Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৬

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৬

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৬
তানিয়া হুসাইন

রাহি ফিরে আসে আদ্রিয়ানের সঙ্গে।
গাড়ি এসে থামে রহমান ভিলার ঠিক সামনেই।
গাড়ি থামতেই রাহি নেমে যায়, সোজা চলে যায় বাড়ির ভেতরে।
কলিং বেলের শব্দ শুনে জান্নাত যায় দরজা খুলতে,
দরজার ফাঁক গলে রাহিকে দেখে মুহূর্তেই চোখে আনন্দের ঝিলিক জেগে ওঠে তার।
__রাহি!
চিৎকার করে উঠে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে জান্নাত, বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয় যেন প্রিয় কাউকে অনেক দিন পর পেয়েছে।
আগে ইশায়া সাফার সাথে হাসি মজা করেই দিন চলে যেতো।
সারাদিন ইশায়া তার পিছু পিছু-ই থাকতো কত আবদার তার,
সব তাকে দিয়েই আবির এর কাছে পৌছাতো।
কিন্তু সে চলে যাওয়ার পর বাড়ির প্রান টাই চলে গেছে, এখন আর কিছুই আগের মতো নেই।
সব কিছুই চলছে যেভাবে জীবন চলে কিন্তু আগের মতো উচ্ছাস নেই কিছুতে,প্রান নেই।

___জান্নাত এর খুশি দেখে রাহি আবেগ চেপে হেসে বলে,
আসতে তো হতোই ভাবী, তোমাদের ছাড়া আমি নিজেকেও খুঁজে পাই না এখন।
আদ্রিয়ান গাড়ি পাক করে ভেতরে ঢুকে, একবারও ওদিকে না তাকিয়ে, নীরবে সিঁড়ি ভেঙে নিজ রুমে চলে যায়।
তার মুখে কোনো কথা নেই, চোখে লেগে আছে সবসময়ের মতো চাপা বিষণ্নতা।
জান্নাত আবেগে রাহির হাতে ধরে বলে,
ভেবেছিলাম তুই আর আসবিই না, এতদিন হয়ে গেলো যোগাযোগ ও করলি না,কত ফোন দিয়েছি তোকে।
রাহি মৃদু হেসে বলে,
ভাবী, এসব ছাড়ো তো এখন, এটা বলো তোমার পুচকু কেমন আছে, কোথায় ও ?
জান্নাত মুচকি হেসে বলে,
ঘুমিয়ে আছে। একটু আগেই খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি।

___আর মামনি?
রাহির গলায় কাঁপা কাঁপা সুর।
___মা ওপরে, নিজের রুমে। শরীরটা ভালো নেই মায়ের।
—আমি একটু গিয়ে দেখি তাকে।
—হ্যাঁ, যা। মা খুব মিস করেছে তোকে।
রাহি ধীরে ধীরে উঠে যায় উপরে।
হাঁটার ভঙ্গিতেই লেগে আছে অদ্ভুত এক ভার।
দরজায় হালকা শব্দ হতেই সায়মা বেগম চোখ মেলে তাকান।
দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা চেহারাটা দেখে চোখদুটো বিস্ময়ে জ্বলজ্বল করে ওঠে।
—রাহি?
রাহি এগিয়ে আসে।
সায়মা বেগম উঠে বসতে চান, কিন্তু পারেন না।
রাহি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে ধরে বালিশে ঠেস দিয়ে বসিয়ে দেয়।
মামনির শরীর এতটা ভেঙে পড়েছে দেখে নিজের অজান্তেই রাহির চোখে জল আসে।
সায়মা বেগমের ঠোঁট কাঁপে,
তুই,এসেছিস মা।
তুই তো চলে গেছিলি,একবারও আমার কথা ভাবলি না?
আমার কথা কেও ভাবে না রে, কেও বুঝে না আমাকে
আমার পে*টের মেয়েও বুঝলো না,আর তুই তো বোনের মেয়ে,তুই কি করে বুঝবি।
চোখ থেকে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়ে সায়মা বেগমের।
কণ্ঠে হাহাকার, যেন বুক ফেটে কান্না বেরিয়ে আসছে।

__রাহি সায়মা বেগমের কাঁধে হাত রাখে, চোখের জল মুছিয়ে দেয় নিজের ওড়নায়,
আমি কোথাও যাইনি মামনি।
আমি যদি যেতাম, তাহলে আজ ফিরতাম না।
বাবার শরীরটা খারাপ ছিল, তাই একটু ঘুরতে গিয়েছিলাম, এই তো ফিরে এলাম।
এবার আর কোথাও যাবো না,কথা দিচ্ছি তোমাকে ছেড়ে কখনো যাবো না।
সায়মা বেগম অল্প শান্ত হন, কিন্তু কণ্ঠে রয়ে যায় একরাশ কষ্ট।
তিনি রাহিকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরেন, মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন,
আমার ইশু মা চলে গেছে
সাফা ও নেই।
তুই যাস না মা,তুই থাক আমার কাছে,
তোর বুকের ভেতর কত কষ্ট জমে আছে জানি আমি মা।
আমার ছেলে তোকে যেমন চায় না, তুইও নিজেকে তেমনই দূরে সরিয়ে রাখিস,
কিন্তু মা, সময় বদলায়,
আমি জানি একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।
তুই শুধু থাক আমার বুক খালি করিস না মা।
রাহি নিঃশব্দে সায়মা বেগমের কাঁধে মাথা রাখে।
ভেতরে ভেতরে সব কিছু তোলপাড় হচ্ছে তার।
কিন্তু মুখে একটা কথাও উচ্চারণ করে না।
শুধু একটা কথা মনে মনে নিজেকে প্রতিশ্রুতি দেয়,
এবার আর কাউকে ছেড়ে কোথাও যাবো না আমি।

মধ্য রাত কিন্তু এখনও ইশায়ার কোনো খোঁজ নেই।
এদিকে গোটা গুয়াতেমালায় যেন একটা যুদ্ধে নেমে পড়েছে একটা মেয়েকে খুঁজে বের করার জন্য।
সবাই আতঙ্কের মধ্যে আছে।
গুয়াতেমালার প্রতিটি এয়ারপোর্টে লোক লাগানো হয়েছে,
ক্যামেরা ফুটেজ চেক করা হচ্ছে সব জায়গায়, কোথাও যদি মুখ ঢাকা বা আড়াল করে বের হওয়া কোনও মেয়ে দেখা যায় তাকে আটকানো হচ্ছে,
রাস্তায় রাস্তায় ড্রোন সা-র্ভেইল্যান্স, হাইওয়েতে গাড়ি থামিয়ে র‍্যান্ডম চেক,
প্রত্যেকটা মেয়েকে আটকানো হচ্ছে।
ড্রোন অপারেটরের গায়ে ছুরি ছুঁড়ে মারে নিকো ফিড লোড হতে দেরি করছে বিধায়।
কিন্তু সবার এত চেষ্টার মাঝেও কেউ কিছু করে উঠতে পারছেনা।
মেয়েটা যেনো চোখের সামনে থেকেই উধাও হয়ে গেছে।

___ডিয়েগো গুয়াতেমালার প্রতিটি শহরের গ্যাংগুলোর কাছে নোটিশ পাঠিয়েছে,
রাজভীর আলভারেয কাছের কাওকে পাওয়া যাচ্ছে না,
যে খুঁজে দিতে পারবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে, আর খুঁজে দিতে না পারলে পরের টার্গেট তোমরা।
যে জন্য ওরা ও ভয় পেয়ে তাদের সাথে হাত মিলিয়েছে।
ভীরের বিশ্বস্ত লোকগুলো সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে, কেউ পাহাড়ে, কেউ সীমানায়, কেউ নদী ঘেঁষা পথগুলোতে।
লোকাল ছেলেমেয়েদের পর্যন্ত অর্থের লোভ দেখিয়ে কাজে নামানো হয়েছে,
তাকে খুঁজে দিলে জীবনভর শুধু টাকা না, বাঁচার নিশ্চয়তা পাবে তারা।
____নিকো কে জঙ্গলের গহীনে ঢুকতে দেখে ডিয়েগো বলে,
ওখানে থাকার চান্স নেই,এদিকটায় দিনের বেলায় ও কেউ যায় না।এখানে হিংস্র জানোয়ার আছে , এটা আমাদের জন্য বিপদজনক এখানে যাওয়া ঠিক হবে না নিক,থামো।
কিন্তু নিকো থামার বদলে আরো ভিতরের দিকে যেতে থাকে,যেতে যেতে বলে,
এখানে থাকার চান্স আছে কি নেই সেটা জানিনা কিন্তু এটা জানি সব জায়গায় খুজতে হবে,ওকে খুজে বের করতে হবে যে করেই হোক।
বিপদকে ভয় পায় না নিকো।
তার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হল ভীরকে ভালো থাকতে দেখা।আর ভীর এই মেয়েকে ছাড়া ভালো থাকবে না, তাই যে করেই হোক যে কোন কিছুর বিনিময়ে ইশায়াকে খুঁজে বের করতেই হবে।
ডিয়েগো আর কিছু না বলে বাকি সব গার্ড কে নিয়ে জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে।

___ মিগুয়েলসহ তার সব সহযোগী মারা গেলেও, সালদানা কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে গেছে। কিন্তু শরীরে বহু আঘাত, এক পায়ে গুলির ক্ষত সে রক্তাক্ত ও দুর্বল।
এর মাঝে তার এক সৈন্য এসে বলে,
___বস মাফিয়া ভীর এর কাকে যেনো পাওয়া যাচ্ছে না,
এজন্য সব জায়গায় তল্লাশি চলছে, চারিদিকে খোঁজ চলছে।
আমাদের এখানে থাকা নিরাপদ নয়, যেকোনো সময় ওরা আমাদেরকে ধরে ফেলতে পারে।
আমাদের এখন-ই জায়গা ত্যাগ করা উচিত।
___সৈন্যটির কথায় কপালে ভাজ পরে সালদানার,।কাছের কেউ?কে হারিয়েছে।
___এই ব্যাপারে খোলাসা করে কিছু জানা যায় নি।
সালদানা স্পষ্টই বুঝে গেছে, পুরো হামলার লক্ষ্য ছিল সেই মেয়ে, যার জন্য ভীর এতটা ডেস্পারেট।
সালদানা জানে, যদি মেয়েটাকে সে খুঁজে পায়,তাহলে ভীরকে সে কাবু করতে পারবে, আর যদি হত্যা করে, তবে মিগুয়েলসহ অন্যদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পারবে।
কিন্তু এখন তার সৈন্যবল নেই, সে নিজেও আহত, আত্মগোপনে আছে। ভীরের চোখে পড়া মানেই নিশ্চিত মৃত্যু। তবু বদলার আগুন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে মেয়েটার খোঁজে সে তার কিছু অনুগত লোক পাঠায়, কারণ ওটাই এখন তার শেষ অস্ত্র।

____ভীর একটা চেয়ারে বসে আছে, মাথা এলিয়ে।
চোখে মুখে রাগের ছাপ, চুলগুলো এলোমেলো, ঠোঁট দুটো শক্ত করে চেপে রেখেছে।
তার এতো পাওয়ার এত প্রতিপত্তি এত ক্ষমতা এত লোকবল থাকতেও সে একটা মেয়েকে দেখে রাখতে পারেনি,তার চোখের সামনে থেকে এভাবে চলে গেল আর সে কিছুই করতে পারেনি, এই জিনিসটাই সে মানতে পারছে না।
বারবার ফোন বাজছে,
প্রতিবার-ই একটাই কথা,
বস, এখনো কিছু পাওয়া যায়নি।
এই শব্দটাই ভীরকে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে।
তার বুকের ভেতরটায় যেন কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে,
সে বসে আছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আগ্নেয়গিরি ফুটছে।
বার বার ভেসে উঠছে চোখের সামনে ইশায়ার মুখ,ওর চোখ, ওর চুলগুলো উড়ে যাওয়ার মুহূর্ত,
ওর সেই চুপচাপ কান্নাভেজা মুখ।
ঠোঁটের ওই তিল যা তাকে সবসময় দিশেহারা করে তুলে।
তার বুকের মধ্যে লেপ্টে থাকা ছোট্ট শরীর টা।
যাকে দেখার জন্য সে সব সময় ছটফট করে, এক নজর দেখার জন্য সব কাজ ছেড়েছুড়ে ফিরে আসতো, তাকে সে কাছে পাচ্ছে না, দূরে থাকলেও সব সময় যাকে নিজের সামনে রাখতো, ল্যাপটপের স্ক্রিনে এ সব সময় চোখ রাখতো,আজ সে নেই কোথাও নেই, সে তার ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
এই চোখ দিয়ে আমি তাকে আর দেখতে পারবো না।
এই হাত দিয়ে আর ছুঁতে পারবো না।
এইসব প্রশ্নে ভীর যেন পাগল হয়ে যাচ্ছে।তার মনের ভিতর চলতে থাকা এসব দ্বন্দ্ব তাকে পাগল করে দিচ্ছে।

___ভীর রাগে হাতের মুঠোয় গ্লাস শক্ত করে চেপে ধরে,
রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকে হাত বেয়ে।
ভীর ঠোঁট ফাঁক করে নিঃশ্বাস ছাড়ে, চোখের পাতার নিচে রক্তাভ লালচে রেখা। মাংসপেশি টানটান।
তোর শরীরে আমার ছোঁয়া, আমার দেওয়া চিহ্ন মুছে ফেলার আগেই আমি তোকে খুঁজে বের করব, দেখিস।
তুই যদি ভেবে থাকিস তুই পালিয়ে আমার নাগালের বাইরে চলে যাবি, তবে ভুল করছিস! এই পৃথিবীর কোনো কোণায় তুই নিজেকে লুকাতে পারবি না। আকাশ, পাহাড়, মরুভূমি সব খুঁড়ে বের করব তোকে আমি ।
তুই আমার ছিলি, আছিস, আর চিরজীবন থাকবি। আমার ছায়া তোর নিঃশ্বাসে গাঁথা। আমার শরীরের ঘ্রাণ তোর শরীরের প্রতিটি কোষে, রক্তে।
তুই আমার থেকে দূরে যাওয়ার শাস্তি এত সহজে পাবি না। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তুই অনুশোচনায় পুড়বি,
আর আমি তোকে আবার ফিরিয়ে আনব। কিন্তু এবার বন্দিনী নয়,
তোকে আমি এমন এক অন্ধকারে আটকে রাখব,
যেখানে আলো বলে কিছু থাকবে না,
স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না,
শুধু আমি থাকব, আমাতেই থাকবি তুই,তোর প্রতিটা নিঃশ্বাসে, প্রতিটা কান্নায়, প্রতিটা কম্পনে শুধু আমি-ই থাকবো।
শুধু ভীর থাকবে।
ভীর সাইড টেবিল থেকে পি*স্তল তুলে নেয়, হাতে পি*স্তল ঘোরায়। ঠাণ্ডা চোখে সে বলে,
তুই যতক্ষণ আমার হাতে না আসছিস, এই গুয়াতেমালার কেউ শান্তি থাকবেনা।

_______গুয়াতেমালার এক মধ্যবিত্ত পারার ভিতর, পাহাড় ঘেঁষা ছোট্ট একটা গ্রাম।
সকালের প্রথম আলো পড়েছে ঘরের জানালার ভাঙ্গা কাঁচে।
ভেতরে ঘুমিয়ে আছে ইশায়া। মুখে অসহায় ক্লান্তির ছাপ, শরীরটা বেঁকেচুরে গুটিয়ে আছে খাটের এক কোণে।
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন সে। ভয়, ক্লান্তি আর শরীরের দুর্বলতা একেবারে জেকে ধরেছে তাকে।
বাড়ির ভিতর চলছে রান্নাঘরের হালকা শব্দ।
সেই বাড়ির মালকিন ডেলমা মোরালেস, বয়স পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই। চোখেমুখে ক্লান্তি, তবু মুখে এক ধরনের কঠিন বাস্তবতার ছাপ।
সে দুপুরের টরটিলা ও ফ্রিজোলেস (মেক্সিকো ও গুয়াতেমালার প্রচলিত বীনস) প্রস্তুত করছে।
তারা ছোট একটি খাবারের দোকান চালায় স্থানীয় বাজারে। নিজের হাতে রান্না করে ছেলে নিয়ে দোকানে নিয়ে যায় প্রতিদিন।
এই কাজই তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।
ডেলমার ছেলে টিয়াগো মোরালেস। সে একটু কাজে গেছে, আজ-ই ফিরবে।

___শরীরে হালকা জ্বর থাকায় ডেলমা ইশায়াকে আর জাগায় নি,ভেবেছে ঘুম থেকে উঠলেই যা বলার বলবে।
___ঠিক এমন সময় বাইরের হঠাৎ করেই মাইকে ভেসে আসে ভয়ংকর এক গলা,
___এখানে কি কালকে কোন মেয়ে এসেছে। কারো কাছে যদি কোন মেয়ে এসে থাকে বা যদি কেউ এমন কাউকে দেখে থাকো, সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাও।
না হলে এই পারার প্রতিটা বাড়ি আমরা ঘেঁটে ঘেঁটে দেখবো।
যদি কেউ লুকিয়ে রাখো, আর আমরা পেয়ে যাই তাহলে তার লা*শ ও কেই দেখবেনা।
একেবারে জ্যান্ত মা*টির নিচে পুতে ফেলা হবে।
মনে রেখো এটা ভীর আলভারেয এর নির্দেশ। তার রোষানল মানে মৃত্যু।
তাই এরকম কেউ যদি এখানে এসে থাকে তাহলে তোমরা আমাদেরকে জানাও।
এই ঘোষণা যেন গ্রামের বাতাস কাঁপিয়ে তোলে।
ডেলমা থেমে যায়। শরীর কাঁপছে তার ভেতরে ভেতরে।
মাইকের শব্দে ইশায়ার ঘুম ভাঙে।
ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে সে,
শরীর ঠান্ডা হয়ে আসছে ভয়ে, বুক ধড়ফড় করছে।ওর লোকেরা এসে গেছে,তারা খুব কাছাকাছি।
বাইরে মানুষের চলাফেরা শুরু হয়ে গেছে। কেউ কেউ জানালা বন্ধ করে দিচ্ছে, কেউ ভিতর থেকে দরজা লাগাচ্ছে।
ডেলমা আতঙ্কিত চোখে ইশায়ার দিকে এগিয়ে আসে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৫

– এই মেয়ে! তুমি কে? কোথা থেকে এসেছো?
ওরা কি তোমাকেই খুঁজছে? বলো! তুমি কে, কী করেছো?
ইশায়া আতঙ্কে গলাটাও কথা বলতে পারছে না, গলা শুকিয়ে গেছে।
ইশায়া চুপচাপ বসে আছে।
তার মুখ থেকে কোন কথা বের হচ্ছে না।
ভয়ে আতঙ্কে সে জমে যাচ্ছে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৭