Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ১

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ১

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ১
রুপান্জলি

,,ভালোবাসা একপ্রকার বি*ষাক্ত শৈবাল। যা অতি নিবিড়ে বক্ষপাঁজর দখল করে অন্তরাত্মায় অদৃশ্য জখম সৃষ্টি করে, ধীরে ধীরে ঘা বাড়ায়, পরিশেষে মরণব্যাধি ক্যানসারের ন্যায় জীবনটা পচিয়ে গলিয়ে খাক করে দেয়। এই ভালোবাসার মোহে যারা মজেছে, তারাই নিঃস্ব হয়েছে; ঠকতে ঠকতে নিজেকে উজাড় করেছে ধ্বংসলীলায়। প্রতিটি প্রেমকাব্যেই থাকে বিতৃষ্ণা। কেউ ঠকে যায়, তো আবার কেউ সুনিপুণ পরিকল্পনার মাধ্যমে ঠকিয়ে পার পেয়ে যায়।
,,,আজ আপনার পাগলামিতে আমি মাতোয়ারা হবো, প্রেমে মজবো, ভালোবাসবো, তারপর বিয়ে করবো। রাইট? হুম! এটাই তো প্রেমের ভবিষ্যৎ। এরপর? এরপর কি এমন গ্যারান্টি আছে যে আপনি আমাকে ছেড়ে যাবেন না? বা অন্য কারোর মোহে পড়বেন না? কোনো গ্যারান্টি নেই। এখন হয়তো আপনি আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারেন, “আমি তোমাকে ভালোবাসি, কখনো ছেড়ে যাব না। বিশ্বাস করো আমাকে, আমি সবার মতো নই।” বাট! এসব আমি শুনতে চাই না। কারণ, এসব গা*জাখুরি কথাবার্তায় আমি বিশ্বাস করি না। ভালোবাসা কথাটায় শুধু বানানের ক্ষেত্রে এই “ভ” আকার “ভা” আর “ল” ও-কার “লো” ব্যতীত বাকি সব মরীচিকা। যেখানে আমি ভালোবাসাকেই ভালোবাসি না, সেখানে আপনাকে ভালোবাসার প্রশ্নই আসে না, মিস্টার আদ্রিয়ান কাইসার। আমার থেকে দূরে থাকুন, টিচার টিচারের মতোই থাকুন। আমার কখন কী লাগবে, কিসে মরবো, কিসে বাঁচবো—সবটা দেখার জন্য আমি নিজে আছি, আমার পাপ্পা আছেন। দ্যাটস এনাফ ফর মি, গট ইট?
,,,,বলেই হাতে থাকা গ্লাসের পানিটা আদ্রিয়ানের মুখে ছুড়ে মারলো অর্পনা। পরপর টেবিলের ওপর থাকা খাবারটা একপ্রকার দূরে সরিয়ে মেইন দরজার দিকে পা বাড়ালো। আদ্রিয়ান শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলো মেয়েটার কাণ্ড। এই মেয়েটা এত জেদি, এত জেদি—এর জেদ দেখলে মাঝেমধ্যেই আদ্রিয়ানের ভয় হয়। তার ভবিষ্যৎ বাচ্চাগুলো যদি তাদের মায়ের মতো হয়? তাহলে তার ভাগ্যে সপ্তাহে সাত দিনই শনির দশা নাচবে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড্ড চিন্তিত সে। বাচ্চাগুলো তাদের মায়ের মতো না হলেই হলো।
আদ্রিয়ান একবার করে সামনে থাকা ছেলে-মেয়েদের দিকে তাকালো। এগুলো তারই স্টুডেন্ট, এমনকি ওই জেদি অহংকারী রমনিটিও তার স্টুডেন্ট। এই যে সে তার এতগুলো স্টুডেন্টের সামনে এতটা অপমানিত হলো, সেটা সে গায়েই মাখলো না। মেখেও কী লাভ? ওই পাষাণী তো আর তার রাগ ভাঙাতে আসবে না। কিছু হলেই খালি এক ডায়লগ দেবে—“আমি ভালোবাসায় বিশ্বাস করি না।”
আদ্রিয়ান মনে মনে অভিশাপ দিলো, “একদিন তুমিও প্রেমে পড়বে, মেয়ে। একদম কোমর ভেঙে পড়বে। তখন তোমার ওই অহংকার বেলুনের মতো হাওয়া হয়ে যাবে। দেখে নিও।”
মনে মনে অভিশাপ দেওয়া শেষ হলে পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখটা মুছে নিলো। ভাগ্যিস গ্লাস ভর্তি পানি ছিল না, তাহলে এই পানিতে তার আজকের গোসলটাও সারা হয়ে যেত। মুখ মুছে চিরচরিত প্রোফেসর লুকে ফিরে এলো আদ্রিয়ান। সামনে থাকা চারজন ছেলে-মেয়ের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললো—
,,স্টুডেন্ট! তোমরা দাঁড়িয়ে আছো কেন? খাবার কন্টিনিউ করো।
,,,স্যারের আদেশ পেয়ে বসে পড়লো চারজন। এতগুলো খাবার তো আর নষ্ট করা যায় না। আদ্রিয়ান ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে ৮ নম্বর টেবিলের বিল পে করে সবার থেকে বিদায় নিয়ে রেস্টুরেন্টের বাইরে বের হলো। শখের হেলমেটটা ভেঙেচুরে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে দেখে তপ্ত শ্বাস ফেললো আদ্রিয়ান। যাওয়ার আগে ঠিকই তার হেলমেটটা গুঁড়ো গুঁড়ো করে গেছে বজ্জাত মেয়ে একটা। হেলমেটটা হাতে তুলে রাস্তার ওপাশের পুকুরে ছুড়ে মারলো আদ্রিয়ান। পরপর বাইকে উঠে স্টার্ট দিলো, উদ্দেশ্য পাষাণ মানবীকে খুঁজে বের করা। এই পাগলি একবার যেহেতু ক্ষেপেছে, আগামী তিন-চার ঘণ্টা বাড়ি ফিরবে বলে মনে হয় না। তাই আপাতত তাকেই এই মেয়ের পিছন পিছন টহল দিতে হবে।
মাঝারি স্পিডে বাইক ছুটছে রমনার রোড ধরে। গায়ের লং শার্টটা বাতাসের সাথে সাথে ধপধপ শব্দ তুলছে। লম্বা চুলগুলো গার্ডার দিয়ে আটকানো থাকলেও ছোট ছোট চুলগুলো চোখে-মুখে বাড়ি খাচ্ছে। সন্ধ্যার পরপর এদিকটায় প্রচুর গাড়ি থাকে— এই ব্যাপারটা প্রচণ্ড রকমের বিরক্ত লাগে অর্পনার। শান্তিমতো বাইক রাইড করতে না পারলে মনের খায়েশ মেটে না। তার উপর কিছুক্ষণ আগে ঘটা রেস্টুরেন্টের ঘটনার জন্য মাথায় অদম্য রাগ চেপে আছে।
ঐ প্রোফেসরটাকে মাঝেমধ্যে অর্পনার কাছে পাগল মনে হয়। এত অপমান করে, তারপরও তার হ্যাংলামো কমে না। কী আছে অর্পনার মাঝে? যাই থাকুক না কেন, এভাবে হ্যাংলামো করে কী প্রমাণ করতে চায়? সে অর্পনাকে ভালোবাসে? এই নিমকহারামের বংশধরদের আবার ভালোবাসা? এই ভালোবাসার উপর থুতু ছুড়ে অর্পনা।
মাথায় দপদপ করা রাগটা কিছুতেই কমছে না। এই তো ঘণ্টাখানেক আগে রাতের ডিনার করতে চার বন্ধুকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে ঢুকেছিল অর্পনা। উদ্দেশ্য— তাদের সাথে দুই-তিন ঘণ্টা আড্ডা দিয়ে তারপর বাড়ি ফেরা। এমনিতেও সে তেমন একটা বাড়িতে থাকে না। থাকবেই বা কার সাথে? পাপ্পা ছাড়া তো আর কেউ নেই তার। পাপাও এখন অন্য ডিস্ট্রিক্টে। অগত্যা একাকিত্ব কাটাতে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে রেস্টুরেন্টে ঢোকা।
সবার ইচ্ছামতো খাবার অর্ডার করে প্রতিবারের ন্যায় আড্ডায় মেতেছিল পাঁচজন। মিনিট পঁচিশ পেরুতেই ওয়েটার খাবার নিয়ে এলো। সহসাই খাওয়া শুরু করল তারা। খাওয়ার একপর্যায়ে হুট করেই বিষম ওঠায় পরপর কাশতে লাগল অর্পনা। বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে একজন পানি দিতে নিতেই সেটা ছোঁ মেরে নিয়ে নিল কেউ একজন। এক হাতে জড়িয়ে ধরে আগলে নিল অর্পনাকে, পানিটা মুখের কাছে ধরে পিঠে আলতো চাপড় দিতে লাগল।
এপর্যায়ে অর্পনার মনে হলো, তাকে বুঝি তার পাপ্পাই আগলে রেখেছে। তবে যখন বুঝল, তাকে আগলে রাখা মানুষটা তার পাপ্পা নয়, বরং সবচেয়ে অসহ্যকর ব্যক্তি— আদ্রিয়ান কাইসার; তখনই ফুঁসে উঠল অর্পনা। ধমকের স্বরে বলল—

— এই! আপনি এখানে কী করছেন? আর আমাকে এভাবে ধরলেন কোন সাহসে?
— সাহস তো আমার বরাবরই বেশি, জানেম। যাই হোক! এই ঝাল খাবারটা কেন খাচ্ছিলে তুমি? জ্ঞান-বুদ্ধি সব লোপ পেয়েছে? রাতে জ্বর এলে কে দেখবে?
(সাথে থাকা বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে)
কেমন বন্ধু-বান্ধব তোমরা? ও যে ঝাল খেতে পারে না, এটা তোমরা জানো না? আটকাওনি কেনো?
ইরা মাথা নত করে বলল—
— সরি স্যার! বাট অর্পনা অনেক জেদি। মানা করলেও কথা শুনতে চায় না।
আদ্রিয়ান রাগী চোখে অর্পনার দিকে তাকালে অর্পনা তার থেকেও অধিক চক্ষু গরম করে তাকিয়ে বলল—
— আমি যা খুশি খেলাম, তাতে আপনার কী? অতিরিক্ত অধিকার দেখাচ্ছেন, বিষয়টা পছন্দ হচ্ছে না আমার। আর একবার আমার বিষয়ে নাক গলাতে আসলে আপনার নাক নয়, বরং গলাটাই আলাদা করে দেব। দূরে হাঁটুন!
বলেই হালকা ধাক্কায় আদ্রিয়ানকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিল। আদ্রিয়ান চোখে-মুখে অসহায়ত্ব ফুটিয়ে বলল—

— অর্পনা! তুমি কি আমায় কোনোদিন বুঝবে না? আমার ভালোবাসাটা কি বরাবরের মতো জোকস বলেই উড়িয়ে দেবে? অন্যের করা ভুলের শাস্তি আমায় কেন দিচ্ছ? আমি কী করেছি বলো?
আদ্রিয়ানের আবেগপ্রবণ কথাগুলো জ্বালা ধরিয়ে দিল অর্পনার সর্বাঙ্গে। এসব গাঁজাখুরি কথাবার্তা তার হজম হয় না। অগত্যা মনের ভিতরে থাকা চাপা রাগটা আদ্রিয়ানের মুখের উপর পানি ছুড়ে মারার মাধ্যমে প্রকাশ করল।
হঠাৎ পাশাপাশি বাইক রাইডের শব্দ হতেই পাশ ফিরে তাকাল অর্পনা। সেই চিরচরিত ব্ল্যাক স্যুট পরা ব্ল্যাক বাইকের মালিক। আল্লাহ এই লোকটাকে এত ছ্যাঁচড়া বানালেন কেন, ভেবে পায় না অর্পনা।
সে আদ্রিয়ানের দিকে নজর দিল না। রাস্তা ফাঁকা পেয়ে স্পিড বাড়াল। আদ্রিয়ানও সমান তালে স্পিড বাড়াল। দুজন পাশাপাশি। অর্পনার মনোযোগ না পেয়ে আদ্রিয়ান শিস বাজাল—
“আমি শুধু চেয়েছি তোমায়…”
অর্পনা সেদিকে পাত্তাই দিল না। এরপরও মনোযোগ না পেয়ে আদ্রিয়ান উচ্চস্বরে বলল—

— এই যে উড়নচণ্ডী! বাড়ি ফিরবেন কখন?
— আপনাকে বলতে হবে? আপনি কি আমার বাপ নাকি চাচা? যে আপনাকে কৈফিয়ত দেব?
আদ্রিয়ান সাথে সাথে দাঁত দিয়ে জিভ কাটল। দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বলল—
— আস্তাগফিরুল্লাহ! নাউজুবিল্লাহ! তওবা তওবা! এই মেয়ে বলে কী? নিজের ভবিষ্যৎকে কেউ বাবা-চাচার সাথে তুলনা করে? বেয়াক্কেল মেয়ে।
— কে কার ভবিষ্যৎ? আপনি-ই যে আমার ভবিষ্যৎ, সেটা আপনি জানলেন কী করে?
— কে আর হবে? তোমার মতো উড়নচণ্ডীকে কে ভালোবাসবে? ভাগ্যিস আমার রুচির দুর্ভিক্ষ চলছিল, নয়তো তোমার প্রেমে পিছলানোর মতো পোলা কিন্তু আমি না।
অর্পনা বাইকের স্পিড আরেকটু বাড়িয়ে বলল—
— তাহলে রুচির সিরাপ খান, রুচি ঠিক হয়ে যাবে।
আদ্রিয়ানও সমান তালে স্পিড বাড়িয়ে বলল—

— এ রুচি ঠিক হওয়ার নয়, জানেম। আই লাভ ইউ।
— রাগাস না! অতিরিক্ত করলে ভুলে যাব, তুই আমার প্রোফেসর। হাঁট এখান থেকে।
— ইতোমধ্যে যে ভুলেই বসেছ, সেটা তোমার তুই-তোকারি করাতেই বোঝা যায়। সমস্যা নেই! আমার দাদু বলত, বিয়ের পর নাকি দাদিও রেগে গেলে আমার দাদুকে তুই-তোকারি করত। সেদিক থেকে তুমি এগিয়ে আছ। তুমি বিয়ের আগেই আমাকে তুই-তোকারি করে জামাই জামাই ফিল দিচ্ছ। ইটস নট ব্যাড, জানেম। ওম্মাহ!
সামনে দুটো মোড়। এটাকে পিছু ছাড়াতে অর্পনা বামে মোড় নিল, তাও স্পিড হাই। বাট কাজ হলো না। হ্যাংলাটা ঠিকই পিছু নিয়েছে। অর্পনার মন চাচ্ছে, এটাকে দাঁড় করিয়ে এখনই বিশ-পঁচিশটা থাপ্পড় দিতে। বেয়াদব কোথাকার! এর জ্বালায় শান্তিতে কিছু করা যায় না। মনমতো খাওয়া, ঘোরা, এমনকি বাইক নিয়ে কোথাও যাওয়াও যায় না।
টানা বিশ মিনিট অজানা গন্তব্যে ছুটল দুজন। অর্পনা বরাবর চেষ্টা করল আদ্রিয়ানকে পিছন থেকে সরাতে, আর আদ্রিয়ান প্রতিবারের ন্যায় ছুটে গেল অর্পনার পিছন পিছন।
হুট করেই রাস্তায় সিগন্যাল পড়ায় দুজনেই থেমে গেল। দুজনের কারোর মাথায়ই হেলমেট নেই। সামনে ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়িয়ে। এবার একটা কেস না খেলেই নয়। বিষয়টাতে আদ্রিয়ান চিন্তিত থাকলেও অর্পনা নির্বিকারভাবে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও ওই আদ্রিয়ান কাইসারের জন্য অর্পনার জীবনেও চিন্তা হয়নি, তবে অর্পনাকে নিয়ে আদ্রিয়ানের চিন্তার অভাব নেই।
আদ্রিয়ান আর অর্পনা পাশাপাশি থাকায় আদ্রিয়ান সহজেই কাত হয়ে অর্পনার কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে। তাদের মধ্যেকার দূরত্ব এক হাতের মতো হবে। আদ্রিয়ান মাথা কাত করে চাপা স্বরে বলল

— টেনশন নিও না জানেম, তোমার ফিউচার আছে না? আমি থাকতে তোমায় কেউ কিছু বলতে পারবে না। প্রয়োজনে তোমার হয়ে আমি ফাইন দেব। তোমার বকাটাও না হয় আমি হজম করে নেব। তুমি শুধু দিন শেষে একটু ভালোবাসা দিও, যেন আমার বদহজম না হয়।
অর্পনা দাঁতে দাঁত চেপে ভাবল— এই হ্যাংলার সবকিছুতেই ভালোবাসা লাগবে! এত ভালোবাসা ভালোবাসা করলে দিবে না রাস্তা থেকে একটা পাগল ধরে বিয়ে করিয়ে? তখন বুঝবি বিয়ে, বউ আর ভালোবাসা কী জিনিস!
মিনিট দুই পেরুতেই সিগন্যাল সরে গেল, বাট ওদের যেতে দেওয়া হলো না। দুটো ট্রাফিক পুলিশ এগিয়ে এলো তাদের দিকে। একদম সামনে এসে জিজ্ঞেস করল—
— হেলমেট কোথায়?
— পকেটে।
অর্পনার এহেন কথায় পুলিশটির ভ্রু কুঁচকে এলো। কিছুটা শাসানোর স্বরে বলল—
— মানে?
অধৈর্য অর্পনা বাইকের চাবি ঘুরিয়ে বাইক স্টার্ট দিয়ে বলল—
— মানে আবার কী? হেলমেট পকেটের ভিতর রেখে আপনাদের সার্কাস দেখাতে এসেছি। দেখছেন, সাথে হেলমেট নেই। তবুও আবার জিজ্ঞেস করছেন কেন? কত টাকা ঘুষ দিতে হবে বলে দিন। আমার এত ফালতু বকবক করার সময় নেই।
অর্পনার সোজাসাপ্টা কথাটা হজম হলো না পুলিশটির। সে চাপা ক্ষোভ দেখিয়ে বলল—

— এই মেয়ে! পুলিশের সাথে বেয়াদবি করা হচ্ছে? সাহস তো কম না!
— এখানে বেয়াদবির কী হ—
আর বলতে পারল না অর্পনা। আদ্রিয়ান ঝট করে এসে অর্পনার মুখ চেপে ধরল। পরপর পুলিশের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল—
— স্যার! মেয়ে মানুষ, তারটা একটু কাটা। কিছু মনে করবেন না। এরপর থেকে আমরা আর এরকম হেলমেট ছাড়া বের হব না। যথেষ্ট সতর্ক হব। কত টাকা ফাইন দিতে হবে বলুন, আমি দিচ্ছি।
অর্পনা মুখের উপর থেকে হাত সরাতে চাইলে আদ্রিয়ান আরেকটু শক্ত করে ধরল। অর্পনা একপ্রকার ত্যাড়া নজরে তাকিয়ে আদ্রিয়ানকে শাসাল। ওদের কাণ্ড দেখে পুলিশটি বলল—
— এটা কে হয় আপনার?
আদ্রিয়ান একপ্রকার লাজুক হাসার ভান করে বলল—
— কে আর হবে? আমার একমাত্র বউ। বউটা একটু উড়নচণ্ডী, বাট আমার অনেক আদরের স্যার।
পুলিশটি মুখটা পাংশুটে করে বলল—
— নিজের বউকে সামলান। মুখটা একটু বেশি চলে। দুজনের যেহেতু হেলমেট নেই, তাই জন প্রতি পাঁচশো করে এক হাজার টাকা দিন।
আদ্রিয়ান সেভাবেই পকেট হাতড়ে ওয়ালেট বের করে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিল। ওর কাণ্ডে বিরক্ত হলেও তিনি ওয়ালেট থেকে এক হাজার টাকার একটা নোট নিয়ে আবার ওয়ালেটটা ফিরিয়ে দিলেন। সাথে সতর্কবাণীও ছাড়লেন কয়েকটা।
আদ্রিয়ান সেসব মেনে নিয়ে অর্পনার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল—

— পাঁচ মিনিটের জন্য মুখটা বন্ধ রাখো জান। এই রাতের বেলায় থানায় যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নাই। প্লিজ, প্লিজ!
বলেই অর্পনার মুখ থেকে হাত সরিয়ে দিল। আদ্রিয়ান সরতে দেরি, অর্পনার বাইকের গিয়ার চাপতে দেরি নেই। একদম ফুল স্পিডে পুলিশের সামনে দিয়ে চলে গেল। আদ্রিয়ান হতভম্ব হয়ে পুলিশের দিকে তাকাল। পুলিশটি দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বোঝাল— “এই বউ আপনার জীবনটা বরবাদ করে দেবে।”
তপ্ত শ্বাস ফেলল আদ্রিয়ান। সেও ছুটল অর্পনার পিছু পিছু। তার জীবনটা সত্যিই বরবাদ করে দিচ্ছে মেয়েটা। যদিও মেয়েটা তার বউ না, তবে ভবিষ্যতে হবে— ইনশাআল্লাহ!
কিছু পথ যেতেই আবারও সামনে দুটো মোড় পেল। এখন সে কোনটাতে যাবে, ভেবে পাচ্ছে না। কোনটাতে গেলে অর্পনাকে পাবে? এই মোড়ে মোটামুটি লোকসমাগম রয়েছে। তাই আদ্রিয়ান ভাবল, কাউকে জিজ্ঞেস করবে একটু আগে বাইকটা কোন মোড়ে গিয়েছে।
আদ্রিয়ান যখন নজর বুলিয়ে মানুষ খুঁজতে ব্যস্ত, তখনই নজর আটকাল সামনাসামনি থাকা ফুচকা স্টলটায়। সাথে সাথে মাথায় এক চিন্তার আবির্ভাব ঘটল। ডান হাতের তর্জনী আঙুল তুলে কপাল ঘষে আওড়াল—
,, অর্পন ওদের দেখেনিতো?

,,সুনিপুণ আঙুলে গিটারের তারে টুংটাং সুর তুলছে এক রমণী। গিটারধারী রমণীর পরনে লুজ ট্রাউজার ও ওভারসাইজ টি-শার্ট। লম্বা কেশরাশি অবাধে ছড়িয়ে রয়েছে পিঠজুড়ে, সামনের ছোট ছোট চুলগুলো নির্বিকারভাবে ঢেকে রেখেছে তার লালিত চোখজোড়া। অন্য ঘরগুলোর ড্রিম লাইটে কমলা, খয়েরি আর গোলাপি আভা ছড়িয়ে পড়লেও এই মাঝারি সাইজের ঘরটা ডুবে আছে ডার্ক বাদামী আলোর গভীরতায়। যেন অন্ধকারের ভেতর আরেক অন্ধকারকে নিঃশব্দে পুষে রাখার প্রচেষ্টা।
সময়টা তখন রাত ২টা ২৫। গত ১৫ মিনিট যাবৎ ফেসবুকে সরাসরি লাইভ চলছে। রমণীটি প্রায়ই মধ্যরাতে হুটহাট লাইভে আসে, গিটারে টুংটাং সুর তোলে, মন চাইলে গান গায়। কখনো সম্পূর্ণটা গায়, কখনো অর্ধেকটা গেয়েই থেমে যায়, আবার কখনো কোনো বাক্য ব্যয় না করেই হুট করে লাইভ ছেড়ে বেরিয়ে যায়। আজও ব্যতিক্রম হলো না। রাত ২টা ১০ বাজতেই প্রতিটি ফ্যান-ফলোয়ারের ফোনে নোটিফিকেশন ভেসে উঠল— “Pritha Zaman is live.”
তার মানে প্রিথা জামান লাইভে এসেছে। সবাই বলে Gen-Zরা নাকি রাতে ঘুমায় না। তারই প্রমাণ পাওয়া গেল এই ১৫ মিনিটে। এটুকু সময়েই ৫ লাখেরও বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছে লাইভে। তাদের দৃষ্টি ফোনে নিবদ্ধ। ব্যাপারটা লাইভ হলেও তারা পৃথা জামানকে কখনো সরাসরি দেখেনি, যতটা দেখেছে এই বাদামি আলোয় কারও আবছা অবয়ব।
এখন প্রশ্ন আসে, তাহলে তারা কিসের টানে পৃথা জামানের লাইভে আসে? কেন সহ্য করে এই রমণীর বেপরোয়া কার্যক্রম? তার অবশ্য মুখ্য একটা কারণ আছে। এই রমণীর গানের গলা এবং গিটারের টুংটাং শব্দগুলো সবচেয়ে আলাদা। তার গাওয়া প্রতিটি গান হিট। আজ লাইভে যে গান গাইবে, গতকাল সেসব ফেসবুক, টিকটক, ইন্সটাসহ আরও অনেক সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে যাবে। যদিও তার এই পাবলিসিটি অর্জন একদিনের নয়, কয়েক বছর লেগেছে এমন একটা ফ্যানডম তৈরি করতে।
রমণীটি যখন মন দিয়ে গিটারে সুর তুলছিল, তখন লাইভে থাকা ফ্যানরা বারবার মেসেজ করছিল—

“Pritha!! গান স্টার্ট করো, আজও ডিফারেন্ট কিছু চাই। স্টার্ট!!”
মেয়েটা সেসব মেসেজ দেখেনি, কখনো দেখার প্রয়োজনও মনে করেনি। তার যখন ইচ্ছা হয়, সে তখন গান গায় আর এটাই তার নিজস্ব নিয়ম। গিটারের টুংটাং শব্দে সময়ের ঘোর কাটল আরও ৫ মিনিট পর। পরপর গিটারের সাউন্ড বাড়ল, তাতে দেওয়া হলো জেমসের মোস্ট ফেমাস সং “Bheegi Bheegi”-এর সুর। ধীরে ধীরে গান ধরল রমণীটি—

,,Bheegi bheegi si hain,
Raatein bheegi bheegi,
Yaadein bheegi bheegi,
Baatein bheegi bheegi…
Aankhon mein kaisi nami hai…
Aha aha haha, aha… aha haha…
Aha aha haha, aha… aha haha…
Sapno ka saya palkon pe aaya,
Pal mein hasaya,
Pal mein rulaya…
Phir bhi yeh kaisi kami hai…
Aha aha haha, aha… aha haha…
Aha aha haha, aha… aha haha…
,,,ভেবে দেখেছ কি? তারারাও যত
আলোকবর্ষ দূরে, তারও দূরে,
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে…
ভেবে দেখেছ কি? তারারাও যত
আলোকবর্ষ দূরে, তারও দূরে,
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে…
হিন্দি আর বাংলা গানের সংমিশ্রণে জনতা গাগল প্রায়। সকলেই মেসেজের মাধ্যমে অ্যাপ্রিশিয়েট করছে—

“Wow! Like a best song and you are my best singer forever!!”
এসব অ্যাপ্রিশিয়েশনকেও নজর দিয়ে দেখল না অর্পনা। তার কাছে এসব নতুন কিছুই না। গান গাইতে গাইতে হুট করেই মানসপটে কারও চেহারা ভাসতেই গানের মাঝখানে থেমে গেল অর্পনা। কোনো বাক্য ব্যয় ব্যতীত এক লহমায় মোবাইলটা মেঝেতে ছুড়ে মারল। একটিবারও ভাবল না তার ফ্যানডমের কথা, তার এই উগ্র আচরণে ফ্যানরা কতটুকু বিরক্ত হবে তাও ভাবল না।
মূলত তার শান্তি লাগছে না। কোথাও শান্তি নেই। এই গান গেয়েও আজ মনকে শান্ত করতে পারছে না। সে তো ওই মহিলাকে ঘৃণা করে, তাহলে তাকে দেখে তার কেন কষ্ট হবে? কেন অস্থির হবে প্রাণটা? নিজের উপর রাগ হচ্ছে অর্পনার আর সেই রাগ মেটাতে হাতের কাছে যা পেল তাই দেওয়ালে ছুড়ে মারল। এই জীবনটা তার বিরক্ত লাগে, জাস্ট বিরক্ত। খুব করে চায় এই জীবন থেকে মুক্তি নিতে, সারাজীবনের মতো এই ধরনীর মায়া ত্যাগ করতে। কিন্তু পাপ্পার জন্য পারে না। তার যেমন পাপ্পা ছাড়া কেউ নেই, তেমন পাপ্পারও তো অর্পনা ছাড়া কেউ নেই।
হাতের কাছে একপ্রকার যা পেল তাই ছুড়ে মারল দেয়ালে। সেই দেয়ালেও ওই মহিলার ছবি ভেসে উঠছে, যা অর্পনার অস্বস্তি আরও দশগুণ বাড়িয়ে তুলছে। যেই দেওয়ালে ওই পাষণ্ড, বেইমান মহিলার ছবি ভাসবে, সেই দেয়ালটাকেই ক্ষতবিক্ষত করে দেবে সে।
অর্পনা যখন ভাঙচুর করতে ব্যস্ত, তখন দরজার ওপাশ থেকে ধাক্কার শব্দ ধেয়ে এলো, সাথে এক কাতর পুরুষালি কণ্ঠস্বর—

— জানেম! প্লিজ, ওপেন দ্য ডোর। কেন পাগলামি করছ? কেন অন্যের শাস্তি আমাকে দিচ্ছ বলো? খোলো না দরজাটা, প্লিজ! এভাবে নিজের সাথে সাথে আমাকেও কষ্ট দিও না।
আদ্রিয়ানের কাতর বাণী অর্পনার যন্ত্রণা আরও দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই ছেলেটা তো ওই মহিলারই বংশধর। বিশ্বাসঘাতকের বংশধর। বিশ্বাসঘাতকরা সবসময় বিশ্বাসঘাতকই হয়। তাই এই ছেলের অহেতুক নাটকে বিশ্বাস করবে না অর্পনা। প্রয়োজনে আজীবন একা কাটিয়ে দেবে, তাও এদের মতো পাপীদের ভালোবাসবে না, কখনোই না।
আদ্রিয়ানের কাতর স্বরকে পাত্তা না দিয়ে আবারও ভাঙচুর করছে অর্পনা। ওই নারীর মুখশ্রী যতক্ষণ না চোখের আড়াল হবে, ততক্ষণ সে এভাবেই সব তছনছ করে দেবে। ভাঙচুর করতে করতে একপর্যায়ে নেতিয়ে পড়ল অর্পনা। ডান হাত কেটে ঝরঝর করে রক্ত ঝরছে। সে বিছানার এক কোণায় ক্লান্ত শরীরটা ছেড়ে দিয়ে অস্ফুট স্বরে আওড়াল—

— আই হেইট ইউ… আই অলসো হেইট ইউ!!
দরজার এ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ধাক্কাধাক্কি করছে আদ্রিয়ান। তার নিজেকে পাগল পাগল লাগছে। এই মেয়েটা এত অবুঝ কেন? এতটা অবুঝ হতে হয় না। একজন ভালোবেসে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে সবাই বিশ্বাসঘাতক নয়। এতক্ষণ ভাঙচুরের শব্দ এলেও এখন ভেতরটা নিস্তব্ধ। এই নিস্তব্ধতাই আদ্রিয়ানের বুকে ঝড় তুলে দিতে সক্ষম। সে উন্মাদের মতো দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে ডাকল—
— জানেম! ভাঙচুর করছ না কেন? কী হয়েছে তোমার? দরজা খোলো, নয়তো ভাঙচুর করো। তুমি ঠিক আছ? বলো না! অর্পনা! এই অর্পনা! অর্পনারে, মেরে ফেলবি আমায়? টেনশনে মাথা ফেটে যাচ্ছে। প্লিজ জান, দরজা খোল। অর্পনা! সিট সিট সিট! ” লাইফটা হেল করে দিল।
অতিরিক্ত টেনশনে মাথার চুল খামচে ধরল আদ্রিয়ান। ততক্ষণে পকেটে থাকা মুঠোফোনটা বেজে উঠল। পকেট হাতড়ে ফোনটা সামনে আনতেই স্ক্রিনে “আঙ্কেল” নামটা ভেসে উঠল। তাড়াহুড়ো করে ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে এক মধ্যবয়সী লোকের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো—
— কী হয়েছে আদি? প্রিন্সেস হঠাৎ করে লাইভ থেকে বেরিয়ে গেল কেন? ইজ শি ওকে? টেল মি, অল ওকে না?
আদ্রিয়ান তপ্ত শ্বাস ফেলে ভঙ্গুর কণ্ঠে শুধাল—
— আপনার মেয়ে আমায় পাগল বানিয়ে দেবে আঙ্কেল। সব জায়গা থেকে ডোর লক করে রেখেছে। মেইন দরজা, বারান্দার দরজা, প্লাস জানালাগুলোও— সবদিক থেকে বন্ধ। এতক্ষণ ভাঙচুর করছিল, এখন তাও করছে না। ভেতর থেকে ন্যূনতম শব্দও বাইরে বের হচ্ছে না। আমার নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগছে আঙ্কেল। ওর কিছু হয়নি তো?
আদ্রিয়ানের কথায় ওপাশে থাকা মধ্যবয়সী লোকটারও অস্থিরতা বাড়ল। সে দ্রুততার সাথে জানতে চাইল—
— এমন করছে কেন ও? কিছু হয়েছে? কী হয়েছে বলো? অর্পনা তো এমনি এমনি ভাঙচুর করার মেয়ে না।
আদ্রিয়ান আরও একটা তপ্ত শ্বাস ফেলল। এই কথাটা বলা কতটা শুভকর হবে তা তার জানা নেই। তবুও বলতে হচ্ছে। সে ধীর কণ্ঠে বলল—

— রাস্তায় ফুপিকে দেখেছে, সাথে উনার…
— আচ্ছা! বুঝছি, আর বলতে হবে না। তুমি সকাল পর্যন্ত মেয়েটাকে দেখে রেখো। আমি সকালের আগেই ফিরছি।
— কিন্তু আঙ্কেল! আপনার ডিউটি?
— ওসব আমার কাছে কিছুই না আদি। সবার আগে আমার প্রিন্সেস। ওর জন্য এমন হাজারটা জব এক লহমায় ছেড়ে দিতে পারি। তুমি কল রাখো, আমি এখনই রওনা হব।
ওপাশ থেকে কল কেটে গেল। পরিবেশ সম্পূর্ণ শান্ত। থেকে থেকে একটা পেঁচা আরেকটা কু-পাখি ডেকে যাচ্ছে, যেই ডাকগুলোতে আদ্রিয়ানের ভয় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। ভয় লাগছে ভেতরে থাকা পাষাণ রমণীর জন্য, যে এই পৃথিবীর সবকিছু বুঝে, শুধু তাকে ছাড়া। এই পৃথিবীর সকল ভালো-মন্দ সে নির্দ্বিধায় মেনে নেবে, শুধু আদ্রিয়ানের ভালোবাসা ছাড়া।

এই মেয়েটা যদি বুঝত আদ্রিয়ান তাকে ঠিক কতটা ভালোবাসে, তাহলে কখনোই তাকে এতটা ইগনোর করত না। তাহলে কি সে ভালোবাসা বুঝাতে ব্যর্থ? নাকি অর্পনাই ইচ্ছে করেই তাকে বুঝতে চায় না? কেন বুঝতে চায় না? সে তার ফুপির রক্ত বলে? একজন ঠকিয়েছে বলে কি সেও ঠকাবে? এ কেমন বিচার? এই বিচার মানতে ভীষণ কষ্ট হয় আদ্রিয়ানের। মেয়েটা তাকে বোঝে না, এক বিন্দু বোঝার চেষ্টাও করে না।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২