Home প্রিয় বেলিফুল প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১০

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১০

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১০
উম্মে হাবিবা

~~ কাঁদছো কেনো তুমি? ঐ মেয়ে আমার হাত ধরেছে এই জন্য,,নাকি অন্য কোনো কারণ আছে?
ও আপনার হাত কেনো ধরবে, ওকে এতো সাহস কে দিয়েছে?খু/ন করে ফেলবো ওকে আমি।
রাগে সব ভুলে কি বলছে সোহা নিজেও জানে না।
রুদ্রের ঠোঁটের কোনো সামান্য হাসি দেখা যায়।সে বেশ ভালোভাবে বুঝতে পারছে তার জন্য সোহার মনে একটু হলেও অনুভূতি জন্মেছে।
রুদ্র সিটবেল খুলে সোহাকে আলতো হাতে জড়িয়ে ধরে নিজের বুকের মধ্যে।
হুশ কান্না বন্ধ করো।

সোহার যখন বুঝতে পারে রুদ্র তাকে জড়িয়ে ধরেছে তার হার্টবিট বেড়ে যায়। সে তারাতারি করে সরে আসে। লজ্জায় দুগালে লাল আভা দেখা যায়।
রুদ্র সোহার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে __
তুমি কাল আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলে না আমি কখনো তোমাকে নিজের স্ত্রীর অধিকার দিবো কিনা? কখনো তোমাকে ভালোবাসতে পারবো কিনা। শুনো মেয়ে দুজনের অজানতেই আমরা একে অপরে সাথে এক পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। যা পৃথিবীর সব সম্পর্কের মধ্যে সব থেকে সুন্দর আর পবিত্র সম্পর্ক। আমি তোমাকে সম্পূর্ণ রুপে মেনের চেষ্টা করবো।আমি চাইবো আমাদের সম্পর্ক টা সামনে আগাতে। তোমাকে ভালোবাসতে। তোমার সব রকম দায়িত্ব আমার। তুমি আমার বউ। এখন তুমি কি চাও বলো? আমি তোমার মতামতের সম্পূর্ণ গুরুত্ব দিবো।
তুমি আমার বউ, বউ শব্দ টা শুনে সোহার মনো হলোএকটা শীতল স্রোত বসে গেলে যেনে।

সোহা!
জ্বি।
বলো কি চাও তুমি?
আপনার পরিবার কে নিজের করে নিতে আর আপনার পরিবারের সাথে থাকতে চাই।
শুধু আমার পরিবারের সাথে থাকতে চাও? আমার সাথে চাও না।
রুদ্রের কথায় সোহা ভিষন লজ্জা পায়।
কি আর করার বউ আমার সাথে থাকতে চায় না মনে হয় সারা জীবন একলাই কাটাতে হবে।
বলেই সোহার দিকে তাকায়। উফ মেয়েটা লজ্জা পেলে এতো মায়াবি লাগে কেনো?
রুদ্র কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সোহা আরো বেশি লজ্জা পায়। বলার মতো কিছু খুঁজে না পেয়ে বলে বসে___

আ-আমার ক্ষুদা পেয়েছে। যদিও সত্যি ওর ভিষন খিদা লাগছে।
রুদ্র নিজের সিট বেল্ট বেধে নেয়।
তাদের গাড়ি এসে থামে একটা ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টের সামনে।
এখানে নিয়ে এলেন কেনো?
তুমি না বললে তুমি খাবে!
বাসায় চলে গেলেই তো হতো। এখান থেকে বাসায় যেতে সময় লাগবে।
রুদ্র গাড়ির দরজা খুলে সোহাকে নেমে আসতে বলে। তার পর হাত ধরে নিয়ে যায় ভিতরের দিকে।
কি খাবে বলো?
আপনি যা অর্ডার দিবেন।
এখন দুপুর তো বিরিয়ানি চলবে?
হুম।
তোমার পছন্দ বিরিয়ানি?
ভিষন পছন্দ।

খাওয়া শেষে দুজনে যখন গাড়িতে বসে তখনি রুদ্রের মোবাইলে রৌদের কল আসে। রুদ্র ফোন স্পিকারে দিয়ে রৌদের সাথে কথা বলে__
হ্যালো।
ভাইয়া কই আছিস আর ভাবি কই?
এই তো বাসার দিকে আসছি আর সোহা আমার পাশেই আছে। কি হয়েছে বলতো?
ফুফু এসেছি সাথে আদিবা আপুও।
হও আচ্ছা রাখ আসছি আমি।
কি হয়েছে?
আমার ফুফু আর তার মেয়ে এসেছে।
ওহ কিন্তু রৌদের কন্ঠ টা কেমন যেনো লাগলো।
ওসব কিছু না।
গাড়ি এসে থামে বাড়ির পার্কিং এরিয়াতে। রুদ্র সোহা দুজনেই নেমে পড়ে গাড়ি থেকে। রুদ্র নেমে সোহার হাত শক্ত করে ধরে বাসার দিকে হাটাধরে।
একবার বেল বাজতেই দরজা খুলে যায়। সামনে রৌদ দাঁড়িয়ে যেনো তাদের আসার অপেক্ষায় দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলো।

কি হয়েছে এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?
রোদ ফিসফিসিয়ে বলে___ভিতরে আসো আর ভাবিকে একা রেখে একদম রুমে যাবে না।
দুজনে ভিতরে প্রবেশ করতেই হঠাৎ কেউ একজন রুদ্র কে জড়িয়ে ধরে।
হেই রুদ্র কেমন আছো?
রুদ্র ঝাটকা মেরে সরিয়ে দেয় মেয়েটাকে।
সোহা তাকিয়ে দেখছে মেয়েটাকে __ফর্সা গায়ের রং মুখে এক গাদা মেকআপ চুলগুলো কেমন ঘোড়ার লেজের মতো পায়ে হাইহিল আর কিসব টাইট জামা পড়ে আছে। পোশাকের উপরদিয়ে শরীরের প্রতিটাভাজ স্পষ্ট। সোহা নাক ছিটকায়।
রুদ্র মুখটা গম্ভীর করে বলে__

এসব গায়ে পড়া সভাব আমার একদম পছন্দ না আদিবা। দূরে থেকে কথা বলো।
আদিবা অপমান বোধ করে। তারপর ও বেহায়ার মতো বলে উঠে_
আসলে অনেকদিন পর তোমাকে দেখে এক্সাইটেড হয়ে গিয়েছিলাম৷
রৌদ বলে উঠে,, কোথায় অনেক দিন আপু মাত্র তো পনেরো দিন দেখো নি।
আদিবা হেসে বলে রুদ্রের থেকে পনেরোদিন দূরে থাকা আমার জন্য পনেরো বছরের সমান।
এসব শুনে সোহা ভিতরে ভিতরে রাগে ফুসছে। তার একটা মাত্র জামাইকে নিয়ে কেনো সবার এতো টানাটানি করতে হবে। ইচ্ছে করছে এই আদিবা নামে মেয়েটার গোড়ার লেজের মতো চুলগুলো সব ছিড়ে পেলতে। উফ অসহ্যকর মেয়ে একটা। আর উনাকেও বলিহারি, এখনো দাঁড়িয়ে আছে কেনো এই মেয়েটার সামনে।
কিন্তু আদিবা আপু এখন তো তোমাকে সব সময়ের জন্য ভাইয়ার থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ এখন ভাইয়ার কাছে কাছে থাকার জন্য ভাবি চলে এসেছে।

আদিবা এবার সোহার দিকে তাকায়।সোহা জোরপূর্বক মুখে হাসি নিয়ে আসে।
ছিঃ রুদ্র তোমার চয়েজ এতো খারাপ আগে জানতাম না তো। এমন কালো একটা মেয়েকে তুমি কিভাবে বিয়ে করতে পারলে। তোমার সাথে ওকে মানায় না একদমি।
মুখ সামলে কথা বলো আদিবা। ও আমার স্ত্রী ওকে অপমান করা মানে আমাকে অপমান করা। দ্বিতীয় বার এমন কথা তোমার মুখ থেকে শুনলে এমন অবস্থা করবো যে মুখ দিয়ে কথা বের হবে না।
তখনি রুনিয়া মেহতাব আর রাজিয়া চৌধুরী বেরিয়ে আসেন। রাজিয়া রোদ আর রুদ্রের ফুফু।
তিনি এসেই আগে সোহার দিকে তাকায়। রুনিয়া মেহতাব বলেউঠে__বউমা ও রাজিয়া তোমার ফুফু শাশুড়ী।
আস-সালামু আলাইকুম ফুফু। সোহা হাসি মুখে সালাম দিলেও রাজিয়া বেগমের মুখ কালো করা। তিনি রুদ্র বলা প্রতিটা কথা শুনেছেন। একবার সোহার দিকে তাকায়।ফের রুদ্রের দিকে তাকিয়ে কড়াগলায় বলে__
একটা ছোটলোক মেয়ের জন্য তুমি আমার মেয়েকে অপমান করছো রুদ্র। কি ভুল বলেছে ও। দেখো মেয়েটা কালো পড়াশুনা কম আমাদের মতো উচ্চবংশীয় না। কি দেখে ভাইজান তোমার গলায় এমন একটা মেয়েকে জুলিয়ে দিতে পারলো।

ঠিকি বলেছেন ফুফু। বাবা কি ভেবে আমার গলায় জুলিয়ে দিলো। রুদ্রের কথা শুনে সোহার এতক্ষণ ধরে ভিতরে জ্বলতে থাকা রাগ থপ করে নিভে সেটা কষ্টে পরিনত হয়। তবে কি রুদ্র তার গায়ের রং নিয়ে তাকে উপহাস করবে। এসব ভেবে চোখ জোড়া টলমল করে উঠে। আর রাজিয়া চৌধুরীর মুখে সামান্য হাসি ফুটে উঠে। তার মনে হলে সে রুদ্রের মনে বিষ ডুকাতে কিছুটা সক্ষম হয়েছে। তিনি উত্তেজিত কন্ঠে আরো কিছু বলবে তার আগেই রুদ্র আবার বলে উঠে__

আসলেই বাবা কিভাবে করতে পারলো এটা,, তিনি কিভাবে আামর জন্য এমন পারফেক্ট একজন লাইফ পার্টনার খুজে বের করলো। আমি নিজে খুঁজেও সোহার মতো কাউকে পেতাম না সেখানে বাবা না চাইতে এনে দিয়েছেন।বাবাকে অন্তত একটা ধন্যবাদ আমার দেয়া উচিত কিবলো ফুফু।
রুদ্রের এসব কথায় যেনো অবাক হতে ভুলে যায়। সে কি ভাবলো আর রুদ্র কি বললো। রাজিয়া বেগম তো হতভম্ব হয়ে যায়।সে কি ভেবেছিলো আর কি হলো। তিনি কড়া চোখে তাকায় সোহার দিকে। তারপর কিছু বলবে এমন সময় রুনিয়া মেহতাব বলে উঠে__
রাজিয়া আমার বউমা সেই কখন তোমাকে সালাম দিয়েছে তুমি কি উত্তর নিয়েছো।
রাজিয়া চৌধুরী কিছু বলার জন্য মুখ খোলার আগেই রুনিয়া মেহতাব হাতের ইশারায় থামিয়ে দেন। আমি বলেছি তুমি কি সালামের উত্তর দিয়েছো?
রাজিয়া চৌধুরী মুখ ভার করে উত্তর দেন। রুদনিয়া মেহতাব রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলেন __ সোহাকে নিয়ে উপরে যাও,, ও ক্লান্ত মনে হচ্ছে।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৮+৯

রুদ্র সোহার হাত ধরে উপরে নিজেদের রুমে যাচ্ছে। সোহা রুদ্রের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। শেষ সিড়িটা পার হওয়ার আগে পিছন ফিরে দেখে আদিবা আর রাজিয়া চৌধুরী রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। হঠাৎ সোহার যে নো হলো। সে পিছন ফিরে তাদের দিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটলো।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১১