সে আমার বন্দিনী পর্ব ১৪
তানিয়া হুসাইন
___ইশায়ার চোখ দিয়ে টুপ করে পানি গড়িয়ে পড়ে,
কিন্তু সে বাধা দেয় না।
কারণ তার হৃদয়ে বাজছে সেই একটাই শব্দ,
___বাঁচতে হলে মেনে নিতে হবে।
____কিন্তু সে নিজে বাঁচার কথা ভাবছে না।
তার তো আর বেঁচে থাকার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই।
কিন্তু তার পরিবার, তার পরিবারকে তো তাকেই বাঁচাতে হবে।
___ওদের কথা না মানলে,এই হিংস্র বর্বর লোকগুলো ওদেরকে বাঁচাতে দিবে না।
___ইশায়ার মাথায় শুধু একটা জিনিসই ঘুরপাক খাচ্ছে,
সাফার সাথে যা হয়েছে এরকম কিছু সে তার পরিবারের সাথে ঘটতে দিবে না।
___এজন্য যদি তার নিজের জীবন শেষ হয়ে যায় তাহলে শেষ হয়ে যাক।
নিজের পরিবারের জন্য এটুকু তাকে করতেই হবে।
ঘর জুড়ে ঘনীভূত নিস্তব্ধতা,
আর ইশায়ার বুকের ভেতরে ধুকপুক শব্দ যেন ভীর শুনছে।
ভীর এক ঝলকে ইশায়াকে দেখে।
তার চোখের দৃষ্টি আজ বেসামাল।
____ভীর নিজেকে নিয়ন্ত্রনে আনতে ঢোক গিলে,
তার এডামস আপেল কাঁপে—নরম আলোয় তাতে ছায়া পড়ে এক তীব্র টানটানির মতো।
চোখ দুটো আগুন ছুঁয়ে ফিরে আসে,
শিরা ফুলে ওঠে হাতের, নিঃশ্বাস ভারী হয়,হিংস্রতা আর আকাঙ্ক্ষার মাঝখানে দোদুল্যমান এক বিস্ফোরণ।
ভীর নিজেকে ধরে রাখে… কেবল একটুখানি।
তার হাতের তালু মুচড়ে ওঠে, যেন শরীর চায় এগিয়ে যেতে, কিন্তু মন টেনে ধরে,
___ ভীর ধীরে ধীরে আঙুলের ডগা বেয়ে স্পর্শ ছড়িয়ে দেয় তার শরীরে।
তার আঙুল যেন আগুনে মোড়ানো,
উত্তপ্ত ছোঁয়া…
ইশায়ার ঘাড় ছুঁয়ে গাল বরাবর উঠে আসে সেই আঙুল…
তারপর ঠোঁটের উপরে তিলটাকে ঘিরে এক চক্র আঁকে।
যেনো সে খেলা করছে।
___ইশায়ার শরীরে বেগতিক কম্পন,
এক মুহূর্তের জন্য সে চোখ বন্ধ করে নেয়,
কিন্তু তার শরীর বার বার কেঁপে কেঁপে উঠছে।
ভীতু হয়ে পড়ে সে, তবুও নিজেকে সরাতে পারে না।
____ভীর নিচু হয়ে আসে,
তার উত্তপ্ত ঠোঁট ছোঁয়ায় ঠোটের উপরের তিলটাতে।
প্রথমে হালকা, এরপর গভীর, তারপর শব্দ করে চু*মু খায়।
একটা, দুইটা, তিনটা…
বারবার চুমু খেতে থাকে সে, যেন এই তিলই ভীরের মগ্নতার কেন্দ্র।
____ইশায়ার নিশ্বাস হঠাৎ অসংলগ্ন হয়ে পড়ে,
তার বুক উঠানামা করে ঘন ঘন,
এবং… তার হাত গিয়ে চেপে ধরে ভীরের ঘাড়।
তার শরীর এক ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে খামছে ধরে,
নখ ঢুকে পড়ে ভীরের ত্বকে।
____কিন্তু ভীরের ভ্রুক্ষেপ নেই—
উল্টো সে আরও গাঢ়, আরও রুক্ষ, আরও দাবিদার হয়ে ওঠে।
___ভীর মাথা ওঠায় তাকায় ইশায়ার মুখের দিকে, কিন্তু সেকেন্ড এর মাঝে ঝড়ের গতিতে ইশায়ার ঠোঁট আকড়ে ধরে,
চুমু নামতে শুরু করে… ঠোঁট থেকে ঠোঁটে।
___ইশায়ার হাতের মুঠো শক্ত হয়।
দম বন্ধ হয়ে আসে।
___ভীর ইশায়ার ঠোঁটের মৃদু কাঁপন টের পায়,
আর সেই কাঁপন তার উন্মাদনা বাড়িয়ে দেয়।
এক তীব্র চু*মু দিয়ে ইশায়ার ঠোঁট নিজের করে নেয় সে।
___গভীরতা বাড়তে থাকে…
শুধু ঠোঁট নয়, তার সত্ত্বাকেও গ্রাস করতে চায় যেন।
___ভীরের ঠোঁটের তীব্র দংশনে ইশায়ার জান যায় যায় অবস্থা।
ইশায়া একবার, দুবার, বারবার সরে যাওয়ার চেষ্টা করে,
তার হাত দিয়ে ভীরকে ঠেলতে চায়, নিজের মুখ ফিরিয়ে নিতে চায়।
____কিন্তু ভীর তেলে জ্বলা আগুনের মতোই আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ইশায়া যত সরাচ্ছে ভীর তত আকড়ে ধরছে তাকে।
এ যেন এক নীরব যুদ্ধ।
___ইশায়ার ছটফটানি যখন বেরে যায়,
ভীর এক হাতে ইশায়ার দুই হাত জোর করে চেপে ধরে,
আর অন্য হাতে কোমর শক্ত করে নিজের দিকে টেনে নেয়।
____ব্যাথা সহ্য করতে পারেনা ইশায়া,
চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে…
তবুও তার ঠোঁট জুড়ে রয়ে যায় ভীরের গরম নিঃশ্বাস।
ভীরের কাছে এই চোখের পানির কোন মূল্য নেই।
এরপর, ভীর হঠাৎ এক ঝটকায় ইশায়াকে কোলে তুলে নেয়।
____ইশায়া চমকে উঠে,
তার হাত আঁকড়ে ধরে ভীরের কাঁধ।
____তখনো ভীর তার ঠোঁট থেকে ঠোঁট তুলছে না,
একটা ক্ষণিক বিরতি ছাড়া
তাকে চুমু খেতে খেতে বিছানার দিকে এগিয়ে যায় ভীর।
বিছানার কাছাকাছি এসে ভীর এক ঝাঁকুনি দিয়ে ইশায়াকে বিছানার মাঝখানে ফেলে দেয়।
ইশায়ার লম্বা চুল ছড়িয়ে পড়ে সাদা বিছানায়,
তার চোখ ভিজে, ঠোঁট লাল হয়ে আছে,
আর শরীর কাপছে…
কিন্তু মুখে একটিও শব্দ নেই,
শুধু চোখ দুটো বলে দিচ্ছে,
সে নিজের নিয়তির সামনে দাঁড়িয়ে গেছে।
ভীর এবার এক লম্বা শ্বাস নেয়।
তার বুকের পেশি ওঠানামা করছে।
আস্তে আস্তে হাত যায় নিজের কালো শার্টের বোতামে…
একটা, দুইটা… তারপর এক ঝটকায় সব বোতাম ছিঁড়ে খুলে ফেলে,
ছুড়ে মারে দূরে, এক কোণে ছিটকে পড়ে।
____ভীরের চোখ এখন শুধু একটাই জিনিস চায়—
ইশায়া রহমান।
এবং এই রাত হবে সাক্ষী…
যে রাজভীর আলভারেয কাউকে ভালোবাসা বোঝাতে জানে না।
সে জানে আবেগের ছোবলে পিষে দিতে,
নিজের করে নিতে…
যাকে সে একবার বেছে নেয়, সে আর কারো হতে পারে না।
____চাঁদের আলো জানালার পর্দা ছুঁয়ে মেঝেতে নেমে এসেছে।
বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাজভীরের চোখ দুটো একেবারে লাল।
সেই চোখে এখন শুধু একটাই জিনিস উন্মাদ অধিকার।
____ইশার নিঃশ্বাস জোরে ওঠানামা করছে।
তার বুক ধকধক করছে।
___ভীর ধীরে ধীরে তার দিকে এগোয়।
তার চোখে সেই অদ্ভুত আগুন,
যেটা নেভে না, শুধু ছড়িয়ে পড়ে।
___ইশায়ার গাউন সরে যাওয়ায় তার উন্মুক্ত পা দৃশ্যমান।
ভীর ধীরে ঝুঁকে পড়ে।
পায়ের নগ্ন ত্বকে তার ঠোঁট স্পর্শ করে।
একটা গভীর চুমু,
যেটা একেবারে আত্মা কাঁপিয়ে তোলে ইশায়ার।
তাপ, তীব্রতা আর একটা আগ্রাসী মায়া…
যেন ওটা চুমু না, দখলের ঘোষণা।
___ইশায়ার শ্বাস কেঁপে ওঠে, তারপর এক ঝটকায় দূরে সরে যায়,
তাড়াহুড়ো নয়, কিন্তু পরিষ্কার সে পালাতে চাইছে,
ভীরের থেকে দূরে যেতে চাইছে।
____ভীরের ঘোরের মধ্যে হাস্কি স্বরে বলে ওঠে,
____Get Over here. Don’t push me to take what’s already mine.
তার ঠান্ডা কণ্ঠ, কিন্তু তাতে এমন এক হিমেল বিষ ছিল, যা শরীরের ভিতর জমে যায়।
___ইশায়া আসে না।
ভয়ে কুকড়ে যাচ্ছে সে।
ইশায়া ফুঁপিয়ে উঠে চোখ নামিয়ে নেয়,
___ভীর একটানে তাকে নিজের কাছে আনে।
ভীর ধীরে শক্ত হাতে,
ইশায়াকে নিজের দিকে টেনে আনে,
ইশায়ার পুরো শরীরটা যেন বিদ্ধ হয়ে যায় তার আকর্ষণে,
তার কণ্ঠ সোঁদা হয়ে যায়,
কিন্তু কোনো কথা বের হয় না—
শুধু শ্বাসের শব্দ।
তার ঠোঁট গালের সন্নিকটে পৌঁছায়,
আর ভীরের স্নায়ুর উত্তেজনা ধীরে ধীরে চড়ে যায়।
একটি তীব্র আকাঙ্ক্ষা
একটি নির্মম দখলের প্রবিত্তি তার ভেতরে ঘুরতে থাকে। ভীর যখন তার হাতে ইশায়ার গাউনের চেইনটা নামাতে থাকে,
ইশায়ার পিছু হটে না,
তবে তার হৃদয়ে ভয় আর অনিশ্চয়তার এক শক্তি কাজ করে।
গাউন সরে আসতে থাকে,
তার কোমরের কাছ পর্যন্ত চলে আসে,
আর ভীরের হাত এবার পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ে,
মুখে গভীর তৃষ্ণা,
তার চোখে শুধু অপেক্ষা,।যেন এই এক মুহূর্তেই সব কিছু হারিয়ে যাবে।
ভীর জামার হাতা কাধ থেকে নামিয়ে যেই সেখানে মুখ গুজতে যাবে,
তখনই—
ইশায়া আর সহ্য করতে পারে না,
সে হঠাৎ চিৎকার করে কেঁদে ওঠে,
গলা চিড়ে বেরিয়ে আসে তার ভিতরের ক্ষত।
____ভীরের ঘোর,
তার সমস্ত মনোসংযোগ চূর্ণ হয়ে যায়।
একটি অস্বাভাবিক রাগ.
ভীরের চোখে আগুনের ফুলকি।
এই মুহূর্তে, তার রাগ যেন এক টুকরো বিস্ফোরণ,
তার সমস্ত অনুভূতি যেন একটি কন্ট্রোলহীন আগ্নেয়গিরি।
___ভীর তার কাজের মধ্যে কোন ব্যাঘাত সে কখনো সহ্য করতে পারে না।
এই মুহূর্তে তার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে ইশায়ার উপর।
ইশায়ার এই প্রত্যাখ্যান সে মেনে নিতে পারছে না।
সে ভীর,
রাজভীর আলভারেয তাকে প্রত্যাখান,
তার কাজে বাধা দেওয়া।
ভীরের মেইল ইগো হার্ট হয়।
____সে মাফিয়া বস,
সব কিছু তার হাতের মুঠোয়।
সে যা চাইবে তাই হবে।
সবকিছু তার মর্জি মতো হবে।
তাহলে এই মেয়ের সাহস কি করে হয় তাকে বাধা দেওয়ার।
___ভীর সব কিছুকে একেবারে ভেঙে ফেলে।
মুহূর্তের মধ্যেই ঘরের সব কিছু ভেঙে চুরে শেষ করে ফেলে।
ভীরের চোখের মাদকতা বদলে যায় তীব্র রাগে,
তার সমস্ত কিছু যেন আগুনে পুড়ে যাচ্ছে।
মাথার রগ ছিঁড়ে যাচ্ছে রাগে।
তাকে আর কিছুই ঠেকাতে পারে না।
___ Fu***** DON’T YOU EVER PUSH ME AGAIN.
তার শ্বাস কেঁপে ওঠে,
এক ঝটকায় ইশায়ার গলা চেপে ধরে।
এমন শক্তিতে ধরে
যেন কোনো কৌশল বা ক্ষমতা নেই কারোর হাত ছাড়ানোর।
শুধু আগুনের তীব্রতা।
ইশায়া কাশতে থাকে,
ইশায়া হাত ছোটাতে যায়।
ভীর হাতের চাপ আরো গাঢ় হয়।
ইশায়া ছটফট করতে শুরু করে।
___দম বন্ধ হয়ে আসছে তার।
কিন্তু ভীরের হাতের শক্তি তাকে অবশ করে ফেলছে।
____ইশায়া কেঁদে ওঠে,
তার গলার মধ্যে কোনো শব্দই বের হয় না।
তার শরীরে ব্যথা, যন্ত্রণার ঝাঁকুনি,
এমনকি চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা হয়ে আসে।
___ইশায়াকে নেতিয়ে পড়তে দেখে ভীর ছেড়ে দেয়।
___এক ঝটকায় সে ইশার হাত ধরে, এমন জোরে মোচড় দেয়, যে হাড় কড়কড়ে শব্দ করে ওঠে।
____আঁআহহহ…”
ইশা চিৎকার করে কেঁদে ওঠে।
ভীরের দয়া হয় না।
___ভীর এবার তার গাল চেপে ধরে, দেয়ালে ঠেসে ফেলে তাকে।
____তুই শুধু আমার। তোর ওপর কারো অধিকার নেই, এমনকি তোর নিজেরও না। আমি বললে তুই হাসবি, আমি বললে তুই কাদবি।
যা বলব তাই করবি, আমার কথা অমান্য করার সাহস তুই কোথায় পেলি।
____চিৎকার করে বলছে ভীর।
___তার মুখ ইশার মুখের এত কাছে যে তাদের নিঃশ্বাস একে অপরের চামড়া জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
ইশার চোখে এখন শুধুই জল। বুক ধকধক করছে।
____ইশায়াকে চুপ থাকতে দেখে ভীর আরো রেগে যায়,
সে কিছুতেই মানতে পারছে না একটু আগের প্রত্যাখ্যান,
____ভীর ইশায়ার গালে ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।
____নাটক করিস আমার সাথে?
আরও এক চড় পড়ে ইশায়ার গালে।
তারপর সে ইশায়ার চুল টেনে নিচে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।
ইশায়া পড়ে যায় মেঝেতে। হাঁটু গেড়ে বসে কাঁপছে। মুখে রক্ত। ঠোঁট ফেটে গেছে।
ভীর নিজেকে কন্ট্রোলে আনতে পারছে না।
রক্তাক্ত মুখ, চোখের কোণে কান্না, ঠোঁট কাঁপছে।
কান্নার দরুন হেঁচকি উঠছে বারবার।
___ভয় পাস না আমাকে না? ভালো… ভয়ই পাবি।
ভয় পাবিইইইই তুই আমাকে। চিৎকার করে বলতে থাকে ভীর।
সে এবার কোমরের বন্দুক বের করে ইশার কপালে ঠেকিয়ে দেয়।
ইশার চোখ উলটে যায়, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে ভয়ে।
____মাই লিটল কুইন, তুই হয় আমার হাতে বাঁচবি… না হয় মরে যাবি। মিডওয়ে কিছু নেই।
___ইশায়া নেতিয়ে পড়ে,
ফ্লোরে পরে যায়।
এত অত্যাচারে এতো ধকল সে আর সহ্য করতে পারছে না।
____ইশায়াকে পড়ে যেতে দেখে ভীর থামে।
থামতে বাধ্য হয়।
___ইশায়ার চোখ নিভু নিভু।
___ভীর শার্ট নিয়ে পড়তে থাকে,
তোর ভাগ্য ভালো মেয়ে,
গলায় কাপন নিয়ে বলে ভীর,
___ভীর আলভারেয আজ নিজেকে থামাল।
নইলে তোকে আমি খতম করে দিতাম।
____ভীর উঠে দাঁড়ায়।
সে দরজার দিকে এগোয়, তারপর থেমে যায়।
পিছে ফিরে শুধু একটা কথাই বলে,
“তুই বাঁচবি… কিন্তু খাঁচায়। ঠিক যেভাবে আমি তোকে রাখবো।
দরজা খোলে…
একটা ধাতব শব্দ,ভীর বেরিয়ে যায়..
তারপর দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।
সে আমার বন্দিনী পর্ব ১৩
_____ইশা হাঁপাচ্ছে, কাঁদছে, নিচে মুখ গুঁজে চিৎকার করছে।
ইশায়া হাপাতে হাপাতে হু হু করে কেঁদে ওঠে,
বুক ফাটা কান্না আহাজারি,
কেবল একটা শব্দই ধ্বনিত হচ্ছিল,
___মা”’।
