Home হাওয়াই মিঠাই হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৮

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৮

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৮
তামান্না ইসলাম শিমলা

“ বাড়িতে কেউ আছেন??”
সকাল সকাল বাড়িতে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে রান্নাঘর থেকে বের হয় তানিয়া, দুপুরের রান্নার জন্য কাটাকাটি করছিল সে। বের হয় তানিয়া, তবে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে দেখে সে রীতিমতো আশ্চর্য হয়৷
অবাক কন্ঠে বলে উঠে,
“ভাইসাহেব আপনি!”
ইউসুফ পেছনে তাকায়, তানিয়াকে দেখে স্মিত হেসে সালাম দেয় তানিয়া সালামের জবাব দেয়। সে তো এখনো বুঝতে পারছে না মেম্বার সাহেব তাদের বাড়িতে কি করছে!
“শফিক সাহেব বাড়ি নেয়?”
তানিয়া সৌজন্য মূলক হেসো বলে,
“না, উনি তো স্কুলে চলে গিয়েছে, কোনো দরকার ভাইসাহেব?”
ইউসুফ খপ কর শ্বাস ফেলে, গম্ভীর কন্ঠে বলে,
“,হ্যাঁ, দরকার বটে!’
“ আচ্ছা ভেতরে আসুন, খালি মুখে তো পাঠাতে পারি না!”

তানিয়া বসার রুমের দরজা খুলে দিল, ইউসুফ ভেতরে এসে বসল৷ তানিয়া ডাক লাগাল তনয়াকে, তনয়া শুয়ে ছিল। মায়ের ডাকে সে বসার ঘরে আসে, ইউসুফকে দেখে চোখজোরা বড় আকার ধারন করেছে। উনি এখানে কেন? তেহরাব ভাই ঠিক আছো তো?
হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে তনয়ার, তনয়াকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তানিয়া তার কাছে আসে। ধীর স্বরে বলে,
“চা বানা, আমি বিস্কুট বের করছি।”
তনয়ার কানে কথা যায় কিনা সন্দেহ, সে তো এখনো ভেবে চলেছে তেহরাবের কথা। লোকটা ঠিক আছে তো?
“কি হলো যা!”
তনয়া চমকায়, দ্রুত উপর নিচ মাথা নাড়ায়৷
“যা যাচ্ছি!”
তনয়া চলে যায়, তানিয়া বিস্কুট চানাচুর এনে ইউসুফের সামনে দেয়।
“আপনি বসুন, আপনার সাথে কথা আছে আমার!”
তানিয়া ভ্রু কুঁচকাল, তার সাথে কি কথা থাকতে পারে? তানিয়া মুখোমুখি বসল, ইউসুফ কোনো লুকোচুরি না করে সরাসরি বলল,

“আমি এসেছি আপনাদের কাছে কিছু চাইতে?”
তানিয়ার কপালে চিন্তার ভাঁজ পরে,
“চাইতে? কি চাইতে? ঠিক বুঝলাম না!”
“আমি আপনার মেয়েকে আমার ছেলের জন্য চাইতে এসেছি!”
তানিয়া ফট করে উঠে দাঁড়াল, তার ছেলে মানে তেহরাব? তেহরাবের জন্য তনয়াকে চাইতে এসেছে মানে কি?
“ভাইসাহেব আমি কিছু বুজতে পারছি না, কি বলতে চাইছেন আপনি?”
ইউসুফ গম্ভীর কন্ঠে বলে,
“আমি তো আপনার মেয়েকে আমার বাড়ির বউ বানাতে চাই, আমার তেহরাবের জন্য আমি তনয়াকে নিতে চাই!”
তানিয়া হকচকিয়ে যায়, মেম্বার সাহেব কিনা নিজে থেকে এসেছে নিজের ছেলের জন্য তনয়াকে চাইতে।
কিন্তু তার মেয়ের তো দুদিন পর বিয়ে, তানিয়া মাথা নিচু করে বলে,
“ তা হয় না ভাইসাহেব!”

“কেন হয় না? আমার তেহরাব কি খারাপ? হ্যাঁ সে একটু ভবঘুরে, তবে এখন সে কাজ করছে। আমি চাই তনয়াকে পরীক্ষার পরেই আমার ছেলের সাথে বিয়ে দিতে, আমার ছেলে আপনার মেয়েকে ভালোবাসে! তনয়াও ভালোবাসে, তবে আপনাদের ভয়ে বলতে পারছে না।”
ভালোবাসে? তনয়া তেহরাবকে ভালোবাসে?? তানিয়ার চোয়াল ঝুলে পরে, সব কিছু তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে! এমন সময় কাঁচ ভাঙার সব কানে আসে দুজনের, দরজার দিকে তাকায় তানিয়া। তনয়া দাঁড়িয়ে আছে, তার হাতে থাকা চায়ের কাপ মাটিতে পড়ে ভেঙেচুরে একাকার!
তনয়া দুহাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে নিজের ওড়না,গলা কাঠ হয়ে আসছে তার।
“আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে ভাইসাহেব, আমার মেয়ে কাউকে ভালোবাসে না।”
ইউসুফ তনয়ার ভয়ার্ত মুখের দিকে তাকায়, নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
“তুমিই বল মা, তুমি তেহরাবকে ভালোবাস না?”
তনয়া এক নজর নিজের মায়ের দিকে তাকায়, তানিয়া আশ্চর্য হয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। তনয়া চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করল, সে আর কোন ঝামেলা চায় না!! চোখ খুলে মাথা নিচু করে নেয় তনয়া, আমতা আমতা করে বলে,

‘ন না! আমি ক কাউকে ভালোবাসি না!”
তানিয়া এগিয়ে আসল তনয়ার দিকে, তনয়ার বাহু ধরে নিজের দিকে ফেরায়।
“তনয়া, ভাইসাহেব কি বলছে এসব?”
তনয়া এদিক ওদিক মাথা নাড়ায়,
“নাহহ!”
তানিয়া ইউসুফের দিকে তাকায়, দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
“মাফ করবেন ভাই, আগে হলে আমরা ভেবে দেখতাম কিন্তু এখন কিছু করার নেয়!”
ইউসুফ ভ্রু কুঁচকায়,
“কিছু করার নেয় মানঁ?”
“আসলে তনয়ার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে, কাল বাদে পরশু ওর বিয়ে।”
ইউসুফের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরেছে, সে তো বড় মুখ করে নিজের ছেলেকে কথা দিয়েছিল যে তনয়াকে সে তার কাছে এনে দেবে। কিন্তু!!
“ কিহ? বিয়ে? হুট করে কি করে?’

“হুট করে না, ওর ফুফাতো ভাইয়ের সাথে অনেক আগে থেকেই বিয়ে ঠিক করে রাখা ছিল। তারা এখন উঠিয়ে নিতে চাইছে, আমিও আর আপত্তি করি নি। মাফ করবেন ভইসাহেব!”
ইউসুফ ধপ করে বসে পরে, তেহরাবকে সে কি বলবে? তার ছেলেটা যে পাগল, পুরোপুরি পাগল৷ এ কথা জানার পর নিজেকে ঠিক রাখতে পারবে না তেহরাব। ইউসুফ অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় তনয়ার দিকে, তনয়া মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আজ তো তার নিজেকেও অসহায় লাগছে, তেহরাবের কিছু হয়ে গেলে তো সে নিজেও নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না!
ইউসুফ বাক্যহীন হয়ে বসে পরেছে, বুকের ব্যথাটা বাড়ছে তার। তানিয়া নিজেও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পরে গেছে,

“বোন, আমার ছেলেটা আপনার মেয়েকে খুব বেশি ভালোবাসে, আজ থেকে নয় অনেকগুলো বছর আগে থেকেই। বাঁচবে না, আপনার মেয়েকে না পেলে ও মরে যাবে, আমি আপনার কাছে আপনার মেয়েকে ভিক্ষা চাচ্ছি!’
ইউসুফকে নিজের সামনে হাত পাততে দেখে তানিয়া পিছিয়ে যায়, অস্থির কন্ঠে বলে,
“কি করছেন ভাই এসব? আমি বুঝতে পারছি আপনার কথা, কিন্তু আমারও তো কিছু করার নেই। জন্ম মৃত্যু বিয়ে তো আল্লাহর হাতেই, আমি কথা দিয়ে ফেলেছি। আমার কিচ্ছু করার নেই ভাইসাহেব!”
ইউসুফের গলা ধরে আসছে, সে দেখতে পাচ্ছে তার ছেলের শেষ পরিণতি। তার আগেই উচিত ছিল নিজের ছেলেকে বোঝানো, এখন সে কি করবে? ইউসুফ তাকাল তনয়ার দিকে, তনয়া কাঁদছে৷ এ কান্নায় শব্দ নেয়, তানিয়াও তাকাল৷ তাহলে কি তনয়া তেহরাবকে সত্যি ভালোবাসে?
“মা তুমি তো জানো আমার ছেলেটা তোমাকে কতটা ভালোবাসে, কেমন পাগলামি করে। ও সত্যি মরে যাবে, আমার কঠিন স্বভাবের ছেলেটা তোমার জন্য চোখের জল পর্যন্ত ফেলেছে। তুমি কেন বলছো না তুমি তো ওকে ভালবাসো, কিছু কর। আমার ছেলে আমার সব, ওর কিছু হয়ে গেলে আমি কি করবো?”
তনয়া তানিয়ার দিকে তাকাল, তানিয়া তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে তনয়ার আরো কান্নার পাচ্ছে। সেই বা কি করবে? তারও তো কিছু করার নাই।

“ভাই সাহেব দেখেন, এখন আর কিছু করার নেই.। আমি জানি এবং মানি তেহরাব ভালো ছেলে, আপনি বরং আপনার ছেলেকে বোঝান। এভাবে তো কিছু হয় না, প্রথমত আমার মেয়ে আপনার ছেলেকে ভালোবাসে না। তার উপর দুদিন পর বিয়ে, এখন আমি কোন ঝামেলা চাচ্ছি না ভাই। “
ইউসুফ নিজের চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয়, বড় করে কয়েকবার শ্বাস নেয়। সে নিজেও কিছু ভাবতে পারছে না, শেষ বারের মতো অসহায় দৃষ্টিতে তনয়ার দিকে তাকায়।
“একজন বাবা হয়ে আমি শুধু আমার ছেলের প্রাণ ভিক্ষা চাচ্ছি, আমার ছেলেটাকে শেষ করে দিও না।”
ইউসুফ বেরিয়ে যায়, সাথে সাথে মাটিতে বসে পড়ে তনয়া। হুহু করে কেঁদে উঠো, আজ কেন জানি তানিয়ারও মায়া লাগছে। যতই হোক মায়ের মন তো,তানিয়া তনয়ার সামনে এসে বসে। নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
“সত্যি করে বলতো, তেহরাবকে ভালবাসিস তুই?”

তনয়া কাঁদতে কাঁদতে মাথা তুলে তাকায় তার মায়ের দিকে, শুধু বলে,
“আম্মু, লোকটা সত্যি বাঁচবে না। বিশ্বাস কর আম্মু আমি বারবার লোকটাকে এড়িয়ে চলেছি, ফিরিয়ে দিয়েছি অথচ লোকটা বারবার আমার কাছে এসেছে। জানো ওনি একটা পাগল, উনি তো আমার সাথে আমার ছায়াটাও দেখতে পারে না, সহ্য করতে পারে না। কেউ আমাকে প্রপোজ করলে, তেহরাব ভাই তাকে মারধর করতেন। নিজেকে পর্যন্ত আঘাত করেছেন ওনি, ও মা আমি কি করব? ওনার কিছু হয়ে গেলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবোনা, আমি তো তাকে ভালবাসতে চাইনি।”

তানিয়ার আজ হঠাৎ কি হল কে জানে, মেয়ের দু গালে হাত রাখল সে। গম্ভীর শীতল কন্ঠে বলল,
“সত্যিটা জানার পরেও কি তোকে ভালবাসবে? তোকে বিয়ে করতে চাইবে?”
তনয়া থেমে যায়, এ প্রশ্নের উত্তর তো তার কাছে নেই। তনয়া জানে তেহরাব তাকে ঠিকি মেনে নেবে, কিন্তু সে কি করে জেনে বুঝে জীবনটা নষ্ট করবে? তনয়াকে চুপ করে থাকতে দেখে তানিয়া বলে,
‘ধরলাম তেহরাব মেনে নিল, কিন্তু ভুলে যাস না ওরা বড়লোক। সবাইতো নিজ নিজ আকাঙ্ক্ষা আছে, সবাই যখন সবটা জেনে যাবে তখন কি করে থাকবি তুই? কি ভরসা আছে যে তেহরাব তখন তোর পাশে থাকবে।?”
তনয়া জড়িয়ে ধরে তানিয়াকে, ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলে,
“আমি কিচ্ছু জানি না মা, আমি শুধু জানি লোকটা মরে যাবে। আমি কি করবো এখন? না পারবো তাকে নিজের জীবনের সাথে জুড়তে, না পারবো দেখতে তাকে শেষ হতে!”
হুট করে তানিয়াকে ছেড়ে দেয় তনয়া, চোখের পানি মুছে মৃদু হাসে।
“এক কাজ করি আম্মু ? আমি নিজেই মরে যাই, তাহলে তো আমার কিছু দেখতে হবে না। না দেখতে হবে তাকে শেষ হতে, না কারো জীবন নষ্ট হবে।”
তানিয়া ঠাস করে চড় মেরে বসে তনয়াকে, শব্দ করে কেঁদে উঠে সে। তার মেয়েটা কেমন উন্মাদের মত ব্যবহার করছে,

“কি বলছিস এসব, এসব কথা বললে আমিই তোকে মেরে ফেলবো। “
“তাহলে ভাবো মা আমার কেমন লাগছে, লোকটা বারবার আমাকে এভাবে বলতো। আমার বুকের ভেতর যন্ত্রনা করত! সেদিন কি বলেছে আমাকে জানো?? বলেছে, “ আমি বাঁচতে চাই তনয়া, তোর সাথে বাঁচতে চাই!” ও আম্মু এভাবেই বলেছে জানো, এভাবেই। ও মা আমাকে মেরে ফেল না, প্লিজ আমাকে মেরে ফেল। অনেক জ্বালিয়েছি না তোমাদের, মেরে ফেলো!”
তনয়ার প্রত্যেকটি কথা তানিয়া বুকে এসে বিঁধছে, আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল মেয়েকে। তার মেয়েটাও যে তেহরাবকে অসম্ভব রকমের ভালোবেসে ফেলেছে তার আর বুঝতে বাকি নেই। কিন্তু সেই বা এখন কি করবে? একদিকে শিহাব আরেক দিকে তেহরাব আর নিজের মেয়ে!
তনয়ার আর কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে হকচকিয়ে যায় তানিয়া, তনয়াকে ছাড়িয়ে মাথা তুলে দেখে তনয়ার চোখ বন্ধ। বুকের ভেতর ধুক করে উঠে তানিয়ার, মেয়েটা জ্ঞান হারিয়েছে, গালে হাত রেখে ডাকতে থাকে,
“তনয়া এই তনয়া, উঠ মা।৷ কি হলো তোর, তনয়া!”
নাহ কোনো সাড়াশব্দ নেই, ভয়ে হাত পা অবশ হয়ে আসছে তানিয়ার। বাড়িতেও লোক নেই, কি করবে এখন!

টুকটাক শপিং শেষে বাড়ি ফিরে তেহরাব আর ইরা, বাড়িতে ঢুকতেই দেখে রিমু আর ওর বাবা ড্রয়িং রুমে বসে আছে, সাথে ইউসুফ।! তাসলিমা আর রিমুর মা রুনু রান্না ঘরে!
এখন দুপুরের সময়, খেতে বসবে একটু পর সবাই।
ইরা শপিং ব্যাগ গুলো টেবিলের ওপর রেখে রিমুর পাশে।
“কিরে চুন্নি এত খুশি কেন? “
“খুশি হব না আবার, তোমার বিয়ে বলে কথা!”
ইরা হাসতে হাসতে বলে,
“পরের সিরিয়াল কিন্তু তোর!”
ওদের কথায় নাক গলিয়ে তেহরাব বলে,
“নাহ নাহ, পরের সিরিয়াল আমার!”

তেহরাব এসে ইউসুফের পাশে বসে, বাবাকে এমন থমথমে মুখ করে বসে থাকতে দেখে তেহরাব খোঁচা মেরে বলে,
‘কি হয়েছে হুহ? বউয়ের কেলানি খাইছ নাকি?”
ইউসুফ এক নজর তেহরাবের দিকে তাকায়, ছেলেটা আজ হাসি খুশি। এই পাগল ছেলেকে কি করে বলবে সে সবটা? চিন্তায় চিন্তায় তারও বুকের ব্যথাটা বেড়ে গেছে।
“ওই তোমার আবার কি হইল ? এমন ভাল্লুকের মতো মুখ কইরা বইসা আছো কেন?”
ইউসুফ জোরপূর্বক হাসলো, সে এখন চাইছে না তার ছেলের হাসি মুখটা নষ্ট করতে।
“এমনি, শরীরটা ভালো লাগছে না।”
“ওষুধ খেয়েছো? “
“হুম!’
“ আমি কিন্তু আগেই বলে দিলাম আমার বিয়ের শপিং আমি সেনা শপিংমল থেকে করব!”
ইরার কথায় সবাই তার দিকে তাকাল, আনোয়ার হাসতে হাসতে বলল,

“তোকে ফুটপাত থেকে কিনে দেব!”
কাকার কথায় তাল মিলিয়ে তেহরাব বলে,
“আর তোর জামাইকে আমার পুরোনো পাঞ্জাবীটা দিয়ে দেব! “
এইতো ব্যাস, ক্ষেপে যায় ইরা। বালিশ ছুড়ে মারে তেহরাবের দিকে, তেহরাব হাসতে হাসতে আবার বলে,
“তোকে তো টুকিয়ে পেয়েছি, এর বেশি কি আশা করিস?”
“আহ আব্বু কিছু বল না, ভাইয়া কেমন করছে!”
ইউসুফ অন্যমনস্ক, রান্নাঘর থেকে তাসলিমা ও রিমুর মা দুজনেই হাসছে।
হঠাৎ রিমু বলে,
“আব্বু আমার কিন্তু দুটো গাউন চায়!”
রিমুর চুল টেনে তেহরাব বলে,
“দুটো দিয়ে কি করবি চুন্নি? আমাদের দেখ একটা দিয়ে বছর পার করে ফেলি!’
রিমু মুখ ভেঙিয়ে বলে,
“হুহ, তোমরা তো তোমরাই। আমি ইরা আপুর বিয়েতে একটা পরব আর তনয়া আপুর বিয়েতে আরকটা, দুদিন দুটো!”
রিমুর কথা শুনে চমকায় ইউসুফ, সাথে ভ্রু কুঁচকায় তেহরাব৷ সে বোধহয় ভুল শুনেছে, তাই আবারো জিজ্ঞেস করল,

“কার বিয়ে?”
রিমু কিছু বলতে নিলে ইউসুফ বলে,
“তেহরাব তুই ফ্রেশ হয়ে আয়, খেতে বসব সবাই!”
কিন্তু না তেহরাবের মন মানল না, হাসি মিলিয়ে গিয়েছে তার। গম্ভীর গলায় আবারও প্রশ্ন করল,
“কার বিয়ের কথা বললি রিমু? আবার বল!”
রিমু বুঝল না হঠাৎ তেহরাব ভাই এমন গম্ভীর কেন হয়ে গেল৷
“তনয়া আপু, তুমি চিনবে না। আমার বেস্ট ফ্রেন্ডকে তো চিন, ওইযে তানহা? তানহার বড় বোন, শনিবারে উনার বিয়ে!”
ব্যাস এটুকুই, সাথে সাথে সামনে থাকা টি টেবিলটা একটা লাথি মেরে ভেঙে ফেলল তেহরাব। শান্ত চোখ গুলো এখন আগুনের ফুলকির ন্যায় জ্বলছে, কপাল থেকে শুরু করে হাতের রগ ফুলে উঠেছে। । তেহরাব গর্জে উঠল,
“তনয়ারে, তুই শেষ!”

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৭

তেহরাব হন হন করে বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে,
“তেহরাব, তেহরাব দাঁড়া!”
ইউসুফ ও ছুটল তার পিছু। অচানক এমন কিছু হওয়াই কিচ্ছুটি বুঝতে পারল না কেউ, শুধু তাকিয়ে রইল দুজনের যাওয়ার দিকে। তাসলিমা ছুটে এলো রান্নাঘর থেকে,
“কি হলো এখানে? তেহরাব কই গেল?”
রিমু তো ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে, তেহরাব ভাইকে রাগতে দেখেছে সে। তবে এমন ভাবে কখনোই না, কিন্তু কি এমন হলো?

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৯