Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ৯

সে খলনায়ক পর্ব ৯

সে খলনায়ক পর্ব ৯
ফারহানা সানিয়াত

সকালের মিষ্টি রোদ দিয়ে নুতুন দিনের শুরু, সারারাত গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়ার ফলে গাছের পাতায় পানির কণা জমে তা মুক্তার মতো জ্বলজ্বল করছে গাছে গাছে পাখির কিচিরমিচির শব্দ পরিবেশটা একদম মুগ্ধকর, এমন পরিবেশে সাদা রংয়ের কলেজ ড্রেস পড়া প্রাণপ্রিয়া দুহাত দিয়ে ব্যাগের বেল্ট ধরে দ্রুত পায়়ে রাস্তায় হাঁটছে,, তার কলেজের সময় সাড়ে নয় টা আর এখন বাজে ৯ টা ১০ সিওর সে আজ লেট হবে কারন সে এখনো মেইন রোডে পৌঁছায়নি আশ্রম থেকে কিছু দূরে হাঁটছে,, হায় আল্লাহ! সে এক দৌড় মারে আর দৌড়াতে দৌড়াতে আবরার মেনশনের গেটের কাছে গিয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে যায় ,ব্যাগ ভারির হওয়ার জন্য এতোটুক পথ দৌড়ে হাঁপিয়ে ওঠেছে, তবে তাকে থামলে চলবে না তাই আবার দৌড় দেওয়ার জন্য পা বাড়াতেই গেটের ভেতর থেকে একজন দারোয়ান বলে ওঠে,,

__ গাড়ি বের হবে মেয়ে , দু মিনিট দাঁড়াও,,
দারোয়ানের কথা শুনে প্রাণপ্রিয়া মুখটা কুঁচকে ফেলে,, এমনিতেই তার দেরি হচ্ছে এখন আবার গাড়ি বের হবে সময় পেল না দুর,,কিন্তু কি করার অপেক্ষা তো করতেই হবে ,
দারোয়ান বিশাল বড় গেট দুদিক দিয়ে খুলতে ই, একটা সাদা রঙের গাড়ি ধীর গতিতে বের হয়ে প্রাণপ্রিয়ার সামনে দিয়ে চলে যায়। গাড়িটি চলে যেতে প্রাণপ্রিয়া আবার দৌড়,,
গাড়ির পিছন সিটে বসা মিসেস চৌধুরী তার পাশে স্বামীকে বলেন,,
__ আশ্রমের মেয়েটার রূপ দিন দিন আগের থেকে আরো বাড়ছে,, এমন রূপবতী মেয়েদের‌ ধনী পরিবারের আশেপাশে থাকা ঠিক নয়।আদনান চৌধুরীর স্ত্রীর কথা শুনে তার ‌ দিকে তাকান, কি বলতে চাইছো , মিসেস চৌধুরী বাহিরের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে বলে,,
__ বুঝে নাও কি বলতে চাইছি।

গার্ডেনের ফুলের বাগান পাড় হয়ে দামিয়ান সারা আর আহনাফ ঝিলের পাশে গেস্ট হাউজের দিকে যাচ্ছে যেটা হুমায়ুন ‌ দামিয়ানের জন্য বানিয়েছেন,,
__ ব্রো তোমার গেস্ট হাউস থেকে ঝিলের ভিউ কিন্তু দেখার মত সুন্দর, আমি শিওর তোমার খুব পছন্দ হবে,প্রাউড ফিল করবে বড় বাবার ওপর যে সে পারফেক্ট ডিজাইনের গেস্ট হাউস বানিয়েছি তোমার জন্য।দামিয়ান আহনাফের কথা শুনে হালকা হাসে,
পাশ থেকে সারা বলে,, আমার এখনো দেখা হয়নি গেস্ট হাউজ ভিতরে কেমন হয়েছে আমি আজ তোমার সাথে দেখব দামিয়ান আর অনেক সময় কাটাবো বলেই সারা হাসিমুখে দানিয়ানের এক হাত জড়িয়ে ধরে, দামিয়ান ও আরেক হাত সারার হাতের উপর রাখতেই আহনাফের মুখ থেকে হাসি গায়েব হয়ে হতাশা দেখা দেয়,
সারার প্রতি আহনাফের ‌ মনে অন্যরকম এক অনুভূতি আছে যা কখনো প্রকাশ করেনি আর করতেও পারবেনা তবে আপাতত তার ভাই আর সারার মধ্যে যতটুকু যা দেখা যাচ্ছে পুরোটাই যে ফর্মালিটি সে খুব ভালো করেই জানে।
তিনজনের হাঁটার মাঝে সামনে থেকে একজন সারভেন্টকে হাতে একটা পাখির খাঁচা নিয়ে তাদের বরাবর আসতে দেখে তিনজন দাঁড়িয়ে যায়। তাদের থেমে যেতে দেখে সার্ভেন্টি ও থেমে তিনজনকে গুড মর্নিং জানায়,,
সারা দামিয়ানের হাত ছেড়ে পাখির খাঁচার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,,

__ নাম কি পাখির?
সার্ভেন্টের সাবধান কণ্ঠ, জি, বাজিগার ম্যাম,
সারা এক কদম এগিয়ে ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে পাখিটিকে মনোযোগ দিয়ে দেখে,, হালকা গোলাপি রঙের ছোট্ট একটা ছটফট করা পাখি,পাশে দাঁড়ানো আহানাফ দামিয়ানাও পাখিটিকে দেখছে তবে দামিয়ানের এই হালকা গোলাপি রঙের পাখিটি দেখে কালকের আবেদনময়ী আশ্রমের মেয়েটাকে চোখে ভেসে ওঠে যার ভেজা শরীরে লেপটে ছিল এই রঙের জামা,,
__এই পাখিটিকে কি এখানকার জন্য আনা হয়েছে,,
সারা সার্ভেন্টিকে জিজ্ঞেস করে?
__ না ম্যাম এটা আমি আমার বাসার জন্য কিনেছি,

ওওও বলে সারা সরে দাঁড়ায় খুব সুন্দর হয়েছে পাখিটা,
সার্ভেন্টি মাথা নিচু করে ধন্যবাদ জানায়,
__আমি এই পাখিটি চাই, পাশ থেকে আকস্মিক দামিয়ান পাখিটার দিকে তাকিয়ে ‌ বলে ওঠে,,সারা ঘুরে দামিয়ানের দিকে তাকায় আহানাফ রীতিমতো বিস্মিত হয়ে কেসে ওঠে,,
__ ব্রো তুমি কি এই সুন্দর পাখিটাকে স্বীকার করার প্লান করছো? আহনাফের প্রশ্ন তবে দামিয়ান উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না সে ঘুরে গেস্ট হাউসের দিকে আবার হাটা ধরে,
কলেজের বেল বাজার সাথে সাথে স্টুডেন্টরা নিজেদের ক্লাস থেকে বের হওয়া শুরু করেছে তাদের মধ্যে প্রাণপ্রিয়াও একজন সেই সকাল থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত ক্লাস করে অনেক ক্লান্ত সে, কোনমতে আশ্রমে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করে একটা ঘুম দিলে শরীরটা তার আবার চলা শুরু করবে,, হ্যাঁ করবে যেই ভাবনা সে কাজ হেলে দুলে, হেলে দুলে কলেজ থেকে বের হয়ে আশ্রমের উদ্দেশ্যে হাটা ধরে, অতঃপর প্রায় আধাঘন্টা পর আশ্রমের গেটের কাছে আসতে ই নিচ থেকে হঠাৎ কুকুর ছানার ঘেউ ঘেউ শব্দ প্রাণপ্রিয়া চমকে নিচে তাকায়,
আশ্রমের গেট বরাবর কালো রঙের একটা কুকুর ছানা ঘাড় এদিক ওদিক করে তার দিকে তাকিয়ে ঘেউ ঘেউ করছে,

__ এই কুকুর ছানা এখানে কি হুশ হুশ,, প্রাণপ্রিয়া হাত দিয়ে ইশারা করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু কুকুরটি আরো ঘেউ ঘেউ করে ওঠে,
প্রাণপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে কোমরে হাত রাখে এরপর আঙ্গুল তুলে বলে,,
__ তুমি যদি আমাদের মত অনাথ হয়ে থাকো তাহলে আমি অনেক দুঃখিত এই আশ্রমে কুকুর বিড়াল রাখা নিষেধ তোমাকে এখানে রাখা যাবে না তাই চলে যাও,,
কার সাথে কথা বলছো প্রিয়া, পিছন থেকে হঠাৎ সেলিনার কন্ঠ। প্রাণপ্রিয়া ঘুরে তাকায়,
__ কুকুর ছানার সাথে আন্টি কিভাবে গেট বরাবর বসে আছে দেখো,,
প্রাণপ্রিয়ার মুখ থেকে কুকুর ছানার কথা শুনে সেলিনা বিরক্ত মুখে নিচের কুকুরটির দিকে তাকায়, সকাল থেকে এই কুকুর ছানাটি ভীষন জালাচ্ছে অনেকবার সে ভয় দেখিয়েছে কিন্তু এই নাছোড়বান্দা কুকুরছানা এখানেই বসে থাকবে তিনি বিরক্ত কণ্ঠে প্রাণপ্রিয়া কে বলেন,, এই কুকুর ছানা কে জঙ্গলে রেখে এসো তো অনেক জ্বালাচ্ছে,,
প্রাণপ্রিয়া কপাল গুটিয়ে কুকুরটির দিকে তাকায়
,, __ আচ্ছা, সে কাঁধ থেকে ব্যাগ নামিয়ে ব্যাগের চেইন খুলে খাতা পেন্সিল আরেকটা বিস্কিটের প্যাকেট নিয়ে সেলিনার হাতের ধরিয়ে মুখে চুক চুক শব্দ করতে করতে জঙ্গলের দিকে হাটা ধরে,, কুকুর ছানাও প্রাণ-প্রিয়ার ইশারা দেখে তার পিছে দৌড়,

বিশাল একতলা বড় গেস্ট হাউসের মেইন দরজা দিয়ে ঢুকতেই বসার ঘর যেখানে অনেক দামি দামি জিনিসপত্র দিয়ে পুরো সাজানো, বাসর ঘরে বাম সাইডে দুটো বেডরুম আর ডান সাইডে কাচের দেয়াল যেখান থেকে এই বাড়ির গোলাপ ফুলের বাগান দেখা যায় আর সব থেকে দেখার মত জিনিস হল,, বসার ঘরের বরাবর কোনো দেয়াল নেই এখান থেকে পুরো ঝিল আর জঙ্গল দেখা যায়, আপাতত দামিয়ান গেস্ট হাউসে সেই জায়গাটায় সোফায় হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে সামনের টেবিলের উপর পা রেখে বসে আছে,
অনেকটা খেয়াল করলে বোঝা যাবে তার বেডরুমে পাখির কিচিরমিচির শব্দ হচ্ছে তার মানে সে হালকা গোলাপি রঙের পাখিটা নিয়েছে আর এর বিনিময়ে ওই সার্ভেন্টকে তার আশা আর কল্পনার থেকেও বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে,, তবে দামিয়ান জানে না সে এই কাজটা করলো কেনো ওই আশ্রমের মেয়েটিকে চিন্তা করে!! না সে এ ব্যাপারে খুব বিরক্ত সে না চাইতে ও ওই আশ্রিতা তার চোখে ভেসে উঠছে, দামিয়ান চোখ খুলে টেবিলের উপর থেকে পা নামিয়ে ‌ সোজা হয়ে বসে আর দৃষ্টি রাখে ঝিল আর জঙ্গলের দিকে,,

প্রাণপ্রিয়া কুকুর ছানাটি কে জঙ্গলে নিয়ে এসে অনেকটা জায়গায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কিছু বিস্কুট খেতে দিয়ে দ্রুত সে জায়গা ত্যাগ করে চলে আসে তার পছন্দের জায়গা ঝিলের দ্বারে।,রোদ্রের ঝলমলে আলোয় ঝিলের পানি চিক চিক করছে এটা দেখে ‌ প্রাণপ্রিয়া ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে আর ঝিলের মাঝে যে পুলটা সেখানে গিয়ে সাবধানে কিনারে বসে ‌পানিতে পা ঝুলায়, গ্রীষ্মের ঝিলে ঠান্ডা পানিতে পা লাগতেই তার শরীরের যে ক্লান্তি ছিল অনেকটাই কেটে যায়। হাতের খাতা পেন্সিলটা পাশে রেখে বিস্কুটের প্যাকেটে অবশিষ্ট চারটে বিস্কুটের মধ্যে একটা বিস্কুট হাতে নিয়ে খেতে খেতে পানিতে পা ঝুলাতে থাকে।
দামিয়ান বসা থেকে উঠে গেস্ট হাউসের খোলা জায়গাটা এসে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত গুজে।, এখান থেকে তিন সিড়ি বেয়ে নিচে নামলেই ঝিলে নামা যাবে, দামিয়ান ঠোঁট কামড়ে নিচের দিকে তাকায়, আহনাফ আর সারা যখন ছিল তারা বলছিল এই ঝিলে নামা নিয়ে দামিয়ান ভাবে মাইন্ড ফ্রেশ করার জন্য তাকেও ঝিলে নামা উচিত ,সে ভাবনা অনুযায়ী নিজের হাত ঘড়ি খুলতে খুলতে ডান পাশে পুলের দিকে তাকাতে ই দেখে সেই কালকের আশ্রিতা মেয়েটি তার দিকে তাকিয়ে আছে,,

এদিকে প্রাণপ্রিয়া খাওয়ার মাঝে পা ঝুলাতে ঝুলাতে সামনে তাকাতেই আবরার মেনশনের নতুন বাড়িটায় একটা লোককে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভাব ছিল এটা কে কিন্তু এখন লোকটি তার দিকে তাকাতেই বুকের ভেতরটা তার কামড় দিয়ে ওঠে তবে মনে মনে ভাবে সে ভয় পাবে না, ভয় পাওয়ার কিছু নেই এটা ভাবতে ভাবতে আবার চোখে নিচের দিকে করে পাশের খাতা আর পেন্সিল নিয়ে আঁকিবুকি করতে থাকে,
দামিয়ান ঘড়ি খুলে সোফার দিকে ছুড়ে মেরে আবার পকেটে হাত গুজে মেয়েটিকে ঘাড় বাঁকা করে দেখে, তার এখান থেকে সূর্যের আলোয় পানির সাথে মেয়েটি ও ঝলমল করছে আর কালকের গেটাপে মেয়েটিকে বড় লাগলেও এখন কলেজ ড্রেসে বাচ্চা বাচ্চা লাগছে,,
প্রাণপ্রিয় আঁকিবুকি করার মাঝে ঘাড় ঘুরিয়ে আবার দামিয়ানের দিকে তাকায়,, দামিয়ান তার দিকেই তাকিয়ে আছে এটা দেখে আবার নিজের খাতায় মনোযোগ দেয়।
দূর থেকে দামিয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে সে পকেট থেকে হাত বের করে দ্রুত তার পরনের শার্টের বোতাম খুলে মেঝেতে ছুড়ে মারে আর সিঁড়ি বেয়ে পানিতে ঝাঁপ দেয়,,
হঠাৎ পানির মধ্যে শব্দ হওয়াতে প্রাণপ্রিয়া সাথে সাথে মাথা তুলে আশেপাশে তাকিয়ে দৃষ্টি ফেলে যেখানে দামিয়ান দাঁড়িয়ে ছিল কিন্তু দামিয়ান সেখানে নেই, তবে পানির দিকে চোখ যেতে ই দেখে প্রাণপ্রিয়ার হাত থেকে পেন্সিল খাতা দুটোই ফুসকে পানিতে পড়ে যায়,,

কারণ দামিয়ান তার দিকে ই সাঁতার কেটে আসছে,,
কিন্তু পানিতে পড়ে যাওয়া খাতার মধ্যে প্রাণপ্রিয়ার খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য নোট ছিল,, তাই দামিয়ানের থেকে সে চোখ সরিয়ে পানিতে পড়া তার খাতার দিকে তাকায় যেটা ভেসে আছে, হায় আল্লাহ আমার নোট খাতা!!
দ্রুত ভয়কে দূরে ঠেলে প্রাণপ্রিয়া কোন মত ঝুঁকে খাতাটা নেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু অনেকটা ঝুকে যাওয়ার ফলে ‌পানিতে ধপাস করে পড়ে।
ঝিলের মাঝ থেকে কিনারে গভীরতা অনেকটাই কম তবে প্রাণপ্রিয়ার মত পাঁচ ফিট ২ ইঞ্চি মেয়ে কিনারে ঠাঁই পাওয়ার মত না তারমধ্যে সে আবার সাঁতার জানে না তাই পানিতে পড়ে হাবুডুবু খেয়ে নিচের দিকে যেতে নিলে কেউ তার কোমর পিছিয়ে ধরে পানির উপর ভাসিয়ে তুলে,,
প্রাণপ্রিয়া এতক্ষণ হাবুডুবু খাওয়ার জন্য তার যায় যায় অবস্থা তবে ভেসে ওঠার ফলে বড় বড় নিঃশ্বাস নিয়ে ঢোক গিলে সামনে তাকাতে ই খেয়াল করে দামিয়ান!
দামিয়ান প্রাণপ্রিয়ার কোমর জড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে দেখছে, তার ভেজা ঠোঁট তার গলা নিশ্বাস নেওয়ার ফলে বুকের ওঠানামা,

__আ আমাকে ছা ছাড়ুন বলে‌ প্রাণপ্রিয়া চিৎকার দিয়ে মুচা মুচরে শুরু করে
দামিয়ান দৃষ্টি বুকের থেকে সরিয়ে প্রাণপ্রিয়ার চোখের দিকে তাকায়,
প্রাণপ্রিয়া সাথে সাথে চোখ সরিয়ে দামিয়ানের নগ্ন বুকে হাত দিয়ে ঠেলে ভীষণভাবে মুচরাতে থাকে।
__ ছাড়ুন! আমাকে ছাড়ুন!
দামিয়ান কিছুটা বিরক্ত হয়,
__ stop idiot girl ! দানিয়ানের ধমক কন্ঠ,
ধমক শুনে প্রাণপ্রিয়া র আত্মাটা উড়ে যাওয়ার মত ছিল কিন্তু তবুও চোখ বন্ধ করে ‌ মুচরা মুচরি থামায় না,
__ I said stop! দামিয়ানের ফের ধমক কিন্তু প্রাণপ্রিয়ার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই তবে হঠাৎ চোখ বড় বড় করে প্রাণপ্রিয়া থেমে দামিয়ানের দিকে তাকায় যখন অনুভব করে তার কামিজের ভিতর দিয়ে দামিয়ানের হাত আস্তে আস্তে তার ‌কোমর থেকে উপরে দিকে উঠাচ্ছে,
__ কিক করছেন বলেই প্রাণ প্রিয়া আবার এক চিৎকার দিবে তখনই ‌দামিয়ান তাকে উঁচু করে পুলে বসিয়ে দেয়,
প্রাণপ্রিয়া পুলে বসতেই সাথে সাথে দূরে সরে চোখ বড় বড় করে দামিয়ানকে দেখে এরপর বসা থেকে উঠে দৌড়,
দামিয়ান শীতল দৃষ্টিতে প্রাণপ্রিয়া যাওয়ার দিকে এক নজর তাকিয়ে এরপর পানিতে পড়ে থাকা খাতাটার দিকে তাকায়,,

সে খলনায়ক পর্ব ৮

জঙ্গলের মাঝ দিয়ে ভেজা শরীর নিয়ে দৌড়িয়ে যাচ্ছে প্রাণপ্রিয়া হঠাৎ কি থেকে কি হয়ে গেল মাথায় ঢুকছেনা তার কিন্তু! কিন্তু! এটা সে আশা করিনি কখনোই আশা করেনি,
হঠাৎ দৌড়ানোর মাঝে কেউ প্রাণ প্রিয়ার হাত টান দিতে সে ঘুরে শক্ত এক বুকের সাথে ভারী খায়।
__ কি হয়েছে তোর প্রিয়া, তুই ভেজা কেনো? আর দৌড়াচ্ছিস কেনো? প্রাণপ্রিয়া বুক থেকে মুখ তুলে উপরে তাকায়, ইভান!!

সে খলনায়ক পর্ব ১০