Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৬

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৬

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৬
তানিয়া হুসাইন

টার্গেট গুয়াতেমালা।
সেন্ট্রাল আমেরিকার ছোট দেশ
মা*দক পাচারের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত।
ওইখানকার মাফিয়া,
খুবই লোকালাইজড কিন্তু আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণে তীক্ষ্ণ
সরকারি বাহিনীর একাংশ তাদের সাথে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়, আরেকাংশ টাকা খায়।
ওদের কাছে জঙ্গলের ভেতরে আস্ত ঘাঁটি থাকে সেখানেই অ*স্ত্র ও ড্রা*গ গচ্ছিত থাকে।

___ডিয়েগো ইতিমধ্যেই ওই জায়গার সব ইনফোরমেশন কালেক্ট করেছে।
শেষ এক সপ্তাহ ধরেই মিশনের প্রস্তুতি চলছে।
প্লেন ঘুরছে কয়েকদিন ধরে,
ভীরের প্যানটম-৭ নামে সাদা কালো রঙের একটি স্পেশাল বিমান গত তিনদিন ধরে মেক্সিকো থেকে গুয়াতেমালা সীমান্তে আকাশপথে চক্কর দিচ্ছে।
প্লেনটা বাইরে থেকে যেন হেলথ রিলিফ বা চ্যারিটি ফ্লাইট মনে হয়, কিন্তু ভিতরে রয়েছে,
১২ জন প্রফেশনাল হিটম্যান
৪টি স্কোপ রাই*ফেল।
মোবাইল হ্যা*কিং ওয়ার রুম,
পোর্টেবল মেডিক সাপোর্ট।
সান্তিয়াগো ও ম্যাটিয়াস গত দুইদিন ধরে গুয়াতেমালার সীমান্তে স্থানীয় গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে পরিচিতির নামে চালাচালি করছে,
কয়েকটি হোটেলে ঘুরছে, ঘুষ দিয়ে ইনফরমেশন নিচ্ছে।

___নিকো একজন লোকাল মাফিয়ার বোনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছে, ওর মাধ্যমে ভিতরের ড্রা*গ রুটের ম্যাপ পেয়েছে
ডিয়েগো সীমান্তে গিয়ে কিছু নক*ল পাসপোর্ট ও সার্ভেইলেন্স ডিভাইস সংগ্রহ করেছে।
কালকের মিশন এর লক্ষ্য।
ড্রা*গ স্টোরেজ ধ্বংস করা,
তাদের এক মিডল রেঞ্জ বসকে অ*পহরণ করা।
জঙ্গলের ভিতর অ*স্ত্র ডিপো হাইজ্যাক করা।
তবে রাজভীর জানে না,
ওইখানকার মাফিয়া খবর পেয়েছে প্যানটম-৭ প্লেনের গন্তব্যের,
ওরা নিজেদের অ*স্ত্র নিয়ে রেডি, অপেক্ষা করছে জঙ্গলের এক গোপন আউটপোস্টে,
পাল্টা আক্রমণের জন্য,
এই মিশন ভীরের জন্য কি আনবে।

মেক্সিকোর, গুয়াদালাহারার রাত ছিলো রহস্যময়,নীরবতার চাদরে ঢাকা।
বিশাল জানালার বাইরে চাঁদের আলো পড়ছিল, ঠান্ডা বাতাসে পর্দা গুলো ধীরে ধীরে নড়ছে।
মেক্সিকো, কলম্বিয়া,পানামা,হন্ডুরাস এই শহরগুলো তার নিয়ন্ত্রনে।
এখানকার বাদশাহ সে।
রাজভীর আলভারেয কাল তার একটা মিশনে যাবে।
সেটার-ই প্রস্তুতি চলছে।
তাদের পছন্দেরও প্রয়োজনীয় অ*স্ত্রগুলো, বু*লেটপ্রুফ জ্যাকেট, সব আবারো ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেয় প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ করে।
একে একে সব গার্ডরা মিশনের জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে।
এই গোপন মিশনটি শুরু হওয়ার আগে ভীর আর নিকো নিজেদের মনোযোগ পুরোপুরি মিশনের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করে।
ভীর জানে এই মিশন কেবল তার জন্য নয় পুরো মেক্সিকান গ্যাংয়ের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

___ভীর উঠে দাঁড়ায়
নিকো, সান্তিয়াগো, এনরিকো কে করে বলে বাকি কাজ তোমরা গুছিয়ে নাও আমি আসছি।
___নিকো ভীরের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে,
রাজভীর একজন কঠোর হিংস্র, নিষ্ঠুর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত,
মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার মাফিয়া।
সে ব্যাক্তি ইশায়ার জন্য কেমন আচরন করছে।
তার চোখে এক ধরনের উদ্বেগ, যা আগে কখনো দেখেনি নিকো।
নিকো নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে।
সে কখনো লক্ষ্য চ্যুত হতে চায় না।
কারন তার কাছে মেয়ে মানে হলো ছলনা। মেয়ে হল শুধু ভো*গের বিষয়বস্তু।
এগুলো জাস্ট ইউজ এন্ড থ্র এর জন্য ব্যবহৃত।।
কিন্তু ভীরকে সে কিছু বলতে পারবে না।
তা হলে তাদের সম্পর্কটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আজ ভীরের জন্য-ই সে এই অবস্থায় আছে।
___রাত্রি নিস্তব্ধ ও ধীরে ধীরে জমে থাকা মেঘের মতো রাজভীরের রুমে এক অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করছিল।
ইশায়াকে সব-সময় নজরদারির জন্য রাখা পাঁচজন মহিলা গার্ড,নিরব ও সতর্ক ভাবে রুমের চারপাশে অবস্থান করছে।
এরা সব সময় ছায়ার মত ইশায়ার পাশে থাকে।

___ভীরের আশার উদ্দেশ্য হলো ইশায়াকে দেখা।
সে বাহিরে ছিলো শুনেছে ইশায়ার অসুস্থতার কথা,
আবার ও কাল চলে যাবে।
তার থাকা হয় না তেমন ব্যস্ততায়।
দরজার কাছে পৌঁছানোর সাথে সাথে,
ভীরের ধীর পদক্ষেপ ঘরের পরিবেশে এক নতুন রকমের উত্তেজনায় ভরে উঠলো।
ভীর রুমের দরজা খোলে,
রুমের মাঝখানে নরম আলোয় ধোয়াটে হয়ে থাকা বিছানায় ইশায়া শুয়ে ছিলো।
ইশায়া জ্বরের কারনে একটু দুর্বল।
জ্বর আগের তুলনায় একটু কমে গেলেও দুর্বলতা যায়নি।
শুয়ে ছিলো সে, ভীরের আগমন বুঝে তৎক্ষণাৎ চোখ চেপে বন্ধ করে নেয়।
এই লোকের সম্মুখীন হতে চায় না সে।

___ভীর যখন রুমে প্রবেশ করে,
তখন প্রতিটি কাজে নিয়োজিত মহিলা তাদের দায়িত্বের সঠিক পালন নিশ্চিত করতে একে একে রুম থেকে বাইরে চলে গেলেন, শুধু একজন থাকলো,
তাদের আচরণ ছিল এক ধরনের সংক্ষিপ্ত,কিন্তু যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শনের মতো।
_রুমের এক কোণে একজন মহিলা গার্ড মারিয়া এলেনা ভীরের দিকে মুখ করে শান্ত কন্ঠে বললো,
_Jefe, la senora no ha comido nada,
(বস,ম্যাম কিছু খান নি,)
যেমনটা আজকে রাতের রুটিনের অংশ ছিল।
_ভীর ধীর কন্ঠে কিন্তু দৃঢ় স্বরে বলল,
বাহিরে যাও।
গার্ড বিনা বাক্যে মাথা ঝুকিয়ে আদেশ পালন করল,
দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

__ভীর ইশায়ার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়,কপালে হাত রাখে,
শরীরের তাপমাত্রা বোঝার পরই তার চোয়াল শক্ত হয়ে যায়,তার হাতের আঙ্গুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে ওঠে।
যদি অন্য কেউ অসুস্থ হতো, সে একবারো ফিরেও তাকাতোনা, কিন্তু এটা ইশায়া…
রাগ তার গলার স্বরেও ফুটে ওঠে,
তবে সেটাতে বরফের মত ঠান্ডা নিয়ন্ত্রণ থাকে,
___ খাওনি কেনো
তার কণ্ঠস্বর নিম্ন, গভীর কিন্তু প্রচন্ড চাপা রাগে ঠাসা।
___ইশায়া চোখ বন্ধ রেখেই শুনতে পায়, কিন্তু উত্তর দেয় না।
তার নীরবতা ভীরকে আরো ক্ষুব্ধ করে তোলে।
সে তখনই দরজার দিকে তাকিয়ে গার্ডদের উদ্দেশ্যে গর্জে ওঠে,
“তোমরা পাঁচজন কী করছিলে? যদি ওর কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে কেউ বেঁচে থাকবে না মনে রেখো”
তার হিংস্র রাগে গার্ডরা ভয়ে নড়েচড়ে ওঠে, কিন্তু মাথা নিচু করে থাকে।
ক্ষমা চায়।
এবং জানায় তারা অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু কিছুতেই ইশায়াকে কিছু খাওয়াতে পারে নি।

___এরপর ভীর আবার ইশায়ার দিকে তাকায়। তার চোখে রাগ থাকলেও, ভেতরে একরকম অস্থিরতা কাজ করছে। সে ঠান্ডা গলায় বলে,
তুমি জানো আমি পছন্দ করি না যখন তুমি নিজের যত্ন নাও না। আমার সহ্য হয় না, ইশায়া।
কেনো বারবার অবাধ্য হও আমার।
তার কণ্ঠে হুমকির ছায়া স্পষ্ট,
–ইশায়া তখনও চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে, যেন কিছুই শুনতে পায়নি।
ভীর গভীর শ্বাস নেয়, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। সে জানে, তার রাগের ভয়ানক দিকটা এখানে প্রকাশ করা যাবে না।
এখন সে অসুস্থ,
তাই সে হাত বাড়িয়ে ইশায়ার গালের পাশে আলতো ছোঁয়া দেয়, তারপর ঠাণ্ডা গলায় বলে,
চোখ খুলো, ইশায়া। এখনই।
তবে সে জানে, ইশায়া সহজে তার আদেশ মানবে না। আর এটাই তাকে আরও বেশি অধৈর্য করে তুলছে…

___ইশায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। মেয়েটার গাল লালচে, নিঃশ্বাস ধীর, জ্বরের কারণে হয়তো দুর্বল হয়ে গেছে, কিন্তু তবুও সে ভীরকে পাত্তা দিচ্ছে না?
ভীর ঠাণ্ডা গলায় বলল, আবারো বলছি চোখ খোলো, ইশায়া।
এবার খানিকটা জোরেই বলে ভীর কথাটা।
কোনো সাড়া নেই, ইশায়ার।
ভীরের ধৈর্য ধীরে ধীরে ছিঁড়ে যাচ্ছিল।
সে এবার আরও কঠিন কণ্ঠে বলল,
আমি ১ থেকে ৩ পর্যন্ত কাউন্ট করব এরপরও যদি তুমি চোখ না খুলো তারপর কি হবে সেটা তুমি ভালো করেই জানো।

___তুমি শুনতে পাচ্ছো, আমি জানি।
এক… দুই…
ইশায়া চোখ বন্ধ রেখেই শ্বাস নিল, কিন্তু নড়ল না।
ভীর এবার আর সহ্য করতে পারল না।
এক ঝটকায় সে বিছানার পাশে বসে সামনে ঝুঁকল, তার হাত বাড়িয়ে ইশায়ার চিবুক ধরে টান দিল, “তিন!”
ইশায়ার চোখ ধক করে খুলে গেল।
তার চোখে ভয় জ্বলজ্বল করছিল, কিন্তু সে মুখ শক্ত করে রাখল। ভীরের চোখদুটো শিকারির মতো, গভীর, রাগী আর ভয়ঙ্কর।

তুমি কি আমার আদেশ অমান্য করছিলে?ভীর ধীর অথচ হুমকির স্বরে বলল।
ইশায়া কিছু বলল না, কিন্তু গলার নিচ দিয়ে একটা ছোট নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো।
হাত বুলালো ভীর ইশায়ার গলায়।
তার আঙুল ঘুরাঘুরি করছে ইশায়ার শ্বাসনালীতে।
তুমি অসুস্থ, আর তবুও জেদ ধরে আছো? সে ক্ষীপ্ত গলায় বলল।
ইশায়া এবার আস্তে করে বলল, আমি ঘুমোচ্ছিলাম…
ভীর হেসে ফেলল,
কিন্তু সেই হাসিতে ভয় লুকিয়ে ছিল।
ঘুমোচ্ছিলে? আমি যদি তোমাকে ছুয়ে না দিতাম, তাহলে কি তুমি আরও একঘণ্টা আমার সাথে এই নাটক চালিয়ে যেতে?
ইশায়া এবার চোখ সরিয়ে নিল, কিছু বলল না।
ভীর গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলে নিল। সে ধীরে ধীরে বলল, তুমি জানো না, ইশায়া, আমি কী করতে পারি যখন আমার রাগ ওঠে। কিন্তু ভাগ্য ভালো, আমি তোমার ওপর সেটা এখন দেখাতে চাই না। এখন চুপচাপ কিছু খাও। নাহলে আমি নিজের হাতে খাওয়াবো, তখন কিন্তু পরিস্থিতি তোমার জন্য আরও কঠিন হবে।
তার চোখে কোনো মজা ছিল না। এটা একটা আদেশ। আর ইশায়া জানত, সে যদি ভীরের কথা না মানে, তাহলে সে সত্যিই নিজের মতো করে তার কথা মানিয়ে নেবে যার পরিণতি সে কল্পনাও করতে চায় না…

____ইশায়া স্যুপের বাটি হাতে তুলে নেয়, কিন্তু তার চোখে এক ধরনের অসহায়তা । শরীরটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, মাথা ঘুরছে, আর খাওয়ার কোনো ইচ্ছাই নেই।
সে স্যুপের দিকে তাকিয়ে একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,
আমি… পারছি না।”
পারবে খাও,
আর যদি মনে করো যে তুমি খেতে পারবে না, তাহলে আমি তোমার জন্য অন্য কিছুর ব্যবস্থা করব।
তুমি কি চাইছো তোমার ওই পাঁচজন গার্ড শাস্তি পাক।
ভীরের গলায় এমন একটি সুর ছিল যে ইশায়া আর কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। সে শুধু কিছুক্ষণের জন্য মাথা ঝুঁকিয়ে রেখে ধীরে ধীরে স্যুপে চামচ ডুবিয়ে মুখে তুলতে শুরু করল।
চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়বার আগেই মুছে নেয় নাক টানে।
ভীর তার সামনে দাঁড়িয়ে রইল, তার চোখের দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্য ও সরে না। যতক্ষণ না ইশায়া পুরোটা খাচ্ছে, ভীর তাকেকোনো ছাড় দিবে না। তার শাসন ছিল স্পষ্ট ইশায়া যতটা অসুস্থই হোক না কেন, তার আদেশ মেনে চলতেই হবে।
তাকে সুস্থ থাকতে হবে, এই মেয়ে অসুস্থ হলে তার ভালো লাগেনা।

শরীরটা যেন এক টুকরো জ্বলন্ত ছাই হয়ে আছে ইশায়ার।
ওষুধের তীব্রতা আর জ্বরের ঘোরে তার চোখ ভারী হয়ে আসছে।
সাদা বিছানার চাদরে আধা ঘুম ঘুম হয়ে শুয়ে সে জানালার দিকেই মুখ করে আছে।
বাইরে কিট্টি বারবার আঁচরাচ্ছে দরজায়, তার ছোট্ট আওয়াজগুলো বারবার ছুঁয়ে যাচ্ছে ইশায়ার ক্লান্ত মন।
কিন্তু তার কিছুই করার নেই।
এই ঘরটা যেন একটা কারাগার যেখানে জেলারের নাম ভীর।
আর সে এখন রুমে, তাই কিট্টির প্রবেশ বারণ।
ভীর তখনো বসা, চুপচাপ ইশায়ার ঔষধ খাওয়া দেখছে নিঃশব্দে।
মনের ভিতরে কি বয়ে যাচ্ছে, বোঝা যায় না তার কঠোর মুখ দেখে।
ঔষধ খাওয়া শেষ হতেই ভীর উঠে দাঁড়ায়।
নীরবে ওয়াশরুমে যায়।
শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে।

ভেজা চুলগুলো টাওয়াল দিয়ে মুছে পিছনে টেনে রেখেছে, পরনে স্লিম ফিট কালো ট্রাউজার আর এক্যুয়া ব্ল্যাক টিশার্ট তীক্ষ্ণ লুক, চোখ দুটো জ্বলজ্বলে, যেন মায়ার ভেতরেই বিষ।
ডিনারটা আজ রুমেই করে ভীর
চুপচাপ বসে খায়, কিছু না বলে।
তারপর ল্যাপটপ নিয়ে বসে পরের দিনের মিশনের সব ডকুমেন্টস একবারে দেখে শেষ করে।
মানচিত্র, অস্ত্র, রুট সব চেক করে।
সব কিছু অন্ধকারের মতো নিখুঁত।
রাত গভীর হতেই, ভীর উঠে দাঁড়ায়।
চোখ তার পড়ে যায় বিছানার কোণে ঘুমিয়ে থাকা ইশায়ার দিকে।
একপাশ হয়ে শুয়ে আছে, মুখটা ফ্যাকাসে কিন্তু তার মাঝেও এক অপার্থিব সৌন্দর্য ঝলসে পড়ছে।
এক ভয়ংকর পুরুষের চোখে, সে যেন সবচেয়ে নরম দুর্বলতা।
ভীর বিছানায় আসে।
ধীরে ইশায়ার শরীরে হাত রাখতেই টের পায়, শরীরটা বেশ গরম।
সে চুপচাপ ইশায়ার বাহু টেনে সোজা করে।
ইশায়ার চোখ আধখোলা ঘুমঘোরে কাঁপা কাঁপা চোখে তাকায় তার দিকে।

___ভীর ইশায়ার মুখের সামনে আসা চুল কানে গুজে দেয়,
ঠোঁটে আদুরে স্পর্শ দিয়ে ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করে, __ভালো লাগছে না শরীর?
ইশায়া কিছু বলে না।
তবে যখন ভীর তার আরো কাছে আসে, ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করে, ঠোঁট ছুঁয়ে মুখে, গলায় হাত নামায়,
তখন ইশায়া কাঁপা ঠোঁটে বলে ওঠে,
আমার শরীর ভালো নেই।
ভীর থামে না।
সে ভাবে, হয়তো এটা শুধু জ্বরের অজুহাত।
তাই সে আরও কাছে টেনে নেয় তাকে।
ঠোঁট রাখে ইশায়ার গলায়,
ভীরের হাত ইশায়ার কমোরের দিকে আসতেই,
ইশায়া তার হাত চেপে ধরে।
সারা শরীরে একটা শিরশিরে কাঁপুনি বয়ে যায়।

__ভীর থেমে যায়।
তার চোখে আগুনের মতো রাগ জ্বলে ওঠে।
চোয়াল শক্ত হয়ে আসে।
তাকে কেউ কোন কাজে বাধা দিলে সেটা সে নিতে পারে না।
___ইশায়া কাপা কাপা গলায় বলে,
আ..আমা,
হঠাৎ ভীরের মাথায় কিছু আসে, সে বুঝে ইশায়া কি বলতে চাইছে।
ভীর এক মুহূর্ত চুপ করে থাকে।
চোখ বন্ধ করে লম্বা একটা শ্বাস নেয়।
পাল্টা কিছু না বলে, হঠাৎই সে পুরো শরীর দিয়ে ইশায়াকে জড়িয়ে ধরে।
বুকের গভীর তাপ আর রাগ একসাথে গলতে থাকে তার নিঃশ্বাসে।

__তুই আমার,
ভীর ফিসফিসিয়ে বলে, কাঁপা কণ্ঠে।
কিন্তু তোর কোন কষ্ট আমি সহ্য করতে পারি না।
তার ঠোঁট পড়ে থাকে ইশায়ার কপালে, হাত জড়িয়ে থাকে কোমরে।
তাদের মাঝের দূরত্বটা তখন আর ভয়ানক নয়,
বরং একটা ক্ষতবিক্ষত ভালোবাসার নিঃশ্বাসে ভরে যায় পুরো ঘর।

ভোরের আলো ফুটে,
ঘড়ির কাঁটা তখনও ছয়টায় পৌঁছায়নি।
কিন্তু ইশায়ার ঘুম ভেঙে যায়।
সে কাঁপা হাতে চোখ মুছে চুপ করে পড়ে থাকে কিছুক্ষণ।
জ্বর হলে আগে তার মা-বাবা সব সময় তার পাশে বসে থাকতো।
এখন কোথায় হারিয়ে গেল সেই দিনগুলো।
তার পাশেই ঘুমিয়ে আছে ভয়ংকর পুরুষটা ভীর আলভারেয।
সাদা চাদরের নিচে তাকে দুহাতে ঝাপটে ধরে শুয়ে আছে।
ইশায়া নিজেকে কোনমতে ছাড়ায় ভীরের বাধন থেকে।
সারারাতের ঘোরের পর এই এখন ইশায়া নিজেকে একটু নিজস্ব মনে করে।
হালকা করে চাদরটা সরিয়ে, নিঃশব্দে বিছানা ছাড়ে সে।
ভীর যেন অনুভবও করল না কিছু।
কিংবা করেও কিছু বলল না।
ওয়াশরুমে ঢুকেই ইশায়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে।
ঘামে চুপচুপে মুখটা দেখে একটা শীতল শ্বাস ফেলে,
জ্বরটা নেমে গেছে।

পানির নিচে দাঁড়িয়ে সে চোখ বন্ধ করে দেয়,
শাওয়ারের জল পড়ছে একটানা মাথার ওপর।
পানির নিচে দাঁড়িয়ে থাকা এই নিঃশব্দ মেয়েটা যেন ভীরের বন্দী পৃথিবীর একমাত্র বেঁচে থাকা সৌন্দর্য।
শাওয়ার শেষে একটা হালকা পারপেল কালারের গাউন পরে সে বেরিয়ে আসে।
দরজা খুলে নিচু কণ্ঠে ডাকে,
কিট্টি।
দরজার বাইরেই বসে ছিল ছোট্ট বিড়ালটা।
তার ম্যাও ম্যাও শব্দে একটা কোমলতা ঢেউ তুলে দেয় ইশায়ার মনে।
ইশায়া মাথা নিচু করে বসে,
এক হাতে খাবারের পাত্র রাখে,
কিন্তু চোখে মুখে ভয়ের ছায়া।
ভীর জেগে গেলে বিপদে পরবে সে।
এই বিড়ালটা হারাতে চায় না সে।
কিট্টিকে বাইরেই রেখে আসে সে, আবার নিঃশব্দে রুমে ঢোকে।
কিন্তু সেই মুহূর্তেই তার বুকের ভেতর ধক করে ওঠে।
ভীর বিছানায় নেই।

একটা অস্থির দৃষ্টিতে তাকায় চারপাশে,
ভীর তখন আধাশোয়া অবস্থায় পাশের সোফায় বসে আছে।
চোখ আধখোলা।
চুল এলোমেলো।
তুই কোথায় গেছিলি?
ভীরের গলা খসখসে, কিন্তু ঠান্ডা।
ইশায়ার কণ্ঠ শুকিয়ে আসে।
কিছু বলতে পারছে না।
পায়ে পায়ে সে আবার বিছানায় গিয়ে বসে পড়ে।
ভীর তাকিয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড, তারপর ধীরে ধীরে উঠে আসে।
তার চোখ দুটো গভীর ভেতরে কি আছে বোঝা যায় না।
সে আস্তে এসে ইশায়ার পাশে বসে।
গায়ে হাত দিয়ে তাপমাত্রা বোঝার চেষ্টা করে।
জ্বর নেই দেখে একটু স্বস্তি পায় সে।
তারপর গম্ভীর গলায় বলে,
আমি বলেছিলাম না আমি ঘুম থেকে ওঠার আগে যেন আমার পাশ থেকে না ওঠো তুমি।

___ইশায়া চুপ করে থাকে,কি বলবে সে।
___ভীর বলে,
নেক্সট যেন আর বলতে না হয়।
কথাটা বলেই ভীর উঠে দাঁড়ায়।

সব প্রস্তুত।
বাইরে প্রাইভেট জেট, বডিগার্ড, অ*স্ত্র,সব কিছু রেডি।
মাফিয়া সাম্রাজ্যের প্রত্যেকটা মানুষ অপেক্ষা করছে একজনের জন্য,
ভীর আলভারেয।
কিন্তু আজ, ঠিক এই প্রথমবার,
ভীরের মন সায় দিচ্ছে না কোথাও যেতে চাইছে না।
শার্টের বোতাম গুঁজতে গুঁজতে সে একবার তাকায় সোফায় বসে থাকা মেয়েটার দিকে।
ইশায়া চুপচাপ একটা গ্লাস ধরে আছে,
জুস হাতে সে অল্প অল্প করে খাচ্ছে।
ভীর ধীরে বলে,
Come here,
ইশায়া একটু দ্বিধা নিয়ে এগিয়ে আসে।
ভীর এগিয়ে এসে তাকে একটানে কাছে টেনে নেয়।
তার ঠোঁটের কোণ থেকে একটা চাপা শ্বাস বেরোয়।

_Hold me once. like you never want me to leave.
ইশায়া বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
ভীর নিজেই ইশায়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে,
চোখ বন্ধ করে গভীরভাবে শ্বাস নেয়।
তারপর কপালে চুমু খেয়ে বলে,
নিজের খেয়াল রাখবে। খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতো করবে। আমি দ্রুত ফিরবো।
তারপর একটিবার আর পেছন না ফিরে দরজার দিকে এগিয়ে যায়।
আর ইশায়া,

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৫

চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে,
বাইরে ইঞ্জিনের গর্জন বাড়ে,
আর ভীর রওনা দেয় অজানা এক যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৭