সে খলনায়ক পর্ব ১১
ফারহানা সানিয়াত
বেশ কিছুদিন পর,,
গ্রীষ্মকাল শেষ হয়ে বর্ষার আগমন, আকাশে কালচে মেঘের আনাগোনা যখন তখন মুষলধারে বৃষ্টি ,
স্যাঁতস্যাঁতে এক পরিবেশ তবে নির্জিব প্রকৃতি যেন নিজের জীবন ফিরে পেয়েছে,, হ্যাঁ পেয়েছে এই যে যেমন বৃষ্টির পানিতে ভেজা গাছের পাতাগুলো কতটা স্বচ্ছ সতেজ কিন্তু কিছুদিন আগে!!! বাহিরের দিকে প্রাণপ্রিয়া তাকিয়ে হা করে শ্বাস ফেলে ,,
পিছন থেকে মিসেস সেলিনার কণ্ঠ,,
__ এভাবে দাঁড়িয়ে না থেকে আবরার ম্যানশনে থেকে দ্রুত কাগজপত্র গুলো নিয়ে আসো ,,
প্রাণপ্রিয় মাথা নাড়ায় হুম তার আবরার ম্যানশনে যেতে হবে আশ্রমের কিছু দরকারি কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য ,কয়েকদিন ধরেই সেখানে যাওয়া হচ্ছে কারণ মিস্টার রহমান অনেকটা অসুস্থ যাইহোক,,
সে আপাতত নিজের ঘরের জানালার কাছে দাঁড়িয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে ছিল, তবে সেলিনা কথা শুনে ঘুরে বিছানার উপর থেকে কালো রংয়ের স্কার্ফ নিয়ে আবরার ম্যানশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাটা ধরে,,
দিন টা শুক্রবার, সবার ব্যস্ততা আজকের জন্য অফ আবরার ম্যানসনে সুবিশাল বসার ঘরে বাড়ির বড় সদস্যরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। সাথে মিস্টার আর মিসেস চৌধুরীও আছেন । তাদের কথা বলার বিষয় দামিয়ান আর সরার এনগেজমেন্ট নিয়ে,, তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দামিয়ানের মা ক্যাথরিন তিনি বাংলাদেশে আসবেন কিছুদিনের মধ্যে ,, তাই মিস্টার চৌধুরী ভাবছেন তার বাসায় একটা পার্টি আয়োজন করার মিসেস ক্যাথরিনের জন্য,, এ বিষয়ে হুমায়ুন হ্যাঁ বলেন ক্যাথরিন তাদের ডিভোর্সের পর আর বাংলাদেশে আসেনি কিন্তু এবার ছেলে এংগেজমেন্ট এর কথা শুনে পারিবারিকভাবে সবার সাথে দেখা করতে আসছেন।
প্রাণপ্রিয়া হুমায়ুন আবরারের অ্যাসিস্ট্যান্ট আসিফের সামনে দাঁড়িয়ে আছে,, আসিফ কিছু কাগজপত্র চেক করে হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে প্রাণপ্রিয়ার দিকে ধরেন।
__ নাও হয়ে গেছে তোমার আংকেল কে গিয়ে বলো আশ্রমের যা যা প্রয়োজন তা জলদি নিয়ে আসতে।,
প্রাণপ্রিয়া মিষ্টি হাসি দিয়ে মাথা কাত করে কাগজ পত্রগুলো হাতে নেয়, এরপর ধীর পায়ে ঘর থেকে বের হয়ে করিডোরে আসতে ই পায়ের গতি বাড়িয়ে দ্রুত হাঁটা ধরে এখন আবার আশ্রমে গিয়ে আন্টিকে এই কাগজপত্রগুলো দিতে হবে সে যা যা প্রয়োজন তা নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবেন, এসব কিছু রহমান ই দেখাশোনা করতেন তবে সে আপাতত অসুস্থ,,
__ এই প্রিয়া! এই প্রিয়া ! দাঁড়াও দাঁড়াও?আকস্মিক দ্রুত হাঁটার মাঝে পাশে থেকে চেনাজানা এক মহিলা কন্ঠ শুনে প্রাণপ্রিয়া থেমে ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকায়,,
কালো রঙের শাড়ি পরা একজন বয়স্ক মহিলা হাতে একটা মিষ্টি পেট নিয়ে তার দিকে আসছে,,
মহিলাটিকে প্রাণপ্রিয়া খুব ভালো করেই চেনে এই বাসায় কিশোরী বয়সে রহমানের সাথে প্রথম যেদিন এসেছিল তার সাথে দেখা হয়েছিল,,
__ ওওহ সুফিয়া আন্টি কিছু বলবে? ব্যস্ত কণ্ঠ প্রাণপ্রিয়ার,
সোফিয়া সামনে এসে মিষ্টির প্লেট টা প্রাণপ্রিয়ার দিকে বাড়িয়ে বলেন,,
__ না কিছু বলবো না তবে একটা মিষ্টি খাও,,
প্রাণপ্রিয়া কপালে ভাজ ফেলে মিষ্টি প্লেটে এক নজর দেখে এরপর আবার সুফিয়া আন্টির দিকে তাকায়,,
__ কেনো?
সুফিয়া স্বচ্ছ হাসেন,, কেনো আবার কেনো খেতে বলেছি তাই তবে সুখবর হিসেবে ও খেতে পারো।
প্রাণপ্রিয়া কপালে দ্বিগুণ বাজ ফেলে,, সুখবর!
সুফিয়া মাথা নাড়ান,, হুম সুখবর এই বাড়ির বড় ছেলে দামিয়ান আর সারা তাদের দুজনের এই মাসের শেষে এংগেজমেন্ট,,প্রাণপ্রিয়া বিস্মিত হয়ে মুখে হাত দেয়, এনগেজমেন্ট!
__ সুফিয়া ফের মাথা নাড়ান হুম,
প্রাণপ্রিয়া চঞ্চল ভঙ্গিতে মুখ থেকে হাত সরিয়ে বলে,, তাহলে এটা তো খুবই খুশির খবর আমার একটা না দুটো মিষ্টি খাওয়া উচিত,,সুফিয়া শব্দ করে হেসেন,, অবশ্যই তুমি দুটো না ডাবল খাও,,
গেস্ট হাউসে বেডরুমে সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে দামিয়ান হাতে আইপ্যাড নিয়ে মনোযোগ সহকারে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করছে,, তার পাশে আহানাফ হাতের একটা কলম ঘুরাতে ঘুরাতে সামনে দাঁড়ানো সারাকে দেখছে সে আপাতত হালকা গোলাপি রঙের পাখিটার খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে,,
তবে তার দাঁড়ানোর জন্য পাখিটা ভয় প্রচণ্ড কর্কশ শব্দে কিচিরমিচির করছে,,
__ সিস্টার ইন লো তোমার সরে যাওয়া উচিত পাখিটা তোমাকে দেখে ভয় পাচ্ছে,
সারা মৃদু হাসে,, সিরিয়াসলি! আমাকে দেখে ভয় পাচ্ছে! সে কি জানে তার সব থেকে ভয় যে তাকে পালছে,,
সারার কথা শুনে দামিয়ান কাজের মাঝে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে,, আহানাফ ঠোঁট কামড়ে ধরে হাতের কলমটা ঘুরানো অফ করে দামিয়ানের দিকে তাকায়,, আমার তো মাথা থেকে এটা চলেই গিয়েছিল ব্রো, তুমি একজন পাখি শিকারি হয়ে এই পাখিকে নিজের কাছে রাখলে কিভাবে?
দামিয়ান আইপ্যাড থেকে চোখ তুলে আহানাফকে এক নজর দেখে পাশের জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়,,
বাহিরে প্রাণপ্রিয়া মনের আনন্দে এক হাতে কাগজপত্র নিয়ে হেলে দুলে গার্ডেনের পাশ দিয়ে আশ্রমের দিকে যাচ্ছে, দামিয়ানের দৃষ্টি তীব্র হয় সেই ঝিলের ঘটনার পর আর তাদের সামনাসামনি দেখা হয়নি তবে
প্রাণপ্রিয়া এই বাসায় আসা যাওয়া প্রতিবার দামিয়ানের চোখে পড়েছে আর প্রতিবার তার দৃষ্টি এই মেয়ের প্রতি তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে,,
__ আকর্ষণ অপ্রয়োজনীয় আকর্ষণ, প্রাণপ্রিয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে দামিয়ান বলে ওঠে,,
আহানাফ কপাল কুঁচকে বলে ,, মানে! সারা পাখির থেকে চোখ সরিয়ে দুজনের দিকে তাকায়,,
দামিয়ান প্রাণপ্রিয়াকে যে পর্যন্ত দেখা যায় সে পর্যন্ত বাহিরে তাকিয়ে থাকে এরপর আবার হাতের আইপ্যাডে কাজ করতে করতে বলে,, পাখিটি আমার জীবনে অপ্রয়োজনীয় আকর্ষণ যে পর্যন্ত আকর্ষণ থাকবে আমি রাখবো এরপর মেরে ফেলবো।
আশ্রমের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইভান। আজ অনেকদিন পর এই আশ্রমে এসেছে, শেষ যেদিন
প্রাণপ্রিয়াকে রাতে ঘুরিয়ে আশ্রমে দিতে এসেছিল সেলিনা বলেছিলেন,, তারা এখন বড় হয়েছে বাহিরে যাওয়া আর দেখা করা কমাতে হবে নাহলে মানুষ একেক কথা বলবে। সেলিনার এমন কথা মনে মনে কষ্ট পেয়েছিল ইভান তবে এতোটুকু বুঝতে পেরেছে এই কথার বলার কারণ কি,, কিন্তু বুঝতে পেরে লাভ কি,, সে কি পারবে প্রাণপ্রিয়ার থেকে দূরে থাকতে একদমই না,, প্রাণপ্রিয়়া তার বন্ধু তার ভালোবাসা প্রথম ক্রাশ,, তাইতো নিজেকে কোনো ভাবে আটকাতে না পেরে চলে আসলো আবার এই আশ্রমে,,
__ খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে থাকবি নাকি ঢুকবি,, পিছন থেকে হঠাৎ প্রাণপ্রিয়ার কন্ঠ,,ইভান চমকে পিছে ঘুরে,,
চোখ মুখ কুঁচকে বুকের সাথে কিছু কাগজপত্র জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রাণপ্রিয়া,,
__ হলো কি ? সর!!
__ কোথায় গিয়েছিলে তুই? ইভানের প্রশ্ন,
প্রাণপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে তেতে ওঠে, তোকে বলবো কেনো জাহান্নামে গিয়েছিলাম সর সামনে থেকে,
কথাটা বলেই প্রাণপ্রিয়া অন্য দিকে তাকায়,,
ইভান কপালে ভাঁজ ফেলে চোখ পিটপিট করে, এই মেয়ে ছ্যাতছ্যাত করছে কেন! তুই কি কোনো কারনে আমার উপর রাগ?
প্রাণপ্রিয়া ঝড়ের গতিতে আবার ইভানের দিকে ফিরে,,,তোর উপর রাগ হতে যাব কেনো,তুই কে? তোকে কি আমি চিনি বা দেখেছি আর যদি আগে দেখেও থাকি ভুলে গেছি আমি কারন এখন তো তোর মুখ দর্শন পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার,,
প্রাণপ্রিয়ার এমন কথা শুনে ইভান বোকার মত মুখ করে নিজের মাথা চুলকায়, এতে প্রাণপ্রিয়া আরো তেতে ওঠে চোখ মুখ কুঁচকে বড় একটা শ্বাস ফেলে ইভান কে এক হাত দিয়ে ধাক্কা মেরে সামনে থেকে সরিয়ে আশ্রমে ঢুকে একা একা বকবক করতে হাটে,,
___ লাগবে না আমার কোনো বন্ধু, যে একবার বলাতে ই পরদিন থেকে আমার সাথে দেখা করা অফ করে দেয়। আর বুঝলাম আশ্রমে জিনিসটা খারাপ দেখায় কিন্তু কলেজে তো অন্তত আমার সাথে একদিন হলেও দেখা করা যেত শেষ কথাটা প্রাণপ্রিয়া চেচিয়ে বলে,,
পিছে দাঁড়ানো ইভান হা হয়ে তাকিয়ে আছে,,প্রাণপ্রিয়া কথাগুলো তার কাছে একদম অপ্রত্যাশিত, সে কখনো ভাবেনি বা এমন আজ পর্যন্ত ছয় বছরের মধ্যে হয়নি তাদের মাঝে কথা, দেখা অফ ছিল ,, আর প্রাণপ্রিয়া তাদের মধ্যে কথা অফ থাকলে এভাবে রাগ করবে হয়তো ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক কারণ তারা বেস্ট ফ্রেন্ড কিন্তু ইভানের কাছে,,,,
নিজের মত বকবক করতে করতে প্রাণপ্রিয়া ধপুধাপ পা ফেলে আশ্রমে সদর দরজা কাছে আসতে ই পেছন থেকে ইভান হাত ধরে আটকে দেয়,,
__ মিস করেছিস আমাকে তুই?
প্রাণপ্রিয়া এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে ইভানের দিকে তাকায়,, তোকে মিস করবো আমি? তোর লাগে?
ইভান হা করে শ্বাস ফেলে, হ্যাঁ এটাই তো লাগছে,
__ তো লাগলে ভালো কথা এখন যা তোর সাথে আমার কোনো কথা নেই তোর মুখটাও আমি দেখতে চাই না।
__এত চেঁচামেচি কিসের কি হচ্ছে এখানে? রান্নাঘর থেকে হাতে খুন্তি নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে আসে সেলিনা,, তবে সদর দরজার কাছে প্রাণপ্রিয়া আর ইভানকে একসাথে দেখে তার কপালটা হালকা কুঁচকে ফেলেন,,
প্রাণপ্রিয়া আর ইভান ও আন্টির কন্ঠ শুনে দুজন চুপ হয়ে মাথা নিচু করে একে অপরকে দেখে,,
মিসেস সেলিনা দুজনের হাব ভাব দেখে মুখ স্বাভাবিক করে হতাশায় শ্বাস ফেলেন সে জানে যতই হোক তারা ছোট থেকে বন্ধু ,,তার সামনে বড় হয়েছে বললেই তো দূরে সরে যাবে না।
__ এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেনো ভেতরে আসো, ইভান তুমিও আসো অনেকদিন পর দেখা হলো তোমার সাথে।
ইভান মেকি হাসে, না না আন্টি আমি এখনই চলে যাব, সেলিনা না সূচক মাথা নাড়ান, একদমই না ভেতরে আসো আর প্রাণপ্রিয়া কাগজপত্র নিয়ে এসেছে?
প্রাণপ্রিয়া ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মাথা উপর নিচ করে,
__ আচ্ছা ঠিক আছে তবে আরো এক জায়গায় যেতে হবে তোমার, ভালোভাবে রেডি হও।
মিসেস সেলিনার কথা শুনে প্রাণপ্রিয়া কপাল গুটি জিজ্ঞেস করে,,__ কোথায় যাব আন্টি?
সেলিনা রান্না ঘরে যেতে যেতে বলেন,,, তোমার জন্য কিছু জামা কাপড় কিনতে,,
যুবতী হওয়া প্রাণপ্রিয়া আশ্রম থেকে যতটুকু পায় ততটুকের মধ্যেই থাকে,, কিন্তু একজন প্রাপ্তবয়স্ক যুবতী মেয়ের কত কিছু না দরকার হয়। আশ্রমের নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছর পর্যন্ত সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় তবে এরপর চলে যেতে হয় কিন্তু প্রাণপ্রিয়ার এই আশ্রমে মিসেস সেলিনা আর রহমানের মত নিজের একটা জায়গা বানিয়েছে,, এর জন্য সে মাসে কিছু টাকাও পায়। তবে সেগুলো নিজের পড়াশোনায় ই শেষ হয়ে যায় এরপর আর নিজের উপর কিছু খরচ করার মত থাকে না। এতোটুকু বয়সে খুব হিসাবের মধ্যে চলে প্রাণপ্রিয়া কখনো সেলিনা বা রহমানের থেকেও সাহায্য নেয় না তাই সেলিনা এবার জোর করে হলেও এই মেয়েকে নিজে কিছু কিনে দেবেন ভেবেছেন।
লাল রঙের চুরিদার পড়ে সোফায় বসে আছে প্রাণপ্রিয়া, পাশে মিসেস সেলিনা ব্যাগ থেকে হাজার টাকার কয়েকটা নোট বের করে প্রাণপ্রিয়ার দিকে ধরে বলেন,,
__ আমাকে যদি আপন কেউ ভাবো তাহলে এই টাকাগুলো নাও আর যদি না ভাবো আর টাকাগুলো না নাও আমি অনেক কষ্ট পাবো।
পিটপিট চোখে মুখে কিছুটা লজ্জা নিয়ে প্রাণ প্রিয়া সেলিনার দিকে তাকায়,,
__ এভাবে বলো না আন্টি আমার দুনিয়াতে তোমরাই আমার আপনজন কিন্তু এগুলোর দরকার ছিল না বলেই প্রাণপ্রিয়া নিজের পড়া লাল রঙের জামাটার দিকেও তাকায়,, তার পড়া লাল রঙের চুড়িদার যেটা সেলিনা ই দিয়েছেন এখন বাহিরে যাওয়ার জন্য,,
সেলিনা হতাশার শ্বাস ফেলে প্রাণপ্রিয়ার হাত ধরে টাকাগুলো হাতে গুজে দিয়ে বলেন,,
__ দরকার ছিল নাকি না এটা আমি দেখব। আমার কাছে তুমি আমার মেয়ের মতো, আমার একদম ভালো লাগেনা তোমার টানা হাচরা খরচ দেখে। আর তুমি বড় হয়েছো তোমার পড়ার মতো কিছু ভালো জামা ও দরকার।
প্রাণপ্রিয়া ঠোটে ঠোঁটে চেপে মাথা নিচু করে, তার কাছে ভীষন লজ্জা লাগছে কতগুলো টাকা আন্টি নিজের থেকে তাকে দিল এর পরিষদ সে কিভাবে করবে!
সেলিনা মুখে স্বচ্ছ হাসি নিয়ে প্রাণপ্রিয়ার মাথায় হাত বুলায়, এরপর তার দেওয়া জামাটায় প্রাণপ্রিয়াকে কেমন লাগছে দেখে নিজের চোখের কোন থেকে একটু কাজল নিয়ে প্রাণপ্রিয়ার কানের পিছে দিয়ে বলেন,,
__ তোমার সৌন্দর্যের উপর কারো নজর না লাগুক,
বরাবর সোফায় বসা ইভান এতক্ষণ প্রাণপ্রিয়া আর সেলিনার মাঝে কি কথা হয়েছে একটাও তার মাথায় ঢুকে নি কারণ তার পুরো মনোযোগ প্রাণপ্রিয়ার নতুন রূপের দিকে,, এমন রূপে ইভান আগে কখনো দেখেনি সে সব প্রাণপ্রিয়াকে ফ্রক আর বড় হওয়ার পর স্কার্ট শার্ট এইসব গেটাপে দেখেছে কিন্তু চুরিদার কোমর পর্যন্ত চুলগুলো খোলা মুখে হালকা সাজ, এই গেটাপে প্রথম দেখছে,,
তবে আপাতত ইভানের মনোযোগ ভাঙ্গে সেলিনার কন্ঠে,,
__ ইভান তুমি কি প্রাণপ্রিয়াকে শপিং মলে নিয়ে যেতে পারবে, আসলে আমি নিয়ে যেতাম কিন্তু আশ্রমে এত কাজ এগুলো রেখে যাওয়া যাবে না।
সেলিনার কথা শুনে ইভান প্রাণপ্রিয়া একে অপরের দিকে তাকায়, কারন কিছুদিন আগে সেলিনা তাদের বাহিরে যাওয়া দেখা করা বারণ করেছিলেন।
সেলিনা তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসেন,,
__ তোমাদের বন্ধুত্ব কখনো শেষ হয়ে যাক আমি চাইনা। কিন্তু তোমরা বড় হয়েছো সেদিন আমি কেনো
বলেছিলাম এটা বোঝার বয়স তোমাদের হয়েছে,, আর আমি একবারের জন্য বারণ করিনি কমাতে বলেছিলাম তাই এখন বসে না থেকে দ্রুত যাও,,
প্রাণপ্রিয়া আর ইভান দুজন দাঁত বের করে হেসে সেলিনা কে ধন্যবাদ জানায় এরপর রাগ অভিমান ভুলে আবার দুজনের দুষ্টুমি করতে করতে আশ্রমে সদর দরজা দিয়ে শপিং মলের উদ্দেশ্যে বের হয়।
পিছন থেকে সেলিনা দুজনে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন সে মনে মনে ভাবেন,, ইভান খুব ভদ্র আর ভালো একটা ছেলে যদি অনাথ প্রাণপ্রিয়ার জন্য তার মনে কিছু থেকে থাকে তাহলে হয়তো মেয়েটার জীবন বদলে যাবে,, কিন্তু এত বড় আশা করা উচিত নয়,
সময় এখন দুপুর আড়াইটা,, আকাশের মেঘলা ভাব কেটে সূর্যের তাপ মাথার উপর পড়ছে যার কারনে কেমন একটা ভাপসা গরম আশেপাশে,, আর এই ভাবসা গরমের মধ্যে শপিংমলের ব্যস্ত রাস্তায় এক কিনারে দাঁড়িয়ে আছে প্রাণপ্রিয়া তার চোখেমুখে অত্যন্ত বিরক্তির ছাপ কারণ ওই ইভানের বাচ্চা তাকে দাঁড় করিয়ে কোথায় যেন হাওয়া হয়ে গেছে,, ধুর,,বিরক্তিতে সে কোমরে হাত দিয়ে আশেপাশে দেখে তবে হঠাৎ কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ অনুভব হতে প্রাণপ্রিয়া ইভান মনে করে ধমক দেওয়ার জন্য পিছে ঘুরতে ই মুখটা ফাটা বেলুন এর মত চুপসে গিয়ে তুতলিয়ে বলে ওঠে,,__ সসারা আপু আপনি
সারা হালকা হেসে বলে,, ভয় পেয়েছো ?
প্রাণপ্রিয়া দ্রুত মাথা না সূচক নাড়িয়ে ঠোঁট চেপে নিচের দিকে তাকায়,,
সারা প্রাণপ্রিয়ার মাথায় পা থেকে মাথা অব্দি দেখে, সে দুপুরে লাঞ্চের জন্য এখানকার এক রেস্টুরেন্ট এসেছে তবে এখানে এসে হঠাৎ প্রাণপ্রিয়া কে দেখে কিছুটা অবাক হয় সাথে অনেকটা কনফিউসড ও কারণ সে যেই প্রাণপ্রিয়াকে চেনে তার গেটাপ এমন না। সে দূর থেকে অনেকটা খেয়াল করতে থাকে অতঃপর যখন শিওর হয় তৎক্ষণাৎ প্রাণপ্রিয়ার কাছে চলে আসে,,
এদিকে প্রাণপ্রিয়া মনে মনে ভাবে উফফফ দেখা হওয়ার জায়গা পেল না এখন সে কি করবে কি বলবে,
__ এখানে একা কি করছো প্রিয়া,, সারা প্রশ্ন করে উঠে,,
__ ফেফ্রেন্ডের জন্য অপেক্ষা করছিলাম আপু,
সারা মাথা নাড়ায়,ওওওও কিন্তু এত রোদ্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে? প্রাণপ্রিয়া মেকি হাসে,, ককোথায় রোদ
আমার তো রোদ লাগছে না ,,
সারা প্রাণপ্রিয়ার কথা শুনে শব্দ করে হাসে উঠে,, সত্যি ! কিন্তু আমি তো দেখছি তুমি তো ঘামছো ,
প্রাণপ্রিয়ার সাথে সাথে মেকি হাসি থেমে যায়,
সারা বুকে হাত গুঁজে,, জোকার গিরি তোমার বন্ধ হবে না বুঝেছি আচ্ছা যাই হোক তুমি কি জানো তোমাকে আমি দূর থেকে প্রথম চিনতে পারছিলাম না এরপর অনেক খেয়াল করে চিনতে পেরেছি বলেই সারা প্রাণপ্রিয়ার মাথায় হাত রাখে, এত সুন্দর হয়ে ঘুড়ে কি সবার নজর কাড়াতে চাইছো নাকি,
প্রাণপ্রিয়ার চোখ বড় বড় হয়ে যায় সারার কথা শুনে, সারা আবার শব্দ করে হেসে ওঠে উফফ তোমার সাথে মজা করতে আমার খুব ভালো লাগে ডোন্ট মাইন্ড, এখন চল আমার সাথে,
প্রাণপ্রিয়া দ্রুত বলে ,, কিকন্তু আপু আমার তো ফ্রেন্ড আসবে,,
সারা কপাল কুচকায়, তো আসুক এখন আমার সাথে চলো, তুমি ফোন এনেছো না?
প্রাণপ্রিয়া ঢোক গিলে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ায়,
সে খলনায়ক পর্ব ১০
__ তাহলে তো হলে তোমার ফ্রেন্ড আসলে তোমাকে ফোন দিবে এরপর আবার চলে এসো,,
__ কিকন্তু আপু,
সারা চোখ গরম করে, আর একটাও কথা না, আমি যা বলছি তাই ,আমার সাথে আসো বলেই হাত টেনে সারা শপিং মলের পাশে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে,,আর ঢুকতেই নিরিবিলি রেস্টুরেন্টর এক কোনায় কালো রঙের কোট প্যান্ট পর দামিয়ানকে দেখে প্রাণপ্রিয়া থেমে বলে ওঠে,,
__ আ আমি যাবো না আপু,
