Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ১৫

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১৫

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১৫
তানিয়া হুসাইন

ইশায়ার বুক ফেটে যাচ্ছে কান্নায় যন্ত্রনায়,
আত্মা যেন ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে।
সে এক কোণে গুটিয়ে পড়ে,
গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে রক্তমিশ্রিত অশ্রু,
আর বুক থেকে বেরিয়ে আসছে
একটা রুদ্ধ শ্বাসে ছিঁড়ে পড়া আর্তনাদ।
____কি করেছি আল্লাহ আমি।
কেন আমার সাথে এমন হচ্ছে,কোন পাপের শাস্তি দিচ্ছো তুমি আমাকে, আমি তো কিছুই করিনি।
ইশায়ার শরীর কাঁপছে,

___ব্যথায়, লজ্জায়, অপমানে।
সে চোখে মুখে হাত চেপে ধরে কাঁদতে থাকে,
কান্নার সেই শব্দ ঘরের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে।
____ভীর যাওয়ার সাথে সাথে গার্ডরা ঢুকে পড়ে রুমে।
-তারা অনুমতি ছাড়াই রুমে ঢুকে পড়ে।
ভীরের নির্দেশ ২৪ ঘন্টা তাকে চোখে চোখে রাখার।
____রুমের ভেতর ঢুকে প্রথমেই
তারা দেখে বিধ্বস্ত ইশায়াকে।
ফ্লোরে একপাশে পড়ে আছে অনবরত কান্না করে যাচ্ছে।
চুল গুলো এলোমেলো, গাউন ছেঁড়া,
গাল ফুলে গেছে, ঠোঁট ফেটে রক্ত ঝরছে।
___তারা এক মুহূর্ত থমকে যায়,
কিন্তু প্রশিক্ষিত চোখে দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে নেয়।
তাদের কারও চোখে সহানুভূতি নেই,
কেবল দায়িত্ববোধ।

____তাদের মধ্যে একজন ধীরে এগিয়ে আসে,
___ম্যাম, আপনি ঠিক আছেন?
___আরেকজন দ্রুত ওয়াকিটকি তে যোগাযোগ করে,
we need medical Team Immediate.
____তারা ইশায়াকে ধরার চেষ্টা করলে ,
ইশায়া প্রথমে সরে যায়, কাঁপা কণ্ঠে বলে,
___দূরে থাকো… কেউ ছোঁবে না আমায়।
—-কিন্তু তার শরীর ঠিক থাকতে পারে না,
নিতান্তই দুর্বলতায়, ব্যথায়, কান্নায় সে হেলে পড়ে,
___গার্ডরা খুব সাবধানে
তাকে তুলে বিছানায় বসায়।
একজন তার গালে ঠান্ডা কমপ্রেস রাখে,
আরেকজন সাদা চাদর দিয়ে তার শরীর ঢেকে দেয়।
কেউ কিছু বলে না,
ওরা তার ট্রিটমেন্ট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

ভীর রেগে বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে।
চোখের নিচে কালচে ছায়া,
মাথায় খুন চড়েছে,
তবুও মেয়েটাকে সে আঘাত করতে পারে না।
এটাই তার রাগের আসল কারণ।
এই অদৃশ্য বাধাটা তাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে ভিতর থেকে।
যেন কেউ তাকে টেনে ধরে রেখেছে,
তার নৃশংসতা থেকে,
তার নিজস্বতা থেকে।
___ভীর দ্রুত গাড়িতে ওঠে।
গাড়ির গতি যেন রাস্তাকে চিরে ফেলছে,
দ্রুত হাতে স্টেয়ারিং ঘোড়ায় ভীর।
___সে গিয়ে নামে
একটা গোপন মাফিয়া ক্লাবে।
যেখানে আইন ঢোকে না,
শুধু সিগারেটের ধোঁয়া, গ্লাসে ভরা আগুন,
আর টেবিলের নিচে চলা মৃত্যুর আলোচনা।
ভীর এক কোণে বসে,
চোখে সেই শূন্যতা।
এক গ্লাসে হুইস্কি তোলে,
চোখ বন্ধ করে নেয়,
যেন ভিতরের জ্বালা নিভাতে চাইছে।
আগুন জ্বলছে তার মাথায়।
___Why can’t I just break her… Why can’t I let go?

নিকো এখনো ফিরেনি।
রাজভীরের প্রাসাদের নীচতলার প্রাইভেট ওয়ার রুম।
___ডিয়েগো সালগাদো (PA), সান্তিয়াগো রোসাস (লিড গার্ড), এনরিকো, ম্যাটিয়াস, ও স্পেশাল অপস ইউনিটের ৮জন গার্ড।
____তারা তাদের মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কালকেই তাদের বেরিয়ে পড়তে হবে।
___ডিয়েগো স্যাটেলাইট ইমেজ নিয়ে আসে কলম্বিয়ার কো*কেন বেসগুলোর লোকেশন চিহ্নিত করে।
হাই-টেক স্ক্রিনে লাইভ ফিড চলে যেখানে দেখা যায় টার্গেট কার্টেলের ক্যাম্প, গার্ডের মোভমেন্ট।
____তারা তাদের লক্ষ্য চিহ্নিত করছে।
সান্তিয়াগো নেতৃত্বে আনা হয় এক্সক্লুসিভ অ*স্ত্র।
Hec*kler & Ko*ch G36 rifl*es, suppre*ssed Be*rettas, C4.

___প্রতিটি অস্ত্র টেস্ট করে নেয়া হয়।
এনরিকো ফায়ারিং রেঞ্জে গিয়ে প্রতিটি গার্ডের পার্সোনাল ট্রেইনিং করায়,
—কেউ একটা গুলি মিস করলে সরাসরি শাস্তি।
____কালো মিলিটারি কমব্যাট স্যুট, নাইট ভিশন গগলস, হেডসেট।
প্রত্যেকের হাতে লকড স্ক্যানার বেজড পি*স্তল, যা ভিন্ন কেউ চালাতে পারবে না।
____ম্যাটিয়াস একটা হোলো-স্ক্রিনে পুরো মিশনের ব্লুপ্রিন্ট তুলে ধরে।
___ডিয়েগো ভীরের ডান হাত,
পুরো হাউসে প্রস্তুতি সে সামলাচ্ছে।
___মিশনের জন্য চলছে টানা কাজ।
অস্ত্র গুছানো হচ্ছে ,
হাজারো সৈনিক,
___কমিউনিকেশন সিগন্যাল চেক, লোকাল পুলিশের হ্যান্ডলিং ,
গার্ডদের নতুন ইনস্ট্রাকশন দেওয়া,
এঞ্জেলো ও মার্কো ফিল্ডে বেরিয়ে গেছে,
রুটিন ক্লিয়ারেন্স ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে।
ভীরের অনুপস্থিতিতেও
সবকিছু চলছে সেনা ক্যাম্পের মতো।
কিছু থেমে নেই।

নিকো ফুর্তি করে ক্লাব থেকে ফিরেছে সদ্য,
ফুরফুরে মন তার,
যে কোন মিশনে যাওয়ার আগের রাতটা সে এভাবেই কাটায়।
নিজের ঘরে ঢুকে দরজা আটকে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে নিক।
ভয়ে ভয়ে ঢুকেছে সে যদি ভীর দেখে তাহলে আজ তার রক্ষে নেই।

রাত ৩টা।
ভীরের গাড়ি এসে থামে,
ভীর তার বেডরুমের দিকে হাটা ধরে।
____ভীর দরজায় হেলে পড়ে দাঁড়িয়ে,
ড্রাঙ্ক সে, আজ অতিরিক্ত হয়ে গেছে, চোখ দুটো লাল , ঠোঁটে অদ্ভুত নিঃশ্বাস।
এক হাতে বোতল, গলায় রক্তের দাগ লেগে আছে।
ওইখানে একজনকে মেরে এসেছে।
____রুমে একটার পর একটা গার্ড বেরিয়ে যেতে থাকে, ফিমেল অ্যাটেন্ডেন্ট ভীরকে কিছু বলতে যায়,
ভীর হাত দিয়ে থামিয়ে দেয়,
___সে আর কিছু না বলে,
রুম ত্যাগ করে দ্রুত।
___রুমে কেবল নিঃস্তব্ধতা, আর এক নিষ্পাপ ঘুমন্ত মুখ।
ভীর তাকায় বিছানায় শুয়ে থাকা রমনীর দিকে।
__পরনে তার সাদা ফিনফিনে সুতির জামা।
ড্রেসটা পাতলা ও নরম, যেন শরীর জড়িয়ে ধরেছে, ভেতরের হাড়-চামড়া স্পষ্ট প্রকাশ পাচ্ছে।
ভীর দরজা লক করে,
সামনে এগোয়,

___চোখের দৃষ্টি আরো গাঢ় হায় তার।
ইশায়ার বুকের একটু ওপর পর্যন্ত খোলা, যেখানে ভীরের নজর গিয়ে থেমে থাকে।
বিউটি বোনের মাঝে থাকা তিল আর তার থেকে ঠিক কয়েক আঙ্গুল নিচে থাকা আরেকটি তিলে নজর পরে ভীরের।
সাদা শরীরের এই কালো কুচকুচে স্পট দুটি জ্বল জ্বল করছে।
___মুখে ঘুমের ক্লান্ত ছায়া।
চিবুকে একটা নীলচে দাগ, ঠোঁট ফেটে গেছে হালকা, গালের পাশে মেডিকেল টেপ।
চোখের কোণে লাল রেখা
অতিরিক্ত কান্নার ফল।
___চুল এলোমেলো,
গাল ছুঁয়ে আছে কয়েকটা ভেজা দাগ, যেন ঘুমের মাঝেও কেঁদে গেছে।
মুখ ফ্যাকাশে, নিস্তেজ, ঠোঁট অল্প কাঁপছে ঘুমের ঘোরে।

ভীর তাকিয়ে থাকে অনেকক্ষণ।
চুপচাপ অবলোকন করেছে সে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।
চোখ ধীরে ধীরে নরম হয়ে যায় ভীরের।
___আধখোলা শার্ট টা এবার পুরোপুরি খুলে ফেলে সে,
তারপর ধীরে ধীরে পাশে শুয়ে পড়ে মাথা বালিশে রাখে,
সে কখনো কারো সাথে এক বিছানায় ঘুমায়নি।
সে জানেনা এই মেয়ের জন্য তার মধ্যে এত পরিবর্তন কেন আসছে।
এই মেয়ে আজ কিভাবে বেঁচে গেল তার হাত থেকে।
এসব প্রশ্নের কোন উত্তর নেই তার কাছে।
___অবশ্য জানতে ইচ্ছুক ও না সে।
এসব বিষয় নিয়ে ভাবার মত সময় নেই তার।
___ভীর ঘুমানোর চেষ্টা করে,
কালকে অনেক বড় একটা মিশন আছে তার।
কিন্তু ঘুম আসছে না কিছুতেই।
এপাশ ওপাশ করে অনেকক্ষন।
কিন্তু শান্তি পাচ্ছেনা সে

___একটু পর ইশায়ার কোমর স্পর্শ করে ভীর, এক টেনে আনে নিজের দিকে।
___হঠাৎ ধাক্কায় ইশায়া একটু নড়ে ওঠে,
ইশায়ার নিস্তেজ, কোমল শরীরটা ভীরের শক্ত বুকের উপর পড়ে।
ভীর একহাতে ইশায়ার জামার একটা বোতাম খুলে দেয়,
তারপর গলার ভাজে মুখ গুজে, লম্বা একটা শ্বাস নেয়।
ভীর তাকে দুই হাত দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে।
তার পা দুটো দিয়ে ইশায়াকে আকড়ে ধরে,
___গলার নিচের তিলটায় দাঁত বসিয়ে দেয়,
ইশায়া নড়ে ওঠে,

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১৪

কিন্তু দুর্বলতা আর ঘুমের ওষুধের প্রভাবে তার ঘুম ভাঙে না।
তারপর ভীর আলতো করে চুমু খায় সেখানে,
মুখ গুঁজে ফিসফিস করে বলে,
___তুই ছাড়া কিছু নাই আমার। তুই থাক, বাকি দুনিয়া পুড়ুক।
তবুও তুই থাক।
এইভাবে নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাস মিশিয়ে ভীর ঘুমিয়ে পড়ে,
একটা দানবের পাশে ঘুমিয়ে থাকে তার নিস্তেজ নারী।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১৬