সে আমার বন্দিনী পর্ব ২৩
তানিয়া হুসাইন
ভীরের ঘুম ভাঙে দুপুরের কাছাকাছি।
ঘরের ভিতর হালকা সোনালি আলো ছড়িয়ে পড়েছে ভারী পর্দার ফাঁক দিয়ে।
ভীর চোখ খুলে প্রথমেই অনুভব করে তার বুকের ওপর গুটিয়ে থাকা ইশায়ার কোমল শরীরের উষ্ণতা।
চোখে এক চিলতে শান্তির ছায়া ভেসে ওঠে।
তার মুখের খুব কাছেই ইশায়ার মুখ,
ভেজা পাপড়ির মতো চোখ, থিতু শ্বাস, এক অদ্ভুত অসহায়তা মাখানো নরম মুখ।
সেই মুখে দৃষ্টি আটকে যায় তার।
তার দখলদারির চিহ্ন বহন করছে সমস্ত শরীর জুড়ে।
___ভীর খুব সাবধানে ইশায়াকে বিছানায় শুইয়ে দেয়, যেন কোথাও স্পর্শে তার ঘুম না ভাঙে।
তারপর নিজে উঠে পড়ে,
একবার পেছন ফিরে তাকায়, তারপর হাঁটা দেয় ওয়াশরুমের দিকে।
___লম্বা এক শাওয়ার নেয় ভীর।
তার সমস্ত শরীরজুড়ে যেন ইশায়ার স্পর্শের স্মৃতি ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
পানির নিচে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে, শরীরে ইশায়ার নখের আঁচড় এর দাগ স্পষ্ট।
শরীরের প্রতিটি শিরায়, মনোজগতে, অনুভবের গভীরে কেবল একটিই নাম।
___শাওয়ার শেষে ভীর গা মুছে বেরিয়ে আসে।
ক্লজেট থেকে বের করে সাদা একটী স্লিম ফিট গেঞ্জি, ওপরে কালো কালার হুডি, আর হালকা গ্রে কার্গো প্যান্ট।
চুলগুলো ভিজেই রেখেছে, এক হাত দিয়ে আলতোভাবে ঝাঁকিয়ে নেয়।
ঘড়ি পরে, পকেটে ফোন রাখে।
___ইশায়াকে ডাকবে এমন সময় ফোন বেজে ওঠে ভীরের।
নিকোর কল দেখে রিসিভ করে দ্রুত।
___ভীর ফোন কানে নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে বলে ওঠে,
হ্যাঁ বলো।
ওপাশ থেকে নিকোর গলা,
— ব্রো,
লাস কালদেরাস অঞ্চলে নতুন একটা অ*স্ত্র ডিল আসছে।
আমাদের লোকজন একটা লট নিয়ে এসেছে। তুমি একবার দেখবে?
আজই চেক করতে হবে।
হলে দ্রুত আসো।
আমি ওখানেই আছি।
___ভীর আর কিছু না বলে একটাই শব্দে উত্তর দেয়,
ওকে,আসছি।
____ভীর নিচে নামে।
ড্রাইভওয়েতে দাঁড়িয়ে আছে সান্তিয়াগো।
পেছনে কালো ম্যাট এসইউভি গাড়ি রেডি।
ভীর গাড়িতে ওঠে, কোনো কথা না বলে গন্তব্যের দিকে রওনা হয়।
____লাস কালদেরাসের বাইরে পুরনো একটা গুদামে বৈঠক।
ভেতরে ৫-৬ জন অ*স্ত্র সরবরাহকারী, মুখ ঢাকা, এক টেবিলে তিন ধরণের অ*স্ত্র,
স্নাই*পার, সাই*লেন্সার গ্ল*ক, আর ক্লাসিক Ak 4 7এর উন্নত ভার্সন।
ভীর গা ঝাড়া দিয়ে হুড খুলে অ*স্ত্রগুলো পরীক্ষা করে।
তার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ, ঠান্ডা।
হাত দিয়ে স্পর্শ করে, ব্যালেন্স দেখে, গুলি লোড করার শব্দ শুনে।
তার এক চাহনিতেই পাশে থাকা এক লোক কাঁপতে থাকে,
ভীর প্রশ্ন করে,
— These are Russian batches.
Why are they marked Cuban?
লোকটা জবাব দেয়,
— Sir, just to avoid customs tracking.
ভীর আর কিছু বলে না,
ডিল হয়ে যায়, অ*স্ত্র পাশের গুদামে পাঠিয়ে দিয়ে ভীর গাড়িতে ফিরে আসে।
প্রাসাদে ফিরে এসে ভীর ডাইনিং টেবিলে বসে।
চারদিক মার্বেল ফ্লোর, বিশাল ঝাড়বাতি, এবং সারি সারি বডিগার্ড নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে।
___টেবিলে সাজানো আছে মেক্সিকান বিলাসী খাবার,
গ্রিন চিলি সস ও চিকেন দিয়ে তৈরি নরম টরটিলা।
ডিম, বীন্স ও সস দিয়ে তৈরি হালকা ব্রেকফাস্ট।
ব্রেডের ওপরে বিন পেস্ট ও চিজ।
–তাজা ফলের রস ও কফি।
___ভীর চামচ হাতে তুলতেই বলে ওঠে,
—ইশায়া উঠেছে।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মারিয়া এলেনা দ্রুত উত্তর দেয়,
— জ্বী, বস।
ভীর আবার ও বলে,
—ব্রেকফাস্ট করেছে?
মারিয়া মাথা নাড়ে,
— না।
ভীরের কপালে ভাঁজ পড়ে যায়।
— কেনো?
— বস, ম্যাম সকালে কিছু খান না। প্রতিদিন সন্ধ্যায় হালকা কিছু খান, আর রাতের খাবার খান।
___ভীরের ঠোঁট শক্ত হয়ে আসে।
খায় না মানে?
আমি তোমাদের বলেছি না তার খেয়াল রাখতে,সবকিছুর।
খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে এভরিথিং।
তাহলে ও ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না এই খবরটা আমি জানি না কেন।
— স্যার, আমরা চেষ্টা করি, কিন্তু ম্যাম আমাদের কথা শুনেন না।
____ভীর দাঁতে দাঁত চেপে ধরে, চোখ দুটো রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।
এই মেয়ে কি ভাবছে?
না খেয়ে খেয়ে মরে যাবে,
এভাবে সে আমার হাত থেকে বাঁচতে পারবে।
এটা আমার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার ছুতো?
তাহলে তুমি ভুল ইশায়া জারিন।
ভীর এর খাঁচা থেকে মুক্তি পাওয়া এত সহজ না।
ভীর ধীরে বলে,
— রুমে খাবার নিয়ে যাও।
এখনই।
___মারিয়া মাথা ঝাঁকিয়ে রওনা হয়,
দুইজন গার্ডকে নির্দেশ দেয়।
____হালকা বাতাসে পর্দা নড়ছে, বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে আছে ইশায়া।
চোখ খুলে তাকিয়ে আছে,
হালকা আলো, শরীর অবসন্ন, মাথা ভারী।
____এমন সময় দরজা খোলে।
একটি ট্রলি ভিতরে আসে, খাবার রাখার,
__দুধ, অমলেট, ব্রেড জেলি, জুস, ও কিছু ফল।
মারিয়া এগিয়ে এসে বলে,
— ম্যাম, বস বলেছেন খাবার গুলো খেয়ে নিতে।
না খেলে তিনি রেগে যাবেন।
আপনি খাবারটা খেয়ে নেন।
ইশায়া চোখ বন্ধ করে বলে,
— আমি এখন খাবোনা। আমি এমনিতেই এই সময় কিছু খাই না। তোমরা এগুলো নিয়ে যাও।
—ম্যাম, দয়া করে খেয়ে নিন। আপনি না খেলে,
—তোমরা যাও বলছি! আমার শরীর খারাপ লাগছে। আমি খাবো না এখন। পরে খাবো।
___ ঠিক ওই মুহূর্তে ভীরের আগমন ঘটে।
দরজা এমন জোরে খোলে যেন বাতাস থমকে যায়।
ভীর এক ঝলকে রুম স্ক্যান করে, খাবার দেখে, ইশায়ার মুখ দেখে তার দৃষ্টি কঠিন হয়ে ওঠে।
সে এগিয়ে আসে।
সবাই চুপ।
মারিয়া ও গার্ডরা মাথা ঝুঁকিয়ে একপাশে সরে যায়।
ভীর নিচু স্বরে বলে,
—খাবার খাওনি কেন?
___ইশায়া চুপ থাকে।
___আমি কিছু বলেছি?
ঠান্ডা গলার স্বর।
ইশায়া বলে,
—আমার এখন ভালো লাগছে না,
এখন খাব না আমি।
___ইশায়ার এই উত্তরটা ভীরের পছন্দ হয়নি,
ভীরের এক ঝটকায় ইশায়ার শরীর থেকে চাদর ছুঁড়ে ফেলে ইশায়ার হাত টেনে ধরে বসিয়ে দেয়।
— তুমি খাবে। এখনই।
এই মুহূর্তে আর কোন কথা না।
ভীরের ঠান্ডা গলা ছিলো যেনো ঝড়ের পূর্বাভাস।
___ইশায়া কিছু না বলে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরে। ভীরকে উপেক্ষা করার এই সাহস তার ছিল না, কিন্তু সে নিজের ভেতরের কষ্ট ও প্রতিবাদে স্থির থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
__জেদ করছো?
ভীর ধৈর্য হারাচ্ছে,
এভাবে ঠান্ডা গলায় কথা বলার মানুষ না।
___ইশায়া আবারো বলে ওঠে,
খাবো না। এখন ভালো লাগছে না আমার।
চোখ নামিয়ে বললেও কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট জেদ।
___ভীরের চোখ লাল হয়ে উঠে রাগে।
এত অবাধ্যতা সে সহ্য করবে না,
আমাকে রাগিও না, ইশায়া। সহ্য করতে পারবে না তখন। চুপচাপ খেয়ে নাও বলছি।
শক্ত গলায় বলে ভীর।
___তবুও,
ইশায়ার দেহে কোনো নড়চড় নেই। সে যেন পাথরের মূর্তিতে পরিণত হয়েছে।
___অবশেষে ভীর মেজাজ হারায়।
এক ঝটকায় ইশায়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার ঘাড় চেপে ধরল। কঠিন হাতে তাকে ধরে মুখের সামনে দুধের গ্লাস ঠেসে ধরে,
জোর করে গ্লাসটা তার ঠোঁটে ঠেলে দেয়।
___খাবে বলেছি মানে খাবেই।
চিড়বিড়িয়ে বলে ভীর,
খেতে তোকে হবেই।
দুধ গড়িয়ে পড়তে থাকে, ইশায়ার গাল বেয়ে গলা, বুক হয়ে তার পোশাক ভিজে যায়। ভয়ের সঙ্গে সে মাথা নাড়ায়, প্রতিবাদ করে,
কিন্তু কিছুতেউ থামে না ভীর।
___জোরাজুরিতে ইশায়ার শ্বাস আটকে আসে। কাশতে কাশতে সে কেঁপে ওঠে। চোখে পানি, শরীর কাঁপছে।
ভীর রাগে ফুঁসতে থাকা অবস্থাতেই গ্লাসটা ছুড়ে ফেলে দেয়,
গার্ডরা চমকে ওঠে।
___ইশায়া কুঁকড়ে যায়। দম বন্ধ হয়ে আসার জোগাড় তার,
কাশতে কাশতে প্রায় নিঃশব্দ হয়ে পড়ে সে। তবুও, ভীরের কণ্ঠে সামান্য মায়াও নেই।
___এখন চুপচাপ সব খাবার শেষ করবি,
ঠান্ডা অথচ হুমকিভরা কণ্ঠে বলে ওঠে ভীর।
না হলে ফলাফল জানোই। একজনের জন্য অনেকজনের খাবার চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
আমাকে খারাপ হতে বাধ্য করিস না।
___ইশায়ার চোখে জল টলমল করছে।
সে ফুঁপিয়ে ওঠে, দম নিতে কষ্ট হয় তার।
_মারিয়া এলেনা এগিয়ে আসে।
নরম গলায় বলে,
ম্যাম,
দয়া করে খান। শরীর খারাপ হয়ে যাবে।
মারিয়া ধীরে ধীরে খাবারের প্লেট এগিয়ে দেয়।
___ইশায়ার গলায় এখনো ব্যথা। তবুও সে খেতে শুরু করে। এক টুকরো এক টুকরো করে তুলে মুখে নেয়।
কান্না চেপে রাখতে পারেনা সে,
চোখের কোনা ভিজে ওঠে বারবার। খাবারের সাথে যেন বিষও গিলছে ।
___ভীর এক কোণে বসে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। একবারের জন্যও চোখ ফেরায় না।
খাবার শেষ হলে সে চুপচাপ উঠে যায়। কোনো দয়া না দেখিয়ে শুধু বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
ঘণ্টাখানেক পর একজন মধ্যবয়সী ডাক্তার এসে হাজির হয়।
তার সঙ্গে একজন নার্স, আর সাথে একটি ছোট কুলার ব্যাগ।
___মারিয়া এলেনা এসে ইশায়াকে বলে,
ম্যাম ডাক্তার এসেছে।
ইনজেকশন দিতে হবে।
___ইশায়া হতবাক। কপাল কুঁচকে তাকায়।
কিন্তু কেন?
আমি তো..
____এই সিদ্ধান্ত বসের। এটা শরীরের জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো,
পিলের চেয়ে কম ক্ষতিকর, এটি দীর্ঘমেয়াদে শরীরে প্রভাব ফেলে। আপনাকে প্রতি তিন মাস পর এই ইনজেকশন নিতে হবে।
এবং ডেটটা মনে রাখবেন,
ইনজেকশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পর ই আবার দিতে হবে।
___ইশায়া আর কিছু বলে না।
বুঝেছে সে কিসের ইঞ্জেকশন।
___ নার্স এসে দিয়ে দেয় ।
রেহেনা বেগম এসেছেন তার মেয়ে রাহিকে নিয়ে।
__সায়মা দরজায় দাঁড়িয়ে আবেগে জড়িয়ে ধরেন বোনকে।
এত দেরি হল তোর আমি কখন থেকে তোর অপেক্ষায় বসে আছি।
____রেহেনা বেগম বলেন,
জ্যামে আটকে গেছি আপা, এজন্য দেরি হয়ে গেছে।
___রাহি নম্র হাসি দিয়ে বলে,
আসসালামু আলাইকুম খালা!
___সায়মা বেগম এগিয়ে এসে একনজরে দেখেন মেয়েটিকে,
আদর করে কপালে চুমু খান।
খালা না তুই আমাকে মামনি বলে ডাকবি।
___রাহি মাথা নাড়ে।
___সায়না বেগমের মুখে প্রশংসার ছায়া।
মাশাআল্লাহ!
কী সুন্দর মেয়ে হইছে রেহেনা তোর।
___এইতো আপা, কলেজে পড়ে।
এই সামনে পরীক্ষা।
___থাক এখানে। আমরা দেখবো।
পরীক্ষার সময় গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসবে।
___এসব নিয়েই কথা হচ্ছিল দুই বোনের মাঝে।
____রাহির মুখে স্নিগ্ধতা,
ফর্সা ত্বক, চোখে হালকা কাজলের রেখা, পাতলা গোলাপি ঠোঁট, আর কমোর ছুঁইছুঁই ঢেউ খেলানো চুল।
দেখতে অসম্ভব মায়া ওই মুখের আদলে।
___ওই দিনেই রেহেনা বেগম চলে যান,
সায়মা রহমান অনেক রান্নাবান্না করেন বোনের জন্য তাকে খাইয়ে দেন, এবং বাড়ির জন্য সাথে করে পাঠিয়ে ও দেন।
___বাকি তিনটা মেয়ে বাড়িতে একা আছে।
ওদের বাবা কাজে,
মধ্যবিত্ত পরিবার এভাবেই চলছে তাদের জীবন।
কোনরকমে খেয়েদেয়ে জীবন পার করছেন এরকমই।
__মেয়েটাকে নিয়ে নিশ্চিন্ত রেহেনা বেগম, যে এখানে থাকলে ভালই থাকবে,
আর আদ্রিয়ানের মতো ছেলের সাথে বিয়ে হলে ওর কপাল খুলে যাবে।
কে চায় না তার মেয়ে সুখী হোক।
মেয়ে সুখের জন্য এই যন্ত্রণা তুমি সহ্য করে নেবেন।
___সায়মা বেগম তো রাহিকে নিয়ে পড়েছেন।
কি খাবে না খাবে বারবার জিজ্ঞেস করছেন।
জান্নাত এর সাথেও কথা বার্তা বলে রাহি।
খুব মিশুকে মেয়ে সবার সাথেই সহজে মিশে যায়।
____আয় রাহি তোকে তোর ঘড় দেখাই।
আদনান সাহেব আর আবিরের কড়া নিশেধ ছিল ইশায়ার ঘর যাতে কাউকে দেওয়া না হয়।
___তাই সায়মা বেগম রাহিকে দু তলায় একটা রুম দেন।
আদ্রিয়ানের ঘড়ের পাশেই।
___রাহি সায়মা বেগমের সাথে সাথে হাটা ধরে,
___সায়মা বেগম নিয়ে যান তাকে তার জন্য প্রস্তুত করা সেই রুমে।
হালকা গোলাপি রঙে সাজানো রুমটা, জানালার পাশে ছোট টেবিল, পাশে বইয়ের র্যাক।
___পড়তে পারবি এখানে বসে, আলো-বাতাস ভালো থাকে।
রাহির চোখে বিস্ময়।
খুব সুন্দর মামনি।
___রাহিরা চার বোন এক রুমে থাকতো।
অনেক কষ্ট করেই বড় হয়েছে সে।
এত বড় রুম শুধু তার একার জন্য এটা ভেবেই অবাক সে।
কিন্তু আবার বোনদের জন্য কষ্ট হচ্ছে তার,
সে আসতে চায় নি এভাবে সবাইকে ছেড়ে,
অনেকবার বলেছে বাবা-মাকে কিন্তু তারা ওকে পাঠিয়ে দিয়েছেন অনেক বুঝিয়ে বাঝিয়ে।
সে আমার বন্দিনী পর্ব ২২
___সায়মা বেগম স্নেহভরা গলায় বলেন,
তুউ আমার মেয়ের মতই।
এটাকে নিজের বাসা মনে কর।
____ঘর জুড়ে এক ধরনের শান্তি, রাহি তাকিয়ে থাকে জানালার বাইরে।
একটা নতুন জীবন শুরু হলো যেন তার। যেখানে আশ্রয় আছে, আছে কিছুটা ভালোবাসা।
