Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ১০

সে খলনায়ক পর্ব ১০

সে খলনায়ক পর্ব ১০
ফারহানা সানিয়াত

__ ইভান!!
__ কি হয়েছে বল দৌড়াচ্ছিলি কেনো আর ভিজলি কিভাবে? ঝিলে পড়ে গিয়েছিস?
ঝিলে পড়ে যাওয়ার কথা শুনে প্রাণপ্রিয়ার কিছুক্ষণ আগের ঘটনাটা চোখে ভেসে ওঠতেই সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ইভান থেকে সরে দাঁড়ায়,ইভান কপালে কুঁচকে ফেলে তবে খেয়াল করে প্রাণপ্রিয়ার পরনে কলেজের সাদা জামা ভিজে গায়ে বাজে দেখাচ্ছে,, সে দুই আঙ্গুল দিয়ে কপাল ঘষে অন্য দিকে তাকিয়ে নিজের টি-শার্টের উপর পড়ে থাকা শার্টটা খুলে প্রাণপ্রিয়ার শরীর ঢেকে দেয়। প্রাণপ্রিয়া আস্তে আস্তে চোখ খুলে ইভানের দিকে তাকায়। ইভান হালকা কাসে,
__ আচ্ছা চল আশ্রমে যাই আগে এভাবে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ঠান্ডা লেগে যাবে,, বলেই কোনমত প্রানপ্রিয়ার হাত ধরে হাটা শুরু করে,,,

শরীরে বাথরোব পিছিয়ে ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে দামিয়ান ঘরের বিশাল বড় আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। তার সামনের চুলগুলো ভেজার কারণে কপালে উপর পড়ে আছে সে আঙ্গুল চালিয়ে উপরের দিকে ঠেলে দেয় আর কিছুক্ষণ আগের ঘটনা ভেবে নিঃশব্দে ঠোট আওড়ায়,, প্রানপ্রিয়া।
পিছন থেকে হঠাৎ দরজায় নক করার শব্দ দামিয়ান আয়নার দিকে তাকিয়ে থেকে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়,,অনুমতি পেয়ে নিকলাই দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে একপাশে দাঁড়ায়, এরপর সাদা পাঞ্জাবি পড়া হুমায়ুন ধীর পায়ের ভিতরে ঢুকেন,,
__ ডিস্টার্ব করলাম না তো আবার ?দামিয়ান বাবার কন্ঠ শুনে ঘুরে দাঁড়ায়,
__ একদম ই না তুমি বসো আমি ড্রেস পরে আসি,
হুমায়ুন হালকা হেসে ঘরের সোফায়‌ গিয়ে বসে, অতঃপর প্রায় পাঁচ মিনিট পর দামিয়ান বাবার সোফার বরাবর সোফায় এসে বসে পরনে তার অফ হোয়াইট কালার শার্ট সামনে দুটো আর হাতার বোতামগুলো খোলা, ব্ল্যাক কালার ফরম প্যান্ট, সে সব সময় ফরমান লুকে থাকতে পছন্দ করে যেমনটা রাশিয়াতে তার অভ্যাস হয়েছে,,

__ কিছু বলবে ? দামিয়ান বাবাকে জিজ্ঞেস করে,
হুমায়ূন ছেলের দিকে তাকান, তিনি হাতে ম্যাগাজিন নিয়ে পৃষ্ঠার উল্টে পাল্টে দেখছিলেন,
__ নাহ এমনি তোমার সাথে কথা বলতে এসেছি,
দামিয়ান বাবার থেকে চোখ সরিয়ে তাদের থেকে কিছু দূর দাঁড়িয়ে থাকা নিকলাইকে এক নজর দেখে যে আপাতত হাতের টিস্যু দিয়ে কপালের ঘাম মুছে,,
দামিয়ান মাথা নাড়ায়,,ওওওহ,
হুমায়ুন হাতের ম্যাগাজিনটা টেবিলে রাখেন,, শুনলাম তোমার মম তোমার নানার ব্যবসার 80% শেয়ার তোমাকে দিয়েছে। এটা শুনে আমি খুব খুশি হয়েছি তোমার প্রতি আমার প্রাউড ও ফিল হচ্ছে, অবশ্যই তুমি একজন পারফেক্ট বিজনেসম্যান হতে পেরেছ বলে তোমার মম তোমাকে 80% শেয়ার দিয়েছে। তবে এই ব্যাপারে কি তোমার ডেডের মত ছিল?
দামিয়ান বাবার কথাগুলো চুপচাপ শুনছিল কিন্তু হঠাৎ ডেড শব্দটা শুনে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,, he is not my dad,হুমায়ুন হালকা হাসেন, এভাবে বলো না মিস্টার মিখাইল তোমার মমের হাসবেন্ড সেই সূত্রে আমি যেমন তোমার বাবা,,,

__তুমি লাঞ্চ করেছো? বাবার কথার মাঝে দামিয়ান জিজ্ঞেস করে ওঠে, হুমায়ুন থেমে যায় সে বুঝতে পারে দামিয়ান মিস্টার মিখাইলের কথা শুনতে চাচ্ছে না। ‌ কিছুটা চিন্তিত হন, রাশিয়ার পারিবারিক কোনো ব্যাপারে সে দামিয়ান কে কখনো কিছু জিজ্ঞেস করেনি কারণ মা ছেলে তাদের পারিবারিক বিষয়ে কথা বলার সে কেউ না তাই রাশিয়াতে তাদের পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক কেমন তা জানে না তবে এখন হালকা আচ করতে পারছে দামিয়ান‌ আর তার সৎ বাবার মধ্যে সম্পর্ক হয়তো ভালো না।
__ হ্যাঁ করেছি হুমায়ুন উত্তর দেন, তিনি পারিবারিক বিষয় বাদ দিয়ে এবার ব্যবসা নিয়ে জিজ্ঞেস করেন,
__ তোমার সেখানকার ব্যবসার অবস্থা কি?
ব্যবসার কথা শুনে দামিয়ান বাবার চোখের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিকলাইয়ের দিকে তাকায়,,
__ ভালো, ছোট করে তার উত্তর ,
হুমায়ুন সূক্ষ্ম শ্বাস ফেলেন, রাশিয়াতে ব্যবসা করা এত সহজ না সে জানে কারণ সেখানকার ব্যবসায়ী মানে মাফিয়া । ছেলের জন্য তার ভীষণ চিন্তা হয়, একমাত্র ছেলে তার তবে সে জানে ক্যাথরিন দামিয়ান কে একজন পারফেক্ট ব্যবসায়ী বানিয়েছে,,, তুমি আমাদের পারফেক্ট ছেলে দামিয়ান, আমি তোমাকে নিয়ে অনেক প্রাউড ফিল করি।, তুমি তোমার নিজের মতের সাথে আমার আর তোমার মমের মত কেও অনেক সম্মান করছো। কিন্তু আমার একটা আফসোস থাকবে তুমি আমার ব্যবসাতে হাত লাগাও নি শেষের কথাটা হুমায়ুন হেসে হেসে বলেন ওঠেন দামিয়ানও হালকা হাসে,
কোনো ব্যাপার না তুমি লাগাও নি তো কি হয়েছে, আমি এর আরেক পথ বের করেছি আর সেটা সারা সে একদম পারফেক্ট বুদ্ধিমত্তি একটা মেয়ে তুমি তোমার রাশিয়ার ব্যবসা সামলাবে আর তোমার ওয়াইফ তোমার বাবার ব্যবসা,,,

বাবা ছেলের মাঝে বেশ অনেকক্ষণ সময় কথাবার্তা চলে অতঃপর হুমায়ুনের দরকারি ফোন এলে তিনি ছেলেকে বিদায় জানিয়ে চলে যান,, বাবা চলে যেতেই দামিয়ান টেবিলের ওপর রাখা ফলের ঝুড়ি থেকে একটা আপেল আর ছুরি হাতে নেয়,, কিছু দূরে নিকলাই এখনো দাঁড়িয়ে,দামিয়ান গম্ভীর কন্ঠে ডাক দেয়,
__ নিকলাই!
রোবটের নেয় নিকলাই দামিয়়ানের সামনে এসে দাড়ায়,
__ জি স্যার,
__ বেডের উপর রাখা ল্যাপটপ আমার কাছে নিয়ে আসো,
__ জি স্যার,
স্যারের আদেশ মত নিকলাই বেডের উপর থেকে ল্যাপটপ এনে দামিয়ানের সামনে টেবিলের ওপর রাখতে যাবে তখনই দামিয়ান হাতের ছুড়িটা নিকলাইয়ের হাতে ঢুকিয়ে দিতে ই যন্ত্রণায় নিকলাই চোখ বন্ধ করে হাত থেকে ল্যাপটপটা পড়ে যেতে নিলেও সেটা যত্ন সহকারে টেবিলের উপর রেখে সোজা হয়ে দাঁড়ায়,
দামিয়ান বসা থেকে উঠে শীতল দৃষ্টিতে নিকলাইয়ের দিকে তাকিয়ে হাত থেকে আবার টান মেরে ছুরি বের করে,,

__ এরপর থেকে রাশিয়ার কোনো একটা কথা মুখ দিয়ে বের হলে ছুরি সোজা মুখ দিয়ে ঢুকবে,, শক্ত কন্ঠে দাঁত চেপে বলে ওঠে দামিয়ান,,
__ সসরি স্যার আর কখনো ভুল হবে না, নিকলায়ের যন্ত্রণা কাতর কন্ঠ,
দামিয়ান পা বাড়িয়ে ঘরের বিশাল বড় জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় হাতে রক্তমাখা ছুড়িটা জানালার সাইডে রেখে পকেটে হাত গুঁজে দৃষ্টি বাহিরের দিকে ফেলে,,
পিছন থেকে নিকলাই রক্তে ভেসে যাওয়া হাতটা নিয়েও পাশের একটা টেবিলের ড্রয়ার থেকে সিগারেটের প্যাকেট‌ আর গ্যাস লাইট নিয়ে দ্রুত দামিয়ানের কাছে গিয়ে তার সামনে ধরে,
দামিয়ান আড়চোখে নিকলাইয়ের দিকে এক নজর দেখে সিগারেটের পিকেট আর গ্যাস লাইট হাতে নিতে নিতে বলে,,
__ ব্যান্ডেজ কর গিয়ে,
__ জিজ স্যার, বলে দ্রুত নিকলাই চলে যায়।
দামিয়ান সিগারেটের প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে দুই ঠোঁটের মাঝে নিয়ে গ্যাস লাইট দিয়ে জ্বালায়‌ এরপর টান দিয়ে নিকোটিনের ধোঁয়া বের করে,, তার জীবন পারফেক্ট না হলেও সে একজন বাবা-মায়ের মনের মত পারফেক্ট সন্তান,,

আশ্রমে বসার ঘরে সোফায় চুপচাপ পা তুলে বসে আছে প্রাণপ্রিয়া, পাশে ইভান কপাল কুঁচকে তাকে দেখছে আর বরাবর বসা মিসেস সেলিনা হাতের কাজ করতে করতে বলছেন,,
__ সাঁতার যখন পারেনা ঝিলের কাছে কেনো গিয়েছিল, এখন যদি কিছু একটা হয়ে যেত, কতবার করে বলি জঙ্গলে এত যেতে না কিন্তু আমার কথা কি কেউ শুনে,,, না শুনে না আর না শুনার ফলে আজ ওই ঝিলে পড়েছে, ভাইজান শুধু আসুক ওই জঙ্গলে যাওয়া নিয়ে আশ্রমের প্রতিটা সদস্যের জন্য বন্ধ করব।
সেলিনা কথাগুলো বলে নিজের মতো বকবক করে রান্না ঘরের দিকে চলে যান, প্রাণপ্রিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে, পাশে বসা ইভানও বলে ওঠে,,

___ আন্টি ঠিকই বলেছেন এত ঝোপযার জঙ্গলে যাওয়ার দরকার কি দিন দিন আসলেই তুই জংলি হয়ে যাচ্ছি ।
প্রাণপ্রিয়া ইভানের দিকে তাকায়,, বেশি কথা বলছিস ,
ইভান মৃদু হাসে, কম কথা বলতে আমার কষ্ট হয়। আচ্ছা যাই হোক, যা হয়েছে, হয়েছে তুই আন্টির কথা মত ঝিলের দিকে কম যাস আজ কম পানিতে পড়েছিলি তাই উঠতে পেরেছিস কিন্তু ‌পরে কোনো ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটলে আমাদের কি হবে ভাবতে পারছিস।
ইভানের কথায় প্রাণপ্রিয়া মাথা নিচু করে, সে বলেনি পানি থেকে কিভাবে উঠেছে বা কে উঠিয়েছে নিজের কাছে কেমন অস্বস্তি লাগছিল তখনকার কথা ভেবে। তবে এটা ঠিক তার উচিত হয়নি পা ঝুলিয়ে বসা আর ওই লোকটিকে দেখেও তার উঠে যাওয়া উচিৎ ছিল আবার তার মধ্যে নোটখাতা ও হারিয়েছে,,
__ কি‌ ভাবছিস? ইভান জিজ্ঞেস করে ওঠে,,
প্রাণপ্রিয়া হা করে শ্বাস ফেলে না সূচক মাথা নাড়ায়,
__ আচ্ছা আমি যে কারণে এসেছিলাম সেটাই তো বলা হলো না,,
প্রাণপ্রিয়া মাথা তুলে ইভানের দিকে তাকায়, ইভান হতাশা শ্বাস ফেলে ,,ভেবেছিলাম আজ তোকে নিয়ে ঘুরতে যাব কিন্তু যা কাণ্ড ঘটিয়েছিস আর যাওয়া লাগবেনা।প্রাণ প্রিয়া সোফায় হেলান দেয় হুম,
ইভান বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়, তাহলে আমি যাই কাল আবার দেখা হবে।প্রাণপ্রিয়া উপর নিচ মাথা নাড়ায় হুম,,ইভান মৃদু হাসে এরপর ঘুরে কয়েক কদম পা বাড়াতেই পিছন থেকে প্রাণপ্রিয়া বলে ওঠে,
__ যেতে চাই আমি ইভান,

রান্না ঘর থেকে কাজ শেষ করে মিসেস সেলিনা শাড়ির আঁচলে হাত মুছতে মুছতে বসার ঘরে এসে প্রাণপ্রিয়া আর ইভান কে না দেখে বলেন ওঠেন ,,
__এরা কোথায় গেল আবার,,
গম্ভীর মুখে সে সময় সদর দরজা দিয়ে মিস্টার রহমান প্রবেশ করেন সেলিনা সেদিকে ঘুরে তাকান,
রহমানের রুক্ষ কণ্ঠ,, সেলিনা প্রাণপ্রিয়া বাসায় আসলে ওকে বলে দিবে সে এখন বড় হয়েছে আর এটা একটা আশ্রম ইভানের সাথে মেলামেশা এখন থেকে কমাতে,,
সেলিনা কপাল কুঁচকে ফেলেন, কি কিছু হয়েছে ভাইজান,
__ কিছু হয়নি কিন্তু এভাবে চললে কিছু হতে দেরি হবে না, আশ্রমের নাম খারাপ হবে সাথে প্রাণপ্রিয়াও,, ইভান একজন ডক্টরের ছেলে ওর দুনিয়া আলাদা আর প্রাণপ্রিয়া এই আশ্রমের আশ্রিতা এভাবে দুজনকে ঘুরতে ফিরতে দেখলে সমাজের মানুষ কাকে খারাপ বলবে এটা তো তুমি ভালো করেই জানো আর এর কারণে আমাদের ওপরও চাপ পড়তে পারে।

মেঘ ছাড়া আকাশে আজ তারার মেলা ধরণীতে রাত নামতে না নামতে ই আকাশের তারা জ্বলজ্বল করা শুরু করেছে, আর চাঁদ তাকে দেখে মনে হচ্ছে প্রতিটা কদমে কদমে সেও সাথে সাথে আসছে এই ব্যাপারটা প্রাণপ্রিয়া খুব ইনজয় করে এই যে এখনো সে একটা লেকে ধারে পিচ ঢালা রাস্তায় আকাশের থালার মতো চাঁদের দিকে তাকিয়ে এক পা এক পা করে হাঁটছে।,
পিছে ইভান এসব মুগ্ধ হয়ে এসব দেখছে। সেই বিকেলে বের হয়েছে তারা, কত কত জায়গা ঘুরেছে দুজন মিলে ছয় বছর ধরে এমন ভাবে ই তাদের সময় যাচ্ছে ঘুরেফিরে মজা মাস্তি করে তবে ‌ দুজনের মনের বন্ধুত্ব দুরকম একজন বন্ধুকে ভালবাসে আর একজন বন্ধুত্বকে,,
প্রাণপ্রিয়া হাটা থামিয়ে লেকে কিনারে গিয়ে দাঁড়ায়, আশেপাশের পরিবেশটা তার ভীষণ পছন্দ হয়েছে ব্যস্ত নগরীতে এমন একটা জায়গা থাকা প্রয়োজন শান্তিতে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ‌ ফেলার যেমন প্রাণপ্রিয়া ‌ও দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বুকে হাত গুজলো,,
পিছে থাকা ইভান ধীরগতিতে হেঁটে প্রাণপ্রিয়ার পাশে
এসে দাঁড়ায়,

__ থেমে গেলি কেনো?
প্রাণ প্রিয়া জোরে একটা নিঃশ্বাস নেয়, এখান থেকে ভিউ টা অনেক সুন্দর,
ইভান এক নজর সামনে দেখে এরপর প্রাণপ্রিয়ার কে ,,__ তোর থেকে না।
ইভানের কথা শুনে প্রাণপ্রিয়া রীতিমতো কাশি উঠে যায় কাশতে কাশতে একপর্যায়ে বমি করে দেওয়ার মত,
ইভান এমন অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে সে দ্রুত প্রাণপ্রিয়াকে ধরতে যাবে তখনই প্রাণপ্রিয়া থেমে বলে ওঠে,,
__ একদম বমি করার মত ফ্লার্টিং ছিল বলেই খিলখিল শব্দে হেসে এক দৌড়, এদিকে ইভান বলদা হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে এরপর দাঁত চেপে নিজেও প্রাণপ্রিয়ার পিছে ছুটে,

ফাইভ স্টার হোটেলের টপ ফ্লোরে কাপল ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে এসেছে দামিয়ান আর সারা,আশেপাশের পরিবেশ টা দেখার মত সুন্দর চারপাশের সফট লাইটিং হালকা মিউজিকআর মিষ্টি ঘ্রাণ তাদের থেকে অনেকটা দূরে আরো কিছু কপাল রয়েছে তবে যে দিকটায় দামিয়ান আর সারা একটু বেশি স্পেশালভাবে সব এরেঞ্জ করার আপাতত তারা নিজেদের খাবার খাচ্ছে দুজনের হাতে কাটা চামচ আর ছুড়ি প্লেটে স্টেক কেটে কেটে মুখে পুড়ছে,,
দামিয়ান খাওয়ার মাঝে সারা দিকে তাকায় এরপর পাশ থাকা ওয়াইনের গ্লাস নিয়ে ঠোঁট ছোঁয়ায়,, সারার পরনে ওয়েস্টার্ন ব্ল্যাক কালার গাউন নিঃসন্দেহে তাকে একজন সুন্দর আবেদনময়ী নারী লাগছে, তবে দামিয়ান নিজ ফিয়ান্সের প্রতি এতটা আকর্ষণ বোধ করছে না যতটা দুদিন দেখা আশ্রিতার উপর করেছে, দামিয়ান আবার ওয়াইনের গ্লাসের ঠোট ছোঁয়ায় আর সারার দিকে গভীর দৃষ্টি ফেলে,সারা নিজের মত মাথা নিচু করে খাচ্ছে তার আশেপাশে খেয়াল নেই, দামিয়ান তার ঠোঁট আর গলার নিচ অব্দি খেয়াল করে যা উন্মাদ করার মত যথেষ্ট কিন্তু ‌ওই আশ্রিতার,,,,

সে খলনায়ক পর্ব ৯

__ কি দেখছো দামিয়ান,আকস্মিক সারার প্রশ্নে দামিয়ানের ভাবনার মাঝে ছেদ পরে,, সরার চোখে মুখে কিছুটা অস্বস্তিকর এভাবে দামিয়ান তাকিয়ে থাকবে সে ভাবিনি।
তবে এতে দামিয়ানের মধ্যে হকচকিয়ে যাওয়ার কোন প্রতিক্রিয়া সে বাঁকা হাসে,,
__ you are looking so beautiful

সে খলনায়ক পর্ব ১১