Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭০ (২)

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭০ (২)

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭০ (২)
তানিয়া হুসাইন

প্যালেসের ভেতরের এই অংশটায় আলো সবসময় কম থাকে।কাউন্সিলিং রুমের বাইরে মোটা কালো দরজা, বু*লেটপ্রুফ স্টিল দিয়ে বানানো।
দরজার দু’পাশে দাঁড়িয়ে আছে ভারী অ*স্ত্রধারী গার্ড।
পুরো প্যালেসটাই একেকটা স্তরে ভাগ করা,প্রথম স্তরে বাহিরের গার্ড,দ্বিতীয় স্তরে ইন্টারনাল সিকিউরিটি,
তৃতীয় স্তরে এলিট ফোর্স যারা শুধু ভীরের আদেশ মানে।ভীরের প্যালেসে ঢোকা মানে নিজের জীবনটা আগেই সাইন করে দেওয়া।
এই নিরাপত্তার কারণেই গার্ডরা নিশ্চিন্ত।
কারণ এখানে কেউ চাইলেও কেউ ঢুকতে পারবেনা।
তেমনটাই তারা বিশ্বাস করে।
আর ঢুকতে পারতো না ইশায়ার অসুস্থতার সময় ভীরের অন্যমনস্কতার কারনেই আজ এই অবস্থা হয়েছে।
নিকো ও ভীরের পিছন পিছন ছিলো, ডাক্তার অপারেশন সব কিছুর ঝামেলায় তাদের এদিক থেকে নজর সরে যায়।
কাউন্সিলিং রুমের বাইরে এলিজা ধীরে ধীরে ফ্লোর পরিষ্কার করছে।
হাতের কাপড়টা মেঝেতে ঘষতে ঘষতে সে অল্প অল্প করে ভেতরের দিকে এগোচ্ছে। সে জানে
এখানে থাকা মানে বিপদ।
কিন্তু ভেতরে কী হচ্ছে সেটা তাকে জানতে হবে।ভেতর থেকে ভেসে আসছে ভারী কণ্ঠস্বর।একাধিক পুরুষের গলা।গম্ভীর কিন্তু স্পষ্টভাবে হিসেবি।দরজার ফাঁক দিয়ে পুরো কথা শোনা যাচ্ছে না।
শুধু কিছু কিছু শব্দ,

__রুট, পোর্ট, লোকাল গ্রুপ
হঠাৎ একটা নাম কানে আসে।পুরোটা পরিষ্কার না
শুধু দেশের নামের শেষ অংশটা।
এলিজার বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে।সে বুঝতে পারে
এটা কোনো সাধারণ মিটিং না।এটা নতুন কোনো দখলের কথা।সে আরও একটু এগোয়।
ঠিক তখনই করিডরের শেষ মাথা থেকে কায়রা এগিয়ে আসে।তার সাথে আরেকজন দাসী,
__দু’জনের হাতেই ড্রিংকের ট্রে।এলিজাকে এই জায়গায় দেখে কায়রা থেমে যায়।
রাগ চেপে রাখা কণ্ঠে বলে ওঠে,
___এই দাসী, তুমি এখানে কী করছো?
হঠাৎ আওয়াজে এলিজা চমকে ওঠে।
দ্রুত মাথা নিচু করে ফ্লোর পরিষ্কার করতে করতে বলে,
__আমি… আমি তো পরিষ্কার করছিলাম।
কায়রা এগিয়ে এসে কঠিন গলায় বলে,
__তুমি জানো না?বস রুমে থাকাকালীন এখানে কারোর আসা নিষেধ।এই করিডর খালি থাকে।
যখন বস মিটিংয়ে থাকে, তখন এখানে কেউ আসে না।
বস জানলে তোমার শেষ দিন আজ।এলিজা ভয়ে হাত জোড় করে ফেলে।
চোখ নামিয়ে, কাঁপা গলায় বলে,

__দুঃখিত,আমি জানতাম না।আর কখনো এমন হবে না।
যাও এখান থেকে।কায়রা একবার চারপাশে তাকায়।তারপর গার্ডদের দিকে চোখ ঘুরিয়ে বলে,
বস রুমে থাকাকালীনএই করিডরে কেউ যেন না আসে।সতর্ক থাকবে।গার্ডরা মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।
কায়রা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এক মুহূর্ত থামে।
তারপর কোড দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে যায়।
ভীর টেবিলের মাথায় বসে।
ডিয়েগো, সান্তিয়াগো, এনরিকো আর বাকিরা চারপাশে।
কায়রা একে একে সবার হাতে ড্রিংক তুলে দেয়।
কারোর চোখ তার দিকে যায় না।
ভীর নিচু গলায় বলে,
__এই দেশটা নিলে আমাদের রুট ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
ভীর ড্রিংকের গ্লাসটা হাতে নিয়ে ধীরে ঘোরায়।
এলিজা কায়রা যাওয়ার পর সেখান থেকে দ্রুত সরে যায়।সে পুরো কথা শোনেনি,কিন্তু এতটুকু বুঝেছে,
একটা দেশ আবার দখল হতে চলেছে।
আর এটা তাকে দ্রুত ডন লুকাকে জানাতে হবে।

____ভীরের এমন ব্যবহার ইশায়ার বুকের ভেতর গভীর আঘাত করে।কথাগুলো ভীরের করা কাজ সবকিছুই বার বার তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
হঠাৎ করে কেনো এমনটা হলো সে জানেনা।
সব কিছুই তো সুন্দর ছিলো সামান্য ঔষধের জন্য এতোকিছু।
ইশায়ার চোখে জমে ওঠা কষ্ট সে কাউকে দেখাতে পারে না।চুপচাপ শুয়ে থাকে বিছানায়।শরীরে দেওয়া ওষুধের প্রভাব ধীরে ধীরে কাজ করতে শুরু করে।
চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে।কষ্ট, ভয়, অসহায়তা সব একসাথে মিশে যায়,কিছুক্ষণের মধ্যেই ইশায়া ঘুমিয়ে পড়ে।
ইশায়াকে ঘুমিয়ে যেতে দেখে
মারিয়া এলেনা রাণিয়া রুমের আলো নিভিয়ে দেয়।
তারপর কোনো শব্দ না করে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

___ভীর ড্রিংকের গ্লাস হাতে নেয়।এক চুমুক দেয়।
আবার টেবিলে রেখে দেয়।
নতুন টার্গেট কোস্টারিকা নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকে।একেকজন একেক দিক তুলে ধরছে,
ডিয়েগো কথা বলছে।
সান্তিয়াগো নিজের বিশ্লেষণ দিচ্ছে।
এনরিকো টেবিলে আঙুল ঠুকে কিছু বুঝিয়ে দিচ্ছে।
কিন্তু ভীরের চোখ স্থির হয়ে আছে।
তার মস্তিষ্কে তখন ঘুরছে অন্য ছবি।অন্য মুখ।
ইশায়া তার ভেজা চোখ,
চেপে রাখা কান্না,চুপচাপ সহ্য করা যন্ত্রণা।
ভীরের মন-মস্তিষ্কে এখন শুধু একটাই জিনিস ঘুরছে
ইশায়া।
সে আর অন্য কিছুতে মনোযোগ দিতে পারছে না।
চারপাশের কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে যায়।
এভাবে সময় গড়াতে থাকে।
ডিয়েগো কয়েকবার বলে ওঠে,

___বস… বস…কিন্তু ভীর তখন অন্য ভাবনায় মগ্ন।
তার চোখ সামনে থাকলেও মন অন্য ঘরে।
ভীরের ধ্যান ভাঙাতে সে আবার বলে,
___বস, আপনি কি অন্য কিছু নিয়ে ভাবছেন?”
এই কথায় ভীরের চোখের ফোকাস ফিরে আসে।
সে এক মুহূর্ত থামে।
তারপর কঠিন গলায় বলে
__এই নিয়ে পরে আলোচনা হবে। কথাটা বলে এক মুহূর্তও দেরি না করে ভীর উঠে দাঁড়ায়।
চেয়ারের শব্দ রুমে প্রতিধ্বনিত হয়।
সে সোজা দরজার দিকে হাঁটে।অর্ধেক মিটিং রেখেই
ভীর বেরিয়ে যায়।রুমের ভেতর হঠাৎ নিস্তব্ধতা নেমে আসে।ডিয়েগো, সান্তিয়াগো, এনরিকো সবাই একে অপরের দিকে তাকায়।সবার চোখে একই বিস্ময়।
কারণ ভীর কখনোই এমন করে না।বিশেষ করে যখন আলোচনাটা ছিল এতটা গুরুত্বপূর্ণ।
ভীরের এমন আচরণে সবাই হতাশ হয়ে পড়ে।
কিন্তু কারো মুখে কিছু বলার সাহস নেই।

____ভীর রুমে প্রবেশ করতেই দেখে চারপাশ অন্ধকার।ভেতরে ঢুকে দরজাটা করে লক করে দেয় এই মুহূর্তে ভীরের কাছে বাইরের পৃথিবীর কোনো অস্তিত্ব নেই।এখন এখানেই সব তার, তার পুরো পৃথিবী।
এক ঝটকায় গায়ের টি-শার্টটা খুলে ছুড়ে ফেলে, শরীরের উত্তাপ তখনো নামেনি।
লাইট অন করতেই চোখে পরে বিছানার মাঝখানে গুটিয়ে শুয়ে আছে ইশায়া। গভীর ঘুমে মগ্ন, কিন্তু শরীরের বেহাল দশা চোখ এড়ায় না তার।
ফ্যাকাশে মুখ, এলোমেলো চুল, শাড়ির আঁচলটা ঠিকমতো নেই।শরীরের কিছু অংশ অজান্তেই দৃশ্যমান।ভীর সবকিছু ভুলে যায় তাকে দেখলে।
ক্ষমতা, রক্ত, ব*ন্দুক যুদ্ধ সব অর্থহীন হয়ে যায় এই একটামাত্র মানুষের সামনে।লম্বা লম্বা পা ফেলে টেবিলের কাছে গিয়ে এক গ্লাস পানি তুলে নেয় ।এক নিশ্বাসে খেয়ে ফেলে।তারপর বিছানার দিকে এগিয়ে আসে।রাত অনেক অথচ তার চোখের পাতায় ঘুমের কোনো ছিটেফোঁটাও নেই।তার চোখে তখন অন্য কিছু
একটা অস্থির আগুন।
ভীর ইশায়ার দিকে তাকিয়ে থাকে গভীর দৃষ্টিতে, তারপর তার দিকে ঝুকে আসে,
হঠাৎ শ্বাস নিতে না পেরে ছটফট করে ওঠে ইশায়া।
তার শরীরের নড়াচড়া ভীরের ভেতরের সত্তাকে আরো উসকে দেয়।অজান্তেই সে আরো শক্ত করে চেপে ধরে তাকে।
ইশায়ার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতেই ছেড়ে দেয় ভীর।
ইশায়া হাফাতে থাকে ছাড়া পেয়ে।
ভীর শাড়ির আঁচল ধরতেই ইশায়া এক ঝাটকায় ভীরের হাত সরিয়ে দেয়।
ঘুমঘুম কণ্ঠে, ক্লান্ত আর বিরক্ত স্বরে বলে ওঠে,

___ঘুমাবো আমি… মাথা ব্যথা করছে। তাকাতে পারছি না। সরুন।
___ভীর ঘন ঘন শ্বাস নেয়।একটু থেমে বলে,
একটু জান… তারপর ঘুমাবে।
আবার ইশায়াকে ছুঁতে গেলে ইশায়া পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে।
এই জিনিসটা ভীর সহ্য করতে পারে না।
রাগে দাঁত কিড়মিড় করে ওঠে।কণ্ঠে চাপা গর্জন,
__ইশায়া…
ইশায়া উঠে বসে।চোখে ঘুম, গলায় বিরক্তি আর অভিমান নিয়ে বলে,
___কি সমস্যা? ঘুমাবো বলেছি না?এখন এসেছেন কেনো আমার কাছে?
আগে এসব কথা বলার সময় মনে ছিল না?
অভিমানে ইশায়ার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
ভীর হাত বাড়িয়ে সেই জল মুছে দেয়।
কণ্ঠ নামিয়ে বলে,
___সরি।
এই একটা শব্দে ভীরের অসহায়ত্ব ধরা পড়ে।
ভীর দিশেহারা হয়ে ওঠে নিজের ওপরই তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
__না, সরুন।
ইশায়ার কণ্ঠ কেঁপে ওঠে।
কি করেছি আমি? ভুলে গিয়েছিলাম।আপনি আসছেন এই খুশিতে কিছু মনে ছিল না।
ভীর শান্ত কণ্ঠে বলে,
__নেক্সট এমন যেন না হয়।তুমি অসুস্থ।ওষুধ নিয়মিত খাবে।
নিজেকে সামলাতে পারছে না ভীর তবুও ইশায়াকে কনভিন্স করে যাচ্ছে।কথা বলার মতো সেন্স তার নেই এই মুহূর্তে।হঠাৎ আবার ইশায়ার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াতে ইশায়া ছটফটিয়ে ওঠে।দাঁত বসিয়ে দেয় ছেড়ে দেওয়ার জন্য।
ভীর হঠাৎ ব্যথা পেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
রাগী কণ্ঠে গর্জে ওঠে,

___ইশায়ায়া,এখন বেশি হয়ে যাচ্ছে।আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিও না।
ইশায়াও জেদ ধরে।চোখে প্রতিবাদ,
___মানবো না আমি।
ইশায়ার বারবার প্রত্যাখ্যানে ভীর রেগে যায়,হাতের শিরাগুলো ফুলে ওঠেছে তার
রাগে পাশে থাকা টুল থেকে ফুলদানি তুলে মেঝেতে ছুড়ে মারে।
ভীরের রাগ দেখে ইশায়া ভয় পেয়ে যায়।
ইশায়া পিছিয়ে যেতে চাইলেই ভীর তার হাত চেপে ধরে টেনে আনে নিজের দিকে।
ইশায়া চোখ-মুখ খিচিয়ে নেয়।ভয়ের চাপে বুকটা ধড়ফড় করছে তার,আবার কী করবে এই লোক।
ভীর ঠান্ডা গলায় বলে,
___কি করলে মানবে বলো।
ইশায়া চুপ করে থাকে।কি বলবে সে বুঝতে পারছে না।এই লোকটার মেজাজের কোনো ভরসা নেই সবসময় রাগে ফুঁসতে থাকে।
ভীর তাড়া দিয়ে বলে,
__দ্রুত বলো।টাইম ওয়েস্ট করো না।
ইশায়া বলে,
___ছাড়ুন বলছি।
ভীর হাত ছেড়ে দেয়।
ইশায়া উঠে গিয়ে ড্রেসিং টেবিল থেকে নেইল পলিশ এনে বলে,
___এটা দিয়ে দিন। তাহলেই মানবো।
ভীর নেইল পলিশ হাতে নিয়ে চোখ-মুখ শক্ত করে বলে,
___এই বা*ল কোথায় দেয়?
ইশায়া মুখ ছোট করে দু’হাত এগিয়ে দেয়।নরম কণ্ঠে বলে,

__আঙুলে… এইখানে।
ভীরের ভীষণ বিরক্ত লাগে।কি আজব পরিস্থিতি,
এর চেয়ে তো আগেই ভালো ছিল, যখন এই মেয়েটা কথা বলত না।
ভীর নেইল পলিশটা হাতে নেয়।
দিতে যায় কিন্তু এসব কাজে সে একেবারেই আনাড়ি।
অনেক কষ্টে এক-দুইটা আঙুলে দেয়,কিন্তু পুরো হাতেই ছড়িয়ে যায় রঙ।
ইশায়া হেসে ফেলে।সে লক্ষ্য করে ভীরের ছোট হয়ে যাওয়া মুখ।বারবার ঢোক গেলা,অ্যাডামস অ্যাপেলের ওঠানামা,কিছুই তার দৃষ্টি এড়ায় না।
ভীর আবার চেষ্টা করে।এইবারও হয় না।হঠাৎ মেজাজ হারিয়ে ফেলে সে।রাগে নেইল পলিশের বোতলটা ছুড়ে মারে ড্রেসিং টেবিলের আয়নায়।মুহূর্তেই ঝনঝনিয়ে ভেঙে পড়ে আয়নাটা।
ইশায়া ভয়ে কান চেপে ধরে বলে,
___আল্লাহ!আপনি কি পাগল!
ভীর দাঁতে দাঁত পিষে গর্জে ওঠে,
___চুপ!আর একটা কথা বললে থাপড়ে গালের সব কটা দাঁত ফেলে দেবো, বেয়াদব।
ইশায়া মুহূর্তেই চুপ হয়ে যায়।ভীর আর কথা না বলে ইশায়াকে ধাক্কা দেয়।ইশায়া কষ্ট আর অভিমানে বলে,
এটা ছাড়া আর কি পারেন আপনি খারাপ লোক।
ভীর হিশহিশিয়ে বলে,

___চুপ।
তারপর কথা থেমে যায়।শ্বাসে শ্বাসে, নিঃশব্দ সংঘর্ষে,দু’জনের মাঝখানে মিশে যেতে থাকে রাগ, ভয় সবকিছু।
একে অন্যের মাঝে ডুবে যায় তারা।
ভীরের ভালোবাসার উন্মত্ততা বাড়ে ধীরে ধীরে হিংস্র হয়ে ওঠে সে,
ইশায়া চেঁ*চিয়ে ওঠে।ভীরের বুক ঠেলে তাকে দূরে সরাতে চায়। তার চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।
ভীর কপাল ঠেকিয়ে, ফিসফিস করে বলে,
___Look at me… breathe with me.You’re safe. I’ve got you.Don’t fight it. Let me carry this fire for both of us.
___ইশায়া গোঙিয়ে ওঠে,
ভী…ভীরর…বলতে বলতেই ভীরের গলা খামছে ধরে।
___I don’t love gently,I love like a strom.
ভীর ফিসফিস করে,
ইশায়ার শ্বাস ধীরে আসে।
দীর্ঘ সময় পর ভীর সরে আসে।ইশায়া শুয়ে থাকে, ছাদের দিকে তাকিয়ে শরীরে ক্লান্তি।
ভীর ইশায়াকে উদ্দেশ্য করে বলে,

___কি হলো? ঘুমাও।
তুমি না বলছিলে ঘুমে তাকাতে পারছো না, মাথা ব্যথা করছে।
ভীরের কথায় ইশায়ার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।
মুখে জঘন্য একটা গা*লি আসে কিন্তু নিজেই গিলে নেয়।এই লোকটার সাথে কথা বলাই ভুল।
ইশায়া পাশ থেকে ভীরের একটা টি-শার্ট তুলে নেয়।
ঢিলা কাপড়টা গায়ে চাপায়।টি শার্ট এটা তার হাঁটু সমান হয়।শরীরের চিনচিনে ব্যথায় সে একেবারে শেষ।
কিছু না বলে উঠে ওয়াশরুমে চলে যায় শাওয়ার নিতে।
ভীর তাকিয়ে থাকে। তার এই দেখা যেন তার জন্য কখনোই যথেষ্ট নয়।যত দেখে তত ডুবে যায়।
ভীর উপুড় হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে।চোখ বন্ধ করেও ইশায়ার উপস্থিতি অনুভব করে সে।

___শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে ভীর।দেখে ইশায়া বিছানায় শুয়ে আছে।
ভীরকে দেখে ইশায়া তাকায়।ভীর খালি গায়ে দাঁড়িয়ে ভেজা চুল, শরীর থেকে এখনও পানির ছোঁয়া যায়নি।ইশায়ার চোখ আটকে যায়।সে নিজেই বুঝতে পারে না কখন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করেছে তাকে।চোখ সরাতে পারে না সে এই লোকের থেকে,রাগ ও করতে পারেনা অভিমান ও ভুলে যায়।
ভীর ট্রাউজার তারপর ব্ল্যাক টি-শার্ট পড়ে নেয়।কালো রঙে আরও ভয়ংকর লাগে তাকে।
তারপর ভীর এগিয়ে যায় ইশায়ার কাছে।এক মুহূর্ত দেরি না করে তাকে কোলে তুলে নেয়।হঠাৎ করে কোলে তোলায় ইশায়া ভয় পেয়ে যায়।অবচেতনে ভীরের গলা আঁকড়ে ধরে।
ইশায়া কাঁপা গলায় বলে,

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭০

___কি হয়েছে?
এভাবে কোলে তুললেন কেন?কোথায় যাচ্ছেন এত রাতে?
ভীর শান্ত গলায় বলে,
___তখন না বললেন,একসাথে ডিনার করবেন।
আমার জন্য রান্না করেছেন ।ভুলে গেলেন ম্যাডাম?
ভীরের কথায় ইশায়া অবাক হয়ে যায়।তার চোখ বড় হয়ে ওঠে।মনে আছে এই লোকের ।
কিন্তু সে নিজেই তো ভুলে গিয়েছে।
ভীর ইশায়াকে শক্ত করে ধরে রেখে নিচে নেমে যায়।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭১