Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫০

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫০

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫০
রুপান্জলি

কয়েকদিন যাবত অর্পনা বেশ বিজি, সারাক্ষণ একটার পর একটা ফাইল নিয়ে ঘাটাঘাটি করছে। ঘাটাঘাটি করে আবার এটা ওটা নোট করে ল্যাপটপে টাইপ করছে। টাইপ করে কিছু ইনফরমেশন জড়ো করে একটা বিশাল প্রেজেন্টেশন রেডি করেছে। সবটাই তার নিজের মন মতো করে,, আজ একটু গোলসান যেতে হবে। S.R Mirja’s কোম্পানির মেইন ব্রাঞ্চ যেহেতু গোলসানে তাই মেইন প্রেজেন্টেশন টা ওখানে একবার প্রেজেন্ট করতে হবে। যদি ওখান থেকে তার প্রেজেন্টেশন এপ্রুভ করা হয় তাহলেই কক্সবাজারে ক্লায়েন্টদের সাথে মিট করতে পারবে নয়তো সে রিজেক্ট হবে। দ্বীপদের কোম্পানিতে প্রতিটি কাজ অত্যন্ত নিখুত ভাবে করা হয়,, যেনো তাদের ইমেজ জিরো পার্সেন্ট ও ফল না করে। এটা অর্পনার বেলায় ই নয়, দ্বীপ ব্যাতিত প্রতিটি পারশনকেই আগে ভাগে এই প্রেজেন্টেশন টা দিতে হয়,, এটা কোম্পানির রুল্স। তবে এই রুল্স দ্বীপের উপর কেনো খাটে না সেটা জানে না অর্পনা। আপাতত জানার ইচ্ছা ও নেই।

আজ মার্চের এক তারিখ, বিহান মিটিং ফিক্সড করেছে মার্চের তিন তারিখে মানে আগামী পরশু। কথামতো আগামীকাল বিকাল নাগাত তারা চট্টগ্রামে পৌছাবে। সেখানে মেইন অফিসে টুকটাক কাজ সেরে কক্সবাজারে যেতে হবে। অর্পনার কক্সবাজার নিয়ে তেমন কোনো মাতামাতি নেই,, বহুবার গিয়েছে। পাপ্পার এখানে, ওখানে, অনেক জায়গায় পোস্টিং হওয়ার দরুন বাংলাদেশের এমন কোনো প্রান্ত নেই যেখানে অর্পনা যায়নি। ছোট থেকেই পাপ্পার সাথে এক প্রকার বাজ পাখির ন্যায় উড়ে বেড়িয়েছে সে,, এমনকি দেশের বাহিরে, মালদ্বীপ, কাশ্মীর, তাজমহল আরও অনেক জায়গায় কয়েকবার করে ট্যুর দেওয়া ডান। লাস্ট ওয়ান ইয়ার্স এগু,, ওরা পাঁচ মূর্তি টানা ৪ দিনের ট্যুরে সাজেক গিয়েছিলো। তাই এসব কক্সবাজার টাজার তার কাছে আহামরি কিছু মনে হয়না। বার বার যেতে যেতে এখন প্লেইসটা তার কাছে বোরিং লাগে। তাই আগামীকাল বিকেলে যাবে আবার পরশু সকাল সকাল মিটিং শেষ করে বিকালের আগে ফিরে আসবে।

মিটিংটা মার্চের তিন তারিখে ফিক্সড করায় কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়েছে অর্পনা, সেদিন তার জন্য একটা বিশেষ দিন। ঐ দিনেই পাপ্পার থেকে দূরে থাকবে ভাবতেই কেমন মন খারাপ লাগছে। অর্পনার ল্যাপটপ অফ করে উঠে দাড়ালো,, এই মুহুর্তে তাকে রেডি হতে হবে,, অবশ্যই ফরমাল লুকে কিন্তু তার তো ফরমাল কোনো ড্রেস নেই, সব ক্যাজুয়াল। আর তাকে যে গোলসানে গিয়ে প্রি-প্রেজেন্ট করতে হবে সেটাও ওকে দ্বীপ কাল রাত ৩টায় বলেছে তাও ঘুমের ঘোরে। বলার সময় সরি ও চেয়েছে,, উনার নাকি বলতে মনে ছিলো না। এখন এই লোকের ভুলো মনের খেসারত তাকে দিতে হচ্ছে। অর্পনা ফাইল পত্র রেখে কাবার্ড রুমে গেলো,, ওখানে সারি সারি আকারে ওর গাউন, কুর্তি, লাফাঙ্গার মতো চলা ফেরা করার জন্য ক্যসজুয়াল ড্রেস সব সাজিয়ে রাখা। অর্পনা এগিয়ে গিয়ে সেখান থেকে খুজে খুজে একটা পেন্ট বের করলো। পেন্ট টা জিন্সের, হাটুর এদিকে বিড়ালের খামচি দেওয়ার মতো কয়েকটা দাগ ও আছে,, এটাই একটু ভদ্র টাইপ ছিলো বাকি সব একদম যা তা ধরনের। নাহ!! এই বিড়ালে খামচে দেওয়া জিন্স পরে ওখানে যাওয়া সম্ভব না কিন্তু কি করবে?

ফরমাল ড্রেস তো নেই। অর্পনা খুজতে খুজতে হতাশ হলো। তাই আপাতত পেন্টের বিষয়টা সাইডে রেখে শার্টের কালেকশনে গেলো। অর্পনার ম্যাক্সিমাম শার্ট লং একদম হাটুর কাছাকাছি,, এগুলো সে টিশার্ট আর জিন্সের সাথে পরে। মেয়েটা হতাশ, তীব্র হতাশ,, জীবনে অগোছালো ভাবে চলতে চলতে দুটো গুছালো ড্রেস কিনা হলো না। অর্পনা একবার উকি দিয়ে দ্বীপের ড্রেস কালেকশন গুলো দেখে নিলো। ক্যাক্সিমাম ফরমাল শার্ট, ফরমাল পেন্ট, জিন্স নেই বললেই চলে, ঐ লোক কখনো জিন্স পরেনা, গরমকাল বিদায়, হুডি, স্যুট, জ্যাকেট আলমারিতে তুলে রাখা, একপাশে সারি সারি টিশার্ট, অনেক ধরনের পান্জাবী পায়জামা। এগুলো দেখে রাগ হলো তার, বেয়াদব লোক, এই ফালতু পাঞ্জাবী পরে মেয়েদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। গত দুদিন আগেও ছোট চাচ্চুর সপথ গ্রহণের সময় পাঞ্জাবী পায়জামা পরে গিয়েছে। এসব একদমি পছন্দ নয় অর্পনার, সাথে এই লোক, রাজনীতি কিছুই পছন্দ না। নেহাতই পাপ্পা উনাকে কিছুটা সময় দিতে বলেছে নয়তো ঐ লোকের সাথে কিছুতেই মিশতো না সে।

সেই সাথে আবার অসুস্থ ও ছিলো,, নরমাল দ্বীপ মির্জার প্রতি কঠোর হতে পারলেও অসুস্থ দ্বীপ মির্জার প্রতি অর্পনা ভিষন উইক। তখন উনাকে অবজ্ঞা করা তার সাধ্যে নেই, অসুস্থ দ্বীপকে ভালোবেসেছিলো তো তাই। অর্পনা ভাবনা রেখে দ্বীপের একটা শার্ট নিলো এটাও তার হাটুর কাছাকাছি পৌছে যায়, পেন্ট তো পরাই যাবেনা। লোকটাকে কে বলেছিলো এতো লম্বা হতে? অর্পনা হতাশায় কাতর হয়ে রুমের দিকে পা বাড়ালো। রুমে এসে বিছানায় তাকাতেই বড্ড অবাক হলো,, দুটো হোয়াথ শার্ট, দুটো ব্লাক ফরমাল পেন্ট। একটার সাইজ ছোট অন্যটার বড়ো, খুব সুন্দর ভাবে স্ত্রি করে বিছানার উপর ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। এগুলো কে এনেছে? অর্পনা উকি দিয়ে বেলকনির দিকে তাকালো,, কাচের দেওয়াল বেদ করে পর্দার ফাক গলিয়ে ওপাশে দ্বীপ মির্জাকে দেখা যাচ্ছে। রেলিঙে হাত রেখে সামনের দিকে তাকিয়ে কার সাথে যেনো ফোনে কথা বলছে।

এই কদিনে দ্বীপ মির্জা বেশ সুস্থ হয়ে গিয়েছেন,, বেন্ডেজ ও খোলা হয়েছে, এখন শুধু নরমাল্লি ছোট করে ওয়ানট্যাম লাগানো। অর্পনা দ্বীপের থেকে নজর সরিয়ে শাওয়ার নিতে চলে গেলো। শাওয়ার নিয়ে বের হতে নিতেই দরজার সামনে দ্বীপকে দেখে কিছুটা থতমত খেলো। পরোক্ষনেই পাশ কাটিয়ে বেরুতে নিতেই দ্বীপ ওর হাত ধরে নিলো। টেনে নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে ডিভানে বসিয়ে ভেজা চুল ড্রাই করতে লাগলো,, চোখে মুখে বেশ তাড়া, যেনো এই কাজটা শেষ করে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে। দ্বীপের চোখে মুখে তাড়ার আভাস দেখে অর্পনা নিজে থেকে করতে চাইলে দ্বীপ নাকোচ করে দিলো। যত্নের সহিত সবগুলো চুল ড্রাই করে অর্পনাকে রেডি হতে তাড়া দিয়ে ওয়াসরুমে ঢুকে গেলো। দ্বীপ যেতেই অর্পনা ড্রেস চেন্জ করে নিলো,, হোয়াইট শার্ট আর ব্লাক পেন্ট এর সাৎে মেচ করে ব্লাক বেল্টের ওয়াচ পরলো। অর্পনার হিউজ ওয়াচ কালেকশন,, সে ড্রেসের চেয়েও বেশি ওয়াচ কিনে। এসব ওয়াচের মাঝে এমন ও কিছু ওয়াচ আছে যেগুলো সে ছুয়েও দেখেনি তারপরেও তার ওয়াচ কিনার শখ কমে না। তবে পারফিউমের বেলায় সে স্ট্রিক্ট,, ছোট থেকে “” টম ফোর্ড আউড উড”” এর জেন্স পারফিউম ইউজ করে এসেছে,, এটা আরশাদ জামান ইউজ করেন। পাপ্পার গায়ে এই ঘ্রাণটা মারাত্মক লাগে বলেই অর্পনা আগর কাঠের পারফিউম টা নিজের জন্য সিলেক্ট করেছিলো,, আপাতত এটাই কান্টিনিউ করছে।

অর্পনা ছোট থেকেই তার পাপ্পাকে ফলো করে,, ড্রেস, স্টাইল, এটিটিউড, কথা বলার ধরন, পারফিউম, ওয়াচ, বডি লোসন, ফেইস ওয়াস, মোট কথা অর্পনা সেই ব্রেন্ডের প্রডাক্ট ইউজ করতো যেটা তার পাপ্পা করে। একই ব্রেন্ডের লেডিস প্রোডাক্ট না থাকলে জেন্সটাই ইউজ করতো। মোট কথা, অর্পনার পাপ্পা হচ্ছে অর্পনার হিরো, আইডল, বাডি, কিং আর অর্পনা হচ্ছে তার পাপ্পার চেম্প, প্রিন্সেস। অর্পনা আর আরশাদ জামানের খুব সুন্দর সুন্দর মুহুর্ত রয়েছে। যেমন, তারা বাবা মেয়েতে মিলে একসাথে ট্যুর দেওয়া থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্ট মিট, সিনেমা দেখা, পার্কে যাওয়া, স্কাই ড্রাইভিং আরও অনেক অনেক কিছু করেছে একসাথে। সেসবের হিসেব দিতে গেলে ব্রেইন হেং মেরে যাবে, তাই না দেওয়াই ব্যাটার। অর্পনা ভাবনা রেখে চুল আচড়ে সবগুলো চুল একসাথে নিয়ে খোপা করে তাতে গার্ডার সেট করে নিলো। শরীরে হালকা করে পারফিউম স্প্রে করতে নিতেই ওয়াসরুম থেকে বেড়িয়ে এলো দ্বীপ,, পরনে শুধু পেন্ট বাকিটা উন্মুক্ত। অর্পনা মনোযোগ দিবেনা দিবেনা করেও দিয়ে ফেললো,,

বাকা চোখে দ্বীপের দিকে তাকালো,, চুলগুলো ভিজা কপালের উপর লেপ্টে রয়েছে। ফুলে উঠা পেশি, ছয় ভাগে বিভক্ত হওয়া পেট, বুকের ডান পাশে বাহুতে তিনটে তরতাজা ক্ষত, আরও অন্যান্য ছোট ছোট দাগ, কন্ঠ নালী মাঝে থাকা স্বরযন্ত্রের আসেপাশে ছোট ছোট পানির আস্তরন বড্ড টানলো অর্পনাকে, পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিলো। সৌন্দর্য বড্ড ভয়াঙ্কর জিনিস, তবে দ্বীপের সৌন্দর্যের তুলনা হয়না। একটা দম্পতির মাঝে বউটা হাসবেন্ডের থেকেও বেশি সুন্দর হবে এটা স্বাভাবিক কিন্তু হাসবেন্ড টা বউয়ের থেকেও সুন্দর এটা অস্বাভাবিক,, চরম ভাবে অস্বাভাবিক। অর্পনাকে চোখ ফিরিয়ে নিতে দেখে ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো দ্বীপ মাথায় তোয়ালে চালাতে চালাতে এগিয়ে এলো, অর্পনাকে উপর নিচ পরখ করে একদম থমকে গেলো,, পাঁচ ফিট ১ ইঞ্চি লম্বা রমনির পায়ে তিন ইন্চি পেন্সিল হিল,, পরনে ব্লাক পেন্ট- হোয়াইথ শার্ট যেগুলো বরাবর ইন করা, শার্টের হাতা সুনিপুণ হস্তে ফোল্ড করা,, বুকের এদিকে দুটো বোতাম খুলে রাখা,, হাতে মেচিং হোয়াইথ বেগ্রাউন্ড ব্লাক বেল্টের ঘরি,, মুখে কোনোরুপ কৃত্রিমতা নেই,, হলুদ ফর্সা মুখটা সানস্ক্রিন দেওয়ার ফলে চকচক করছে। দ্বীপ অনুভব করলো এতোটা সুন্দর নারী হয়না,, কোনো মানুষ এতোটা সুন্দর রুপের অধিকারি হতেই পারেনা। দ্বীপের বউটা মেবি ফেইরি,, নয়তো দ্বীপের মতো একজন সন্জোম পূর্ন পুরুষকে থমকে দিতে পারতো না। দ্বীপ পায়ে পায়ে এগিয়ে এলো,, অর্পনার দিক থেকে নজর সরিয়ে কিছুটা ঝুকে ড্রেসিং টেবিলের সবচেয়ে নিচু ড্রায়ারটা ওপেন করলো,, সেখান থেকে ছোট একটা বক্স বের করে টেবিলের উপর রাখলো। অর্পনা চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে দ্বীপের দিকে,, দ্বীপ বক্সটা খুলে একটা ছোট্ট পেন্ডেন সহ চেইন নিলো, দেখে বুঝা যাচ্ছে এটা হিরার, বাহিরের আলোয় চকচক করছে,, দ্বীপ হাত বাড়িয়ে অর্পনার গলায় থাকা স্বর্নের চেইনটা খুলে এটা পরিয়ে দিলো।

পরাতে গিয়ে একটি মিষ্টি ঘ্রান এসে নাকে ঠেকলো, আগর কাঠের ঘ্রান, দ্বীপ মোহে পরতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিলো। সময় নষ্ট করার মতো সময় নেই। অর্পনার বাম হাতে ঘরি থাকলেও ডান হাত খালি ছিলো,, দ্বীপ অর্পনার ডান হাতে একটা বেঙ্গেল্স পরিয়ে দিলো, সেটাও বেশ চকচক করছে,,মেবি হিরার। দ্বীপ সেখান থেকে আরও একটা বক্স বের করে অর্পনার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো — এখানে আমার আম্মুর চুড়িগুলো আছে, যেগুলো তুমি মাস খানিক আগে পরতে,, এখন তো পরোনা। তবে তোমার আমানত তুমি ই রাখো, ইচ্ছা হলে বাড়িতে পরো, না পরলেও কোনো সমস্যা নেই। কজ,, আমি কুসংস্কারে বিশ্বাসি নই। যাই হোক,, তোমার রেখে যাওয়া চারটে ঘড়িও এখানেই আছে। চেক দিও।

,,, বলেই ব্যাস্ত ভঙ্গিতে রেডি হওয়ায় মনোযোগ দিলো। অর্পনা বক্সটা নিয়ে নিজের জন্য বরাদ্ধ করা ড্রয়ারে রেখে দিলো। পরপর দ্বীপকে রেডি হওয়ার স্পেস দিয়ে প্রেজেন্টেশন টা রিচেক দিতে লাগলো। রিচেক দিতে দিতে আড় চোখে দ্বীপের দিকে তাকালো। তাদের ড্রেস কালার সেইম তবে লোকটা নিজের মতো করে রেডি হচ্ছে। প্রথমে সযত্নে চুল ড্রাই করে নিয়ে তাতে হেয়ার ক্রিম লাগিয়ে চুল সেট করে নিলো। এরপর মুখে কালো কালো ক্রিম লাগালো, অর্পনা খেয়াল করলো ওটা ব্লাক মাক্স,, সেটা কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে শুকালো তারপর সেটা টেনে টেনে তুলে ওয়াসরুমে গেলো।ফিরে এলো মুখ ধুয়ে,, অতপর মুখে হালকা ময়েশ্চারাইজার আর সানস্ক্রিন লাগালো, এরপর ছোট করে ট্রিম করা দাড়িতে হালকা ক্রিম লাগিয়ে সেটাকে ঠিকঠাক করে নিল। হাতের নীল রগ গুলোতে কি যেনো স্প্রে করলো, অর্পনা উকিঝুকি দিয়ে দেখতে চাইলো ওটা কি? কিন্তু দেখতে পারলো না, পরে ভাবলো সময় করে দেখে নিবে। স্প্রে করে হাতে কি যেনো লাগালো, বাহিরের আলোয় হাত দুটো বেশ জ্বল জ্বল করছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় লাগছে হাতের ফোলা রগ গুলো। অতপর শার্টের তিনটে বোতাম খোলা রেখে গলার ভাজে পারফিউম স্প্রে করলো। এটা মেবি ডিয়োর এর পারফিউম,, স্মেল্স গুড,, অর্পনার বেশ পছন্দ। অর্পনা ঠোঁট টিপে বিরক্তিকর চাহনি ফেলে তাকিয়ে রইলো,, একটা লোক, মানে একজন পুরুষ মানুষ যদি এভাবে রুপ চর্চা করে তাহলে সে মেয়ে হয়ে কি করলো? রাতেও এই লোক মুখে কিসব যেনো মাখে,, এজন্যই এতোটা ফর্সা, নয়তো বাঙালি আবার এতো ফর্সা হয় নাকি? পল্লব টাও উনার মতো ফর্সা, রাত, পরশী আর বিহানের বাচ্চাও এতোটাই ফর্সা। অর্পনা বুঝলো, সবকয়টা এরকম হাজার হাজার টাকা নষ্ট করে ফালতু প্রডাক্ট ইউজ করে তারপর ফর্সা হয়। এরকম প্রডাক্ট যদি সেও ইউজ করতো তাহলে নিশ্চই সেও ওদের মতো ফর্সা হয়ে যেতো? অর্পনাকে এরকম মুখ করে তাকাতে দেখে দ্বীপ ভ্রু বাকালো, অর্পনা মুখ বাকিয়ে কাজে মনযোগ দিলো। এসব ফালতু জিনিস দেখে চোখ অন্ধ করার ইচ্ছে নেই তার।

,,,, অর্পনা আর দ্বীপকে ফরমাল লুকে একসাথে নিচে নামতে দেখে হলরুমে উপস্থিত সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। পরশী খুশিতে ডগমগ হয়ে অর্পনার উদ্দেশ্যে ফ্লাইং কিস ছুড়ে বুকে হাত দিয়ে অজ্ঞান হওয়ার ভঙ্গিমা করে বললো — মারডালা ইয়ার!!
,,,অর্পনা মুচকি হাসলো,, রোমানা বেগমের দিকে চোখ যেতেই দেখলো তিনি মুখ গোমড়া করে দাড়িয়ে আছেন। দ্বীপের ও চোখ মুখ শক্ত। আজ চারদিন হতে চললো দ্বীপ আর তার মা একে অপরের সাথে কথা বলেনা। সেদিন সকালে কি হয়েছিলো তার বিন্দু বিসর্গ ও দ্বীপের সাথে শেয়ার করেনি অর্পনা। সে চায়নি দ্বীপ আর তার মায়ের মাঝে কোনো ঝামেলা হোক তাই সকালের সিসিটিভি ফুটেজ মুছে দেওয়া থেকে শুরু করে বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষকে নিষেধ করে দিয়েছিলো যেনো দ্বীপকে এসব না বলে। তবুও লোকটা কিভাবে কিভাবে যেনো জেনে গিয়েছে। সেদিন হুট করেই অসুস্থ অবস্থায় টানা আধা ঘণ্টা হল রুমে ভাঙচুর করলেন,, মায়ের সাথে কথা কাটাকাটি থেকে শুরু করে এক পর্যায়ে বলে বসলেন “” তোমার জায়গায় আমার নিজের আম্মু হলে কখনোই আমার বউয়ের গায়ে হাত তোলার কথা মাথায় আনতো না। ওকে মাথায় করে রাখতো। অথচ তুমি আমার বউয়ের গায়ে হাত তুলো, কথা শুনাও,, যেখানে আমার বউকে নিয়ে আমার নিজের কোনো সমস্যা নেই সেখানে তোমরা এতো কথা বলো কেনো? আমার বউ যা খুশি করবে, যা খুশি পরবে, ইচ্ছা হলে পরবেনা। ও কোনো ভুল করলে ওকে শাসন করার রাইট কারোর থেকে থাকলে সেটা আমি করবো। তোমরা এখানে কি? কোন অধীকারে টাচ করেছো ওকে? এরপর থেকে কেউ যদি এই কাজ রিপিট করে কিংবা ভুক্রমেও যদি আমার বউ অসন্তুষ্ট হয়,, তাহলে আমি ভুলে যাবো সে আমার আত্মিয়,, মা, ভাই, বোন কোনো সম্পর্কই মাথায় রাখবো না৷ স্রেফ মাটির নিচে জ্যান্ত গেড়ে দিবো। “‘ এতো এতো কথার মাঝে তুমি যদি আমার নিজের মা হতে,, এই কথাটা রোমানা বেগমকে হার্ট করেছে বেশি। ছেলেটা তবে তার নিজের নয়? তিনিও ছেলেটার মা নয়? তাহলে আর কি? কি সম্পর্ক তাদের? নাহ!! কোনো সম্পর্ক নেই। সেই থেকেই কেউ কারোর সাথে কথা বলেনা। অর্পনা দু একবার দ্বীপকে বুঝাতে গিয়েছিলো তারপর রাম ধমক খেয়ে চুপসে গিয়েছে। এই লোকটা অত্যন্ত রাগি, সে রাগলে যতটা প্রস্রয় দেয়,, নিজে রাগলে তার থেকেও বেশি আঘাত করে। অর্পনা নিচে নেমে শ্বশুর, চাচা শ্বশুর, চাচি শ্বাশুড়ির থেকে দোয়া নিলো, মেধা, পরশী কনগ্রেট্স করলো, অর্পনা সর্বশেষ শ্বাশুড়ির কাছে যেতে নিলে হাত টেনে ধরলো দ্বীপ,চোখ দ্বারা শাসিয়ে বুঝালো, যে আদর করতে জানেনা তার দোয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। অর্পনা কি করবে ভেবে পেলোনা, দ্বীপ ওকে ভাবার সময় ও দিলোনা, একপ্রকার টানতে টানতে বাহিরের দিকে হাটা দিলো।

,,, দশ তলা বিল্ডিং এর সামনে এসে গাড়িটি থামতেই অর্পনা সরাসরি পার্কিং লটের দিকে তাকালো,, মনে পরে গেলো নয় মাস আগের কথা। যখন সে প্রথম দ্বীপের খোজ করতে এই S.R Mirja’s কোম্পানির সামনে এসেছিলো। সে ঘাড় ত্যারামি করে গাড়ি পার্কিং লটে পার্ক না করে গেইটের সামনেই রেখেছিলো। এবারেও কি সেরকম কিছু করা উচিৎ? হুম!! অবশ্যই করা উচিৎ,, নয়তো তার ঘাড়ত্যারা উপাধিটার মান থাকবে না। অগত্যা গেইটের সামনেই গাড়ি পার্ক করে চাবিটা খুলে নিলো। এখানে গাড়ি পার্ক করতে দেখে দ্বীপ ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো– এখানে কেনো? পার্কিং লটে যাও।

,,, বিহান পিছন থেকে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললো — কারন গেইটের সামনে বড়ো বড়ো করে লিখা “” এখানে পার্ক করা নিষেধ, পার্কিং লট ঐদিকে”” এখন এই আদেশ মান্য করে তর বউ যদি এখানে গাড়ি পার্ক করে তাহলে তর বউয়ের ইগু হার্ট হবে,, তাই সে কোনো মতেই পার্কিং লটে যাবেনা।সে যতক্ষণ এখানে থাকবে গাড়িটিও এখানেই থাকবে,, এক চুল ও এদিক সেদিক নড়বে না। এম আই রাইট ভাপ্পি?
,,, অর্পনা মিররের মাধ্যমে বিহানের দিকে চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে শাসিয়ে বললো — ডন্ট কল্ড আলতু ফালতু ভাপ্পি। যা ডাকার ভদ্র ভাবে ডাকুন নয়তো স্ট্রিক্ট অর্পন ডাকবেন, স্রেফ অর্পন।
,,, বিহান মুখ বাকালো, অর্পনা বেশ বিরক্তের সহিত প্রশংসা করে বললো — বিহান ভাই!! আপনি বড্ড ভালো মানুষ,,
,,, বিহান প্রশংসা শুনে ডগমগ হয়ে উৎফুল্ল কন্ঠে সুধালো — কেনো কেনো? এমনটা কেনো বললে?
,,, অর্পনা মুখে হাসি ফুটিয়ে বললো– কারন, আপনি আমায় কখনো সতিনের অভাব বুঝতে দেননি। সুযোগ পেলেই পিছনে লাগেন আর সারাক্ষণ আমার হাসবেন্ডের সাথে চিপকে থাকেন, একদম কাটায় কাটায় আমার সতিনের রুল প্লে করছেন।

,,, বিহানের উৎফুল্ল মুখটা শুকিয়ে শুকনো আমের আটি হয়ে গেলো। ভেবেছিলো জীবনে প্রথম কোনো নিরামিষের মুখে নিজের নামের প্রশংসা শুনবে,, কিন্তু এটা তো প্রশংসা নয় একেবারে বাশংসা মানে বাশ হয়ে গেলো। বিহানের মুখের অবস্থা দেখে মৃধু হাসলো দ্বীপ। শক্ত পোক্ত চোয়ালে মৃধু হাসিটা চমৎকার লাগে,, অর্পনা আড় চোখে একবার দেখে নিলো সেই হাসি। সারাক্ষন দ্বীপ ওর দিকে তাকিয়ে থাকার কারনে আড় চোখে তাকাতে হয় নাহলে ধরা পরে যাবেনা? দ্বীপ বুঝে যাবে না? অর্পনা যে তার প্রতি বড্ড উইক? নিজেকে হাইড করতেই তার এরকম প্রন্থা বেছে নেওয়া। অনেক্ষন যাবত গাড়ি গেইটে দাড়িয়ে আছে, বিষয়টা বুঝতেই দুজন গার্ড তাড়াহুড়ো করে দ্বীপ আর বিহানের সাইডের ডোর খুলে দিলো তবে অর্পনার দিকে আগানোর মতো সাহস পেলো না কেউ। দ্বীপ রয়ে সয়ে নেমে ঘুরে এসে অর্পনার সাইডের ডোর ওপেন করে দিলো। অর্পনা দাপটের সহিত গাড়ি থেকে নেমে গটগট পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো। দ্বীপ ও তার সাথে সাথে হাটছে,, বিহান পিছনে দাড়িয়ে তাকিয়ে রইলো। মেয়েটার ভাব এমন যেনো ওর দাদা শ্বশুরের কোম্পানিতে ওরা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসেছে,, পাত্তাই দিলো না? মহান আল্লাহ তায়ালা কি পৃথিবীর সকল এটিটিউড এই মেয়েটার মাঝেই দিয়েছেন? মেয়েটা এতো দেমাগি কেন? বিহানের গভীর হা হুতাসার মাঝেই অর্পনা আর দ্বীপ ভিতরে ঢুকে গেলো। বিহান সাথে সাৎে কল করলো কাউকে,, কথা বার্তা বলে নিজেও এগিয়ে গেলো সামনে।

,,, পাঁচ তলায় এসে লিফ্ট থামতেই অর্পনা আর দ্বীপ লিফ্ট থেকে নেমে এলো,, সাথে সাথে সেখানে থাকা গার্ডরা নম্রতার সহিত সালাম জানালো। তারা এগিয়ে গিয়ে কাচের দরজা বেধ করে ভিতরে ঢুকতেই উপর থেকে ফুলের বর্ষন হতে লাগলো,, দুই পাশে সারি সারি হয়ে অফিসের সব এমপ্লয়িরা দাড়িয়ে, আহাদ একটি ফুলের বুকে নিয়ে এগিয়ে এলো, অর্পনার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো — আসসালামু আলাইকুম ভাবি!! আমাকে চিনতে পেরেছেন?
,,, অর্পনা মৃধু হেসে সালাম গ্রহণ করে বললো — চিনেছি, আপনি আমায় দেখে প্রথমে ভুত ভেবে ভয়ে দৌড় দিয়েছিলেন। তারপর বিহান ভাইয়ের ক্যাবিনে গিয়ে ভয়ে কাচুমাচু হয়ে বসেছিলেন, কিছুক্ষণ পরপর পানিও খাচ্ছিলেন, মনে আছে আমার।
,,, আহাদ বিনিময়ে লজ্জা পেলো, বিহান ঠিকি বলেছিলো। দ্বীপের বউ সবসময় সোজা সাপ্টা কথা বলে, এতোটাই সোজা যে অপর মানুষটার হজম করতে বেশ কষ্ট সাধ্য হয়ে যায়। ওদের কথোপকথনের মাঝেই একজন লেডি এমপ্লয়ি আরও একটি ফুলের বুকে নিয়ে এলো,, দ্বীপ চোখ মুখের গম্ভীর্যতা বজায় রেখে মেয়েটার থেকে ফুলের বুকেটা নিলো পরপর অর্পনার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে ফুলের বুকেটা এগিয়ে দিয়ে বললো– কঙ্গ্রাচুলেসশন্স মাই ব্লাড ভেলোরা।

,,, অর্পনা বুকেটা নিয়ে দ্বীপকে ইশারায় ঝুকতে বললো, দ্বীপ অর্পনার পা থেকে মাথা পর্যন্ত নজর বুলিয়ে চোখে হাসলো,, পিচ্ছি বউ,, তিন ইন্চি হিল পরেও তার কান পর্যন্ত পৌছাতে পারছেনা। অগত্যা মাথা নামিয়ে অর্পনার দিকে ঝুকে এলো দ্বীপ। অর্পনা ফিসফিস করে বললো — মাত্রারিক্ত সমাদর করছেন, যেমন করে পাঠাকে বলি দেওয়ার আগে সাজানো গুছানো হয়। সত্যি বলুন, আপনার অন্য কোনো প্লান নেই তো? আমায় বলি টলি দিবেন নাকি?
,,, দ্বীপ কিছু বললো না, কিছুটা ক্রুর হেসে অর্পনার চোখে মুখে ফু দিলো সাথে সাথে ছোট ছোট চুলগুলো চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গিয়ে আবারও আগের স্থানে ফিরে এলো। পরপর একহাতে অর্পনার কাধ পেচিয়ে সামনের দিকে কিছুটা এগিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বললো — মিট মাই ওয়াইফ এন্ড এস.আর. মির্জা’স কোম্পানি গেস্ট প্রেসেন্টর অর্পনা জোহান, সরি!! অর্পনা জামান মির্জা।
,,, একটা ছোট্ট বাক্য, একটা ছোট্ট নাম ” অর্পনা জামান মির্জা”” যাতে মিশে আছে অর্পনার একটা সম্পূর্ণ জীবনের অস্তিত্ব। একটা ভাগ তার পাপ্পার আর অন্যটা দ্বীপের। এটুকু সম্মধনে অর্পনার প্রতি দ্বীপের এক আকাশ পরিমান শ্রদ্ধা প্রকাশ পেলো। উনি চাইলেই শুধু নিজের সারন্যাইম দিয়ে পরিচিত করাতে পারতেন অথচ করলেন না বরং সাথে অর্পনার নিজস্ব সারন্যাইমটাও এড করেছেন। লোকটা দিনকে দিন তাকে খুব করে বুঝছে,, সে কি প্রেফার করে, কি এভোয়েট করে সবটা নিজে থেকেই খেয়াল রাখছে। এই ব্যাপারটা শান্তির, অর্পনার বেশ ভালো লাগছে।

,,মিটিং রুমে দাড়িয়ে আছে অর্পনা, কানে মাউথ স্পিকার সেট করা। পিছনে বিশাল আকারের মাল্টিমিডিয়া স্ক্রিন, তাতে একটার পর একটা ড্যাটা ভাসমান হচ্ছে, অর্পনার সামনে বসে আছে দ্বীপ, বিহান, আহাদ, দুজন সিভিল ইন্জিনিয়ার, দুজন পারমানেন্ট সিভিল ডিজাইনার আরও কয়েকজন এমপ্লয়ি। অর্পনা বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে একটা একটা ডেটা বের করে সেটা এক্সপ্লেইন করছে, বিহান, আহাদ, ক্লায়েন্ট দের মতো করে নানান প্রশ্ন করে যাচ্ছে, অর্পনাও ঠান্ডা মাথায় সেসব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। দ্বীপ এক দৃষ্টিতে অর্পনার দিকে তাকিয়ে রইলো,, কথা বলার সময় নাড়ানো ঠোঁট, স্ক্রিনের আলোয় জ্বল জ্বল করা অর্পনার গলার সেই পেন্ডেন, শার্টের দুটো বোতাম খোলা থাকায় কলার বোনের কিছুটা উন্মুক্ত,, কলার বোনের মধ্যস্থানে পাথরের পেন্ডেন থাকায় বড্ড আকর্ষণীয় লাগছে। দ্বীপ চোখ ঘুরিয়ে সবাইকে একবার করে দেখে নিলো, পরক্ষণেই টেবিলে হালকা চাপর মেরে বললো — প্রেজেন্টেশন ওভার,, এবার সবাই যাও, আই নিড স্পেস!!

,,, দ্বীপের কথায় সবাই উঠে বাহিরের দিকে হাটা দিলো কিন্তু বিহান আর আহাদ ছাড়া। বিহান যেহেতু আগেও এরকম টুকটাক স্পেস দিয়েছে তাই বিহান এই বিষয়ে জ্ঞ্যাত। কিন্তু আহাদ এর কিছুই জানেনা,, সে দ্বীপের দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বললো — স্পেস লাগবে কেনো? আর প্রেজেন্টেশন তো শেষ হয়নি, তার আগেই ক্লোজ করে দিয়েছিস কেনো? তুই তো এতোটা বেখেয়ালি না?
,,, দ্বীপ বাকা চোখ অর্পনার গলার ভাজে দৃষ্টি রেখে বললো — একটু পারসোল্লি মিট করতে চাই, দূর হো দুজন।
,, আহাদ কিছু একটা বুঝে বিহানের দিকে তাকাতেই সে ঠোঁট টিপে হেসে শায় জানালো। সাথে সাথে উঠে দাড়ালো আহাদ, বিহানের কাধে হাত দিয়ে হেলতে দুলতে বেড়িয়ে গেলো। ওরা যেতেই পায়ে পায়ে এগিয়ে এলো দ্বীপ,, অর্পনা ভ্রু কুচকে দ্বীপের মতিগতি বুঝতে চাইলো। হঠাৎ সবাইকে এভাবে বের করে দেওয়ার কারন কি? আর পারশোনাল মিট মানে কি? উনি কি এই মিটিং রুমে কোনোরুপ ফালতু কাজ করতে চাচ্ছেন? অর্পনার ভাবনার মাঝেই সামনে এসে দাড়ালো দ্বীপ, আকষ্মিক হাড়ে অর্পনার কোমর চেপে ধরে মিট টেবিলের উপর বসিয়ে দিলো। কোমরে হঠাৎ টান লাগায় ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো অর্পনা। দাতে দাত চেপে আফসোসের স্বরে বললো– মানুষ খাল কেটে কুমির আনে আর আমি একমাত্র পারশন যে কুমিরের ল্যান্জা ধরে টানতে টানতে বলেছি “” হাই কুমির!! কেমন আছো?এখুনি হা করো আমি তোমার পেটের ভিতর ঢুকে যাই।

,,, অর্পনার এই বৃহৎ কথার কানাকড়ি ও বুঝলো না দ্বীপ, সে টেবিলের দুপাশে হাত রেখে অর্পনার দিকে ঝুকে এসে ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করলো — এটা কি ছিলো? এই কুমির টা কে?
,,, কেনো আপনি? মরার তো আর জায়গা পাচ্ছিলাম না, তাই আপনার ডোবায় এসে ধরা দিয়েছি। আজরাইল একটা, আমার কোমরটা শেষ করে দিলো।
,,, দ্বীপ ভ্রু কুচকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হুট করেই হেসে ফেললো। এই হাসিতে কিছু একটা ছিলো, অর্পনা বেশ মুগ্ধ হলো তবে মুখে তার আভাস ফুটলো না। সে বরাবরই নিজেকে সংযোত করতে পারে। দ্বীপ ঠোঁটে হাসি জমা রেখে নরম স্বরে বললো– আচ্ছা!!
,,, কি আচ্ছা?
,,, হা করছি, আমার পেটের ভিতর ঢুকে যাও।
,,, অর্পনা নিজেও হেসে ফেললো, পরক্ষণেই মুখের মাঝে গম্ভীর ভাব ফুটিয়ে তুলে বললো– আমার প্রেজেন্টেশন শেষ হওয়ার আগে ক্লোজ করে দিলেন কেনো? আর,,

,,, অর্পনার কথার মাঝেই ওর ঠোঁটে বৃদ্ধাঙ্গুল চেপে ধরলো দ্বীপ, থমকে গেলো অর্পনা, কিছুক্ষণ আগের সেই হাস্যজ্জল দ্বীপের মুখেও গম্ভীর ভাব তবে চোখে মাদকতা,, সে অর্পনার ঠোঁটের মধ্যভাগে থাকা কালো তিলকে স্লাইড করতে করতে বললো– আই নিড ইট!!
,,, অর্পনা লাজুক হাসলো, হলদেটে বর্নের চিকন হাতটা এগিয়ে নিলো দ্বীপের গলার ভাজে, দ্বীপ আরেকটু ঝুকে এলো,, দ্বীপের তপ্ত নিশ্বাস অর্পনার সম্পূর্ণ মুখশ্রীতে আছড়ে পরছে। অর্পনা আঙুল দ্বারা গলা ছুয়ে ধীরে ধীরে গালে হাত রাখলো,, দ্বীপের ট্রিম করা দাড়িতে তর্জনী আঙুলের লম্বা নখ দ্বারা স্লাইড করতে করতে বললো — আপনার দেওয়া এক্সটা এখনো আমার কাছেই আছে,, ঐজো ভেনিটি ব্যাগ, ওটাতে রাখা (চোখের ইশারায় দেখিয়ে) পাপ্পার কথায় আপনাকে টাইম দিয়েছি এর মানে এই নয় যে আপনি যখন যা ইচ্ছা তাই করবেন। অথচ আপনি সীমা লঙ্ঘন করে ফেলছেন। এখন সীমা লঙ্গন করার অপরাধে আপনাকে কি শাস্তি দেয়া যায় বলুন তো!! বলুন আপনার কোন পার্ট টা আগে খুলবো? হৃদপিণ্ড নাকি কলিজা?

,,,দ্বীপ জানতো অর্পনা এমন কিছু করবে নয়তো তার ঘারত্যারা বউ তো এতো সহজে পোষ মানার মেয়ে নয়। এই মেয়ের মাথা ভর্তি ত্যাড়ামি আর ত্যারামি। তবে দ্বীপ নিজেও তো ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়,, সে অর্পনার দিকে আরও একটু ঝুকে ফিসফিস করে
বললো — আপাতত শার্টের বোতাম!!

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৯

,,, অর্পনা সজোরে দ্বীপের বুকে ধাক্কা দিলো, কিছুটা সরে গেলো দ্বীপ, অর্পনা টেবিল থেকে নেমে ভেনিটি ব্যাগ নিয়ে হিলের ঠক ঠক শব্দ তুলে মিটিং রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো,, দ্বীপ বুকে হাত ভাজ করে তাকিয়ে রইলো। মুলত সে যেতে দিয়েছে বলেই অর্পনা যেতে পেরেছে,, চাইলেই আটকে দিতে পারতো,, জোর করে মনের ইচ্ছাটুকু ও পূরন করতে পারতো কিন্তু এই মেয়েটার সাতে তার জোর করতে ইচ্ছা করেনা। সবকিছু জোর করে পেয়ে তৃপ্ত হওয়া যায়না।কিছু কিছু জিনিস যত্নের সাথে নিজের বলে জয় করে নিতে হয়।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫০ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here