে। চারিপাশে মৃদু গুঞ্জন।
—বলো মা কবুল!
মেহরিন কথা বললো না। অভ্র ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। মনে মনে ভাবলো—-
—আদ্রিয়ানের জন্য দুঃখ হচ্ছে? সো স্যাড!
তবে অভ্রের ধারনাকে ভুল প্রমানিত করে দিয়ে একদম নিচু গলায় পর পর তিনবার কবুল আওড়ালো মেহরিন। অভ্র ঠিকমতো শুনতে না পেলেও শিফা সকলকে জানিয়ে দিলো সে কথা। এতো তারাতাড়ি কবুল বলা দেখে নাজমা তালুকদার ও অভ্রের ভ্রু কুঁচকে গেলো। অভ্র শক খেলো ভিষন। আশেপাশে তাকালো। আদ্রিয়ান নেই। সবকিছু এতো স্বাভাবিক কেনো? কেনো আদ্রিয়ান কোন গন্ডগোল পাঁকালো না? মেহরিন কেনো কবুল বললো?
—আলহামদুলিল্লাহ।
ধ্যান ভাঙে অভ্রের। কপালে এখনো গাঢ় ভাজ। হিসেব মিলছে না। কোথাও একটা শূন্যতা থেকে যাচ্ছে। কাজি সাহেব অপেক্ষা করলেন না। মেহরিনের পাশ থেকে সরে অভ্রের দিকে এলেন। ফের খাতায় লিখতে লাগলেন নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু। অভ্র তখনো হাঁসফাঁস করছে। আশেপাশে তাকাচ্ছে মরিয়া হয়ে। এটা কিভাবে সম্ভব? সে এতো সহজে কিভাবে জিতে যেতে পারে?
—বলো বাবা কবুল!
চমকিত হয় অভ্র। কাঁপছে কন্ঠনালী। চোখের মনি তখনো চারিদিকে ঘুরছে। কাজি সাহেব পর পর কবুল বলার জন্য অনুরোধ করতে লাগলেন। নাজমা তালুকদার নিজেও ঘেমে গেছেন। উপস্থিত সকলে তখন ভ্রু কুঁচকে তাদের পানে তাকিয়ে।
—বলো বাবা কবুল!
—কবু…..
বাকিটুকু বলার মতো ফুরসত পেলো না যুবক। তার আগে পকেটে রাখা ফোন উচ্চস্বরে বেজে উঠল। অভ্র ভরকে গেলো৷ বুকের ধুকপুকানি বাড়লো কয়েকগুণ। কাজি সাহেব ভ্রু গোটালেন। অন্যরাও তার পানে তাকালো কপাল কুঁচকে।
অভ্র ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলে পকেট হতে ফোনটা বের করলো। স্ক্রিনে তাকাতেই কপাল কুঁচকে গেলো তার। ভিডিও কল, তাও আবার আদ্রিয়ান করছে! অভ্র আশেপাশে নজর বোলালো। কাজি সাহেবের উদ্দেশ্য বললো—-
—জাস্ট অ্যা মিনিট।
অতঃপর ধীর হস্তে ফোনটা রিসিভ করলো। আর রিসিভ করতেই জীবনের সবচেয়ে বড় শক’টা খেলো যুবক। মুহূর্তেই তার মুখের রক্ত সরে গেলো। নীল হয়ে এলো মুখমণ্ডল। অভ্রের চোখজোড়া বড়বড় হয়ে এলো। অস্বাভাবিক হয়ে এলো নিশ্বাসের গতি। কিছু বলতে চাইছে সে। তবে ঠোঁট নাড়িয়ে বলতে পারছে না। তার এহেন অবস্থা দেখে নাজমা তালুকদার ভ্রু কুঁচকে নিলেন।তখনি ফোনের স্ক্রিনে জ্বলজ্বলকৃত রমণী মিষ্টি করে হাসলো।
—হ্যালো ভাসুরজি। বিয়ে কমপ্লিট?
—ম….মেহু…….
অভ্র অস্ফুটে স্বরে বলে উঠলো। চোখের পলক ঝাপটে ফের স্ক্রিনে তাকালো। এটা কিভাবে সম্ভব? মেহরিন তো এখানে! তার সামনে। একটু আগেই তো কবুল বললো। তাহলে ফোনের ওপাশে কে?
অভ্রের শরীর ঘেমে-নেয়ে একাকার। ফোনটা হাত থেকে পরেই যাবে বোধহয়। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আশিক চৌধুরী এবার মনোয়ার শেখের কাঁধে হাত রাখলেন। মৃদু হাসলেন দু’জন। কথা বললেন না কেউই।
চারিদিকে গুঞ্জন শুরু হলো অভ্রের এমন অস্বাভাবিক আচরণে। ফোনের ওপাশে কি আছে? কেনো সে কাঁপছে এমন? শাওন-শিফার ঠোঁট জোড়া প্রশস্ত হয়ে এলো। কুটিল হাসি ক্ষনে ক্ষনে খেলে যাচ্ছে সেথায়। নাজমা তালুকদার আর পারছেন না ধৈর্য ধরতে। তিনি ফের এগিয়ে আসার জন্য পা বাড়াতে লাগলেন ছেলের অভিমুখে। তার আগেই মেহরিনের বেশে থাকা পর্দার ওপারের আগন্তুকটি আচমকা নিজের ঘোমটা ছুঁড়ে বসা হতে একপ্রকার লাফিয়ে উঠলেন। সকলে চমকে উঠলো। মুখ ভর্তি পান তার। মুখে বিয়ের সাজসজ্জা। আর তার মুখ অবলোকন হতেই বিয়েতে উপস্থিত সকলে একপ্রকার ঝটকা খেলেন। আগন্তুকটি হাতের তালুতে অশুভ এক তালি মেরে আচমকা চেঁচিয়ে বললেন—-
সুইটহার্ট পর্ব ২০
—কি রে হারাম*জাদা! বল কবুল।
অভ্র তাল সামলাতে না পেরে চেয়ার থেকে মুখ থুবরে পরে গেলো। চোখ বিস্ফোরিত। মাথা কাজ করছে না। উপস্থিত সকলের মাঝে তীব্র বিশৃঙ্খলার দেখা দিলো। আগন্তুকটি তখনো মুখ ভর্তি পান চিবিয়ে যাচ্ছেন। শারী কোমড়ে গুঁজলেন খানিকটা উপরে তুলে। চোখমুখ বিকৃত করে দাঁতে দাঁত চাপলেন। আর তাদের এই তীব্র শোরগোলের মাঝ হতে আচমকা মৃদু আওয়াজে একটা শব্দ বেড়িয়ে এলো—-
—পাত্রী কোথায়? এটাতো হিজ***
