সে খলনায়ক পর্ব ৪৬
ফারহানা সানিয়াত
অফিস রুমে ফ্লোরের দিকে দৃষ্টি রেখে চুপচাপ বসে আছে সারা। চোখে মুখে মলিনতা কান্নার ফলে আগের থেকে দ্বিগুন। মাঝে মাঝে কাঁধ ঝাকুনি দিয়ে উঠছে। তার থেকে কিছু দূর দূরে সাদা পাঞ্জাবী পড়া হুমায়ুন পেছনে দু হাত বেঁধে শক্ত মুখে করে জানালার কাছে দাঁড়িয়ে বাহিরে রাতের অন্ধকার দেখছেন। আপাতত পুরো অফিস রুম নিস্তব্ধতা বিরাজমান তবে গম্ভীর কন্ঠে হুমায়ুন নিস্তব্ধতা ভাঙ্গেন ।
__ অবশ্যই আমি তোমাকে অবিশ্বাস করছি না সারা। তবে কতটা নিশ্চিত তুমি এ ব্যাপারে?
সারা ফ্লোরের দিকে দৃষ্টি রেখে শক্ত কণ্ঠে বলে,,
__ এক দিনে সন্দেহজনক কিছু দেখে আমি আপনাকে বলছি না আঙ্কেল। এনগেজমেন্ট এর আগে থেকে আমার সন্দেহ ছিল। কিন্তু দিন দিন এতটা গভীর পর্যায়ে যাবে আমি ভাবিনি, সন্দেহ এখন স্পষ্ট সত্যি। পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে আমি এতদিন পর আপনার কাছে এসেছি আঙ্কেল।
হুমায়ুন গভীর শ্বাস ফেলে, তার শক্ত মুখে হতাশা ফুটে উঠে। তার নিখুঁত ব্যক্তিত্বের ছেলে এমন কিছু করবে ভাবতে ও পারছেন না। বাড়ির হবু বউ তার কুকীর্তি র কথা বলছে লজ্জায় তার মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছে।
__ এই ব্যাপারে আর কে কে জানে? তিনি জিজ্ঞেস করলেন।
সারা তার দিকে এবার চোখ তুলে তাকায়। হুমায়ুন স্থির জানালার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে। সারা এক হাত দিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে বাঁকা হাসে।
__ আপনি ছাড়া আর কেউ জানে না আঙ্কেল। আমি আপনার কাছেই প্রথম এসেছি কারণ আমি জানি আপনি ছাড়া এর সমাধান আমাকে কেউ দিতে পারবে না।
তার কন্ঠ কাঁপছে তবে ঠোঁটের কোণে হাসি।
হুমায়ুন ফের গভীর শ্বাস ফেলে দু চোখের পাতা দু আঙ্গুল দিয়ে ঘষে। যে ছেলেকে সে বুঝদার বিচক্ষণ বুদ্ধি সম্পন্ন মনে করতো সে কিভাবে তার আশ্রমের একটি মেয়ের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি করতে পারছে। ভাবতে পারছেন না তিনি সে কখনোই তার ছেলের থেকে এমন কিছু আশা করেন নি।
__ এই ব্যাপার আর কাউকে বলো না সারা। তিনি বলে ওঠেন,,
বাহিরে এসব কথা ছড়াছড়ি হলে কোন পর্যায়ে যেতে পারে তুমি জানো। আমার উপর বিশ্বাস রাখো খুব জলদি এর কিছু একটা করব তুমি চিন্তা করো না নিশ্চিন্তে থাকো। তার গম্ভীর কণ্ঠে এবার রুক্ষতা বোঝা যাচ্ছে তিনি রেগে উঠেছেন।
সারা বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় ।
__ আমার বিশ্বাস ভেঙ্গে গেছে দুজনের প্রতি আঙ্কেল। ওই মেয়ে আশ্রমের একজন আশ্রিতা হলেও আমি বন্ধু বানিয়েছিলাম আর দামিয়ান,,
তারা নাটকীয় কান্না আবারো শুরু দেয় দু হাতে মুখ ঢেকে ফেলে। সে চাইছে, সে চাইছে হুমায়ুন অত্যাধিক পর্যায় রেগে উঠুক এইটাই তো সুযোগ।
হুমায়ুন ঘুরে তাকান। সারার এমন কান্নাকাটি দেখে তিনি আসলেও ভেতরে আরো রেগে উঠছেন।
__ আমি, আমি ভালোবাসি দামিয়ান কে আংকেল। আমি ওই প্রাণপ্রিয়া মেয়েকে সহ্য করতে পারবো না। আমি পারবো না ঐ মেয়েকে দামিয়ানের আশেপাশে দেখতে ও প্লিজ আঙ্কেল কিছু একটা করুন।
অনেকদিন পর আজ সকাল সকাল বাইরের মিষ্টি রোদের দেখা মিলছে। ঠান্ডাটা ও আজ অনেকটা কম, যার কারণে আশ্রমের কাজ অনেক বেশি। পুরো আশ্রম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জিনিসপত্র ধোঁয়া মুছা আর কত কি। বেলা এখন সাড়ে এগারোটা প্রানপ্রিয়ার আর স্কুলের চাকরি নেই। হেডমাস্টার বলা ১৫ দিনের চাকরির সময় শেষ হয়ে গেছে তাই এখন পুরোপুরি ভাবে আশ্রমের সকল কাজে দায়িত্ব পালন করছে।
আজ সেই সকাল থেকে দুজন আন্টির সাথে
কাজে হাত লাগাচ্ছে। আপাতত আশ্রমের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে ভেজা কাপড় শুকানোর জন্য উঠানের বিশাল বড় বড় দড়ি টানাচ্ছে তারা। ছাদে জায়গা হয়নি এখন উঠানে ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
প্রানপ্রিয়া উঠানের শেষ মাথার বিশাল বড় বেল গাছের কিছুটা উপরে ওঠে শক্ত করে দড়ি গিট দিয়ে এক লাফে আবার নেমে পড়ে। তার এমন এই বয়সে ও গাছে ওঠা দেখে শিল্পী হায় হায় করে বলে ওঠেন।
__ এত বড় মেয়ে এখনো কিভাবে গাছে ওঠে!! আমি একটা চেয়ার নিয়ে আসতাম। আর কখনো এভাবে গাছে উঠবে না। পাশ থেকে রুমা ও একই কথা বললেন।
প্রানপ্রিয়া মলিন হাসে। মনে পড়ে সেলিনার বলা আগের কথাগুলো সে নাকি জঙ্গলে থাকতে থাকতে জংলি হয়ে যাচ্ছে। সারাদিন শুধু জঙ্গলে পড়ে থাকে।
প্রানপ্রিয়া ঠোঁট হাসি নিয়ে হা করে শ্বাস ফেলে বালতিতে রাখা ভেজা কাপড় কিছু হাতে নিয়ে কাঁধে ওপর রাখে। এরপর একটা একটা করে মেলে দেওয়া শুরু করে। দুজন আন্টি ও পাশে নিজেদের মত ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।
প্রানপ্রিয়া ভাবে, দিন গুলো কত ভালো ই না ছিল। যখন এতিম হওয়া ছাড়া আর কোন দুঃখই ছিল না। মুখে হাসি চঞ্চলতা তবুও লেগে ই থাকত। দিনগুলো কত ভাল ই না ছিল মুক্ত পাখির মতো প্রকৃতিতে মিশে যেত। দিনগুলো কত ভাল ই না ছিল ভাই সমতুল্য একজন বন্ধু ছিল।
কেনো ভালো দিনগুলো এত অল্প সময়ের জন্য হয়?
প্রানপ্রিয়া নিজে নিজেকে প্রশ্ন করে। অতঃপর ফের কাপড় মেলতে মেলতে তাচ্ছিল্য হেসে ওঠে।
এই যে আফসোস করার জন্য, এখন যেমন সে আফসোস করছে।
কড়া রৌদ্রে তিনজন মিলে সবগুলো কাপড় মেলে দেওয়া শেষ করে। অতঃপর আশ্রমের সদর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই রুমা বলে ওঠেন।
__ গোসল করে এসে খাবারের ব্যবস্থা করা যাক এবার। স্কুল থেকে বাচ্চারা কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বে।
প্রানপ্রিয়া তার পড়নের শার্টের বোতাম একটা খুলে। নীল রঙের শার্ট ভিজে চুবচুবা। আজ ঠান্ডা কম বলে সোয়েটার পড়া হয়নি। রুমা তার দিকে তাকান তাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলার জন্য। কিন্তু হঠাৎ চোখে পড়ে প্রানপ্রিয়ার গলায় এবং আরো নিচের দিকে ছোপ ছোপ কালচে দাগ যা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
রুমা কপালে ভাঁজ ফেলে তার গলার দিকে হাত বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করে ওঠেন।
__ কি হয়েছে তোমার শরীরে, এসব দাগ কিসের? তার আকম্মিক প্রশ্নে পাশে দাঁড়ানো মিসেস শিল্পী ও প্রানপ্রিয়ার দিকে তাকান।
প্রানপ্রিয়ার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে। দ্রুত শার্টের বোতাম যেটা খুলেছিল সেটা লাগিয়ে আমতা আমতা করে ওঠে। এতদিন অতিরিক্ত ঠান্ডার ফলে সোয়েটার পড়া জন্য শরীরের দাগ গুলো কারো চোখে পড়েনি। তবে আজ,
__ কি হলো বলো? এত দাগ কিসের? আর নিচে দিকে ও তো দেখা যাচ্ছে। কি হয়েছে আমাকে দেখাও ত্বকের কোন সমস্যা হয়নি তো।
প্রানপ্রিয়া দু কদম পিছের দিকে চলে যায়। মুখে কিছুটা মেকি হাসি টেনে দৃষ্টি লুকোনোর সাথে বলে।
__ তে,,তমন কিছু না আ,,আমার এলার্জি আছে। ঠিক হয়ে যাবে ওষুধ খাচ্ছি আমি ।
কথাটা বলে আর এক মুহূর্ত দাঁড়ায় না। দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে চলে যায়।
রুমা কপালে ভাঁজ ফেলে তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে। পাশ থেকে শিল্পী কিছুটা সন্দেহ কন্ঠে বলেন।
__ বয়স তো আর এমনি এমনি হয়নি। দাগ গুলো যে কোনভাবেই এলার্জির বোঝা যাচ্ছে।
প্রানপ্রিয়া নিজের ঘরে ঢুকে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে চোখ বন্ধ করে ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলে। এটা কতটা স্বাভাবিক সবার চোখে পড়া আর এটা কতটা অস্বাভাবিক সে এলার্জি বলছে যা বিশ্বাস করার মতো একদম ই ছিল না । প্রাণপ্রিয়ার কপালে ঘাম বিন্দু বিন্দু দেখা মেলে শরীরটা কেমন ছেড়ে দিচ্ছে। নিজের করুন অবস্থা আর সবার চোখে নিজের খারাপ হওয়া আর সহ্য হয় না। বারবার একজন ব্যক্তির জন্য সবকিছু সাথে সে মুখোমুখি হচ্ছে। ঘৃণা করে সে ওই ব্যক্তির চাওয়া পাওয়া আকাঙ্ক্ষাকে। বিষাক্ত মনে হয় তাকে যে তার জীবন বিষাক্ত করে তুলেছে।
প্রানপ্রিয়া হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে কপালের ঘাম মুছে ধীর গতিতে আয়নার কাছে পা বাড়ায়। অতঃপর দেখা মিলে তার আয়নাতে প্রতিচ্ছবি। কতটা বদলে গেছে সে শরীর স্বাস্থ্যের অবস্থা কেমন ভেঙ্গে গেছে। যাইহোক,
ধীরে ধীরে সে শার্টের সবগুলো বোতাম খুলে শরীর থেকে শার্ট খুলে ফেলে। প্রকাশ হয় তার ফর্সা শরীর যা মৃদু ঠান্ডায় কেঁপে ওঠে। প্রানপ্রিয়া দুই হাত দিয়ে নিজেকে চেপে ধরে তার চোখ দুটো ছল ছল করে ওঠছে। ঝাপসা চোখে নিজের অবস্থা দেখে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে। ত্বকে অসংখ্য কামড়ের দাগ সাথে গলার প্রতি বার চেপে ধরার দাগ আজ আন্টিদের চোখে পড়ছে।
প্রানপ্রিয়া আয়নায় দৃষ্টি রেখে ক্রোধ ভরা কন্ঠে বলে ,,
__ আমাকে ধরে রাখতে পারবে না। আমি মৃত্যুকে বেছে নিব তাও এই জানোয়ারের সাথে থাকবো না।
প্রানপ্রিয়া নিজের শরীরে হাত বুলায়। কিছু জায়গা প্রচন্ড ব্যথা হয়ে আছে। সেই রাতে তাকে মনে রাখার জন্য আবার যে ক্ষত গুলো করেছিল। আসলে সত্যিই সে এক মুহূর্তের জন্য ভুলিনি। যন্ত্রণাগুলো তার প্রতি খুব যত্ন সহকারে ঘৃণায় পরিণত হয়েছে। এই ঘৃণার ভার সে কি নিতে পারবে?
তার মনে আছে আঙ্কেল হাসপাতালে একদিন বলেছিল মানুষ যত ভাঙ্গে তত শক্ত হয়। আর এই যন্ত্রণা তাকে বারবার ভাঙছে এবং সে প্রতিবার শক্ত হয়ে তৈরি হচ্ছে। প্রাণপ্রিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে দুহাত দিয়ে নিজের চোখের জল মুছে নিচে পড়ে থাকা ভেজা শার্ট তুলে আবারো গায়ে পড়ে। এরপর শুকনো মলিন মুখে শক্ত আবরণ দিয়ে ঢেকে জানালার কাছে এগিয়ে যায়।রুদ্রের উষ্ণ তাপ তার গায়ে ছড়িয়ে সামনের এলোমেলো চুলগুলো উত্তরের মৃদু ঠান্ডা বাতাসে নড়েচড়ে উড়ে। সে শূন্য দৃষ্টিতে জানালার গ্রিল ধরে বাহিরে চেয়ে গভীর ভাবনায় ডুব দেয় খুব গভীর ভাবনায়।
রাশিয়া মস্কো এন্টোনভ প্যালেস। দামিয়ান এয়ারপোর্ট থেকে সোজা এন্টোনভ প্যালেস এসেছে আজ দুদিন হবে। এখানে আসার পর থেকে নানান কাজে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নিজ প্যালেসে এখনো যায়নি। বাংলাদেশেও যেতে পারছে না দুদিনের সময় নিয়ে আসলেও কিছুদিন তার থাকতে হবে।
সময় এখন দুপুর দুইটা। মস্কো শহরে আপাতত গ্রীষ্মকাল চলছে। রৌদ্রের মধ্যে এন্টোনভ প্যালেসের বিশাল বড় সবুজে ঘেরা গার্ডেনে টেবিলের ওপর বসে আছে দামিয়ান । আকাশী রঙের শার্টের সাথে কালো ফর্মাল প্যান্ট। হাতে দামি ঘড়ি চোখের সানগ্লাস পরা।সিল্কি চুলগুলো কপালের উপর পড়ে আছে। আর সব সময় মত মুখে গম্ভীরতা ।
যাইহোক সে হাতে একটা বন্দুক নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে এবং যে টেবিলের ওপর বসে আছে পুরো টেবিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে বন্দুক রাখা। তার থেকে কিছু দূরে ক্যাথরিন পায়ের উপর পা তুলে একজন ইতালিয়ান ডিলার সাথে কথা বলছেন।
___ আহ মিস্টার লিওনার্দো সমুদ্রপথ ছাড়া অস্ত্র ইতালিতে সাপ্লাই করা অসম্ভব। আর সমুদ্রপথে যেতে হলে আমার পারমিশন ছাড়া আপনি কিছুই করতে পারবেন না। আমি আপনাকে অবশ্যই জোর করছি না। পুরোটি আপনার উপর আমি শুধু আপনাকে অফার দিচ্ছি ৭০% লাভ আমার থাকতে হবে।
ক্যাথরিন ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে চোখ থেকে সানগ্লাস খুলে ফের বলে,,
আপনার উচিত ছিল সবকিছু ভেবে আমার সাথে ডিল করতে আসা।
দামিয়ান বন্দুকের দিকে চেয়ে বলে।
__ রাজি হয়ে যান মিস্টার লিওনার্দো। বেশি সময় নিলে ডিল অবশ্যই হাত ছাড়া হবে সাথে জীবন নিয়ে এখান থেকে ফিরে যাওয়া আপনার জন্য অসম্ভব। আপনার কি মনে হয় না এটা খুবই দুঃখজনক হবে ।
কালো কোট প্যান্ট পরা ইতালিয়ান মাঝ বয়সের পুরুষ এতক্ষণ চুপ ছিল তবে এবার বিশ্রী ভাবে হেসে এক হাত দিয়ে গাল ঘষে।
__ এতদিন শুধু শুনেছি কিন্তু আজ বুঝলাম এন্টোনভ ফ্যামিলির প্রতিটা সদস্য সমুদ্র পথের অস্ত্র ব্যবসা কিভাবে রাজ করছে। যাইহোক আমি রাজি,
ক্যাথরিন মাথা দুলিয়ে হাসে, ডিল নিয়ে তাদের কথোপকথনের মধ্যে হাজির হয় মিখাইল এবং তার সাথে ব্লাদিমীর। দামিয়ান এর সত ভাই বয়সে দামিয়ান থেকে এক দের বছরের ছোট হবে। দেখতে পুরোপুরি রাশিয়ান, চুলগুলো হালকা লালচে গায়ের রং একদম ফর্সা। সুদর্শন এর দিক দিয়ে দামিয়ান থেকে কম না।
ব্লাদিমীর দামিয়ান কে দেখে ঠোঁটের কোন বাঁকা হাসি নিয়ে হাত মেলে প্রিবিয়েত বাত্রাণ মানে হ্যালো ব্রো বলে তার দিকে এগোতে নেয়।
তাকে এগোতে দেখা দামিয়ান আচমকা তার পায়ের আশেপাশে কয়েকটা গুলি ছুড়ে। ব্লাদিমীর লাফিয়ে উঠে উপস্থিত সবাই চমকে যায় তার কাজে।
ক্যাথরিন কড়া গলায় ধমকে ওঠে ।
দামিয়ান খুব শান্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাসা থেকে উঠে ব্লাদিমীরের দিকে বন্দুক তাক করে ফিচেল হাসে।
__ পায়ের ধুলো গায়ে মাখি না আমি। রাস্তার কুকুর ছানার জায়গা ভুলে গেছে নাকি?
ব্লাদিমীর অপমানে হাত মুষ্টিবদ্ধ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দামিয়ানকে দেখে । পিছন থেকে মিখাইল তার কাঁধে হাত রেখেন সংযত থাকার জন্য।
ক্যাথরিন গভীর নিঃশ্বাস ফেলেন। সামনে বসা ডিলার লিওনার্দোকে বিদায় জানায়। লিওনার্দো ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে মিখাইল কে এক নজর দেখে বসা থেকে ওঠে চলে যেতেই ক্যাথরিন বিরক্ত কণ্ঠে বলে ওঠেন,,
___ একজোট হয়ে থাকলে মানুষ কখনোই নিচে নামতে পারে না। কিন্তু আমার পরিবারের ভেতরেই সব সমস্যা। তোমাদের কারনে মানুষ আমাদের উইকনেস জেনে যাবে । তখন নিচে নামতে সময় লাগবেনা।
দামিয়ান ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে বন্দুক সরিয়ে উপহাস কণ্ঠ বলে,
__ কোন পরিবার? তুমি আমি আর এই দুটো কুকুর।
ক্যাথরিন অত্যাধিক রেগে চেঁচিয়ে উঠেন।
__ দামিয়ান!!
দামিয়ান ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে হাতের বন্দুক টেবিলের উপর রেখে বুকে হাত গুঁজে।
ক্যাথরিন চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করেন।
ব্লাদিমীর এখনো দামিয়ানের দিকে চেয়ে আছে।
ক্যাথরিন চোখ খুলে তিনজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
__ তোমাদের মধ্যে যা খুশি তা করো কিন্তু বাহির পর্যন্ত এসব যাতে না যায়। আমি নিজেকে নিচে দেখতে পারবো না। মাফিয়া ওয়াল্ডে নারী অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে আমি একজন যে এ পর্যন্ত টিকে আছি। তোমাদের কারণে আমি কোন কিছু হারাতে চাই না। কথাগুলো বলে ক্যাথরিন বড় নিশ্বাস ফেলে দামিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
__ তোমাকে এখানে প্রয়োজন দামিয়ান যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসো। আমার পর তো তোমাকেই এইসব দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতিটা ডিলে আমি তোমাকে রাখতে চাই। ক্যাথরিনা বলার মাঝে মিখাইল বলে ওঠেন,,
__ আমার মনে হয় দামিয়ান বাংলাদেশের সেটেল হতে চায় তার জন্যই মাসখানেক হলো,,, তার বাকি কথা বলার আগে দামিয়ান শব্দ করে হাসে বলে,
__ বন্দুক এখনো আমার সামনে পড়ে আছে। আজ আমি নিশ্চিত হাঁটুতে গুলি করবো না, সোজা মাথায় করবো। মিখাইল দাঁত চেপে চুপ হয়ে যায়। ক্যাথরিন হতাশার শ্বাস ফেলেন,,
__ তোমাদের কিছু বলে আমার লাভ নেই। যাইহোক দামিয়ান এবার নিকোলাই কে সাথে নিয়ে যাও।
__ এই বাস্টার্ডকে ইম্পসিবল ও এখানেই ঠিক আছে। তোমার সাথে রাখো না হলে এখানকার সবকিছু বাবার কানে চলে যাবে যা আমি একদমই চাইনা।
নিকোলাই এতক্ষণ চুপচাপ এক কোনায় দাঁড়িয়েছিল। তবে হঠাৎ তাকে নিয়ে কথা আর দামিয়ান যা বলল শুনে মাথা নত করে নিজের হাতের দিকে এক নজর দেখে। মনে আছে মিস্টার আবরার কে এখানকার ব্যবসা নিয়ে কিছু কথা বলার কারনে দামিয়ান তার হাতে ছুরি মেরেছিল এবং সাবধান করেছিল দ্বিতীয়বার না বলার জন্য।
দামিয়ান তার হাত ঘড়ি থেকে এক নজর চোখ বুলায় অতঃপর বলে,,
__ আমি এখন বের হচ্ছি। কাজ আছে বলে আর এক মুহূর্ত দাঁড়ায় না। সে হাঁটা ধরে, এবং তার পেছনে পেছনে নিকোলাই ও ।
দামিয়ান হাঁটতে হাঁটতে চোখ থেকে সানগ্লাস সরিয়ে হঠাৎ দৃষ্টি সরু করে একজনকে দেখে পায়ের গতি কমিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে তার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি দেখা মিলে সে মনে মনে উপহাস করে বলে একজন হৃদয় ভাঙ্গা অসহায় প্রেমিক যাকে সে তার দুনিয়াতে এনে রাখছে বেচারা।
রাশিয়ার মাটিতে এতদিনে সময়ের সাথে সাথে চঞ্চল ইভান ও বদলে গেছে। বাচ্চামো স্বভাব ছেড়ে ম্যাচিউর হয়ে গেছে।, ফর্মাল গেটাপ গাড়ি থেকে নেমে দৃষ্টি নত করে দাঁড়িয়ে আছে সে ।
দামিয়ান তার কাছে এসে থেমে দুই হাত পিছনে বেঁধে দাঁড়ায়।
__ হ্যালো স্যার, ইভান বলে ওঠে,
দামিয়ান হালকা ঘাড় কাত করে কিঞ্চিৎ হাসে,
__ এখানে আসার পর অবশ্যই তোমার কোন সমস্যা হচ্ছে না?
ইভান ঠোঁটে হাসি টানে,
__ না স্যার সবকিছু আমার জন্য একদম পারফেক্ট।
দামিয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে নিকোলাইয়ের দিকে তাকাতেই
নিকোলাই বলে ওঠে,,
__ তাকে সবকিছু হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দামিয়ান হালকা মাথা দুলিয়ে ফের ইভানের দিকে কিছুটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে।
__ বাংলাদেশ যেতে চাও, কিছুদিনের ছুটিতে ?
আকম্মিক এমন কিছু জিজ্ঞেস করাতে ইভান খানিকটা অবাক হয়ে চোখ তুলে তাকায়।
__ চাইলে যেতে পারো আগামী মাসে। তার গম্ভীর কণ্ঠ,
ইভান কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলেও চোখ মুখ চকচক করে ওঠে খুশিতে।
দামিয়ান ফের সানগ্লাস পড়ে তাকে পাশ কাটিয়ে হাঁটা ধরে। ডক্টরের ছেলের মুখে হাসি তার পছন্দ হয়নি। এই হাসি সাথে এমন কেউ হাসতো যাকে সে কাঁদাতে পছন্দ করে। তবে এখন সে নিশ্চিন্ত কারন সে এখন তার শুধু
তার।
দামিয়ান হাত মুষ্টিবদ্ধ করে মৃদু হেসে নিঃশব্দে প্রানপ্রিয়া নাম অসংখ্যবার আওড়ায় এবং তার কান্নারত ক্রোধ মিশ্রিত মুখখানা তার চোখে ভেসে ওঠে। যা আজকাল তার কতটা পছন্দের দূরে থেকে ও অনুভব করছে।
প্রতিদিনের মতো আশ্রমের পরিবেশ ছিল আজও ছিল। রান্নাবান্না করা, বাচ্চাদের রেডি করে স্কুলে পাঠানো এরপর আশ্রম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে থাকা একই রুটিন। গত কয়েকদিন ধরে এভাবেই দিন যাচ্ছে রাত কাটছে। দামিয়ান নামে নিষ্ঠুর ব্যক্তি দুদিনের কথা বলে গেলেও আজ চার দিন হবে কোন খোঁজ খবর নেই।
যার কারনে প্রাণপ্রিয়া আজকাল স্বস্থির নিশ্বাস ফেলছে। হয়তো উপরওয়ালা তার দিকে মুখ ফিরে চেয়েছেন, দয়া করেছেন, কিছুদিনের জন্য। কিন্তু যার কপাল খারাপ থাকে তার জীবনে কি ভালো সময় বেশিক্ষণের জন্য হয়?
বেলা বারোটা, সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। প্রাণপ্রিয়া নিজের ঘরে অবসর সময় রং দিয়ে ক্যানভাসে আঁকিবুঁকি করছিল। তবে আকম্মিক নিচ থেকে মিসেস রুমা তার নাম ধরে জোরে জোরে ডাকা শুরু করেন।
প্রানপ্রিয়া কপালে ভাঁজ ফেলে এভাবে ডাকার কারণ কি ভেবে ওঠে এবং কৌতুহলী হয়ে হাতের রং তুলি পাশের টেবিলে রেখে বসা থেকে উঠে দ্রুত পায়ে দোতলার সিঁড়ি বেয়ে সোজা সদর দরজা কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। আরে দাঁড়াতে ই তার মুখের প্রতিক্রিয়া বদলে সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি নত হয়ে যায়।
মিসেস রুমা রুমা , শিল্পী দুজনে এক পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের থেকে কিছু দূরে গম্ভীর মুখে চেয়ারে বসে আছেন হুমায়ুন আবরার। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সারা যার তীক্ষ্ণ রুক্ষ দৃষ্টি প্রানপ্রিয়ার দিকে স্থির হয়েছে।
প্রানপ্রিয়া বুকের ভেতরটা কেমন কামড় দিয়ে ওঠে। শরীরের কম্পন অনুভব করে। তার মস্তিষ্ক কিছু একটা জানান দিচ্ছে তাদের এখানে আসার কারণ কি হতে পারে। প্রানপ্রিয়া ঢোক দৃষ্টি নত রেখে এক পা এক পা করে তাদের কাছে এগিয়ে হুমায়ূনকে মিনমিন কন্ঠে সালাম দেয়।
হুমায়ুন গম্ভীর কন্ঠে সালামের উত্তর দিয়ে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে অতি রুক্ষ কন্ঠে বলে ওঠেন,,
___ কোন কিছু ভেঙ্গে বলার আমার ইচ্ছা নেই তবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ও বলবো না। আমি জানি তুমি এতোটুক বুঝতে পারছ এখানে হঠাৎ আমার আসা আর তোমাকে আমার সামনে ডেকে নিয়ে আসার কারণ কি হতে পারে।
প্রানপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে পড়নের স্কার্ট দুহাত দিয়ে খিচে ধরে।
হুমায়ুন দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। আমি ভাবতেও পারছি না আমার ছেলে এমন কিছু করবে। তবে আমি কাউকে একা দোষী বানাবো না। আমার ছেলে সাহস দিয়েছে তুমি সাহস পেয়েছো। তবে এসব তুচ্ছ সম্পর্কের সমাপ্তি আছে। তোমাকে আমি ভালোভাবে বলছি দুদিনের মধ্যে আশ্রম থেকে চলে যাবে।এই পূর্বাঞ্চলের আশেপাশেও যাতে তোমাকে দেখা না যায়। আশা করি আমার ভালোভাবে কথা বলার সম্মান রাখবে তুমি।
হুমায়ুন বসা থেকে উঠে আর কোন কথা না বলে আশ্রম থেকে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে হাটা ধরেন।
তবে সারা প্রানপ্রিয়ার দিকে এগিয়ে যায় । তার চোখ মুখে শক্ত হয়ে আছে। এতটুকুই তার অবশ্যই মন ভরেনি তবে মাঝে মাঝে পরিস্থিতি বুঝে অল্প কিছুতে ই সন্তুষ্ট হতে হয়।
প্রানপ্রিয়ার দৃষ্টি এখনো নত হুমায়ুনের বলা কথাগুলো তার কলিজার ভিতর আঘাত করছে। কিন্তু চোখ দিয়ে তার এক ফোটা ও জল আসছে না। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে ভীষণ তবে প্রকাশ করতে পারছে না।
সারা প্রাণপ্রিয়ার মাথায় হাত রেখে হালকা ঘাড় কাত করে তার চোখের সাথে চোখের মেলানোর চেষ্টা করে।
__ কি খুব কষ্ট হচ্ছে? আহ আমি তো ভেবেছিলাম এর থেকেও বেশি কিছু করব। বলেই কিঞ্চিৎ হাসে সারা,
সত্যি বলছি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস থাকবে আমি তোমাকে এত সহজে ছেড়ে দিচ্ছি। এটা ভুল হচ্ছে নাকি সঠিক আমি জানিনা। তবে একটা কথা মাথায় রাখবে তোমাদের মত মেয়েদের কিছুদিন শরীর চর্চা করতেই ছেলেরা কিছু সময় কাটায় যেমন দামিয়ান। আমি ভাবতে পারি না তোমরা কিভাবে এমনটা কর কিন্তু এতোটুক নিশ্চিত হয়েছি তুমি চরিত্রহীনা থার্ড ক্লাস একটা মেয়ে।
শেষের কথাটা দাঁত চেপে বলে সারা তার মাথায় ধাক্কা মেরে সে ও আশ্রম থেকে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরে।
প্রাণপ্রিয়া চোখ বন্ধ করে কয়েক কদম পিছনের দিকে চলে যায়।
পাশে দাঁড়ানো মিসেস রুমা আর শিল্পী কানাঘুষা শুরু করেছেন। প্রাণপ্রিয়া কানে সেগুলো স্পষ্ট শুনতে পারছে তার চরিত্র নিয়ে কথা বলছেন তারা। প্রানপ্রিয়া শরীর ছেড়ে মাটিতে বসে পড়ে ।তার মনে পড়ে প্রথম যেদিন হুমায়ুন আবরারের সাথে দেখা হয়েছিল আর আজ শেষ দুটোতে কত ভিন্নতা ,,,
সে শব্দ করে হেসে উঠে, মুখে হাত দিয়ে হাসা শুরু করে তার হাসির শব্দ পুরো আশ্রম জুড়ে। প্রাণপ্রিয়াকে হঠাৎ এভাবে হাসতে দেখে মিসেস রুমা শিল্পী ভয় পেয়ে যান। প্রানপ্রিয়া মুখে হাত দিয়ে পাগলের মত হাসছে তার শরীর কাঁপছে একপর্যায়ে তার চোখ দিয়ে পানি পড়েছে তবে তার হাসি থামছে না।
আশ্রমের গেট দিয়ে বাচ্চারা প্রবেশ করে তারা স্কুল থেকে ফিরেছে তবে মাটিতে বসা প্রাণপ্রিয়াকে পাগলের মত হাসতে দেখে সবগুলো দ্রুত এগিয়ে আসে।
প্রানপ্রিয়া মুখ থেকে হাত সরিয়ে মাটি খুবলে ধরে হাসতে হাসতে এবার চিৎকার করা শুরু করে কান্না হাসির মিশ্রিত হয়ে চারদিকে হাহাকার শুরু করেছে যেন।
অতঃপর, অতঃপর ধীর গতিতে এই সময় টা কেটে যায়। বেলা গড়িয়ে দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা পার হয়ে চারিদিকে অন্ধকার ঘিরে ধরে। নিস্তব্ধ অন্ধকার ঠান্ডা বাতাসের সাথে কেমন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে আজ। প্রানপ্রিয়া তার ঘরে বিছানার সাথে হেলান দিয়ে বসা। জানালা দিয়ে ঠান্ডা বাতাসে তার খোলা চুল গুলো মুখের সামনে এলোমেলো হয়ে পড়ছে। রাত এখন কতটা গভীর তা জানা নেই। সে ধীরে ধীরে নিশ্বাস ফেলার সাথে আশেপাশে চোখ বুলাচ্ছে এবং কিছু একটা খুব গভীরভাবে চিন্তা করেছে ঘরে ঢুকার পর থেকে। সেই দুপুরে ঘরে ঢুকেছিল এরপর সে আর বের হয়নি বা ডেকেও কেউ বের করতে পারেনি ।প্রানপ্রিয়া জিভ দিয়ে তার শুষ্ক ঠোঁটটা ভেজায়। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে অতঃপর আচমকা বাসা থেকে উঠে দ্রুত আলমারি থেকে কাপড় আর টাকা পয়সা বের করে ব্যাগ গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
সে খলনায়ক পর্ব ৪৫ (২)
বুকের ভেতর কতটা যন্ত্রণা হচ্ছে সে জানে কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। অবশ্যই তার এই সুযোগকে কাজে লাগতে এটাই সুযোগ ওই অমানুষের কাছ থেকে পালানোর।
প্রানপ্রিয়ার হাত পা কাঁপছে। আপাতত যে পরিস্থিতি দামিয়ান আবরার আন্টিকে কিছু করে লাভ নেই। কারন হুমায়ূন আবরার তাকে আশ্রম থেকে চলে যেতে বলেছেন। পাগলের মত প্রাণপ্রিয়া যা সামনে পেয়েছে সব ব্যাগে ঢুকে টেবিলের খাতা কলম নিয়ে আঙ্কেল আন্টি আর বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে একটা চিঠি লিখতে বসে।
