Home হ্যালো 2441139 হ্যালো 2441139 পর্ব ৩৩

হ্যালো 2441139 পর্ব ৩৩

হ্যালো 2441139 পর্ব ৩৩
রাজিয়া রহমান

যতটা আনন্দ নিয়ে আষাঢ়ের দিন শুরু হয়েছিলো, ঠিক ততটাই যন্ত্রণা নিয়ে দিনের পরিসমাপ্তি হলো।সকালে বাবা যখন তাকে জানিয়েছিলো মা’কে না জানিয়ে তিনি একটা সারপ্রাইজ ট্যুর দিতে চান মাকে সাথে নিয়ে, আষাঢ়ের মনে হয়েছিলো এই জীবনের সব সুখ বুঝি তার হাতের মুঠোয় এসে ধরা দিয়েছে।
বাবা মা’য়ের মধ্যে একটা সুন্দর সম্পর্কের চেয়ে দামী আষাঢ়ের কাছে কিছু নেই।
দুজনের মধ্যকার সম্পর্ককে ভালো রাখতে আষাঢ় অদৃশ্য সুতোর মতো জড়িয়ে ছিলো দু’জনের মধ্যখানে তাদের অজান্তেই।

অবশেষে বাবার চোখের পর্দা খুললো।
আফসোস এটাই,আরো কয়েক বছর আগে খুললে মা একটু স্বস্তি পেতো।
আষাঢ় রুমে আসলো যখন তখন রাত প্রায় দুটো। আজ প্রথম বারের মতো আষাঢ় অনুভব করলো মা কতটা পরিশ্রম করে। অনুভব করেই আষাঢ়ের বুকটা ভারী হয়ে এলো।
মা’য়ের জন্য কখনো কিছু করা হয় নি।
জীবন এমন কেনো!
আষাঢ় বুঝতে পারে না কত দিক সামলাতে হবে তাকে!
ভাবতে ভাবতে মনে হলো পিয়াসার কথা। পিয়াসার কথা মনে পড়তেই আষাঢ়ের বুকে যেনো ভারী পাথর চেপে বসলো।এই মেয়েটা এতো অবুঝ কেনো!
সবসময় কেনো সে আষাঢ়কে ভিলেন মনে করে!
আষাঢ় তাকে স্পেস দিতে বাড়িতে থাকা কমিয়ে দিয়েছে,বাড়িতে থাকলেও রুম থেকে বের হয় না।
অথচ মেয়েটা কিছুই বুঝতে চায় না।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

সবাই বলে আষাঢ়ের চোখের দিকে তাকালেই মেয়েরা প্রেমের সমুদ্রে ডুবে যায় অথচ দুই চোখ ভর্তি মায়া নিয়ে আষাঢ় এই মেয়েটার দিকে তাকায়, সেটাই এই মেয়ে বুঝতে পারে না।
সৃষ্টিকর্তা এই কেমন খেলা খেলে মানুষকে নিয়ে!
যাকে মন চায় সে ছাড়া দুনিয়ার সবাই তাকে ভালোবাসে।
অদ্ভুত সব নিয়ম এই জগতের।
আষাঢ় জানে আজকের পর থেকে পিয়াসার আর তার মধ্যে এক অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হবে।
পিয়াসার সাথে সম্পর্ক যতটা সহজ হয়েছিলো ঠিক ততটাই দূরে চলে যাবে পিয়াসা তার থেকে।
অথচ সে চেয়েছিলো পিয়াসাকে নিজের করে পেতে।
সকাল হতেই মিরাজুল ইসলাম নার্গিসকে ডাকতে লাগলেন।
এমন সাতসকালে চেঁচামেচি শুনে নার্গিস বিরক্ত হয়ে বললো, “এরকম চেঁচান কেনো?সমস্যা কি আপনার? ”
“বড় ভাবী নাই,গিয়ে নাশতা বানাও যাও।”

নার্গিস মুখ ঝামটা দিয়ে বললো, “আমারে কি কোনোভাবে ঝুনির বোইন মনে হয়? আমি কাজের বেটি? ”
“নিজের সংসারের কাজ করলে কেউ কাজের বেটি হয়ে যায় না। ”
“ঠিক বলছেন।নিজের সংসার হতে হয় সেটা। এটা কার সংসার?আমার? কখনো না।এখনো আপনার মায়ের সংসার এটা।আপনার মা’য়ের পরে হবে আপনার ভাবীর।আমি এই সংসারের কেউ না।এই সংসারের কোনো দায়িত্ব তাই আমার না।”
মিরাজুল ইসলাম গম্ভীর হয়ে বললেন,”তর্ক করবে না।তর্ক আমি কম জানি না।এক্ষুনি গিয়ে নাশতা বানাও।মায়ের খাবার তৈরি কর।”
“না করলে?”
মিরাজুল ইসলামের মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গেলো। রাগান্বিত হয়ে বললেন,”তাহলে বের হয়ে যাও যেদিকে ইচ্ছে। ”
নার্গিস আর অপেক্ষা করলো না।সত্যি সত্যি উঠে বের হয়ে গেলো।মহুয়া বেগমকে এই সুযোগে একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে।
মিরাজুল ইসলাম ভেবেছেন নার্গিস বোধহয় রান্নাঘরে আছে।কিন্তু তার ভুল ভাঙলো অফিসে যাওয়ার সময় যখন দেখলেন নার্গিস বাড়িতে নাই।

নির্জন, নিরব,পিংকি,রিংকি চারজনেই মা’কে খুঁজতে লাগলো কিন্তু নার্গিসকে কোথাও পেলো না।
সকালে পিয়াসার জন্য নাশতা নিয়ে এলো ঝুনিখালা।
আজকে কে নাশতা বানালো!কিছুক্ষণ আগে শুনতে পেয়েছে নার্গিস আন্টি বাড়িতে নাই।
ঝুনি খালাকে সেই প্রশ্ন করতেই ঝুনি খালা বললো, “আমি আটা সিদ্ধ করে দিছি,আষাঢ় মামা রুটি বানাইছে।”
পিয়াসা রুটির দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়।এতো সুন্দর, পাতলা রুটি একজন পুরুষ মানুষ বানিয়েছে!
ভাবতে অবাক লাগে পিয়াসার।
শিরিন অনেক তদন্ত করে ও মিরার থেকে কথা বের করতে পারলো না আষাঢ় কাকে পছন্দ করে।
হিংসায় শিরিনের সারা শরীর কেমন জ্বলতে থাকে।সকালে শিরিনের সবসময় দেরি করে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস।এখন রজনী নেই,মহুয়া বেগম শিরিনকে বলেছেন সকালে একটু জলদ উঠে নাশতা বানাতে ঝুনির সাথে হাত লাগাতে।

শিরিন তাই ইচ্ছে করে আজকে আরো দেরি করে ঘুম থেকে উঠলো।
ঘুম থেকে উঠতেই মিনি গিয়ে জানালো ছোট মামী বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে।
শিরিন তড়াক করে উঠে দাঁড়ায়। কি বলছে!
এতো বড় ঘটনা ঘটে গেছে অথচ সে জানে না!
দ্রুত রুম থেকে বের হয়ে রান্নাঘরে যায় শিরিন।
রান্নাঘরে গিয়ে দেখে আষাঢ় রুটি বানাচ্ছে। শিরিন হতভম্ব হলো না।আষাঢ় প্রায় সব কাজই জানে।ওর মা ওকে শিখিয়েছে।বউ এলে যাতে বউয়ের উপর চাপ বেশি না পড়ে।
আষাঢ় হিরের টুকরো ছেলে।আত্মীয় স্বজন সবার কাছে আষাঢ় সবদিক থেকেই পারফেক্ট।
এজন্যই শিরিন চায় নি আষাঢ় হাতছাড়া হোক।নিজের মেয়ের সাথে বিয়েটা দিতে পারলেই সবদিক থেকে শিরিন নিশ্চিন্ত হতো।
নাশতার টেবিলে এসে দেখে খাঁখাঁ করছে পুরো বাড়ি।কোথাও কারো কোনো সাড়াশব্দ নেই।
মিরা চুপচাপ নাশতা খাচ্ছে।

শিরিন মেয়েকে ফিসফিস করে বললো, “কাহিনি কি রে?কখন হলো এসব?”
মিরা রুটি খেতে খেতে বললো, “আমি জানি না মা।আর এসব ক্যাচাল ভাল্লাগতেছে না।”
“তোর আবার কি হলো?গত রাত থেকে এরকম নখরা করতেছস ক্যান?”
“কিছু হয় নাই মা।আমার ভালো লাগতেছে না।সারাদিন একজনের পর একজনের পিছে লাগা আর ভালো লাগে না। নিজেদের আর কোনো কাজ নেই এসব ছাড়া। এটাই কি কাজ মা?অন্যের পিছনে এতো লেগে কি পেলা!”
“বাবা গো,নীতিবাক্য শুনাতে এসেছে আমাকে।আজকাল কি ঈশপের গল্প পড়া শুরু করছস না-কি?”
মিরা আর কথা বললো না। গতরাত থেকে মিরার জীবনের সব হিসেব কেমন উল্টাপাল্টা হয়ে গেছে। সব কেমন যেনো লাগছে।মিরা একটা মিথ্যে মরিচীকার পেছনে ছুটেছিলো মা’য়ের কথা শুনে।বেলা শেষে দেখে ফলাফল শূন্য।
শিরিন মিরার হাত ধরে বললো, “মেয়েটা কে?”

হ্যালো 2441139 পর্ব ৩২

“কোন মেয়ে?”
“আষাঢ় কার লগে প্রেম করে? ”
“আমি কি জানি?”
“সত্যি করে বল।কোনো ভাবে কি পিয়াসা?”
মিরার গলা শুকিয়ে যায়। মা জানলে এরপর থেকে পিয়াসার জীবন নরক করে দিবে মা।পিয়াসার এক ফোঁটা ক্ষতি হলে আষাঢ় ভাই সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিবে।
এই কোন দোটানায় পড়লো মিরা!

হ্যালো 2441139 পর্ব ৩৪