Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৭
তানিয়া হুসাইন

সময় গড়িয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এখনো কোনো খোঁজ নেই।
ইশায়ার মা সায়মা রহমান ছটফট করছেন, বারবার ফোনে ডায়াল করছেন, কিন্তু লাইন কেটে যাচ্ছে।
__কোথায় গেল আমার মেয়েগুলো,
এতো দেরি করার তো কথা না।
__ইশায়ার বাবা,আদনান রহমান, ঠোঁট চেপে ধরে বসে আছেন। তার ভেতরে ভয় কাজ করলেও তিনি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন।
সায়মা, দুশ্চিন্তা কোরো না। হয়তো পার্লারে বেশি সময় লাগছে।
___কিন্তু মায়ের মন মানতে তো চায় না।
তার ভেতর ছটফট করছে।
একবার ফোন ধরুক আজ ও,
ওর খবর আছে।
ইশায়া ফোন ধরছে না কেন?”

____এদিকে সাফার বাবা-মা’র অবস্থাও তেমনই।
___ফারজানা আহমেদ কাঁপা গলায় তার স্বামী কামরুল আহমেদের দিকে তাকিয়ে বললেন,
সাফা তো এমন নয়, ও সময়মতো ফোন করে,
কোন সমস্যা হলেও জানায়!এত দেরি করার কথা না।
__কামরুল আহমেদও অস্থির হয়ে পড়েন,
তার মুঠোফোন থেকে একের পর এক কল দিতে লাগলেন।
____আদ্রিয়ানের এখন ভয় হতে শুরু করে।
সে আর এক মুহূর্তও দেরি করেনা।
বেরিয়ে যেতে নেয়।
___আবির আদ্রিয়ানকে শান্তনা দিতে বলে,
হতে পারে পার্লারে বেশি সময় নিচ্ছে। তুই চিন্তা করিস না, আমি যাচ্ছি পার্লারের দিকে।
___আদ্রিয়ান শান্ত গলায় বলে,
আমিও যাচ্ছি, একসাথে বেরোবো!
দুজনেই দ্রুত বের হয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো।

___তারা যখন পার্লারের দিকে যাচ্ছিলো,
হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে এত মানুষের ভিড় দেখে ওরা গাড়ি থামায়।
তখনই দেখতে পায় পুরো রাস্তা অস্বাভাবিকভাবে ব্লক হয়ে আছে।
চারদিকে মানুষের জটলা।
___আদ্রিয়ানের ভেতরটা ধুকপুক করছে এক অজানা ভয়ে।
_আবির তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে নামে।
তারপর সামনে থাকা মানুষদের কে উদ্দেশ্য করে বলে,
–কি হয়েছে এখানে?
—আদ্রিয়ান ও গাড়ির দরজা ঠেলে বের হয়ে এলো,
দুজনই জটলা সরিয়ে সামনে এগিয়ে আসে,
__তখনই সামনে যা দেখলো, তাতে তাদের শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।
রাস্তার মাঝে, রক্তের দাগে ভিজে থাকা এক নিথর দেহ।

___ড্রাইভার কাকু!
আদ্রিয়ান চিৎকার করে ওঠে।
__আদ্রিয়ান দৌড়ে গেলো, কিন্তু তখনই তার গলা শুকিয়ে যায় এই অবস্থা দেখে।
__তার চোখ খোলা, কিন্তু সেই চোখে আর কোনো প্রাণ নেই।
____আবির থমকে গেলো।
তার বোন কোথায়।
সে ও কি,না… না… এটা হতে পারে না!”
___আদ্রিয়ান ড্রাইভারের পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখে অনেক গুলো মিসড কল।
তার গলা কাঁপছে।
কোন রকমে আবিরকে বলে,
ভাই, ইশায়া আর সাফা,
ওরা কোথায়?”

___আবির চারদিকে তাকিয়ে দেখলো, আশেপাশে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে,
পুলিশ এসে ড্রাইভার এর বডি নিয়ে যায়,
কিন্তু তাদের কোথাও ইশায়া বা সাফাকে পায় না।
তার মাথার ভেতর একটা শূন্যতা তৈরি হলো।
পুলিশকে সব জানানো হয়।

নিখোঁজ দুই মেয়ে, ভেঙে পড়া পরিবার,
খবরটা যেন আগুনের মতো চারদিকে ছড়িয়ে গেলো।
___সায়মা রহমান কান্নায় ভেঙে পড়েন,
আমার মেয়ে,আমার ইশু কোথায়?
___ফারজানা আহমেদ নিচে বসে আছে, তার মুখ ফ্যাকাশে।
কি হলো এসব।
আমার মেয়ে আমার মেয়ে আজ কত খুশি ছিল,
বলে আহাজারি করতে লাগলেন।
ও আল্লাহ আমার মেয়ের এই সুখের দিনে তুমি কি করলে।
বলে আহাজারি করতে থাকেন।
___আদনান রহমান ও কামরুল আহমেদ পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে লাগলেন, কিন্তু কোনো উপায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

রুমটা আধো অন্ধকার। বিশাল একটা ডেস্ক, পাশে একটা দামি সিগারেটের প্যাকেট রাখা।
একপাশে একটা স্ফটিকের গ্লাসে হুইস্কি, আর পাশে একটা ছুরি রাখা আছে—যেন শখের বসে কেউ খেলার জন্য রেখেছে।
___ভীর চেয়ারে বসে আছে।একহাতে সিগারেটের, অন্য হাতে একটা ছুরি ঘুরাচ্ছে আঙুলের ফাঁকে।
তার চোখের সামনে কিছু কাগজপত্র ছড়ানো।
কিন্তু সে কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারছে না।
__তার মাথার ভেতর ধাক্কা দিচ্ছে একটা অদ্ভুত অনুভূতি।
সে কি করছে,
সে কি ঠিক করছে?
তার কি এটা করা উচিত?
এসব ভাবনাই চলছে।
____হঠাৎ দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকে নিকো।
সে একটা সিগারেট ধরিয়ে টেবিলের কোণায় ঠেস দিয়ে দাঁড়ায়।
____তোমার কি প্ল্যান ভাই? এতো ঝামেলা করার কি দরকার ছিলো?
নিউজ ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে।
___ভীর চুপ।
___নিকো আরেকটু সামনে এগিয়ে বলে,
মেয়ে দুটোকে চালান করে দিবে? না কি প্লেয়ারদের হাতে তুলে দিবে?
কিন্তু প্রথমে আমার…
নিকো কথাটা শেষ করতে পারেনি।

___ভীরের চোখ ধীরে ধীরে উঠলো।
একটা ভয়ংকর অগ্নিশিখা জ্বলছে সেখানে।
সে সোজা হয়ে বসল।
তার কণ্ঠ ধাতব ঠান্ডা বরফের মতো,
___আমি ওকে এনেছি। ও আমার কাছে থাকবে।
___Next time if you talk about her like this, I will rip your tongue out and feed it to the dogs.”
__নিকো চুপ হয়ে গেলো।
___ভীর আর কিছু না বলে ছুরিটা টেবিলে গেঁথে দেয়।
রাগ উঠে যায় তার নিকোর কথায়।
____ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ে।
ডিয়েগো ভেতরে ঢোকে, হাতে একটা ফাইল।
সে ওটা ভীরের দিকে বাড়িয়ে দেয়।
_____ভীর ফাইলটা নিয়ে খুলে দেখে, তারপর একটা বাঁকা হাসি দেয়।
সে জানে না সে কি করছে।
সে শুধু তার ইচ্ছার পিছনে ছুটছে।
এবং সেটা কি ভালো, নাকি ভয়ংকর কিছু হতে চলেছে সেটা তার নিজেরও জানা নেই।
উঠে দাঁড়ায় ভীর।

ঘরটা ছোট, ধূসর রঙের দেয়াল।
একটা মাত্র বাতি জ্বলছে, সেটাও টিমটিমে, যেন আলো না দিয়ে বরং পরিবেশটাকে আরও আতঙ্কজনক করে তুলেছে।
ঘরের কোণে সেঁধিয়ে বসে আছে ইশায়া আর সাফা।
ইশায়া অনবরত কাঁদছে, পুরো শরীর কাঁপছে ভয়ে।
সাফার চোখ লাল হয়ে গেছে, ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। কিন্তু এখনো সে শক্ত করে বসে আছে।
তার চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু আটকে রেখেছে, কারণ এখন কাঁদার সময় না।
তার মাথায় বারবার ভেসে আসছে তার বাবা-মা, আর আদ্রিয়ানের মুখ।
কী করছে আদ্রিয়ান এখন? নিশ্চয়ই পুরো শহর উল্টে ফেলছে তাদের খুঁজতে!
কিন্তু আদ্রিয়ান কি পারবে তাদের নাগাল পেতে?

___ভাবতেই হাহাকার করে ওঠে সাফার বুক।
কালকে রাতের কথা।
আজকে দুপুরে ও আদ্রিয়ানের সিক্ত স্পর্শ।
তার ভালোবাসা।
আজকে তাদের এত বড় একটা দিন।
কি থেকে কি হয়ে গেলো।
____ইশু, নিজেকে শক্ত কর। শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়তে হবে আমাদের। হাল ছাড়বি না।
সাফা জোর দেয় ইশায়াকে।
সাফার কণ্ঠে দৃঢ়তা,
কিন্তু ইশায়া আরও বেশি কুঁকড়ে যায়।
___আমি পারবো না আপু… আমি চাই না এখানে থাকতে! আমি মা-বাবার কাছে যাবো! প্লিজ, কিছু করো!
____সাফা তার হাত শক্ত করে ধরে, কাঁপা কণ্ঠে বলে, কিছু করতে হলে আমাদের মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে। কাঁদলে কিছুই হবে না। ভয় পেলে ওরা জিতবে।
___কিন্তু ইশায়ার কান্না থামে না।
ওর শরীর ঠান্ডা হয়ে আসছে, হাত-পা অবশ লাগছে।

ঠিক তখনই….
দরজাটা খুললো,
একটা ধাতব ঠকঠক শব্দ।
ঘরের ভেতর কেমন জানি এক নিস্তব্ধতা নেমে এলো।
___ইশায়া আঁতকে উঠে সাফার দিকে সরে গেলো।
ঝাপটে ধরে সাফাকে।
সাফা আগলে নেয় ইশায়াকে দুই হাতে।
___ইশায়ার হৃদস্পন্দন দ্রুত চলছে,
হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।
___সাফার বুকের ভেতরটাও ধক করে উঠলো, কিন্তু সে নিজেকে সামলে নেয়।
তাকে দুর্বল হলে চলবে না, ইশায়াকে বাঁচাতে হবে, আজকে তার জন্যই ইশায়া বিপদে পড়েছে।
____আলো এসে ঢুকলো ঘরের ভেতরে, আর প্রথম যে ব্যক্তিটা ঢুকলো, তার অন্ধকারমাখা দৃষ্টি এক মুহূর্তে সমস্ত পরিবেশ জমাট করে ফেললো।

____ভীর।
খোলা শার্টের বোতাম, শক্ত পেশীবহুল শরীর, অদ্ভুত নিস্তব্ধতা যার মুখ জুড়ে।
সে ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকলো, যেন সে পুরো জায়গাটার মালিক।
___তার পিছনে নিকো, ডিয়েগো, আর কয়েকজন গার্ড ঢুকলো, কয়েকজন নারী দেহরক্ষীও ছিলো সাথে।
ভীর একবারও পেছনে তাকালো না।
সে ধীর পায়ে গিয়ে একটা চেয়ারে বসলো, হেলান দিয়ে দু’পা ছড়িয়ে দিলো সামনে।
তার দুই হাতের আঙুল একটার উপর একটা চেপে ধরলো।
তারপর মুখ তুলে তাকালো ইশায়ার দিকে।
___সাফা নামের যে একজন মানুষ এখানে আছে সেদিকে ভীরের লক্ষ্য নেই
___তার চোখে ভয়ানক কিছু খেলা করছিলো।
___ কেমন লাগছে এখানে?”
তার গলা গভীর, কন্ঠে বরফের মতো ঠান্ডা এক ঝাঁজ।
___ইশায়া কোনো উত্তর দিলো না।
ওর ঠোঁট কাঁপছে, পুরো শরীর জমে গেছে ভয়ে।
___তোমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা হয়নি, তাই না?
ভীর নিচু গলায় বলে।

__নিকো হেসে উঠে,
ভালো ব্যবহার?
ওদের তো কপাল ভালো, এখনো শ্বাস নিতে পারছে!
___সাফার মুখ কঠিন হয়ে গেলো।
____কেন আমাদের এনেছেন এখানে?
___ভীর ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি টানলো।
কিছু কাজ আছে। আমি কিছু চাই, তোমরা সেটা দিয়ে দিলেই হবে।
____সে পেপারটা বের করলো, যেটা ডিয়েগো ওকে দিয়েছে।
তারপর পেপারটা ইশায়ার দিকে ছুঁড়ে দিলো।

__”সাইন করো।”
___ইশায়া নড়েনা।
ভীর শক্ত গলায় বলে,
___তুলো ওটা।
ইশায়া কাঁপা কাঁপা হাতে পেপারটা তুললো।
___এই পেপারে কী লেখা?”
____ভীর গাঢ় কণ্ঠে বললো,
তোমার নতুন জীবন শুরু হওয়ার ঘোষণা।
সাইন করো, ফাস্ট!
___ইশায়া চুপ।
যার মানে সে করবেনা।
___ভীর শক্ত গলায় বলে,
না করলে,
সে বন্দুক বের করলো।
সাফা চিৎকার করে বলে,
__ও কোন কিছুতে সাইন করবে না।
সাফা ইশায়ার হাত থেকে কাগজটা কাড়তে নিলে,
__ নিকো তখনই ওর চুল ধরে টেনে তুললো।
তোমার অনেক কথা হয়ে গেছে, প্রিন্সেস। এবার চুপ থাকো।

___সাফা ব্যথায় ছটফট করলো,
কিন্তু সে তবুও চিৎকার করে বলে,
ইশু, কিছুতেই সাইন করবি না! মরলে মরবো, কিন্তু এদের কাছে বিক্রি হবো না!
____ভীর বিরক্ত হলো।
তার চোখের রং আরও গাঢ় হয়ে গেলো।
____তুমি বেশি কথা বলছো।
আমার বেশি কথা পছন্দ না।
সে বন্দুকের নল সাফার কপালে ঠেকালো।
ঘরের ভেতর শীতল বাতাস বইলো।
___সাইন না করলে,
____ইশায়ার ড্রাউভার কাকুর কথা মনে হয়ে যায়।
যদি ড্রাইভার কাকুর মতো আপুকেওও
নায়ায়ায়াহ!
___এক…
ইশায়ার চোখ ফেটে কান্না আসছে।
__দুই…
সায়মা রহমানের মুখটা ভেসে এলো ওর চোখের সামনে।
___ভীর ট্রিগার চেপে ধরে,
তিন—

___ইশায়া দ্রুত বলে,
আমি সাইন করবো!
করবো চিৎকার করে বলে ইশায়া।
__সবার দৃষ্টি ঘুরে গেলো ইশায়ার দিকে।
তার গা শিউরে উঠছে, হাত কাঁপছে, তবুও সে পেপারটা ধরলো।
তার চোখ দিয়ে পানি ঝরছে, হাত দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে কলমটা তুলে নিলো।
___Good girl.
ভীরের ঠোঁটে এক অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠলো।
____ঠিক সেই মুহূর্তে, সাফা হাত ছাড়িয়ে নেয় বহু কষ্টে।
ইশায়ার দিকে যেতে নিবে নিকো আবার ও ধরে ফেলে তাকে।
___ইশায়া অপারগ সে হারাতে পারবেনা আপুকে,
তার ভাই ও পারবেনা সাফা আপুকে ছাড়া বাঁচতে।
তার একজনের জীবনের জন্য যদি দুটি জীবন বেঁচে যায় তাহলে সেই ভালো।
সাইন করে দেয় সে একবারও তাকায় না পেপারের দিকে।
___সাফার আবারো দু-হাত লক করায় এবার সে না পেরে,
নিকোর মুখের ওপর থুথু ছিটিয়ে দিয়ে বলে,
__ছাড় আমাকে জানো*য়ার।
ঘরটায় এক মুহূর্ত নীরবতা নেমে এলো।
পরপরই নিকো ভয়ংকর হয়ে উঠলো।
তার চোখ রক্তলাল, চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে।

___বিচ! তোকে আজ শেষ করে ফেলবো।
বলে নিকো সামনে এগিয়ে এসে সাফার চুলের মুঠি ধরে টেনে নিয়ে যায় বাইরে।
__সাফা ব্যথায় চিৎকার করে ওঠে, সে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
__ছাড় আমাকে! শু*য়ো*রের বাচ্চা.
___ইশায়া দৌড়ে আসতে নিলে,
ভীরের ইশারায় পেছন থেকে দুজন নারী দেহরক্ষী ওকে চেপে ধরে।
ইশায়া পাগলের মতো চেঁচিয়ে ওঠে,
___আপু! আপু! প্লিজ, ওকে ছেড়ে দাও! প্লিজ!”
কিন্তু কেউ শোনে না।
___নিকো ভয়ানক হাসি দিয়ে বলে,
আজ তোর সব তেজ আমি শেষ করে দেবো, প্রিন্সেস।
ভেবেছিলাম নিজের জন্য রাখবো, কিন্তু না, তোকে সবার জন্যই উন্মুক্ত করে দেবো।
তাহলেই তোর এই দেমাগ কমবে ব্লা*ডি বিচ।

___সাফার গা ঘিনঘিন করে উঠে নিকোর কথা শুনে।
কিছুতেই সে এদের হাতে নিজেকে ছেড়ে দেবে না।
সে ছটফট করে, নিকোর হাত থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে।
___কিন্তু নিকো ওকে মেক্সিকান কিছু লোকের মাঝে ছিটকে ফেলে,
চোখ দিয়ে কিছু ইশারা করতেই ওরা হামলে পরে সাফার ওপর।
সাফা ধস্তাধস্তি শুরু করে দেয়,
এটা ওটা ছোড়াছোড়ি করে,,
কিন্তু এতোগুলো লোকের সাথে ও পেরে উঠছে না।
___চারপাশের একেকটা হাত ওর গায়ে পড়ছে, পিশাচদের মতো খামছে ধরছে।
একেকটা থাপ্পড় এসে লাগছে ওর গালে,
একেকটা নোংরা হাত ওর শরীরে স্পর্শ করছে।
___নিকো সামনে সোফায় বসে আরাম করে পা তুলে দৃশ্য উপভোগ করছে।
অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করছে সে।
তার চোখে নির্মম আনন্দ, যেন কোনো শিকারী শিকার উপভোগ করছে।
___সাফা যতো ছোটাছুটি করছিলো, ততই তারা ওকে ঝাপটে ধরছিলো,
মারছিলো।
সাফা বুঝলো

—সে পারবে না, এদের সাথে, সে দুর্বল।
নিজেকে অনেক অসহায় মনে হল তার।
__সাফা এক মুহূর্তে স্থির হয়ে গেলো।
মান বাঁচাতে হলে জান দিতে হবে তাকে।
আর কোন উপায় নেই।
এটাই শেষ রাস্তায় এদের হাত থেকে বাঁচার জন্য।
নিয়ে নিলো এক কঠোর সিদ্ধান্ত।
___সে জানালার দিকে তাকালো।
___চোখের সামনে বাবার মুখ ভেসে উঠলো।
তারপর মায়ের কান্নাভেজা চোখ।
___শেষবারের মতো সে আদ্রিয়ানের কথা ভাবলো।
তারপর চোখ বেয়ে দু’ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো।
___সাফাকে নরম হয়ে যেতে দেখে লোকগুলোর মুখে হাসি ফুটে উঠলো।
___নিকোর মনে পৈচাশিক আনন্দ,
সব তেজ শেষ!
এই সাহস নিয়ে নিকোর সাথে লড়তে এসেছিলি।

___সাফা এবার নিজের সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো।
একটা লোক ওর হাত ধরতে আসছিলো,
___সে আচমকা পেছনে লাফ দিলো, তারপর দৌড়ে জানালার দিকে ছুটলো!
চারপাশে চিৎকার শোনা যাচ্ছিলো।
___নিকো হতভম্ব হয়ে যায়।
সে উঠে দাঁড়ালো,
___লোকগুলো ওকে ধরতে ছুটলো।
কিন্তু…
__সাফা জানালা দিয়ে এক লাফ দিলো।
এক সেকেন্ডও দেরি করে নি সে, যদি করত তাহলে আবার ওদের হাতে ধরা পড়তো।
__১৫ তলা নিচে।
পড়ে যাওয়ার আগে শেষবার সে একটা কথাই মনে করলো।
___ঠিক বলেছিলি খাদিজা…
আমার অতিরিক্ত সাহস-ই একদিন আমার জন্য বিপদ ডেকে আনবে…
তারপর চোখ বন্ধ করে বললো,

___আমাকে ক্ষমা করিস, ইশু।
আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি আদ্রিয়ান আমার বাবা-মাকে দেখো।
মনে মনে আওরায় সাফা।
___তারপর একটা বিকট শব্দ হলো।
এক মুহূর্তে সবকিছু স্তব্ধ।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৬

____লোকগুলো দৌড়ে জানালার দিকে গেলো।
নিকো তীব্রভাবে শ্বাস নিচ্ছে, তার মুখ ফ্যাকাশে।
রাগ হচ্ছে, কেয়ারলেসের মত কেন কাজ করলো।
—নিকো জানালার কাছে গিয়ে নিচে তাকালো।
রক্তে ভেসে গেছে নিচের মাটি।
সেখানে সাফার নিথর দেহ পড়ে আছে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৮