Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক শেষ পর্ব 

সে খলনায়ক শেষ পর্ব 

সে খলনায়ক শেষ পর্ব 
ফারহানা সানিয়াত

সর্বশেষে প্রাণপ্রিয়া নিজের জীবন থেকে ওই ব্যক্তির কারণে আশ্রয় টাও হারিয়ে ফেলল। কিছু না থাকা সত্ত্বেও যা ছিল সব হারিয়ে ফেলল। টেবিলের ওপর সাদা কাগজে কিছু কথা লিখে রাতের অন্ধকারে ব্যাগ পত্র নিয়ে বের হয়ে গেল অজানা কোনো গন্তব্যে।,
যেখান থেকে কেউ তাকে খুঁজে বের করতে পারবে না। তার জীবনে গ্রাস করে রাখা কালো ছায়া থেকে এবার হয়তো সারাজীবনের মুক্তি ।
সকাল সকাল রুমা প্রাণপ্রিয়ার খোঁজ নিতে এসে টেবিলের উপর রাখা একখানা চিঠি দেখে তার আর বুঝতে বাকি থাকে না । প্রানপ্রিয়া চলে গেছে, সে চলে গেছে।
এরপর দুদিন কিভাবে যেন চোখের পলকে কেটে যায় সব সময়ের মতো, তবে খুব স্বাভাবিকভাবে ও নয়।
আজ ছয় দিন পর দামিয়ান রাশিয়া থেকে বাংলাদেশ ফিরলো। নিলয় এয়ারপোর্ট থেকে তাকে রিসিভ করে। আপাতত তারা চলন্ত গাড়িতে। দামিয়ান পেছনের সিটে শান্ত দৃষ্টিতে বাহিরের দিকে চেয়ে আছে। তবে আজ তার মুখে গম্ভীরতার ছিটে ফোটাও নেই খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসা। কিন্তু এতটা শান্ত থাকা কোনো কিছুর আভাস দিচ্ছে না তো। নিলয় ড্রাইভ করার মাঝে সাবধান কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে ওঠে,,

__ আগে কোথায় যাব স্যার ?
দামিয়ান বাহিরে দিকে দৃষ্টি রেখে গভীর শ্বাস ফেলে। অতঃপর ভারী কন্ঠে শুধায়,
__ আবরার ম্যানশন।
সকাল থেকে আবরার ম্যানসনে প্রতিটা কোনায় খুশির খবর ছড়াছড়ি। আজ সারা আর দামিয়ানের বিয়ের তারিখ ঠিক করা হবে এবং খুব কাছের একটা তারিখ বেছে নেওয়া হবে। হুমায়ুন আবরার মনে করছেন শুভ কাজে আর দেরি করা ঠিক হব না আপাতত পরিস্থিতিতে ।
ম্যানশনে সারার পরিবারও উপস্থিত। সবাই বসার বিয়ে নিয়ে কথাবার্তা বলছেন। রাইমা কথা বলতে বলতে সবাইকে খাবার এগিয়ে দিচ্ছেন। মিসেস চৌধুরী পাশে বসা সারাকে খোঁচা মেরে ইশারা করেন রাইমা কে বলেন সাহায্য করার জন্য। সারা সেজেগুজে বসে ফোনে ভিডিও দেখে মিটিমিটি হাসছিল তবে মিসেস চৌধুরী ইশারা দেখে বিরক্ত হয়ে না চাইতেই ও ফোন রেখে রাইমাকে সাহায্য করা শুরু করে।
মিসেস চৌধুরী চায়ের কাপে ‌ চুমুক দিয়ে বলেন,,

__ তারিখ খুব জলদি ঠিক করা হচ্ছে। বিয়ের আয়োজন তো তাহলে আজ থেকে শুরু করে দেওয়া উচিত।
হুমায়ুন মৃদু হেসে মাথা দুলিয়ে বলেন।
__ তা তো অবশ্যই করতে হবে । তবে দামিয়ান আসুক এরপর তারিখ একদম ঠিকঠাক করে আজ রাত থেকে ই শুভ কাজে লেগে পড়বো। কি বলেন মিস্টার চৌধুরী?
মিস্টার চৌধুরী হেসে ওঠেন।
__ আপনি যা ভালো বুঝেন।, ছেলের বাবা যা চাইবে তাই।
সারা লজ্জা মাখা মুখ নিয়ে কানের পিছে চুল গুজে হুমায়ুনের সোফার পাশে দাঁড়িয়ে। হুমায়ুন ঘাড় ঘুরিয়ে তার দিকে তাকান।

___ অনেক দায়িত্ব নিতে হবে কিন্তু সারা। যা আমার ছেলে হিসেবে দামিয়ানের নেওয়ার কথা ছিল সেটা তোমাকে নিতে হবে। আমার পরে তোমাকে আমার জায়গা দেওয়া হবে। আমি জানি তুমি সবকিছু তোমার বুদ্ধি দিয়ে সামলে নিবে। এতদিন শুধু বলেছি এখন খুব শীঘ্রই এটা হবে।
সারা মিষ্টি করে হেসে মাথা দুলিয়ে অবশ্যই বলে সোফায় বসে থাকা তার মা বাবা দিকে এক নজর তাকায়।
মিসেস চৌধুরী কিছুটা আফসোস নিয়ে এবার বলেন।
__ মেয়ের বিয়েতে ছেলের অনুপস্থিতি ভাবতে কষ্ট লাগছে ।তবে আপনার কথামতো শুভ কাজে দেরি করেও লাভ নেই।তার এই কথায় উপস্থিত থাকা সবাই এ বিষয়ে আফসোস করেন। তবে শুধু আহনাফ বাদে সে নিশ্চুপ। সে চুপচাপ শুধু সারা নাটক করাতে কতটা পারদর্শী সেটা দেখছে।
আধঘন্টা খানিক পর। নিজেদের মধ্যে সবাই কথাবার্তা বলার মাঝে আকম্মিক বাহিরে গাড়ির শব্দ শুনে বুঝতে পারে দামিয়ান চলে এসেছে।
সারা হাসির চওড়া করে। মনে মনে ভেবে ওঠে এখন তার রাস্তায় বাধা হওয়ার মতো কেউ নেই। কেউ নেই তার বরাবর হয়ে দামিয়ানের পাশে দাঁড়ানোর।আর মাত্র কিছু দিন এরপর এই সে বাড়ির বউ এবং সব কিছুর মালিক । সারা খুশি মনের সদর দরজার দিকে পা বাড়ায়।
দামিয়ান গাড়ি থেকে নেমে পড়নের নেবি ব্লু কালার কোট গা থেকে খুলে এক হাতে ঝুলিয়ে ধীরগতিতে সিঁড়ি বেয়ে সদর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
সারা তাকে দেখে ঠোঁটের হাসি আরো চওড়া করে
হাঁটার গতি বাড়িয়ে দেয়। সোফায় বসে থাকা সবার দৃষ্টি তাদের দুজনের দিকে। দামিয়ান খুব শান্ত ভঙ্গিতে সারার দিকে পা বাড়াচ্ছে ।তবে দুজন অনেকটা কাছে চলে আসতে আচমকা দামিয়ান সারার চোয়াল চেপে ধরে ফ্লোরের ধাক্কা মেরে ফেলে।
আকম্মিক ঘটনায় উপস্থিত সবাই বিস্মিত হয় বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়।
সারা ফ্লোরে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। দামিয়ানের শান্ত মুখশ্রীতে এবার শক্ত হয়ে ওঠেছে।

__ তোর সাহস দেখে নিজেকে কন্ট্রোল রাখা দায়। সে দাঁত চেপে বলল
সারা ঘনঘন রুক্ষ শ্বাস ফেলার সাথে দামিয়ানের দিকে তাকিয়ে চেচিয়ে ওঠে,
দামিয়ান তার দিকে এক কদম বাড়ায়,
__ একদম আওয়াজ না নাহলে এখানেই গেড়ে ফেলতে সময় নিব না।
মিসেস চৌধুরী দ্রুত এগিয়ে এসে সারাকে নিচ থেকে ধরে উঠিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করে উঠেন।
__ কি হয়েছে দামিয়ান? কি করেছে সারা?
দামিয়ান রক্তচুক্ষে কিছুক্ষণ সারার দিকে চেয়ে থাকে অতঃপর রুক্ষ পায়ে কদম ফেলে তার বাবার বরাবর সোফায় গিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বসে।
সাবার দৃষ্টি দামিয়ানের দিকে স্থির।
সারা ফের চেঁচিয়ে এবার বলে ওঠে,
__ খবর কানে চলে গেছে, তাই না। ওই রক্ষিতার জন্য এত দরদ ? এত?
__ I wish someone to bend you and f*ck your attitude, f*cking bi*ch উচ্চকণ্ঠে বলে ওঠে দামিয়ান।

সবাই তার মুখে তুই তোকারি আর এরূপ কথা এবং গালি শুনে হতভম্ব যেখানে দামিয়ানকে সব পরিস্থিতিতে ঠান্ডা মাথায় সচরাচর দেখা যায়।
সারা রেগে থর থর করে কেঁপে ওঠে। চোখের কোঠায় অশ্রু জমে গেছে তার।
দামিয়ান এক হাত দিয়ে চোয়াল ঘষে। তার চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে।
তার বরাবর দাঁড়ানো হুমায়ুন ছেলের প্রথম এই ধরনের আচরণ দেখে সোফায় ধীরে ধীরে বসে পড়ে। তার পাশে বাকিরা বিস্ময় ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারছে না।
দামিয়ান তার এক পা দ্রুত গতিতে নাড়াছে। সে রাগ সংযক্ত রাখতে না পেরে উত্তেজিত হয়ে পড়েছে।বসার ঘরে খানিকটা সময় নিস্তব্ধতা বিরাজ করে।
অতঃপর দামিয়ান তার আঙ্গুল থেকে এনগেজমেন্ট রিং খুলে চোয়াল শক্ত করে ফ্লোরে ছুড়ে ফেলতেই এবার নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে হুমায়ুন হুংকার দিয়ে উঠেন।

__ তোমার সাহস কি হয় আমার সামনে বসে এগুলো করার।
__ তোমরা বাধ্য করেছ, এখন মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।
__ লজ্জায় আমার মাথা নত হয়ে যাচ্ছে দামিয়ান। তোমার থেকে আমি এসব আশা করি না। আমার অহংকার নষ্ট করে দিচ্ছো তুমি।
পাশ থেকে মিস্টার চৌধুরী গম্ভীর কন্ঠে হুমায়ূনকে বলে উঠেন,
__ আমরা অপমানিত বোধ করছি মিস্টার আবরার।
যে সম্পর্ক ছয় বছর আগে থেকে ঠিক করে রাখা হয়েছে ।আমার মেয়ে বছরের পর বছর এই বাড়িতে পড়ে আছে এই দিনের জন্য?
দামিয়ান কিছুটা হেসে বলে,,
__ আহ মিস্টার চৌধুরী খুব আফসোস যা পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন তার সফল হলো না। সমস্যা আপনার মেয়ের মধ্যে আমি চেয়েছিলাম সে থাকুক। কিন্তু আমার চাওয়ার মাঝে যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাকে আমি ছুঁড়ে ফেলতে সময় কষ্ট করি না।
হুমায়ুন রেগে গর্জে ওঠে।

__ তোমার লজ্জা করছে না এসব বলতে। বাবা হয়ে কি আমার এখন তোমার চরিত্র নিয়ে বলতে হবে।
__ বলতে পারো সমস্যা নেই, আমার কাছে এসব স্বাভাবিক।
__ স্বাভাবিক? তুমি স্বাভাবিক বলছো? আমি তোমাকে ত্যাজ্য করবো দামিয়ান। আমার সম্মান আমার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান। মুখের ভাষা আমার হারিয়ে যাচ্ছে। যে ছেলেকে নিয়ে আমার গর্ভ ছিল আমার সব কথা তার হ্যাঁ ছিল। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না দামিয়ান তুমি আমাকে এতটা নিচু করবে। কথাগুলো বলে হুমায়ুন মাথা নত করে নেয়,
দামিয়ান গভীর শ্বাস ফেলে বসার ঘরে সবার দিকে এক নজর দেখে।
__ অবশ্যই তুমি চাইলেই আমাকে ত্যাজ্য করতে পারো। এটা তোমার সিদ্ধান্ত কিন্তু আমি জানি তুমি আমার বাবা এটা আমার মধ্যে সারা জীবন থাকবে। তবে আমি এটা ইমোশনাল ভাবে চিন্তা করি না ।ছোট থেকে মম আর তোমার কথা আমি সবসময় সম্মান করে এসেছি এই বলে ভেবে নেওয়া ভুল আমি তোমাদের কথা শুনতে বাধ্য। আমি চেয়েছি আমি সম্মান করেছি। কিন্তু আমি যদি কিছু চাই তার আগে কোনো কিছু গুরুত্ব না আমার জীবনে।
সারা শব্দ করে হাসে,

__ লজ্জা করে না বলতে নিজের ফিয়ান্সে থেকে রক্ষিতাকে গুরুত্ব বলতে।
দামিয়ান চোখ মুখ আবারও শক্ত করে আরো কিছু বাজে গালি দিয়ে উচ্চকণ্ঠে বলে।
__ She is my wife, my wife, so think carefully about what you will say,
বসার ঘরের সবার বিস্ময় ঘোর কাটিয়ে ওঠার আগে দামিয়ানের মুখ থেকে এমন কিছু শুনে তারা এবার স্তব্ধ।হুমায়ুন শরীরের ভার ছেড়ে সোফায় হেলিয়ে বসে।
দামিয়ান বসা থেকে ওঠে গম্ভীর মুখে হাত ঘড়িতে সময় দেখে হুমায়ূনকে উদ্দেশ্য করে বলে।
__ খুব শীঘ্রই রাশিয়া ফিরে যাব। এবার রাশিয়া যাওয়ার পর বাংলাদেশ কবে আসা হবে জানা নেই।
মিসেস চৌধুরী অত্যাধিক রুষ্ট কন্ঠে হুমায়ুন কে বলেন,
___ মিস্টার আবরার কি এসব ? আমার মেয়েকে এতদিন যে আশায় রেখেছেন তার কি হবে? সমাজে নিজের মুখ দেখাবো কি করে আমরা। এর দায় কে নিবে এখন।
দামিয়ান উপহাস করে হেসে উঠে,

__ full family gold digger । যাইহোক আমার একটা কাজে আছে যেতে হবে। আজ বাসায় ফিরবো না।
দামিয়ান বলে কাউকে পাত্তা না দিয়ে সদর দরজার দিকে হাটা ধরে।
সারা হাত মুষ্টিবদ্ধ করে মিসেস চৌধুরী থেকে সরে দামিয়ানের দিকে এগিয়ে কান্না মাখা কন্ঠে পাগলের মত বলে।
__ তুমি এমনটা করতে পারো না দামিয়ান। তুমি ওই এতিম মেয়েকে বিয়ে করেছ এটা মিথ্যা। আমার কি হবে ,একবার ভাবো আমার কি হবে আমি নিজের মুখ দেখাতে পারবো না এনগেজমেন্ট ভেঙ্গে দিতে পারো না তুমি।
দামিয়ান বিরক্ত চোখে ঠোঁট কামড়ে কিছুক্ষণ সারার কথাগুলো শুনে ফিচেল হেসে। সারার মুখের উপর পড়ে থাকা চুলগুলো খুব যত্ন সহকারে সরিয়ে আচমকা আবারো তার চোয়াল চেপে ধরে ফিসফিস
করে।
___ আমি অনেক কিছু করতে পারি এবং করেছি ও।
আর মিথ্যা বলে সময় নষ্ট করার মত দামিয়ান আবরার না বুঝতে পেরেছ।
দামিয়ান ক্রোধ ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে তার চোয়াল ধীরে ধীরে এতটা শক্ত করে ধরে যেন সে ভেঙে ফেলবে।
সারা ব্যথায় ছটফট করে ওঠে।
__ আমার সাথে লেগে ভালো করো নি এবার ফল ভোগ করো। বলেই সে সারার গাল ছেড়ে দিতেই সারা‌ তার হাত খামছে ধরে চিৎকার বলে,
__ তুমি আমাকে ছাড়তে পারো না।আমাকে বিয়ে করতে হবে তোমার বুঝতে পেরেছ, না হলে আমি কিন্তু,,
বাকিটা বলার আগে দামিয়ান ঝটকা মেরে হাত ছাড়িয়ে নেয়।
__ মরার কথা বলে লাভ নেই কারণ আমারই তোমাকে মারে ফেলতে ইচ্ছা করছে। তখন আমি ই না তোমাকে মেরে দেই।
পেছন থেকে সোফায় স্তব্ধ হয়ে বসে থাকা হুমায়ুন আবরার আকম্মিক জিজ্ঞেস করে ওঠেন।

__ ওই মেয়ে এখন কোথায়?
দামিয়ান সারার দিকে দৃষ্টি রেখে রুক্ষ শ্বাস ফেলে। তবে কিছু বলে না হনহন করে সদর দিয়ে বের হয়ে যায়।
সারা শব্দ করে কেঁদে ফ্লোরে বসে পড়ে। দূরে বসা থাকা আহনাফ ও তার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে বসা থেকে উঠে নিজ ঘরের উদ্দেশ্যে চলে যায়।
দামিয়ান সিঁড়ি বেয়ে নেমে গাড়িতে উঠে বসতেই নিলয় কোনোরকম কথা ছাড়া গাড়ি স্টার্ট করে। অতঃপর প্রায় আধঘন্টার রাস্তা পার করে ফার্ম হাউসের গেটের কাছে গাড়ি থামতেই দামিয়ান গাড়ি থেকে নেমে চোখে মুখে গভীরতার ছাপ নিয়ে রুক্ষ পায়ে হেঁটে ফার্ম হাউসের ভেতর প্রবেশ করে সোজা দোতলার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগে। সে প্রতিটা সিঁড়িতে পা রাখার সাথে সাথে কেমন শব্দ হচ্ছে ।সে গায়ের কালো রঙের শার্ট বুকের কাছে দুটো বোতাম খুলে, শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে উপরে ওঠে তার ঘরের প্রবেশ করে।
অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘর মাঝে মাঝে পর্দা উড়ে ভেতরে আলো প্রবেশ করছে। দামিয়ান ধীরে ধীরে হাঁটার সাথে গম্ভীর মুখে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলে।

__ আজ লাগছে আমি আমার পাখিকে আসলেই আমার খাচায় বন্দি করেছি।
সে থেমে যায়,
কিন্তু তুমি ভাবলে কি করে আমার থেকে তুমি পালাতে পারবে? দামিয়ান হাঁটু ভেঙ্গে বসে।
বাহির থেকে আসা হালকা আলো ফ্লোরে উপর পড়ে থাকে এলোমেলো প্রাণপ্রিয়াকে দেখা যায়। সে কতটা দুর্ভাগা,
দামিয়ান হালকা ঘাড় কাত করে তার পা থেকে মাথা অব্দি দেখে।
বড় বড় চুল শরীরের সাথে পিছিয়ে আছে। পড়নের জামা কাপড়ের হাল বেহাল দশা । আর, আর এক পা শেকল বাঁধা।
দামিয়ান‌ হাসে, তোমার প্রতিটা কদমের খবর আমার কাছে আসে আর তুমি রাতের অন্ধকারে পালাতে চেয়েছিলে। সে হাত বাড়িয়ে তাকে স্পর্শ করে। তৎক্ষণাৎ আচমকা প্রাণপ্রিয়া হাতে ফল কাটার ছুড়ি নিয়ে দামিয়ানের উপর আক্রমণ করে বসে।
কিন্তু দামিয়ান দক্ষ হাতে তাকে আটকে ধরে শব্দ করে হেসে বলে ওঠে,

__ nice try আমি আবারো তোমার প্রতি ইমপ্রেস তোমার আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া,,,
প্রানপ্রিয়া চিৎকার করে ওঠে তার কথার মাঝে। মেরে ফেলবো, আমি আপনাকে মেরে ফেলবো । কেনো আমার জীবনটা এভাবে শেষ করে দিচ্ছেন? কেনো? বুঝতে পারেন না আমি থাকতে চাই না আপনার সাথে।
প্রাণপ্রিয়া ছুরি ধরে রাখা হাতটা অনিয়ন্ত্রণ কাঁপছে। সাহস দেখালে ও তার মধ্যে তো আর অমানুষত্ব নেই।
দামিয়ান ঠোঁটে হাসি বজায় রেখে তাকে ছেড়ে বসা থেকে ওঠে সোফায় কাছে গিয়ে আয়েশ ভঙ্গিতে বসে।
প্রাণপ্রিয়া কাঁদছে ‌সে কাঁদছে নিজের এতটা করুন অবস্থা নিতে পারছি না। নিজের সাথে করা ওয়াদা ভঙ্গ হয়ে গেছে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না। আজ ধরে দুদিন ঘরে বন্দী। প্রানপ্রিয়া তার দুহাত দিয়ে নিজের চুল টেনে ধরে চিৎকার করা শুরু করে।
__ ছেড়ে দিন আমাকে!!! যেতে দিন!! পাগলের মত পায়ে লোহার শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা সেটা খোলার জন্য টানা শুরু করে। পায়ে প্রচন্ড ব্যথা পাওয়ার সত্ত্বেও টেনে খোলা যাবে না তবুও সে চেষ্টা করে।
দামিয়ান শীতল দৃষ্টিতে তাকে দেখছে। তাকে দেখে তার ভালই লাগছে।
প্রানপ্রিয়া এবার নিজের হাত ফ্লোরে জোরে জোরে আঘাত করছে। তার ভেতরের যন্ত্রণা থেকে এই যন্ত্রণা কোন রকমে লাগছে না। তবে একপর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে ফ্লোরে ঢলে পড়ে গুনগুন শব্দে তার করুন কান্নার শব্দ পুরো ঘর জুড়ে যায়।
দামিয়ান ঠোঁট কামড়ে চোখ দুটো সরু করে।

__ তোমার জন্য ভাল এটাতেই সবকিছু মেনে আমার সাথে থাকো। আমি কখনো মুক্তি দিব না তোমাকে।
প্রাণপ্রিয়া করুণ চোখে দামিয়ানের দিকে ঘুরে তাকায়। অবুঝ নিষ্ঠুর কে চোখের যন্ত্রণা বোঝানোর চেষ্টা করে।
__ আমি মরে যাব, আমার জীবন ভিক্ষা দিন। আমি থাকতে চাই না আপনার সাথে। আমি সত্যি বলছি আমি কাউকে আপনার আমার কথা বলবো না। বিয়ের কথাও বলবো না আমি আপনার থেকে কোনো কিছু চাইবো না শুধু আমাকে মুক্তি দিন।
দামিয়ান হেসে না সূচক মাথা নাড়ায়।
পুরো দুনিয়াতে তোমাকে শুধু আমার আমার প্রয়োজন। আর কারো না। তাই থাকতে হবে তোমার আমার সাথে, আমি আসক্ত হয়ে পড়েছি তোমার প্রতি।
প্রানপ্রিয়া নিজের শরীর টেনে তুলে। দু’দিন ধরে সে না খাও শরীরের শক্তি নেই তবু কোনভাবে দাঁড়িয়ে দামিয়ান দিকে এগোয়। তার এগোনোর সাথে শেকল ফ্লোরে ঘষে শব্দ তৈরি করছে।
দামিয়ান স্থির দৃষ্টিতে প্রাণপ্রিয়ার দিকে তাকিয়ে।
প্রাণপ্রিয়া কাছে গিয়ে তার পা পায়ের কাছে বসে তার হাঁটুতে মাথা রেখে বলে।
আমার কাছ থেকে সব পেয়েছেন। আমার কিছু নেই, আমাকে ভিতর থেকেও নিঃস্ব করে দিয়েছেন। আপনি আমার প্রতি আসক্ত না আপনি একজন সাইকো। এক নারী থাকা অবস্থায় আরেক নারীকে নিজের জীবনে বিনোদনের জন্য রেখেছেন। পেয়েছেন তো, এবার ছেড়ে দিন। আমি প্রতিনিয়ত মরে যাচ্ছি।
কথাগুলো বলতে বলতে প্রানপ্রিয়া মাথা তুলে দামিয়ানের দিকে তাকিয়ে
তার গালের দিকে হাত বাড়ায়।

__ একবারে মেরে ফেলুন দয়া করে। একবারে মেরে ফেলুন। প্রতিনিয়ত মরার থেকে একবারে মরতে যেতে চাই।
প্রানপ্রিয়া ধীরে ধীরে দামিয়ানের কাছে যেতে যেতে মেরে ফেলার করুন ভিক্ষা চাইতে থাকে। দামিয়ান‌ তাকে চুপচাপ দেখছে শুধু দেখলে বললে ভুল হবে, মুগ্ধ চোখে দেখছে।
প্রানপ্রিয়া দামিয়ানের কোলের উপর উঠে তার একদম মুখের কাছে গিয়ে ফিসফিস বলে।
__ মেরে ফেলুন আমাকে, আঘাত করুন। এতটা আঘাত করুন ,আমি, আমি যাতে মরে যাই। দয়া করে আঘাত করুন যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছিনা। করুন আঘাত ।
__ আমি ভালোবাসি তোমার সব কষ্টকে যেগুলো তুমি আমার থেকে পেয়ে থাকো। আমি ভালোবাসি তোমার কান্না আর ঘৃনাকে যার কারণ শুধুমাত্র আমি । আমি ভালোবাসি তোমায় বাধ্য হওয়াকে যেটা তোমাকে আমার সাথে রাখবে। আমার ভালবাসার ভাষা আবেশ এবং উন্মাদনা প্রানপ্রিয়া।
দুজনের এমন মুহূর্তে দামিয়ানের মুখে ভালোবাসার কথা শুনে প্রানপ্রিয়া মনে হচ্ছে তার শরীর কেটে কেউ বিষ ঢেলে দিল। শরীর কাঁপিয়ে কেঁদে সেও বলা শুরু করে।

__ আমার নিঃশ্বাস যে পর্যন্ত চলবে আমি শুধু আপনাকে ঘৃণা শুধু ঘৃণা করবো দামিয়ান আবরার।
ঘন্টাখানেক দুজন আবেগপূর্ণ ঘনিষ্ঠতার সময় কাটিয়ে। দামিয়ান ক্লান্ত শরীর নিয়ে প্রানপ্রিয়ার উপর থেকে সরে যেতেই প্রানপ্রিয়া তার *** শরীর ব্লাঙ্কেট দিয়ে ঢেকে ফেলে। দামিয়ান চোখ বন্ধ রেখে ব্লাঙ্কেটের নিচে প্রানপ্রিয়ার নরম পেটে হাত রাখে। তাকে স্পর্শ করা থেকে এসে দূরে থাকবে না।
প্রানপ্রিয়া চোখ চোখ দিয়ে অঝরে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। শরীর মন দুটোই আপাতত কোন কিছু নিতে পারবে না। সে হা করে শ্বাস ফেলে অনুভব করে তার পায়ে এখনো শিকল বাধা যেটার ব্যথায় বানাতে পারছে না এবার।
__ কোন মানুষই এমন জীবন ‌ কাটাতে পারবেনা। আপনি আমাকে বন্দী করে রেখেছেন কিন্তু মনে রাখবেন। সুযোগ আবারও ঠিক আসবে সেদিন আমি আবারো পালাবো। সে ক্লান্ত গলায় ধীর স্বরে বলল।
দামিয়ান চোখ বন্ধ রেখে কিছুটা শব্দ করে হাসে।
__ তারপর তোমাকে আমি পাতাল থেকে খুঁজে বের করে হলেও ভয়ংকর মৃত্যু দিব। ট্রাস্ট মি, মানুষ মারতে আমার অভ্যাস আছে।

__ তাহলে কসম কেটে বলছি দামিয়ান আবরার। আজ আমার ছুড়ি চালাতে হাত কাঁপলেও । একদিন ঠিক পারবো সেদিন না হয় আপনাকে মারবো না হয় নিজে মরবো। দুটোতেই আমার মুক্তি যা আমি পেয়ে ছাড়বো।
আমার হাসি খুশি জীবনকে আপনি এমন পর্যায় নিয়ে এসেছেন। আপনার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমি সবকিছু করব।
দামিয়ান চোখ খুলে তাকে এক টান মেরে শক্ত করে তার শরীরের সাথে চেপে ধরে।
__ আমি অপেক্ষা করবো সেদিনের আমি দেখতে চাই তোমার কতটা সাহস হবে আমাকে মারার বা নিজে মরার।

প্রতিবার যেমন চোখের পলকে দিন সময় পার হয়ে যায়। এবারের বেলা উল্টো এক মাস বন্দী জীবন পার করতে প্রানপ্রিয়ার মনে হচ্ছিল এক যুগ পার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সময় যেন কাটে না। আজ এক মাস হবে প্রানপ্রিয়া গেস্ট হাউসে জীবন্ত লাশের মত পার করার। তার দুনিয়াতে থাকা না থাকা কোনো কিছুতে প্রভাব পড়ছে না। কেউ তার খোঁজে করছে না। তার তো কেউ নেই খোঁজা করবে আর যারা করবে তাদের জন্য চিঠি লিখে এসেছে।
বাইরে জগত থেকে এতদিন বন্দি থাকতে থাকতে সে কেমন একটা হয়ে ও গেছে দামিয়ানের সাথে নিজে থেকে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর আগের থেকে আরো চুপচাপ আর শক্ত আবরণ দিয়ে নিজেকে ঢেকে ফেলেছে। এক মাসের মধ্যে দামিয়ান বেশিরভাগ গেস্ট হাউসে ই থেকেছে তবে তার সাথে না। অন্য রুমে থেকেছে শুধু মাঝে মাঝে প্রয়োজনে তার কাছে এসেছে। প্রানপ্রিয়া ও চুপচাপ সহ্য করেছে এতোটুকু বুঝতে পারছে তাকে ধৈর্য রাখতে হবে, মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। যেমনটা দায়িয়ান বলে সময় সুযোগকে পায়ের নিচে নিয়ে আসে সে ও তার অপেক্ষা করছে।
আপাতত প্রাণপ্রিয়া ড্রেসিং টেবিলের কাছে বসে আছে। তার জন্য দুজন মেয়ে রাখা হয়েছে। তাকে খেয়াল আর নজর রাখার জন্য
প্রাণপ্রিয়া মনে মনে তাচ্ছিল্য হেসে পায়ের শেকলের দিকে এক নজর দেখে। যা এখনো খোলা হয়নি তবুও তাকে আটকে রাখার কত আয়োজন। আয়নার দিকে তাকিয়ে প্রানপ্রিয়া নিজ মনে এসব ভেবে চলছে। দুজন মেয়ের মধ্যে একজন প্রাণপ্রিয়ার চুল চিরুনি করে দিচ্ছে। আরেকজন সকাল থেকেই তার জামা কাপড় গুছাচ্ছে। প্রাণপ্রিয়া প্রশ্ন করেনি তবে তার চোখে পড়ছে বারবার।

দরজা খুলে দামিয়ান আর নিলয় কথা বলতে বলতে প্রবেশ করলো। দুজন মেয়ে তাদেরকে দেখে গুড মর্নিং জানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাতের কাজ থামিয়ে দৃষ্টি নত করে দাঁড়ায়।
প্রানপ্রিয়া দামিয়ানকে আয়নায় এক নজর দেখে মুখ কালো করে সেও দৃষ্টি নত ফেলে।
দামিয়ান দুজন মেয়েকে জিজ্ঞেস করে। সবকিছু রেডি?
দুজন মেয়ে একসঙ্গে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ানোর সাথে জ্বি স্যার বলে ওঠে।
দামিয়ান আদেশ করে প্রানপ্রিয়ার পা থেকে শেকল খুলে দেওয়ার জন্য।
তার আদেশ পেয়ে প্রাণপ্রিয়ার চুল চিরুনি করে দেওয়া মেয়েটি দ্রুত তার পায়ের শেকল খুলে দিয়ে আবার কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়ায়।
দামিয়ান নিলয়কে দিয়ে প্রানপ্রিয়ার জামা কাপড় গুছিয়ে রাখা লাগেজ নিয়ে যেতে বলে। অতঃপর সে প্রানপ্রিয়ার কাছে এসে কোনরকম কথা জানা হাত টেনে বসাতে বাসা থেকে উঠিয়ে নিচে যাওয়ার জন্য উদ্দেশ্যে হাটা ধরে।
প্রানপ্রিয়া এখনো চুপ তবে ভাবতে থাকে তাকে আবার কোথায় নিয়ে যাবে?
দুজন সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে সোজা গার্ডেনে হাঁটতে থাকে। শীতের সকাল বাহিরে কুয়াশা এখনো চারপাশে।
প্রানপ্রিয়া কপালে ভাঁজ ফেলে আশেপাশে দেখে। দামিয়ান তাকে অনেকটা টেনে হিচড়ে হাঁটছে ।
প্রানপ্রিয়া গেটের বাইরে গাড়িতে নিলয় কে লাগেজ রেখে একপাশে দাঁড়াতে দেখে। দামিয়ান‌ গাড়ির কাছে গিয়ে প্রানপ্রিয়ার হাত ছেড়ে নিলয় থেকে দুটো পাসপোর্ট আর কিছু কাগজ নিয়ে। প্রানপ্রিয়া কে ঠেলে গাড়ির ভেতর ঢুকিয়ে নিজের গাড়িতে উঠে বসে। প্রানপ্রিয়া এবার ক্রোধ নিয়ে জিজ্ঞেস করে ওঠে।

__ কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে? কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
দামিয়ান বাঁকা হেসে খুব শান্ত কন্ঠে বলে,
__ আমার দুনিয়াতে, আমাদের দুনিয়াতে । যেখানে আমি ছাড়া তুমি বাধ্য হয়ে অচল হয়ে পড়বে পুরোপুরি ভাবে।
প্রানপ্রিয়া চেঁচিয়ে উঠে,
__ চরিত্রহীন পুরুষ এখন আমাকে রাশিয়া নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা । কি ভেবেছেন আমি বুঝতে পারছি না একটা বাংলাদেশের রাখবেন আরেকটা রাশিয়াতে। জঘন্য পুরুষ আমাকে এতো টা নিচু বানাতে আপনার বিবেকে বাধে না।
দামিয়ান ঠোঁট কামড়ে প্রাণপ্রিয়ার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে নিলয়কে গাড়ি স্টার্ট দিতে বলে হুট করে প্রাণপ্রিয়া চুলের মুঠি ধরে দাঁত চেপে বলে ওঠে।

সে খলনায়ক পর্ব ৪৬

__ বেশি কথা বলা আমার পছন্দ না । তুমি আমাকে বা নিজেকে কি ভাবছো আমার কোনোটাতে ই যায় আসে না। যা খুশি ভাবতে থাকো তবে একটা কথা মাথায় রাখো। এখন থেকে তোমার সবকিছু আমি। আমি তোমার দুনিয়া, আমি ছাড়া তোমার কোন গতি নেই।
প্রানপ্রিয়া দাঁত চেপে শক্ত চোখে তার দিকে চেয়ে আছে।
দামিয়ান তার চুল ছেড়ে সোজা হয়ে বসে হাত ঘড়ির দিকে তাকায়।
আর প্রানপ্রিয়া , সে মনে জ্বলন্ত আগুন নিয়ে দায়িয়ান থেকে চোখ সরিয়ে বাহিরের দিকে দৃষ্টি ফেলে। একদিন সে এই ঘৃণার আগুন দিয়ে তাকে জ্বালিয়ে দিবে। তাকে ধ্বংস করবে আর না হয় তাকে নিজ হাতে হত্যা করবে।

সমাপ্ত

3 COMMENTS

Comments are closed.