সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭০
তানিয়া হুসাইন
ভীরের হঠাৎ চিৎকারে ঘরটা কেঁপে ওঠে।
দরজা খুলতেই মারিয়া এলেনা আর রানিয়া দৌড়ে আসে রুমে। ভীরের চোখ রক্তবর্ণ আকার ধারন করেছে।হাতের কফির কাপটা সজোরে ছুড়ে মারে মেঝেতে। কফির কাপ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।
মারিয়া এলেনা আর রানিয়া দুজনেই কেঁপে ওঠে।
এমন রাগ এমন ভীর তারা চেনে তারা অভ্যস্ত।এর পরিনাম কি হবে সেটাও তারক জানে।
ঘরের এক কোণে ইশায়া সিটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
দুটো হাত শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে নিজের বুকে।
ভীরের এই ভয়ংকর রাগের কারণ সে বুঝতে পারছে না।সে কী এমন করেছে?একটু আগেও তো সব ঠিক ছিলো,লোকটা আদরে তাকে বুকে আগলে রেখেছিলো,
কিন্তু ভীরের এই মুখ, এই চোখ,এই হিংস্রতা তার মাথার ভেতর ঝাপসা একটা ছবি ভেসে ওঠে অস্পষ্ট অসম্পূর্ণ।তবু ভয়ানক পরিচিত।ইশায়ার শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে যায়।শরীরে লোম খাড়া হয়ে যায় ভয়ে।তাকে যেনো তার শরীর কিছু একটার ইঙ্গিত দিচ্ছে, কিন্তু মস্তিষ্ক তা ধারণ করতে পারছে না।
মারিয়া এলেনা কাঁপা গলায় বলে ওঠে,
___জ্বি, বস।
ভীর এক পলক তাকায় না পর্যন্ত।
ইশায়ার ছোট্ট একটা প্রশ্ন তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে এই ভয়ে যদি ইশায়ার আগের সবকিছু মনে পড়ে যায় তাহলে তাকে সে আর এভাবে পাবে না নিজের কাছে।
তার গলা রাগে ভারী, দাঁতে দাঁত চেপে রেখে বলে,
__ওর ওষুধ দেওয়া হয়েছে?
ওষুধ খেয়েছো ও?
মারিয়া এলেনার মাথা আপনা আপনি নিচু হয়ে যায়।
মারিয়া এলেনার চুপ থাকায় তার কাছে সব কিছু স্পষ্ট।
ভীরের কণ্ঠ ক্রোধে কাঁপছে।
এত কিছুর পর আজ, যখন পরিস্থিতি একটু ঠিক হয়েছে
ঠিক তখনই এই অবহেলা?
ভীর কিছুতেই আগের সেই ভয়ংকর দিনগুলোতে ফিরতে চায় না।কিছুতেই না।এর জন্য তাকে যা করতে হয় সে করবে।
ভীর ড্রয়ার খুলে রি*ভলবার হাতে নেয়।
___দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সব দেখছে এলিজা।
চোখে তার বিকৃত সন্তুষ্টির ঝিলিক।এটাই তো সে চেয়েছিল।ইশায়ার সামনে ভীরের আসল রূপ ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে।সন্দেহ ঢুকছে ইশায়ার মনে।ধীরে ধীরে ইশায়ার সামনে সব পরিষ্কার হয়ে উঠবে।
আর এলিজা এই মিথ্যের দেওয়ালটা সে নিজের হাতে ভাঙবে।সে নিঃশব্দে কান পেতে শোনে।
ভীরের হাতে অস্ত্র দেখে ইশায়া আরও পিছিয়ে যায়।
পা কাঁপছে।শ্বাস আটকে আসছে।ভয়ে, আতঙ্কে তার চোখ ছাপিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
ভীর যখন মারিয়া এলেনার মাথায় বন্দুক তাক করে,
ইশায়া দেয়ালের সাথে লেগে যায়।ভীরের হাতে অ*স্ত্র দেখে।
মারিয়া এলেনা ভাঙা গলায় বলে ওঠে,
___বস… আমরা ম্যামকে বারবার বলেছি। হাজারো বার বলেছি।
গলা আটকে আসে তার।মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে তার গলা কাপছে।
ম্যাম আমাদের কারো কথাই শোনেননি।একটু থেমে, সাহস জড়ো করে বলে,
তিনি সকাল থেকে কিছু খাননি, কোনো ওষুধও নেননি।
ভীরের চোখ আরও অন্ধকার হয়ে ওঠে।
মারিয়া এলেনা দ্রুত বলে,
__ম্যাম এখন আমাদের কোনো কথাই মানেন না, বস।
আমরা তো আর জোর করতে পারি না।
তাদ কণ্ঠে অসহায়ত্ব স্পষ্ট।এরকম কিছু তো আপনি আমাদের কখনো বলেননি।
উল্টো ডাক্তার বলেছে ম্যামকে হাইপার না হতে।
মারিয়া এলেনা ঢোক গিলে নেয়,রানিয়া মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
উনি উত্তেজিত হলে মাথায় চাপ পড়বে।এমনকি সেন্সলেসও হয়ে যেতে পারেন।
আপনিও বলেছেন ডাক্তার যা বলেছে সেই অনুযায়ী করতে।যদি ম্যামের কিছু হয় সব দায় তো আমাদের উপরই পড়বে, বস।আমরা কী করবো?
ভীরের রাগ তখন নিয়ন্ত্রণের শেষ সীমানা ছুঁয়ে ফেলেছে।
তার চোখে অন্ধকার জমে ওঠে।চিড়বিড়িয়ে বলে,
___সেটা আমাকে জানানো হলো না কেনো?
ঘরজুড়ে নেমে আসে নীরবতা।
মারিয়া এলেনা আর কিছু বলতে পারে না।
__ভীর ধীর পায়ে ইশায়ার দিকে এগিয়ে আসে,তার প্রতিটা পদক্ষেপে ঘরের বাতাস ভারী করে তুলে।
ইশায়া ভীরের এই রূপটা সহ্য করতে পারছে না। এই মানুষটার চোখে এখন কোনো নরমতা নেই, শুধু হিংস্র নিয়ন্ত্রণ যা সে চায় নি।
ভীর সামনে এসে এক ঝটকায় ইশায়ার মুখ চেপে ধরে। আঙুলের চাপে ইশায়ার ঠোঁট কেঁপে ওঠে।
ভীর হিসহিসিয়ে বলে,
__সাহস খুব বেশি বেড়ে গেছে তাই না?আমার উপরে যাওয়ার চেষ্টা করছিস।
গলায় চাপা আগুন। কিছু বলি না দেখে মাথায় উঠে গেছিস। ভালো ব্যবহার সহ্য হচ্ছে না তোর তাইনা। আর একদিন আর একদিন যদি আমার কথার অমান্য করিস তাহলে খুব খারাপ হবে। আমার খারাপ রূপ সামনে আনতে বাধ্য করিস না আমাকে।
ইশায়ার চোখ বেয়ে নিঃশব্দে পানি গড়িয়ে পড়ে। ভয়, অপমান আর অসহায়ত্ব একসাথে বুকের ভেতর জমে ওঠে।
কিন্তু ভীরের চোখে এখন তার এক ফোঁটা পানিরও কোনো মূল্য নেই।সে নিষ্ঠুর ভঙ্গিতে ইশায়ার গাল ছেড়ে দেয়। তুই আর এই রুম থেকে এক পা ও বের হবি না।
__ইশায়া চুপ। একটা শব্দও বের হয় না তার মুখ থেকে।
এই নীরবতাই ভীরকে আরও উসকে দেয়।চোয়াল শক্ত করে সে হঠাৎ ইশায়াকে টান দিয়ে বিছানার ওপর ধাক্কা মারে। ইশায়ার শরীরটা ম্যাট্রেসে আছড়ে পড়ে।
ভীর এক পা বিছানায় তুলে ইশায়ার দিকে ঝুঁকে বলে,
__কথা কানে যায় না? কী বলছি শুনতে পাস নি?
ইশায়া কাঁপা শরীরে, কান্না মাখা গলায় মাথা নাড়িয়ে সায় দেয়।
সে শুনবে। সে সব শুনবে। ভীর যা বলবে।ভীর আর একবার তার দিকে তাকায় চোখে ঠান্ডা সতর্কতা।
তারপর মারিয়া এলেনার দিকে ঘুরে দাঁড়ায়।
___ওর মেডিসিন নিয়ে কোন প্রকার হেরফের হলে আমি কাউকে আস্ত রাখবো না। ও যদি ওষুধ না খেতে চায়, তখনই আমাকে জানাবে।
বজ্র কণ্ঠে চিৎকার করে বলে ভীর।
___খাবার নিয়ে আসো ওর জন্য। আর ওষুধ দাও।
ভীরের কথা শেষ হতেই মারিয়া এলেনা মাথা নিচু করে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই মারিয়া এলেনা খাবারের ট্রলি ঠেলে ভেতরে ঢোকে। ধাতব ট্রলির চাকায় হালকা শব্দ হয়, যা ঘরের নীরবতাকে আরও ভারী করে তোলে।
ভীর ডিভানে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে।
চোখ তুলে ইশায়ার দিকে তাকিয়ে আদেশ দেয়,
___নাও। সব গুলো খাবার শেষ করো। তারপর মেডিসিন নাও।
একটু আগে ভীরের সেই হিংস্র রূপ দেখে ইশায়া আর টু শব্দ করার সাহস পায় না।
ইশায়া মাথা নিচু করে চুপচাপ খেতে শুরু করে।
খাবারের সাথে মিশে যায় তার অপমান, ভয় আর কষ্ট। চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে, কিন্তু সে হাত তুলে মুছতেও সাহস পায় না।
ভীর তখনও ডিভানে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে।
ইশায়ার দুই পাশে গার্ডরা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
ইশায়া একটু খেয়ে প্লেটটা সরিয়ে রাখতে চাইলে,
ভীর কড়া গলায় বলে ওঠে,
___পুরোটা শেষ করো।
এই দুইটা শব্দই যথেষ্ট।
রাগ, কষ্ট আর অপমান একসাথে চেপে বসে ইশায়ার বুকের ওপর। তবুও সে কিছু বলে না।
চুপচাপ আবার প্লেট টেনে নেয় নিজের দিকে।
ভীর তখন সিগারের ধোঁয়া উড়াচ্ছে, ধোঁয়ার ফাঁক দিয়ে তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে ইশায়ার উপর,একটুও নড়ে না।
অনেক কষ্ট করে ইশায়া শেষমেশ খাবারটা শেষ করে। গিলতে পারছিলো না বেরিয়ে আসছিলো বার বার মুখ থেকে তবুও পানি নিয়ে গিলে নেয়।তার হাত কাঁপছে, শরীরটাও ক্লান্ত।
খাবার শেষ হতেই ভীর চোখের ইশারায় মারিয়া এলেনাকে নির্দেশ দেয়।
মারিয়া এলেনা এগিয়ে এসে ইশায়ার হাতে ওষুধগুলো দেয়।
ইশায়া কোনো কথা বলে না, কোনো প্রশ্ন ও করে না,ওষুধগুলো একে একে মুখে তুলে নেয়।
এই পুরো সময় ভীরের ফোন অনেকক্ষণ ধরে বাজছিল। সে ধরেনি।
সে অপেক্ষা করছিল এই পর্যন্ত।
ইশায়া ওষুধগুলো খাওয়া শেষ করতেই ভীর উঠে দাঁড়ায়।
ক্যাবার্ডের দিকে গিয়ে একটা সাদা রঙের টি শার্ট বের করে পরে নেয়।
তারপর মোবাইল হাতে নিয়ে একবারও পেছনে তাকায় না দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
ঘরে থেকে যায় শুধু ইশায়া ভয়ংকর নীরবতার মধ্যে বন্দী হয়ে।
ভীর করিডোর পেরিয়ে বাইরে আসে।রুমের দরজা বন্ধ হতেই তার মুখের সমস্ত আবেগ মিলিয়ে যায়। চোখে নামে সেই পরিচিত শীতলতা যেটা গোটা আন্ডারওয়ার্ল্ড চেনে।ফোনটা এখনো ভাইব্রেশনে কাঁপছে।
ভীর কল রিসিভ করে।
__ বল।
ওপাশ থেকে ম্যাটিয়াসের কণ্ঠ ভেসে আসে সংযত, সতর্ক।
___বস….
___কারা ওইদিন হামলা করেছিল, কোনো ইনফরমেশন পেয়েছো?
ভীর থেমে দাঁড়ায় করিডোরের শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে দূরের অন্ধকারের দিকে তাকায়।
কণ্ঠ নিচু, কিন্তু ধারালো,
___না বস। এখনো কোনো সূত্র পাইনি। আসল মাথাটা কে ওটাই বের করা যাচ্ছে না। চেষ্টা চলছে। তবে এটা বুঝতে পেরেছি এখানে একা কেউ না অনেক কিছু জড়িত আছে , কিন্তু ব্যাপার না পেয়ে যাবো।
ভীর নিঃশ্বাস ছাড়ে। ঠান্ডা গলায় বলে,
___যে-ই হোক, সাহস বেশি হয়ে গেছে।ম*রবার জন্য লাফাচ্ছে।
আমার সাম্রাজ্য, আমার লোকের ওপর হাত তুলেছে। এর দাম দিতে হবে।
এই প্রসঙ্গে তাদের অনেক কথাই হয়।
ম্যাটিয়াস আবারো বলে,
___ডিলারের কাছে চা*লান পৌঁছে গেছে। সব ক্লিন। ব্যাংকে পুরো টাকা ট্রান্সফার হয়ে গেছে।
ভীর চোখ নামিয়ে ঘড়ির দিকে তাকায়।
এক সেকেন্ডের জন্য ঠোঁটের কোণে হালকা সন্তুষ্টির হাসি ফুটে ওঠে।
___কত?
___একশো পঁচিশ মিলিয়ন ডলার, বস।
ম্যাটিয়াসের কণ্ঠে গর্ব চাপা থাকে।
অ*স্ত্র, সি*ন্থেটিক ড্রা*গ আর অ*ফশোর রুট সব মিলিয়ে এই মাসের সবচেয়ে বড় ডিল। ইউরোপ আর ল্যাটিন আমেরিকার তিনটা কা*র্টেল একসাথে কাজ করেছে।
ভীর ধীরে হাঁটতে শুরু করে।
__টাকা ভাগ হয়ে গেছে?
__ হ্যাঁ। শেল কোম্পানি আর দুটো সুইস অ্যাকাউন্টে স্প্লিট করা হয়েছে। ট্রেস করা যাবে না।
ভীরের কণ্ঠ আরও ঠান্ডা হয়ে আসে,
___ওকে।
এখন লোক বাড়াও।সব গোডাউন সব চেক পোস্টে পাহারা বাড়াও।
যারা হামলা করেছে ওরা নিজেরাই সামনে আসবে।সব রকম প্রস্তুতি নিতে থাকো।
আর একটা কথা, ম্যাটিয়াস।
__বলুন বস।
ওইদিনের হামলার পিছনে যারা আছে,
ভীরের চোখে ক্ষীণ আগুন জ্বলে ওঠে,
___ওদেরকে ধরে আটকে রাখবে টর্চার সেলে,
আমি চাই তারা বেঁচে থাকুক, যতক্ষণ না আমি নিজে তাদের শেষ করি।
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
___বোঝা গেছে, বস।
আপনি যেমনটা চাইছেন তেমনি হবে।
ভীর কল কেটে ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে নেয়।
___প্যালেসের কাউন্সিল রুমে বসে আছে ভীর।ঘরজুড়ে নিস্তব্ধতা।
ডিয়েগো দাঁড়িয়ে থেকেই একের পর এক আপডেট দিতে থাকে ভীরকে।
ভীর হঠাৎ বলে ওঠে,
__নিকো কোথায়?ওকে দেখতে পাচ্ছি না কেন।
ডিয়েগো কথা না বলে মাথা নিচু করে নেয়।সে কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না।
__ভীর অপেক্ষা করে না, পকেট থেকে ফোন বের করে নিকোকে কল দেয়।
একবার… দুইবার… তিনবার…
বারবার ফোনের শব্দে বিরক্ত হয়ে নিক,
ওপর থেকে নেমে আসে।
এতবার তাকে কে কল করতে পারে,সে ভালো করেই জানে।
নিক কল রিসিভ করে, কণ্ঠে হালকা হাসি নিয়ে বলে,
__হ্যালো ব্রো।
ভীর কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়।তার কণ্ঠে চাপা উদ্বেগ,
__এত হাঁপাচ্ছিস কেন? কোনো সমস্যা? কিছু হয়েছে?
ভীরের কণ্ঠের পরিবর্তনটা নিকো ধরতে পারে।
সে মাথা চুলকে হালকা হেসে বলে,
__না ব্রো, এই তো একটু এক্সারসাইজ করছিলাম এই আর কি… এজন্য।
__ভীর বুঝে নিকোর কথার মানে।
সে আর কিছু না বলে কথা ঘুরিয়ে নেয়।
__তোর জন্য রোলস রয়েস ফ্যান্টম গাড়ি আর বেরেটা পিস্তল অর্ডার দিয়েছি। পিক করে নিস।
ভীরের কথা শুনে নিকোর কণ্ঠ বদলে যায়।
খুশিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে ওঠে,
___থ্যাংক ইউ ব্রো, থ্যাংক ইউ… থ্যাংক ইউ সো মাচ।
ভীর আর কোন কথা না বলে,নিঃশব্দে কল কেটে দেয়।
নিক ফোন নামিয়ে রাখতেই পেছন থেকে আনুশকা তার উন্মুক্ত শরীর জড়িয়ে ধরে।
কণ্ঠ নরম ফিসফিস করে বলে,
__কী হলো বেবস, এত খুশি কেন?
নিক কোনো উত্তর দেয় না।
শুধু তাকে আরও কাছে টেনে নেয়,আবারো মেতে ওঠে তাকে নিয়ে।
মেক্সিকোর রাতটা ভারী।
আকাশে কালো মেঘ,
ভীরের কাউন্সিল রুমের আলো নিভু নিভু।
মাঝখানে বিশাল কাঁচের টেবিল তার নিচে ভাসমান এক ম্যাপ।
লাল রঙে জ্বলছে পুরো মেক্সিকো, সিনালোয়া, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পানামা, কলম্বিয়া।
একটার পর একটা দেশ সব তার দখলে।এই সব গুলো দেশ তার নিয়ন্ত্রনে,
ভীর চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে।
চোখে কোনো উত্তেজনা নেই, আছে শুধু পরবর্তী শিকার।
রুমে দাঁড়িয়ে ডিয়েগো নিঃশব্দে ট্যাবলেট ধরে আছে,
সান্তিয়াগো দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,
এনরিকোর চোখ ম্যাপের প্রতিটা লাইনের ওপর।
ভীর হঠাৎ উঠে দাঁড়ায়।
কাঁচের টেবিলের ওপর হাত রাখতেই ম্যাপটা ধীরে ধীরে জুম হয়।
ভীর ধীর গলায় বলে ওঠে,
মেক্সিকো আমার রাজ্য না এটা আমার ঘর।
ভীর আঙুল ছোঁয়ায় ম্যাপের মাঝখানে একটা দেশ আলাদা হয়ে জ্বলে ওঠে।
কোস্টা রিকা।
সান্তিয়াগো চোখ সরু করে তাকায়।
এনরিকো ম্যাপের পোর্টের দিকে তাকিয়ে বলে,
__দুইটা সমুদ্র… দুইটা বন্দর।
ভীর থামে চোখে আগুন জ্বলে ওঠে,
প্যাসিফিক আর ক্যারিবিয়ান এক দেশ, দুইটা শ্বাসনালি।এই শ্বাস আমি চেপে ধরবো।
ডিয়েগো গলা নামিয়ে বলে,
__পু*লিশ আছে, বস। তারা…
ভীর হালকা করে মাথা নাড়ে।ডিয়েগোকে থামিয়ে দিয়ে বলে,
__পু*লিশকে মারতে হয় না।
পু*লিশকে কিনতে হয়।
ভীর ম্যাপের একদম ভেতরে তাকিয়ে থাকে।যেন সে ইতিমধ্যেই সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রথমে আমরা ঢুকবো ট্যুরিস্ট হয়ে।
রিসোর্ট, ক্যা*সিনো, সমুদ্রের ধারে আলো-ঝলমলে বিল্ডিং।
সান্তিয়াগো বুঝে যায়।
টাকা ঢুকবে, টাকা ধুয়ে বের হবে।
ভীর চোখ তোলে তারপর বন্দর।
যেখানে কন্টেইনার ঢুকবে
কেউ জানবে না ভেতরে কী আছে।
রুমটা আরও নিস্তব্ধ হয়ে যায়।
আর যেদিন ওরা বুঝবে,
সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬৯ (২)
সেদিন দেশটা আর তাদের থাকবেনা।
ভীর পেছনে ঘুরে সবার দিকে তাকিয়ে বলে।
ওই দেশে আমার পতাকা উড়বে খুব শীঘ্রই।
ম্যাপের কোস্টা রিকার রঙ ধীরে ধীরে বদলায়।
সবুজ মিলিয়ে গিয়ে লাল।ডিয়েগো নিঃশ্বাস ছাড়ে।
সান্তিয়াগো আর এনরিকো একে অপরের দিকে তাকায়।
এই দেশটার কপাল লেখা হয়ে গেছে।
ভীর আবার চেয়ারে বসে।যেখানে সমুদ্র আছে সেখানে আমার ছায়া পড়বেই।আলো নিভে যায়।শুধু ম্যাপে জ্বলতে থাকেভীরের সাম্রাজ্য।
