Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ১০

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১০

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১০
তানিয়া হুসাইন

রাজভীর আলভারেযের সাম্রাজ্য।
উত্তাল মেক্সিকোর সীমানা ঘেঁষে পাহাড়ের এক বিশাল ঢালে দাঁড়িয়ে আছে সেই ভয়ংকর সাম্রাজ্য,
—তার প্রাসাদ,
রাজভীর আলভারেযের কিলিং কোর্ট। দূর থেকে দেখলেই মনে হয় এক বিশালাকৃতি অন্ধকার দুর্গ, চারদিক ঘিরে আটচল্লিশ ফুট উঁচু ব্ল্যাক পাথরের প্রাচীর, টপে অটোমেটিক গান ইনস্টলড। প্রবেশের একমাত্র গেটটিতে বসানো আছে রেটিনা স্ক্যানার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ভয়েস-আইডি,
—রাজভীর আর তার লোক ছাড়া কেউ প্রবেশের সাহসও করে না।
এখানে যারা হামলা করতে আসবে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত।

___কড়া সিকিউরিটি পুরো বাড়ি জুড়ে।
পুরো সীমানা জুড়ে হাজার হাজার গার্ডে ঘেরা।
ভেতরে ঢুকলেই বিশাল পাথরের চত্বর, তার মাঝে মার্বেল ফোয়ারার মতো গাঢ় পানির প্রবাহ। সাদা-কালো কন্ট্রাস্টে সাজানো পথ ধরে এগোলে সামনে বিশাল ব্ল্যাক কাসল, যার ছাদে ঝোলানো মেক্সিকোর না, বরং “আলভারেয সাম্রাজ্যের” নিজস্ব পতাকা,
—এক কালো জ্যাকাল ও আগুনের ফেনা।
___সিটিং এরিয়া থেকে শুরু করে পুরো বাড়ি জুড়ে বিলাসিতার ছোঁয়া।
___ভীরের রুম সাধারণ কোনো রুম না, এটি যুদ্ধ, লালসা আর দুঃস্বপ্নে ঘেরা একটি অন্ধকার রাজত্ব।
প্রায় ৪৫০০ স্কয়ার ফিট বিশাল চেম্বার । সব দেওয়াল কালো মার্বেলের, কিছু কিছু জায়গায় রক্তের দাগের মতো লাল ছোপ ছোপ ডিজাইন। সিলিংয়ে ঝুলছে বিশাল চ্যান্ডেলিয়ার,
না-তা স্বচ্ছ কাচের না,
কালো হীরের তৈরি।
___দেয়ালে অস্ত্রের বিশাল কালেকশন, প্রতিটা নির্দিষ্ট কোডে লক করা। পাঁচটি সিকিউরিটি ক্যামেরা প্রতিটি কোনা কভার করে।
জানালা , একদম উপরে ছোট ফাঁক দিয়ে কৃত্রিম আলোর খেলা। দরজার লক বাইোমেট্রিক, সাথে আছে ভয়ংকর সাইরেন যা একবার বাজলে পুরো প্রাসাদ লকডাউন হয়ে যায়।

___ভীরের রুম পুরো ডার্ক থিমে সাজানো,
ব্ল্যাক মার্বেল ফ্লোরিং,
আলাদা ড্রেসিং কর্নার থেকে শুরু করে,
মিনিবার,মেডিকেল কর্ণার থেকে শুরু করে সবকিছুই আছে এই রুমে।
___বিশাল কিং সাইজের বিছানা,
ব্ল্যাক সিল্কের চাদরে ঢাকা,
আলিশান কালো রেশমের বিছানা।
সেখানেই আছে ইশায়া।
___কেন ভীর সামান্য একটা মেয়েকে নিজের রুমে রেখেছে।
এ নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন,
___কিন্তু প্রশ্ন মনের ভিতরে থাকলেও তা মুখে আনার সাহস কারো নেই।
কারণ এখানে সামান্য একটা ভুল মানেই মৃত্যু।
আর ভীর আলভারেয যে কি সেটা সবাই খুব ভালো করেই জানে তার কাছে ভুলের কোন
ক্ষমা নেই

___ভীর একদন্ড ও স্থির থাকেনা।
নতুন মিশনের পরিকল্পনা নিয়ে একটা মিটিং হয়।
সেখানেই গেছে সে।
___দিন দিন তারা রাজত্ব বিস্তার করাই তার উদ্দেশ্য।
প্রথমে সিনালোয়া তারপর গুয়াদালাহারা ধীরে ধীরে মুরো মেক্সিকো তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
কিন্তু এখন তার উদ্দেশ্য ভিন্ন,
__তার পরিকল্পনাটা এখন শুধু একটা দেশ পর্যন্ত না তার থেকেও বড়।

দুইদিন ধরে অজ্ঞান ইশায়া, স্যালাইন চলছে।
হঠাৎ চোখ কাঁপলো,আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকায়।
হালকা ঝাপসা আলো,
মাথা ভারি,এলোমেলো চুল,
চোখের কোনায় শুকনো জল।
ইশায়ার কিছু সময় লাগে নিজেকে ধাতস্ত করতে।
প্রথমে সে কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি।
এর কারণ কড়া ডোজের ড্রা*গস।
__চারপাশের অচেনা গন্ধ, অচেনা দেওয়াল, আর অসহ্য একটা নিস্তব্ধতা যেন ওর গলা চেপে ধরলো।
আস্তে আস্তে তার সবকিছু মনে পড়ে।
আ…আপু কোথায়?
আমার আপু কই।
“আপু…? আপু কোথায়…।
ইশায়ার গলার আওয়াজ ধীরে ধীরে চিৎকারে পরিণত হয়,

___ইশায়াকে উঠতে দেখেই গার্ডরা তাকে ঘিরে দাঁড়ায়।
তাদের নির্দেশ দেওয়া আছে,
___ইশায়াকে দেখে রাখা,
তার খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় সব কিছু।
আর কোনভাবেই যাতে নিজেকে আঘাত করতে না পারে, সেদিকটা।
___কিন্তু যা কিছুই হয়ে যাক না কেন ওরা কেউ ইশায়াকে কিছু করতে পারবেনা।
তাকে আঘাত করা যাবে না, সেটা ওদেরকে আগে থেকেই সতর্কতার সহিত বলা হয়েছে।
__তাই ওরা ইশায়াকে উত্তেজিত না হতে বলে।
___কিন্তু ইশায়ার কারোর কথায় ধ্যান নেই।
___“আপু!আপু! আমার আপু কোথায়!”
ওর কণ্ঠ যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে, বুক ফেটে কান্না আসছে না, শুধু একপ্রকার আর্তনাদ। শরীর টা কাঁপতে থাকে ইশায়ার।
তার ভাই আদ্রিয়ানের কি হবে।
ফুফা-ফুফির কি অবস্থা।
ছোট দাদা ভাই যে আপুকে ছাড়া একটা মুহূর্ত থাকতে পারে না, সে কিভাবে বাঁচবে তোকে ছাড়া।

__চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাফার রক্তে রঞ্জিত শরীরটা,
আর তাদের সেই নির্মম পরিকল্পনা।
___ শরীরে স্যালাইন ঢুকানো ছিলো ইশায়ার পাশে মেডিকেশন ট্রে। সে একটানে স্যালাইন ছিঁড়ে ফেলে, ক্যানোলা টান দেয়, সূচ বের হতেই হাত থেকে রক্ত ঝরতে থাকে।
__এভাবে অতর্কিতভাবে টান পড়ায় হাত অনেকটাই কেটে যায়।
___এতো রক্ত দেখে একজন গার্ড দ্রুত এগিয়ে আসে,
ইশায়াকে ধরতে নিলেই সে ছিটকে সরে যায় দূরে।
___তোমরা কে? কোথায় এনেছো আমায়? আপু কই? আমি বেরোতে চাই! আমাকে যেতে দাও!
____চারদিকে পাঁচজন নারী গার্ড ছায়ার মতো ঘিরে দাঁড়িয়ে।
___আবারো একজন এগিয়ে এসে শান্ত করার চেষ্টা করতেই ইশায়া রেগে পাশ থেকে ট্রেটা নিয়ে আঘাত করে তাকে,
গার্ডটা ছিটকে পড়ে।

____সাফার ওই নিস্তেজ দেহ,
তার সাথে হওয়া ঘটনা সবকিছু ইশায়াকে জ্ঞানশূন্য করে দিচ্ছে, পাগল হয়ে যাচ্ছে সে।
সাফা আর নেই এই একটা কথা সে মেনে নিতে পারছে না।
সে কি করছে সেটা সে নিজেই জানেনা।
___এক কোণে থাকা ছোট ফল কাটার ছুরিটা চোখে পড়ে ইশায়ার সে এক লাফে গিয়ে সেটি তুলে নেয়। কাঁপা হাতে ধরে ছুরির মাথা ওর নিজের শরীরের দিকে!
__আমায় যেতে দাও… নয়তো আমি নিজেকেই শেষ করে ফেলবো।
____গার্ডরা ভয় পেয়ে যায় এই মেয়ের কিছু হলে, তাদের বস তাদেরকে ছাড়বে না।
___একজন গার্ড পেছন থেকে ইশায়াকে ধরে ফেলতেই, সে ছুরি ছুঁড়ে মারে একজনের দিকে সামান্য আঁচড় লাগে তার গালে, তবুও রক্ত পড়ে।
___ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়।
ইশায়া নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করছে ওদের সাথে লড়াই করার।
ধস্তাধস্তির মাঝে হঠাৎ ইশায়ার মাথা দেয়ালে বারি খায়।
ছিটকে পড়ার মতো গিয়ে ধাক্কা খাওয়ায় সাথে সাথেই ফেটে যায় মাথা,
ইশায়ার চোখের পানি আর রক্ত একসাথে গড়িয়ে পড়ে।

__শেষমেশ একজন গার্ড এসে ইশায়াকে ইনজেকশন পুশ করে দেয়।
___চোখ জ্বলজ্বল করে উঠে ইশায়ার আবার নিভে যায়…
আস্তে করে বলে ওঠে একবার,
___আ..আপু…।
___ওরা সবাই ধরাধরি করে ইশায়াকে বিছানায় নিয়ে গিয়ে শোয়ায়, সাথে সাথে ডাক্তার ডাকা হয়।
ডাক্তার এসে ড্রেসিং করে,
হাতে মাথায় ব্যান্ডেজ করে দেয়।
___বাইরে থেকে ফিরে এসেছে ভীর।
কালো সুট,চোখের সানগ্লাস।
___আন্তোনীয় দৌড়ে এসে ভীর কে জানায় সবকিছু।
ভীরের হাতের মুঠো শক্ত হয়ে আসে,
সে দাঁড়ায় না,
সোজা কমান্ড রুমে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ চালায়।

___ভীর গম্ভীর চোখে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে। স্যুটের পকেটে হাত, ঠোঁটে সিগারেট, চোখে আগুন।
___ডিয়েগো বলে ওঠে,
ভীর… শি ওয়েন্ট ম্যাড। গার্ডদের আঘাত করেছে। নিজেকেও আহত করেছে।
___রাজভীর থেমে যায়। চোখ ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হয়।
ঠান্ডা কন্ঠে বলে,
___আমার এখানে একটা মেয়েকে, কেউ সামলাতে পারে না? তাহলে কী দরকার এদের।
___সে কমান্ড রুমে থেকে বেরিয়ে আসে,
আদেশ দেয় ওই সময় ওইখানে থাকা সব গার্ড কে সামনে আনার জন্য।
___ইশায়ার রক্তমাখা মুখ… চোখে জল… আর একঝাঁক গার্ড তাকে চেপে ধরেছে।
সবকিছুই দেখেছে ভীর।
রাজভীর গর্জে ওঠে,

___সামান্য একটা মেয়েকে দেখে রাখতে পারেনা।
এদেরকে কি দেখে রেখেছো।
ওরা এতোজন থাকা সত্ত্বেও এটা কিভাবে হয়।
___ডিয়েগো কিছু বলেনা।
মাথা নিচু করে আছে।
___সে ভাবেনি এইটুকুন মেয়ে এতো কিছু করবে।
___নিকো হেসে বলে ওঠে,
ওর বোনের যে ঝাজ ছিলো।
ওকে তুমি এতো হালকাতে কেনো নাও ব্রো।
আফটারওল ওরা দুইজন বোন,
সেইম তো হবেই।
___ভীর নিকোকে ইশারা করে।
নিকো বুঝে যায় কী করতে হবে।
___ভীরের চোখে আগুনের ফুলকি।
___গার্ডরা নিচে বসে মিনতি করে হাত জোড় করে,
ক্ষমা চায়।
ভীর ফিরেও তাকায় না।

___নিকো একে একে গার্ডদের সামনে দাঁড়ায়।
প্রথমে একজনকে কপাল বরাবর গু*লি করে,
___ দেয়ালের গায়ে র*ক্ত ছিটকে পড়ে তার।
___তারপর ব*ন্দুক হাত থেকে ফেলে দিয়ে বলে এটায় কেন যেন আমি মজা পাই না।
___বাকিরা পালাতে চাইলে ওদেরকে আটকানো হয়।
দ্বিতীয় জনের গলায় ছু*রি চালিয়ে দেয় নিকো,
গলার রক্ত ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসে।
চিৎকার করার সুযোগ টুকুও পায়নি সে।
____তৃতীয় জন কান্না করছিল,
নিকো তাকে হেসে জিজ্ঞেস করে,
“ভয় পেয়েছো?
বলেই তার মুখের ভেতর রক্তমাখা ছু*রি ঠেসে দেয়… ছু*রি ঢুকে যায় মুখেত ভেতর,
নিচে গলা কাটা মুরগির মত ছটফট করতে থাকে সে, একটু পর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যায়।

___ওদের রক্তমাখা নিথর শরীর দেখে স্বস্তি পায় ভীর।
এতক্ষণ পায়ের উপর পা তুলে বসে দেখছিল সবকিছু,
নিকোর কার্য সমাপ্ত হলে ভীর উঠে দাঁড়ায়।
ওদের শরীরটাকে পা দিয়ে ডিঙিয়ে চলে যায় হেঁটে উপরে,

____ভীর দরজার কাছে পৌঁছানোর সাথে সাথেই একজন গার্ড দরজা খুলে দেয়,
ভীর ভেতরে ঢুকে।
সে ঢুকার পর দরজা অটোমেটিক্যালি বন্ধ হয়ে যায়।
___ভীর আসছে শুনেই রুমের ভেতরে থাকা একজন ডাক্তার আর দুজন নার্স সবাই বেরিয়ে যায়।
____রুমের মাঝখানের বিছানায় শুয়ে আছে ইশায়া।
___ইশায়া তখনো অজ্ঞান, মস্তিষ্ক অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণে তাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।
শরীর নিস্তেজ। রক্তে ভেজা চুল, কপালের কাটা দাগ, ঠোটের কোণে জামাট বাধা রক্ত,
—সব মিলিয়ে তাকে লাগছিল এক বিষণ্ন পরী।
____ভীর ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে।
তার কালো গ্লাভস পরা হাত স্পর্শ করে ইশায়ার রক্তমাখা ঠোঁটের তিল।
___রুক্ষ হাতের স্পর্শে হালকা কেঁপে উঠে ইশায়া।
কিন্তু নিস্তেজ শরীরে সে কিছুই ঠাহর করতে পারছেনা।
ভীরের চোখের দৃষ্টি ঘোলাটে।

___হাতের চাপ জড়ালো করে ভীর আকড়ে ধরে ইশায়ার গাল।
কানের কাছ থেকে হাত নিয়ে ঘাড়ে চাপ প্রয়োগ করে মুখ উচায়।
___তুমি জানো না মেয়ে,
তোমার এই তেজ আমার এখানে চলবে না।
এটা আমার রাজত্ব এখানে যা হয় আমার ইশারায় হয়।
___তোমাকে আমার বশ্যতা স্বীকার করতেই হবে।
আমার মতো করেই চলতে হবে।
আমি বাধ্য করবো তোমাকে।
___তুমি যতো জেদ ধরবে,
আমি ঠিক তোমাকে ততটাই বাধ্য করব।
___ভীর ইশায়ার কপালের কাটা জায়গায় আঙুল রাখে,
ছোট্ট শরীরের অনেক জায়গায় কাঁটা ছেড়র দাগ।
____এই দাগ আমার… এই যন্ত্রণা আমার… তোমার দেহ, তোমার কান্না, তোমার ঘুম, সব আমার নিয়ন্ত্রণে।
সে ধীরে ধীরে ফিসফিস করে বলে।
তুমি পালাতে পারবে না ইশায়া জারিন। আমি তোমায় খুঁজে এনেছি, বন্দি করেছি,
আমার যেটায় চোখ পড়েছে সেটা আমি হাসিল করেছি,, প্রয়োজনের ছিনিয়ে এনেছি।
কিন্তু আমি আমার করেছি।

__নিকোর তখনকার বলা কথা মনে হয় ভীরের।
আমার গার্ড দের আঘাত করেছ তুমি।
হেসে ওঠে ভীর,
তোমাকে তো আমি ভীতু মনে করেছিলাম।
কিন্তু না তুমি তো দেখছি তোমার বোনের মতোই সাহসী।
__কিন্তু আফসোস বেবস এই সাহস আমার সাথে চলবে না।
নিজের চোখেই তো দেখলে তোমার বোনের পরিণতি।
___কিন্তু না তোমার সাথে এরকম কিছু হবে না,
সেই গ্যারান্টি তোমাকে আমি এখন দিতে পারি।
___ডিয়েগো!
চিৎকার করে ডেকে ওঠে ভীর,

___ডিয়েগো তৎক্ষণাৎ ছুটে আসে।
___কাল থেকেই এ ঘরের সামনে নতুন গার্ড বসবে।
আর অস্ট্রেলিয়ান স্পেশাল ফোর্সের দুই নারী।
আর ট্রেইনড ১০ জন গার্ড।
অবশ্যই মেয়ে।
ওর যাবতীয় কিছুর দেখাশোনা করার জন্য।
সাথে থাকবে ২৪ ঘন্টা লাইভ মনিটরিং।
ঘরের দরজা খুলবে শুধু তারাই।
এক্সট্রা কেউ যেন এই রুমে ঢুকতে না পারে।
অন্য কোন গার্ডও না।
খাবার, ওষুধ, জামা—সব কিছুর ব্যবস্থা এখানেই কর।
এখানেই থাকবে ও আমার সাথে।
আর ওরা ততক্ষণ থাকবে যতক্ষণ আমি না থাকব।
ওকে এক মুহূর্তের জন্য একা ছাড়া যাবে না।।
___আর একটা কথা মনে রেখো ডিয়েগো…
ওদেরকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিও।
যদি ওর শরীরে আমি আর একফোঁটা ক্ষত দেখি…
আমি সব কিছু পুড়িয়ে ছাই করে দেবো।
এবার যেন আর আগের মতো ভুল না হয়।
___ডিয়েগো মাথা নাড়ায়।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৯

অজ্ঞানতার ঘোরে থাকা মেয়েটির চোখ থেকে ধীরে ধীরে একফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে…
জ্ঞান আসছে তার।
তার ভেতরে এক অসহ্য আর্তনাদ। সে এখনো জানে না তার স্বাধীনতা চিরতরে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সে এখনো জানে না, তার জীবন এখন আরেকজনের হাতে বন্দি…
আর সেই মানুষটা…
একটা হিংস্র জা*নোয়ার।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১১