সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭২ (২)
তানিয়া হুসাইন
ইশায়ার হঠাৎ এমন অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কারণ ভীর বুঝতে পারছে না।
এই প্রথম তো নয় বহুবার হয়েছে এমন।ভীরের হাজার উগ্র আচরন সহ্য করে নেয় ইশায়া, তাহলে আজ কি হলো।অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কেমন যেন একটা করছে ভীরের,ভয় পাচ্ছে সে।
মাফিয়া জীবনে আসার পর কখনো নিজের জন্য ও ভয় করেনি সে,প্রানের ও তোয়াক্কা করেনি। কিন্তু এখন ইশায়াকে নিয়ে ছোট থেকে ছোট বিষয়ে ও ঘাবড়ে যায় ভীর।
ডাক্তার এনা ইশায়াকে দেখে পরীর মতো মুখটা নিস্তেজ হয়ে আছে।
ভীর একদম পাশে দাঁড়িয়ে চোখ সরাচ্ছে না এক মুহূর্তের জন্যও।
চেকআপ শেষ হতেই এনা বলে,দুর্বলতার কারণে এরকম হয়েছে। শরীরে একটা স্যালাইন দিলে ভালো হবে। আর খাওয়া-দাওয়ার দিকে একটু নজর রাখবে
ইনজেকশনের কথা ওঠলে।
ডা. এনা দ্বিধা করে বলে ওঠে,
__স্যার, এটা তো আরও এক মাস পরে দিলেও হতো।
ভীরের চোখের দৃষ্টি একটুও নড়ল না।
কণ্ঠ শান্ত, ভয়ংকরভাবে স্থির,
___I don’t want to take any risk.And I don’t want her to remember anything.Give it today.
ঘরটা মুহূর্তে আরও ভারী হয়ে ওঠে।
এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা এলিজা মনে মনে হেসে ওঠে।
সে তো জানেএই ইনজেকশনে কিছু হবে না।
আর মাত্র এক মাস।
তারপর ধীরে ধীরে সব সামনে আসবে।ভীরের গড়া এই মিথ্যে সাম্রাজ্যে ফটল ধরবে।
ধস নামবে একদিন নিশ্চয়ই।
ডা. এনা আর কিছু বলার সাহস পায় না।
না চাইতেও তাকে ইনজেকশনটা দিতে হয়,
সে বাধ্য।ইশায়ার দিকে তাকিয়ে বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে তার।চাঁদের মতো সুন্দর একটা মেয়ে,কিন্তু কী ভয়ংকর তার ভাগ্য।ইশায়ার শরীরে ইনজেকশনটা পুশ হতেই ভীরের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে একটা হাসি ফুটে ওঠে।ভেতরে এক অদ্ভুত স্বস্তি।বুকের ওপর থেকে একটা অদৃশ্য চাপ সরে গেছে তার।ভীর চায় ইশায়ার পুরো অস্তিত্ব জুড়ে একমাত্র সে-ই থাকুক।যেটুকু আছে,
যেটুকু বোঝে,যেটুকু পাগলামি করে সব যেন তাকে ঘিরেই।
এই মেয়েটা তাকে ছাড়া আর কিছুই বুঝুক না,এটাই চায় সে।মিথ্যে হলেও তাতে তার কিছু যায় আসে না।
এই মিথ্যেটাকেই সে আঁকড়ে ধরবে।প্রয়োজনে সারাজীবন এভাবেই চলবে।এই সুখ, এই সাজানো সত্য কোনোটার জন্যই তার আফসোস নেই।
এই মেয়েটা তার থাকলেই হলো।আর কিছুই চায় না সে।এক জীবনে তোমার সঙ্গ ছাড়া আর কিছুই চাওয়ার নেই আমার।
এলিজা মনে মনে হিসেব কষে।এই ইনজেকশন সত্য ঢাকতে পারে, মুছে ফেলতে পারে না।সত্য চাপা দেওয়া যায়,ধ্বংস করা যায় না।সময় এলেই, একটা একটা করে ফাঁস হবে সব।ইশায়ার নিথর শরীরের দিকে তাকিয়ে তার ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটে ওঠে।
করুণা নয় এটা ছিল অপেক্ষার হাসি।
ভীর ভাবে সে সব নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।ভাবছে, ওর গড়া এই মিথ্যে পৃথিবীটা চিরকাল থাকবে।কিন্তু সাম্রাজ্য ভাঙে ঠিক তখনই, যখন রাজা নিজেই সবচেয়ে বেশি নিশ্চিন্ত থাকে।
তোমার মিথ্যে খুব সুন্দর ভীর,এলিজা মনে মনে বলে।
কিন্তু সুন্দর জিনিস ভাঙতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে আমার।
রুমটা ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যায়।ভীর ধীরে এগিয়ে আসে।বিছানার পাশে বসে।
আঙুল ছুঁইয়ে দেয় ইশায়ার ঠোঁটে।কণ্ঠ নামানো, ফিসফিস করে বলে,
___কিছু হবে না, কিছু মনে পড়বে না…আমি থাকতে দেবো না অন্য কোন কিছু তোমার মস্তিষ্কে।তার চোখে ভয় নেই আছে শুধু একরকম বিকৃত নিশ্চয়তা।
ভীর ইশায়ার কপালে নিজের কপাল ঠেকায়।
চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নেয়।এই পৃথিবীতে যদি আমার কিছু প্রয়োজন হয় সেটা তুমি।তোকে ছাড়া নিঃস্ব আমি।
____ইশায়াকে রেখেই ভীর বেরিয়ে যায়।কিছু কাজ আছে,কয়েকজনকে ঠিকানা লাগাতে হবে।তারপর জায়গা মতে পৌঁছাতে হবে।আর এই কাজটা সে নিজের হাতেই করতে চায়।ভীর বেরিয়ে যায়।
মধ্যরাতের মেক্সিকো ঘুমিয়ে থাকে না।অন্ধকার রাস্তা, নিঃশব্দ গলি, আর দূরে দূরে জ্বলে থাকা স্ট্রিট লাইট সবকিছুই তার পরিচিত।গাড়ির স্টিয়ারিংয় শক্ত হাতে ঘুড়িয়ে রওনা দেয় গন্তব্যে। চোখে কোনো দ্বিধা নেই, শুধু শীতল সিদ্ধান্ত।সময় গড়াতে থাকে।
গু*লির শব্দ, রক্ত, নিঃশ্বাসের ভার সব পেছনে ফেলে কাজ শেষ করে ফিরতে ফিরতে বেলা গড়িয়ে যায়।ভোর হওয়ার পথে।
প্যালেসের বিশাল গেট পেরিয়ে ভীরের গাড়ি ঢোকে।
এদিকে এলিজা তখন আয়ুষকে প্যালেসের ম্যাপ আর কিছু ইনফরমেশন দেওয়ার জন্য বের হওয়ার রাস্তা খুঁজছিলো।
সবকিছু খুব নিখুঁতভাবে সাজানো ছিল।
গার্ড বদলানোর সময় এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে হবে।
কিন্তু তার আগেই হেডলাইটের আলো পড়ে,
ভীরের গাড়ি।এলিজা সঙ্গে সঙ্গে সরে যায়।
এই সময়ে ভীরকে সে এখানে আশা করেনি।
ভীর গাড়ি থেকে নামতেই এলিজার চোখ আটকে যায় তার দিকে।
রক্ত মাখা শরীর।
শার্টের কলার, হাত, কাঁধ সবখানে র*ক্তের ছাপ।
রাগে ফেটে পড়ে এলিজা।
সে বুঝে যায় তাদের দলের মানুষ মারা পড়েছে।
ভীর উপরে যেতে নিয়েও যায় না।
এই ভেবে যদি ইশায়া জেগে থাকে, তাহলে কী জবাব দিবে?
তাই সে নিজের রুমে না গিয়ে আলাদা রুমে ঢোকে।
প্রথমে শাওয়ার নেয়।
___ইশায়া তখন উঠে বসেছিলো।একটু আগেই উঠেছে সে।রুমে চোখ বুলিয়ে ভীরকে কোথাও পায়নি।বুকের ভেতর অজানা একটা অস্থিরতা জমে উঠে ইশায়ার ভীর কাছে না থাকলে।
সেই সময় ভীর রুমে ঢুকে।
ভীর ইশায়াকে বসে থাকতে দেখে থেমে যায়।দরজাটা লাগিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে,
___শরীর ঠিক আছে এখন?
ইশায়া কিছু বলে না।
শুধু ভীরের দিকে তাকিয়ে আছে নীরব দৃষ্টিতে।
চোখের দৃষ্টিটা অদ্ভুত ভীর সেটা বুঝতে পারে না।
ইশায়াকে চুপ থাকতে দেখে ভীর আবার জিজ্ঞেস করে।
__কি হয়েছে!ভালো লাগছে এখন??
কিন্তু ইশায়া তখনো চুপ।
ভীর বুঝতে পারে না হঠাৎ কী হয়েছে এরকম চুপচাপ তো সে থাকে না।আবার ভাবে ইঞ্জেকশনের কোনো প্রভাব নাকি।
হঠাৎ ইশায়া বলে ওঠে,
__আপনি কোথায় ছিলেন?
শাওয়ার নিয়েছেন কেনো?
ভীর একটু থেমে বলে,
___এমনেই। কাজ ছিলো তাই।
ইশায়ার কণ্ঠ আরও শক্ত হয়,
___কি কাজ যে এতো রাতে শাওয়ার নিতে হয়?
ভীর কী বলবে বুঝে পায় না।
সত্য বলার উপায় নেই, মিথ্যা বলার ইচ্ছে নেইইশায়া উঠে দাঁড়ায়।মাথা ঘুরছে তার।আর ভেতরে চলছে উল্টা পালটা ভাবনা।যেগুলো এলিজাই ঢুকায় তার ভেতরে।
অসুস্থতার মাঝে ইশায়াকে এতাও উত্তেজিত হতে দেখে,ভীর এগিয়ে আসে ইশায়াকে শান্ত করতে।
কিন্তু ইশায়া চিৎকার করে বলে ওঠে,
__কার সাথে ছিলেন বলেন?
ইশায়ার কথায় ভীর ভ্রু কুঁচকায়।
___কি বলছো এগুলো?
ইশায়া থামে না,
___মাঝ রাতে আবার গোসল করার কারণ কি তাহলে?
ভীর শান্ত গলায় বলে,
___এমনেই… গরম লাগছিলো।
কিন্তু ইশায়া মানে না।
কণ্ঠ কেঁপে ওঠে তার কথা বলার শক্তি পাচ্ছে না সে ,
___অন্য মেয়েদের সাথে সম্পর্ক আপনার তাইতো।বাইরে মেয়ে নিয়ে ঘুরেন,
এজন্যই তো বাইরে বাইরে থাকেন সবসময়! কাজ দেখান আমাকে।
ইশায়া চিৎকার করতে থাকে।কান্না জুড়ে দেয়।
ইশায়ার হঠাৎ এমন আচরন এর কারন ভীর বুঝতে পারছেনা।সে ইশায়াকে শান্ত করার চেষ্টা করে।ভীর বোঝাতে যায়,
কিন্তু ইশায়া বুঝতে চায় না।
ভীর কাছে আসলে সে দূরে সরে যায়।
কান্না করতে করতে ইশায়া শ্বাস নিতে পারছে না,হাপাচ্ছে।
ভীর আর পারে না,ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় তার।
সে দুহাতে ইশায়াকে আকড়ে ধরে,শান্ত করার চেষ্টা করে।কিন্তু ইশায়া শুনার নামেই নেই।ভীর এবার রেগে যায়।গলা ভারী হয়ে ওঠে।
___আবার শরীর খারাপ করলে একেবারে মেরে পুতে ফেলবো, দেখিস!
বার বার বলছি, উল্টাপাল্টা কথা বলছিস কেনো?
ইশায়া ফোঁপাতে ফোঁপাতে একই প্রশ্ন করে,
___কেনো গোসল করেছেন?
ভীর বিরক্ত হয়ে বলে,
___তুই কেনো করেছিস?
আমি আগে করেছি।আপনি এখন কেনো করেছেন?
___গরম লাগছিলো আমার তাই।
ইশায়া মানে না।চোখ ভেজা, কাপা কাপা কন্ঠে বলে,
___আমাকে ছুঁয়ে বলুন…
আপনার আর কারোর সাথে কিছু নেই।
ভীর বাধ্য হয়।ইশায়াকে শান্ত করতে এ ছাড়া আর উপায় নেই।
ভীর ইশায়াকে ছুঁয়ে বলে,
___তুমি ব্যতীতআর কারোর সাথেই আমার কিছু নেই।
ইশায়াকে ছুঁয়ে বলায় ইশায়া বিশ্বাস করে।আর কিছু বলে না।চুপ হয়ে যায়।শ্বাস স্বাভাবিক হয়।
ইশায়া ধীরে ধীরে শান্ত হয়।
কিছুসময় পর রুম থেকে বের হতে উদ্যত হলে
ভীর সঙ্গে সঙ্গে ধমকে ওঠে,
___পা বেশি বড় হয়ে গেছে।
না করেছি না রুম থেকে বের হবি না।এক কথা কয় বার বলতে হয়।
ইশায়া বিরক্ত কণ্ঠে বলে,
__আমার ক্ষিদে লাগছে।খাবো কিছু।
মারিয়া এলেনাকে বলো।
ইশায়া সঙ্গে সঙ্গে না করে দেয়।
___না।এলিজা বানিয়ে দেবে।রামেন খাবো,ঝাল করে।
ভীর সরাসরি না করে দেয়।
এখন এসব খাওয়া ঠিক না।
কিন্তু ইশায়া মানে না।সে খাবেই।কিছুক্ষণ পর ভীর বিরক্ত হয়ে বলে,
___ঠিক আছে।তোর যেতে হবে না।
গার্ড গিয়ে বলবে,
ইশায়া ভীরের কথা শোনে।
কিছুক্ষণ পর দরজায় নক হয়।এলিজা আসে।
ইশায়ার হাতে রামেন দিয়ে।চুপচাপ চলে যায়।মাথাও তোলে না সে।
___ভীর ব্যালকনিতে।
একটা জরুরি কল এটেন্ড করতে গেছে।রুমের ভেতর
ইশায়া ঝালে ফোঁপাচ্ছে
আর রামেন খাচ্ছে।
ভীর ফিরে এসে দৃশ্যটা দেখে বিরক্ত হয়ে বলে,
___সহ্য যখন করতে পারিস না,তাহলে এগুলো খাস কেনো?
ইশায়া শোনে না। খেয়েই যাচ্ছে।ঝালের তাপে
ইশায়ার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।ইশায়ার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে দেখে ভীর আর সহ্য করতে পারে না।সে উঠে গিয়ে
বাটিটা ইশায়ার হাত থেকে টেনে নিয়ে ছুড়ে ফেলে।
তারপর হঠাৎই
ইশায়ার ঝালে লাল হয়ে যাওয়া অধরে নিজের অধর ছোঁয়ায়।ঝালটুকু শুষে নিতে থাকে।ইশায়া প্রথমে ছটফট করে।ভীর তখন তার উপর উঠে আসে।তার পেটের ওপর ভর দিয়েদুহাত ইশায়ার মাথার উপর চেপে ধরে।নড়াচড়া করতে না পেরে ধীরে ধীরে
ইশায়া শান্ত হয়ে যায়।
প্রায় দশ মিনিট পর ভীর সরে এসে কঠিন গলায় বলে,
___আর যদি এগুলো খেতে দেখেছি তো তোর খবর আছে।
ইশায়া মুখ বাঁকায়।ঠোঁট মুছতে মুছতে বলে,
___অসভ্য লোক।
ভীরকে ঝাড়তে ঝাড়তে ইশায়া শেষে বিছানায় শুয়ে পড়ে।কিছুক্ষণ পর ভীরও এসে বিছানায় ওঠে। গায়ের টি শার্ট খুলে সাইডে রেখে ইশায়াকে টেনে নেয় নিজের কাছে।তারপর চুপচাপ শুয়ে পড়ে,ইশায়ার গলায় নাক ঘষতে ঘষতে চোখ বন্ধ করে নেয়।এই নীরবতার মাঝেই
ইশায়া হঠাৎ বলে ওঠে,
___আমাকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাবেন।
ইশায়ার কথায় ভীরের মাত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া চোখ
মুহূর্তেই খুলে যায়।মনে পড়ে যায় গুয়াতেমালার কাহিনি।সেই মূহুর্তগুলো
ভীর শক্ত গলায় বলে,
—না।
ইশায়া সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে,
___কেনো?
আমাকে একটু ঘুরতে নিয়ে যান।আমার আর ভালো লাগছে না।আমি একটু বাইরে যেতে চাই।খোলা আকাশের নিচে ঘুড়তে চাই,রাস্তায় হাটতে চাই।
ভীরের কণ্ঠ আরও কঠিন হয়।
___এই প্যালেসের সীমানার বাইরে তোমার পা রাখার অনুমতি নেই।এখানেই থাকতে হবে তোমাকে আজীবন আমার সাথে।
ইশায়া রাগী গলায় বলে,
___কেনো?কেনো?কেনো?আমার কোনো স্বাধীনতা নেই?
ভীর এক মুহূর্তও দেরি না করে বলে,
___না, নেই।চুপ থাকো।
ঘুমাবো আমি,এই কথা বলেই ভীর আবার ইশায়ার হাত টেনে ধরে ঘুমানোর জন্য।কিন্তু ইশায়া আর সহ্য করে না।সে উঠে বসে। অন্ধকারের দেওয়াল যেন
আস্তে আস্তে ভেঙে যেতে শুরু করেছে।
ভীর বিরক্ত হয়।গম্ভীর গলায় বলে,
___তুমি আজ একটু বেশি করে ফেলছো না?
আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছ?
ইশায়া গলা চড়িয়ে বলে,
___নিচ্ছি।
আমি বাইরে যাবো।
ভীর উঠে বসে। রুমের লাইট অন করে দেয়।
তারপর চিৎকার করে বলে,
—যা।কিভাবে যাবি, যা।
কত ক্ষমতা তোর, আমি দেখবো।এই প্যালেসের বাইরে পা রেখে দেখা।
তাহলে মানবো আমি তোর ক্ষমতা।
তার গলা পুরো রুম কাঁপিয়ে তুলে,
—উঠ!
ইশায়া মুখ ছোট হয়ে যায়।
আর কিছু বলে না ইশায়া।
চুপচাপ শুয়ে পড়ে।
ভীর ধীরে ধীরে নিজেকে ঠান্ডা করে।কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে গিয়ে লাইট অফ করে।
তারপর বিছানায় শুয়ে পড়ে।
চোখের উপর এক হাত রেখে।
____রুমের পর্দার ফাঁক গলে ভোরের আলো ঢুকছে।
ভীরের ঘুম ভাঙে ফোনের শব্দে। আজ তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।অ*স্ত্রের ডিল।
ভীর উঠে ফ্রেশ হয়।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকায়।
উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণ চেহারা।
চোয়ালের রেখা শক্ত, স্পষ্ট।
ঘাড় সমান করে কাটা চুল গুলো ঠিক করে।চাপ দাড়ি যেটা তার মুখে একধরনের নিষ্ঠুর পরিণত সৌন্দর্য এনে দিয়েছে।
ভীর কালো শার্ট, আদ গ্রে ক্যালারের স্যুট পরে।
হাতে ঘড়ি সুইস, প্লাটিনামের ফ্রেম, কোটি টাকার বেশি দাম।আঙুলে সিগনেট রিং তার সাম্রাজ্যের প্রতীক।আর একটা তার মায়ের দেওয়া রিং।
ইশায়া অনেক আগেই উঠে পরে।ভীর কোথাও গেলে সে নিজেই তার সবকিছু গুছিয়ে দেয়,একেবারে হাতের কাছে রাখবে।শু টা পর্যন্ত সে নিজের হাতে পড়িয়ে দেয়।
আর কোথায় যাচ্ছে, কেনো যাচ্ছে, কখন আসবে
হাজারটা প্রশ্ন তো আছেই।ভীর বেরিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সারাক্ষণ তার পিছে পিছে ঘুরঘুর করবে আর এটা ওটা জিজ্ঞেস করবে।
কিন্তু আজ ইশায়া এখনো ঘুমে।ভীর রেডি হচ্ছে,আর বার বার ঘুরে ঘুরে ইশায়াকে দেখছে।সে উঠছে কি না।
আবার তার মাথায় আসে
কাল ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে।এর অনেক সাইড এফেক্ট থাকে।ঘুম বেশি আসে।হয়তো এজন্যই।
ভীর সব ঠিক করে নেয়।
বের হওয়ার সময় ইশায়ার কাছে যায়।ঝুকে ইশায়ার কপালে আলতো করে চুমু খায়।তার গালে আদুরে হাত বুলিয়ে দেয়।তারপর
নিজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে।ডিলের জায়গাটা শহরের বাইরে।পুরনো ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন।চারপাশে ভীরের লোক,স্না*ইপার পজিশনে, ছায়ার মধ্যে।
অন্য গ্যাং এর গাড়িগুলো এসে থামে।
ডিল শুরু হয় কোনো কথা না বাড়িয়ে।ভীরের লোকেরা কন্টেইনার খুলে।
ভেতরে আধুনিক অ*স্ত্র
অ্যা*সল্ট রা*ইফেল, স্না*ইপার, অটোমেটিক পি*স্তল।সব নতুন, সিরিয়াল ক্লিন।সব তাদের হাতে হ্যান্ডওভার করা হয়।
অপর পক্ষ যাচাই করে।
মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।
তারপর কালো কেসের পর কেস খুলে যায়।
২৮০ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০০০ কোটির কাছাকাছি।
ডিয়েগো সব বুঝে নেয়।
ডলার গুনে নেওয়া হয়।
কাগজের গন্ধে চারপাশ ভারী হয়ে ওঠে।
____এদিকে ভীর বাইরে থাকলেও হাজার ব্যস্ততায় ও ইশায়ার খবর নেয়।
মারিয়া এলেনাকে কয়েকবার ফোন দিলে সে জানায় ইশায়া এখনো উঠে নি।
পরে আর ভীর ব্যস্ত হয়ে যায়।
সব কিছু শেষ হওয়ার পর আবার ফোন দিলে,
মারিয়া এলেনা জানায়।
___ম্যাম উঠেছেন।
তাকে ফোন দাও।
মারিয়া এলেনা ইশায়াকে ফোন দিলে ইশায়া বলে,
___আমার মাথা ব্যাথা করছে,এখন কথা বলতে পারবো না।
ফোনের অপাশ থেকে ইশায়ার সব কথাই ভীর শুনে।রাগে তার চোয়াল শক্ত হয়।
মারিয়া এলেনা বার বার বললেও ইশায়া তার কথা থেকে নড়ে না।
এদিকে ভীরের প্রথমে রাগ উঠলেও পরে বুঝে ইশায়ার অভিমান করার পেছনের কারন কি।
তারপর সে ভাবে সেদিনের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মূহুর্ত তার জীবনে আর ফিরে আসতে দিবে না।
আর ইশায়া তো আগের মতো নেই।
এখন পরিস্থিতি পুরোটাই ভিন্ন।আর ওইদিন সেতো ছিলো না এজন্য-ই এমন হয়েছে।
ভীর কিছু একটা ভাবে।
তারপর নিককে ফোন দিয়ে কিছু একটা বলে।
___এদিকে ইশায়ার রুমে ভালো লাগছিলো না দেখে সে নিচে যায় এলিজার কাছে।
এলিজার সাথে গল্প করতে তার ভালো লাগে।
আর এইখানে সব রোবট কেউ তার সাথে গল্প করে না।
ইশায়া নিচে গিয়ে এলিজাকে পায় কিচেনে।
ওইখানেই যায়।তারপর তার সাথে গল্প করে।
হঠাৎ ওই মূহুর্তে ইশায়ার শরীর খারাপ করা শুরু করে। বমি আসতে নিলেই সে দৌড়ে বেসিনের কাছে যায়।
ইশায়াকে এভাবে হঠাৎ বমি করতে দেখে এলিজার সন্দেহ হয়।সে এগিয়ে যায় ইশায়ার কাছে তাকে পানি এগিয়ে দেয়।
ইশায়া একটু বসে। খারাপ লাগছে তার।
ইশায়া মারিয়া এলেনাকে ডাকতে বললে,
এলিজা ঘাবড়ে যায় সে বলে,
__ম্যাম কালকে যে ঝাল খেয়েছেন বেশি রাতে এজন্য-ই হয়তো বমি হয়েছে আপনি চিন্তা করবেন না এটা কিছু না।আমি আপনাকে এক্ষুনি একটা জিনিস বানিয়ে দিচ্ছি ঠিক হয়ে যাবে।
এলিজার কথায় ইশায়া ও বলে,
সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭২
__হ্যাঁ কাল রাতে যে রামেন খেলাম,ওটা বেশি ঝাল ছিলো।
এলিজা ইশায়াকে কফি বানিয়ে দেয়।
এটা সেটা নিয়ে কথা বলে,
এলিজা ইশায়ার ছোটবেলা,বাবা-মা এগুলো নিয়ে অনেক প্রশ্ন করে প্রতিটা প্রশ্নে ইশায়া কেমন চুপ হয়ে যায়।
আর এলিজা সে তো ইশায়ার মনে শুধু একটা একটা করে প্রশ্ন ঢুকিয়ে দিচ্ছে।
