Home সূখতারার খোজে সুখতারার খোজে পর্ব ১২

সুখতারার খোজে পর্ব ১২

সুখতারার খোজে পর্ব ১২
লেখক:আর আহমেদ

-তুই এমন করিস না প্লিজ!
তারার কথার পরপরই হর্ন বজে উঠলো ফ্লাটের নিচ থেকে। ঠোঁট জোরা কুঁচকে চেয়ালে চেয়াল বসালো তারা। এদিকে কবিতা পাগলামি করছে আর নিচে তার পেয়ারা ভাই। রাগে দপদপ করতে করতে বেলকনিতে গেলো তারা। নিচে ঝুকে দেখলো তূর সেদিকেই তাকিয়ে। তারাকে দেখতেই ও ইসারা করলো চলে আসতে।’পাজি একটা’ সন্মধনে গালি দিলো তারা। এরপর চেঁচিয়ে বললো,
-সমস্যা কোথায় আপনার? কাজ থাকলে চলে যান। কানের গোড়ায় প্যা পো বাজালে কি আর কাজটা হবে?
তূর ও চেঁচিয়ে বললো,
-আম্মা তোকে নিয়ে যেতে বলেছিলো, মনে আছে?
তারা বিরক্তিকর মুখ দেখিয়ে আবারো ঘরে এলো। হ্যাবলার মতো ড্যাপড্যাপ করে উপরে বেলকনির দিকে তাকিয়ে রইলো তূর।
তারা ভেতরে এসেই আলমারিতে হাত দিলো। কবিতা বুঝলো আজ আটঘাট বেঁধেই এসেছে তারা। সে অকপট বলে উঠলো,
-তুই এ বিষয়ে জোর করার অধিকার রাখিস আদেও?
একপলক ফিরে তাকালো তারা। বললো,

-আমি আগে বললে তুই ঠিক এটাই করতি না?
-করতাম..
-তাহলে চুপচাপ চল।
-তুই আজ অন্যায় মানতে বলবি তারা?
ততক্ষণে কাপরগুলো সব বিছানায় রেখেছে তারা। গুছাতে গুছাতে বললো,
-অন্যায় বাঁধা দিচ্ছি!
-হাহ্,পাঠাচ্ছিস তুই! নরকে পাঠিয়ে অন্যায় বাঁধা! হাউ ফানি তারা। কাপরগুলো প্লিজ ওখানের রাখ।
-তুই যে তোর মা-বাবার প্রতি অন্যায় করছিস তার বেলা?
-ওনাদেও শাস্তি পাওয়াটা উচিত ছিলো।
কথাটায় তারা ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো৷ মুখ ব্যাঙ্গ করে বলে উঠলো,
-ওমাহ্? আরও কেউ জড়িত আছে এতে?
-হুম। তারা কি একটি বারও খোঁজ খবর নেবে না বল?
-তাহলে তো বলবো তুইও সমান অপরাধী!
ভ্রুযুগল কুঞ্চিত করে উঠে দাড়ালো কবিতা। তারার সামনে এসে দু হাত বাবু করে বলে উঠলো,
-আমার কোন দোষ নেই।
-তাই?
-জ্বি আপা।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

-ওও। তা ভাবিজি আমায় যদি একটি বার বলতি তোর জামাই কে তাহলে কি আর এতোসব ঘটতো?
তারার পাশে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লো কবিতা। একহাতে তালি বাজে না। সে হয়তো তার বেস্টফ্রেন্ড কে সারপ্রাইজ দিবে দেখে জানায়নি। অথচ সেটাই মারাত্মক ভুল! হয়তো সে দোষী নয়।
-তুই ওট।
-ভালো লাগছে না।
-এমনিতেই নাড়ু খাসনি কিন্তু।
বলেই টেনে উঠালো কবিতাকে তারা। সালোয়ার কামিজ হাতে পাঠিয়ে দিলো ওয়াশরুমে। এখানে থাকলে কবিতার জিবন অবনতির শেখরে পৌছাতে বেশিক্ষণ লাগবে না। কবিতা আসতেই লাগেজ হাতে নেমে এলো তারা। কবিতা তারার চালাকি বুঝে মাথায় আলতো থাপ্পড় দিলো। এরপর নেমে এলো নিচে। তারা নিচে আসতেই তূর বলে উঠলো,
-ও আসতে রাজি হলো?
-আলহামদুলিল্লহ্। হয়েছে।
-এতক্ষণ লাগে?
-তো আপনি গেলেই হতো।
-তোর সাথে পারা যাবে না।
-বাই দা ওয়ে, আপনি এখানে দাড়িয়ে আছেন কেন?
-তোকে নিতে!

-কেন? না মানে কমন সেন্সটুকুও কি আপনার নেই? কবিতাকে আমি ছেড়ে তবেই যাবো। আপনি যান।
-তোর কথায়?
ভ্রু নাচিয়ে বললো তূর। তারা পাশে এসে দাড়ালো কবিতা। কবিতাকে দেখে তূর বাইক থেকে নামলো। বললো,
-সেদিনের জন্য ক্ষমা চাইছি। মানে আমি..
-কোনদিনের?
-ওইযে যেদিন আপনি…
-ঠিকিই করেছিলেন। এটাই হয়তো ভালো ছিলো। অন্তত তারাকে ও বাড়িতে যেতে হয়’নি।
তারা বললো,
-কবি চলতো। এখানে সময় নষ্ট করে লাভ নেই।
তূর রাগান্বিত হয়ে বললো,
-তোর সাহস তো দেখি বারছে দিনদিন। ডোজ দিবো?
-কবিতা তুই যাবি?
-তোকে পড়ে দেখছি। তোমরা দাড়াও আমি রিকসা দেখছি।
তূর চলে গেলো রিকসা আনতে৷ দু দন্ডেই নিয়ে এলো রিকসা। তারা আর কবিতা উঠে বসলো। খানিক মনমরা লাগছিলো কবিতাকে। তারা পাত্তা দিলো না। সে এখন সহানুভূতি প্রদর্শন করলে হয়তো কেঁদে দিবে কবিতা। এমনই হয়!
রিকসা চলতে লাগলো। তূর এক টানে বাইক নিয়ে চলে গেলো।

বুকে জাপটে জড়িয়ে কবিতার বাবা কবিতাকে। একজন পিতা তার কন্যাকে কতটা ভালোবাসে তা কবিতা আর তার আব্বুকে না দেখলে বোঝা যেত না। তারার চোখে জমলো শিশিরবিন্দু। তার মনে পড়ছে তার বাবার কথা। তিনিও হয়তো তাকে এভাবেই ভালোবাসতেন। তারা বাড়ি থেকে নিঃশব্দে চলে এলো ওখান থেকে। ও বাড়ির কেউ লক্ষ করলো না। সবাই কবিতাকে দেখে আবেগে চোখের জল ফেলছিলেন। তারা বাইরে আসতেই তূর কোথথেকে সটাং তার সামনে হাজির হলো। তারা ভরকে গেলো। বলে উঠলো,
-এমন করেন কেন সবসময়?
-তোকে ভয় দেখাতে। নে উঠ!
-এতক্ষণ কেন অপেক্ষা করছিলেন?
তূর এদিকওদিক তাকিয়ে কিছু ভাবলো। বললো,
-তোর চাচী…
-চাচীর কথাই ধরে আছেন? কেন ভাঙলেন অভ্রের সাথে আমার ভালোবাসা? বিশ্বাস?
হাসির ছলেই বলে উঠলো তারা। তূরের মুখের স্বাভাবিকতা ছেড়ে হয়ে উঠলো বিষন্ন। তারা আবার জিজ্ঞেস করলো,
-আমি সেই রাস্তায় অপমান করেছিলাম বলে?
-তুই বুঝবি আদেও?
তারা খিলখিল করে হাসলো। যেন জোক্স বলেছে তূর। তূর ভ্রু কুঁচকে বললো,
-হাসছিস যে?
-তো? কাঁদবো? বিশ্বাস করবো না কেন? বলেন!
-থাক..শুধু মনে কর,বাঁচিয়েছিলাম আমি তোকে।
তারা কিছুই বুঝলো না। ভাবতে ভাবতেই উঠে বসলো তারা। তূর আর কিছু বলেনি তারাকে।

সুখতারার খোজে পর্ব ১১

সোফা থেকে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠে দাড়ালেন আমির। তার লক্ষে স্থির চোখে তাকাতেই ড্রইংরুমে বিদ্যমান সকলেই উঠে দাড়ালো। একপা একপা করে এগিয়ে আসছে অভ্র। আমির কেমন নাক ছিটকে দূরে সড়ে দাঁড়ালো। আজকাল তার ছেলেকে ঘৃনা হয়। ইরা পারলেন না, ছুটে গিয়ে জড়িয়ে নিলেন অভ্রকে। হু হু করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
-কেন বাইরে আসলি? আমাদেরও মারতে চাইছিলি নাকি তুই?
অভ্র নিশ্চুপ! অগোছালো ভাবে দাড়িয়ে আছে অভ্র। চুলগুলো এলোমেলো। কেমন জট পাকিয়েছে! ক্লিন সেভ করা ছেলেটার মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ির ডগাগুলো উঁকি মারে। ইরা বাধভাঙ্গা নদীর মতো কাঁদতে লাগলো। অতপর বললো,

-কি রে? তোর খাবার…
-কবিতা?!
একমাসে আজ প্রথম কবিতা উচ্চরন করলো অভ্র। আমির বলে উঠলেন,
-পারলে নিয়ে আয়। নাহলে আমার এমন কোন ছেলের প্রয়োজন নেই।
অভ্র সটাং মাটিতে বসে পড়লো। তার বিহেভিয়ারে পাগলের ছাপ কড়ারুপে স্পষ্ট!

সুখতারার খোজে পর্ব ১৩