হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২০
তামান্না ইসলাম শিমলা
আকাশে লালচে আভা ছড়িয়ে পড়েছে, পশ্চিম দিগন্তে সূর্য ঢলে পড়ছে। পাখিরা নীড়ে ফিরছে, বাতাসে এক ধরনের নরম শীতলতা। গাছের পাতায় শেষ বিকেলের আলো ঝিলমিল করছে, চারপাশে এক স্নিগ্ধ নীরবতা নেমে এসেছে। ধরণী শান্ত, যেন রাতের অপেক্ষায় মগ্ন।
তনয়ার কেবিনের উপস্থিত বেশ কয়েকজন মানুষ, সবাইকেই তনয়া চেনে। তার পাশে বসে আছে সালমা, মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে সে। সামনে দাঁড়িয়ে আছে শিহাব, তার পাশেই শফিক। শফিক গভীর ভাবনায় মগ্ন, তার বোনের কাছে এতটা স্বাভাবিক আচরণ সে আশা করেনি।
ভেবেছিল সব বলার রাগারাগি করবে, অথচ তাকে ভুল প্রমানিত করে সালমা হাসপাতালে এসেছে তাও শিহাবকে নিয়ে। তনয়া মাথা নিচু করে আধশোয়া হযে বসে আছে, জ্ঞান ফিরেছে অনেকক্ষন।
“সেদিন তোকে কতবার জিজ্ঞেস করেছি আমি যে, কাউকে পছন্দ কিনা। কেন বলিস নি? বলেছিলাম না তোর যাকে পছন্দ আমি তার সাথেই তোর বিয়ে দিব।”
তনয়া জবাব দেয় না সালমার কথায়, কি জবাব দেবে সে! সালমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
“আমাদের উচিত হয়নি এভাবে বিয়ে ঠিক করার, সে যায় হোক। যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে, তুই ভালো থাক!”
তনয়া এখনও নিশ্চুপ, সালমা উঠে দাঁড়াল। শিহাবকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“এবার যাওয়া উচিত, নাহলে রাত হয়ে যাবে!”
বলেই বেরিয়ে যায় সালমা, শফিকও বের হয়। থেকে যায় শিহাব, কিছুসময় এক নজরে তাকিযে থাকে তনয়ার দিকে। অতঃপর জোর পূর্বক হেসে বলে,
“চিন্তা কর না, যা হয় ভালোর জন্যই হয়। দোয়া করছি তেহরাবের সাথে ভালো থেকো!”
তনয়া তাকায শিহাবের দিকে, ছেলেটা হাসছে ঠিকি কিন্তু তার চোখ! তা তো অন্য কিছু প্রকাশ করছে! শিহাব বেরিয়ে গেল, তনয়া বেড থেকে নামল।
শুনেছে তেহরাব ঠিক আছে, তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে বিধায় শরীর দুর্বল। ডাক্তার তাকেও ঘুমের ওষুধ দিয়ে রেখেছে, পা টিপেটিপে বের হয় নিজের কেবিন থেকে। বাইরে তেহরাবের বাবাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবারো চলে আসতে নেয়, তবে তার আগেই ডাক পরে তার,
“তনয়া!”
তনয়া থামে, পেছন ফিরে দাঁড়ায় মাথা নিচু করে। ইউসুফ এগিয়ে আসে তনয়ার দিকে,
“ অতীতের সব কিছু ভুলে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু কর আমার তেহরাবের সাথে!”
তনয়া নির্লিপ্ত দৃষ্টি নিয়ে তাকায় ইউসুফের দিকে, ইতি মধ্যে শফিকও চলে এসেছে। তনয়াকে বাড়ি নিতে হবে, ছুটি দিয়ে দিয়েছে তাকে! শফিক এসে তনয়ার পাশে দাঁড়ায়,
“ভাই তনয়াকে ছেড়ে দিয়েছে, ওকে বাড়ি নিয়ে যায় তবে। তেহরাবের জ্ঞান ফিরলে জানাবেন আমাকে!”
ইউসুফ মৃদু দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নাড়ে, সে তো এখনো বাড়িতে কাউকে কিছু বলেনি।
“আ আব্বু, আমি এক.. একটু দেখা করব ওনার সাথে!”
তনয়ার মিনমিনে কথায় শফিক তাকায় ইউসুফের দিকে, ইউসুফ বলে,
“ ঠিক আছে যাও!”
তনয়া তাকায় শফিকের দিকে, শফিক চোখের ইশারায় যেতে বলে। তনয়া আর দাঁড়ায় না, ভেতরে প্রবেশ করে। তেহরাবের কাছে গিয়ে তার মাথার কাছে বসে, মাথায় হাত রেখে হাত বুলিয়ে দেয়। মানুষটাকে এভাবে দেখতে পারছে না সে, চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে! কান্নামিশ্রিত কন্ঠে বলে,
“অনেক কষ্ট দিয়েছি তাই না? ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে!”
“ক্ষমা টমা করতে পারব না, সব সুধে আসলে ফেরত দেব। দিন রাত চব্বিশ ঘন্টা তোর ঠোঁটের উপর বুলডোজার চালাব!”
তেহরাবের গম্ভীর বিরক্তি মাখা কন্ঠস্বর কানে আসতেই চট করে দাঁড়িয়ে পরে তনয়া, তেহরাবের চোখ বন্ধ। তার মানে এই লোকটা এতসময় জেগেই ছিল? তেহরাব চোখ খুলে তনয়ার দিকে তাকায, রাগী লুক নিয়ে বলে,
“আজকে আমার কিছু হলে তোর খবর হতো তনয়া, তোর জন্য আমার কতগুলো রক্ত অপচয় হলো বল তো।”
তনয়া নিজের চোখের পানি মুছে তাকিয়ে থাকে তেহরাবের দিকে, তেহরাব হাতের সেলাইন খুলে উঠে বসে। বাম হাত নাড়াতে পারছে না, প্রচুর ব্যথা হচ্ছে।
তেহরাব তনয়ার সামনে এসে দাঁড়াল, ডান হাত দিযে তনয়ার বাহু ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসল। বাঁকা হেসে বলল,
“কতই তো চেষ্টা করলি আমার থেকে পালানোর, লাভ কি হলো? শেষ মেশ তো তেহরাব সরকারের কাছেই ধরা দিতে হলো তোকে। তুই কি ভেবেছিস, তোকে আমি এমনি এমনি ছেড়ে দেবো? উহু! তুই আমাকে যত জ্বালিয়েছিস তার দিগুণ জ্বালাব আমি, প্রতিরাতে আমার ভালোবাসার দগ্ধতায়।”
তনয়া চোখ মুখ কুঁচকে নেয়, এই লোকটা অসুস্থার মাঝেও বাজে কথা বলছে। এবার সত্যি ভয় করছে তনয়ার, তার মত হ্যাংলা পাতলা দুর্বল মেয়ে কি করে এই শক্তপোক্ত দেহী পুরুষটাকে সামলাবে? সে তো মরেই যাবে।
তনয়া নিজেকে ছাড়াতে চাইল, মুচড়া মুচড়ি করছে সে। তেহরাব দুষ্টু হাসল, কানের কাছে মুখ নিয়ে হাস্কি স্বরে বলল,
“আমার শরীর থেকে রক্ত ঝরলেও আমাকে দুর্বল ভাবিস না জান, তোকে আমি বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেব না। এতগুলো বছর অপেক্ষা করেছি কি ছাড় দেওয়ার জন্য? হুহ??”
তনয়ার কান গরম হয়ে যাচ্ছে, মুখ দিয়ে কথাও বের হচ্ছে না তার। আমতা আমতা করে বলল,
“ছা.. ছাড়ুন, আমি আমি বা বাড়ি যাব!”
তেহরাব ছাড়ল না, উল্টো চুমু খেল তনয়ার কানের লতিতে। হাস্কি স্বরে বলল,
“বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খা, বাসর রাতে জ্ঞান হারিয়ে বেঁচে যাবি ভাবলে ভুল ভাবছিস!”
তনয়া আর পারল না এই নির্লজ্জ মানুষটার নির্লজ্জ মার্কা কথা শুনতে, ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে। তেহরাব শব্দ করে হেসে উঠল, অতঃপর স্মিত হেসে বিড়বিড় করল,
“অবশেষে তুই আমার, একান্তই আমার!”
তনয়ার ঘরে বসে আছে তানিয়া আর তানহা, তানিয়া খাইয়ে দিচ্ছে তনয়াকে। ওদিকে তানহা কিছুই বুঝতে পারছে না, কি হচ্ছে এখানে।
তানিয়া খাবার খাইয়ে দিতে দিতে বলে,
“কালকে ওনারা আসবে বিয়ের কথা বলতে, আমি ভাবছি পরিক্ষার পরেই বিয়ের ডেট করতে বলব। এর মাঝে চেকাপটাও করিয়ে আসা যাবে!”
তনয়া তাকায় মায়ের দিকে, মৃদু কন্ঠে বলে,
“ আমি তেহরাব ভাইকে সবটা বলতে চাই, কোনো কিছু লু…
তনয়া পুরোটা বলার আগেই তানিয়া বলে,
“বেশি বুঝবি না, তোকে এত কিছু ভাবতে হবে না। ভালোবেসেছিস, এখন তাকে পাচ্ছিস, মাঝখানে আর কোনো ঝামেলা করবি না বলে দিলাম!”
“কিন্তু মা..
“ চুপ, তারাতারি খেয়ে ওষুধ খা!”
মায়ম ও বোনের পুরো কথপোকথন শুনল তানহা, কিছুই বুঝতে পারল না। তনয়ার তো বিয়ে ঠিকই হয়ে আছে এখন আবার কীসের ভালোবাসা, কিছুই মাথায় ঢুকছে না তার। কৌতুহল সামলাতে না পেরে প্রশ্ন করেই বসল,
“তোমরা কি নিয়ে কথা বলছ?”
“তোর এত বড়দের মধ্যে কথা কি? পড়তে বস!”
তানহা মুখ বাঁকিয়ে বিরক্তি নিয়ে টেবিলে গিয়ে বসে, সবাই শুধু শুধু তার সাথে খ্যাট খ্যাট করে।!
তনয়ার খাওয়া শেষ হলে তানিয়া তনয়া দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, তনয়ার হাত ধরে বলে,
“মাফ করে দিস, অনেক কষ্ট দিয়েছি। আসলে তখন মাথা কাজ করছিল না, আপাকে যে কথা দিয়ে ফেলেছিলাম।”
তনয়া নিজেও মাথা নত করে বসে আছে, সে কি বলবে বুঝতে পারছে না। তানিয়া প্লেট নিয়ে বেরিয়ে যায়, সাথে সাথে তানহা চলে আসে তনয়ার কাছে,
“ওই আপু কি হচ্ছে কিছুই তো বুঝতে পারছি না, তুই একটু বল না!”
“কি বলব?”
“ওইযে আম্মু কীসব বলছিল, তুই আবার কাকে ভালোবাসো?”
তনয়া হাসে, তানহার মাথায় মৃদু টোকা মেরে বলে,
“সেটা কালকেই দেখিস!”
তনয়া মুখ গোমড়া করে,
“বল না, নাহলে আজ ঘুমই আসবে না। শিহাব্বার সাথে কি তোর বিয়েটা হবে না?”
তনয়া বিছানায় শুয়ে পরে, চোখ বন্ধ করে বলে,
“নাহ, আমি ঘুমাব। বিরক্ত করিস না!”
তানহার মাথায় সব পেচিয়ে যাচ্ছে, কি থেকে কি হচ্ছে তাকে কেউ কিচ্ছু বলছে না। অতঃপর এসব ভাবনা বাদ দিয়ে মুচকি হেসে আবারও চলে আসে টেবিলে, মনে মনে ভাবে,
“আপুরটা যখন মেনে নিয়েছে আমারটাও তবে মেনে নেবে। এখন শুধু আমার জানমানকে মানানোর পালা, হাই মেরি জান!”
“এসব কি তেহরাব? কি হয়েছে তোর হাতে?”
সব বাড়ি ফিরেছে তেহরাব ও ইউসুফ, গোটা দিনটা চিন্তায় তিনটাই কেটেছে তাসলিমার।
আর এখন তেহরাবের সামনে হাতে ব্যান্ডেজ দেখে বুকের ভেতর ছটপট করছে তার, তেহরাব এসে সোফায় গা এলিয়ে বসল। ইরাও নিজের রুম থেকে নিচে আসে মায়ের গলার আওয়াজ পেয়ে, তেহরাবকে এভাবে দেখে সেও অস্থির হয়ে পরে।
“ভাইয়া কি হয়েছে তোর হাতে? দুপুরে এমন রেগে গেলি কেন? কোথায় গিয়েছিলি?”
এক নাগাড়ে এতগুলো প্রশ্নশুনে চোখ মুখ কুঁচকাল তেহরাব, বাড়ি আসার সাথে সাথেই এত এত প্রশ্ন।
ইউসুফ নিজেও তেহরাবের পাশে বসে, নিজের পাঞ্জাবীর হাতা গোটাতে গোটাতে বলে,
“ ওহহো, তোমরাও না। একটু শান্ত হও, পানি দাও আমাকে।”
তাসলিমা দ্রুত রান্নাঘর থেকে পানি নিয়ে আসলো, এনে ইউসুফকে দিল। ইউসুফ পানি শেষ করে তাসলিমাকে বলল,
“ছোট্ট একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল, তেমন আঘাত লাগেনি.। এত চিন্তা করতে হবে না!”
তাসলিমা বসে তেহরাবের পাশে,
“কত করে বলেছি বাইক নিয়ে এতটুকু করবি না, আমার কথা কি শুনে। আল্লাহ অল্পের উপর দিয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছে,! “
তেহরাব মনে মনে হাসে, এই নাহলে তার বাবা। তার ক্রাইম পার্টনার!
“কালকে আমি, ইরা আর তুমি তেহরাবের জন্য মেয়ে দেখতে যাচ্ছি, কালকে বিয়ে ঠিক করে আসব।!”
ইউসুফের কথা শেষ হতে না হতেই তেহরাব চোখে খুলে বলে উঠে,
“তোমরা যাবে মানে? আমি যাব না?”
ইউসুফ ভ্রু কুঁচকে বলে,
“তোমাকে যেতে হবে কেন, আমরা আছিই তো!”
“হুহ? আমার বিয়ে আমি যাব না? তনয়ার মাকে আমার একটুও ভরসা নাই, মহিলা আমার শাশুড়ী না হলে বুঝিযে দিতাম কত ধানে কত মুড়ি!”
তেহরাবের কথায় ইউসুফ চোখ গরম করে তার দিকে তাকিযে কাশি দেয়, যার অর্থ তেহরাবকে চুপ করানো।
তেহরাব বুঝতে পারে সে ভুল জায়গায় ভুল কথা বলে ফেলেছে, তাসলিমা অবাক দৃষ্টিতে বাপ ছেলের দিকে তাকিয়ে আছে, হুট করে কীসের মেয়ে দেখতে যাওয়া? আর তনয়া, এটা আবার কে? দুপুরেও এই মেযের নাম বলেছে তেহরাব, তাসলিমা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
“কি বলছ তোমরা? কীসের মেয়ে দেখতে যাবে?”
“মানুষের মেয়ে মা, পশুপাখির মেয়েকে তো আর বিয়ে করতে পারব না!”
তেহরাবের কথায় রাগী লুক নিয়ে তাকাল তাসলিমা, এই ছেলে কোনোদিনও সিরিয়াস হবে না?
“আমি বলছি, তেহরাবের একটি মেয়েকে পছন্দ। শফিক মাস্টারে বড় মেয়ে তনয়া, ওকেই দেখতে ও বিয়ে দিন তারিখ ঠিক করতে যাব!”
ইউসুফের কথা শেষ হতেই দাঁড়িয়ে পরে তাসলিমা, ইরাতো অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তেহরাবের দিকে। তার ভাইও প্রেম করে!বাহহ!
“এভাবে কিভাবে হুট করে বিয়ে ঠিক করা যায়? মেয়েকে জানিনা চিনি না চরিত্র কেমন তাও তো জানিনা আমরা, এসব না জেনেই হুট করে দিয়ে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে ফেলবো? “
ইউসুফকে এবার কিছুটা গম্ভীর দেখা গেল, সে গম্ভীরতা বজায় রেখে বলল,
“মে যথেষ্ট ভালো, ভদ্র, দেখতেও মাশাল্লাহ। আর সব থেকে বড় কথা তেহরাবের তনয়াকে পছন্দ, সেখানে আমাদের কিছু না বলায় ভালো!”
তাসলিমা কিছু বলতে নিলে তেহরাব নিজের মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলে,
“তোমরাও না কিচ্ছু বুঝ না, আমার বিয়ের কথা আমার সামনেই বলছো, আমার বুঝি লজ্জা করে না? হুহ!আমি ঘরে যাচ্ছি তারপর তোমরা আমার বিয়ে নিয়ে আলোচনা কর!”
গম্ভীর ভাব নিয়ে কথাটা বলে তেহরাব উঠে দাঁড়াল, যেতে যেতে আবার বলল,
“বাসর ঘর কিভাবে সাজাবে এটা আলোচনা করে নাও, আমি তো নিজে থেকে কিছু বলতে পারি না! যতই হোক আমার তো লজ্জা শরম আছে!”
তেহরাবের কথায় ইরা খিলখিলিয়ে হেসে উঠে, ইউসুফ দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এই ছেলে আর ভালো হবে না, তাসলিমা রাগে গজগজ করতে করতে বলে,
“ ছেলেকে আস্কারা দিয়ে দিয়ে এমন নির্লজ্জ বানিয়েছ তুমি, নিজের বাসরের কথা নিজে বলছে।”
তেহরাব উপর থেকে চিল্লিয়ে বলে,
“বলছিলাম কি হানিমুনের জন্য থাইল্যান্ড অনেক সুন্দর জায়গা, এমনি বলছিলাম আরকি!”
তাসলিমা অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে ইউসুফের দিকে তাকায়, বেচারা ইউসুফ অসহায় মুখ করে বসে আছে। হঠাৎ ইরা বলে উঠে,
“ভাইয়া কিন্তু ঠিকি বলেছে, চাইলে চারটা টিকেট বুক করতে পারো!”
ইউসুফ ভ্রু কুঁচকে বলে,
“চারটা কেন?”
ইরা বোকা বোকা হেসে বলে,
“ইয়ে মানে, আমারও তো নতুন নতুন বিয়ে হবে!”
“কি বললি?”
তাসলিমার ঝাঁঝাল কন্ঠ শুনে ইরা দেয় ভো দৌড়, তাকে আর পায় কে। ইউসুফ মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে, তাসলিমা দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১৯
“গরু ছাগলের বাচ্চা নিয়ে সংসার করছি আমি, একটাও
মানুষ হলো না। হবে কি করে, বাপের রক্ত না?!”
বলেই চলে যায় তাসলিমা, বেচারা ইউসুফ মাথা নেড়ে বলে,
“যত দোষ নন্দঘোষ!”
