৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৩ (৩)
রুপান্জলি
,,,রাত ৮ টা ।
,,, ইরাদের নিথর মুখশ্রির দিকে অসহায়ের ন্যায় তাকিয়ে আছে সিদ্ধার্থ। বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে বিশ্বাস ঘাতকতা করার অপরাধের অনুসুচনায় সুই*সাইড করার চেষ্টা করেছিলো ইরাদ। তখন সন্ধায় ইরাদ পালানোর উদ্দেশ্যে অনেকটা পথ অতিক্রম করলেও সিদ্বার্থ ওকে আটকে দিয়েছিলো। ইরাদ যতোই স্ট্রং হোক না কেনো দিনশেষে সে একটা মেয়ে,, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক যুবকের সাথে পেরে উঠবে না। সিদ্বার্থকে কাছে আসতে দেখে যখন বুঝলো সে পালাতে পারবে না,, সিদ্বার্থ তাকে নিয়ে যাবেই তখনি বালিতে থাকা ধারালো শামুক দিয়ে হাতের রগ কাটার বৃথা চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু শামুক তো অতোটাও ধারালো নয়, হাত কেটেছে ঠিকি কিন্তু সুই*সাইড পর্যন্ত এগুতে পারেনি। এদিক থেকে কিছুটা লাভ হয়েছে সিদ্বার্থের, হাত থেকে রক্ত ক্ষরন হওয়ায় হুস হাড়িয়েছিলো ইরাদ,, আলাদা করে জ্ঞান নাসক স্প্রে ইউজ করতে হয়নি। তবে যখন জ্ঞান ফিরেছে তখন থেকেই গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে যাচ্ছে,, মেয়েটা এতো কাঁদতে পারে,,সিদ্বার্থ আগে ভুলক্রমেও তা টের পায়নি। সিদ্বার্থ পাশে থাকা পানির বোতল থেকে কিছুটা পানি ইরাদের মুখে ছিটিয়ে দিলো,, এই নিয়ে ৬ বার জ্ঞান হাড়িয়েছে মেয়েটা। জ্ঞান ফিরলেই কান্না করে আর ওকে গালিগালাজ করে, করতে করতে আবারও জ্ঞান হাড়ায়।
,,,সিদ্বার্থদের পরিবারে ভালোবাসার কোনো দাম নেই,, তারা ভালোবাসা বলতে শুধু টাকাকে বুঝে। বাবার সাথে মায়ের বন্ডিং নেই আবার বাবা মায়ের সাথে তাদের কোনো বন্ডিং নেই। ঐতো নামের ছেলে,আর কাজের বেলায় লাখ লাখ টাকা ছুড়ে দিয়ে সামলে নেওয়ার মতোই বাবা মা তাদের। কাইসার বংস ভালোবাসা বিরোধী,, যারাই ভালোবেসেছে তাদেরকেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয়েছে। তারপরেও সিদ্বার্থ এই মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলেছে। মেয়েটা খ্রিস্টান, গায়ের রং চাপা, একটু বেশি ই চাপা,, আহামরি কোনো চেহারা নেই,, অ্যাভারেজ পারশন গুলো যেমন চেহারা অধীকারি হয় ইরাদ ও তাই কিন্তু মন তো এসব মানেনা। সিদ্বার্থ একজন ওয়েল পারশোনালিটি সম্পন্ন ছেলে, মা বিদেশি আর বাবা অসম্ভব সৌন্দর্যের অধীকারি হওয়ার দরুন তারা দুভাই কিছুটা অন্যরকম সুন্দর। বাংলাদেশে এরকম সৌন্দর্যের মানুষ খুব কম পাওয়া যায়।
তারপরেও সিদ্বার্থ ইরাদকে ভালোবাসে,, তার কাছে ওসব রুপ সৌন্দর্য ম্যাটার করেনা,, সে শুধু জানে ইরাদকে তার প্রথম দেখাতেই অন্যরকম লেগেছে আর ওর সম্পর্কে জানতে জানতে ভালো লাগা তৈরি হয়েছে তারপর ভাইয়ের জোরাজুরিতে কথা বলতে গিয়ে ভালোবাসা নামক বিষ তার অন্তরেও প্রবাহিত হয়েছে। হয়তো এই মুহুর্তে ইরাদ ওকে ঘৃনা করে কিন্তু একদিন না একদিন ইরাদ ওকে ঠিক ভালোবাসবে। প্রয়োজনে বিয়ে নামক বন্ধন দিয়ে ওকে সারাজীবনের জন্য আবদ্ধ করে নিবে সিদ্বার্থ,, এরপরেও ভালোবাসবে না? বাঙালি নারীতো স্বামী বলতে অজ্ঞান,, ইরাদ ও বাঙালি। ভাইয়ার জীবন থেকে একটা দারুন শিক্ষা পেয়েছে সে,, ভালোবাসা কখনো অনুমতি নিয়ে জয় করা যায়না। মাঝেমধ্যে ভালোবাসাকে জোর করে, প্রয়োজনে ফোর্স ম্যারেজ করে হলেও আটকে রাখতে হয়। অর্পনার জীবনে দ্বীপ আসার আগে যদি ভাইয়া কোনোমতে জোর জবরদস্তি করে হলেও বিয়েটা করে নিতো,, এখন এতো হা হুতাশা করতে হতো না। ভালোবাসাকে ছুতে না পারি ছোঁয়ার বৈধতা হোক,, পাশে থাকুক,, কাছে থাকুক,, সারাজীবন চোখের সামনে দেখতে তো পাবো,, বাকিটা আল্লাহ এর হাতে। নিজের জীবন আর ভালোবাসা নিয়ে কোনো আপোশ করবে না সিদ্বার্থ। ভেবেই দীর্ঘশ্বাস চাপা দিলো,,কাগজ পত্র সব রেডি,, তার সাইন করাও শেষ এবার শুধু ইরাদ সাইন করলেই চলবে। ইসলাম ধর্ম হতে ছেলে এবং খ্রিস্টান ধর্ম হতে মেয়ে রেজিস্ট্রি ম্যারেজে সম্পূর্ণ বৈধতা রয়েছে তবে শর্ত একটাই “” তাদের পরবর্তী বংশধর তাদের বাবার ধর্মে ধর্মাবলম্বী হবে এবং মুসলিম মতে শাক্ষি সমেত তিনবার কবুল আর খ্রিষ্ট মতে চার্চে গিয়ে আঙটি বদল, অঙ্গিকার আর চুম্বন করতে হবে।”” এক্ষেত্রে ইরাদের ধর্ম ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই। পরবর্তী বংশধর এর কথা মাথায় আসতেই হতাশ হলো সিদ্বার্থ,, এটা আদেও কি সম্ভব নাকি? এই মেয়ে ইতিমধ্যে তাকে কয়েক শতো বার বলেছে “” আপনি ঠক, জোচ্ছর, আপনাকে আমি ঘৃণা করি “” কে জানে এই ঘৃণা কখনো কমে কিনা? হয়তো কমবে আবার হয়তো না।
,,, ইরাদের গোঙানির মৃধু শব্দে সিদ্বার্থের হুস ফিরলো। সে কিছুটা ঝুকে এসে নিজস্ব রুমাল দিয়ে ইরাদের ভেজা মুখশ্রী মুছে দিতে লাগলো। ইরাদ চোখ মেলে তাকিয়ে সিদ্বার্থকে আবারও সামনে বসে থাকতে দেখে ঘৃনাভরা দৃষ্টিতে তাকালো। আদ্রিয়ানের থেকেও বেশি ঘৃনা হচ্ছে সিদ্বার্থকে দেখে,, এই ছেলেটাকে কতো ভালো ভেবেছিলো সে। ছোট ভাইয়ের মতো দেখতো,, হয়তো বয়সে দু বছরের বড়ো কিন্তু আদির ছোট ভাই হওয়ায় ওকে নিয়ে এরকম কোনো ভাবনাই আসেনি তার মাথায়। অথচ এই ছেলেটা তাকে ভালোবাসে,, ভালোবাসার নজরে দেখে এমনকি এই একমাসে তারা সংসার, বাচ্চা কাচ্চা সাথে বাচ্চা কাচ্চার নাম পর্যন্ত সিলেক্ট করে ফেলেছে। তার ঘৃনার সাথে সাথে নিজের উপর তীব্র রাগ ও হচ্ছে।
এটা কি হয়ে গেলো তার সাথে? বড়ো ভাইকে ভেবে ছোট ভাইয়ের সাথে পুরো একটা জীবন কাটানোর অঙ্গিকার করে ফেলেছে,, কতো শতোবার ভালোবাসি বলেছে এমনকি মেসেজের ওপাসের ব্যাক্তিটির কথাবার্তায় বহুবার প্রেমে পরেছে ইরা। এখন সে কি করবে? কি করা উচিৎ তার? ইরাদকে চেয়ারের সাথে বেধে রাখা হয়েছে,, কোমর, পা , বাম হাত বাধা থাকলেও ডান হাতটা কাটা থাকার কারনে সেটা বাধেনি সিদ্বার্থ। ইরা নিজের উপরে উঠা রাগ, আদি আর সিদ্বার্থের জন্য তৈরি হওয়া ঘৃনার সংমিশ্রণে চিৎকার করে উঠলল— বেইমান, ঠক, জোচ্চরের বাচ্চা!! আমায় বেধে রেখেছিস কেনো? ছলনাকারী,, মুখসধারি,, ধোঁকাবাজ তদের জন্য এখন নিজেকে নিকৃষ্ট মনে হচ্ছে,, হে ইশ্বর!! জীবনটা কোথায় এসে দাড়ালো আমার?
,,, কাঁদতে কাঁদতে ইরাদের গলা বসে গিয়েছে,, কথা বুঝা যায়না। যা উচ্চারন করেছে তার অর্ধেক কথাই বুঝা যায়নি তবুও সিদ্বার্থ বুঝে নিয়েছে যে এই মেয়ে তাকে বকা দিয়েছে। তা ছাড়া সে বাংলাদেশের অনেক ভাষাই বুঝে না। তবে ইরাদ যেহেতু তাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলেছে তাহলে নিশ্চিৎ গালি ই দিয়েছে। নিজের ভাবনায় না চাইতেও হেসে ফেললো সিদ্বার্থ,, ইরাদ বিষয়টা অন্য ভাবে নিলো। সে ভেবেছে তার গলা ভেঙে গিয়েছে তাই সিদ্বার্থ মজা নিচ্ছে। আরও তেতে উঠে সিদ্বার্থকে আঘাত করতে নিলে তাড়াহুড়ো করে সেটা আগলে নিলো সিদ্বার্থ,, কাটা স্থানে নজর স্থির করে বললো — হোয়াট্স হেপেন্ড? এতো নরাচরা করো কেনো? হাতের কি অবস্থা করেছো,, হিসেব আছে?
,,, সিদ্বার্থ নরমাল বাঙালিদের মতো বাংলা উচ্চারন করতে পারেনা,, জন্মের পর থেকে আমেরিকা থাকার দরুন বিদেশিদের মতো ক কে খ, ট কে ঠ বলে।( বুঝানোর জন্য নিচে কিছু কনভারসেশন দেওয়া হবে বাকিটা নরমাল্লি চলবে) ইরা আরও রেগে গেলো, রাগের বসবর্তি হয়ে হাত ছাড়িয়ে ফের চিৎকার করলো — বেইমানের বাচ্চা!! একদম সোহাগ দেখাতে আসবি না। তর সোহাগ চেয়েছি আমি? আমায় ছাড়, আমি অর্পনার কাছে যাবো। তুই আমার আব্বুকে চিনিস না,, আমার বংশ সম্পর্কে ধারনা নেই তর। আমার আব্বু, চাচ্চু যদি জানতে পারেনা? তরা দুই ভাই মিলে আমাকে নিয়ে গেইম খেলেছিস তাহলে তকে আর তর ভাইকে জনসম্মুখে কেটে সিলেটের পাহাড়ে মাটি চাপা দিয়ে দিবে।
,,, সিদ্বার্থ ইরার সম্পর্কে অনেক খোঁজ খবর নিয়েছে। সে সিলেটের একজন ভালো বংশিয়ো পরিবারের মেয়ে। বাবা চাচারা বেশ ড্যান্জেরাস,, কাটাকাটিতে উস্তাদ, তাদের অঞ্চল দুটো ভাগে বিভক্ত। একপাশে তার বাবা চাচারা দখল দারি করে আরেকভাগে অন্য একদল। আর এই দুই দলের মাঝে ১২ মাসে ১৮ বার মারামারি, কাটাকাটি লেগে থাকে। ইরাদ এসব পছন্দ করেনা বিদায় স্কুল পাশ করার পর কলেজের দোহাই দিয়ে ঢাকা চলে আসে। এরপর থেকে এখানেই থাকে,, বছরে কয়েকবার বাড়ি যায়, তখনো এসব হাঙ্গামা, মারামারি দেখে হতাশ হয়ে ফিরে আসে। সিদ্বার্থ ভয় পেলো না, অত্তন্ত গর্বের সহিত গলা উচু করে বললো– তোমার আব্বু আমাদের পেলে তো মাটি চাপা দিবে,, আজ রাত তিনটায় তোমায় নিয়ে আমি দেশ ছাড়বো,,একদম সোজা আমেরিকা।
,,,ইরা নাক সিটকালো– কাপুরুষের বাচ্চা!! ছাড়তে হলে তুই দেশ না ছেড়ে দুনিয়া ছাড়। আমায় টানছিস কেনো? আমি তর সাথে কোথাও যাবো না।
,,, ইরার কথা পুরোটা বুঝলেও দুনিয়া শব্দটার মানে বুঝলো না সিদ্বার্থ,, সে বোকা বোকা চাহনি ফেলে বললো– ডুনিয়া খি?
,,, ইরা ফের নাক সিটকালো — ইংরেজের বাচ্চা,, তর বাপকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর।
,, এবারেও বুঝলো না সিদ্বার্থ, প্রশ্ন করলো –ভাপ কি?
,,, ইরা সিলিং এর দিকে তাকালো, যেনো উপরে তাকিয়েই গডকে খুঁজে নেওয়ার প্রয়াস চাকাচ্ছে — হে ইশ্বর!! আমায় তুমি তুলে নেও,, (,সিদ্বার্থের দিকে তাকিয়ে) তুই আমার সামনে থেকে যাহ ভাই,, যাহ। বিশ্বাস কর, তকে দেখলেই আমার ঘৃণা হচ্ছে। তুই আর তর বড়ো ভাইয়ের মুখে আমি থুতু ছুরি,, তদের ভালোবাসার মাইরে বাপ।
,,, আবারও একই অবস্থা, সিদ্বার্থ দ্বিধান্মিত কন্ঠে সুধালো– ইরাড!! ঠুমি এসব খি ভলো? আমি খিসুই বুঝি না। ( বুঝার খাতিরে এই পর্যন্তই)
,,, ইরাদ চোখ গরম করে তাকালো,, সিদ্বার্থ এখনো গভীর চিন্তায় চিন্তিত। এই মাহিরে ভাপটা আবার কি? সিদ্বার্থের ভাবনার মাঝেই ঝরঝর করে কেঁদে দিলো ইরাদ। নিজের জন্য কষ্ট পাবে কি? অর্পনার চিন্তায় তার ভালো লাগছে না,, আদ্রিয়ান ওর সাথে উল্টাপাল্টা কিছু করবে নাতো? যদি বিয়ে করে নেয়? অর্পনা তো বিবাহিত,, সিদ্বার্থ যদি দেশ ছাড়ার প্লান করে তাহলে আদিও করবে। নাহ!! আর ভাবতে পারছে না কিছু। সব দোষ তার,, সব। সে কেনো এই ঠকবাজদের বিশ্বাস করে অর্পনাকে নিয়ে যেতে রাজি হলো? এতোটা গর্ধব হয়ে গেলো কি করে? ইরার কান্নায় সিদ্ধার্থ এবার নিজেও বিরক্ত হলো কিন্তু কিছু বললো না। রেডি করা বিয়ের কাবিন নামাটা ইরাদের দিকে এগিয়ে দিতেই ইরার কান্না কমে এলো। সে ফোঁপাতে ফোঁপাতে আড় চোখে কাগজটার দিকে তাকালো।ইরার প্রতিটা কর্মকাণ্ডে সিদ্বার্থের হাসি পায়,, হসপিটালেও বরাবর মেয়েটা উদ্ভট উদ্ভট কাজ করতো। কাগজে কি লেখা আছে সেটা বুঝে আসতেই ইরার চোখ মুখ আগের তুলনায় তীব্র হাড়ে শক্ত হলো। ঘৃনিত দৃষ্টিতে কাগজটা ছুড়ে ফেলে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললো — বেইমানের বাচ্চা!! তর সাহস হয় কি করে এটা আমার সামনে আনার? তর মতো যোচ্চরকে আমি বিয়ে করবো? তকে আর তর ভাইকে ঘৃণা করি আমি। হাট, শালা!!
,,, ছুড়ে ফেলা কাগজটা ক্যাচ নিয়ে নিলো সিদ্বার্থ,, চোখে মুখে রাগ স্পষ্ট। রাগ না হলেও তাকে রাগ দেখাতে হবে, নয়তো ইরাদ সাইন করতে রাজি হবে না। সে কাগজাটা হাতে নিয়ে আবারও ইরাদের সামনে রেখে বললো — যাকে খুশি ঘৃণা করো,, তোমার কাছ থেকে কেউ ভালোবসা চেয়ে বসে নেই। চলো,, চুপচাপ কনের জায়গায় সাইন করে দাও নয়তো খুব একটা ভালো কিছু হবে না।
,,, বলেই ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো সিদ্বার্থ,, ভয়ে ইরার বুকে হালকা কাঁপন ধরলো কিন্তু সেটা মুখে প্রকাশ পেলোনা। কন্ঠে নিম পাতার থেকেও মারাত্মক তিক্ততা ঢেলে বললো— নয়তো কি? মারবি? ওকে মেরে ফেল,, তরা দুই ভাই মিলে তো এমনি ই আমাকে মেরে ফেলেছিস। কুকুরের থেকেও নিকৃষ্ট তরা,, এই জন্যই অর্পনা তর ভাইয়ের সাথে এমন ব্যাবহার করে। কুত্তা!! কুত্তার বংশধ,,
,,, কথা শেষ করার আগেই ইরাদের গালে চর পরলো,, তবুও থামলো না মেয়েটা। ফোপাঁতে ফোপাঁতে ফের গালি ছুড়তে লাগলো। এই পর্যায়ে সিদ্বার্থের ধৈর্যের বাধ ভেঙে গিয়েছে,, না চাইতেও রেগে যেতে বাধ্য করেছে এই মেয়ে,, সে রাগে হিসহিস করতে করতে ইরাদের চুল খামচে ধরলো,, মুখের কাছে ঝুকে দাতে দাত চেপে বললো — মরার ভয় নেই তাইনা? ওকেহ!! লুক!! এখান থেকে ঠিক একতলা উপরে, নয় নম্বর রুমে অর্পনার সাথে ভাইয়া রয়েছে। যাকে এই পর্যন্ত তুমি টেনে এনেছো, সব পল্ট তোমার। এই মুহুর্তে অর্পনার সাথে উল্টোপাল্টা কিছু হলে? ধরো ভাইয়া ওকে অবৈধ ভাবে ছুয়ে দিলো,, কি করবে তুমি? এর দায় নিয়ে বাঁচতে পারবে?
,,, চুলের ব্যাথার পরোয়া করলো না ইরাদ, পল্লব আর অরুনের থেকে মার খেতে খেতে অভ্যাস হয়ে গিয়েছে তবে নিজেও দমে থাকলো না। সিদ্বার্থের চুল খামচে ধরে বললো — তকে আর তর ভাইকে নিজ হাতে খুন করবো আমি,, লুক!! আমি সৌদাগর বাড়ির মেয়ে, আমার আব্বুর ভয়ে এলাকায় বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়। তকে আর তর ভাইকে সাইজ করা আহামরি কোনো ব্যাপার না।
,,, সিদ্বার্থ মাথা ঝাকিয়ে চুল থেকে ইরার হাত ছাড়িয়ে এক হাতে সেটা বন্দি করে নিলো — যেটা করার কথা ভাবছো ওটা করতে হলে তোমাকে আমার হাত থেকে ছাড়া পেতে হবে। কিন্তু আমি তোমাকে কোনো মতেই আমার থেকে দূরে যেতে দিবো না। ভালো কথায় বলছি সাইন করে দাও নয়তো অর্পনার সাথে উল্টোপাল্টা কিছু একটা হয়ে যাবে।
,,, ইরা আবারও কেঁদে দিলো, চিন্তায় মাথা ফেটে যাচ্ছে,,অনেক ভেবে মুখে এক চিলতে হাসি ফুটলো। আত্মবিশ্বাসের সাথে বললো– আদ্রিয়ান স্যার এতোটাও খারাপ না, অর্পনার সাথে উল্টোপাল্টা কিছু করবে না আমি জানি,,
,,,সিদ্বার্থ ইরার চুলে ধরা হাতটার জোড় বাড়ালো,, মুখটা উঁচু করে একদম মুখের কাছে মুখ নিয়ে হিসহিসিয়ে বললো– বিশ্বাস!! এই বিশ্বাস করিস বলেই তকে নিয়ে এতো বড়ো একটা গেইম খেলেছে,, তুই আদ্রিয়ান কাইসারকে চিনিস? ওর কারোর জন্য দরদ নেই, এই মুহুর্তে তুই মরে গেলেও ওর এক টুকরো অনুসুচনা হবে না। ও শুধু অর্পনার পাগল, শুধুই অর্পনার। তর বিশ্বাস অবিশ্বাসে তার কিছু এসে যায়না। ফালতু মেয়ে!!
,,,ইরাও সমানে চিৎকার করে বললো — ফালতু হলেও তদের মতো কুত্তা না, আমার পিছনে পরেছিস কেনো? এই কালো চামড়ায় কি পেয়েছিস? দুনিয়ায় আর কোনো মেয়ে নেই?
,,, মুখোমুখি থাকার দরুন ইরার তপ্ত নিঃশ্বাস সিদ্বার্থের গলার ভাজে আছড়ে পরছে,, মাথায় উঠা রাগটা হুট করেই নিভে গেলো। আরও কিছুটা ঝুকে এলো সিদ্বার্থ , ইরাদের ঠোঁটের ভাজে নজর স্থির করে বললো — নাহ নেই, আমি যদি কুকুর হই তাহলে তুমি আমার হাড্ডি। ইউ নো না? কুকুর হাড্ডি খেতে কতোটা লাইক করে?
,,, হল রুমের সোফায় বসে অনবরত কেদে যাচ্ছে রাত্রি,, অরুন তাকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার প্রয়াস চালাচ্ছে,, পল্লব কিছুটা দূরে দাড়িয়ে রাতের মায়ের সাথে কথা বলছে। উনি বার বার রাতের সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন,, ইতিমধ্যে রাতের মা, দ্বীপের বাড়ির সকলে বিষয়টাতে অবগত। অনেক্ক্ষণ কান্নাকাটির ফলে পরশী সোফায় বসে ঝিমাচ্ছে। এর মধ্যে বিহান আর দ্বীপ ছাদ থেকে নেমে এলো। হলরুমে থাকা গার্ডদের শতর্ক হতে দেখে অরুন সেদিকে তাকালো,, রাত্রি আর পল্লব ও চাইলো দ্বীপের পানে,, পরনে কালো শার্ট, কালো প্যান্ট যা বরাবরের ন্যায় ইন করা তবে পুরোপুরি গোছানো নয়। শার্টের হাতা ফোল্ড করা, ফর্সা হাতে ফুলে উঠা রগ গুলো জানান দিচ্ছে দ্বীপের মস্তিষ্কে ঠিক কি পরিমান দাবানল ছুটছে। সবসময়ের মতো শার্টের তিনটে বোতাম খোলা, বুক পকেট থেকে উকি দিচ্ছে একটা রুমালের অংশ। এই রোমালটা তারা চিনে,, খুব পরিচিত ,, চোখের শিড়াগুলো লাল,, কপালের মাঝখানে সরু ভাজ, কপাল বেয়ে চিকন ঘামের রেখা নামছে,, বিহানের সাজ পোশাক ও কিছুটা একই রকম,, তার চোখে গভীর চিন্তার আভাস। দ্বীপ বিহান নিচে নেমে আসতেই রাত্রি অরুনকে ছেড়ে দৌড়ে দ্বীপের সামনে গিয়ে দাড়ালো। চলতি পথে বাধা পেয়ে দাড়িয়ে পরলো দ্বীপ, বিহান। রাত্রি দ্বীপের দিকে তাকিয়ে করুন কন্ঠে সুধালো — ভাইয়া!! অর্পনা আর ইরার কোনো খোজ পেয়েছেন? ওরা কোথায়? ওদেরকে আনতে যাচ্ছেন?
,,, দ্বীপ শুকনো ঢোক গিলে নিজের মনে চলা ঝড়কে ধামাচাপা দিলো। খরখরা হাতটা উচিয়ে রাত্রির মাথার উপর রেখে বললো — পেয়ে যাবো, চিন্তা করোনা। ভাইয়া আছিনা? যাও, আহাদ ভাইয়ার সাথে বাড়ি চলে যাও। আগামীকাল সকালে সবাই মির্জা বাড়িতে চলে এসো,, তোমাদের ফ্রেন্ড তোমাদের অপেক্ষায় থাকবে।
,,, অরুন আর পল্লব ইতিমধ্যে ওদের সামনে এসে দাড়িয়েছে। পল্লব নাকোচ করে বললো — সরি ভাইয়া!! মানতে পারলাম না। ওরা আমাদের ফ্রেন্ড, আপনার গার্ডরা আমাদের বেরুতে দিচ্ছে না,, আমরা ওদের খুজতে যেতে চাই,, আমাদের ছাড়া হোক।
,,, দ্বীপ কিছুটা বিরক্ত হলো,, ছেলেগুলোর কোনো ধারনা নেই এখানে কতো বড়ো চক্রান্ত হয়েছে। যেখানে সে গতো ২ ঘন্টা যাবত খোজাখুজি করার পরেও অর্পনার কোনো খোজ পেলোনা সেখানে এরা কি করবে? দ্বীপ নিজের বিরক্তি দমিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো– নিশ্চিন্তে বাড়ি যাও,, কালেকে সকালে ইরাদ আর অর্পনা দুজনকেই দেখতে পাবে। আহাদ!! ওদের সহিসলামতে বাড়ি পাঠানোর ব্যাবস্থা কর,, ওরা এখানে আমার ভরসায় এসেছে।
,,, বলেই ওদের পাশ কাটিয়ে চলে গেলো দ্বীপ,, বিহান ও পা বাড়ালো সেদিকে। অরুন তীব্র বিরক্ত হলো, তাদেরকে বাচ্চা ভাবা হচ্ছে কি? এরকম বাচ্চাদের মতো বাড়ি যাও বাড়ি যাও বলে শান্তনা দেওয়ার কোনো মানে খুজে পেলো না সে। তাদের অর্পনা আর ইরা হাড়িয়ে গিয়েছে আর ওরা বাসায় গিয়ে চুপচাপ বসে থাকবে? এটা কেমন ধারনা দ্বীপ মির্জার?
,,,, রাত ১০ টা ২২ মিনিট।
,,, রাজবাড়ী জেলার, গোয়ালন্দ থানার পদ্মা নদীর পাড়ে দৌলতদিয়া নামক একটি অঞ্চল রয়েছে,, যা বাংলাদেশ ব্যাপি নিষিদ্ধ পল্লি হিসেবে বেশ নাম করা। এই নিষিদ্ব পল্লিতে পদাচরন পরেছে তুখোড় রাজনীতি বীদ দ্বীপ মির্জা এবং বিহান মির্জার। সাথে তার বরাদ্দকৃত বডিগার্ড। গলিটা বড্ড সরু,, রাত হওয়ার দরুন প্রতিটি বাড়ির সামনে অ*র্ধনগ্ন মেয়ে-মহিলাদের ভির জমেছে। এরুপ অঞ্চলে যেমন ভদ্র নারী থাকেনা তেমনি ভদ্র পুরুষের ও প্রবেশ ঘটেনা। যারা প্রবেশ করে তারা বরাবরই ভদ্রলোক হওয়ার মুখোশ পরে থাকে যা রাতের ঝমকালো আলো, দুটো নারী আর, এক শিশি ম*দের বোতলেই খুলে পরে যায়। এরুপ জায়গায় অর্থমন্ত্রী পুত্রদের দেখে নারীদের পাশে দাড়িয়ে থাকা দা*লাল গুলো ভয়ে তটস্থ হয়ে রাস্তা হতে সরে দাড়ালো। দুজন শক্ত পোক্ত মানবের পিছনে কালো পোশাক ধারী দশাধিক মানবদের হাতে থাকা ১২ ইন্চি লাইসেন্স প্রোভ গান দেখে অলিতে গলিতে ছুটে চলা বাচ্চাগুলো হইচই করে নিজেদের ঘরে ফিরে গেলো,, কেউ কেউ ছুটলো নিজেদের মায়ের কোলে। মা খারাপ হোক কিংবা ভালো, প্রতিটি সন্তান নিজেদের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে মা নামক মানুষটাকেই চিনে। দৌলতদিয়ার গলিতে থাকা নারী পুরুষ গন এটুকু ঠাওর করতে পেরেছে এখানে কোনো না কোনো অঘটন ঘটেছে কিংবা ঘটতে যাচ্ছে। অত্যাধিক সন্জোম সম্পন্ন দুটি যুবকের দৃষ্টি সামনে স্থির,, এইজে গলিতে এতো কিছু হলো,, কোনোকিছুতেই তাদের ধ্যান নেই।
,, তিনতলার ঝাকঝমক পূর্ণ একটি বিল্ডিং এর সামনে এসে পৌছাতেই দ্বীপ – বিহানের পদযুগল থেমে গেলো। বিল্ডিংটির সামনের প্লেটে বড়ো বড়ো করে লেখা
“”রঙ্গমহল”” ইনফরমেশন অনুযায়ী এটাই সেই বিল্ডিং যেখানে দ্বীপের কাঙ্ক্ষিত মানুষটা রয়েছে। লোহার কেচি গেইটের ভিতর পা রাখতেই একটা ১৭ -১৯ বছরের যুবককে দেখতে পেলো। সে তাদের দিকে এগিয়ে এসে নানান প্রশ্ন করতেই বিহানকে সামলানোর ইশারা করে উপরের তলায় ছুটে গেলো দ্বীপ। সিরি বেয়ে দুতলায় উঠতেই কানে কানে বাজলো অনেকগুলো অযাচিত শব্দ,, যা দ্বীপের বিরক্তির পরিমান বারিয়ে দিচ্ছে। সে ওসবে মাথা ঘামালো না, এগিয়ে গেলো ২০৮ নম্বর রুমের সামনে। দরজায় সজোরে লাত্থি বসাতেই পুরোনো কাঠের দরজাটির ফটফট শব্দ তুলে খুলে পরে গেলো। দরজা ভাঙার শব্দ হতেই ভিতরে থাকা মানব মানবী চমকে উঠলো। আপত্বিকর অবস্থায় থাকা মেয়েটি অন্যপুরুষের আগমন হওয়া সত্তেও নিজেকে হেফাজত করার প্রয়াস চালালো না কিন্ত যখনি দ্বীপ পিছনের পকেট থেকে গান বের করলো তৎক্ষনাত মেয়েটি নিজেকে কাথা দিয়ে মুরিয়ে দূরে সরে গেলো। দ্বীপ গান উচিয়ে দাড়িতে হালকা ঘর্ষন করে পায়ে পায়ে এগিয়ে হালকা ঘাড় কাত করে ডাকলো — এমপি, ওপ্স!! বার বার বাতিল হওয়া এমপি তাহরিফ খান!! সারপ্রাইজ!!
,,, নিজের খায়াসে ব্যাঘাত ঘটায় শুরুতেই বিরক্ত হয়েছিলো তাহরিফ খান, কয়েকটা বাজে গালিও ছুড়েছিলো কিন্তু যখনি আবছা চোখে দ্বীপকে দেখলো ততক্ষণাৎ ভয়ার্ত ঢোক গিলে উঠে বসলো। এদিক ওদিক তাকিয়ে নিজের সম্ভ্রম খোজার প্রয়াস চালালো কিছুক্ষণ। দ্বীপ কাপর ঠিক করার মতো সুযোগ দিলো না,, তেড়ে এসে তাহরিফের বুক বরাবর লাত্থি মারলো। নে*শাগ্রস্ত হওয়ার দরুন ঢুলতে থাকা তাহরিফ কাশতে কাশতে বিছানার উপর হুমরি খেয়ে পরলো। বুকে শক্ত বুটের লাত্থি পরতেই দম আটকে আসার জোগাড়। দ্বীপের শরীর জ্বলছে, চোখে আগুন, মাথা ঠিক রাখতে পারছে না,, যেভাবে শার্টের কলার ধরে মানুষকে বসা থেকে উঠানো হয়। ঠিক সেভাবেই দ্বীপ তাহরিফ খানের গলার ভাজের চামড়া খামচে ধরে ওকে শুয়া থেকে টেনে তুললো। চামড়া ছেড়ার মতো ব্যাথা অনুভত হতেই চিৎকার করে উঠলো তাহরিফ খান। দ্বীপকে পাল্টা আঘাত করে ফুসে উঠে বললো — কু*ত্তার বাচ্চা!! তর কুত্তার সা*ন্দানি উঠছে,, আমার মারতাছোত কেন?
,,, তাহরিফ মাতাল হওয়ায় আঘাতটা পর্যাপ্ত পরিমান ছিলো না, দ্বীপের গায়েই লাগেনি সেটা। তাহরিফ বার বার হেলে পরছে,, দ্বীপ ওকে টেনে দাড় করিয়ে আবারো বুক বরাবর লাত্থি মারলো। বুকে হাত চেপে মেঝেতে হুমরি খেয়ে পরলো তাহরিফ,, পরপর দুটো শক্ত লাত্থি পরায় জান বেড়িয়ে আসার জোগার। এতোক্ষন ভয়ার্ত চোখে দাড়িয়ে থাকা নারীটি এই পর্যায়ে ভয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলো। মাতাল তাহরিফ উঠার চেষ্টা করলে ওর কোমর বরাবর আবারও লাত্থি মারলো দ্বীপ। ফের চেচিয়ে উঠলো তাহরিফ — খা** বাচ্চা!! মারতাছোত কেন? মুখ নাই তর,, আরেকটা লাত্থি দিলে আগামীকাল এইখানে তর বোনরে,,
— শেষ করতে দিলো না দ্বীপ, শক্ত বুট দিয়ে মাথা চেপে ধরে বললো — বে*জন্মার বাচ্চা!! তর মুখ আমি গুরো করে ফেলবো। আমার বউ কই? তর বাপেরে কই সেল্টার দিছোছ তুই,, কুত্তার বাচ্চা!! নাফোরমান!! দ্রুত মুখ খোল নয়তো তর জান আমি প্রকাশ্যে কোরবান করে দিবো।
,,,, বুটের চাপে ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো তাহরিফ,, মনে হচ্ছে এখোনি মাথাটা ফেতে যাবে। সে পা দিয়ে দ্বীপকে আঘাত করতে চাইলে দ্বীপ কোমরে লাত্থি মারলো। উন্মুক্ত কোমরে লাত্থি পরতেই ব্যাথায় কুঁকরে গেলো তাহরিফ,, দ্বীপ ফের ওর মাথা বুট দিয়ে চেপে ধরলো,, মাতাল হলেও তাহরিফ বেশ শক্তপোক্ত মানব,, বয়সটা ৪৩ এর কোঠায়। সে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে দ্বীপের পা সরাতে চাইলে দ্বীপ পিষে দেওয়ার মতো চাপ সৃষ্টি করে বললো — এটুকু শক্তি তর নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যাবহার করলে তর এখানে আসার ক্ষমতাই থাকবেনা। তখন আমার বোনের দিকে নজর দেওয়া তো দূর,, হাত তালি দিয়ে টাকা তুলতে তুলতে জান বেড়িয়ে যাবে।
,,,, ব্যাথায় চিৎকার করে উঠলো তাহরিফ,, দ্বীপ মাথা থেকে পা সরিয়ে আবারও পেট বরাবর লাত্থি মারলো। কিছুক্ষণ আগে মদ্য সেবন করার দরুন লাত্থি খেয়ে গলগল করে বমি করে দিলো তাহরিফ। দ্বীপ নাক সিটকালো। ফোন বের করে তাহরিফের ন*গ্নাবস্থার কয়েকটা ছবি তুলে নিলো। এরকম সু-সময় খুব কমি আসে। দ্বীপকে ছবি তুলতে দেখে বেডসিট টেনে নিজেকে ঢাকার চেষ্টা করলো তাহরিফ। দ্বীপ ঘাড় ডলে ক্ষিন হাসলো,, নির্দয়ের মতো ফের তাহরিফের গলার ভাজের চামড়া টেনে ওকে তুলে বসালো। কাঠের শক্ত বিছানায় মাথাটা চেপে ধরে,, মাথায় গান ঠেকিয়ে খেকিয়ে উঠলো — আমার বউ কই? দ্রুত উত্তর দে নয়তো খুব খারাপ হবে তাহরিফ।
,,, তাহরিফ ঘন ঘন নিশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে ব্যাঙ্গাক্তক কন্ঠে সুধালো — তর বউ? তর বউ কই আমি কি জানি? আমার সাথে তো তর বউ ছিলো না, একটু আগে যে আমার সাথে ছিলো সে তর বউ? ওটা তো এখানে থাকে,, তর বউ কি প*তিতা?
,,, দ্বীপের রাগের মাত্রা আকাশ ছুলো, খেই হাড়িয়ে গানের পিছনের অংশ দিয়ে তাহরিফের মুখে অনবরত আঘাত করতে করতে বললো — কু*ত্তার বাচ্চা!! তর মরার পাখ গজাইছে,, শান্তি ভাল্লাগেনাই,, এখন মর।
,,, মাতাল তাহরিফ হয়তো নেশার ঘোরেই এসব বলে ফেলেছে নয়তো দ্বীপ মির্জার সামনাসামনি সে কখনো ঝামেলা করেনি,, যা করেছে সবটা আড়াল থেকে। ইতিমধ্যে তাহরিফের গাল মুখ কেটে একাকার, নাক দিয়ে র*ক্ত ছুটছে। দ্বীপের শান্তি হলো না। সে পিছনের পকেটে গান রেখে,, সামনের পকেট থেকে ৩ ইঞ্চি সাইজের চিকন নাইফ বের করে গালের একপাশে হালকা করে আচর কাটলো, চিৎকার করে উঠলো তাহরিফ। দ্বীপ হাতের চাপ বাড়ালো, নাইফটা গাড়ো করে চেপে ধরে ধীরে ধীরে দাবিয়ে দিলো। অনেকটা জায়গা দেবে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে নিচে নামাতে লাগলো। চামড়া কাটার গ্যাচ গ্যাচ শব্দ আর তাহরিফের চিৎকারে পুরো “রঙ্গমহল” কেপে উঠেছে। আত্মসমার্পন করলো তাহরিফ,, চেচিয়ে উঠলো — বলছি বলছি, এটা সরা, সরা খা** বাচ্চা। অমানুষ, তুই একটা সাইকো, সরা,, আল্লাহ গো!! মাআআহ!!
,,, দ্বীপ থামেনি, একেবারে গালের একাংশ কেটেই ক্ষান্ত হয়েছে। সে র*ক্তাক্ত নাইফটা ঘুরাতে ঘুরাতে বললো — বল আমার বউ কই?
,,,, তাহরিফ ব্যাথায় কাতরাতে কাতরাতে ফাপরের ন্যায় শ্বাস টেনে বললো — খাগড়াছড়ি!! খাগড়াছড়ি পাহারের পশ্চিম পাশে আমার সিক্রেট বাঙলোতে,,
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫৩ (২)
,,, দ্বীপ বাকি কথা শুনার চেষ্টা করলো না, তাহরিফের বাম কানের এক ইন্চি নিচে সজোরে ঘুসি বসালো। সাথে সাথে জ্ঞান হাড়িয়ে ঢলে পরলো তাহরিফ। দ্বীপ রক্তাক্ত নাইফটা তাহরিফের শরীরে মুছে পকেটে পুরে নিলো। এক হাতে গাল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে দেখতে আফসোস করলো — খুব শীগ্রই তর সাথে আমার দেখা হবে,, আর সেদিনি আমার সাথে আর পুরো দুনিয়ার সাথে তর শেষ সাক্ষাৎ। আমার বউয়ের কসম!!
