সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩২
তানিয়া হুসাইন
গভীর রাত।
পুরো প্রাসাদ নিঃস্তব্ধ,
শুধু দূরের কোথাও মৃদ ডাক আর পাহারার গার্ডদের বুটের আওয়াজ।
রাজভীর আলভারেয গাড়ি থেকে নেমে ধীর পায়ে এগিয়ে আসে।
সঙ্গে নেই কোনো দেহরক্ষী।
তবুও পথের দুইপাশে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ড ও স্টাফরা অটোমেটিক সম্মান প্রদর্শন করে, মাথা নিচু করে।
তার উপস্থিতিই যথেষ্ট ছিল ভয় জাগাতে।
কালো শার্টের ওপর কালচে নীল কোর্ট।
চোখে সেই নির্লিপ্ত অথচ আগুনভরা দৃষ্টি।
যার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলাও যেন সাহসের পরীক্ষা।
ভীর যখন রুমের সামনে পৌঁছায়,
রুমের ভেতরে থাকা সবাই একে একে বেরিয়ে আসে।
নার্সরাও চুপচাপ বেরিয়ে আসে।
শুধু মারিয়া এলেনা থাকে।
রুমে তখন হালকা আলো।
আকাশ থেকে একফোঁটা চাঁদের আলো এসে জানালা ছুঁয়ে পড়ে বিছানার কোণে।
বিছানায় পড়ে থাকা মেয়েটার মুখ একেবারে নিস্প্রাণ।
এত সুন্দর মুখ, অথচ এত নিঃস্ব, ফ্যাকাসে, নিঃশব্দ যন্ত্রনায় ঠোঁট কাঁপে না তার।
ইশায়া রহমান।
সেই মেয়েটি, যার হাসি একসময় গাঢ় রোদ্দুরের মতো ছিল।
আজ তার ঠোঁট ফুলে কালচে,
কপালে ব্যান্ডেজ,
ডান হাতে মোটা ক্যানোলা,
আর বাম হাতে প্লাস্টারের মতো করে মোড়ানো ব্যান্ডেজ।
গলার নিচ থেকে হাত পর্যন্ত, জায়গায় জায়গায় লাল আঘাতের চিহ্ন যেন সেটা শরীর নয়, ক্ষতগুলোর মানচিত্র হয়ে উঠেছে।
ভীর কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।
তার চোখে না আছে অনুতাপ, না কোনো দয়া।
শুধু একরকম ঘনীভূত নিরবতা।
___ভীর মারিয়া এলেনাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
হাতে কি হয়েছে ওর?
রাগ নয়,
তার গলায় ছিল নির্লিপ্ত প্রশ্ন।
মারিয়া এলেনা একটু থেমে বলে,
___তখন নিচে পড়ে হাতে ব্যাথা পেয়েছেন।
ভীর কিছু বলে না।
সে হাত বাড়িয়ে মেডিকেল রিপোর্টগুলো নেয়।
তীক্ষ্ণ চোখে একবারে পুরো রিপোর্ট স্ক্যান করে নেয় সে,
হাতের এক্স-রে তে ছোট ফ্র্যাকচার,
ব্যান্ডেজ খুলতে অন্তত ২-৩ সপ্তাহ লাগবে।
সব পড়ে সে ধীরে মাথা হেলে বলে,
— ঠিক আছে।
মারিয়া এলেনা বেরিয়ে যান।
___ভীর এগিয়ে এসে বিছানার পাশে দাঁড়ায়।
একবার দেখে ইশায়ার মুখ।
চোখ বন্ধ, কিন্তু মুখটা এত নিস্তেজ যে মনে হয় কোনো প্রাণ নেই।
তার শ্বাস-প্রশ্বাস খুব ধীরে ওঠানামা করে।
ভীর তাকিয়ে থাকে।
শুধু তাকিয়ে থাকে।
না দয়া , না ঘৃণা আর না ভালোবাসা কি আছে ওর জন্য ভীর যানে না।
শুধু এটা জানে ওর জায়গায় আজ অন্য কেউ হলে এতক্ষণ বেঁচে থাকত না।
মাটির সাথে মিশিয়ে দিতো।
__কিন্তু চেয়েও ওকে মারতে পারেনি ভীর।
আর পারবেও না এটা বুঝে গেছে ভীর।
এও মেয়েকে তার লাগবে,সে শুধু এটাই জানে।
আঘাত করবে আবার সারিয়ে ও তুলবে কিন্তু হারাতে দিবেনা।
এই মানুষটা ভেতরে কিচ্ছু অনুভব করে না।
না অনুশোচনা, না অপরাধবোধ।
আর না ভালোবাসা
ভীর আর দাঁড়ায় না ওখানে নিজের কোর্ট খুলে সোফার উপর রাখে।
একবার ঘরের চারদিকে তাকায় সবকিছু নিখুঁত।
তারপর জামা-কাপড় নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়।
ভেতর থেকে শাওয়ারের শব্দ আসে।
লম্বা সময় ধরে চলতে থাকে সেই পানি পড়ার শব্দ,
শরীরের রক্তের দাগ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলে।
শুধু কাজে একটু গাফিলতি হওয়ার কারনে ওই কাজের দায়িত্বরত তার পাঁচজন লোককে মেরে ফেলেছে সে।
তার কাছে কোন সেকেন্ড চান্স নেই।
ভুল মানেই মৃত্যু।
অনেকক্ষণ পর
ভীর বেরিয়ে আসে।
গায়ে সাদাটে ধূসর হাফ স্লিভ টি-শার্ট,আর ট্রাউজার।
চুল পেছনে ব্রাশ করা, ঘাড়ের কাছে কিছুটা ভিজে।
তার শরীরের গঠন আর চোখ জ্বলে ওঠা ব্যক্তিত্ব, যেকোনো মানুষকে স্তব্ধ করে দেয়।
সবাই তার উপস্থিতিতে কেঁপে উঠে ভয়ে।
সবার কাছে আতঙ্কের আরেক নাম দ্যা মাফিয়া বস,
কিং অফ শ্যাডো, ভীর!
রাজভীর আলভারেয।
ভীর ধীর পায়ে এগিয়ে এসে বিছানায়, একপাশে একদম চুপচাপ শুয়ে পড়ে।
কোনো শব্দ নেই।
কোনো ছোঁয়া নেই।
কোনো কথা নেই।
শুধু এক বিছানায় দুজন।
একজন ঠান্ডা আগুন।
আরেকজন ভেঙে পড়া ছায়া।
রুমে নিঃশব্দতা নেমে আসে।
ভীর চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে, কিন্তু ঘুম আসে না।
তার ভেতরে যেন অদ্ভুত এক আগুন জ্বলছে।
সারা শরীরে ছড়িয়ে থাকা ব্যথা আর চাপা কিছু একটার ভারে ধীরে ধীরে ঘুমের ঘোর কেটে যায় ইশায়ার।
চোখ মেলে তাকাতেই তার নিঃশ্বাস আটকে আসে হাতের ব্যাথায়।হাত নাড়ানোর সাথে সাথে ব্যথাটা জেকে ধরেছে।
ঘুম ঘুম চোখে দেখে ইশায়া, ওই লোকটা তাকে সাপের মতো পেঁচিয়ে ধরে আছে।
বুকে মুখ গুঁজে এক হাতে তার কোমরে জড়িয়ে রেখেছে, অন্য হাত তার পেটে। পা দিয়ে ইশায়ার পা জড়িয়ে যেন তাকে নিজের কোলবালিশ বানিয়ে নিয়েছে।
___একটা অস্বস্তি ঘিরে ধরে তাকে, অপমান আর অজানা ভয় তার সারা শরীর বেয়ে নামতে থাকে।
নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চায় সে, অনেকক্ষণ চুপচাপ চেষ্টা করে।
শেষমেশ আস্তে আস্তে শরীর টেনে উঠে বসে।
গলা যেন বালির মতো শুকিয়ে গেছে।
কষ্ট করে পাশে রাখা গ্লাস থেকে এক ঢোক পানি খায়।
ভিতরটা শান্ত করে।
রুমটা অল্প আলোয় ঝিমিয়ে আছে।
ভয়ের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ একটা শব্দ,
ভীরের ফোনে মেসেজের টোন বেজে ওঠে।
ইশায়া চমকে তাকায় ফোনটার দিকে।
এই এত মাসে এই প্রথম ফোন পেয়েছে সে,
সামান্য একটা শব্দে যেন তার ভেতরে ভয় নয়, কিছু অন্যরকম ভাবনা ছড়িয়ে পড়ে।
মাথার ভেতর ঝড় উঠেছে হঠাৎ।
সাফার বলা সেই শেষ কথা যেন গুঞ্জনের মতো কানে বাজতে থাকে,
ভালো নেই কেউ…তোকে ছাড়া ভালো নেই কেউ।
ওদের প্রয়োজন তোকে।
___কিন্তু আজকের দিনের দুঃস্বপ্নের মতো ঘটনার ছবি আবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
আবারো ভয় ডানা বাধে তার মনে।
তার ভিতরের দ্বিধাগুলো চাপা পড়ে যায় এক আশঙ্কাজনিত কৌতূহলে।
একটা অজানা সাহস তার মধ্যে চলে আসে।
সাফার বলা কথাগুলো কানের মধ্যে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।
ইশায়া ভীরের উপর দিয়ে ধীরে ধীরে হাত বাড়ায় ভীরের ফোনটার দিকে।
সারা শরীর কাঁপছে তার, হাতটা থরথর করছে।
ভীরের মুখের দিকে বারবার তাকাচ্ছে সে ভয় পাচ্ছে, যদি জেগে যায়!
__ফোনটা হাতে তুলতেই সেটা হাত ফসকে পড়ে যায় আবার নিচে অনবরত হাত কাঁপার কারণে ,
হালকা শব্দ হয়, কিন্তু রাজভীর নড়ে না।
শ্বাস আটকে আসে ইশায়ার।
আবারো তাকায় ভীরের দিকে।
ভীরের নড়চর না দেখে পুনরায় ফোনটা হাতে নেয়, এবার আরও সাবধানে।
___ফোনে লক!
দেখেই ইশায়ার মুখ ছোট হয়ে যায়।
এক মুহূর্ত ইশায়া দোটানায় পড়ে।
তবুও সাহস করে, সাহস নয় বরং বিষাক্ত কৌতূহল আর বাঁচার আর্তি তাকে ঠেলে দেয় এই বিপদে।
__ইশায়া ভীরের হাতটা আলগোছে নিয়ে আসে ফোনের সামনে।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে ফোনটা আনলক করে।
ভয়ে ইশায়ার শরীর জমে যাচ্ছে।
বার বার ভীরের চোখের দিকে তাকাচ্ছে।
এক লম্বা নিঃশ্বাস ছাড়ে ইশায়া।
তারপরে তাড়াতাড়ি ফোনের ডায়াল অপশনে যায়।
নাম্বার উঠাতে গিয়ে,
চোখের কোনে অজান্তেই জল চলে আসে।
এই নাম্বারটা কতদিন পরে সে দেখছে!
একসময় বাবার একটু দেরিতেই সে কতবার ফোন করতো।
বাবাকে ফোন দিয়ে এটা ওটা আনার বায়না করতো।
বাবা ও হয়তো তার নাম্বারটা দেখে এভাবেই কষ্ট পায়।
ইশায়া নিজেকে সামলে নেয়।
এখন সময় নেই তার কাছে।
একবার বাবার গলা শুনবে এই আশায় দ্রুত
ইশায়া নাম্বার তুলে,
কল লাগাবে ঠিক সেই মুহূর্তে,
একটা হিংস্র, শক্ত টান!
ভীর একটানে ফোনটা ছিনিয়ে নেয় তার হাত থেকে।
ইশায়া স্তব্ধ হয়ে যায়।
বুক কেপে ওঠে তার।
চোখের সামনে রাজভীর উঠে বসে, চোখে ঘুম নেই,
ঠান্ডা, রক্তহীন দৃষ্টি।
___শরীর দিয়ে হিমশীতল একটা স্রোত বয়ে যায় ইশায়ার।
তার ঠোঁট কাঁপে, কিছু বলতে পারে না।
ঢোক গিলে,
ভীর চোখ তুলে তাকায় তার দিকে।
কোনো চিৎকার নয়, কোনো ধমক নয়,
শুধু তার দৃষ্টিই যেন ইশায়াকে পুড়িয়ে দেয়।
তার ঠোঁট বাঁকিয়ে ওঠে এক ঠান্ডা, বিষাক্ত হাসিতে।
___ইশায়ার চোখের পলকে ভয়ের ছায়া নেমে আসে।
__ভীর কোনো দ্বিধা ছাড়াই ফোনটা দেয়ালে ছুঁড়ে মারে। একটা বিকট শব্দে ফোনটা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে মেঝেতে।
তার চোখে এখন সেই চিরচেনা হিংস্রতা।কিন্তু গলার আওয়াজ ঠান্ডা,ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে ওঠে,
____কি ম্যাডাম?
আপনার আমাকে কি মনে হয়?
গোটা মাফিয়া সাম্রাজ্য আমার ইশারায় চলে।
এই আন্ডারওয়ার্ল্ডের বাদশা আমি,
আর আপনি আমার সামনে আমার সাথেই ডাবল গেইম খেলেন?
আপনার কি মনে হয়েছে আমি কিছু বুঝতে পারবোনা।
সাহসটা আসে কোথা থেকে আপনার বলেন তো।
সেই জড়টাকেই আমি গোড়া থেকে উপড়ে ফেলি,
বলুন।
তার গলার স্বর ঠান্ডা, অথচ তাতে এমন এক ভয়াবহ প্রশমিত আগুন লুকানো যে, ইশায়ার শরীরের প্রতিটি লোম খাড়া হয়ে গেছে।
ভীর তার দিকে একটু ঝুকে বলে,
আজকের সকালের ঘটনার পরও শিক্ষা হয়নি আপনার?
___ইশায়া ভয় পায়, নিজেকে গুটিয়ে নেয়,ভীর কী করবে এই মুহূর্তে সে জানে না।
কিন্তু নিজের ভেতর থেকে সাহসটুকু টেনে নিয়ে, প্রথমবারের মতো চোখ তুলে বলে ওঠে,
___আ.. মি…আমি চলে যাবো এখান থেকে।
ভীর হেসে ওঠে ইশায়ার কথায়, সেই অন্ধকার, তাচ্ছিল্যে ভরা হাসি।
___যাওয়াবো।
তার গলা নেমে আসে খুব নিচে,
ইশায়া এবার একটু দৃঢ় কন্ঠেই বলে ওঠে,
____একদিন আপনার এই বন্দি খাঁচা থেকে আমি ঠিক-ই মুক্ত হবো, দেখবেন।
ভীর চোখ সরু করে তাকায়, ঠোঁটে নিঃশব্দে ছায়া হাসি খেলে যায়।
___দেখবো।
বলেই ভীর আরো কাছে এগিয়ে আসে ইশায়ার দিকে। তার চোখ দুটোয় একধরনের হিপনোটিক তীব্রতা।
ভীর কোনো শব্দ না করে ইশায়ার হাতে লাগানো ক্যানোলার দিকে তাকায়। তারপর দক্ষ হাতে সেটি খুলে ফেলে, যেমনভাবে কোনও শিকারকে পিঞ্জর থেকে বের করে আনা হয়।
____আপনি আমাকে এভাবে সারাজীবন আটকে রাখতে পারবেন না,
ইশায়া আবারও বলে, গলা কেঁপে উঠলেও চোখে সাহসের রেখা।
___ভীর এবার ঠান্ডা গলায় বলে,
আমি ভীর।
আমি পারি না এমন কিছুই নেই।
আমার দৃষ্টিসীমার বাইরেও তুই কখনও যেতে পারবি না।
আর আমার থেকে মুক্তি সেটা তো পরের কথা।
তার কথাগুলোর ভেতর ছিল দাবির অধিকার।
ভীর ধীরে ধীরে ইশায়ার পড়নের নীল টপসের বোতামগুলোর দিকে হাত বাড়ায়।
একেকটা বোতাম খোলে, যেন প্রতিটা খোলার সঙ্গে তার অধিকার দৃঢ় হয়।
ইশায়া তার,
এই জিনিসটা যেনো ইশায়াকে বোঝাতেই সে মরিয়া হয়ে ওঠে।
ইশায়া শ্বাস আটকে তাকিয়ে থাকে ভীরের চোখে,
সেখানে আগুন নেই, সেখানে ছিল দাবির তীব্র আত্মবিশ্বাস।
ইশায়ার ঠোঁটের ফোলা দাগে, ভীর হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করতেই ইশায়া নড়ে ওঠে।
ভীর ইশায়ার ঠোঁটে পরম আবেশে চুমু খায়।
ইশায়া হাত তুলে তাকে বাধা দিতে গেলে,
___ভীর গম্ভীর গলায় বলে ওঠে,
Don’t move. You’ll hurt your hand.
তার কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, চোখে ছিল নিয়ন্ত্রণ।
একটা বালিশ টেনে ভীর ইশায়ার হাতটা আলতোভাবে উঁচিয়ে রাখে।
তারপর হাত গলিয়ে টি-শার্ট খুলে দূরে ছুঁড়ে ফেলে।
তার দৃষ্টি নেমে আসে নিচে।
এগিয়ে আসে ইশায়ার একেবারে কাছে।
ঝুঁকে পড়ে ইশায়ার দিকে, নিঃশ্বাস মিশে যায় এক মুহূর্তে।
ইশায়া চোখ বন্ধ করে নেয়,
কী হচ্ছে, কী হবে তার চেয়েও বেশি, সে অনুভব করে নিজের নিঃশ্বাস কেমন টালমাটাল হয়ে যাচ্ছে,
___ভীর ঠোঁটের খুব কাছে এসে ফিসফিস করে বলে,
তোর জায়গা এখানেই। যত তাড়াতাড়ি এটা মেনে নিবি, ততটাই ভালো তোর জন্য।
তুই যত নাটক করবি, আমি তোকে ঠিক ততটাই বাধ্য করবো।
বলতে বলতেই ইশায়ার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়।
তার কণ্ঠে ছিল হুঁশিয়ারি, কিন্তু তাতে শীতল আবেগের আবরণ।
ঠোঁটের তীব্র চাপে আর দাঁতের দংশনে ইশায়া গোঙিয়ে ওঠে।
ভীর আরো তীব্রভাবে তার ঠোঁট চেপে ধরে,
দীর্ঘ সময় পর ঠোঁট ছেড়ে দেয় ভীর।
ইশায়া জোড়ে জোড়ে নিশ্বাস নিতে নিতে থাকে।
ভীর নিজের নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায়,
নিজেকে সামলে নিচে নেমে আসে ইশায়ার উন্মুক্ত গলার ভাজে দাঁত বসাতেই কুকিয়ে ওঠে সে।
ভীরের ছোয়া ছিলো রাগে মিশ্রিত,নরম আচরন করছিলো না সে।
ইশায়া নড়াচড়া করা শুরু করলেই,
ভীরের শরীর জড়িয়ে আসে ইশায়ার চারপাশে,
একটা চাদরের মতো, যে চাদর একবার জড়ালে আর খুলে ফেলা যায় না।
তাদের মাঝের দূরত্ব আর থাকে না।
সে ডুবে যায় তার আবেগে, তার রাগে, তার উন্মাদনায়।
বাইরে আচমকা ঝড় শুরু হয়।
হাওয়ার গতি যেন প্রকৃতির ভেতরের কোনো ক্ষোভের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
প্রাসাদের জানালার গায়ে ধাক্কা খায় বাতাস, তীব্র শব্দ করে পর্দাগুলো ওড়ে।
আকাশ কালো হয়ে আসে, বিদ্যুৎ চমকে উঠে বারবার।
ঘরের ভেতর উষ্ণতা আর বাইরের শীতল পরিবেশ এই দুইয়ের বিপরীত চিত্র যেন তাদের মিলনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায়।
রুমে আলো কম, শুধু মাঝে মাঝে বিদ্যুতের ঝলকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে দুইটা ছায়ামূর্তি একটা দখলদারি, আরেকটা নীরব কান্নার, আর্তনাদের।
ভীর যেন প্রতিটা মুহূর্তে বুঝিয়ে দিতে চায়,
সে কেবল তার, ইশায়া শুধু তারই।
রুমজুড়ে শুধু শোনা যায় দুটি নিঃশ্বাসের আওয়াজ।
একটা গম্ভীর, ভারি, দাবিদার।
আরেকটা কাঁপা।
___ইশায়ার শরীর কাঁপছে, ভীরের প্রতিটা স্পর্শ তার কাছে বিষের মতন।
চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রু।
ভীর তা দেখে না, অনুভব করে না।
সে মুখ ঝুঁকিয়ে সেই নোনা জলটুকু ঠোঁটে ছুঁয়ে নেয় নির্বাক।
রুমের নিঃশব্দতা ছিঁড়ে আবার ঝড়ের গর্জন আসে বাইরে থেকে।
ইশায়া কেঁপে কেঁপে উঠছে বার বার।
তার কান্নায় ভীরের ভাবান্তর নেই।
ভীর তার কপালে চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বলে,
তুই শুধু আমার। যত দূরেই যেতে চাস না কেন,
সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩১
তোর এই স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই হয়ে থাকবে। আমার থেকে তোর মুক্তি নেই।
বাইরে ঝড় আরও জোরে ডাকতে থাকে।
সে রাতে, দুজন মিশে যায় একে অন্যের গভীরতায়,
এক সময় সব থেমে যায়, শুধু থাকে একচেটিয়া দখলের এক অপার মোহ।
____ইশায়ার জীবন যেনো আরো জটিল হতে থাকে,
তার জন্য বরাদ্দকৃত খাঁচা যেন সময়ের সাথে সাথে আরো ছোট হতে থাকে।
