,,,, ২০০২ সালে সারোগেসি পদ্ধতিতে সন্তান নেওয়া বিশ্বজুড়ে তুলনামূলক ভাবে বিরল একটি মাধ্যম ছিলো। উন্নত দেশগুলোতে সীমিত পরিসরে এর চর্চা থাকলেও, বাংলাদেশের মতো রক্ষণশীল ও তথ্য-প্রযুক্তি থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন দেশে এরুপ কোনো ধারনাই ছিলো না। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা খুব কম ছিল।সে সময় দেশে সাক্ষরতার হার ছিল প্রায় ৩৮.৮%, অর্থাৎ জনসংখ্যার বড় একটি অংশই মৌলিক শিক্ষার বাইরে ছিলো। যার ফলে সারোগেসির মতো জটিল ও আধুনিক চিকিৎসা-পদ্ধতি নিয়ে সচেতনতা বা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়ার মতো পরিবেশ বাংলাদেশে তখনও গড়ে ওঠেনি। বলতে গেলে, ২০০২ সালের দিকে বাংলাদেশে সারোগেসি ছিল একেবারেই অপরিচিত ও দুর্লভ একটি ধারণা।
সারোগিসি মাধ্যমঃ কোনো দম্পত্তি যদি সন্তান ধারণে অক্ষম হয়,, কিংবা নিজ গর্ভে সন্তান ধারন করতে না চায়,, তখন পুরুষ হতে শু*ক্রানু এবং নারী হতে ডি*ম্বানু কালেক্ট করে চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করে অন্য একজন নারীর গর্ভে স্থাপন করাকে সারোগেসি মাধ্যম বলা হয়। আর জিনি সেই সন্তানকে গর্ভে ধারন করে তাকে বলা হয় সারোগিসি মাদার। একজন সারোগেসি মাদারের দায়িত্ব ততক্ষন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে যতক্ষণ না বাচ্চা পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়। যেদিন বাচ্চা জন্মগ্রহণ করবে সেদিনি বাচ্চাটির পরিবারের কাছে বাচ্চাটিকে হস্তান্তর করার চুক্তিকে বলা হয় সারোগেসি চুক্তি!!
,,,তেমনি একটি চুক্তির শামিল হতে যাচ্ছে সুহাসিনী। সকাল সকাল ফাহিমাকে নিয়ে বেড়িয়ে পরলো সে,, তারা এই মুহুর্তে ফাহিমার এক রিলেটিভের বাড়ি যাবে। উনারা সম্পর্কে ফাহিমার ফুপা ফুপি হয়। উনারা জন্মগত বাংলাদেশি হলেও তাদের সর্বোক্ষনিক বাসস্থান ভারতে। ওখানেই তাদের বিজনেস, বাড়ি, গাড়ি, এভরিথিং। আবার বাংলাদেশেও বেশ নাম ডাক রয়েছে তাদের। তবে এতো এতো নাম ডাকের পরেও উনাদের জীবনে অপূর্নতা নামক একটি শব্দ থেকেই যায়। তারা তাদের দীর্ঘ ১৩ বছরের বৈবাহিক জীবনে কোনো সন্তান-সন্ততির মুখ দেখেতে পায়নি। বহু চেষ্টা করেছে, ডক্টর দেখিয়েছে কিন্তু প্রতিটি ডক্টর একই কথা বলেছেন, মিসেস নৌরিন সেখরের গর্ভাশয় সন্তান ধারণের জন্য উপযোগী নয়। যত চিকিৎসাই করা হোক না কেন, স্বাভাবিকভাবে তার পক্ষে সন্তান জন্ম দেওয়া অসম্ভব। যদি নিজেদের বেবি নিতেই হয় তাহলে সারোগেসির মাধ্যমে নিতে হবে। মাহেন্দ্র শেখর এবং নৌরিন শেখর কখনোই এডাপ্টেট চাইল্ড নিতে রাজি নন। তারা বরাবরি চেয়ে এসেছেন যেনো তাদের নিজের একটা সন্তান হয়। তাই তারা সারোগিসির মাধ্যমে একটা বেবি নিতে চাচ্ছে। যার ফলে বহুদিন যাবত এমন একজন মেয়েকে খুঁজছিলেন যে সেচ্ছায় তাদের সন্তান গর্ভে ধারন করবে,, কিন্তু এমন কাউকেই খুজে পাচ্ছিলেন না। আবার হসপিটাল কর্তিক সদস্য দিয়ে যদি সারোগেসি করাতে চান,, তাহলে তার খরচা কোটি টাকা পর্যত পৌছাতে পারে। উনারা যথেষ্ট পরিমানের বড়োলোক হলেও এতো টাকা খরচা করার সামর্থ তাদের নেই,, তাই কম টাকায় বাংলাদেশি কোনো অসহায় নারীকে বেছে নিতে চাচ্ছেন। যেনো তাদের বাচ্চাটা সহিসালামতে পৃথিবীতে আসে আর একজন অসহায় নারীর ও কষ্ট দূর হয়ে যায়।
,,, ফাহিমার কথা মাফিক তাদের ফুফুর শ্বশুর বাড়িতে পৌছাতেই ওর ফুপা ফুপির সাথে দেখা হলো। দম্পত্তি দুজন বেশ ভদ্রলোক,, মাহেন্দ্র শেখর এবং উনার স্ত্রী নৌরিন শেখর বড্ড আন্তরিক মানুষ। সুহাসিনীর সাথে পুরো ব্যাপারটা নিয়েই আলোচনা করলেন। এমনকি ওর কষ্টের তুলনায় ওকে কম টাকা দিচ্ছেন সেই কথাও স্বীকার করলেন। সুহাসিনী উনাদের সমস্যাটা বুঝতে পারলো। টাকার জন্য দুজন মানুষ সন্তান হতে বন্চিত হবে এটা সে মানতেই পারছে না। টাকার অভাব যে কতটা যন্ত্রণার সেটা তার থেকে বেশি আর কে বুঝে? অগত্যা ২০ লাখ টাকায় ই রাজি হয়ে গেলো। এই টাকা গুলো তার কাছে কম কিছু নয় বরং এতোগুলো টাকা পেলে তার জীবনের সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে। অগত্যা কথা বার্তা বলে ১০ মাসের চুক্তি করা হলো,, সুহাসিনীর গর্ভে ভ্রুন প্রবেশ করানোর পর যদি সবটা ঠিকঠাক হয় তাহলে নগদে পাঁচলাখ,, তারপর প্রতি মাসে একলাখ করে দিবে। আর ডেলিভারি শেষে একসাথে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও মাহেন্দ্র শেখর স্বইচ্ছায় আরও ৩ লাখ টাকা বাড়িয়েছেন। বেবি জন্ম নিলে একসাথে ৮ লাখ টাকা প্যামেন্ট করে তারপর বাচ্চা নিয়ে আসবেন তারা। মাহেন্দ্র শেখরের সিদ্ধান্তে কৃতজ্ঞ হলো সুহাসিনী,, মাহেন্দ্র শেখর আর নৌরিন শেখর ও বেশ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন সুহাসিনীর প্রতি। চুক্তির কাগজ নিয়ে বেড়িয়ে এলো সুহাসিনী,, বুকের ভিতরটা ভয়ে ঢিপ ঢিপ করছে। এতোক্ষণ উনাদের সাথে খুশি খুশি কথা বললেও এখন অস্বস্তিতে গলা শুকিয়ে আসছে। এটা কি করতে যাচ্ছে সে? বিয়ে ছাড়া বাচ্চা? এই সমাজ তাকে মেনে নিবে? বুঝবে? হয়তো বুঝবে নয়তো না। রিস্ক তো নিতেই হবে। কিছু পেতে হলে কিছু হাড়াতে হবে এটাই বাস্তব। সে নাহয় নিজের সম্মানের বিনিময়ে বাবা মাকে আগলে নিলো। বাবা মা ও তো একদিন তাকে আগলে নিয়েছিলো,, আগলে আগলে বড়ো করেছে এতোটা। ওনারা যদি তাকে এতোটা বড়ো না করতো তাহলে তার সম্মান ই বা তৈরি হতো কি করে? আর আজ বিসর্জন ই বা দিতো কি? এটাই ঠিক,, যারা তাকে পৃথিবীতে এনে বিনামূল্যে সম্মান দিয়েছিলো তাদের জীবন বাচাতে সে নাহয় টাকার বিনিময়ে সম্মান দিবে।
১২ দিন পর,,,
,,,, মিস্টার এন্ড মিসেস শেখরের সাথে ভারতে পারি জমালো সুহাসিনী, দিল্লি শহরে IVF and Surrogacy Centre থেকে ভ্রুন প্রবেশ করানো হলো ওর গর্ভাশয়ে। পাসপোর্ট না থাকায় এতোটা সময় লেগেছে,, নয়তো কাজটা হয়তো আরও দ্রুত করা হতো। সব নিয়ম মেনে ভ্রুন প্রবেশ করানোর ১৫ দিনের মাথায় জানা গেলো সুহাসিনীর পেটে ভ্রুন স্থান পেয়েছে,, সময় গড়ালে হয়তো এই ভ্রুনটা বাচ্চার রুপ নিবে,, একটা সময় সুহাসিনী হয়ে উঠবে সারোগিসি মাদার। মানে র*ক্তবহির্ভুত সন্তানের মা। এই ১৫ টা দিন সুহাসিনী মাহেন্দ্র শেখরের বাড়িতেই কাটিয়ে দিয়েছে। তার খুব শখ ছিলো ভারতে আসার। দার্জিলিং, তাজমহল, আজমির শরীফ জিয়ারত করার। কিন্তু এভাবে নয়,,কোনো একদিন বাবা মা আর মেহমাদকে নিয়ে একসাথে দেখবে এসব। সুহাসিনী যেদিন বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠেছিলো সেদিন ভারত শহরকে বলে এসেছিলো —
,,,আমি আবার আসবো,, সত্যি আসবো তর আঙিনায়। সেদিন স্বপ্নের পুরুষ আর আপন মানুষ গুলো ও সাথে থাকবে। চোখ দিয়ে লুফে নিবো তর মাঝে থাকা সব সৌন্দর্য। আপাতত, আলবিদা!!
৫ মাস পর,,
,,,সুহাসিনী এখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা,, ইদানীং তাকে আর ভার্সিটিতে দেখা যায়না,, হয়তো আর দেখাও যাবেনা। কারন ওর পেট এখন বেশ খানিকটা উচু হয়েছে। মাঝেমধ্যে পেটের ভিতর একটা অস্তিত্ব টের পায় সে। লোকে বলে নারী জাত নাকি মায়ের জাত,, নিজের সন্তান না হলেও পেটে বাড়তে থাকা ছোট্ট প্রানটার জন্য বড্ড মায়া কাজ করে সুহাসিনীর। নিজের মাঝে কেমন মা মা একটা ব্যাপার লক্ষ করে। বাচ্চাটা যখন তার পেটে এলো তখন তার মাঝে কতো রকমের সিমটম দেখা দিলো,, মাথা ঘুড়ানো, বমি হওয়া, টক খেতে চাওয়া,, মুড সুইং হওয়া,, আরও কত কি। সব মিলিয়ে সুহাসিনীর মনটা অনুভব করতে চাইলো এই বাচ্চাটা তার। যদিও আর মাস পাঁচেক পর বাচ্চাটাকে তার আসল বাবা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে,, কিন্তু যতগুলো মাস তার কাছে আছে ততোগুলো মাস নিজের সন্তান ভাবতে ক্ষতি কি? নাহ!! ক্ষতি নেই তো। অধিকার না থাকুক বাচ্চাটার সাথে তার নাড়ীর টান তো আছে? নিজের বাচ্চা ভাবার জন্য এই নাড়ীর টানটাই আসল নয় কি? এসব কথা ভাবতে ভাবতেই মুচকি হাসলো সুহাসিনী,, পেটে হাত বুলিয়ে বললো —
,,,, আমি যদি সত্যি সত্যি তর মা হতাম না? তাহলে তকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম। তকে কিভাবে বড়ো করবো,, তকে কি কি জামা পরাবো,, তুই কিভাবে হামাগুড়ি দিবি,, কিভাবে হাটা শিখবি,, আমায় প্রথম মা বলে ডাকবি, সব নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু আমি তো তর মা নই ৷ না না!! ভুল,, আমিও কিন্তু একদিক থেকে তর মা হই। তর সারোগিসি মাদার না আমি? শুন বাচ্চা!! একদিন তর সারোগেসি মাদার ও সত্যি সত্যি মা হবে। তার পেটে সত্যি সত্যি তার নিজের সন্তান আসবে। সেদিন কিন্তু আমি তকে একদমি ভুলে যাবোনা। আমার যতগুলো সন্তান ই হোকনা কেনো,, তুই আমার প্রথম সন্তান ই থাকবি। তুই পৃথিবীতে এলে তো তর বাবা মা তকে নিয়ে ভারতে চলে যাবে। এরপর যখন বাংলাদেশে আসবি তখন এসে আমার সাথে দেখা করবি তো সোনা? জানি করবি না। তর বাবা মা হয়তো আমার কথা তকে জানতেই দিবেনা। জানালে যদি তুই তর বাবা মাকে ভুল বুঝিস? তাই হয়তো তর আর আমার কোনোদিন সাক্ষাৎ হবেনা। ইসস!! তর সাথে কোনোদিন সাক্ষাৎ হবেনা,, বড্ড আফসোস হচ্ছেরে। তুই আমার সন্তান হলে তকে অনেক ভালোবাসতাম জানিস? এত্ত এত্ত আদর করতাম,, একদম বুকের সাথে ঝাপ্টে ধরে রাখতাম।
,,,,এটা তর বাচ্চা নয় সুহা,, এভাবে অন্যের বাচ্চার জন্য মায়া বাড়াবি না। আখেরে কষ্টটা তরি হবে। ফুপা কল দিয়েছিলো,, তারা চাচ্ছে তর আল্ট্রা করে বেবির পজিশন জানতে। রেডি হয়ে নে,, আজকে বোধহয় এই মাসের টাকাটা দিতে পারে। আর হে!! একটা কথা মাথায় ঢুকিয়ে নে,, এটা অন্যের বাচ্চা শুধুই অন্যের। একদম নিজেকে মা ভাবার চেষ্টা করবি না। পরে ছাড়ার বেলায় বড্ড কষ্ট পাবি,, আর তর কষ্ট আমার সহ্য হবেনা। চল যাহ!! রেডি হো।
,,, ফাহিমার কথায় ঠোঁট উল্টালো সুহাসিনী। মেয়েটা এতো কঠোর, খালি ওকে ধমকায়। যদিও এই ধমকের মাঝে এক আকাশ পরিমান ভালোবাসা লুকিয়ে আছে ,, সেটা অনুভব করতে পারে সে। ফাহিমার বলা কথাগুলোতে মন খারাপ হয়ে গেলো সুহাসিনীর। সত্যি ই তো বাচ্চাটা তার নয়। অথচ তার কত্তো মায়া লাগে,, বাচ্চাটা তার না হলেও বাচ্চাটার মাধ্যমে তার জীবনের সকল দুঃখ দূর হয়ে গিয়েছে। ইদানীং সুহাসিনীর জীবনটা ভালোই যাচ্ছে,, বাবা মা এখন বেশ সুস্থ। প্রথম পাঁচলাখ টাকা থেকে বাবার অপারেশনটা হয়ে গিয়েছিলো,, পরপর মাসে মাসে দেওয়া টাকাগুলো দিয়ে বাবা মায়ের সংসার আর চিকিৎসা খরচা সামলানোর পরেও বেশিভাগ টাকাটা বেচে যাচ্ছে। সুহাসিনী খুশি মনে সেই টাকা গুলো ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখছে। হয়তো ভবিষ্যতে টাকাগুলো কাজে আসবে।
,,, হসপিটালে আসতেই মিস্টার শেখর এবং মিসেস শেখরের সাথে দেখা হলো,, তাদের ঠিক করা ডক্টর দেখিয়ে আল্ট্রা করে জানতে পারলো সুহাসিনীর পেটে থাকা বাচ্চাটি মেয়ে বাবু এবং বাচ্চাটির হেল্থ একদম ঠিক ঠাক আছে। মেয়ে হবে শুনে মাহেন্দ্র শেখর এবং নৌরিন শেখর বড্ড খুশি হলেন। খুশি হয়ে এই মাসের টাকাটাও কিছুটা বাড়িয়ে দিলেন। সুহাসিনী নিজেও খুশি,, অকারনেই তার মনটা খুশিতে আনচান করে উঠলো। যদিও বাচ্চাটা তার না কিন্তু জন্ম তো দিচ্ছে? মেয়ে বাবু এমনি ই তার ভিষন পছন্দের। সে মেয়ে মানুষ,, আর প্রতিটা মেয়ে মানুষ ই জীবনের একটা পর্যায়ে গিয়ে সংসার নিয়ে কল্পনা করে। সুহাসিনী ও করেছিলো,, সেই সপ্নগুলোর মধ্যে একটা ছিলো মেয়ে সন্তানের জন্ম দেওয়া। যেভাবেই হোক,, সেই স্বপ্নটা পুরোন হতে যাচ্ছে। এতেই যেনো তার খুশি ধরছেনা। হসপিটালের সকল ফরমালিটিস শেষ করে বেড়িয়ে এলো সুহাসিনী তৎক্ষনাৎ একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেলো তার সাথে। হুট করেই মেহমাদকে চোখের সামনে দেখে হকচকিয়ে গেলো মেয়েটা। গত একমাস যাবত ওর সাথে দেখা করেনি সে,, পেট উচু হওয়ার কারনে সুহাসিনী ইচ্ছা করেই মেহমাদের সাথে দেখা করতে যায়নি। নানান কাজ,, জব,, বাবা মাকে দেখতে যাওয়া,, এমন হাজারটা অজুহাত দেখিয়ে মেহমাদের থেকে দূরে সরে ছিলো। ভেবেছিলো আর পাঁচটা মাস এভাবেই অজুহাতের উপর কাটিয়ে দিবে,, ওর অনাকাঙ্ক্ষিত প্যাগ্নেসি সম্পর্কে মেহমাদকে জানাবে না৷ আল্লাহ বোধহয় চাননি সুহাসিনী মেহমাদকে ঠকাক কিংবা মেহমাদ এই বিষয়ে অজানা থাকুক। সেই জন্যই হয়তো সুহাসিনীকে হসপিটালে, মেহমাদের সামনে এভাবে দাড় করালেন। সুহাসিনীর শারিরীক পরিবর্তন দেখে মেহমাদ এক প্রকার হা হয়ে তাকিয়ে রইলো ,, বুঝতে চাইলো সুহাসিনীর পেট উঁচু কেনো? আবার হাতে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের প্রেকসিপশন, রিপোর্ট। এসবের মানে কি? মেহমাদ সহসাই সুহাসিনীর হাত ধরে টেনে হসপিটালের বাহিরে নিয়ে গেলো,, ফাহিমা পিছন পিছন আসতে চাইলে মেহমাদ আসতে মানা করে দিলো। প্রেমিক প্রেমিকার পারসোনাল আলোচনায় যেতে চায়না বলে হসপিটালের গেইটের দিকে চলে গেলো ফাহিমা। সুহা বের হলে তো ওদিক দিয়েই বের হবে তখন নাহয় দুজন একসাথে ম্যাচে ফিরে যাবে। হসপিটালের পার্কিং লটে দাড়িয়ে আছে সুহাসিনী আর মেহমাদ। সুহাসিনী লাইন বাই লাইন পুরোটা কইফিয়ত দেওয়ার মতো করে বলে মেহমাদের দিকে তাকালো। মেহমাদ চোখ মুখ শক্ত করে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। ওকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে সুহাসিনী ভয়ার্ত ঢোক গিলে বললো —
,,, আ,আমি নিরুপায় ছিলাম মেহমাদ। আব্বা আম্মাকে বাচাতে হলে এই সন্তান গর্ভে ধারন করা জরুরি ছিলো। নয়তো এতো টাকা আমি কোথায় পেতাম বলো? আমায় তুমি বিশ্বাস করছো তো? আমায় ছেড়ে যাবেনাতো? বলোনা, মেহমাদ!!
,, সুহাসিনীর কাতরতায় মুখ ফিরিয়ে নিলো মেহমাদ,, অন্যদিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বললো — তোমায় আমি খুব ভালোবাসতাম সুহা কিন্তু এই মুহুর্তে তোমাকে জাস্ট সহ্য হচ্ছে না আমার। টাকার জন্য নিজেকে বিক্রি করে দিলে? আমার তো মনে হচ্ছে কোনো সারোগিসি টারোগিছি কিছুই করাওনি তুমি,, বরং ভারতে গিয়ে মাহেন্দ্র শেখরের সাথে ১৫ দিন রাত পার করে এসেছো। বাচ্চা হয়না বলে হয়তো মাহেন্দ্র শেখরের বউ ও ইচ্ছা করে তোমাকে স্বামীর কাছে যেতে দিয়েছে। বিনিময়ে টাকা পাচ্ছো আর অবৈধ সন্তান পেটে নিয়ে ঘুড়ছো। এখন বুঝতে পারছি কোনো একটামাস আমার থেকে দূরে দূরে ছিলে,, কতো কতো বাহানা দিলে নিজের পাপ ঢাকার জন্য। শুনেছি অভাবে মানুষের স্বভাব নষ্ট হয়,, আজ তোমায় দেখে বুঝলাম অভাবে মানুষ নিজেকে বিক্রি ও করে। তোমায় দেখলেই বমি পাচ্ছে আমার। ছিহ!! নোংরা মেয়ে একটা।
,,,, মেহমাদের কথায় অপমান স্পস্ট,, তবুও সুহাসিনী অপমানটা গায়ে মাখলো না। মেহমাদ ওকে ভালোবাসে আর ভালোবাসার মানুষকে হঠাৎ এমন ভাবে দেখলে ভুল বুঝা, অভিমান করা, দুটো কথা শুনানো, আহামরি কোনো ব্যাপার না। এতোগুলো দিন যেহেতু মেহমাদের ভালোবাসাটুকু সাদরে গ্রহন করতে পেরেছে। এখনো মেহমাদের বলা এই অকথ্য ভাষা গুলোকে গ্রহন করতে পারবে। ভালোবাসায় যে সবসময় ভালোটা থাকতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই,, কিছু কিছু সময় খারাপের মাঝেও তো ভালোবাসা খোজা যায়। সুহাসিনী কাদতে কাদতে মেহমাদের হাত আকরে ধরলো,, সেই হাতে চোখ চেপে ধরে বললো– আমায় ভুল বুঝছো মেহমাদ!! আমি এমন কিছুই করিনি। আচ্ছা চলো,, আমাদের ম্যাচের সামনে চলো। আমি তোমাকে সব রিপোর্ট এনে দেখাচ্ছি,, সারোগেসি প্রসেসিং থেকে শুরু করে আমার সেই সারোগেসি চুক্তি সনদ,, সবটা দেখাবো তোমায়। তুমি চাইলে আমি তোমায় ফাহিমার ফুপা ফুপির সাথেও দেখা করাতে রাজি। প্রয়োজনে তোমায় ভারত সেই হসপিটালে নিয়ে যাবো,, ওখানকার ডক্টর রা নিশ্চয়ই মিথ্যা বলবেনা? তবুও তুমি আমায় ভুল বুঝে ছেড়ে যেওনা মেহমাদ। আমি তোমায় বড্ড ভালোবাসি। আমার কাছে বাবা মায়ের পরে তুমি নও বরং তোমরা তিনজনি আমার সবটা ঘিরে বসবাস করছো। তোমাদের মধ্যে একজনকে হাড়ালে আমি নিশ্ব হয়ে যাবো।
,,, সুহাসিনীর হাতটা সন্তর্পণে ছেড়ে দিলো মেহমাদ,, অত্যন্ত শান্ত স্বরে বললো — মানলাম!! মেনে নিলাম তুমি আমাকে যা যা বলেছো সব সত্যি। তোমায় কেউ ছোয়নি আর না তুমি কারোর সাথে রাত কাটিয়েছো। এখন কথা হচ্ছে,, তোমাকে কেউ টাচ করুক আর না করুক,, তুমি বাচ্চা জন্ম দিচ্ছো। বাচ্চা জন্ম দেওয়ার মানে বুঝো সুহা? সব নষ্ট হয়ে যাবে তোমার,, আমি পাওয়ার আগেই তোমার সকল সৌন্দর্য বিবাহিত মহিলাদের মতো হয়ে যাবে। তখন কোন আশায় বিয়ে করবো তোমায়? কি লাভ হবে আমার? কি পাবো তোমার মাঝে? কিছুই তো থাকবেনা। আর নরমাল ডেলিভারি হলে তো কথাই নেই। বিশ্বাস করো,, আমার এতোটাও খারাপ সময় আসেনি যে আমি এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করবো যে টাকার জন্য বিয়ে ছাড়া বাচ্চার জন্ম দিতে গিয়ে,, নিজের সবটা নষ্ট করে,,
,,,, মেহমাদের বাক্য ফুরানোর আগেই ওর গালে ঠাস করে চর পরলো। মেহমাদ জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকালো সুহাসিনীর পানে৷ রাগে ফুসতে ফুসতে মেহমাদের কলার চেপে ধরলো সুহাসিনী,, এতোক্ষণ করা সব অপমানগুলো উগরে দিয়ে বললো — আমার আফসোস হচ্ছে তর মতো নো*রা মনমানসিকতার, একজন কাপুরুষকে আমি আমার নরম মনে ঠাই দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ!! এই বাচ্চাটা আমার না হলেও এর জন্য জীবনে জিতে গেলাম আমি। ও না এলে তো তর সুন্দর রুপের পিছনে থাকা কুৎসিত রুপটা জানতেই পারতাম না। তুই কি ছাড়বি? আমি ই তকে ছেড়ে দিলাম। আজকের পর প্রয়োজনে তুই মরে যাস তাও তর নোংরা মুখ নিয়ে আমার সামনে হাজির হইসনা। সামনে পেলে খুন করে ফেলবো একদম। বিশ্বাস কর,, তকে খুন করার দায়ে যদি আমার ফাসিও হয়,, আমি সহাস্যে গ্রহন করবো সেটা তাও তর সামনে কোনো আপোস নয়। জাস্ট লিভ!”( ধাক্কা দিয়ে)
,, কথাটা বলে চোখ মুছতে মুছতে গেইটের দিকে হাটা দিলো সুহাসিনী। আর কখনো মেহমাদের মুখ দেখবে না সে,, আর না ওকে ভালোবাসবে। ওর মতো নিচু মনমানসিকতার লোকদের ভালোবাসা যায়না। মেহমাদ যদি ওকে ভুল বুঝতো তাহলে সহাস্যে নিজেকে জাস্টিফাই করতে চাইতো কিন্তু যেখানে শ*রীর নিয়ে অভিযোগ? সেখানে কিভাবো আপোষ করা যায়? নাহ!! ভালোবাসার জন্য জান দিতে পারলেও আত্মসম্মান দেওয়া সম্ভব না৷ ভাবতে ভাবতে ডুকরে উঠলো মেয়েটা। আচ্ছা!! এই সমাজে শ*রীরের এতো দাম কেনো? কেনো সবাইকে শ*রীর দিয়ে বিবেচনা করা হয়? কেউ তো মনের খোজ নেয়না,, একটা মানুষ কেমন পরিস্থিতিতে পরলে এরকম একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারে তা ভেবেও দেখেনা? সে কি ইচ্ছা করে বাচ্চা নিয়েছে? এটা কি তার পেশা? নাহ!! এটা তার পরিস্থিতি। যদি সে কোনো বড়োলোকের মেয়ে হতো তাহলে তো তাকে এই জায়গায় আসতে হতো না। বিয়ে ছাড়া, স্বপ্ন ছাড়া, অধীকার ছাড়া একটা আস্ত বাচ্চাকে পেটে ধারন করতে হতো না। আসলে এই পৃথিবীতে মনের কোনো দাম নেই। আজ ওর একটু পেট উচু হয়েছে তাই মানুষের কতো কৌতুহল,, অথচ পাঁচ মাস আগে যে কেদে কেদে তার চোখ ফুলে গিয়েছিলো,, তখন তো কেউ একটাবার জানতে চাইলো না। “” কিরে সুহা, তর কি হয়েছে? কাদছিস কেনো? কি লাগবে তর?”” সার্থপর,, পুরো দুনিয়াটাই নিজের মতো সার্থপর।
,,,এরপর থেকে সুহাসিনীর সুন্দর জীবনটা আরও জ*ঘন্য রুপ নিলো। বাংলাদেশর আংশিক মানুষ কোনোদিন সারোগেসি শব্দটাই শুনেনি,, প্রোসেস জানা তো দূরের কথা। বিশেষ করে সমাজের অশিক্ষিত মহিলা এবং পুরুষগুলো এক প্রকার প্র*স্টেটিউট বানিয়ে দিয়েছে সুহাকে। সবার মতে ও কোনো পুরুষের সাথে অসৎ কাজ করে বাচ্চা জন্ম দিচ্ছে আর অজুহাত স্বরুপ সারোগেসির নাম খলাচ্ছে। সে সমাজের কলঙ্ক, সমাজের বোঝা। তার মাধ্যমে সমাজটা নষ্ট হচ্ছে,, তাকে সমাজে থাকতে দেওয়া উচিৎ নয়। সুহাসিনী শত চেষ্টা করেও কাউকে বুঝাতে পারেনি যে,, সে সৎ, তার মাধ্যমে কোনো অন্যায় হয়নি,, যা করেছে শুধুই বাবা মাকে সুস্থ করার জন্য। কেউ ওকে বিশ্বাস করেনি,, যে যেভাবে পেরেছে শুধু কাদা ছুড়াছুড়ি করছে।
,,, সুহাসিনীর তখন সাত মাস চলে,, লোকের অকথ্য কথাগুলো ইদানীং খুব কষ্ট দেয় তাকে,, মরে যেতে মন চায়। আগে প্রথম প্রথম নিজেকে শক্ত রাখতে পারলেও এখন আর নিজেকে শক্ত রাখতে পারছেনা। এর মধ্যে ম্যাচের মালিক এলো,, সুহাসিনীকে উপর নিচ দেখে বললো — তোমরা এখান থেকে যাও মেয়েরা। তোমাদের জন্য সমাজে মুখ দেখাতে পারিনা। আরও যারা যারা এখানে ভারা থাকে তারা বলেছে, তোমরা এখানে থাকলে তারা এখান থেকে চলে যাবে। তোমার মতো অসামাজীক মেয়ের জন্য আমি তো আর নিজের লস করতে পারিনা। তাইনা, বলো? আচ্ছা, কি হইছিলো বলোতো মেয়ে,,আগে তো ভালোই ছিলা, হঠাৎ এই পেট বাধাইলা কার কাছে? বাচ্চার বাপ কি বাচ্চাকে মানতে চায়না? না মানলে বলো, আমরা তার নামে কেইস করবো। না মেনে যাইবো কোথায়? কলার ধইরা হির হির করে থানায় নিয়া যাবো।
,,, মহিলার কথায় সুহাসিনী কিছু বলার আগেই ফাহিমা বললো — আপনাদের এক কথা কয়বার বলবো? বললামনা, ও সারোগেসি মাদার। বুঝেন নাতো কিছু অথচ পটর পটর করতে পারেন সোল আনা।
,,, ফাহিমার কথায় তেতে উঠলেন মহিলাটি। এতোক্ষণ ভালো ভাবে কথা বললেও এখন মুখে যা অকথ্য ভাষা আসে সব উগরে দিলেন সুহাসিনীর উদ্দেশ্যে। সে শুধু চুপচাপ শুনলো। লোকের কাজ বলা আর তার কাজ হচ্ছে চেয়ে চেয়ে দেখা আর কান পেতে শুনা। সুহাসিনী তাদেরকে দোষ দেয়না। আসলে দোষটা তো তার,, সে তো জানতো এমন একটা পরিস্থিতিতে পরতে হবে তাকে। তাহলে এখন কাদবে কেনো? মেনে নিতে হবে সব,, মানতে শিখতে হবে। এরপর থেকে সুহাসিনীর জীবনটা বিষাদে ভরে উঠলো। ধীরে ধীরে সমাজের মানুষ তার উপর অত্যাচার করতে লাগলো। তিন বেলা নিয়ম করে কথা শুনানো, বাজে কথা বলা, ওর ঘরে জানালা দিলে পাথর ছুড়ে মারা ,, পথে ঘাটে হাটলে পায়ের সেন্ডেল ছুড়ে মারা,, কখনো মাথার উপর ডাস্টবিনের ময়লা আবার কখনো গায়ের উপর ময়লা পানি। সবটাই সহ্য করে নিয়েছে সুহা,, কিন্তু সেই ধৈর্য শক্তিও বেশিক্ষণ স্থায়ি হলোনা।
সুহার যখন আটমাস চলে তখন হুট করেই সুহার চাচাতো ভাই সিহাব ওর খোজ নিতে ঢাকায় আসে। কেনো সে এতোমাস ধরে গ্রামে যাচ্ছেনা? কি হয়েছে? কোনো সমস্যা নাকি? খোজ নিতে ওর রুমে এসে যা দেখলো তাতে যেনো সিহাবের মাথা কাজ করা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। ছেলেটা শিক্ষিত হওয়া সত্তেও সুহাকে বুঝলোনা,, তারো একই মত। সুহাসিনী নিজের অ*পকর্ম ঢাকতে সবাইকে মিথ্যা বলে বেড়াচ্ছে। সিহাব শুধু বলায় ই থেমে থাকেনি,, সে গ্রামে গিয়ে পুরো গ্রামের মানুষের কাছে সুহার বদনাম ছড়িয়েছে আর সেই বদনাম সুহার বাবা মাও সহাস্যে বিশ্বাস করে নিয়েছে । তার বাবা মায়ের মতে সে বাজে পুরুষদের সাথে বাজে কাজ করে মাসে লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছে,, নয়ত এই পৃথিবীতে এমন কোন মাধ্যম নেই যেখানে শুরুতেই পাঁচলাখ আর মাসে মাসে একলাখ টাকা করে পাওয়া যায়। এসব সারোগিসি টারোগিসি বলতে কিছু হয়না,, সবটাই সুহার পাপ ঢাকার অজুহাত। এবারেও বুঝাতে ব্যার্থ হয়েছে সুহাসিনী,, কেউ তাকে বিশ্বাস করলোনা। গ্রামের মানুষের খোটা, তুচ্ছতাচ্ছিল্যের তোপে সদ্য অপারেশন করা মোতালেব হার্ট এটাক করে মারা গেলেন,, বাবার মৃত্যুতে থমকে গিয়েছিলো সুহাসিনী। যার জন্য এতো কিছু করলো সেই কিনা পৃথিবীতে রইলো না,, তাহলে কেনো করলো এসব সে? কি লাভ হলো? বাবা কেনো তাকে বুঝলো না? ছোট্ট বেলায় যখন সে অবুজ ছিলো, মুখে যখন বুলি ফোটেনি তখন যেহেতু ওর মনের কথাগুলো বুঝতে পেরেছিলো তাহলে আজ সে গলা ফাটিয়ে বলাী পরেও কেনো বুঝলো না? ঠিকি অবুঝের মতো আচরন করে ওকে একা ফেলে চলে গেলো। এখন কি করবে সে? সবাই একে একে ছেড়ে যাচ্ছে তাকে,, এখন কার মুখ চেয়ে বাচবে সুহাসিনী?
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪২
,,, সুহার বাবাকে যখন খাটিয়ায় শুয়ানো হলো। সুহাসিনী বহু চেষ্টা করেও বাবার মুখটা শেষ বারের মতো দেখতে পেলো না। কেউ জায়গা দিলো না তাকে,, এমনকি জন্মধাত্রি মাও না। জমিলা খাতুন এক প্রকার দূর দূর করে তাড়িয়ে দিলো তাকে। আট মাসের পেট নিয়ে সেদিন মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কোদেছিলো সুহা,, বার বার আব্বা আব্বা বলে ডেকেছিলো। কারোর মায়া হয়নি সেদিন,, তাকে একটাবার বাবার মুখ দেখার ফুসরত দেয়নি কেউ। সুহাসিনী সেদিন বুঝেছিলো, দুনিয়াটা সার্থপর। দুনিয়ায় থাকা প্রতিটি মানুষ তার নীজ নীজ মতো সার্থপর।
