সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৭
তানিয়া হুসাইন
ভীরের রাজত্বে এখন চারটি দেশ নতজানু।
এখন তার চোখ পরেছে গুয়াতেমালায়।
এটি একটি ছোট তবে দুর্ধর্ষ মাফিয়া শাসিত অঞ্চল,
যার জঙ্গলে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর অপরাধ সাম্রাজ্য।
এই সাম্রাজ্যের কর্তা মিগুয়েল কায়েতানো এই নামে পরিচিত, সে চোখের সামনে থেকেও অদৃশ্য হয়ে যায়।
তার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে আছে বন, এবং বন্দরে।
____ভীর গুয়াতেমালায় প্রবেশ করে ছদ্মবেশে।
ছোট্ট শহর এ তার একটি গোপন বেইস গড়ে ওঠে।
প্রথম তিনদিনে তার টিম স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সীমান্ত রক্ষী এবং দুইজন ছোট গ্যাং লিডারকে কিনে ফেলে।
ডিয়েগো সালগাদো ড্রোন আর স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মিগুয়েলের শিপমেন্ট রুট ম্যাপ করে ফেলে।
রাত গভীর হলে সান্তিয়াগো রোসাস ও কার্লোস মেন্দোজা জঙ্গল ঘিরে স্না*ইপার টাওয়ার বসায়।
দ্বিতীয় সপ্তাহ এ তারা নেমে পরে ময়দানে।
ভোরবেলা,
বৃষ্টি পড়ছে গুয়াতেমালার পাহাড়ি গ্রামে।
ভীর সেই সময় বন্দরে প্রথম হানা দেয়।
ছয় ঘন্টা অভিযান চালায়, তারা মিগুয়েলের দুটি কো*কেইন স্টোরেজ উড়িয়ে দেয়।
তারপর গুপ্তচর বসিয়ে দেয় মিগুয়েলের গ্যাং-এ।
সামনে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের সামনে সিগারেটের ধোঁয়া উড়াতে উড়াতে ভীর বলে,
রাজত্ব পেতে রাজা হতে হয় না, সিংহলিপি থাকলেই চলবে।
কিন্তু ১৬তম দিন ঘটে যায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
মিগুয়েল টের পায় তার রাজ্যে অন্য এক ছায়া পা রেখেছে।
যা কিছু হচ্ছে এগুলো সব নিছক-ই একটা দুর্ঘটনা না।
সে ও নেমে পরে টক্কর দেওয়ার জন্য।
___রাত তখন ৩:২৮ ভীর তার রুমে।
সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ল্যাপটপের স্ক্রিনে, যেখানের ইশায়ার ঘুমন্ত মুখশ্রী ভেসে উঠছে।
আর বুকের উপর ঘুমিয়ে আছে তার বিড়াল।
ভীরের মাঝে মাঝে রাগ হয় সবসময় এই বিড়ালটা তার সাথে লেপ্টে থাকে দেখে,কিন্তু আবার ইশায়া খুশি আছে এজন্য কিছু বলেনা ভীর।
ভীর চায়া ইশায়া তার সাথে সহজ হয়ে উঠুক।
তার সাথে মানিয়ে নিক নিজেকে।
___ ওই রাতে পাল্টা আক্রমণ হয়।
ভীরের জন্য সব ইনফরমেশন কালেক্ট করা গার্ড তাদের হাতে পড়ে যায়।
ভীরের দুই লয়াল গার্ড ছিলো তারা।
ডোমিনিকো সালদিভার ও ফ্রান্সিসকো ক্যাস্ত্রো।
তাদের গু*লি করে রাস্তার পাশে ঝুলিয়ে রাখে গাছের সাথে।
ভীরের কাছে এই খবর আসতেই সে এগুলো শুনে প্রচন্ড রেগে যায়।
চিৎকার করে বলে,
তাদের রক্তের প্রতিটি ফোঁটার দাম দিতে হবে তোকে মিগুয়েল,
তুই কার সাথে লড়তে এসেছিস জানিস না।
তোর অস্তিত্ব ধ্বংস করে ফেলব আমি।
ভীর বিশ্বস্ত গার্ডদের মৃত্যুর পর আরো বেশি এগ্রেসিভ হয়ে ওঠে।
ওদের ধ্বংসের জন্য জাল বিছাতে শুরু করে।
২১ তম দিন।
সকাল থেকে গুয়াতেমালায় বৃষ্টি।
জঙ্গলের মাঝে ধোঁয়াচ্ছন্ন এক নিরবতা।
ভীর প্রস্তুত।
সে জানে এই দিন, এই রাত তার।
তার প্রাইভেট আর্মি পাহাড়ি পথে বিভক্ত হয়ে গেছে।
ভীর তার সিগনেচার ব্ল্যাক গিয়ারে, হাতে গ্লক-১*৭
তিন দিক থেকে তারা আক্রমণ করবে তারা যাতে কেউ পালানোর পথ না পায়।
উত্তর দিক ম্যাটিয়াস কর্টেজ, পাহাড়ি ট্রাক রুট বন্ধ করে,
দক্ষিণ দিকে সান্তিয়াগো ও হাভিয়ের মোরালেস, অ*স্ত্রের ডিপো ধ্বংস করে।
কেন্দ্রে ভীর নিজেই যায়,তার সাথে ডিয়েগো নিকো,এনরিকো আর বাকি গার্ডরা মুখোমুখি হয় মিগুয়েলের সঙ্গে।
১২ জনের টিমে এখন সক্রিয় সদস্য বাকি ৯ জন।
মিগুয়েলের লোকেরা এখন জঙ্গল ঘিরে ফাঁদ বসিয়েছে,তারা ও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র না।
ভীরের কড়া আদেশ আমরা আঘাত করবো, কিন্তু চোখে চোখ রেখে।পিছন থেকে না।
ডিয়েগো সব ডকুমেন্ট ও রুট নিশ্চিত করেছে।
এনরিকো মেন্দোজা ও রিকার্দো ভেলাসকো সব অ*স্ত্র প্রস্তুত রেখেছে, সাইলেন্সার থেকে গ্রেনেড সব।
আকাশ ভারী।
বৃষ্টি থেমে গেছে, তবে মাটির প্রতিটি কোণা কাদায় ভিজে যেন প্রস্তুত রক্ত শোষার জন্য।
রাজভীর আলভারেয পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসছে।
তার চোখে আগুন।
সে জানে, আজকের রাত যদি জিতে যায়, তাহলে পুরো গুয়াতেমালা তার পায়ের নিচে।
আর এটা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে যা করতে হয় সে করবে।
মিগুয়েল বুঝতেই পারেনি, ভীর চারদিক থেকে ঘেরাও করেছে তাকে।
ম্যাটিয়াস ও ডোমিনিকো ১২ জন ফাইটার নিয়ে ল্যান্ডমাইন বিছিয়ে দেয়।
এক ঝটকায় ফেটে পড়ে ৩টি ট্যাং*কার, আগুন জ্বলতে থাকে।
আগুনের শিখায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মিগুয়েলের ৭ জন লোক।
সান্তিয়াগো ও এনরিকো শুট করে দুজন স্নাইপারকে।
এরপর সাঁজোয়া গাড়িতে বসানো মেশিনগানে গুলি চালাতে শুরু করে।
মিগুয়েলের লোকজন দিশেহারা। আতঙ্কের সুরে চিৎকার শুরু হয়।
ভীর ও ডিয়েগো এগিয়ে আসে কালো হুডি পরে।
তারা প্রাচীর ভেঙে গেট উড়িয়ে দেয়।
মিগুয়েল বুঝে গেছে ভীর ভয়ংকরভাবে প্ল্যান করেছে।
সে নিজেই অ*স্ত্র তুলে নেয়, সঙ্গে ২২ জন সিকিউরিটি হেড।
এক মুহূর্তে সাইরেন বাজতে থাকে অ্যালার্ট মোড।
শুরু হয় গুলির তাণ্ডব,
প্রথম ধাপে মিগুয়েল গুলি চালিয়ে ভীরের গ্যাংয়ের দুজনকে হত্যা করে।
ভীর তখন সামনেই।
তার মাথা নিচু, চোখ রক্তলাল।
সে নিজের হাতে ছু*রি চালিয়ে এক সিকিউরিটিরগলায় বসিয়ে দেয়।
পুরো দুর্গ রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
জ্বালিয়ে দেওয়া হয় অ*স্ত্রাগার।
মিগুয়েলের লোকেরা মরতে মরতে পিছিয়ে যায়।
ভীর দাঁড়িয়ে থাকে উঁচু টাওয়ারে, তার এক হাতে গ্ল*ক, আরেক হাতে ছু*রি।
সে চিৎকার করে বলে,
আমার লোকদের মেরে বেঁচে যাবি ভেবেছিল, এখন গিল নিজের রক্ত।
ভীরের মানুষরা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে মিগুয়েলের দুর্গ।
উত্তর থেকে স্না*ইপার, দক্ষিণ থেকে অ্যা*সল্ট ইউনিট, পূর্ব থেকে প্রবেশ করছে ভীর নিজে সঙ্গে তার দুর্ধর্ষ কমব্যাট টিম।
বো*মা বি*স্ফোরণ, গু*লি আর চিৎকারে রাত যেন ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।
মিগুয়েল বুঝে যায়, এদের সাথে সে পেরে উঠবে না।
তার অর্ধেকের বেশি লোক মারা গেছে।তার মুখ অন্ধকার,সে হিসহিসিয়ে বলে,
আমার মৃত্যু সহজ হবে না, রাজভীর!
মিগুয়েল নিজে নেতৃত্ব দেয় তার লোকদের।
ছাদে বসানো হেভি গা*ন থেকে ছোড়া হয় গুলি।
ভীরের টিমও জবাব দেয়,
দুধ দিক থেকেই চলে সংঘর্ষ।
অত্যাধুনিক গ্রে*নেড ছুড়ে গার্ড টাওয়ার উড়িয়ে দেয় এমিলিও বার্রেগা।
পাঁচটি দেহ ছিটকে পড়ে একটাও বাঁচে না।
___ভীর তখনো ঠান্ডা।
মিগুয়েল শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যখন দেখে তার আর বেশি লোক নেই,
তখন সে অন্য পদক্ষেপ নেয়,
মিগুয়েল জানে, যুদ্ধ হেরে গেলেও সে মরবে না কারণ তার আছে এক গোপন পথ, পুরনো এক সেলার ঘর থেকে বের হওয়া সুড়ঙ্গ যা পাহাড়ের ভেতর দিয়ে বের হয়।
এখন সে এখানে থাকলে প্রাণে বাঁচবেনা,
এর থেকে পালিয়ে গিয়ে পুনরায় শক্তি সংগ্রহ করে লোক জড়ো করে সে আবার ফিরবে।
মিগুয়েল নিজের বডিগার্ডদের বলি দেয়,
ডিকয় তৈরি করে এক গাড়ি পাঠায় যাতে সবাই ভাবে সে পালাচ্ছে সড়ক পথে।
আর নিজে সরে পরে আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলে,
___ভীর যখন অন্যদের সাথে লড়তে ব্যস্ত , তখন সে মনে করছে মিগুয়েল লড়ছে ভেতরে।
সে ধীরে ধীরে সামনের কক্ষে প্রবেশ করে।
কিন্তু মিগুয়েল নেই।
___এর মাঝে ডিয়েগো এসে বলে,
Boss, we got everyone but,Miguels not here.
__ভীরের চোখ মুহূর্তে লাল হয়ে ওঠে।
তার মুখ থেকে শুধু একটা সব্দ বেরিয়ে আসে,
_পালিয়েছে!
মিগুয়েল হাঁপাচ্ছে।
তার জামা রক্তমাখা, হাঁটুতে ক্ষত, কিন্তু সে বেঁচে আছে।
সে থামে, পেছনে তাকায় না।
তার ঠোঁটে তির্যক হাসি,ফিরবো আমি আবার খুব শীঘ্রই, তোর মৃত্যু নিয়ে ফিরবো।
___খেলা শুরু হলো রাজভীর, শেষ হয়নি।
খেলা আমি শেষ করবো।
___দুর্গ দখলে নেয় ভীর।
এই এলাকা এখন তার নিয়ন্ত্রণে।
কিন্তু মিগুয়েল পালিয়ে যাওয়ায় সে জানে যুদ্ধ শেষ হয়নি।
সে অন্য কোন মাফিয়ার সাথে হাত মিলিয়ে আবার ফিরবে।
এর জন্য তাকে আগে মিগুয়েল কে শেষ করতে হবে।
ওকে শেষ করলে তার পথের কাঁটা শেষ।
ভীর এখন শুধু রাজা হতে নয়, শিকারি হতে প্রস্তুত।
ভীর গুপ্তচর ছড়ায় পুরো গুয়াতেমালায়, যেন মিগুয়েল কোথায় লুকিয়ে আছে খুঁজে বের করা যায়।
সে যুদ্ধ জিতেছে, কিন্তু তার বুকের ভেতর প্রতিশোধের আগুন এখনো নিভেনি।
মিগুয়েল বেঁচে আছে এটাই তার কাছে অসম্মান।
ভীর তাকায় পেছনে ঝলসে যাওয়া দুর্গের দিকে।
তার হাতে রক্তমাখা ছু*রি।
মাথার উপর উড়ছে একটি কালো পতাকা তার চিহ্ন, তার শাসন।
সব রাজ্যকে এক করতে হলে রক্ত ঝরাতেই হবে আর সে তার জন্যই এসেছে।
কিন্তু রাজ্য তার হলেও শান্তি নেই,
কারণ সে যাকে চায়, সে তার কাছ থেকে এখন দূরে।
আর এই দূরত্ব টাই তাকে পুড়াচ্ছে।
রাত অনেক হয়েছে। কিন্তু ভীরের চোখে ঘুম নেই।
ভীর জানে এখনই মেক্সিকো ফিরে যাওয়া সম্ভব না। এই মুহূর্তে একটি ভুল সিদ্ধান্তের ফল হতে পারে ভয়ানক।
কারণ মিগুয়েল পালিয়ে গেছে তার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শত্রু, যাকে এতদিন ধরে কষ্ট করে কোণঠাসা করেছিল, সে আজ হাওয়ায় মিশে গেছে।
__ মিগুয়েল কখনোই হাল ছাড়ার মতো পুরুষ না।
সে আবার ফিরে আসতে পারে, হয়তো এবার আগের চেয়ে বড় আঘাত নিয়ে।
এখানকার বাকি যে ক’জন গোপন মাফিয়া আছে, মিগুয়েল ওদের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে যেকোনো সময়।
এখন যদি ভীর রাজ্য ছেড়ে যায়,
তাহলে সেই ফাঁক গলে মিগুয়েল এক ঝড় বইয়ে দেবে যা হয়তো থামানোই সম্ভব হবে না।
তবুও ইশায়ার কথা মাথা থেকে সরাতে পারছে না সে।
তার চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে মেয়েটার মুখ,
তার চোখের গভীরতা, তার হাসির উজ্জ্বলতা।
এক মুহূর্ত ও তাকে ভুলতে পারছে না।
সে দূরে থাকলে ভীরের নিঃশ্বাস আটকে আসে,তাকে দেখার জন্য ভেতরটা ছটফট করে।
দুর্গের সিংহভাগ কক্ষে বসেছে গোপন বৈঠক।
চেয়ারগুলোতে একে একে বসে আছে ভীর, নিকো, এনরিকো, সান্তিয়াগো, ডিয়েগো এবং ম্যাটিয়াস।
ঘরের মাঝখানে বিশাল ম্যাপ টানানো, তাতে নানা জায়গা চিহ্নিত করা লাল আর কালো মার্কার দিয়ে মিগুয়েলের আগের ঘাঁটি ও সম্ভাব্য চলাচলের পথ।
ডেস্কের একপাশে রাখা ল্যাপটপে জিপিএস লোকেশন,
ড্রোন ফিড ও রেডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ চলছে।
ডিয়েগো নিরবধি তথ্য জোগাড় করে আনছে।
সান্তিয়াগো আর এনরিকো ঠিক করছে, কোথায় কোথায় স্নাই*পার মোতায়েন করা হবে।
সবাই এ নিয়েই আলোচনা করছে কীভাবে রাজ্য সুরক্ষিত রাখা যায়।
কোথায় ব্যারিকেড বসানো হবে, কোন রাস্তাগুলো লকডাউন করা দরকার,
কোন কোন এলাকাগুলোতে দ্বিগুণ পাহারা বসাতে হবে।
এই রাজ্য এখন তাদের দখলে। তাদের পতাকা উড়ছে প্রতিটি প্রধান বিল্ডিংয়ে।
কিন্তু সেই পতাকা ধরে রাখতে হলে এখন প্রতিটা পদক্ষেপ নিতে হবে বুঝে শুনে।
ভীরের চোখ আটকে আছে স্ক্রিনে।
স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে তার প্রাসাদের ভেতরের ফুটেজ।
ইশায়া তার ঘরে বসে আছে।
পরনে নীল রঙের চুড়িদার, এলোমেলো খোলা চুল ছড়িয়ে আছে।
হাতে একটা বই ধরা, সে মনোযোগ দিয়ে পড়ছে।
__এই বই গুলো ভীর তাকে এনে দিয়েছিলো।
সবগুলো উপন্যাসের বই।
ছোট সাদা বিড়াল বারবার তার সামনে এসে বইয়ে আঁচড় দিচ্ছে,
কখনো তার কাঁধে লাফিয়ে উঠছে, কখনো আবার খেলা করতে করতে বিছানা থেকে নেমে যাচ্ছে।
ইশায়া হাসছে,
কখনো হাতে থাবা মারার ভান করছে,
আবার আদর করে গালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
ভীর এক বৃষ্টিতে সেই দৃশ্যগুলো দেখছে।
তার ইচ্ছে করছে একবার ছুঁয়ে দিতে,
চুলগুলো সরিয়ে দিতে তার চোখের মুখের ওপর থেকে।
___ভীরের অন্যমনস্কতা দেখে নিকো জিজ্ঞেস করে..
ভীর।
তুমি এত চুপচাপ কেন?
কিছু বলো,এখন কী করবো?
ভীর চোখ না সরিয়েই শান্ত গলায় বলে,
যা ভালো মনে হয় করো, আর, ওকে খুঁজে বের করো যত দ্রুত সম্ভব।
___নিকো কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে।
তারপর কিছুটা গম্ভীর গলায় বলে,
__তুমি কি,
মেক্সিকো ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছো?
এই প্রশ্নে ঘরে এক মুহূর্ত নিস্তব্ধতা নামে।
সবাই তাকায় ভীরের দিকে।
ভীর কিছু বলে না।
সে চুপ তার দৃষ্টি অনড়।
___ডিয়েগো মুখ খোলে এবার, তীক্ষ্ণ স্বরে বলে,
বস, এখন আমাদের আগের থেকেও বেশি সচেতন থাকতে হবে।
মিগুয়েল হেরে গেছে মানে এই না যে সে শেষ।
সে এখন কোথাও লুকিয়ে আছে,
আর সে যেকোন সময় আবার আঘাত হানবে।
এনরিকো মাথা নাড়ে,
__আর সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাপার হচ্ছে সে এখন অন্য মাফিয়াদের সাথে হাত মিলাতে পারে।
এখন চলে যাওয়া মানে এই রাজ্য আবার ওর হাতে চলে যেতে পারে।
__নিকো এবার রেগে গিয়ে বলে,
তুমি যদি যাও, তাহলে আমাকেও তোমার সঙ্গে যেতে হবে।
আমি তোমাকে একা তো কখনোই ছাড়বো না।
যাই হয়ে যাক না কেন।
কিন্তু তুমি জানো এই মুহূর্তে আমাদের এখানে থাকা কতটা দরকার!
তুমি চলে গেলে সবাই দুর্বল হয়ে যাবে।
মিগুয়েল এই সুযোগে আবার পুরো রাজ্যটা তার দখলে নিয়ে নেবে!
সে শুধু একা না, আরও বড় বড় মাফিয়া এখন তার পাশে দাঁড়াতে পারে।
তাই তুমি এখন যদি বোকামি করে চলে যাও,
তাহলে আমরা সবাই শেষ হয়ে যাবো ভীর!
আমাদের এই কষ্ট টার ও আর কোন মূল্য থাকবে না।
ভীর সমস্ত কথার মানে জানে।
এগুলোর হিসাব নিকাশ সে আগেই করে ফেলেছে।
সে জানে কী হতে পারে যদি সে এখন চলে যায়।
সে জানে দায়িত্ব কী, রাজ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
তবুও তার বুকটা পুড়ে যাচ্ছে।
অধৈর্য হয়ে যাচ্ছে সে তার সাথে এমন কেন হচ্ছে সে জানে না।
কিছু কি হতে যাচ্ছে সামনে এতটা ছটফট তো সে কখনো করেনি।
সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৬
মাথার ভেতর শুধু একটাই ছবি ঘুড়ছে ইশায়া।
সব কিছু যেন ভীরের সত্তার ভেতর গেঁথে গেছে।
ভীর চোখ বন্ধ করে , নিকোর উদ্দেশ্যে বলে,
___ইশায়াকে এখানে আনার ব্যবস্থা করো,As soon as possible.
