Home হাওয়াই মিঠাই হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৫

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৫

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৫
তামান্না ইসলাম শিমলা

সরকার বাড়ির সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তনয়া, তার পাশে তেহরাব। তাসলিমা তনয়া ও তেহরাবকে মিষ্টি মুখ করিয়ে বাড়ির ভেতরে আনলেন, বসালেন সোফায়। সবাই বউ দেখতে তাড়া লাগাল, কেউ প্রশংসা করছে তো কেউ খুঁত ধরতে ব্যস্ত,অবশ্য তেহরাব থাকলে এরা তনয়াকে নিয়ে কিছু বলতে পারত কিনা সন্দেহ।
তেহরাব লেগে পরেছে ইরার বিয়ের কাজে, বড় ভাই হিসেবে এখন সে তার দায়িত্ব পালন করছে। এমন সময় ইরার শশুর আসলেন তনয়াকে দেখতে, তনয়াকে দেখা মাত্র তার চক্ষু চরক গাছ। এই মেয়েকে তে সে দেখতে গিয়েছিল সাহিলের জন্য, আর এ কিনা এখন এ বাড়ির বউ।
“রিমু তনয়াকে উপরে গেস্ট রুমে নিয়ে যা, বেচারি ক্লান্ত। হাতে মুখে পানি দিয়ে একটু বিশ্রাম নেক, এখনতো আবার ইরাকে নিচে আনা হবে!”

তাসলিমার কথা শুনে দিবা আর তেহরাবের মামাতো বোন রাত্রি তনয়াকে নিয়ে উপরে চলে যায়। এর মাঝে ইরা একবার তনয়ার সাথে দেখা করে নিচে আসে, সাহিল আর ইরাকে বসানো হয় পাশাপাশি। ধর্মীয় মতে বিয়ে পরানো হয়, তেহরাব আগেই কাজীকে সব বলে রেখেছিল বিধায় রেজিস্ট্রির কথা তিনি তুলেন নি। সেটা তো আগেই হয়ে গিয়েছে, সব কিছু হতে হতে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত। এবার পালা ইরার বিদায়ে, তবে তনয়ার মতো ইরা কান্নাকাটি করল না, তার তেমন অনুভূতিই হলো না। মেয়েকে এত হাসিখুশি দেখে ইউসুফ নিজেও হাসলেন, যাক ভালো থাকলেই ভালো।

ইরাকে বিদায় দেওয়া হলো, বিদায়কালে অবশ্য তাসলিমা একটু আবেগী হয়ে পরেছিল কিন্তু ইরাকে খুশি দেখে তিনিও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলেন।
ধীরে ধীরে বিদায় নিলেন আত্মীয় স্বজন, শুধু থেকে গেল তেহরাবের ফুফাতো বোন মারিয়া ও মামাতো বোন রাত্রি।
মারিয়া আর রিমু সমবয়সী আর রাত্রি তনয়ার সমবয়সী। সবাই গেস্ট রুমে বসে আছে তনয়ার সাথে, এটা সেটা নিয়ে মজা করছে। তনয়া শুধু শুনছে, তনয়ক লক্ষ্য করল রাত্রি নামক মেয়েটা কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে, বিষয়টক অস্বস্তিকর।
হটাৎ রাত্রি এগিয়ে আসল তনয়ার কাছে, অধর বাঁকিয়ে হাসল।
“শুনলাম ভালোবেসে বিয়ে করেছো? তোমরা পারোও বটে, বড়লোক সুদর্শন ছেলে দেখেছ কি ঝুলে পরলে। উপস সরি, ঝুলে না ঢলে পরেছো, তাই না? ভাবিইইই?”
তনয়া তাকায় রাত্রির দিকে, সে তো আগে থেকেই জানত এমন কথা তার কারো না কারো কাছে শুনতেই হবে, তবুও কষ্ট লাগছে তার।
মেয়েটা মুখ বাকিয়ে আবারও বলল,

“সত্যি করে বলোতো কালু জাদু দাডু করেছো নাকি? বেচারা তেহরাব ভাই, তার কিনা শেষ মেশ তোমার উপর মন আটকালো। এনি ওয়ে বেস্ট অফ লাক!”
বলেই বেরিয়ে গেল রাত্রি, তনয়ার চোখ টলমল করছে। রিমু আর মারিয়া শুনছিল সবটা, রিমু দ্রুত তনয়ার কাছে আসে।
“ভাবি আপু তুমি কষ্ট পেও না, রাত্রি আপুটা এমনই। আসলে এই মেয়েই ভাইয়ার উপর ঢলে পরত গাঁয়ের উপর, আর যেচে কথা বলতে যেত। একদিন তো তেহরাব সেই জোরে এক থাপ্পড় বসিয়েছিল, তারপর তো ভয়ে এ বাড়িই আসেনি। এখন তোমাকে দেখে রাত্রি ডাইনিটক জ্বলছে, পেত্নি একটা। তুমি কষ্ট পেও না!”
তনয়া জোর পূর্বক হাসল, কিন্তু ভেতর ভেতর তার তো কষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলল তনয়া, যে যায় বলুক, তেহরাব তো তার পাশে আছে। হঠাৎ দুচোখে ভর করল চিন্তার ছাপ,
“সারাজীবন পাশে থাকবে তো? নাকি সত্যিটা জানার পর…
আর ভাবতে পারল না, আজ সে আর কিছু ভাবতে চায় না!

“ মাহিমের অবস্থা ভালো না, কোনোভাবে ওর কিছু হয়ে গেলে তোমার কি হবে ভাবতে পারছ?”
ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে তেহরাব আর ইউসুফ , তেহরাব সিগারেট ফুঁকছে। ইউসুফের কথায় ভাবলেশহীন জবাব দেয়,
“মরলে একটা নোংরা কিট কমে, আমার আর কি হবে? কেউ জানবে? জানলেও বা কি হবে? জেল কিংবা বেশি হলে ফাঁসি, তাও ভালো।”
“তেহরাব!”
ধমকে উঠে ইউসুফ, তেহরাব ক্রুর হাসে।
“মরবে না ও, এত সহজে ওকে মরতে আমি দেবও না। আমি মারব, আমি সুস্থ করব, আবার আমি মারব, সারাজীবন এভাবেই চলবে।”
ইউসুফ খপ করে শ্বাস ছাড়লেন, হাত রাখলেন তেহরাবের কাঁধে,
“একটা সত্যি কথা বলতো তেহরাব, মাহিমের সাথে তোর শত্রুতাটা কোথায়? কেন এভাবে আটকে রেখেছিস, কেন এভাবে কষ্ট দিচ্ছিস? বিষয়টা কি ভালো?”
তেহরাব নিজের সিগারেট শেষ করল, অবশিষ্ট অংশ মাটিতে ফেলে গম্ভীর থমথমে গলায় বলে,
“কিছু জিনিস অজানায় থাক, তবে একটা কথা মনে রেখো আমি কোনো ভুল করছি না। আমি শুধু ওর পাপের শাস্তি দিচ্ছি, আজীবন দেব। যতদিন আমি তেহরাব বেঁচে আছি ততদিন মাহিম বেঁচে থাকবে, যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে থাকবে। এটা ওর কর্মফল!”

শেষ কথা বলার সময় অস্বাভাবিক ভাবে তেহরাবের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছিল, কন্ঠে কেমন হিংস্রতা প্রকাশ পাচ্ছিল। এই তেহরাব নামক মানুষটাকে ইউসুফ চিনতে পারে না মাঝে মাঝে, ছেলেটা তার কেমন একটা।
“অনেক রাত হয়েছে, আমি বাসর ঘরে গেলাম।”
স্বাভাবিক ভাবেই কথাটা বলে তেহরাব চলে গেল ছাদ থেকে, ইউসুফ দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“আমি ঠিক করছি তো? নাকি ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও খারাপের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছি?”
অতঃপর তার কানে বাজল তেহরাবের বলা সেই বাক্য,
“আমি কোনো ভুল করছি না,এটা ওর কর্মফল!”

ফুলে সাজানো বিছানার মাঝ বরাবর বসে আছে তনয়া, সময় যত পার হচ্ছে বুকের ভেতর চলা ঝড়টা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হৃদস্পন্দন চলার শব্দ গুলোও নিজে শুনতে পারছে, ঘরে আলো বলতে শুধু চারপাশের মোমের মৃদু সোনালী আলো।
সাথে কাঁচা ফুলের সুঘ্রাণ, দরজা খোলার শব্দে টনক নড়ে তনয়ার। সাথে অজানা ভয়ে কেঁপে উঠে শরীর, আরঁ গুটিয়ে যায় সে।
তেহরাব দরজা বন্ধ করে দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়, বুকে হাত গুঁজে তাকিয়ে থাকে তার শখের নারীর দিকে। এই মেয়েটাকে পাওয়ার জন্য কতই না পাগলামি করেছে সে, কেন এত ভালোবাসে? উত্তর যে তারও জানা নেয়।
আচ্ছা আজ সারারাত এভাবে তার এলোকেশীর দিকে তাকিয়ে থাকলে কি কোনো ক্ষতি হবে? নাহ তো, আজতো কেউ তাকে বাঁধা দিতে পারবে না। সে মন ভরে এখন তার এলোকেশীকে দেখতে পারবে!
স্মিত হেসে সোজা হয়ে দাঁড়ায় তেহরাব, এগিয়ে যায় আলমারির দিকে। আলমারি খুলে লকার থেকে টাকা বের করে তেহরাব, সামনে এসে দাঁড়ায় তনয়ার।
“তনয়া।”
তেহরাবের নরম কন্ঠে নিজের নাম শুনে শরীর শিরশির করে উঠল তনয়ার, মুখ তুলে তাকাল। তেহরাব স্বাভাবিক ভাবেই দাঁড়িয়ে আছে,

“নিচে আয়, সামনে এসে দাঁড়া!”
তনয়ার নিজের ভেতরে চলা ঝড়কে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে নিজেকে স্বাভাবিক দোখানোর চেষ্টা করে। সামনে এসে দাঁড়ায় তেহরাবের, তেহরাব আলতো হাতে তনয়ার হাত ধরে উঁচু করে,
“ এইনে তোর কাবিনের দুই লক্ষ টাকা, চিন্তা করিস না এটা বাবার নয় আমার আয় করা টাকা। আমার বউয়ের কাবিননামা আমি আমার টাকায় পরিশোধ করছি!”
তনয়া একবার টাকাগুলোর দিকে তাকিয়ে তেহরাবের চোখের দিকে অবাক নয়নে তাকায়, তেহরাবের টাকা মানে? তেহরাব বোধহয় তনয়ার মনের ভেতরে চলা প্রশ্নটা বুঝতে পারল, মুচকি হেসে বলল,
“ কলেজে পড়া কালিন আমি ফাইবারের সাথে যুক্ত, গ্রাফিক্সের কাজ ভালো পারতাম বলে ভালোই টাকা কামিয়েছি। বেশির ভাগ টাকায় আমি আমার শখের জিনিসের পেছনে উড়িয়েছি, যেমন আমার বাইক গুলো। তিনটে বাইকের দুটি আমার কেনা, আরেকটা বাবা দিয়েছিল। আর আমার বউ, সেও তো আমার খুব শখের!”
তনয়ার চোখ ছলছল করছে, এই মানুষটাকে সে কতই না কষ্ট দিয়েছে! এখন সেসব ভাবলেই কান্না পায়, তেহরাব আলতো হাতে জড়িয়ে নেয় তনয়াকে।

“একটু জড়িয়ে ধর আজ, মাথা রাখ বুকে।
তোকে নিয়ে চলব পথ, যাব বহুদূরে!”
তনয়াও জড়িয়ে ধরল, চোখ বেয়ে গড়িয়ে পরছে নোনাজল। পাঞ্জাবী ভিজে বুকের কাছে ঠান্ডা অনুভব হতেই তেহরাব তনয়ার মাথায় হাত রাখে,
“জান, কাঁদিস না, তোর কান্না যে আমি সহ্য করতে পারি না।”
“ক্ষমা করে দিন আমাকে তেহরাব ভাই, অনেক কষ্ট দিয়েছি আপনাকে। ক্ষমা…..
তনয়া আর কিছু বলার আগেই তেহরাব তনয়াকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে বলে,
“তুই কি চাইছিস আমার ছেলেমেয়ে আমাকে মামা বলুক?”
তনয়া গোল গোল চোখ করে তাকায়, তেহরাব গম্ভীর ভাব নিয়ে বলে,
“ ভাই বলছিস কাকে? বিয়ে করা জামাই আমি, তুই আমার বউ। ভাই ডাক শোনার জন্য তঁকে বিয়ে করিনি, তোর সন্তানের মুখে বাবা ডাক শুনব বলে করেছি। তুই তো চাইছিস মামা ডাক শোনাতে, ছিহ তনয়া ছিহ!”
সিরিয়াস মোমেন্টেও তেহরাবের এহেম ঠোঁট কাটা কথাগুলো শুনে তনয়া থতমত খেয়ে যায়, লোকটা এমন কেন?

“ফ্রেশ হসনি কেন?”
তনয়া মাথা নিচু করে বলে,
“আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম!”
তেহরাব তনয়ার কোমরে হাত রাখে, দুষ্টু হেসে বলে,
“আমার জন্য অপেক্ষা করছিলি কেন? আমি ফ্রেশ করিয়ে দেব এই ভেবে? ছিহ ছিহ ছিহ, তুই এতটা নির্লজ্জ।”
তনয়া তেহরাবকে ধাক্কা দেয়, ঠোঁট উল্টে বলে,
“তেহরাব ভাই!”
তেহরাব আবারো কপাল কুঁচকায়,
“ কি বললি? আবারও ভাই?”
তনয়া মুখ ঘুরিয়ে উল্টো দিক হয়ে দাঁড়ায়,তেহরাব পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে তনয়া কাঁধে চোয়াল ঠেকিয়ে বলে,
“শুধু তেহরাব ডাকবি, বুঝেছিস?”
তনয়া এদিক ওদিক মাথা নাড়ে, যার মানে “নাহ”!
“আপনিও তো আমাকে তুই বলেন!”

“সারাজীবন ডাকব, তুই ডাকটার মাঝে অন্যরকম ভালোবাসা, টান কাজ করে।”
তনয়া কিছু বলতে নেয় তার আগেই তেহরাব তনয়াকে ছেড়ে দিয়ে বলে,
“আমি কাউকে ফ্রেশ ট্রেশ করিয়ে দিতে পারব না, আমি এমনিতেই অলস। একা একাই ফ্রেশ হো, আর পারলে তুই আমাকেও করিয়ে।”
তনয়ার গাল দুটো লাল হয়ে আসছে, লোকটা বারবার তাকে লজ্জা দিচ্ছে। তনয়া টাকা গুলো রেখে ব্যাগ থেকে একটি সেলোয়ার-কামিজ নিয়ে ওয়াশরুম চলে যায়, তেহরাব নিজেও পাঞ্জাবী বদলে ওভারসাইজ টি শার্ট আর থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট করে নেয়।
মিনিটা দশেক পর তনয়া বের হয়, হাত মুখ ধুয়ে একদস পোশাক বদলে। এতক্ষনে তারও শান্তি লাগছে!! তনয়া বের হয়ে দেখে তেহরাব ড্রয়ারের কাছে বসে কিছু একটা করছে, তনয়া কিছু না বলে শাড়িটা ভাজ করে আলমারিতে রেখে দেয়।
তেহরাব ছোট্ট একটা বক্স নিয়ে তনয়ার সামনে এসে দাঁড়ায়,
“নে হাতটা দে।”
তনয়া কথা মতো হাত বাড়িয়ে দেয়, তেহরাব একটি আংটি পরিয়ে দেয় তনয়াকে। সোনার আংটি, মাঝ বরাবর সাদা পাথর!

“আপাতত এটা রাখ, পরে ডায়মন্ডের রিং কিনে দেব।”
তনয়া তেহরাবের চোখের দিকে তাকায়,
“আমার সোনা গয়নার প্রয়োজন নেই, আপনি থাকলেই চলবে।”
তেহরাব তনয়ার দুগালে হাত রেখে তনয়ার কপালে চুমু খায়, তনয়া কেঁপে উঠে। কাঁপুনি বাড়ছে,তেহরাব বুঝতে পারল সেই কাঁপুনি। তেহরাব শক্ত করে তনয়াকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে,
“জান আমি ক্লান্ত, তোর অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে আমি রাত জেগেছি প্রতিনিয়ত। আজ আমি ঘুমাতে চাই, তোর বুকে মাথা রেখে দুচোখ বুজতে চাই। ঘুমাতে দিবি?”
তনয়া এখনো কাঁপছে, খামচে ধরল তেহরাবের টি শার্ট। এবার ছেড়ে দেয় তেহরাব,
“আচ্ছা তুই শুয়ে পর, রাত হয়েছে।”

তনয়া ঠায় মাথানত করে দাঁড়িয়ে রইল, মাথা কেমন করছে তার। তেহরাব গিয়ে এক পাশে শুয়ে পরল, তনয়া এক পলক তেহরাবের দিকে তাকিয়ে নিজেও পাশে গিয়ে মুয়ে পরল। লোকটা তো তার কাছে বেশি কিছু চায়নি, শুধু বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে চেয়েছে, এটুকে সে দেবে না? তেহরাব যদি তার উপর জোর খাটাতো তখন কি সে কিছু করতে পারত? পারত না তো, তাহলে কেন আজকেও তেহরাবকে সে কষ্ট দিচ্ছে?
তনয়া ফিরল তেহরাবের দিকে, তেহরাব উল্টো পাশ হয়ে শুয়ে আছে। তনয়া নিজের বালিশ ছেড়ে তেহরাবের বালিশে মাথা রেখে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল, মিনমিনে কাঁপা গলায় বলে,
“ঘুমাবেন না?”
তেহরাব তৎক্ষনাৎ জবাব দেয়,
“ঘুমাচ্ছি তো।”

তনয়া তেহরাবের বাহু ধরে নিজের দিকে ঘোরায়, চোখ বন্ধ করে দ্রুত স্বরে বলে,
“আ আপনি আমার বুক মাথা রেখে শুতে পারেন!”
তেহরাব তনয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে ক্রুর হাসে, তনয়াকে টেনে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। তনয়ার মাথা নিজের বুকের সাথে ঠেকিয়ে বলে,
“আজ বরং তুই আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমা, অতীতের যত দুঃখ, কষ্ট, খারাপ স্মৃতি ছিল সব ভুলে যা। তোর সবটা জুরে শুধু তেহরাব থাকুক, ভালোবাসি!”
তনয়ার দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরল, এ অশ্রু দুঃখের নয়। এ অশ্রু সুখের, পূর্নতার, আজ যে সে মাথা রাখার একটি স্থান পেল।

“ধন্যবাদ।”
তেহরাবের কথায় তনয়া চমকায়,
“ধন্যবাদ কেন?”
তেহরাব চোখ বন্ধ করে মুচকি হাসে,
“আমার জীবনে আসার জন্য, এবার ঘুমা। বিরক্ত করবি না বলে দিলাম, নাহলে কি থেকে কি করে ফেলব নিজেও জানি না!”

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৪

তনয়াও স্মিত হেসে চোখ বুজল, ঘ্রাণ নিল তেহরাবের শরীরে থাকা পারফিউমের। লোকটা তার এত কাছে যে সে তার হৃদস্পন্দনের শব্দ পর্যন্ত শুনতে পারছে, তনয়া হাত রাখল তেহরাবের বুকে। বিড়বিড় করে বলল,
“আপনি আকাশ, আমি মেঘ, ছুঁয়ে থাকি সারাক্ষণ,
এ গল্প হাওয়াই মিঠাই নামক প্রনয়ের স্পন্দন।”

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৬