Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭১

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭১

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭১
তানিয়া হুসাইন

ভীর ইশায়াকে শক্ত করে ধরে নিচে নেমে যায়।
তার কোলে ইশায়া নীরব, ক্লান্ত, কিন্তু নিরাপদ, সব থেকে নিরাপদ জায়গায় আছে সে।
ইশায়ার নিঃশ্বাস ভীরের বুকে এসে লাগে।
প্যালেসের এই দিকটায় কোনো পুরুষ মানুষের উপস্থিতি নেই।
ভীরের স্পষ্ট নির্দেশ এই অংশে কেউ আসবে না।
জরুরি মিটিং কিংবা মাফিয়া সাম্রাজ্যের যেকো সিদ্ধান্তের জন্য আলাদা স্পেস আছে।
কিন্তু ইশায়া যেখানে থাকে,যেই জায়গায় তার চলাফেরা আছে
সেই দিকটায় সেই সীমানায় কারোর ছায়া পড়াও নিষেধ।
গার্ডরা সবাই থমকে তাকিয়ে থাকে ভীরের দিকে।
চোখে অবাক দৃষ্টি, মুখে চাপা বিস্ময়।

ভীরের এমন আচরণ তাদের কাছে অস্বাভাবিকম
কাঠখোট্টা, অনুভূতিহীন বলে পরিচিত এক মাফিয়া বস,আজ কাউকে কোলে নিয়ে হাঁটছে।বিশ্বাসের বাইরে সবার কাছে এটা।
ভীর ইশায়াকে নিয়ে ডাইনিংয়ের চেয়ারে বসায়।
নিজেও তার পাশে বসে পড়ে।
গার্ডদের খাবার সার্ভ করতে বলতেই…
ইশায়া থামিয়ে দিয়ে বলো।
কাউকে লাগবেনা, আমি করবো সব। রান্না যখন আমি করেছি বাকি কাজ আমি-ই করবো।

__ভীর কিছু বলে না।
নীরবতাই সম্মতির লক্ষন।
ইশায়া উঠে দাঁড়ায়।নিজে হাতে সব কিছু আনতে যায়।
মারিয়া রানিয়া সাহায্য করতে এলে
ইশায়া শান্ত গলায় বলে,
সে একাই করবে।
আর কেউ কিছু বলে না।সবাই আগের জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়।
ঠিক তখন এলিজা এগিয়ে এসে বলে,
__ম্যাম, আপনাকে এগিয়ে দিই আমি?
ইশায়া একটু ভেবে বলে,
___আচ্ছা।
এলিজার মুখটা আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
ইশায়া না করেনি,
কারণ এই মেয়েটাই তাকে রান্নায় সাহায্য করেছিল।
এলিজা হাতে হাতে সব এগিয়ে দিতে দিতে নিচু স্বরে বলে,

__ম্যাম, আপনি বসের ওপর রাগ করবেন না।ওরা বসের কান ভাঙিয়েছে বলেই বস আপনার সঙ্গে এরকম ব্যবহার করেছেন।নাহলে বস আপনাকে খুব ভালোবাসেন। আপনাকে চোখে হারান।আপনার ছোট থেকে ছোট জিনিস নজরে রাখেন তিনি।ওরা যদি এসব কথা না বলত, তাহলে এরকম কিছুই হতো না।
আপনার এত সুন্দর মুহূর্তটাও নষ্ট হতো না।আপনি তো ওষুধ খাননি যদি কিছু হতো আপনার শরীরের কথা ভেবেই রাগ করেছেন।
এলিজার কথাগুলো ইশায়ার মাথার ভেতরে ঘুরতে থাকে।
সে ভাবে হ্যাঁ, ঠিকই তো
আগুন তো লাগিয়েছে তারাই।নাহলে উনি তো এমন করেন না।কই, তার সঙ্গে তো সবসময় ভালোই থাকেন।
একটু রাগি এইটুকুই তো।কিন্তু ভালোতো অনেক বাসেন।
ইশায়া ধীরে বলে,

___হ্যাঁ, ঠিক বলেছো তুমি।
ওদের জন্যই এরকম হয়েছে।
ইশায়ার কথায় এলিজার ঠোঁটে সন্তুষ্ট হাসি খেলে যায়।
এভাবেই ধীরে ধীরে সে ইশায়াকে সবার বিরুদ্ধে নিয়ে যাবে।আর নিজে হয়ে উঠবে তার সবচেয়ে কাছের মানুষ।
____ইশায়া ভীরকে খাবার সার্ভ করে দেয়।চেয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার চোখে অদ্ভুত এক অপেক্ষা,এই মানুষটার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে,এটা দেখার জন্য। সেটাই তার একমাত্র কৌতূহল।
ভীর নাইফ ফর্কের সাহায্যে চিকেন কেটে মুখে তোলে।
ধীর, নিয়ন্ত্রিত ভঙ্গি।মাফিয়া বসের অভ্যাস মতো কোনো তাড়া নেই, কোনো অপ্রয়োজনীয় ভঙ্গি নেই।
ইশায়া নিঃশ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে আছে।
ভীরের কেমন লাগে এটা জানাটাই এই মুহূর্তে তার কাছে সবচেয়ে জরুরি।
ভীর খায়,তারপর চোখ তুলে ইশায়ার দিকে তাকিয়ে বলে,

___তুমি খেতে বসো।
ইশায়া উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
___কেমন হয়েছে?
ভীরের গলা ভারী, সংক্ষিপ্ত,
___ভালো।
এই একটা শব্দেই ইশায়ার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
অজান্তেই সে খুশি হয়ে যায়।তারপর নিজেও খেতে বসে।কেন জানি না এইসব চামচ দিয়ে খেতে তার সুবিধা হয় না।সে হাত দিয়েই খায়।খাওয়ার মাঝেই ইশায়া নিজের প্লেট থেকে ভীরের দিকে খাবার এগিয়ে দেয় নিজে না খেয়ে,এক মুহূর্তের জন্য ভীর তার দিকে তাকায়।চোখে কোনো প্রশ্ন নেই, এরকম কেউ কখনো করেনি তার জন্য,কিছু না বলেই খেয়ে নেয় ভীর।

চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডদের চোখ বড়বড় হয়ে যায়।সবাই যেন এক নতুন ভীরকে দেখছে।এই মাফিয়া বস যাকে তারা বছরের পর বছর দেখছে,এই মানুষটা এখন তাদের কাছে সম্পূর্ণ অচেনা।এতটা বদল তারা নিজেরাই মেনে নিতে পারছে না।সামান্য একটা মেয়ের জন্য মেক্সিকোর মাফিয়ার এমন পরিবর্তন অবিশ্বাস্য।
ঠিক তখনই ইশায়া ভীরকে খাইয়ে দেওয়ার মাঝেই নিকো প্যালেসে প্রবেশ করে।
বাকি সবার জন্য যেখানে কড়া নিয়ম,নিকোর জন্য সেখানে কখনোই কোনো নিয়ম ছিলো না।
ভীরের কাছে সব কিছুর ঊর্ধ্বে নিক।নিকো প্যালেসে ঢুকেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত দেখে থমকে যায়।
অবাক হয়।
কিন্তু নিকোর থেকেও বেশি অবাক হয় ইশায়া।
এই জায়গায় এতদিনে
সে কোনো ছেলেকে দেখেনি।এই ছেলে কোথা থেকে এলো? ইশায়া তাকিয়ে আছে নিকো কাছে আসতেই তার চেহারা স্পষ্ট হয়।আর ঠিক তখনই
নিকোর মুখ দেখেই ইশায়ার মুখে অন্ধকার নেমে আসে।
শরীর কেঁপে ওঠে।
মনে হয় কেউ যেন ছুরি দিয়ে বুকের ভেতর আঁচড় কাটছে।ইশায়ার অস্থির লাগতে শুরু করে।
ভীর নিকোকে দেখে স্বাভাবিক গলায় বলে,

___খেয়েছিস?
নিকো ইশায়ার দিকে তাকিয়েই উত্তর দেয়,
___না।
তাহলে বস। খেয়ে নে।
ভীর গম্ভীর কণ্ঠে বলে।
নিকো বসে।
কিন্তু নিকোকে দেখে ইশায়ার দম আটকে আসে।
সে মাথা চেপে ধরে ইশায়াকে এমন করতে দেখে ভীর ভ্রু কুঁচকে বলে,
___কি হয়েছে? কোনো সমস্যা?
ইশায়া দ্রুত বলে,

__না… ভালো লাগছে না।
আমি ঘরে যাচ্ছি। আপনি খান।
এই বলে ইশায়া উঠে চলে যায়।হঠাৎ এমন ব্যবহারে ভীরের কপালে চিন্তার ভাজ পরে। নিকোকে দেখে এমন রিয়্যাক্ট করলো কেন?
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এলিজা হালকা হাসে।
তার চোখে রহস্যের ঝিলিক।
এভাবেই একে একে সব জট খুলবে।শুধু সময়ের অপেক্ষা।
নিকো খেতে বসতে বসতে বলে,
___তাহলে গাড়ি আর পি*স্তল গিফট করার কারণ এটা?
ভীর কিছু বলে না।
সে চুপচাপ খেতে থাকে।
___ইশায়া রুমে ঢুকেই দরজায় ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।বুকের ভেতরটা হঠাৎ করে কেমন জানি সংকুচিত হয়ে আসে।হাসফাস করে ওঠে সে।মাথাটা আচমকাই প্রচণ্ড ব্যথা করতে শুরু করে।ঠিক যেন ভেতরে কেউ বারবার আঘাত করছে।

চোখ বন্ধ করলেই নিকোর মুখটা ভেসে ওঠে,
চেনা… খুব চেনা… অথচ ভয়ংকরভাবে অস্পষ্ট।
ইশায়া বিছানায় শুয়ে পড়ে।
চুপচাপ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে।একসময় ক্লান্ত শরীর আর অবসন্ন মস্তিষ্ক আর সয় না।ঘুমিয়ে পড়ে ইশায়া।
এইদিকে ভীর নিকোর সঙ্গে আলাপ আলোচনায় মেতে ওঠে।
কিছুক্ষণ পর ভীর নিকোর থেকে বিদায় নেয়।
নিজের রুমে ফিরে এসে দেখে,ইশায়া ঘুমিয়ে গেছে।
ভীর রুমে ঢোকে,দরজা বন্ধ করে । তারপর লাইট অফ করে, অন্ধকারে এগিয়ে গিয়ে বিছানার পাশে বসে।
ইশায়াকে ঠিক করে শুইয়ে দেয়আ।তারপর তাকে বুকে টেনে নিজেও শুয়ে পরে।
ইশায়ার নিঃশ্বাস ভীরের বুক ছুঁয়ে ওঠানামা করে।
এই নিঃশ্বাসই যেন ভীরকে শান্ত করে।কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে যায় ভীর।

___নিক প্যালেসের বার সেকশনে যায়।ড্রিং*ক ঢালে গ্লাসে।
একটার পর একটা চুমুক দেয়।কিছু সময় পর সে নিজের রুমে ফিরে আসে।
ইসাবেলা তখন ফোন ঘাঁটছিল।
নিককে দেখে উঠে বসে।
ইসাবেলাকে উঠতে দেখে নিক বলে,
__ঘুমিয়ে পড়ো, বেবস। আজ মুড নেই।
নিকোর কথায় ইসাবেলা বিরক্ত হয়।
সে সাইডে সরে যায়।মূলত বিছানার মাঝে ছিলো সে তাই নিককে দেখে সরে গিয়েছিলো।

বাংলাদেশ…
রাহি চিৎকার করে কাঁদছে।
___আমি যাবো না! আমি মামনির কাছে থাকবো। আমি যাবো না।রাহির কান্নায় সায়মা রহমানের চোখ ভিজে ওঠে।
জান্নাত বলে ওঠে,
___আরে রাহি… প্লিজ এমন করিস না। খালামণি তোকে নিয়ে যাবে, আবার দিয়ে যাবে।কয়েকদিন যা গিয়ে ঘুরে আয়।বিয়ে দিবেন না তোকে বাবা কথা বলেছেন খালামনির সাথে।তোর বাবার সাথে ও কথা হয়েছে,তাহলে ভয় পাচ্ছিস কেন?
রাহি মাথা নাড়তে নাড়তে আরও জোরে কাঁদে।
__না! আমি ওনার কাছে যাবো না।ওখানে গেলে ওরা আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিবে আমি জানি।
তখন তোমরা কেউ থাকবে না।আমি যাবো না, আমি বিয়ে ও করবো না।
রেহেনা বেগমের মুখ শক্ত হয়ে যায়। কণ্ঠে বিরক্তি
রেহেনা বেগমের,

__এইসব নাটক বন্ধ কর রাহি।তোর বাবা রাগ করবে।সে আমাকে পাঠিয়েছে তোকে নিয়ে যেতে।
আদনান রহমান এগিয়ে এসে শান্ত গলায় বলেন,
__আপা, ও বাচ্চা মানুষ। ভয় পাচ্ছে। জোর করবেন না।
রেহেনা বেগম চোখ রাঙিয়ে তাকায়।
—আমি আমার মেয়েকে নিতে এসেছি। কারো অনুমতি লাগবে না।
আবির ও বোঝায় রেহেনা বেগমকে।
___খালামনি,একটু সময় দিন। ওকে বোঝাতে দিন। ও এমনিতেই অসুস্থ।
রাহি সায়মার আঁচল শক্ত করে ধরে আছে।
—মামনি আমাকে ছেড়ে দিও না!প্লিজ…মা কে বোঝাও আমি যাবো না।
রেহেনা বেগম আর সহ্য করতে পারে না।
সে হঠাৎ রাহির হাত টেনে ধরে।
রাহি চিৎকার করে ওঠে,

___আহ ছাড়ো! আমি যাবো না।রাহির কথা শেষ হওয়ার আগেই তার গালে ঠাসসস করে থাপ্পড় পড়ে।
ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে যায় মূহুর্তেই।রাহি স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে
___রেহেনা! কি করলি এটা তুই।
সায়মা রহমান রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলে।
রেহেনা বেগম শুনেন না তিনি রাহির হাত ছুটিয়ে নেন সায়মা রহমানের হাত থেকে।
তারপর বলে,
আমার মেয়ে আমি নিয়ে যাবো।
এর মাঝে আদ্রিয়ান নেমে আসে উপর থেকে।
রেহেনা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলে,
ও যখন যেতে চাইছে না, ওকে থাকতে দাও।জোর করোনা খালামনি।আর ওর ১৮ বছর হয়ে গেছে।এখন রাহি তার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
রেহেনা বেগম শক্ত গলায় বলেন,

___কোন অধিকারে থাকবে ও এই বাড়িতে। ওর কি পরিচয় আছে এখানে। ওর একটা জীবন আছে ওর ভবিষ্যৎ আছে, ওর বাবা ওর বিয়ে ঠিক করেছে আমারা রাহিকে বিয়ে দিবো।মা হয়ে নিজের চোখে সামনে মেয়ের জীবন এভাবে নষ্ট হতে দিব না আমি।
বলেই রাহিকে চলতে বলে, রাহি ফুপিয়ে বলতে থাকে,
___আমি যাবোনা।কিছুতেই না।
রেহেনা বেগম আবারো ঠাসসস করে থা*প্পড় বসায় রাহির গালে।সবাই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে।
রেহেনা বেগম রাহির হাত ধরে টান দেয় নিয়ে যাওয়ার জন্য।রাহি সাহায্যের জন্য সবার দিকে তাকায়।কিন্তু এইখানে সবাই অসহায় কি করবে তারা।তাদের যে কিছু করার অধিকার নেই।
রেহেনা বেগম রাহিকে নিয়ে দরজার কাছাকাছি আসতেই।আদ্রিয়ান রাহির ওপর হাত টেনে ধরে।
আদ্রিয়ান শক্ত গলায় বলে,

__ওকে ছেড়ে দাও খালামনি।যাবে না ও।
__যাবে।আমি আমার মেয়েকে নিয়েই যাবো এখান থেকে।
আদ্রিয়ান গলা থেকে শব্দ বের হয়না।তবুও বলে,
__কেন করছো এমন তুমি নিজেও জানো ও ভালো থাকবে না। নিজের হাতে নিজের মেয়ের জীবন নষ্ট করো না। ও এখানে ভালো থাকবে, থাকতে দাও ওকে এখানে।
রেহেনা বেগন বলে,
___ও এখানে কোন অধিকার থাকবে আদ্র।
এইভাবে জীবন চলে না, ও না বুঝলেও আমরা তো বুঝি।
আদ্রিয়ানের গলা কাপে,তবুও বহু কষ্টে সে বলে,
__খালামনি আমাকে একটু সময় দাও।
আমি ও… ওকে বিয়ে করবো।তুমি আমাকে শুধু একটু সময় দাও এটুকুই বলবো।
সবার মুখে হাসি ফুটে ওঠে আদ্রিয়ানের কথায়। রাহি ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে।সায়মা রহমান এগিয়ে এসে রাহির হাত ধরে বলে,এখন আর আমি রাহিকে যেতে দিবো না।
আদ্রিয়ান যখন এই কথা বলেছে রাহি এখানেই থাকবে।আমার ছেলের বউ হয়ে।এটাই তার পরিচয় ও আদ্রিয়ানের বউ।মিসেন আদ্রিয়ান রহমান।

রাহি কান্না করতে কররে সায়মা রহমানকে জড়িয়ে ধরে
সায়মা রহমানের এই কথাটায় রাহির বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শান্তির ঢেউ বয়ে যায়।
মুখে কিছু না বললেও, চোখে মুখে লুকোতে পারে না তার খুশি।
কিন্তু একই কথা একই বাক্য আদ্রিয়ানের বুকে যেন বিষের মতো ঢুকে যায়।রাহি এখানেই থাকবে, আমার ছেলের বউ হয়ে।মিসেস আদ্রিয়ান রহমান হয়ে।
এই শব্দগুলো আদ্রিয়ানের মাথার ভেতর বারবার প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।
সে আচমকাই মাথায় হাত চেপে ধরে, যেন এই শব্দগুলো থামাতে চায়।কিন্তু পারছে না।
কানে শুধু বাজছে রাহি আমার আদ্রিয়ানের বউ হবে। মিসেস আদ্রিয়ান রহমান।
চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসে অতীতের একটা দৃশ্য।বিয়ের ডেট ফিক্সড হওয়ার পরের সেই দিনটা,
নিজের রুমে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সাফা।
মাথায় ওড়না তুলে, বউয়ের মতো করে ঘোমটা দিয়ে। মুখে কি হাসি, লজ্জা সবকিছু।চোখে জল আর কণ্ঠের কাঁপুনি ছিলো দৃশ্যমান। সাফা বলেছিল,

___উফফ আদ্র… আমাদের এত বছরের প্রেম অবশেষে পূর্ণতা পেতে চলেছে।আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না।
তারপর নিজেই নিজের নাম বদলে নিয়ে হাসতে হাসতে বলে,আমি সাফা আহমেদ থেকে মিসেস আদ্রিয়ান সাফা রহমান হয়ে যাবো।বলতে বলতেই সাফা ছুটে এসে আদ্রিয়ানকে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে।বুকের সাথে বুক চেপে ধরে বলেছিলো।
___আই লাভ ইউ আদ্র।
তার কণ্ঠে ছিল শিশুর মতো উচ্ছ্বাস আর গভীর বিশ্বাস।সাফা বলে,তোর সাথে কাটানো প্রত্যেকটা মুহূর্ত আমি রূপকথার মতো অনুভব করি। আদ্র এ জীবনে আর চাওয়ার কিছু রইলো না রে।
আমাদের ছোট্ট সংসার হবে,
আমার এখনো বিশ্বাসই হচ্ছে না আমাদের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।
একটু থেমে, চোখ বন্ধ করে সাফা ফিসফিস করে বলে,
আমার মনে হচ্ছে আমি ঘুমোচ্ছি…ঘুম ভাঙলেই যদি স্বপ্নটা ভেঙে যায়!
আদ্রিয়ান তখন সাফার কপালে আলতো করে ভালোবাসার পরশ এঁকে দিয়ে বলে,

___সব সত্যি।আমি তো তোর-ই।এখন শুধু কাগজে কলমে বিয়েটা বাকি।
একটু হেসে, চোখে চোখ রেখে বলে,
__আই লাভ ইউ টু, মেরি জান।
হঠাৎ বর্তমানটা নিষ্ঠুরভাবে ফিরে আসে।
বাইরে আকাশ গর্জন করে ওঠে।প্রচণ্ড বাতাস বইতে শুরু করে চারপাশে।
বিদ্যুৎ চমকায়,ঝড় আসছে।
আদ্রিয়ানের বুকের ভেতরও ঠিক তেমনই এক ঝড় চলছে।
সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াতে পারে না সেখানে।
কিছু না বলে হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
পেছন থেকে সায়মা রহমান ডাক দেয়,
কিন্তু আদ্রিয়ান শোনে না।
ঝড়ের শব্দে, বিদ্যুতের আলোয়, আর ভাঙা হৃদয়ের নিয়ে সে অন্ধকারের মধ্যে হারিয়ে যায়।

__রাহি দেখে আদ্রিয়ানের যাওয়া,সে জানে আদ্রিয়ান এখন কোথায় যাবে।সে বুঝে সব কিছু।
তারপরও এই ভাঙাচোরা মানুষটার জীবনে সে থেকে যেতে চায়। আগলে নিতে চায় তাকে।
রাহি খুশি, আজ সে ভীষন খুশি।তার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পরে।
জান্নাত এসে পিছন থেকে রাহিকে বলে,
কি গো ননদিনী,আমার সংসারে ভাগ বসাতে চলে এসেছো।
রাহি কিছু না বলেই জান্নাতকে জড়িয়ে ধরে।
জান্নাত ও আগলে নেয় তাকে।
সান্তনা দিয়ে বলে,

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭০ (২)

___ভেঙে পড়োনা রাহি।একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। যেভাবে আজ এই অসম্ভবটা সম্ভব হয়েছে, সেই ভাবে একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। সময় সব ঘা শুকিয়ে দেয়। তুমি শুধু ধৈর্য ধরো।এই পরিবারের তোমাকে প্রয়োজন, আদ্রের তোমাকে প্রয়োজন। তুমি শক্ত থাকো।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭১ (২)