Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৭

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৭

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৭
রুপান্জলি

,,,বাবার সাথে দির্ঘ বাক্য ব্যায় সেরে বিছানায় থম মেরে বসে রইলো পারমিতা। সকালে ঘটা প্রতিটি ঘটনা বাবাকে বলার আপ্রাণ চেষ্ঠা করলেও শেষ পর্যন্ত তা পেরে উঠলো না। বাবা খুব শখ করে তাকে পড়তে পাঠিয়েছে এখন যদি সে বাবার কথা অমান্য করে গ্রামে ফিরে যায়, তাহলে বাবা খুব কষ্ট পাবে। আর সে কিছুতেই বাবাকে কষ্ট পেতে দেখতে পারবেনা। এদিকে নিজেকে নিয়ে তার বড্ড চিন্তা হচ্ছে,, যদি কিছু হয়ে যায়? পরোক্ষনেই ভাবলো, যা খুশি হয়ে যাক!! সে বাবাকে কষ্ট দিবেনা। এতো ভাবনার মাঝে, পারমিতা হাতের বাটন ফোনটা পাশে রাখতেই আবারও কর্কশ শব্দে সেটা বেজে উঠলো। বাবার কল ভেবে নম্বর চেক না করেই ফোনটা কানে তুলে বললো —

,,জ্বী আব্বু বলুন।
,,,আমি তোমার আব্বু নই বেইবি। আমি তোমার বাচ্চার আব্বু।
,,,অপরিচিত কন্ঠ শুনে মোবাইল সামনে ধরতেই দেখলো আননোন নম্বর। পারু ভেবে পেলোনা তাকে আন-নোন নম্বর থেকে কে কল করতে পারে? তাই সে ফোনটা আবারও কানে নিয়ে মিনমিনে স্বরে বললো–
,,সরি? আমি কি কোনো ভাবে আপনাকে চিনি? কিংবা আপনি আমাকে চিনেন?
,,,ওপাশের লোকটা হাসলো,, কেমন গম্ভির হাসি।পরপর একটা শ্বাস টেনে বললেন– নিজের লাভারকে এতো দ্রুত ভুলে গেলে হবে বেইবি? বলোতো?
,,,বেইবি কথাটা শুনেই পারুর ভিতরটা ছলকে উঠলো, সকালের কথা মনে হতেই সহসা বুঝে গেলো এটা দ্বীপ। বাট এই লোক তার নম্বর পেলো কোথায়? সে তো কাউকে দেয়নি? এমনকি মেধাকেও দেওয়া হয়নি এই নম্বর। তাহলে উনি কিভাবে পেতে পারেন? পারুর মনোভাব বুঝলো বোধহয় দ্বীপ। তাই গলা খাকারি দিয়ে বললো —-

—– ভাবছো তো? তোমার নম্বর কিভাবে পেলাম। আমি দ্বীপ বেবি,, দ্বীপ জোহান মির্জা। আমার দ্বারা কিছুই অসম্ভব নয়। তুমি জানলে অবাক হবে, তোমার সাথে সাথে তোমার হুল ফ্যামিলির হিস্ট্রি, ফোন নম্বর, অল ডিটেল্স আমার হাতের মুঠোয় বন্ধি। যাই হোক!! সেসব কথা বাদ, মাই ওয়েলি লেডি। বিকালে আসতে পারিনি বলে রাগ করেছো?
,,, পারমিতা হকচকিয়ে উঠলো, সবার ডিটেল আছে মানে? বাবাকেও উনি চিনে ফেলেছেন? ভাই, আর মাকেও চিনে ফেলেছেন? ওদের কোনো ক্ষতি করে দিবেনাতো? ভয় ভয় নিয়ে পারমিতা বললো– আমার আব্বু আম্মুর কোনো ক্ষতি করবেন?
,,, আমার বোকা রানি,, আপন শ্বশুর শ্বাশুড়িকে কেউ আঘাত করে? আমি কি এতোটাই খারাপ সোনা?
,,,পারমিতা উত্তর করলোনা, কিছু সময় যেতেই দ্বীপ নরম স্বরে বললো–

,,,সোনা!! একটু জানালায় এসে দাড়াও তো। তোমাকে একটু মন ভরে দেখবো। ১০ ঘন্টা ২৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড ধরে তোমায় দেখিনা। বুকের বাপ পাশে ক্ষরন হচ্ছে,, দেখা দিয়ে বুকের ক্ষরন টা একটু সারিয়ে দাও ।
,,,পারমিতা এখনো চুপ , কি বলবে ভেবে পায়না। সে কিছুতেই এখন জানালার পাশে যাবেনা, আর না ঐ লোকের সামনে কখনো পরবে। সেদিন রাতের ঘটনার পর যেমন দুটো দিন আড়ালে থেকেছিলো আজকের পর সেভাবেই আড়ালে থাকবে সে। ভার্সিটি টু হোস্টেল, হোস্টেল টু ভার্সিটি। এর মধ্যে একবারো ক্যাম্পাসে যাবেনা, তাহলে আর ঐ লোকের সামনে পরতে হবেনা। পারুর গভির ভাবনায় ছেদ করে দ্বীপ কিছুটা রাগি স্বরে বললো–
,,,ভিতরে মটকার মতো বসে আছিস কেনো? বললামনা দেখতে মন চাচ্ছে? জানালার পাশে আয়।
,,,দ্বীপের ধমকে বেশ ভয় পেয়েছে মেয়েটা। তবুও যাবেনা বলে জিদ নিয়ে ঠাস করে কলটা কেটে দিলো। কল কাটতে দেরি আবারও কল আসতে দেরি নেই, পারমিতার হাত কাপছে। কি করবে ভেবে পায়না। রিং হতে হতে কল কেটে যাওয়ার সেকেন্ড খানিকের মাঝে ওপাশ থেকে মেসেজ এলো,,,
,,,কয়েক সেকেন্ডের মাঝে তকে দেখতে না পেলে আমি কি করবো নিজেও জানিনা পারু। দ্রুত আয় সোনা, নয়তো আমার পরবর্তী পদক্ষেপ অত্যন্ত ভয়ানক হবে। আমি কিন্তু ছাড় দেওয়ার মতো ছেলে নই, মাথায় রাখিস। সু কাম ফাস্ট।

,,,মেসেজটা পড়ে মোবাইলটা বন্ধ করে দূরে ছুড়ে মারলো পারমিতা। সে কিছুতেই জানালার ধারে গিয়ে দাড়াবেনা। আর এই লোক কিসব বলে, ছি ছি ছি!! এসব শুনাও পাপ। পারুকে এরকম হাসফাস করতে দেখে সিমি এগিয়ে এসে বললো — কি হয়েছে পারু? এতো ভয় পেয়ে আছো কেনো? জানালা বন্ধ করে দিবো? ভুতের ভয় পাচ্ছো?
,,,পারমিতা ভয়ার্ত ঢোক গিলে মাথা ঝাকালো,, অদৃশ্য ভুতের ভয় না পেলেও দ্বীপ মির্জার ভয়ে সে থর থর করে কাপছে। সিমি এগিয়ে গিয়ে ঝানালা আটকে পারমিতার পাশে এসে বসলো। রুমে আপাতত সেই কর্কশ ধ্বনির সিনিয়র টা নেই। এটা খুব ভালো লক্ষ্মণ,, সিনিয়র আপুটির নাম আদিবা। ঐ আদিবা আপু রুমে থাকলে দুজন মিলে একটু শান্তিতে আলাপ চারিতাও করতে পারেনা। পারুকে এখনো ভয় পেতে দেখে সিমি পারুর কাধে হাত রেখে বললো — বোকা পারু!! বাচ্চাদের মতো কেউ ভুতে ভয় পায়? চলো পড়তে বসো। দেখবে নবীন বরন শেষ হতে না হতেই সেমিস্টার রুটিন দিয়ে দিবে। মানুষে বলে একবার স্কুল কলেজ পার করে আসতে পারলে নাকি জীবনে আর কোনোদিন পড়ালেখা মুখো হতে হয়না। অথচ যারা ভার্সিটিতে পড়ে তারা কোনোদিন সেমিস্টারের প্যারা কাটিয়ে শান্তিতে দম নিতে পেরেছে কিনা সন্দেহ। যাই হোক!! আমিও যাই পড়তে বসি।

,,,পারু মাথা ঝাকাতেই সিমি তার পড়ার টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলো। পারু আর ফোন হাতে নেয়নি, সেও একটা বই নিয়ে পড়ায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলো। কাটায় কাটায় ১৮ মিনিট পেরুতেই ওদের রুমের দরজায় নক করা হলো। পারু ভাবলো হয়তো আদিবা আপু এসেছেন তাই সে উঠে গিয়ে দরজা খুলতেই হল সুপারকে দেখতে পেলো। হল সুপারের মুখে ভয়ার্ত ছাপ স্পষ্ট,, যেনো কোনো কারনে মহিলাটি অত্যন্ত ভয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। পারু মুচকি হেসে বললো– কিছু বলবেন আন্টি?
,,হল সুপার মিথ্যা মিথ্যা হাসার চেষ্টা করে বললো– তুমি বাধে রুমে আর কেউ আছে?
,, পারু মাথা ঝাকিয়ে বললো — হ্যা সিমি।
,,, মহিলাটি রুমের ভিতর উকি দিয়ে সিমির দিকে তাকিয়ে বললেন– সিমি! একটু বাহিরে আসো তো, দরকার আছে।

,,,সিমি খুলে রাখা বইয়ের পাতায় কলম রেখে সেটা বন্ধ করে এগিয়ে এলো। মুখ তুলে কিছু জিজ্ঞেস করতে নিবে তার আগেই হল সুপার হন্তদন্ত হয়ে সিমির হাত ধরে টেনে বাহিরে চলে গেলো। ওদের কান্ড দেখে ভরকে গেলো পারমিতা, কি এমন হলো যে সিমিকে এভাবে টেনে নিয়ে যেতে হলো? যাই হোক, সিমি ফিরে এলে নাহয় জেনে নেওয়া যাবে। ভেবেই পারমিতা আবারও দরজা আটকাতে নিবে তৎক্ষনাৎ ওপাশ থেকে কেউ বল প্রয়োগ করে দরজাটা আটকে দিলো, পারু ভাবলো হল সুপার ফিরে এসেছে তাই কিছু বলতে নিবে। তখনি ওপাসের ব্যাক্তি দরজা ঠেলে মাথা ভিতরে ঢুকিয়ে, ঘাড় কাত করে বাকা হেসে বললো — বেইবি!! আ’ম দ্বীপ জোহান মির্জা, তোমার পারশোনাল লাভার।

,,, ভয়ার্ত ঢোক গিললো পারমিতা, এই লোক এখানে কি করে আসতে পারে? এটা তো মহিলা হোস্টেল। তবে কি মহিলা হোস্টেলেও মেয়েরা সেইফ নয়?শুধু ভার্সিটির ভিপি বলে এভাবে ঢুকে পরবেন? পারু সর্ব শক্তি প্রয়োগ করে দরজা ঠেলে লাগাতে নিলে, দ্বীপ সেটাকে এক লহমায় খুলে দিয়ে ভিতরে ঢুকে পরলো। ভয় পেয়ে পারুর কয়েক পা পিছিয়ে গেলে দ্বীপ তার বাহু আকরে ধরে একদম কাছাকাছি এনে দাড় করিয়ে দিলো। দুজনের মধ্যবর্তি দূরত্ব আধ হাতের মতো হবে। পরপর পারুর কান বরাবর ঝুকে গেলো দ্বীপ,, হাইট ডিফারেন্সের কারনে অনেকটাই ঝুকতে হয়েছে তাকে। কানের কাছে মুখ নিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে বললো — অবাধ্য প্রেমিকা!! ফোন বন্ধ করে রেখেছিস কেনো ? যেনো আমি কল দিতে না পারি? অথচ দেখ,, আমি তোর রুমে, তোর সামনে দাড়িয়ে আছি। তোর হল সুপার কিন্তু আমাকে আটকাতেও আসেনি বরং ঢুকার রাস্তা করে দিয়েছে। আমার ক্ষমতাটা ঠিক কতোটা আন্দাজে এসেছে? ( পারুর মাথায় আঙ্গুল দিয়ে টোকা দিয়ে)

,,,পারু চোখ মুখ খিচে নিয়ে ঝরঝর করে কেদে দিলো। সাথে সাথে দ্বীপ পারুর ডান হাত বুকের বাম পাশে রেখে বেকুল কন্ঠে বললো– পারু!! এই পারু!! দেখ,, তুই কাদলে আমার এখানে কেমন যেনো লাগে। কি করি বলতো? কাদিসনা। আমি তোকে দেখতে এসেছি, এখনি চলে যাবো। শুধু তকে একটা কাজ করতে হবে করলেই চলে যাবো আমি। প্রমিস!!
,,,পারু নাক টেনে ভাঙা স্বরে বললো– ক,কি কাজ?
,,, তন্মোদ্বে বেকুল দ্বীপের চোখে মুখে আবারো রাগের আভাস দেখা দিলো, সে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো– তকে দূর থেকে দেখে চোখের তৃষ্ণা মিটাতে চেয়েছিলাম , তবে তর সেটা হজম হলোনা। তুই আমার বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিস এবার আমার বুক শীতল করার দায়িত্ব তর। একটা হাগ দে।
,,, প্রথম কথাগুলো শুনে পারু ভয় পেলেও শেষের কথাটা শুনে বিষ্মিত নজরে তাকিয়ে বললো

—- ম,মানে? কি করবো?
,,,হাগ দিতে বলছি, জড়িয়ে ধর।
,, পারু দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বললো — না, না!! আম
,,বেয়াদবি করছিস কেনো? বললামনা বুকে রক্ত ক্ষরন হচ্ছে? জড়িয়ে ধর। ( খেকিয়ে উঠে)
,,,পারুর কি হলো কে জানে? হয়তো দ্বীপের ভয়ানক রাগ থেকে বাচতেই দ্বীপের বুকে মাথা ঠেকালো। ও মাথা ঠেকাতেই দ্বিপ এদিক ওদিক তাকিয়ে হাত দিয়ে ডান ভ্রু চুলকে অবাধ্যের মতো পারুকে শক্ত করে বুকে টেনে নিলো। মাথায় হাত ভুলিয়ে দিতে দিতে বললো — বলেছি,, একটু জড়িয়ে ধরতে। এতে এমন করার কি হলো? আমি কি তকে মেরেছি? এতো কান্না করিস কেন?
,,,আকষ্মিক কান্ডে কান্নার জোড় বাড়িয়ে দিলো মেয়েটা,, মোচড়ামুচড়ি করে নিজেকে ছাড়াতে চাইলো। ওকে এভাবে নড়াচড়া করতে দেখে দ্বীপ আরও শক্ত করে বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো। জোরাজুরি করতে করতে এক পর্যায়ে হাপিয়ে গেলো পারু,, নাক ঠেকালো দ্বীপের প্রশস্থ বুকে। শ্বাসের সাথে মিশে গেলো একটা কর্ড়া পারফিউমের ঘ্রাণ, যা পারুর নাসারন্ধ্র বেধ করে স্নায়ু কোষ পর্যন্ত আকৃষ্ট করে নিয়েছে। মাতালের মতো শ্বাস টেনে সেই ঘ্রাণ শোষণ করছে মেয়েটা। দ্বীপ বুঝলো বোধয় সেটা, এই মেয়েকে কাবু করা বড্ড ইজি। আগে ওর দিকে তাকালেই মেয়েটা কেমন মোহাচ্ছন্ন হয়ে যেতো আর এখন জড়িয়ে ধরতেই কান্না ভুলে তার বুকে আত্মসমর্পণ করেছে। দ্বীপ পারুর মুখটা বুক থেকে তুলে চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো—

,,,এটুকু শক্তি নিয়ে আমার অবাধ্য হোস? আমার অবাধ্য প্রেমিকা!! আর কখোনো আমার অবাধ্য হবিনা,ঠিক আছে? যদি হোস, তাহলে বারবার এভাবে বুকের সাথে মিশিয়ে নিবো। বিয়ের আগে নিশ্চয়ই বার বার এসব ভালো লাগবেনা? আমারো লাগবেনা। আগে তোমায় বিয়ে করবো তারপর তোমায় নিজের সাথে একদম শক্ত করে মিশিয়ে নিবো। আজকে আসি? কেমন!! ভালো থেকো মাই ওয়েলি লেডি।
,,,কথাটা বলেই দ্বীপ পারুর কপালে অধর ছুইয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। মাটিতে হাটু ভাজ করে বসে পরলো পারু,, মুখ ঢেকে ডুকরে কেদে উঠলো। এ কি ঝামেলায় জড়ালো সে? এই ঝামেলা থেকে আদেও নিস্তার পাওয়া সম্ভব?

০৪/০৩/২০১৯
,,,,হল থেকে ভার্সিটির দূরত্ব ৪- ৫ মিনিটের৷ এটুকু রাস্তা পারু বরাবর পায়ে হেটেই যায়, সাথে অবশ্য সিমি ও থাকে।তারা যখন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে হেটে যাচ্ছিলো তখনি একটা বাচ্চা মেয়ে দৌড়ে এলো তাদের সামনে,, তার হাতে এক থোকা গোলাপ। হঠাৎ সামনে এসে দাড়ানোতে ভরকে গেলো দুজন। মেয়েটা একপ্রকার হাপাতে হাপাতে ফুলের বুকেটা দিয়ে বললো–
,,,মামি নেন, এটা আপনার।
,,,পারমিতা ভ্রু কুচকে মেয়েটাকে দেখে নিলো। মেয়েটার বয়স আনুমানিক ৯ কি ১০ হবে। পরনে সুতি কাপড়ের একটা ফ্রক, দেখে খুব মায়া হলো পারুর। তাই নরম স্বরে বললো– আমাকে বলছো?
,,, মেয়েটা মাথা ঝাকালো। মেয়ের কথা শুনে সিমি ভ্রু কুচকে বললো– কে দিয়েছে এটা?
,,,মেয়েটা ফুলের থোকাটা পারুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে দৌড়ে সেখান থেকে চলে গেলো। পারু নিশ্চুপ চোখে মেয়েটার প্রস্থান দেখলো। আল্লাহ এই মেয়েটাকে এতো পরিমান চুপচাপ বানিয়েছে যে এতো বড়ো একটা ঘটনা ঘটে গেলো তাও মুখ ফুটে জিজ্ঞেস করলোনা ফুলটা কে দিয়েছে? তবে সিমি বিষয়টা নিয়ে বেশ কৌতুহলী, সে ফুলটা উকি ঝুঁকি দিয়ে দেখে প্রফুল্ল কন্ঠে বললো–

,,,কে দিয়েছে বলোতো?
,,পারু ঠোট উল্টালো মানে সে জানেনা। সিমি তাড়া দিয়ে বললো — দেখো কোনো চিরকুট আছে কিনা? এরকম আকষ্মিক ভাবে ফুলের বুকে তো শুধু সিক্রেট লাভার রা দেয়, তুমি জানোনা? দেখো দেখো, একটা চিরকুট পেলেও পেতে পারো।
,,,পারু তাই করলো,, ফুলের বুকে নাড়াচাড়া করে দেখতেই সত্যি সত্যি ই একটা চিরকুট পেলো,, চিরকুট দেখে যেনো সিমির আনন্দ আর ধরেনা। সে হেসে কুটি কুটি হয়ে চিরকুট টা মেলে ধরে শব্দ করে পড়তে লাগলো–
“” আমার অবাধ্য প্রেমিকা!! আপনার প্রেমিক শুধু খু*ন খারাপি ই না মারাত্মক ভাবে প্রেম করতেও জানে। চলুন না একটু প্রেম করি,, বিয়ে নাহয় কদিন পরে করলাম “””
“”তোমার পারসোনাল লাভার””

,,,, চিরকুট পড়ে হা হয়ে গেলো সিমি। এতো সত্যি সত্যি ই পারুর লাভার। সিক্রেট না হলোও পারসোনাল লাভার তো। সিমি অবাক হয়ে জানতে চাইলো–
,,কে এই পারসোনাল লাভার পারু?
,,,পারু আবারও ঠোঁট উল্টালো, মানে সে জানেনা। মুলত, পারু সবটাই বুঝেছে, অবাধ্য প্রেমিকা শব্দটা শুনেই বুঝেছে এই ফুলের প্রেরক দ্বীপ জোহান মির্জা। কিন্তু এটা সে কাউকেই বলতে চায়না, তাই আপাতত সিমির কাছে থেকে বিষয়টা হাইড করে গেলো। পারুর গোলাপ ফুল খুব প্রিয় কিন্তু এই ফুলগুলো সে নিবেনা। এই ফুল নেওয়া মানে দ্বীপ মির্জার ভালোবাসা গ্রহন করা। কিন্তু সে তো দ্বীপ মির্জার ভালোবাসা গ্রহন করতে চায়না তাই ফুলগুলো কাউকে দিয়ে দিবে। তবে এতোগুলো ফুল সে কাকে দিবে? কাকে দেওয়া যায়, কাকে দেওয়া যায়, ভাবতে ভাবতে সিমিকে পেলো। তাই সে এক প্রকার জোর করেই সিমির হাতে সবগুলো ফুল ধরিয়ে দিলো। সিমিরও ফুলগুলো বেশ পছন্দ হয়েছিলো তাই একটু জোরাজুরি করতেই নিয়ে নিলো সে।

১৬ /০৩/২০১৯
,,,পারুদের তখন থিউরির ক্লাস চলছিলো। বছরের শুরু হওয়ায় স্যার প্রথমেই প্রাচীন বাংলা সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এমন সময় ক্লাসের দরজায় সিনিয়রদের আগমন ঘটলো। সম্ভাবত নবীন বরনের ঘোষণা দিতে এসেছে, তাই স্যার ওদেরকে ঢুকতে দিলো। দ্বীপ যেহেতু ভার্সিটির ভিপি তাই তাকে সর্বত্র সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া হয়। এটাই তো নিয়ম, তবে দ্বীপ নিজে সর্বোচ্চ প্রাধান্য বিহানকে দেয়। রমনা থানায় জোহান-বিহান যেনো নামকরা দুটো নাম। যে জোহানকে চিনবে সে বিহানকে চিনতে বাধ্য আর যে বিহানকে চিনবে সে জোহানকে চিনতে বাধ্য। দুভাই যেমন রাজনীতি বীদ হিসেবে নাম করা তেমনি বন্ধু হিসেবেও সবার কাছে আদর্শ হিসেবে পরিচিত। তাদের বন্ধুত্বের এক ঝলক প্রকাশ পেলো সর্বোসমুক্ষে। নবীন বরনের পারমিশন দ্বীপের দেওয়ার কথা থাকলেও দ্বীপ সেই দায়িত্ব বিহানের কাধে চাপিয়ে দিয়েছে। প্রকৃত পক্ষে দ্বীপ ভিপি হলেও ভার্সিটির সকল পরিমান ইভেন্ট, প্রবলেম, কার্জালাপ দুজন মিলে হাতে হাত রেখে সামাল দেয়। সব ক্লাসের ন্যায় এই ক্লাসেও বিহান জানিয়ে দিলো–

,,,আগামি সপ্তাহে, রবিবার দিন তোমাদের নবীন বরন অনুষ্ঠানের ডেট পরেছে। আশা করি সবাই খুশি হয়েছো। বরাবরের ন্যায় সেদিন ও ফাস্ট ইয়ারের অনেকেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পার্টিসিপেন্ট করবে।তোমাদের সাথে অবশ্য সিনিয়র রাও থাকবে, তাই ভয় পাওয়ার কোনো কারন নেই। তোমরা যে যেই বিষয়ে পার্টিসিপেন্ট করতে চাও, সিনিয়রদের কাছে লিস্ট করে নিবে। আমরা আপাতত সাংস্কৃতিক দিক গুলোর দায়িত্ব মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্টদের হাতে ছেড়ে দিয়েছি। আমরা যাওয়ার কিছুক্ষণের মাথায় হয়তো তারা আসবে, ওয়েট করো।
,,,দীর্ঘ বক্তব্য শেষ করে থামলো বিহান, পরপর দ্বীপের দিকে তাকাতেই দেখলো সে সকল স্টুডেন্ট দের বেধ করে পিছনে বসে থাকা পারুর দিকে দাত কটমট করে তাকিয়ে রয়েছে। বিষয়টা ভালো করে খেয়াল করতেই দেখলো পারুর পাশাপাশি বেঞ্চে একটা ছেলে বসে আছে। আর ছেলেটি ও মন দিয়ে পারুর দিকেই তাকিয়ে আছে। এই বিষয়টাই হজম হচ্ছেনা দ্বীপের। সে অগ্নি দৃষ্টিতে পারুর দিকে তাকিয়ে আছে আর পারু মাথা নিচু করে বসে আছে। ক্লাসের ভিতর যেনো সিনক্রিয়েট না হয় তাই বিহান দ্বীপের হাত ধরে চলে যাওয়ার জন্য ইশারা করলো কিন্তু বেয়ারা দ্বীপ তো তা মানার পাত্র নয়। সে পারুর দিকে আঙ্গুল তুলে ইশারা করে বললো—

,,,এইযে,, এই মেয়ে!! দাড়াও।
,,, দ্বীপের তাক করা আঙুল বরাবর সবাই ফিরে তাকালো, পারু বুঝলো দ্বীপ তাকেই দাড়াতে বলেছে। তাই সে ভদ্র মেয়ের মতো উঠে দাড়ালো, তবে এখনো মাথা নিচু করে রেখেছে। ওর নত মাথায় দাড়িয়ে থাকাটাও ভালো লাগলোনা দ্বীপের, এই মেয়ে কি পারতোনা? তার দিকে তাকিয়ে একটু মিষ্টি করে হাসতে? তাহলেই তো তার রাগের পারদটা একটু শান্ত হতো। নাহ!! এই মেয়ে তাকে বুঝবেনা। বেয়াদব মেয়ে একটা। সকালেও সবগুলো ফুল কোথাকার না কোথাকার মেয়েকে দিয়ে দিয়েছে। সামনে পেলে যদি গুনে গুনে চারটা থাপ্পড় না মেরেছে তাহলে তার নাম ও দ্বীপ জোহান মির্জা নয়। ভাবনা রেখে সে রাগান্বিত কন্ঠে বললো–

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৬

,,, দুমিনিটের মাথায় আমার সাথে দেখা করবে, ঠিকাছে? এক সেকেন্ড ও লেইট হলে থাপরে চাপাচুপা ফাটিয়ে দিবো।
,,,ইট্স অ্যা ওপেন থ্রেড,,স্যারের সামনে এরকম অভদ্রতা বোধয় দ্বীপের দ্বারাই সম্ভব। বাট, কি করনীয়? একে তো ভার্সিটির ভিপি তার উপর রাজনীতি বীদ, এদের উপর কথা বলার সাহস বোধয় ডি এইচ এর ও থাকেনা। সেখানে প্রোফেসার তো ওই পোকা।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৮